Main menu

(বই থেকে) বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ – কামরুদ্দীন আহমদ (এক) Featured

[কামরুদ্দীন আহমদ (৮ সেপ্টেম্বর ১৯১২ – ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২) তিন পার্টে উনার অটোবায়োগ্রাফি লেখছেন – ‘বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ’ (১ম ও ২য় খন্ড) এবং ‘বাংলার এক মধ্যবিত্তের আত্মকাহিনী… আইডিওলজিকালি উনি ‘বাঙালি জাতিয়তাবাদের’ লোক ছিলেন এবং অই জায়গা থিকাই ঘটনাগুলারে দেখছেন, এবং নানান সময়ে নানান হিসি্ট্রকাল ফিগার ও ইভেন্ট নিয়া কমেন্ট করছেন, যেইগুলারে হিসি্ট্রকাল ট্রুথ হিসাবে কন্সিডার না কইরা উনার নিজস্ব পারসপেক্টিভ হিসাবে রিড করতে পারাটাই বেটার…

নিচের অংশগুলা উনার বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ (১ম খন্ড) বইয়ের আশ্বিন, ১৩৮২ এডিশন থিকা নেয়া হইছে…]

 

আবুল হুসেন

আবুল হুসেন

খাজা সাহেবরাই ঢাকার মুসলমানদের নেতৃত্ব করতেন। বুদ্ধি বা বিদ্যার জন্য নয় – বৃটিশরাজ তাদের সুনজরে দেখতেন বলে। খাজা সাহেবদের মস্ত বড় জমিদারী ছিল কিন্তু ঢাকার রইস বাসিন্দাদের জন্য শিক্ষা-দীক্ষার কোন ব্যবস্থাই তারা করেননি। এর কারণ জানা গেল যখন ১৯২১-২২ সনে আবুল হুসেন এম.এ., এল.এল. খাজা আহসানউল্লাহকে লিখিত তাঁর পিতা নবাব আবদুল গনি সাহেবের একখানা পত্র তার খবরের কাগজে প্রকাশ করেন। এ পত্রখানা তার হাতে পড়ে যখন ঢাকার আবদুল গনি চৌধুরী বঙ্গীয় পরিষদে ওয়াকফ্ আইনের উপর একটি বিল উপস্থিত করার জন্য আবুল হুসেন সাহেবের সাহায্য চান। আবুল হুসেন সাহেব নওয়াব ষ্টেটের ওয়াকফ্ফ জমিদারীগুলোর কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন, নবাব সাহেব তার পুত্রকে লিখেছিলেন যে, তিনি যেন মনে রাখেন যে ঢাকার কুট্টিরা তাদের প্রজা নয় – অথচ তাদের প্রজার মত ব্যবহার করতে হবে – খানদানের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এ সব লোক যদি লেখাপড়া শিখে বাস্তব অবস্থা জানতে পারে তবে খানদানের নেতৃত্বের পরিকল্পনা ছাড়তে হবে। তাদের অন্যভাবে টাকা-পয়সা দিয়ে সময় সময় সাহায্য করতে-কিন্তু স্কুলের ব্যবস্থা না করতে। ঐ চিঠি প্রকাশ হবার পর আবুল হুসেন সাহেবের প্রতি নবাবেরা কেবল বিরূপই হননি তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টাও করেছেন। কেবলমাত্র শহরের বাইরে থেকে আসা ছাত্রদের জন্য অনেকটা বেঁচে গেছেন। 

(পেইজ ৩৪) 

 

সুফিয়া কামাল

আমার আজ যার কথা বেশী মনে পড়ছে তিনি হচ্ছেন শায়েস্তাবাদের নবাবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ হুসেন সাহেব। তিনি ছিলেন এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। তিনি যখনই বিকেলে সান্ধ্য ভ্রমণে (Evening walk) বেরুতেন তখন তার পরনে থাকত খাকী হাফ-প্যান্ট, সাদা হাফ-সার্ট, মাথায় সোলার হ্যাট, হাতে বেড়াবার লাঠি, সঙ্গে একটি বিলেতি কুকুর। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ডিগ্রী তার ছিল না – কিন্তু সে যুগে এমন কোন ইংরেজী সাহিত্যের বই ছিল না যা তিনি পড়েননি, অবশ্যই ওল্ড-ইংলিশ থেকে চসার-ল্যাংল্যান্ড পর্যন্ত ইংরেজী সাহিত্যের যুগটাকে বাদ দিয়ে। প্রত্যেক বইয়েরই নানা ধরনের সংস্করণ তার পাঠাগারে (Library) পাওয়া যেত – বিশেষ করে মরক্কো লেদারের ‘কভার” পাতলা (thin) ইংরেজী কাগজের সংস্করণ তিনি বেশী পছন্দ করতেন। বিকেল বেলা নদীর তীরে বেড়ানো ছাড়া প্রায় সমস্ত দিনই বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকতেন। ডিকেন্স ও থেকারের অনেক সুন্দর মরক্কো বাইন্ডিং বই তিনি আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন-সঙ্গে কেমব্রিজ হিস্টরী অব ইংলিস লিটারেচার। শেকস্পিয়ারের পকেট এডিশন আজো অনেকগুলি আমার কাছে আছে।… 

নবাবজাদা সাহেবের নিজের সংসার ছিল না, তাই তার ভাই সৈয়দ নেহাল হুসেনকে বিয়ে দিয়ে সংসার সৃষ্টি করলেন – আমার যতদূর মনে পড়ে নেহাল হুসেন তখন আইন পড়ছিল – তার স্ত্রী হয়ে এলেন সুন্দরী, শিক্ষিতা সুফিয়া বেগম – যিনি প্রথম জীবনে কেবল লাজুক বন্ধু, পরে সুফিয়া নেহাল হুসেন হলেন কবি। Continue reading

ট্র‍্যাজেক্টরি অফ আর্ট অন লাইফ এন্ড থিংস Featured

লাইফে এক এক জনের এক রকম রিয়েলিটিতে বার বার শিফট করতে হয়। লাইফের প্রগ্রেস হইতেছে নেগেশন, মানে নেগেট করতে করতে আগাইবেন। তারমধ্যেই আবার এই প্লেইন বা তল বদলাইতে হয়৷ সেইখানে ডুব দিতে হয়। হাবুডুবু খাইতে খাইতে শ্বাস নিতে হয়। পানির ওপরে মাথা তুলে রাখতে হয়, যতক্ষণ পারা যায়।

মানুষ জেনারেলি সিঙ্গুলার পয়েন্ট বা ত্রৈধবিন্দু দেখে। কন্ট্রাডিকশনটা দেখা কঠিন কাজ। মানে, কোন একজ্যাক্ট মোমেন্টে পানি বরফ হয় কিংবা সোসাইটি রাষ্ট্র হয়।

মানুষের লাইফ মডার্ন সিস্টেমে আসলে রিগ্রেসিভ। অর্থাৎ আপনি বুঝতে বুঝতে আগাইবেন না। না বুঝতে বুঝতে আগাইবেন। খালি কনজিউম করবেন। যদি বুঝতে পারেন, তাইলে সেইটাই আপনার রিভিলেশন।

রিভিলেশন আসলে এক্ট না। লোকজনের পপুলার মিসআন্ডাস্ট্যান্ডিং। যেই রিভিলেশনে প্রোপারলি এক্ট করা যায়, সেইটা আর রিভিলেশন থাকে না।

যেইটা বলতেছিলাম যে, রিভিলেশনের ট্রাজেক্টরি খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর্টের কাজ এই ট্রাজেক্টরি ধরার চেষ্টা করা। ট্রাজেক্টরির একটা আইডিয়া গ্রো করার চেষ্টা করা। এই কারণে সাকসেসফুল আর্ট আসলে সবাই ফিল করে। কানেক্টেড ফিল করে। নিঁখুত বা সঠিকতার প্রশ্ন না। খেলার মাঠে গোল করতে পারা না।

কুরোসাওয়ার ইকিরু আমার প্রিয় সিনেমার একটা। স্পেশালি শুরু এবং শেষ। ওপেনিং শট (অরিজিনালটা) হইতেছে একটা এক্সরে ফিল্ম, যাতে দেখা যাইতেছে যে,প্রোটাগনিস্টের পাকস্থলীর ক্যান্সার ধরা পড়ছে। Continue reading

আইনের সেবক বনাম জনগণের সেবক

থমাস পেইন তার ‘কমন সেন্স’ নামক বইতে সমাজ ও রাষ্ট্রের তুলনা করতে গিয়ে লিখেছেন ‘Society in every state is a blessing, but Government, even in its best state, is but a necessary evil’, মানে বুঝা যাচ্ছে, তিনি সমাজকে যেভাবে আশীর্বাদ ভাবতে পারছেন রাষ্ট্রকে, এমনকি এর সর্বোত্তম অবস্থাতেও, ‘প্রয়োজনীয় মন্দ’ ছাড়া কিছু ভাবতে পারছেন না। রাষ্ট্রের এই মন্দভাব কেন, এবং এটা ছাড়া চলে না কেন, তা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আগ্রহীদের কাছে স্পষ্ট। তারপরও আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক বয়ান কালান্তরে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা লাগে ।

ক্ষমতা ও প্রতিরোধের জায়গা থেকে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্র বলতে আমলাতন্ত্র বুঝে। যদিও রাষ্ট্র পরিচালিত হয় ক্ষমতার নেটওয়ার্ক, আইন এবং আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে; তা সত্ত্বেও মানুষ রাষ্ট্রের গতিময় মূর্ত সত্তা হিসেবে আমলাদের প্রত্যক্ষ করে। আমলাগণ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি প্রশিক্ষিত দল, এবং আমলাতন্ত্র হলো আইন ও আইনানুগ পেশাজীবী নিয়ে গঠিত একটি যুক্তি ও নিয়মাবদ্ধ শাসনপরিচালন ব্যবস্থা। আমলাতন্ত্রের পরিধিও এতো ব্যাপক এবং জটিল যে, ব্যক্তি বিশেষের অভিজ্ঞতায় আমলাতন্ত্র অনিবার্যভাবে ‘অন্ধের হস্তি দর্শনের’ মতো জ্ঞানতাত্ত্বিক সংকট তৈরি করে। স্বয়ং আমলাদের কাছেই আমলাতন্ত্রের আদ্যোপান্ত অজ্ঞেয় থাকে, কর্মবিভাজন এবং ক্রমসোপানের ভিত্তিতে কার্য ও তথ্যের গম্যতা নিয়ন্ত্রণের কারণে।

আইন ও আইনি আদেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রে কর্মীরা খাটতে খাটতে বার্নআউট হয়ে পড়ে। এভাবে তারা একদিকে যেমন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অন্যদিকে মানুষও মনে করে তারা জনগণের প্রতি অমানবিক। সাধারণ মানুষ মনে করে আমলারা কিছু করছে না। আমলারাই নষ্টের মূল। কেন? এই প্রশ্নের জবাব রয়েছে হেগেল এবং মার্ক্সের লেখায়।

হেগেল তার ‘Philosophy of Right’ বইতে ‘State is the actuality of the ethical idea’, হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রকে মানুষের নৈতিক যুক্তির বাস্তব রূপায়ন হিসেবে দেখেছেন। তিনি আমলাদের তুলনা করেছেন যাজকদের সাথে। তার মতে আমলারা হলেন রাষ্ট্রের যাজক। একজন যাজক যেমন ঐশ্বরিক সর্বজনীন সত্য ইন্টারপ্রেট করার মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবন বাস্তবতা এবং ডিভাইন ল’য়ের মধ্যে মধ্যস্ততা করেন, তেমনি আমলারা রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বজনীন ইচ্ছা ও নৈতিক যুক্তির সাথে ব্যক্তি মানুষের নাগরিক অধিকার এবং নাগরিক স্বার্থের মধ্যস্ততা করেন। তারা আইনের সেবক, যারা সর্বজনীন যুক্তিসিদ্ধ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হেগেল রাষ্ট্রকে যে চিদাত্মা হিসেবে দেখেন, সেখানে রাষ্ট্র শুধু ক্ষমতার যন্ত্র নয়, ঐশ্বরিক আদেশের অধীন নৈতিক যুক্তির বিকশিত রূপ। তাই তাদের কাজ ব্যক্তি স্বার্থে নয়, সর্বজনীন স্বার্থে। রাষ্ট্রের যুক্তি ও নিয়ম কার্যকর করার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের পবিত্রতা রক্ষা করে, যেন রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভেঙে না পড়ে। Continue reading

বাংলাদেশি ফিকশন: জমিদারি উচ্ছেদ – আবুল মনসুর আহমদ (১৯৪৫)

This entry is part 20 of 20 in the series বাংলাদেশি ফিকশন

আইনসভায় ইলেকশন।
চারদিকে ক্যানভাসের ধুম পড়েছে। দিন-রাত সভা-সমিতি ও বক্তৃতা চলছে। কর্মী ও ক্যানভাসারদের তাগিদে সবাই অস্থির। যারা বাড়িতে থাকে, তারা বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে, যারা মাঠে কাজ করে তারা মাঠ ছেড়ে ঘরের কোণে আশ্রয় নিচ্ছে।

ছয়আনা ট্যাক্স দেনেওয়ালারা এই প্রথম ভোট দিবার মালিক হয়েছেন। সুতরাং ভোটার অনেক। কিন্তু প্রার্থীও কম নয়। দু’তিনটি থানা মিলে একজন মেম্বর পাঠাবে; কাজেই ক্যানডিডেটের ভিড় হয়েছে খুব বেশি। সাধ্যমত ক্যানভাসও করছে সবাই!

কিন্তু সবার চেয়ে বেশি ক্যানভাস চলছে খানবাহাদুর সাহেবের এবং মুনশি সাহেবের। খানবাহাদুর সাহেব এ অঞ্চলের লোক, কিন্তু সদরে ওকালতি করেন। সদরে দু’তলা ও গায়ে একতলা পাকা ইমারত আছে। তিনি সদরে আঞ্জুমন-ই-ইসলামিয়ার সেক্রেটারি। এই আঞ্জুমনের তরফ থেকেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। আঞ্জুমনের তরফ থেকে শহরের বহু উকিল-মোক্তার ইশতেহার জারি করেছেন খানবাহাদুর সাহেবের সমর্থনে। এইসব ইশতেহার বস্তা-বস্তা বাড়ি-বাড়ি হাটে-বাজারে ও সভা-সমিতিতে বিলি হচ্ছে।
ঐসব ইশতেহারে অনেক ভাল-ভাল কথা লেখা হয়েছে। কিন্তু পাড়াগাঁয়ের লোক অধিকাংশই উম্মি। ঐসব ইশতেহারের ভাল কথা তারা পড়তে পারে না। বুড়ারা ঐসব ইশতেহারে করে বাজার থেকে মাছ নিয়ে যায়; আর ছোঁড়ারা ঘুড্ডি বানায়।

কিন্তু ক্যানভাসাররা ছাড়বার পাত্র নয়। তারা সভা-সমিতিতে জুম্মার নামাজের জমাতে এবং হাট-বাজারের অলি-গলিতে দাঁড়িয়ে সেইসব ইশতেহার গলার জোরে চিৎকার করে পড়ে শুনায়। সুতরাং পড়তে না জেনেও ভোটাররা ঐসব ইশতেহারের কথাগুলি মোটামুটি মুখস্থ করে ফেলেছে।

কথাগুলি এই: মুসলমানরা রাজ্য-হারা হয়েছে। তারা শিক্ষা-দীক্ষায় অপরাপর লোকের অনেক পিছে পড়ে গিয়েছে। বাণিজ্য ব্যবসাতেও মুসলমানদের স্থান নেই। এ সব ফিরে পেতে হলে এবং ধর্মরক্ষা করতে হলে মুসলমানদের দলবদ্ধ হওয়া দরকার। এই উদ্দেশ্যেই আঞ্জুমন কায়েম করা হয়েছে। খানবাহাদুর সাহেবকে ভোট দিয়ে আঞ্জুমনকে শক্তিশালী করা সকল মুসলমানদের অবশ্য কর্তব্য।

প্রায় সকলেই বুঝেছে কথাগুলো ঠিক। সুতরাং খানবাহাদুর সাহেবকে ভোটও তারা দিত। কিন্তু গোলমাল বাধিয়েছে মুনশি সাব। ইশতেহারের বস্তা তার ছোট এবং কর্মীর সংখ্যা তার কম বটে, কিন্তু মুনশিজী এ অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা। করেন তিনি খন্দকারী পেশা। তার উপর আছে তার একটি পয়ত্রিশ টাকা দামের ঘোড়া! দৌড়ে সে ঘোড়া ঘন্টায় চারি মাইলের কম যায় বটে, কিন্তু মাসের মধ্যে ত্রিশদিন চব্বিশ ঘন্টাই সে পিঠে গদি বহন করতে পারে।

এই ঘোড়া এবং জন বিশ-ত্রিশেক ছেলে-ছোকরা নিয়েই মুনশিজী সারা অঞ্চল মুখরিত করে তুলেছেন। তিনি ইশতেহার ছাপিয়ে বিলি করেছেন; বক্তৃতা করে সভা মাতিয়েছেন।

তার বক্তৃতা ও ইশতেহারের কথাগুলো এই: চাকরি-বাকরি আসল কথা নয়। চাকরি পাবে দু’দশজন বড় লোকে এম.এ. বি.এ. ছেলেপিলে। আসল কথা হল খাজনা ও ঋণ। জমিদার ও মহাজনের জুলুমে দেশের সকল লোক মারা পড়েছে। কৃষক-প্রজারা দিনরাত খেটে জমি থেকে ফসল ফলায়। জমিদার ও বড়লোকেরা সেই ফসলের টাকায় দালান-কোঠা তোলে ও মোটর দৌড়ায়; কৃষক প্রজারা না খেয়ে মরে। তাই মুনশিজীরা প্রজাপার্টি গঠন করেছেন বড়লোকের জুলুম বন্ধ করবেন। অতএব মুনশিজীকে ভোট দেওয়া সকল কৃষক-প্রজারই উচিৎ। উকিল-মোখতারকে ভোট দেওয়া উচিত নয়। কারণ উকিল-মোখতারই জমিদারি জুলুমের হাতিয়ার ।

খানবাহাদুরের লোকেরা দেখল বিপদ। সব লোক মেতে উঠেছে জমিদারি উচ্ছেদের নামে। শুধু ধর্মের কথা আর লোকেরা তেমন শুনছে না।

বলল তারা খানবাহাদুরকে সব কথা। খানবাহাদুর অগত্যা বললেন: তোমরাও চালাও জমিদারি উচ্ছেদের কথা। যা বললে লোকে ভোট দেয় তাই বল।

তাই বলা হয়। আবার ইশতেহার জারি হল: খানবাহাদুর সাহেব আঞ্জুমনও জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ চায়, খাজনা কম করতে চায়, বড়লোকের জুলুম দূর করতে চায়। Continue reading

মাসুদ রানা: বাংলাদেশি স্পাই

১। মাসুদ রানা নিয়ে একটা কমন সমালোচনা হচ্ছে, “ওটা তো জেমস বন্ডের নকল”।

প্রথমত, মাসুদ রানা সৃষ্টির প্রেরণা যে জেমস বন্ড, তা স্বয়ং কাজী আনোয়ার হোসেন সরাসরিই বলে গেছেন। এবং ফ্লেমিঙের বই থেকে বেশকিছু মাসুদ রানার বই এডাপ্টও হয়েছে।

তারপরেও কথা থেকে যায়।

মাসুদ রানা ইংলিশ জেমস বন্ড না। সে বাঙালী, এবং বাঙালীর বেশকিছু বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে বিদ্যমান। সে আবেগপ্রবণ, দয়ালুও। রাঙার মা নামে একজন বৃদ্ধাকে সে আশ্রয় দিয়েছিল নিজের বাসায়।

রাহাত খান অবশ্যই M এর আদলে তৈরি, কিন্তু এম নন। তিনি রানাকে এজেন্ট যতোটা মনে করেন, তারচেয়েও বেশি নিজের সন্তান মনে করেন। এটা আপনি ব্রিটিশ বসের মধ্যে পাবেন না।

রানা-রাহাত খানের সম্পর্কটাও তাই ইউনিক। রানা জীবনে কখনো রাহাত খানের সামনে সিগারেট খায়নি (সম্মান দেখানোর বাঙাললী টেকনিক), তার সামনে বেশিক্ষণ বসে থাকতে অস্বস্তি বোধ করে। আবার, খুবই রেয়ার অকেশনে, রাহাত খানকে ঝাড়িও দেয়। ঠিক আপন সন্তানের মতোই।

সোহেল চরিত্রটাও নিঃসন্দেহে ফেলিক্স থেকে ইন্সপায়ার্ড। কিন্তু সেখানে আটকে থাকেনি। সোহেলের মাধ্যমে আসলে কাজী আনোয়ার হোসেন দেখিয়েছেন যে রানা ডেস্কজবে কেমন হতো।

এবং পাকিস্তান আমলে যেমন তেমন, স্বাধীনতার পর থেকে মাসুদ রানার টোন, ন্যারেশন ছিল ইউনিক।

যারা মোটাদাগে বলে দেন যে রানা বন্ডের “নকল”, তারা না পড়েছেন জেমস বন্ড, না পড়েছেন মাসুদ রানা।

Continue reading

এডিটর, বাছবিচার।
View Posts →
কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
View Posts →
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
View Posts →
মাহীন হক: কলেজপড়ুয়া, মিরপুরনিবাসী, অনুবাদক, লেখক। ভালোলাগে: মিউজিক, হিউমর, আর অক্ষর।
View Posts →
গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
View Posts →
কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।
View Posts →
দর্শন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, চাকরি সংবাদপত্রের ডেস্কে। প্রকাশিত বই ‘উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে’ ও ‘এই সব গল্প থাকবে না’। বাংলাদেশি সিনেমার তথ্যভাণ্ডার ‘বাংলা মুভি ডেটাবেজ- বিএমডিবি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক। ভালো লাগে ভ্রমণ, বই, সিনেমা ও চুপচাপ থাকতে। ব্যক্তিগত ব্লগ ‘ইচ্ছেশূন্য মানুষ’। https://wahedsujan.com/
View Posts →
জন্ম ১০ নভেম্বর, ১৯৯৮। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা, সেখানেই পড়াশোনা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যয়নরত। লেখালেখি করেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফিলোসফি, পলিটিক্স, পপ-কালচারেই সাধারণত মনোযোগ দেখা যায়।
View Posts →
পড়ালেখাঃ রাজনীতি বিজ্ঞানে অনার্স, মাস্টার্স। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সংসার সামলাই।
View Posts →
জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।
View Posts →
জন্ম ২০ ডিসেম্বরে, শীতকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগে পড়তেছেন। রোমান্টিক ও হরর জনরার ইপাব পড়তে এবং মিম বানাইতে পছন্দ করেন। বড় মিনি, পাপোশ মিনি, ব্লুজ— এই তিন বিড়ালের মা।
View Posts →
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। সংঘাত-সহিংসতা-অসাম্যময় জনসমাজে মিডিয়া, ধর্ম, আধুনিকতা ও রাষ্ট্রের বহুমুখি সক্রিয়তার মানে বুঝতে কাজ করেন। বহুমত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের বাসনা থেকে বিশেষত লেখেন ও অনুবাদ করেন। বর্তমানে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেস, ক্যালকাটায় (সিএসএসসি) পিএইচডি গবেষণা করছেন। যোগাযোগ নামের একটি পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ফাহমিদুল হকের সাথে। অনূদিত গ্রন্থ: মানবপ্রকৃতি: ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা (২০০৬), নোম চমস্কি ও এডওয়ার্ড এস হারম্যানের সম্মতি উৎপাদন: গণমাধম্যের রাজনৈতিক অর্থনীতি (২০০৮)। ফাহমিদুল হকের সাথে যৌথসম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন মিডিয়া সমাজ সংস্কৃতি (২০১৩) গ্রন্থটি।
View Posts →
তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র, তবে কোন বিষয়েই অরুচি নাই।
View Posts →
মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জন্ম ১৯৮৯ সালে, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে। লেখেন কবিতা ও গল্প। থাকছেন চট্টগ্রামে।
View Posts →
জন্ম: টাঙ্গাইল, পড়াশোনা করেন, টিউশনি করেন, থাকেন চিটাগাংয়ে।
View Posts →