Main menu

যেকোনো চিন্তা, পোয়েটিকাল বা অন্যকিছু, যেকোনো চিন্তাই অনেককিছুর জোট হইয়া তৈয়ার হয় – রবার্ট ফ্রস্ট Featured

ফ্রস্টের জন্ম ১৮৭৪ সালে সানফ্রানসিসকো’তে, আর এমেরিকান লিটারারি ক্রিটিক রিচার্ড পরিয়ার যখন ফ্রস্টের এই ইন্টারভিউটা নিতেছেন তখন ১৯৬০ সাল, ফ্রস্ট ততদিনে কাটাইয়া ফেলছেন ৮৪ বছরের একটা লম্বা জীবন। এর তিন বছর পরে ফ্রস্ট মারা যান বোস্টনে। ওনার এপিটাফে লেখা হয় ওনার কবিতার লাইন, “I had a lover’s quarrel with the world”.

কবি হিসাবে ফ্রস্টকে সিম্পল কোনো ডেফিনেশনের আন্ডারে আনা সম্ভব না। ফ্রস্ট নিজে এই ধরনের এটেম্পট পছন্দ করতেন না। আর নিজেও এইগুলা নিয়া ভাবতেন না। অন্য এক ইন্টারভিউ’তে এই প্রসঙ্গে কইছিলেন যে, “আমি অতো সেলফ-কনশাস না”। যাই হোক, অনেকে অনেকরকম কথা তো বলছে, ফ্রস্টের কবিতার ডিরেকশানকে লোকেট করতে চাইছে, ওনার আগে-পরের লেগেসি বাইর করতে চাইছে। ফ্রস্ট নিজে সমালোচনা পড়তেন না। বাট কেউ যদি ওনার সমানে এইরকম কিছু বলতো, যদি ওনারে কোথাও লোকেট করার এটেম্পট নিতো, উনি কনফিডেন্টলি-ই ঐটারে নাকচ করতেন, এবং এই ধরনের একটা ভাইব দিতেন যে ওনারে ডিফাইন করার যেইকোনো এটেম্পট-ই আসলে ওনার একটা ভুল বা আংশিক ভিউ-ই অফার করতে পারে।

…একটা ব্যাপার, যেইটা ইন্টারভিউয়ারের ভূমিকায়ও কিছুটা বলা হইছে, এইখানে আরেকবার বইলা রাখতেছি যেহেতু অনুবাদ করতে গিয়া ব্যাপারটা বারবার ফেইস করছি। ফ্রস্ট কবিতা লেখার ক্ষেত্রে খেয়ালে বা বেখেয়ালে গলার টোনের উপর ভালোই ডিপেন্ড করতেন। অর্থাৎ, কবিতাটা পড়ার সময় কোন জায়গায় কোন টোনে পড়া হইতেছে – এই ধরনের ব্যাপারগুলা খুব ভাইটাল ওনার কবিতার মিনিং তৈয়ার হওয়ার ক্ষেত্রে। এই ব্যাপারে ইন্টারভিউটার মধ্যে আলাপ আছে। তো, এই মানুষ যখন বাস্তবে কথা কইতেছেন কারোর লগে, সেইক্ষেত্রেও এই ‘টোন’ এর ব্যাপারটা ইম্পর্টেন্ট; এবং শারীরিক নানা এক্সপ্রেশান, কোথায় কখন থামলেন, কোন শব্দটায় জোর দিলেন – এই সব নিয়াই কথার মিনিং দাঁড়াইতেছে, এবং সামনের লোকটা বুঝতে পারতেছে। কথা বলার মধ্যে ফ্রস্ট কখনো কখনো হয়তো ঠিকমতো একটা সেন্টেন্স-ই কইলেন না, কখনো হয়তো একটা লাইনে “তারা” বলতে একদলরে বুঝাইলেন, আর পরের লাইনে গিয়া “তারা” বলতে অন্য কোনো গ্রুপরে বুঝাইলেন – এই সমস্ত ব্যাপারের কারণে আপনের বুঝায় কোনো অসুবিধা হবে না যদি আপনে তার সামনে ‘দর্শক’ এবং ‘শ্রোতা’ হিসাবে থাকেন। বাট এইরকম একটা দুইঘণ্টার ইন্টারভিউকে যখন টেপ রেকর্ডারে রেকর্ড করে এরপর সেইখান থেকে ট্রান্সক্রিপশান করে লিখিত ফরম্যাটে আনা হয়, সেইটা পড়ার সময় কোনো কোনো জায়গায় ঠিকমতো বুঝতে পারা একটু টাফ হইতে পারে। প্লাস, ১৯৬০ সালে দুইজন এমেরিকান লোক কথা কইতেছে, সেইটা ২০২১ সালে বাংলাদেশের একজন লোক যখন পড়বে তার তো একটু টাফ হবে ভাষার নানান চিকন চিকন ব্যাপারগুলারে ঠিকঠাক মতন ধরতে পারার ক্ষেত্রে। এবং যেইটা ধরতে পারা গেলো সেইটারে আবার বাংলা ভাষায় একইরকম এক্সপ্রেশানে প্রকাশ করতেও হ্যাপা কম না। পড়ার সময় এইগুলা মাথায় রাখা ভালো, তবে না রাখলেও ক্ষতি নাই।

ফ্রস্ট বিশ শতকের একজন ভাইটাল কবি। সেই স্বীকৃতি উনি বাঁইচা থাকা অবস্থায়ই বেশ ভালোমতোই পাইছেন। তবে কবি হিসাবে একটা ‘পজিশান’ পাইতে ওনার সময় লাগছিলো, তার কারণও আছে। উনি ধইরা নিছিলেন ম্যাগাজিনে লেখা থেকেই ব্যাপারগুলার শুরুয়াত হবে। আমেরিকায় যখন উনি ম্যাগাজিনে লিখতেছিলেন, তখন উনি যেমন রিজেকশানের স্বীকার হইতেছিলেন না, তেমন খুব বেশি একনোলেজমেন্ট-ও পাইতেছিলেন না। ফলে ওনার জানা আছিলো না কী করতে হবে। ১৯১২ সালে ফ্রস্ট ইংল্যান্ডে যান। ১৯১৫ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে উনি আমেরিকায় ব্যাক করেন। মাঝখানের তিন বছরে ফ্রস্ট ইংল্যান্ডে কবি হিসাবে ভালোই একনোলেজমেন্ট পাইছিলেন, এবং ওনার প্রথম দুই বই A Boy’ Will (১৯১৩) আর North of Boston (১৯১৪) ঐখানেই পাবলিশ হয়। আমেরিকায় যখন ব্যাক করেন, ওনার ভাষায় ততদিনে উনি অলরেডি “মেইড পোয়েট”। আমেরিকায় আসার অল্পদিনের মধ্যে হেনরি হোল্ট অ্যান্ড কোম্পানি ওনার বই পাবলিশ করতে থাকে। ইংল্যান্ডের প্রতি ফ্রস্ট একটা কৃতজ্ঞতা ফিল করতেন। এবং আমেরিকার প্রতিও। আমেরিকার ক্ষেত্রে কারণটা ছিল মেইনলি কলেজগুলার চাকরি। কম বয়সে ফ্রস্ট জুতার কারখানায় চাকরি করছেন, লোকাল পত্রিকার এডিটরের কাজ করছেন, হাইস্কুলের টিচারি করছেন, কৃষিকাজ করছেন, এইরকম অনেক কিছুই করছেন অল্প অল্প করে। তবে কবি হিসাবে স্বীকৃতি পাইবার পরে ওনার দায়িত্ব নিছে আসলে কলেজগুলা। যেমন, এমহার্স্ট কলেজের চাকরির ব্যাপারে বলতে গিয়া আরেক জায়গায় উনি বলছিলেন যে বিশ বছর ধইরা এখানে ফ্যাকাল্টির মেম্বার হিসাবে উনি আছেন এবং ওনার তেমন কোনো কাজ নাই কেবল নিজের কবিতা লেখা ছাড়া।

আরেকটা ইনফরমেশান দিয়া রাখি পাঠকের কনফিউশান এড়ানোর জন্য। ইন্টারভিউয়ারের ভূমিকাতে ফ্রস্টের লগে নিউ ইংল্যান্ডের সম্পর্কের ব্যাপারে আলাপ আছে। নিউ ইংল্যান্ড বইলা ডাকা হয় আমেরিকার উত্তর-পূর্ব সাইডের একটা অঞ্চলকে। কানেক্টিকাট, মেইন, ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট – এই স্টেটগুলা নিউ ইংল্যান্ডের ভিতর পড়ে।

সাহিত্যের বাইরে ফ্রস্টের আরো নানা ইন্টারেস্টের জায়গা আছিলো। পলিটিক্স আর সায়েন্সের কথা স্পেশালি বলা যায়। তবে কবিতারে উনি কবিতা-ই রাখতে পারছিলেন। পলিটিকাল কবিতা বা নেচারের কবিতা বা এই টাইপের কিছু করতে যান নাই।

লাস্টে একটা ইন্টারেস্টিং কাহিনী বইলা শেষ করি। ইউটিউবে ওনার একটা শর্ট ইন্টারভিউ দেখছিলাম, তাহমিদ রহমান এইটা দিছিলো আমারে। ঐখানে ইন্টারভিউয়ার ওনারে জিগাইছিলেন উনি অপটিমিস্ট নাকি পেসিমিস্ট। ফ্রস্ট তারে উল্টা জিগাইছেন, “আপনে কোনটা?” তো উনি কইছিলেন, “ওয়েল, আই হ্যাভ ফেইথ।” ফ্রস্ট কইলেন, “এইটার দ্বারা কি বুঝাইতেছেন আপনে অপটিমিস্ট?” ইন্টারভিউয়ার কইলেন, “আমার লজিক অনুসারে, ইয়েস।” তখন ফ্রস্ট কইলেন, “অপটিমিস্ট দ্বারা কী বুঝান? যিনি ফিউচারের ব্যাপারে আশাবাদী?” উত্তর আসলো, “হ্যাঁ”। ফ্রস্ট বললেন, “আমি শুধু ফিউচারের ব্যাপারে না, পাস্ট এবং প্রেজেন্টের ব্যাপারেও আশাবাদী।” ইন্টারভিউয়ার বললেন, “এটার মানে কী?” ফ্রস্ট কইলেন, “আমি মনে করি অতীত যেইরকম ছিলো, সেইটার জন্যই একদিন তারে সঠিক বইলা মাইনা নেয়া যাবে। আর যেই বর্তমানটা আছে সেইটাও একদিন ইতিহাসে তার পয়েন্ট প্রুভ করবে।”

লাবিব ওয়াহিদ Continue reading

সিনস অফ সিনেমা (ফার্স্ট পার্ট) Featured

[অনেক সিনেমা দেখা না হইলেও কিছু সিনেমা তো দেখা হইছে আমার। মানে, আমরা এমন একটা ভিজ্যুয়ালের টাইমে আছি, যেইখানে না চাইলেও সিনেমা দেখা লাগে আমাদের। সিনেমা-দেখা দিয়া অনেক কিছু বুঝি আমরা, অনেক কিছু বুঝাইতেও পারি। তো, সিনেমা দেখতে দেখতে দেখছি যে, কিছু সিনের (scene-ই, তবে sin-ও হইতে পারে) কথা মনে আছে। অইরকম কিছু সিন নিয়া কিছু কথা বলার ইচ্ছা আছে। এইখানে ফার্স্ট পার্টে ৭টা সিনের কথা বলা হইছে। আরো কিছু বলার ইচ্ছা আছে।]

…  …  …

সিনস অফ সিনেমা (১)
বেটার কল সল (২০১৫ – ২০২২) : সিজন ৪, এপিসোড ১০, ডিরেক্টর – ভিন্স জিলিয়ান 

এইটার কথা ফার্স্টে মনে হইলো। বেটার কল সল সিরিজের একটা সিন।

ড্রাগ ডিলারদের জন্য মেক্সিকোর বর্ডার থিকা আম্রিকাতে একটা পাইপলাইন বানানোর জন্য জার্মাান ইঞ্জিনিয়াররে ভাড়া করে গাস ফ্রিং; অইটার তদারকি করে মার্ক। খুবই সিক্রেট প্রজেক্ট এবং অনেক লম্বা সময় ধইরা চলে। তো, মেইন ইঞ্জিনিয়ার একবার পালায়া গিয়া তার বউয়ের লগে দেখা করে। তখন ইঞ্জিনিয়াররে খুন করা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় তো থাকে না! এইরকম একটা ব্যাকগ্রাউন্ড। বউয়ের লগে লাস্টবার ফোনে কথা বলার পরে খুব নরমালি ইঞ্জিনিয়ারটা হাঁটতে থাকে, আর তারে পিছন থিকা মার্ক গুলিটা করে। ৩:৪৭ থিকা ৪:০৩ পর্যন্ত ফ্রেমটা। ভ্যান গঁগের স্টেরি নাইটসের কথা মনে হইছে আমার। ইঞ্জিনিয়ারটা বলেও, নিউ মেক্সিকোতে এতো বেশি তারা দেখা যায়! আমি আরেকটু ভালো কইরা দেখি!

ভিডিও’টার কোয়ালিটি’টা ভালো না। স্পষ্টভাবে বুঝা যায় না এইখানে। কিন্তু খুবই পোয়েটিক ফ্রেমটা।

গ্রিক ট্রাজেডি কেন ভালো – এইটা মনে হইতেছিল, কারণ এইখানে নিয়তি অনেক পাওয়ারফুল। এইখানেও একটা ‘নিয়তি’ সিচুয়েশন ক্রিয়েট করা হইছে। ইঞ্জিনিয়ার যখন ভুলটা কইরা ফেলছে, এইটারে তো আন-ডু করার বা মাফ করার আর কোন উপায় নাই! তাইলে পুরা বিজনেসটাই রিস্কে পইড়া যাবে, এর সাথে রিলেটেড সবার, সবকিছু। এই কারণে রিস্ক তো নেয়া যাবে না, ইঞ্জিনিয়ারের মরাই লাগবে। এইটা ইঞ্জিনিয়ারও নিয়তি হিসাবে মাইনা নেয়। তো, খালি ফ্রেমটা, এর ভিতরে যে নিয়তির ট্রাজেডি, এইটাই মেলানকলিক কইরা তোলে আসলে।

তো, এই জায়গাতে আমার একটা কথাও আছে। এইটা আম্রিকান সিরিজগুলাতে এতোটা পোয়েটিকভাবে না থাকলেও রিভেঞ্জের জায়গা থিকা নানাভাবে আছে, বা থাকে। যে, যে খুন করতেছে, সে তো আসলে খুন করতে চায় না, বাধ্য হয়া করতেছে! যে মারা যাইতেছে, সেও অনেকসময় বুঝে যে, তার মারা যাওয়া ছাড়া কোন পথ নাই, এটলিস্ট না-বুঝলেও এইভাবে কাহিনিতে দেখায়। এইটা খুবই প্রব্লেমেটিক। কেউ একজনরে আপনি হেইট করেন; এখন হেইট করার লাইগা তারে যেমন ‘খারাপ মানুশ’ বানাইতে হয়, এইরকম খুন করার আগে, খুনটারে নিয়তি বইলা ভাবতে পারতে হয়। এর ভিতর দিয়া খুন করাটারেই জায়েজ করা হয় না খালি, গ্লোরিফাইও করা হয় আসলে।

এইটা খুব প্যারাডক্সিক্যাল লাগতে পারে যে, কাহিনিটারে বা এর এসেন্সটারে আমি সার্পোট করতেছি না, কিন্তু সিন’টারে আমি এপ্রিশিয়েট করতে পারতেছি; কেমনে? আমার ধারণা, এইটা হইতে পারতেছে এসথেটিকস ও এথিকসরে আলাদা করতে পারার ভিতর দিয়া; যদিও এতোটা আলাদা আলাদা না ঘটনাগুলা। যখন আমি এসথেটিক্যালি জিনিসটারে সুন্দর বলতেছি, তখন এর এথিকসটার প্রতিও সার্পোট থাকে তো কিছুটা; মানে, আমি মনে করি, নিয়তি বইলা একটা জিনিস আছে, এবং লাইফের সার্টেন ঘটনা, আমরা বুঝতে পারি বা না-পারি, আমাদের নিয়তি হিসাবে হাজির হইতে পারে। এইটুক এথিক্যাল সার্পোট আমার এইখানে আছে। কিন্তু একইসাথে আমি মনে করি, এই ‘নিয়তি’ জিনিসটারে রিভেঞ্জের কাঁচামাল হিসাবে ইউজ করা যায় না। মার্ক এবং ওয়েগনার দুইজনই, এই রিভেঞ্জের জায়গাটারে যতটুক এড়াইতে পারছেন, ততটুকই এই সিনটারে সুন্দর কইরা তোলছে আসলে।

Continue reading

একদিনের সিলেট ভ্রমণে যা যা ঘটে

ঢাকাদক্ষিণ (ডিএসসিসি না) বলে একটা জায়গায় গেছিলাম রবিবার (২১ নভেম্বর) সকাল সকাল। হুমায়ূন রশীদ চত্ত্বরে ফজরের আযানের সময় বাস থেকে নামি। এরপর বার দু-এক এদিক-ওদিক চক্করের পর যখন সিলেট থেকে গোলাপগঞ্জের অভিমুখে ছুটছিলাম, বাসে।

দু’পাশের হলুদ ধানের ক্ষেত, বন-বাদড় টাইপের কিছু জায়গা আর জলাভূমির মধ্যে কুয়াশার ভেসে থাকা দেখে, ভাবতেছিলাম, ‘তাইলে আমরা কেন নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে যাই’। অচেনাদের চোখে আমাদের এলাকাগুলা অপূর্ব সুন্দর বা ছেড়ে যাওয়ার মতো না। এর উত্তর অবশ্য আমার কাছে নাই। যেহেতু আমার স্মৃতিতে তেমন কিছু বরাদ্দ নাই। আমি যেখানে যাইতে চাই সেখানে আসলে আমার কিছু নাই!

ঢাকাদক্ষিণরে শ্রী চৈতন্যের পূর্বপুরুষের এলাকা বইলা জানছিলাম। গুগলে ঘেঁটে দেখলাম, সেখানে কোনো বাড়ি বা মন্দির আছে। গোলাপগঞ্জ যখন সাতটা নাগাদ নামি, কোনো জনমানব নাই, ছেড়ে যাওয়া বাসের দূর থেকে দূর যাওয়ার চিহ্ন ও তিনটা সিএনজি ছাড়া। ফলত অপেক্ষার তিক্ত স্বাদ এড়াইতে দুবার সিএনজি পাল্টানোর জায়গায় একবারে একা একাই বাড়তি ভাড়া দিয়ে সওয়ার হইলাম। পথ যত আগাইছে আমার কাছে ভালো লাগতেছিল বেশি বেশি। দু’পাশে কখনো টিলা, ক্ষেত-খামার। মাঝে মাঝে মনে হইতেছিল কোনো বনের চলে আসছি। দু’বার নদী মানে ব্রিজ পার হইলাম।

ঠান্ডা বাতাসের উল্টো দিকে তার কাছাকাছি বেগে আগাইতে আগাইতে খানিকটা বিব্রতবোধ করলাম, হঠাৎ-ই। একটা আঁশটে-গেছো গন্ধ চারপাশে। মাফলার ঠিকঠাক করতে করতে নিজের শরীর চেক করলাম, ভালো করে। তারপর সিএনজি’র চালকের দিকে তাকালাম। ওনার দৃষ্টি পথের দিকে। এরপর মনে হইলো, আচ্ছা এটা তো ফুলের গন্ধ। ছাতিম। গুগল ঘেটে দেখলাম, শরত-হেমন্ত ছাতিম ফোটার সময়। ছাতিমের গন্ধের সঙ্গে আমার পরিচয় কয়েক বছর আগে। দোয়েল চত্বর থেকে রিকশায় করে গুলিস্তানের দিকে যাইতেছিলাম। হঠাৎ সঙ্গে থাকা বন্ধুটি চিৎকার দিয়ে উঠছে। ‘ছাতিম ফুটছে’। গন্ধটা ফুলের হতে পারে আমার বিশ্বাস হয় নাই। পরে শুনি এ ফুল নিয়ে নাকি রবিঠাকুরের কবিতাও আছে!

শ্রী চৈতন্যের বাড়ি খোঁজার আগেই ঢাকাদক্ষিণ পার করে আসি বোধহয়। এরপর কুশিয়ারা নদী পার হয়ে গন্তব্য। যেহেতু সকাল সকাল। জাস্ট হাত-মুখ ধুয়ে ঘুম দিই। গেছিলাম বিয়েতে। বর আমার বন্ধু, পুত্রসম। ঘণ্টা দু-এক ঘুমানোর পর গোসল দিয়ে নদীর পারে গেলাম। শান্ত জল, স্রোত নাই, কুলে দু-একটা নৌকা মাঝিহীন। কিন্তু কড়া রোদ। গরমে বেশিরক্ষণ থাকার উপায় ছিল না। ছায়ায় ছায়ায় হেঁটে বাসায় ফিরলাম।

এরপর আবার সিলেট শহরে আইসা হাল বাংলার বেশির ভাগ বিয়ের মতো ফটোশুট দেখতে দেখতে সময় কাটলো। যেহেতু বিয়ে শাদীতে খুব একটা যাওয়া হয় না, নতুন দেখলাম মাথার ওপর ড্রোন উড়ছে। ভিডিও করছে আরকি! বর-কনে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছে, ফেইক লজ্জার ভান করছে। নির্দেশনা দিচ্ছে ফটোগ্রাফার। খাইলাম, মোটামুটি যা যা থাকে হাল আমলের এজমালি মেন্যুতে, সুস্বাদু। বিদায় নিয়ে চা খাইতে এক ছোটভাইয়ের অফিসে গেলাম। ততক্ষণ মৌলভীবাজারে যাওয়ার একটা প্ল্যান হয়ে গেছে মেসেঞ্জারে। পিত্তথলির সার্জারি দেখাবে ডাক্তার বন্ধু। এ জিনিস দেখার ওপর আমার একটা হক্ব তৈয়ার হইছে ইতিমধ্যে (প্রায় দুই বছর এ সমস্যায় আমি ভুগছি)।
ছোট ওই ভাইয়ের অফিস মানে ব্যাংকে এক লিটল ম্যাগিয়ানের (?) লগে পরিচয়। উনি ফরহাদ মজহার নিয়ে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করলেন। একটা পজিটিভ ভাইব দেখলাম ওনার মাঝে। কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হইলো, সিরিয়াস কোনো ব্যাপারে না যদিও।

এই ফাঁকে কলেজের সহপাঠী ফোন দিল। ফেইসবুক মারফত আমার সিলেট আগমন তার জানা হইছে। ১৪ বছর দেখা হইলো, প্রায়। যাইয়া দেখি, সে একটা ব্যাংকের ম্যানেজার। এক অসহায় নারী লোন মোটামুটি পরিশোধ করছে, সামান্য কিছুর জন্য ক্লোজ করতে পারছে না। ও ভদ্রমহিলাকে খানিকটা হেল্প করলেন। এভাবে নিয়মিত হেল্প করে কিনা জানি না, ওই নারী খুবই কৃতজ্ঞতা জানালেন। বললেন, এই টাকা উনি অবশ্যই সুবিধামতো সময়ে দিয়ে যাবেন, এ উপকার কখনোই ভুলবেন না। সঙ্গে ছিল কলেজ পড়ুয়া ছেলে। সে নিশ্চয় মায়ের স্ট্রাগল থেকে জীবন কী বুঝতে পারছে।

বন্ধুর সঙ্গ খুবই ভালো লাগলো। যদিও আমাদের তেমন কোনো স্মৃতি নাই আগের দিনের, তারপর মনে হলো, দারুণ একটা স্মৃতি হলো এবার। এটা আমি কখনো ভুলবো না। একজন ভালো মানুষরে মনে রাখা ও কৃতজ্ঞ হবার জন্য এটাই যথেষ্ট। অবশ্য এ ঘটনা নিয়া আমি কিছুই জিজ্ঞাসা করি নাই। ব্যাপারটার যে নিজস্ব মহিমা, তা অটুট থাকুক। Continue reading

ইতিহাশে খাড়াইয়া মাওলানারে কদমবুছির কোশেশ

মাওলানা ভাশাানিরে বুঝতে পারি আমি, তারে লাইকও করি। মাওলানার ঘাটতিগুলা আমার ভিতরেও কম বেশি আছে, তাই বুঝতে কিছু শুবিধাও হয়।

এই জামানার পলিটিক্সে জেই হেকমত বা কৌশলের আলাপ দেখেন মাঝে মাঝে, এই হেকমতের শবচে পজিটিভ ভার্শনটা পাইবেন মাওলানার মাঝে; ওনার ভিতর মদে ঘেন্না ছাড়া তেমন কোন ঘেন্না আছিলো না; আজকে অনেকে পেট ভইরা মদ খাইয়া মন ভরা ঘেন্না উগরায়, তার তুলনায় মাওলানার মদে ঘেন্না বহুত খুবছুরত! ঘেন্না পেরায় না থাকায় মাওলানা শাচ্চা হেকমত এস্তেমাল করতে পারছেন। অনেকেই দেখবেন ঘেন্না উতরাইতে না পারায় হেকমতে কামিয়াব হয় না! মাওলানা ইছলাম ঘেন্না করতেন না, হিন্দুও না, না কেপিটাল, না মার্ক্স, না পচ্চিম, না আরব, না ইনডিয়া, না পোলা, না মাইয়া! আবার এগুলার কোনটায় বাড়তি পিরিতিও আছিলো না ওনার; এই জামানাতেও এমন একজন বাইর কইরা দেখান! ওনার পিরিতি আছিলো মাকলুকাতে, মানুশ এবং আর শব মাকলুকাতে এবং এই পিরিতির দরকারেই, তাবত মাকলুকাতে দরদি মন লইয়া, মাকলুকাতের শুখের দরকারে জেকোন হেকমতে উনি রাজি আছিলেন, ঘেন্নার কমতি থাকায় উনি তাই দরকারে জে কারো লগে দোস্তি করতে পারছেন, মাকলুকাতের দুশমনরেও চিনতে পারছেন পয়লা নজরেই! ওদিকে, ঘেন্নার কমতির কারনে এগুলা পারছেন জেমন হাচা, তেমনি মাকলুকাতে/মানুশে তুমুল দরদ আর পিরিতি থাকার কারনেই হয়তো ঘেন্না উতরাইয়া উঠতে পারছেন! এই এই কারনেই ওনারে পলিটিকেল হেকমতের শবচে শাচ্চা এবং পজিটিভ নজির কইলাম!

কিন্তু জে কোন জামানাতেই এমন অতি রেয়ার গুন লইয়াও মাওলানা খুব বেশি হাছিল করতে পারেন নাই বা জা কিছু পারতেন, তার মাঝে অল্পই পারছেন বাস্তবে! মাওলানার থিকা ঐ পিরিতি আর দরদ আর ঘেন্না উতরাইয়া ওঠার ছবক জেমন নেওয়া দরকার আমাদের, তেমনি ওনার আরো আরো পারা কেমনে আটকাইয়া গেছিলো, শেইটা বুইঝা লইয়া ওনার ঘাটতিগুলা উতরাইয়া ওঠার রাস্তা তালাশ করতে হবে আমাদের, করা দরকার!

শুরুতেই আমাদের খেয়াল রাখা দরকার, মাওলানা আশলে একটা ছিভিল পলিটিকেল ছিস্টেমের পলিটিশিয়ান! পলিটিকেল ছিস্টেম খুনি হইয়া উঠলে মাওলানা ডরাইতেন, এমনকি পালাইতেন ডরে!

আমাদের খেয়াল রাখা দরকার জে, ইংরাজ আমলের আখেরি জামানায় অনশন/উপাশ করা বা না খাইয়া থাকাই বিরাট একটা পলিটিকেল মুভমেন্ট আছিলো! নজরুল থিকা গান্ধি, জেলখানায় উপাশ থাইকা মুভমেন্ট করছেন! ওনারা না খাইয়া মরলে জেন বা ইংরাজের কত কি আশে জায়! এর লগে এই জামানা তুলনা কইরা দেখেন, এখন উপাশি বা অনশনি মুভমেন্ট কইরা মরা কেমন কমন, শাশকের তাতে কিছুই আশে জায় না!

ডাইরেক হামলা করলে, গুলি করলে শুর্যশেনদের মতো ফাশি-টাশি হইতো তো বটেই, কিন্তু জালিয়ানওয়ালাবাগে পাইকারি খুনের পরে শম্ভবত বিটিশ ইনডিয়ায় মুভমেন্ট করা, রাস্তায় নামা একটু শোজাই আছিলো! আজকের বাকশালি বাংলাদেশ বা ইনডিয়ার মতো মিছিলে গুলি করা, ক্রসফায়ার, গুম, রিমান্ডে হাড্ডি গুড়াইয়া দেওয়া ঠিক কমন আছিলো না! পলিটিকেল বন্দির ইজ্জতও আছিলো জেলে, অনশন কইরা জেলখানাতেই হাছিল করার উপায় আছিলো তখন! Continue reading

নাজিয়া আফরিন মনামী’র কবিতা

জম্বি

জন্ম নিয়াই নাম পাইলাম
সেই নাম বইয়া যায়
আজ এই দিকে
কাল ঐ দিকে
আমি দাঁড়াইতে পারি না
আম্রিকানরা জম্বি চিনাইলো
কোরিয়ানদেরটা আরো ভাল
জম্বিরা ব্রেইন খায়া ফেলে
সবাই ব্রেইন খাইতেসে আসলে
দেহ তখন বেচা হইতেসে
ভাবনা ভাবা বড় কঠিন
আমি বেখেয়ালে তারে ডাকলাম
সে আইসা আমার ব্রেইনটা খাইলো
জম্বি হইয়া নামটা ভুইলা গেলাম

 

দাগ

আমার চিহ্ন রাখার আগেই
আকাশ হারায় গেল
অনাথ চিহ্নগুলা নিয়া
আমি পাথর হয়ে গেলাম
পানির খোঁজে ছুটতে ছুটতে
কারবালায় পৌঁছায় গেলাম
সেখানে দুলদুল কইলো
তুই মিরাজ কর
আমি কইলাম আকাশ কই?
অর্থের শোকে জমিনে লুটাই
সীতায় চরণ জড়ায়
সব চিহ্ন মিটে যায় বার বার
কোন দাগ রাখতে পারি না

 

আমি নিজেরে খরচ করতেসি

আমি নিজেরে খরচ করতেসি
জমাইসিলাম ম্যালা দিন ধরে
ছোটকালে কেনা মাটির ব্যাঙ্কে
প্রতিদিন ফেলতাম নিজেরে
মাঝে মাঝে গুইনা দেখতাম
ভাংতি মুহূর্ত আর স্মৃতির নোট
চিন্তার বড় নোটও ছিল
সেই ব্যাঙ্ক হুদাই ভাংসি
মুঠি মুঠি খরচ করতেসি
এরে তারে দিয়া দিতেসি
যে যখন য্যাম্নে চায়
কারণ তুমি নেও নাই

 

Continue reading

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য