ফুলবাড়ীর রাজনীতি (২০০৮) বইয়ে মাহমুদুর রহমানের আরগুমেন্টগুলা কি কি?
১. এশিয়া এনার্জির লগে চুক্তি করছিল ১৯৯৮ সালে আওমি-লিগ সরকার, যদিও এর প্রসেস শুরু হইছিল ১৯৮৬ সালে, ১৯৯৪ সালে অনুসন্ধানের চুক্তি হইছিল; মাহমুদুর রহমান বিনিয়োগ বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন জুন ২০০৫ থিকা অক্টোবর ২০০৬ সাল পর্যন্ত (১৬ মাস)
২. ১৯৯৮ সালের চুক্তিতে অনেকগুলা সমস্যা ছিল, যেমন বাংলাদেশ মাত্র ৬% রয়ালিটি পাবে, যেইটা আবার ৯ বছর পর থিকা এফেক্টিভ হবে, চাইলে যে কোন পদ্ধতি’তে কয়লা তুলতে পারবে, লীজের চুক্তি শুধুমাত্র লীজগ্রহীতা বাতিল করতে পারবে, এইরকম… যেইটা মাহমুদুর রহমান-ই নিজে ইনফরমেশন দিয়া ২০০৫ সালের জুলাই মাসে নিউ এইজ পত্রিকায় লেখা পাবলিশ করাইছিলেন, এবং এর আগ পর্যন্ত কেউ এর এগেনেস্টে কোন কথা বলে নাই! তেল গ্যাস বন্দর [কয়লা কিনতু নাই নামে 🙂 ] রক্ষা কমিটির আন্দোলন শুরু হয় এই লেখা ছাপা হওয়ার পরে
৩. তে.গ.ব.র. জাতীয় কমিটির মেম্বার ছিলেন ৬ জন, এর মধ্যে ১জন আমলা (সি.ক. আবদুল্লাহ) হইতেছেন যিনি ৬%’র রয়ালিটির কাগজে সাইন করছিলেন, ১ জন পিডিবি সাবেক চেয়ারম্যান (নূরুদ্দিন মাহমুদ কামাল) যিনি বেসরকারি বিদ্যুতকেন্দ্রগুলা শুরু করছিলেন, সামিট গ্রুপের কাছের লোক উনি 🙂 আরেকজন আমলা (মু. হোসেন মনসুর) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ছিলেন… এই ৩ জন আমলা ‘নিরেপক্ষ’ না, বরং এই এফেয়ারগুলাতে খুবই ইনভলবড ছিলেন
শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও বিচারপতি গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমানের অভিযোগ হইতেছে উনার খুবই কড়া ইসলাম-বিদ্বেষী, এবং আনু মুহাম্মদ প্রথম আলো’র একজন লোক, যারা আবার এশিয়া এনার্জির অফিসিয়াল পাবলিকেশন পার্টনার বাংলাদেশে… মানে, উনারা সবাই আওমি-লিগের লোক, যারা চার-দলিয় জোট সরকারের বিরুদ্ধেও ছিলেন পলিটিকালি
তবে মাহমুদুর রহমান বলছেন “ফুলবাড়ী আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধির জন্য অবশ্য আমার অরাজনৈতিকসুলভ সত্যভাষনও হয়তো কিছুটা দায়ী।”
৪. মাহমুদুর রহমান এশিয়া এনার্জির সাথে চুক্তির বিরোধি ছিলেন, এই কারনে উনি নিজেই এইটা নিয়া কথা বলা শুরু করছেন এবং একইসাথে তেগবরক’র ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আন্দোলনের বিপক্ষেও ছিলেন… এখন আগের সরকারের আমলে সাইন হওয়া চুক্তি তো উনি বাতিল করতে পারেন না! Arbitration clause তো আছে… মানে, সেইটা একটা প্রসেসের ভিতর দিয়া যাইতে হইতো, কিনতু এইটারে পলিটিকালি মোটিভেটেড একটা ইস্যু কইরা তোলা হইছিল, চার-দলিয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ৩ মাস আগে
৫. তেলগবরক’র দাবি ছিল মেইনলি ৩টা – এশিয়া এনার্জির সাথে চুক্তি বাতিল করতে হবে, এই কয়লা নীতি পাশ করা যাবে না, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা যাবে না…
এখন এশিয়া এনার্জি সাথে লীজ আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই তারা অই এলাকায় পি.আর. এক্টিভিটি শুরু করে (পি.আর এজেন্সি কারা ছিল, বলেন?), যেইটা আরো আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে, এবং জ্বালানি মন্ত্রনালয় লোকাল লোকজনের লগে কোন আলাপ-আলোচনা করে নাই, যার দায় মাহমুদুর রহমান নিতেছেন, কিনতু সেইটারে উনার পলিটিকালি ইনভলবড হইতে না-চাওয়ার ঘটনা হিসাবেই দেখছেন…
৬. ২৫শে অগাস্ট ২০০৬ সালে পুলিশের গুলিতে ৬ জন (একটা নিউজে দেখলাম ৩ জন) মারা যাওয়ার ঘটনারে মাহমুদুর রহমান বলছেন এইভাবে –
“… কমিটি ২৫ আগস্ট, ২০০৬ তারিখে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভের কর্মসূচি প্রদান করে।… স্থানীয় প্রশাসনের শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থতা এবং ঢাকা থেকে আগত নেতৃবৃন্দের সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থের হঠকারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মসূচির সমন্বয়েই এ বিয়োগান্ত ঘটনাটি ঘটে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যেকোনো সংগ্রামেই প্রাণ বিসর্জন নিঃসন্দেহে মহত্তম ত্যাগ স্বীকার। কিন্তু একই সাথে যারা লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করবেন তাদের স্মরণে রাখা আবশ্যক যে মানব প্রাণের চেয়ে অমূল্য আর কিছুই হতে পারে না। কাজেই প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে অপ্রয়োজনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা জনস্বার্থবিরোধী রাজনীতি ব্যতীত অন্য কিছু নয়। নেতৃবৃন্দ নিরাপদে এবং আড়ালে অবস্থান করে ফুলবাড়ীর উত্তেজিত জনতাকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে তেল গ্যাস রক্ষার স্বঘোষিত জাতীয় কমিটি তাদের সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক চরিত্রের প্রমাণ দিয়েছেন।”
৭. আন্দোলন তো ‘সফল’ হইছিল, কিনতু এর এফেক্ট কি হইছিল?
এশিয়া এনার্জির সাথে বাংলাদেশ গবমেন্টের চুক্তি ১৮ মাস পরেও বাতিল হয় নাই 🙂 [২০২৪ সালের নিউজও দেখতেছি, ১৮ বছরেও সেইটা হয় নাই… ] কারন টেকনিকালি এইটা পসিবল না! আর এই দেশ-বিরোধি চুক্তি সাইন করছিল কিনতু আওমি-লিগ সরকার, ১৯৯৮ সালে!
কয়লা নীতিতে পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত পদ্ধতি রাখা আছে
মাহমুদুর রহমান প্রশ্ন তুলছেন ভার্সিটিতে চাকরি করা অবস্থায় আনু মুহাম্মদ কি নৈতিকভাবে এই মুভমেন্ট লিড করতে পারেন?
৮. মাহমুদুর রহমানের সাজেশন হইতেছে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবেলা করতে হইলে বিকল্প জ্বালানি লাগবে, সেইখানে কয়লা উৎপাদনে যাওয়া ছাড়া খুব একটা অপশন উনি দেখেন না… কেমনে সেইটা করা যাবে, সেইটা নিয়া আলাপ-আলোচনা কইরা একটা রাস্তা বাইর করা উচিত…
৯. তো, আমার নেট টেইক-আউট ৩টা –
ক. পুলিশ বিডিআরের গুলিতে মানুশ খুন হওয়া অবশ্যই খারাপ ঘটনা, এইখানে কোন এক্সকিউজ নাই… মাহমুদুর রহমান দেনও নাই
খ. কিনতু এশিয়া এনার্জির চুক্তি তো বাতিল করা যায় নাই! ১৮ বছরে চুক্তি বাতিলের জন্য তেগবরক কি করছে?
গ. এশিয়া এনার্জির চুক্তির পক্ষে তো মাহমুদুর রহমানও ছিলেন না, কিনতু অল্টারনেটিভ এনার্জি সোর্স না করার রেজাল্ট হিসাবে বিদ্যুত-খাতের কি অবস্থা হইছে? লাভ’টা কার হইছে? দুইটা গ্রুপের – বেসরকারি বিদ্যুত কোম্পানিগুলার (আওমি-লিগের ডাকাতদের) এবং ইনডিয়ার!
তো, এই জিনিসগুলাও খেয়াল করতে পারাটা অ-দরকারি না আর কি…
/২০২৫
Latest posts by ইমরুল হাসান (see all)
- ফুলবাড়ীর রাজনীতি (২০০৮) বইয়ে মাহমুদুর রহমানের আরগুমেন্টগুলা কি কি? - August 26, 2026
- কথা বলার স্মৃতি: ইচক দুয়েন্দে (২০২৪) - May 23, 2026
- কমেন্টস অন পলিটিকাল পার্টিস: মার্চ, ২০২৬ - March 25, 2026