বিএনপি
‘বিএনপি’র কোন স্ট্রং আইডিওলজি নাই’ – এইটা কোন পজিটিভ জিনিস না আর কি! একইভাবে, আওমি-লিগের তুলনায় কিছুটা ‘বেকুব’ বইলা ‘ভালো’ – এইটাও প্রবলেমেটিক পজিশনই!
এইরকম একটা আলাপ বাজারে চালু আছে যে, বিএনপি’র তো আওমি-লিগের মতো স্ট্রং কোন আইডিওলজি নাই! বা বিএনপি’র লোকজনের খুব বেশি বাটপারি বুদ্ধি নাই বইলা কিছুটা ‘বেকুব’ – এই কারনে চাইলেও তারা বেশি বাজে হইতে পারবে না যেন! মানে, বিএনপি কেন ভালো? এর একটা উত্তর অনেকের কাছে এইরকম যে, তারা চুরি-ডাকাতির লাইনগুলা কম বুঝে বা জানে, এবং তাদের স্ট্রং কোন আইডিওলজিকাল পজিশনও নাই যেইটারে ডিফেন্ড করা লাগে… তো, এই দুইটা পয়েন্টই আমার কাছে ঝামেলার জিনিস মনেহয়!
পয়লা কথা হইতেছে, কেউ ‘বেকুব’ বইলা ‘ভালো মানুশ’ না! বরং তারা বাটপারি’র রিস্কের কাছে অনেক বেশি এক্সপোজড! আওমি-লিগ ছিল অতি-চালাক, এর এগেনেস্টে বিএনপি ‘বেকুব’ – এইটা মোটামুটি একই বেইজের একটা পজিশন! মানে, ‘ভালো হওয়া’ বেপার’টা ইনোসেন্সের সাথে জড়িত না, বরং মোর কনশাস হওয়ার সাথে রিলেটেড একটা ঘটনা! যে, আপনি জিনিসগুলারে খালি জানেন এবং বুঝেন-ই না, এর বাইরে যেইটা ঠিক-কাজ বইলা মনে করেন, সেইদিকে ডিসিশানও মেইক করতে পারেন! কেউ ইনফিরিয়র হইয়া ‘ভালো’ আসলে হইতে পারে না! বাটপারির এগেনেস্টে, ইভিলের এগেনেস্টে ভালো হওয়াটা সবসময় সুপিরিয়র কনশানসনেসের একটা পজিশন!
আর আইডিওলজি’র জায়গাটাতে যদি দেখেন, ম্যাস-পিপলের পলিটিকাল পার্টি হইতে হইলে আপনার কোন আইডিওলজিকাল বেইজ থাকতে পারবে না – এইটা খুবই ভুল একটা চিন্তা! আজকে থিকা ৫০ বছর আগের কনটেক্সটে জিয়াউর রহমানের ‘বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ’ মোটামুটি ভালো একটা আইডিওলজিকাল বেইজই ছিল, কিনতু মুশকিল হইতেছে, ৫০ বছর পরে আইডিওলজিকাল কনটেক্সট তো চেইঞ্জ হইছে, নেশনালিজম আর আগের মতো রেলিভেন্ট নাই! আর বিএনপি যে অই জায়গাটারে কোনভাবে আপগ্রেড করতে পারে নাই, সেইটা তো তাদের একটা ইন্টেলেকচুয়াল ফেইলওরই! মানে, আইডিওলকালি আপগ্রেডেড না হইতে পারাটারে ফেক্সিবল থাকা বইলা গ্লোরিফাই করার কিছু নাই আর কি!
তো, অল্প কথাতেই বললাম পয়েন্ট দুইটা, কিনতু ডিটেইল আরো আলাপ তো করা যাইতেই পারে… আমার কথা হইতেছে, লোকজন যখন ভুল-জায়গা নিয়া প্রশংসা করে তখন সাবধান হওয়াটা বেটার! এই প্রশংসাগুলা বিএনপি’র জন্য, আই গেইস, বেশ বিপদজনক ঘটনাই! 🥱
জামাতে ইসলামি
জামাত খুব ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ দল – এইটা জামাতের স্ট্রং পয়েন্ট না, বরং ম্যাস-পিপল পার্টি হওয়ার ক্ষেত্রে বড় অবস্টেকলই!
মানে, আমার কথা’টা পয়লাবার শুনলে মেবি অনেকের কাছে কিছুটা উইয়ার্ড শুনাইতে পারে; কিনতু আমি মনে করি জায়গাটারে ধরতেও পারবেন অনেকে!
যে, পার্টি ফরমেশনের দিক দিয়া জামাত তো হইতেছে একটা ট্রু লেনিনিস্ট পার্টি, যাদের একটা অরগানাইজড গ্রুপ বা পার্টি-মেম্বার’রা আছে, যাদেরকে যে কোন ক্রুশিয়াল সময়ে মবিলাইজ করা পসিবল! এবং এস্টাবলিশমেন্টের অনেক জায়গাতেও তাদের রিক্রুটমেন্ট এবং এপয়ন্টমেন্ট দেয়া আছে, যারা ‘বিপ্লব’র সময় হেল্প করতে পারবে!
কিনতু মুশকিল হইতেছে, দুনিয়া তো এখন আর ১৯৬০’র দশকে বা ইভেন ১৯৮০’র দশকেও নাই, অলমোস্ট ৫০ বছর পার হয়া গেছে! লেনিনিস্ট ফর্মের ‘বিপ্লব’ তো আর হবে না রে ভাই! (ওয়েল, কেউ করতে পারলে তো ভালো, কিনতু আমার ধারনা, বিপ্লব বরং অনেক বেশি এজেন্সিরই গেইম এখন… যা-ই হোক, সেইটা তো আরেকটা আলাপ-ই…)
এবং মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি, উনাদের অরগানাইজড ফোর্সটা তাইলে কি করবে? যারা এস্টাবলিশমেন্টের পার্ট হয়ে গেছেন, এবং একটা সোশাল-ক্লাসে আপগ্রেড করতে পারছেন নিজেদের, উনারা কি করবেন? অবশ্যই উনারা বিট্রে করবে না, বরং আমার কথা হইতেছে, সমাজের ভিতরে এইরকম একটা আলাদা-গ্রুপ হইতে পারাটারে বরং ধইরা রাখতে চাইবেন মেবি… ধরেন, একটা এলাকায় হাজার হাজার লোক জামাতের পার্টি-মেম্বার, এইটা কি জামাত করা একজন লোক এনজয় করবেন? আমার ডাউট আছে আর কি কিছুটা…
আমি বলতে চাইতেছি, এই যে সিলেক্টিভ কিছু লোক জামাতের পার্টি মেম্বার হইতে পারবে, ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ হয়া থাকতে হবে – এইটা একটা পর্যায় পর্যন্ত পজিটিভ জিনিস হইলেও, ম্যাস-পিপলের পার্টি হওয়ার জন্য একটা ভালো অবস্টেকলই হওয়ার কথা!
গত ইলেকশনে সাধারন মানুশের অনেকেই জামাত’রে ভোট দিছে, কিনতু তারপরও জামাত একটা ম্যাস-পিপলের পার্টি হওয়ার জায়গাটাতে স্ট্রাগল করতেছে বইলাই মনে করি…
এনসিপি
এনসিপি’তে তো লোকজন জয়েন করতে চায় বইলাই আমার ধারনা, কিনতু কোন ভাই-বেরাদরের লোক না হইলে জয়েন করা মেবি মুশকিলই! 🥱
মানে, এনসিপি এখনো টিএসসি বা ঢাকা-ভার্সিটি বেইজড একটা ক্রাউডই, ইলেকশনে যেই ৬ জন জিতছেন, তাদের মোটামুটি সবাই জামাতের সাংগঠনিক বেইজের উপর ভর দিয়াই জিতছেন বইলা আমার ধারনা… সারা দেশে উনারা সংগঠন দাঁড়া করাইতে পারেন নাই, কিছু লিডার তৈরি হইছেন; তো, উনারা কোন পার্টি-সংগঠন দাঁড়া করাইতে চান কিনা বা পারবেন কিনা – এইটা যত দিন যাবে, যত দেরি হবে তত একটা বড় কোশ্চেন হিসাবে সামনে আসতে থাকার কথা!
আমি মনে করি, বাংলাদেশে অনেকদিন থিকাই একটা পলিটিকাল ভ্যাকুয়াম আছে, এনসিপি সেই পলিটিকাল ভ্যাকুয়াম’টা ফিল-আপ করতে না পারলে অইটা নাই হয়া যাবে না, বরং আই গেইস, ২-৪ বছর পরে আবার কোন আন্দোলন-মুভমেন্টের ভিতর দিয়া অই পলিটিকাল ফোর্সটা শেইপ-আপ হইতে থাকবে… মানে, এনসিপি’রে এখনো বেটার প্রিপেয়ার্ড মনে হইতেছে না! আমি তো একটু দূর থিকাই দেখি, আমার দেখা ভুলও হইতে পারে…
২৩/০৩/২০২৬
Latest posts by ইমরুল হাসান (see all)
- কথা বলার স্মৃতি: ইচক দুয়েন্দে (২০২৪) - মে 23, 2026
- কমেন্টস অন পলিটিকাল পার্টিস: মার্চ, ২০২৬ - মার্চ 25, 2026
- কবিতা – ২০২৫ - সেপ্টেম্বর 23, 2025