Main menu

ওথেলো আর ডেসডিমনারা… Featured

এই দুইটা লেখার সাবজেক্ট একটাই – ওথেলো আর ডেসডিমনা। ওথেলো ডেসডিমনা’রে খুন করছিল। কিন্তু কেন খুন করছিল? এই নিয়া দুইটা পলিটিক্যাল আলাপ। একইরকমের কথা বা বিপরীত কোন জিনিস না, বরং দুইটা পয়েন্ট অফ ভিউ’র ঘটনা।   

………………….

ওথেলো কি ডেজডিমনারে ভালোবাশতো?

দুনিয়ার পেরায় কিছুই না পড়তে পড়তেও বহুত দিন আগে শেক্সপিয়ারের ওথেলো পড়ছিলাম মনে পড়ে, বাংলায় তরজমা করা ওথেলো! আজকে একটা বেপারে ভাবতে ভাবতে ওথেলোর কথা মনে পড়লো!

ওথেলো কি ডেজডিমনারে ভালোবাশতো? ওথেলোর পিরিতে শন্দেহ নাই কোন, শবাই মোটামুটি একমতই মনে হয় জে, ওথেলোর পিরিতি খাটি। কিন্তু ওথেলো খুন করলো ডেজডিমনারে, কেননা, ওথেলোর বিচারে ডেজডিমনা একজন খানকি বা আনফেইথফুল! ওথেলোর বিচার ভুল, ডেজডিমনা খানকি না; কিন্তু জদি হইতো আশলেই? তাইলে ওথেলো ছুইছাইড করতো না, খুন করায় তার কোন আফছোসও হইতো না। খানকি হইলে পরেও ওথেলো ডেজডিমনারে খুন করতে পারে কিনা, নিতির বিচারে ঐ খুনে এজাজত দিতে পারি কিনা আমরা, এই বেপারে শেক্সপিয়ারের মনে কি দোনোমনো পাওয়া জাইতেছে? শেক্সপিয়ারের অডিয়েন্সের মনে? নাই মনে হয়!

কিন্তু এই জামানায় খানকি নাগরকে খুনে এজাজত দিতেছি কি আমরা? ফিকশন রাইটাররা? শশাংক রিডেম্পশন লইয়া ভাবা জায় এই বেপারে; এন্ডি নায়ক, খানকি বউ আর তার নাগরকে খুন কইরাও নায়ক, অডিয়েন্স তার আজাদি দেইখা শুখ পায়। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন জে, এন্ডি খুন করছে কিনা, শেইটা বেশ ঝাপশা! তার উপর, অতো বছর জেল খাটাও তার পছিবল পাপের শাজা পাওয়া; জেলেও শে খুবই ভালো একজন দোস্ত, ভিলেনকেও শে শায়েস্তা করে। এন্ডির ভিতর এই গুনগুলা ঢুকাইতে হইছে, তার খুনটারেও ঝাপশা বানাইতে হইছে অডিয়েন্সের ভালোবাশা পাইতে!

তাইলে দেখা জাইতেছে, খানকি বউ বা নাগরকে খুনের এজাজত পাওয়া কঠিন এই জামানায়, ওথেলোর জন্য তেমন কঠিন আছিলো না! ওথেলোর জন্য বউয়ের কেবল খানকি হওয়াটাই কাফি আছিলো! তাইলে মামলাটা কেবল পিরিতি খাটি কিনা বা নাগর/বউ খানকি কিনা, এইখানেই না, খোদ পিরিতিটা কোন জামানার, শেইটা একটা বিরাট বেপার! এই কারনেই পিরিতি বুঝতে ইতিহাশ লাগবে আমাদের!

কিন্তু ছেরেফ জামানার মামলা এইটা? একটা পোশ্ন লইয়া ভাবেন; লাইলি জানলো জে মজনু আশলে খানকি বা মজনু জানলো জে লাইলি খানকি একজন, তারা কি খুন করতো নাগরকে? কোন এক কারনে আমার তেমন মনেই হয় না! রাধা কি কানুরে খুন করার কথা ভাবছিলো একবারো? চন্ডিদাশ আর শেক্সপিয়ার তো পেরায় একই জামানার মানুশ! ওথেলো আছিলো কালা মুর, তার ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স, রেছিজম, বয়শ ইত্তাদি ছাইকোলজির কতক ইশু থাকবার পরেও, কানু কালা হবার পরেও রেছিজম হাজির না থাকার পরেও আমার বিচারে ওথেলো খানকি নাগর খুনের এজাজত পায়, রাধা শেইখানে ভাবতেই পারে না তেমন কিছু! তাইলে বেপারটা কেবল জামানার না, ভাবনার জেই দুনিয়ায় পিরিতি ঘটতেছে, পিরিতির ভিতর দিয়া নাগরের লগে কেমন একটা রিশতা ঘটতেছে, পিরিতের নটনটির মন হিশাবে লইতে হবে আমাদের! মানে ইতিহাশ কেবল জামানার মামলা না, ঘটনার নটনটির চিন্তার দুনিয়াও হিশাবে রাখা দরকার!

এখন ডেজডিমনার জাগায় নিজেরে বশান, ওথেলোর জাগায় বশান কোন এক লিডারকে! ধরেন, শহিদুল বা কাজল বা কিশোরেরা ডেজডিমনা, এনাদের ওথেলো তো এনাদের ভালোবাশে, ওথেলো জদি হঠাৎ দেখে জে, এই ডেজডিমনারা আর লয়্যাল নাই, কি করবে ওথেলো? মনে রাইখেন, ইনি কিন্তু ওথেলো, নট রাধা বা মজনু! ওথেলোরা আরেকজনরে নিজের শমান ইনছানের ইজ্জতই দেয় না, তাগো এখতিয়ারের লিমিট নাই, তাগো পিরিতের তুফান জতো বড়ো, গোশ্শার গিলোটিন ততোই ধারালো।

ইতিহাশে জতো ফিউডাল লর্ড বা তালুকদার আছিলো, তারা শবাই কিন্তু লোক খারাপ না! কিন্তু তারা ফিউডাল বা তালুকদার কেন শবাই? কারন, তাগো ভিতর একটা গোড়ার মিল আছে, তারা জনতারে ভাবতো ডেজডিমনা, নিজেদের ওথেলো! লয়্যালটি লইয়া শন্দেহ হইলেই জবাই, এমনিতে ভালোবাশে তারা, খুবই ভালোবাশে, জান কোরবানও করতে রাজি অনেকে! Continue reading

অমৃতা প্রিতমের কবিতা Featured

এইটা বেশ আনফরচুনেট একটা ঘটনাই যে, অমৃতা প্রিতমের (১৯১৯ – ২০০৫) কবিতা কখনো বাংলায় ট্রান্সলেট হয় নাই। (মানে, হইলেও আমার চোখে পড়ে নাই।) এর একটা কারণ তো অবশ্যই এইটা যে, রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজগুলা – পাঞ্জাবি, হিন্দি, উর্দু, অহমিয়া, তামিল, তেলেগু, মালয়ালম… আমরা জানি না এবং জানা’টারে তেমন ইম্পর্টেন্ট মনে করি না। (ঠিক হোক আর ভুল হোক) মনে করতে পারি যে, অইগুলাও একটা ইউরোপিয়ান থটেরই একটা অনুকরণ! যতক্ষণ না ইংলিশে ট্রান্সলেট হইতেছে ততক্ষণ পর্যন্ত ‘জাতে’ উঠতে পারবে না। 🙁 

মানে, পাঞ্জাবি ল্যাঙ্গুয়েজ আমরা (যারা বাংলা-ভাষায় সাহিত্য করি) জানি না এবং না-জানা’টারে একটা প্রাইড হিসাবেও নিতে পারি। এর ধারাবাহিকতায় অমৃতা প্রিতমের নাম আর মিথ কম-বেশি জানলেও উনার কবিতারে কম-ই জানি আমরা। মেবি উনার উপন্যাস নিয়া সিনেমা (“পিঞ্জর”, ২০০৩) হওয়ার কারণে নামে কিছুটা চিনি।…

অমৃতা প্রিতম ৯টা উপন্যাস, ৩টা অটোবায়োগ্রাফিসহ ২০টার মতো কবিতার বই ছাপাইছেন। কিন্তু একটা মাত্র ইংলিশ ট্রান্সলেশন পাইছি উনার কবিতার, কলকাতা থিকা প্রিতিশ নন্দী ছাপাইছিলেন, খুশবন্ত সিংসহ আরো কয়েকজনে ২০/২৫টা কবিতা ট্রান্সলেট করছিলেন। কিন্তু যে কোন ট্রান্সলেশনেই টোনটাই তো মেইন, কবিতা’তে তো আরো বেশি; তো, ইউটিউবে উনার কিছু কবিতা পাওয়া যায়, অনেকে পড়ছেন, অইগুলা শুনলে বোঝা যায় যে, পাঞ্জাবি থিকা বাংলায় অনুবাদ করলে ঘটনাটা যেইরকম হবে, ইংলিশ থিকা করলে অই টোনটা মোস্টলি মিসিং-ই থাকার কথা।

তো, আমি নিজেও পাঞ্জাবি জানি না। এই ইংলিশগুলা পইড়া এবং হিন্দি-পাঞ্জাবি’তে শুইনা একভাবে বাংলায় বলার ট্রাই করছি। উনার এংগুইশ আমার পছন্দ হইছে। যেহেতু উনার কবিতা খুববেশি পড়ি নাই, উনি গ্রেট পোয়েট – এইটা বলতে পারতেছি না, কিন্তু উনার আরো কবিতা পড়তে পারলে ভালো লাগতো, এইরকম একটা জিনিস মনে হইছে।… যেইটা ধরেন মালয়ালম ভাষার কবি কমলা দাসের (কমলা সুরাইয়া’র) কবিতা পইড়া ভাল্লাগছিলো। (উৎপলকুমার বসু ট্রান্সলেট করছেন, সাহিত্য একাদেমির কোন সরকারি প্রজেক্টের ঘটনা ছিল মেবি সেইটা।)

তো, অমৃতা প্রিতমের এই কয়টা কবিতা হয়তো উনার কবিতার ব্যাপারে কাউরে আগ্রহী কইরা তুলতে পারবে, এই একটা এক্সপেক্টশন নিয়াই কবিতাগুলারে এইখানে একসাথে রাখা।

ই. হা.

…………………………………………………………

।। বেটা মানুশ ।। ইমরোজ ।। ইক মোলাকাত ।। আমার ঠিকানা ।। তুমি আসলা না ।। নিজের সাথে একটা মিলন ।। মিলন আর বিচ্ছেদ ।। মে তেনো ফির মিলেঙ্গে ।। আজকে না ।।

……………………………………………………………

 

বেটা মানুশ

আমি বহুত টাকা কামাই করছি
আর খরচ করছি তার চে’ও বেশি
এখন যা আছে
তা হইতেছে আমার পুঁজি:
হিটলারের চাইর আনা
যিশুর চাইর আনা
মনু’র চাইর আনা
আর মজনু’র চাইর আনা

 

ইমরোজ

একটা ক্যানভাস
ছড়ায়া গেলো
আমার সামনের ইজেলটাতে

মনে হইলো
যেন রংয়ের টুকরাগুলা
আটকায়া গেলো ক্যানভাসের উপরে
বুনতে থাকলো
লাল কাপড়ের মতন

আর মানুশের ভিতরের জন্তুটা
তার শিং খাড়া করলো
তাড়া করলো
আর সবগুলা রাস্তা, মহল্লায় আর গলি নিয়া
রিং’টা তৈরি করলো
আর স্প্যানিশ প্যাশন
চেইতা উঠলো
আমার পাঞ্জাবি শিরায় –
গোয়া’র মিথটার মতো
ষাঁড়ের লড়াই করতে থাকলো
মরণের আগ পর্যন্ত

 

ইক মোলাকাত

আমি চুপচাপ, শান্ত, একা দাঁড়ায়া ছিলাম
আমার পাশে সাগরে তুফান ছিল একটা
তো, খোদা জানে, সাগরের কি মনে হইলো,
সে তুফানটারে পুটলিতে বাইন্ধা, আমার হাতে দিয়া
হাইসা, গেলো গা।

আমি তো হয়রান হয়া গেলাম,
কিন্তু এই চমৎকার জিনিসটারে নিলাম; আমি জানতাম যে
এইরকমের ঘটনা হাজার বছরে একবার ঘটে ।
অনেক কিছু মনে হইলো, অনেক কিছু ভাবলাম আমি
কিন্তু দাঁড়ায়াই থাকলাম,
তারে নিয়া আমার শহরে আমি কেমনে যাবো!

আমার শহরের সব গলি সরু
আমার শহরের সব ছাদ নিচা
আমার শহরের সব দেয়াল নোংরা

মনে হইলো যদি কোথাও তোমার সাথে দেখা হয়
তাইলে সাগরের মতন, এরে বুকের ভিতরে রাইখা
আমরা দুই কিনারার মতন হাসতে পারি
আর নিচা ছাদের আর সরু গলির শহরে
বাঁইচা থাকতে পারি।

কিন্তু সারা দুপুর গেলো তোমারে খুঁজতে খুঁজতে

আর আমার আগুন আমি নিজেই খায়া নিলাম
আমি একলা কিনারা, কিনারা ভাইঙ্গা পড়লাম

আর যখন দিন শেষ হয়া আসলো
সাগরের তুফানরে আমি সাগরের কাছেই ফিরায়া দিলাম

তারপর যখন রাত নাইমা আসলো,
দেখা হইলো তোমার লগে

তুমিও উদাস, চুপচাপ, শান্ত আর গোমড়া
আমিও উদাস, চুপচাপ, শান্ত, আর গোমড়া

খালি দূরের সাগরে একটা তুফান রয়া গেলো
Continue reading

বেক্তি বনাম শমাজ বনাম রাশ্টো Featured

রাশ্টো আর শমাজের ভিতর পাওয়ারের একটা ভাগাভাগি করতে চাই আমি। আমি জেই পলিটিকেল পাট্টি বানাইতে চাই, তার ইশতেহারে এইটা থাকবে। বেপারটা কেমন এবং কেন চাই, শেই বেপারে দুই চারটা কথা কইবার মওকা পাইছি এখন, মাওলানা মামুনুল হক ইশুতে লোকের আলাপ-আলোচনায় আমার কিছু আপত্তি আর পরস্তাব জানানোটাও দরকারি মনে হইলো।

মামুনুল হক ইশুতে আলাপের লিবারাল ডিছকোর্সটা চলতেছে পেরাইভেসি আর মোরাল পুলিশিং লইয়া। এই ডিছকোর্সটা ঝামেলার। ঝামেলার, তার কারনগুলার ভিতর শবচে ছোট কারনটা হইলো, এই আইডিয়াটা আমদানি করা; আমদানি করা আইডিয়া, এইটা পেরায় কোন কারনই না, দুনিয়ার শকল শমাজ-দেশ আমদানি করে, আমরাও করি; আমদানি তখনি ঝামেলার জখন ঐটা দেশি/নেটিভ জিনিশ খেদাইয়া দিতে থাকে। জেমন ধরেন, ইনডিয়া থিকা এমবিএ মানুশ আমদানি করা বা বলিউডের লেহেংগা জদি জামদানিরে খেদাইয়া দেয়।

মানে আশল ঝামেলাটা অন্ন। পেরাইভেসি জিনিশটা ভাবেন; একজন এমপি কি পেরাইভেসির কথা কইয়া তার কামাই-পয়শা ইত্তাদি লুকাইতে পারবে? ওদিকে, এমপির জদি হলফনামা দিয়া তার পোপার্টি পাবলিক করার দাবি করি আমরা, তখন ঐ এমপি কি একজন পানের দোকানদারের ডিপিএস আর পকেটের পয়শার হিশাব পাবলিক করার আবদার করতে পারবে? তাইলে এইখানে একটা মুশকিল হাজির হইতেছে; এই মুশকিলের ফয়ছালা হইলো, রাশ্টের বা শমাজের একজন গড় মেম্বারের জেই গড় পাওয়ার/খমতা থাকে, তারচে বেশি খমতা জখন কোন মেম্বারের হাতে নেস্ত হবে, শে পেরাইভেসির দোহাই দিতে পারবে না। গড়ের চাইতে বেশি খমতা কেমনে হয় একজনের?

পয়শাপাতি বা খান্দানের উছিলায় এইটা হইতে পারে, কিন্তু ঢালাওভাবে এমনে ভাবা ঠিক হবে না, তাইলে শবারই গড়ের চাইতে বেশি পাওয়ার দেখা জাইতে পারে! তাই একটা ফর্মাল রাস্তা বাইর করা দরকার; ফর্মাল মানে জেমন ইলেকশনের ভিতর দিয়া ভোটারদের কিছু পাওয়ার তাদের খলিফার হাতে নেস্ত হইতেছে, তাতে তার বিরাট একটা খমতা গজাইতেছে, ইলেকটেড হবার মানে হইলো, জে তারে ভোট দেয় নাই, উনি তারও খলিফা হইলো, তারও কতক খমতা খলিফার হাতে নেস্ত হইলো! আবার ধরেন, রাশ্টের কোন একটা দপ্তরের দায়িত্ত জার, তার হাতেও গড় মেম্বারের চাইতে বেশি পাওয়ার জমা হইতেছে। এইটা ফর্মুলা রাশ্টের বেপারে জেমন, শমাজের একজন লিডারের বেলাতেও তেমন। এনারা পেরাইভেসির আবদার করতে পারে না বা তাগো পেরাইভেসি মানে কেবল তাগো বেডরুম, তাও কারে লইয়া বেডরুমে ঢুকতেছে শেইটা জানারও হক আছে পাবলিকের! আদতে আলাপটা পেরাইভেসিরই না; আলাপটা হইলো, পাবলিকের হকের; কোন বেক্তির কি কি জানার হক আছে পাবলিকের? বাড়তি খমতাঅলা পেরায় শব কিছু জানার হক আছে পাবলিকের; কিন্তু একজন গড় মেম্বারের পেরায় কিছুই জানার হক নাই পাবলিকের।

এই নকশা দিয়া মামুনুল হকের বেপারটা হিশাব করেন। ওনার গড়ের চাইতে বাড়তি খমতা আছে, হেফাজতে ইছলামের মেম্বারদের শবার খমতার একটা ভাগই ওনার হাতে নেস্ত হইয়া বিরাট একটা খমতা হইছে ওনার। তাইলে ওনার কাছে গড়ের চাইতে বাড়তি হকও আছে পাবলিকের; খমতা জতো বেশি, তার উপর হকও ততো বেশি!

কিন্তু এই হকের উশুল কাম করবে কেমনে? এইটা কাম করবে মিডিয়ার ভিতর দিয়া! আমরা জাদের পাপারাজি হিশাবে চিনি, তারা এস্টারদের জিন্দেগিতে হামলা করে, কিন্তু তাদের আশল কাম হইলো, এই বাড়তি খমতাঅলা লোকজনের কাছে পাবলিকের হক উশুল কইরা দেওয়া! ছিজিটেন জার্নালিস্টদেরও কামের আওতায় পড়ে এইটা!

মামুনুল হকের উপর হামলা হইছে, কিন্তু ছহি রাস্তায় পাবলিকের হক আদায়ের ঘটনা হইলে আমরা কেবল কিছু ছবি পাইতে পারতাম মিডিয়ায়, একটা রিপোর্ট, ওনারে লইয়া; ওনার কাছে পাবলিকের হকের কারনে উনি তখন পেরাইভেসির আবদার করতে পারবেন না! Continue reading

বাঈজী, তাওয়াইফ কালচার এবং হিন্দি-সিনেমার গান

আমাদের এইখানে এখনো তো এইরকম ধারণা আছে যে, ব্রিটিশ’রা আসার আগে এই অঞ্চলের মানুশ-জন যেইরকম ‘অশিক্ষিত’ ‘কুসংস্কারাচ্ছন্ন’ ও ‘অন্ধকারে’ ছিল; নারী’রাও ছিল ‘পরাধীন’, ‘চার দেয়ালে বন্দী’ ‘মূক ও বধির’; ব্রিটিশরা আইসা মান-ইজ্জত দেয়া শুরু করছে। অথচ ‘ভিক্টোরিয়ান রুচি’ দিয়া যে বাঈজীদেরকে বেশ্যা বানাইছে (স্পেশালি রবীন্দ্রনাথ, জগদীশ গুপ্তের লগে এই তর্কে পাইবেন), সেইটারে দেখতেই পাই না আমরা।

এর মেজর কারণ হইতেছে, যতোই কলোনিয়ালিজম আমরা বুইঝা ফেলি, অরিয়েন্টালিজম আমরা পড়ি, আমাদের দেখাদেখি’র ভিতরে এই জিনিসগুলা কখনোই আমরা আলাদা করতে পারি নাই। চিন্তার কাজ হইতেছে ডিফরেন্সগুলারে মার্ক করতে পারা। এই কাজ এখনো আমরা করতে শুরু করতে পারি নাই, ঠিকঠাকমতন। 

তো, এই লেখাটাতে এই কোশেশ’টা আছে।

হিন্দি সিনেমা’তে গান কেমনে আসলো? – সার্চিং’টা এই জায়গা থিকা শুরু করতে গিয়া দেখা যাইতেছে, হিন্দি-সিনেমার মিউজিকের শুরু হইতেছে বাঈজীদেরকে দিয়া; নার্গিসের আম্মা জাদ্দীনবাঈ (নার্গিস হইতেছে উনার থার্ড হাজব্যান্ডের মেয়ে), ১৯৩৫ সালেই সিনেমার মিউজিক-ডিরেকশন দিছেন; উনার আগে ফাতিমা বাঈ ১৯২৬ সালে সিনেমার ডিরেকশন দিছেন। এই তাওয়াইফ’রা শিল্প-সাহিত্যরে লিড দিছেন, এমনকি হিন্দি সিনেমার মিউজিকের গোড়াতেও কন্ট্রিবিউশন উনাদেরই। 

‘আধুনিক সমাজ’ যত রিজিড ও লিনিয়ার হইছে উনাদেরকে ততটাই মার্জিনালাইজ করা হইছে এবং ফ্রিডম ছিনায়া নেয়া হইছে। এই ট্রান্সফর্মেশন পাকিজা (১৯৭২) সিনেমাতে খেয়াল করা যায়। পরে ওমরাওজান (১৯৮১), নিকাহ (১৯৮২), তাহজীব (২০০৩)… এইরকম সিনেমাগুলাতেও (বাঈজী আর না তখন) ফিমেইল আর্টিস্টদের ক্রাইসিসগুলা পাইবেন। দেখবেন, কিভাবে এই পজিশনটা, উনাদের ফ্রিডমের জায়গাগুলা ‘ভিক্টোরিয়ান রুচি’র সমাজে নাই হয়া গেছে।

তো, এই আলাপ’টা করতে যদি রাজি থাকেন, এই লেখাটা কন্ট্রিবিউট করতে পারে, আপনার থটে।

ই. হা.   

……………………………….

হিন্দি সিনেমায় অন্য একটা ব্যাপার দেখা যায়। মানে সিনেমার তো একটা বৈশ্বিক ভাষা আছে বা সিনেমা যে ওয়েতে কমিনিউকেট করে। কিন্তু তার বাইরেও নিজ নিজ এরিয়া, সোশ্যাল শিফটিংয়ের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়া তো ভিন্ন প্যাটার্ন গড়ে উঠে। সিনেমার গ্রামার আর কি। হিন্দি সিনেমার একটা কমন ব্যাকরণ তো ধরা পড়ে অন্যান্য সিনেমা শিল্পের তুলনায়। লিরিক্যাল বা গীতিময় একটা ব্যাপার, গজল, কিংবা বেশি নাচ গান। যেমন মুঘল-ই-আজম সিনেমায় ১২ টা গান থাকে। এই যে আয়োজন করে গান, নাচের এই সচেতন সেটিং এটা তো অন্যান্য সিনেমায় দেখা যায় না। থাকলেও হয়ত পার্টি কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে।

তো হিন্দি সিনেমার এই প্যাটার্ন গড়ে ওঠা, যেটা পরে আশেপাশের সিনেমারেও ইনফ্লুয়েন্স করছে, বাংলা কিংবা দক্ষিন ভারতীয় সিনেমা। যেমন এহতেশাম রহমানের ‘এ দেশ তোমার আমার’ সিনেমায় ইরোটিক বাইজী নাচ ছিল (ইমরুল হাসানের লেখায় যেটা উল্লেখ পাওয়া যায়)। তবে বাংলা সিনেমায় যেটা দেখা যায় রহিম রূপবানে, গানে গানে কিসসা বলা সেটা এখনকার ওরাল কালচারই। মানে এটা এখানে ‘লোক কালচার’ হিসেবে ছিলই, সিনেমাটা খালি তারে পিক করছে। মোটাদাগে এই যে সিনেমার একটা ব্যাকরণ হয়ে উঠা, পশ্চিমীয় গঠন রে পাশ কাটায়া, এখানকার কবিরা যেটা পারেনি ইউরোপীয় আধুনিক ধাঁচের বাইরে কবিতা লেখা, সেটা গড়ে ওঠার পেছনে তো একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দায়ী।

কেন সিনেমার একটা স্বতন্ত্র প্যাটার্ন গড়ে উঠল এখানে– নাচ, গজল, দুয়েক লাইনের গভীর অর্থবহ শের, গান কিংবা গীতিময় সংলাপ– মানে রোমান্টিসিজম, আমোদ-আহলাদ কিংবা বিরহরে নাচ গান দিয়ে উদযাপন করা। বিচ্ছেদের ক্ষত এত গভীর কিংবা প্রেমের তীব্রতা এত বেশি যে গান ছাড়া সেটার এক্সপ্রেশন দেওয়া যাচ্ছে না। আবার মুঘল-ই-আজম সিনেমায় এটা খেয়াল করা যায় যে নাচের তাল, দ্যোতনার মধ্য দিয়াও প্রেম, বিষাদ প্রকাশ পাচ্ছে।

মোটা দাগে তাওয়াইফ বা বাইজীদের বোম্বে সিনেমায় আগমন। তাগোরে এখনকার প্রস্টিউট বা পার্টি গার্ল দিয়া বুঝতে গেলে সমস্যা। মূলত রাজা, জমিদার বা এলিটরা তো তাগো কাছে যাইত একটা রিলিফের জায়গা হিসেবে, বিক্ষিপ্ত মনের প্রশান্তির জায়গা। কিন্তু তারা ওখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না আর কি। এবং তাদের একটা ক্লাস ছিল, একটা সামাজিক ভ্যালুও ছিল। এখনকার উইমেন এম্পাওয়ারমেন্টের বদলে একটা সত্যিকারের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তাদের ছিলই। তো নাচ,গান, সুরের মূর্চনা কিংবা মদ খাওয়ার পার্টনারের বাহিরেও এলিটরা তাগো কাছে যাইত শলা পরামর্শ করার জন্য, দার্শনিক আলাপ, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য। মানে তারা একধরনের বুদ্ধিজীবিই (ড্যান্সিং উইথ দ্য ন্যাশনঃ কোর্টিজানস ইন বোম্বে সিনেমার লেখিকা রুথ ভানিতার ভাষায় ফিমেল ইন্টেলেকচুয়াল) ছিল কিংবা বর্তমান রাজনৈতিক উপদেষ্টার মত। এখনকার লোকজন যেমন বলে শুধু সুন্দরী মেয়ে হলেই তার লগে সেক্স করে মজা পাওয়া যায় না, যদি না তার মাথায় মাল থাকে, আর্টওয়ালা না হয়। মানে ইন্টেলেক্ট এবং বিউটির মিশ্রণ থাকা চাই। এই দুই উদ্দেশ্যই সার্ভ করতে পারত বাইজীরা।

Continue reading

কবিতার বই: যেইখানে নিয়া যায় আমার মুখুস্ত সমাজ

যেইখানে নিয়া যায় আমার মুখুস্ত সমাজ। ইব্রাকর ঝিল্লী। ৫৪ পেইজের কবিতার বই। দাম ১৫০ টাকা। কিনতে পারেন ফেসবুক পেইজে। অথবা রকমারিতে

বই থিকা কয়েকটা কবিতা।

 

………………………….

বিশ্বনায়িকা পপি ।। জীবনানন্দ দাশ ।। মায়া ।। স্পিলবার্গের জীবন ।। মানুষ ।। কবিতা নাই ।। ব্যাড লাক ।। দর্শন অথবা কবিতা ।।  যেইখানে নিয়া যায় আমার মুখুস্ত সমাজ ।।

………………………….

 

বিশ্বনায়িকা পপি

কে বলবে, তোমার এত বয়েস!
কে বলবে, তুমি শহরে একলা একলা হাঁটো,
মনে মনে আর কথা বল না!
তোমারে দেখলে বুঝাই যায় না, তুমি ভাসতেছো।
কী মাখো বলো তো?
দেখলে বুঝার কোন উপায়ই নাই, ডায়লগ মারা শ্যাষ-
সেই কবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হইয়া গেছো।
কী খাও বলো তো?
ব্যায়াম করো? জিমে যাও?
একদম আগের মতোই আছো!
কে বলবে, তোমার তিনশ সত্তুর বছর হইছে, মইরা গেছো; ফুটুশ!

 

জীবনানন্দ দাশ

পৃথিবীতে আমার মতো আরও চারটি প্রাণী আছেঃ
একটি ঘাশ পোতে,
একটি ঘাশ কাটে,
একটি ঘাশ খায়,
আর একটি- ঘাশ।

 

মায়া

একবার দেখা হয়েছিল আমাদের শুদ্ধ ভাষাতে;
গুছিয়ে গুছিয়ে বলা কথার ভেতরে হারিয়ে গিয়েছিনু।
পরে আর দেখা হয়নাই অনেকদিন।
সে এক ক্রন্দনরতা নিশ্চই
আমারই প্রতীক্ষায় চেয়ে আছে
বসে আছে শুয়ে আছে ভেবেছিনু।
একদিন দেখি সে কার সাথে যেন হাসে অশুদ্ধ ভাষায়;
যেন সেই নদী তার ভালো লেগেছে!
অথচ আমি তো জানি সেই হাসি- মিছা কথা;
সে কান্দে রাত্রেবেলা একটু শুদ্ধ ভাষার জন্যে!
আমার সাথেই নিশ্চই কথা বলতে চায়!
ওই পোলার লগে স্রেফ সময় কাটায়।
সেই ছেলের জন্যে ভারি মায়া লাগে আমার!

Continue reading

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য