Main menu

বই: আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ইন্টারভিউ Featured

হেমিংওয়ের এই ইন্টারভিউ নিছিলেন জর্জ প্লিম্পটন, ১৯৫৮ সালের বসন্তে। তার চার বছর আগে তিনি নোবেল পাইছিলেন, তিন বছর পরে তিনি শটগান দিয়া শুট কইরা সুইসাইড করবেন। মাঝখানের এই পিরিয়ডে হেমিংওয়ের ইন্টারভিউ— প্যারিস রিভিউয়ের বদৌলতে নেয়া হইছিলো। রিভিউয়ের লোকজন ১৯৫০ থেকে শুরু করছেন বুড়া হইয়া যাইতেছে, হইতেছে, হইয়া গেছেন বা বিখ্যাত কিংবা এসটাবলিশড রাইটারদের ইন্টারভিউ নেওয়ার কাম। এই কাজ করতে করতে তেনারা দেখলেন, এই ইন্টারভিউগুলা একেকটা হইয়া উঠতেছে আর্ট। সেগুলা নেওয়ার ধরণ, রাইটারের বর্ণনা, এছাড়া কিভাবে একটা ফিকশন ‘হইয়া উঠে’ তার ব্যাপারে ইন ডেপথ এনালাইসিস, প্যারিস রিভিউয়ের এই সেগমেন্টের অন্যরকম লিটারেরি ভ্যালু তৈরি করছে। রাইটারের কথা কওনের সাইকোএনালাইসিসের ভিতর দিয়া আপনি দেখতে পারবেন কিভাবে আর্ট, আর্ট হইয়া উঠে।

সেই সুবাদে আমি এই দফায় আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ইন্টারভিউ ট্রান্সলেট করলাম আরকি। ট্রান্সলেট বললেই তো আর ট্রান্সলেট হইয়া যায় না। এইটা একটা প্রসেস। একটা লানলি প্রসেস। যেকোন লেখালিখিই, হেমিংওয়ের মতে লানলি একটা কাম। রেমন্ড কার্ভার, যার ইন্টারভিউ ১৯৮৩ তে নেয়া হইছিলো, তার ভাষায়, যখন আমি একটা শব্দ লিখি না বা লেখা হইতেছে না তখন আমার ঘুম হয় না ঠিকমতো, ভাল্লাগে না কোনকিছুই। যখন আমি একটা শব্দ লিখি, যখন অইটা লিখতেছি, সেই মোমেন্টটা খুব লানলি একটা সময়। একই জিনিস হেমিংওয়ের মধ্যে অন্যভাবে আমরা আবিষ্কার করি। সো, যখন আমি ট্রান্সলেট করতেছিলাম, তখন একটা লম্বা টাইমের জন্যে আমি হেমিংওয়ের সাথে ছিলাম, কী কী বলতেছেন তার একটা ভিডিও আমার চোখের সামনে ভাসতেছিলো। আমি ডুব দিছিলাম, হেমিংওয়ের ফিকশানে চিন্তা ক্যামনে কাজ করে সেই রিডিং-এর ভিতরে। এবং এই সময়ে আমারে একাই থাকতে হইছিলো।

হেমিংওয়ে, আর্ট বা যেকোন রাইটিং এর ব্যাপারে খুব পার্সোনাল। এই বিষয় তার কাছে একটা স্যাক্রেড বস্তু। পারতপক্ষে তিনি এই ইন্টারভিউ নেওনের ব্যাপারে রাজি ছিলেন না। পুরাটা টাইম আপনি তার বিরক্তি দেখতে পারবেন, রেজিস্ট্যান্স প্রতিটা কথায়। সরাসরি উত্তর দিতেছেন না, দূরে চলে যাইতেছেন কোন কোন প্রশ্নে। অনেক সময় এড়ায়ে অন্য কোন আন্সার দিতেছেন। কনশাসলি কোন কোন কথা বলতেছেন বা বলতেছেন না। একটা আলাদা পৃথিবী নিজের ভিতরে নিয়া হেমিংওয়ে লেখালিখি কইরা গেছেন। এবং এই কাজ তিনি ক্যামনে ক্যামনে করতেন এইটার একটাই উত্তর হইতে পারে— তিনি না কইরা থাকতে পারেন নাই।

তার জীবনের লম্বা একটা সময় যুদ্ধ, স্ট্রাগল, অসুস্থতার ভিতর দিয়া গেছে। দুইবার প্লেন ক্র্যাশ করার পর ইনজুরড হইলেও বাঁইচা ফিরছিলেন। কয়েকবার শক ট্রিটমেন্ট দেয়া হইছিলো শেষের দিকে। ডিপ্রেশন, লাইফ নিয়া অস্বস্তি তাড়া করে ফিরছিলো হেমিংওয়েকে নানাভাবে। এই স্ট্রাগলের একটা ছাপ আপনি তার লেখার ভিতরেও পাইবেন। লাইফ কিভাবে বিভিন্ন রাইটারের পুরা ক্যারেক্টার শেপে ভূমিকা রাখে তার একটা ইম্পর্ট্যান্ট ইনসাইট পাওয়া যাইতে পারে সম্ভবত। এবং আরও সম্ভবত, রাইটারদের তাদের নিজেদের কাজের বাইরে আর কোন পার্সোনাল লাইফ থাকা পসিবলও না। কারণ, এইটাই, মানে লেখা— যা আনকনশাসলি, রাইটারের ভিতর যা যা আছে, তা সুতা দিয়া টাইনা টাইনা বাইর কইরা নিয়া আসে। (মিডিয়াম.কমে স্টিভ নিউম্যানের ‘ডেথ অফ আর্নেস্ট হেমিংওয়ে’ নামে একটা সুন্দর লিখা পাইবেন, যদি তার সুইসাইড নিয়া জানার খায়েশ থাকে)

ট্রান্সলেশনের বিচারে একটা জিনিস বন্ধুবান্ধব যারা পড়তেছেন, তাদের ভ্রু কুচকাইতে পারে। এক, ভাষা; যার ব্যাপারে নতুন কইরা কিছু বলার নাই। আপনার ঢাকাই ভাষা, অপ্রমিত ভাষা, ‘অশুদ্ধ’ ভাষা নানান ট্যাগের প্রতি ‘অস্বস্তি’ থাকতেই পারে। কিন্তু, এমন একটা ভাষা যা আমরা রাস্তাঘাটে, আড্ডায়, ফেসবুকে ইনফর্মালি ইউজ করি তা দিয়া লেখালেখির মতো কাজ ক্যানো করা যাবে না, তা আমার বুঝে আসে না। অন্তত এই ইনফর্মাল ভাষায়ই পুরা ইন্টারভিউটা ট্রান্সলেট করা হইছে। এই ইন্টারভিউটা নেওয়াও হইছিলো ইনফর্মালি, জানায়ে রাখলাম। সেই বলা শব্দগুলার একটু কাটছাঁট কইরা প্লিম্পটন সাহেব ছাপাইছিলেন। আর, লাস্ট টিপস— এই ইন্টারভিউ পড়ার জন্যে হেমিংওয়ে যদি নাও পইড়া থাকেন সমস্যা নাই। হেমিংওয়ের লেখা না পইড়াও আপনার এইটা পড়তে কুনো সমস্যা হবার কথা না।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

আ ট্রিবিউট টু তলস্তয়

আজকে (সেপ্টেম্বর ৯) তলস্তয়ের জন্মদিন।

তলস্তয়ের সাথে আমার বসবাস মোটামুটি অনেকদিনেরই। আমার পছন্দের লেখক অনেকেই আছেন। তবে কারো কারো প্রতি আমি একটু বেশি মনের টান ফিল করি। এই আলাদা দরদের লেখকদের মধ্যে তলস্তয়ও আছেন। কইতে গেলে আমার ক্লাসিক পড়া শুরু হইছিল তলস্তয় দিয়া। ওইসময়ে ওয়ার এন্ড পিসের মতো একটা দাদামশাই বই আমি মুখ চাইপা পইড়া গেছিলাম। অনেককিছু বুঝি নাই, অনেককিছু ভুল বুঝছি৷ সব মিলায়া দুইবছর লাগছিল তখন। আপনে যখন কোনকিছুর সাথে ২ বছর থাইকা যাইতে পারবেন, তখন ব্যাপারটারে অনেক স্মুথ মনে হইতে থাকবে। আমার লাইফে এখন পর্যন্ত ‘ওয়ার এন্ড পিস’-ই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ভালবাসা৷ তলস্তয়ের মধ্য দিয়া বই পড়ারে নতুনভাবে পাইছিলাম আমি, এরপর আবারো এই বইয়ের কাছে ফিরা গেছি, উনার অন্যান্য বইগুলাও পড়ার চেষ্টা করছি৷

যেকোনো লেখকরে নিয়া আলাপ দিতে গেলে খালি তার জীবনী নিয়া আলাপ দেওয়া সমস্যাজনক৷ এই প্রবণতা আমাদের দেশে মনে হয় একটু বেশিই। আরেকটা ব্যাপার হইলো, তলস্তয়ের নিজের জীবনই খুব নাটকীয়৷ এইজন্য তার লাইফ বা লাইফের কাহিনীগুলার আড়ালে অনেকসময় উনার লিটারারি জিনিয়াস চাপা পইড়া যায় বইলা ভ্রম হয়৷ আসলে তো ব্যাপারটা এমন না। একজন লেখকরে শেষ পর্যন্ত লেখার কাছেই যাইতে হয়, লেখার মধ্যেই খুজতে হয় ওর আত্মাটারে৷

আমি তলস্তয়ের ‘ওয়ার এন্ড পিস’ থেকে উনার লিটারারি সেন্সের ছোট একটা নমুনা দেই খালি৷

ওয়ার এন্ড পিসের একটা মেইন ক্যারেক্টার হইলো পিয়ের। যার সাথে বিয়া হয় হেলেনের৷ আরেকটা ক্যারেক্টার থাকে- দলোখভ। তো পিয়ের একসময় জানতে পারে হেলেনের লগে দলোখভের পরকীয়া চলতেছে৷ একদিন পিয়ের ডুয়েলের আহবান করে দলোখভরে। ডুয়েলের দিন ঠিক হয়। ডুয়েলে পিয়েরের গুলি গিয়া লাগে দলোখভের শরীরে, অন্যপক্ষের গুলি মিস হয়। তবে দলোখভ মরে না। পিয়ের তখন বুঝতে পারে সে কত বড় অর্থহীন পাগলামিটা করছে! বিধ্বস্ত অবস্থায় ফিইরা আসে সে।

এর কিছুদিন পরে, একই পার্টিতে পিয়ের দলোখভরে দেখতে পায় ওর মা আর বোনের সাথে। সে দেখে, যারে সে মারতে চাইছিল, যারে সে ঘৃণা করে- সে তার মা আর বোনের কাছে কত আদরের! সে ওদের একমাত্র ভরসা। পিয়ের দলোখভরে আবার নতুন কইরা চিনতে পারে। কিন্তু এই ‘নতুন দেখার’ কোন ফলাফল উপন্যাসের কাছাকাছি সময়ে আর আমরা পাই না। এমনেই চলতে থাকে সব, কারোই কারো সাথে দেখা হয় না। তলস্তয়ের লিটারারি জিনিয়াসের একটা নমুনা ধরতে গেলে, এই জায়গাটা ইম্পর্টেন্ট।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

জন আপডাইকের বই রিভিউ করার ৬টা সাজেশন

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ।। হোর্হে লুইস বোর্হেস ।।

…………………………………..

২০১২ সালে উনার প্রোজ কালেকশনের বই পিকড-আপ পিসেস এর ইন্ট্রু’তে সাহিত্য-বিচার করার সময় যেই ৫টা জিনিস খেয়াল করেন, তার কথা বলছিলেন জন আপডাইক; তো, উনার নিয়মগুলা মানতে হবে – ব্যাপারটা এইরকম না; বরং অনেক বই রিভিউ করছেন এইরকম একজন লোক রিভিউ  সময় কি কি জিনিস খেয়াল করতেন – সেইটা বাংলা-ভাষায় এখন যারা বই রিভিউ করেন, খেয়াল করতে পারেন। উনি ৫টা জিনিস পয়েন্ট কইরা বলছেন, আর শেষে একটা কথা অ্যাড করছেন। তো,  উনার সাজেশনগুলা এইরকম :

১. বুঝার চেষ্টা করবেন, লেখক কি করতে চাইছেন, আর উনি যেইটা করার চেষ্টা করেন নাই সেইটা না পারার জন্য উনারে ব্লেইম দিয়েন না। 

২. যতোটা পারেন, সরাসরি কোটেশন দিবেন – এটলিস্ট একটা বড় প্যাসেজ – যাতে কইরা রিভিউ যারা পড়তেছেন তারা যাতে বইয়ের গদ্যের ব্যাপারে নিজের বুঝ’টা তৈরি করতে পারেন, নিজের টেস্ট পাইতে পারেন।

৩. বইটা নিয়া যেই বর্ণনা দিতেছেন সেইটা বইয়ের একটা কোটেশন দিয়া কনফার্ম করবেন, অস্পষ্ট টুকরা দিয়া না, বরং কিছু বাক্যের অংশ দিয়া।

৪. প্লট সামারি’টা ধীরে ধীরে বলবেন, আর শেষটা বইলা দিয়েন না।

৫. বইটারে যদি অসম্পূর্ণ বইলা জাজ করেন, এর লগে এইরকমের একটা সাকসেসফুল উদাহারণও দিবেন, অই লেখকের কাজকাম থিকা বা অন্য কোন জায়গা থিকা। ফেইলওর’টারে বুঝতে চেষ্টা করেন। আপনি শিওর তো যে, এইটা তার ফেইলওর, আপনার না?

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.