ভালোবাসার কথা
[ট্রিবিউট টু জীবনানন্দ দাশ ও ফররুখ আহমদ]
ভালোবাসার কথাগুলাই মনে রাখি,
অপমানের কথা, ঘৃনার কথাগুলা মনে থাকে না
শীতের বাতাসে গাছের পাতাদের মতো তারা
মাটিতে পইড়া থাকে, সময়ের গরুর গাড়িটা
তাদেরকে মাড়ায়া চলে যাইতেছে
সন্ধ্যার কুয়াশায় ভালোবাসার কথাগুলা
ভাসতে ভাসতে কাশতে কাশতে কাছে আসে,
বলে, “রোগা হয়ে গেছো এতো, চাপা পড়ে গেছো যে হারিয়ে,
পৃথিবীর ভিড়ে তুমি…”
অন্যসব নিরবতার ভিতর ভালোবাসার নিরবতাই
ফিরা আসে, সন্ধ্যার তিমি-মাছ যেমন, দূরে
ডুব দিল, রাত্রির সাগরে
ভেসে যাইতেছে তো সে-ও…
গরুর গাড়িটার ক্যাঁচ ক্যাঁচ আওয়াজের ভিতরে
২৪/০১/২০২৫
বারামখানা
অনেকক্ষন ধইরা ডিসট্রাক্ট হইতে পারতেছি না,
খারাপই লাগতেছে!
কিসের উপর ফোকাস করবো?
কি নিয়া ভাববো? বুঝতেছি না…
একটা ডিসট্রাকশন আসুক,
হঠাৎ বাতাসের মতো
যেন আমি কিছু ভাবতেছিলাম,
অনেক ইম্পর্টেন্ট একটা কিছু, আর
সেইখান থিকা সরায়া নিয়া যাইতেছে আমারে
আমি একটা পলিথিনের ব্যাগের মতো উড়ে যাইতেছি
কোন কিছু ভাবার আগে,
এইরকম একটা ডিসট্রাকশনের জন্য বইসা আছি
তারপরে বলবো, দুনিয়া কতো যে মায়ায় ভরা গো!
সরে সরে যাইতে চাইতেছি আমি চারপাশ থিকা
কোন একটা ডিসটরশন আইসা বলুক,
এই নাও, এইটাই তোমার বারামখানা!
আমি পিছলায়া পিছলায়া যাইতে থাকবো ভাবি,
কিনতু একটা রিয়ালিটির ধারনা, আমার পিছন ছাড়ে না
সিদরাতুল মুনতাহা’র দিকে যেন আমি তাকায়া আছি
আর কোন ডিসটরশন তো সেইখানে যাইতে পারে না
আলো বাঁইকা যায় না, দৃশ্যের জন্ম হয় না, কল্পনাও থাকে না
এমন একটা জায়গায় আমি বইসা আছি
কোন ডিসটরশন-ই আর সেটিসফাই করে না
সাপে ছোবল দেয়, বিষ ছড়ায় না…
তারপরেও বইসা আছি এই বারামখানায়
ডিসটরশনগুলার গান শুনি,
সকালের আলো আসে, জীবিতের হায়-হুতাশ নিয়া
এমনই এক মায়া চারপাশে
চলে যাইতেছে যে যার মতো, যে যার পথে গো
যে যার-ই পথে
১০/০৪/২৫
রিয়ালিটির গান
একটা ডামি-দুনিয়ার ভিতর ঢুকে গেছি!
ডামি-দুনিয়ার ভিতর সবকিছুই রিয়েল!
এ ওর মতো, সে তার মতো
একজন ইসলামিস্ট, একদম ক্লিন শেইভড
কথা বলতেছে দাড়ি রাখার কি কি ফজিলত
বলতেছে, আমার ছবি দেইখা কনফিউজড হইয়েন না!
এইটা এ আই জেনারেটেড…
একজন কমেডিয়ান, জোকস বলতে বলতে কানতেছে
দেখেন, কি রকম নিষ্ঠুর দুনিয়া, আপনারা না হাসলে
আমার খাবার জোটে না, তা-ও আবার কমিশন দিতে হয়!
আমরা বুঝতে পারি না – কান্দা’টা কি বেশি মানবিক হবে
নাকি হাসতে পারা?
কিনতু পরে আমরা বুঝতে পারি, এইসব কনফিউশনই
তারা বেচে আমাদের কাছে, আমরা ভালোবাসি
আমাদের এড্রিনালিন রাশ! ডিসাইড করতে পারার ফ্রিডম,
নো ম্যাটার হোয়াট…
ডামি-দুনিয়াটা যে বানানো হইছে, সেইটারে ডামি বলাটাই
তো ক্রাইম! রিয়েল বইলা কিছু আছে নাকি! ধুৎ!
তারপরে আমরা ড্রিমের ভিতরে হারায়া যাই,
কতো কি যে করতে চাই! আর কিছুই না করার আনন্দ
আমাদের দুই ঠ্যাং, হাঁটতে হাঁটতে কোথায় যে নিয়া যায়
আমাদের হাতগুলা রিয়েল, শরীর’টা রিয়েল
আমাদের ব্রেইনের ওয়েভ আমাদেরকে বুঝায়
এইসব কিছুই রিয়েল, একটা ডাম্বনেস ভিতর
বইসা বইসা তারপরে ভাবি, এই দুনিয়াটা-ই তো দুইদিনের!
মুসাফির আমরা, দুই দিনের এই ট্রাভেল
নেগেশনের নেগেশন করলেই কি আর পাওয়া যাবে রিয়েল?
বা তার আগে যা ছিল, বা তার পরে, ইন বিটুইন?
দেখো, আমাদের চিন্তাগুলাও আসলে কতোটা স্বাধিন!
আমরা মাইনা নেই এই জেলখানা, এই নাচা-গানা
একদিন ফুরাবে, পাখি উইড়া যাবে, ফিরবে না আর
কিনতু সেইখানে এই ডামি-দুনিয়ার কথা
আমাদের কি মনে থাকবে?
তখন কি হাসবো আমরা মনে মনে,
কতকিছুই যে ভাবতাম খামাখা – এই কথা ভাইবা?
ডামি-দুনিয়ার কথা কি আমরা ভুইলা যাবো
যদি পাই একটা রিয়েল-দুনিয়া কোনদিন?
১০/০৪/২৫ – ১৫/০৪/২৫
কোথায় পাবো তারে, আমার সোনার বাংলা রে
নেশনাল এনথেম বাজে
গগন হরকরা হাসে
তার বদনখানি মলিন হয় না কখনোই
২৬/০৪/২৫
আমার লোনলিনেস আর আমি
আমার লোনলিনেস আর আমি একসাথে থাকি। শুইয়া থাকি, বইসা থাকি। মানুশের সাথে কথা বলি। দিন-দুনিয়া দেখি। কিছু শয়তান আসে আমাদের কাছে, তাদের সাথে খেলি। খেলা শেষ হইলে চইলা যায় তারা, খুশি-মনে। কয়েকজন ফেরেশতা কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়ায়া থাকে একটু দূরে, আমাদের সাথে কথা-বলাটা ঠিক হবে কিনা – তারা ডিসাইড করতে পারে না। আমার লোনলিনেস আমারে বলে, দেখো, যতকিছুই বলো, আমরা মানুশ হিসাবে তো ততো একটা ভালো না আসলে! বইলা সে নিজেই একটু হাসে – যেন এইটা একটা এচিভমেন্ট। আমরা ভালো হইলাম না, খারাপও না এতোটা। তবে আমরা এতোটা সুন্দর না, কিছুটা বিশ্রি। এই কারনে আমরা গান গাই, আমাদের আত্মার ক্ষতগুলার উপরে একটা বাতাসের আদর বুলায়া দিতে চাই। বাতাসেরা যে কারোরই সুর হয়া উঠতে পারে। আমরা মাঝে-মধ্যে এই ট্রাই’টা করি। যখন একটা সুরের মতো বাতাস বাঁকা হইতে থাকে ফেরেশতারা হাসে, প্রশয়ের হাসি। আমাদের ছেলে-মানুশি। কি আর করতে পারি আমরা! ভাবি। আমরা দুইজন। আমার লোনলিনেস আর আমি।
০৮/০৫/২০২৫
আমার ভাগ্য
আমার ভাগ্য হুট কইরা হাঁটতে হাঁটতে চইলা আসে আমার সামনে!
কালো পোশাক পরা শে, আমারে চিনে না
ফুলের মতো, বাতাসে ঢলে ঢলে পড়ে
কথা বলে মোবাইলে, আমারে চিনে না
আমি দাঁড়ায়া থাকি, তারে দেখি, আবার দেখি না
যদি শে চিইনা ফেলে আমারে, আমি তো সরতে পারবো না!
আমি বান্ধা হয়া থাকবো তখন আমার ভাগ্যের কাছে, চিরদিন
কিনতু চিরদিন কেউ তো কারো থাকে না!
আর আমার ভাগ্য তো আমারেই চিনে না, গান গায়
হাস্কি গলায় তাঁর বেদনা ঝরে পড়ে
যেন ফুল, ফুটে আছে, বলতেছে
আমারে কি তোমরা দেখবা না!
আমি দেখি, আমার ভাগ্য কালো পোশাক পরা, ঘুরতেছে
বেকারির দোকানে মিষ্টি কিনতেছে, সন্ধ্যাবেলায়
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ হারায়া যাইতেছি আমরা আবার
পৃথিবীরই পথে পথে…
২৩/০৬/২০২৫
কুড়ি বছর পরে
ও মেগ, তুমি কই থিকা আসছো?
আমি তো ছিলাম মেঘালয়ে, জৈন্তা পাহাড়ে
ঘুরতেছিলাম উদাসি হয়ে
ও মেগ, তুমি সিঅলট কেনে আইছো?
আমি তো আসছি সময়রে খুঁজতে
হারায়া গেছে যে কুড়ি বছর আগে!
ও মেগ, তুমি কি পাইছো নি তারে?
আমি তো বারুতখানায়, জিন্দাবাজার, হাউজিং এস্টেটে
ঝরে পড়তেছি আর ভুলে যাইতেছি তারে…
১৪/০৭/২০২৫
বৃষ্টির গান
কি সুন্দর একটা দিন!
(হোয়াট আ বিউটিফুল ডে!)
দুনিয়াটা যে কি মায়ায় ভরা !
(হোয়াট আ ওয়ান্ডারফুল ওয়ার্ল্ড!)
এইরকম সুন্দর একটা দিনে
এইরকম মায়ায় ভরা দুনিয়ায়
কতো-ই না সহজ মইরা যাওয়া
গাছগুলা দাঁড়ায়া দাঁড়ায়া বৃষ্টিতে ভিজতেছে
মানুশ-জনের তাড়াহুড়া, কে যে কোথায় চলে যাইতেছে…
আমি আর কোথাও যাইতেছি না,
আমি আর কোথাও যাইতে চাইতেছি না,
কিনতু মরন ছাড়া জীবন তো ফুরায় না!
বৃষ্টির ফোঁটাগুলা মিশে যাইতেছে মাটিতে
সময়ের ভিতরে হারায়া যাইতেছি আমরা
কি সুন্দর একটা দিন!
আর কি যে মায়ায় ভরা এই দুনিয়া!
২০/০৭/২০২৫
দা পোয়েট
আমার মুখে চুন-কালি
আমি শহরের মেইন রোড ধরে হাঁটতেছি
লোকজন আমারে দেখে হাসতেছে,
অ্যাই, কি চুরি করতে গিয়া ধরা খাইছো তুমি?
আবার হয়তো কেউ সন্দেহ করতেছে,
ভুলে ধরে নাই তো এরে?
চেহারা তো চোরের মতো না লোকটার…
আর এই সন্দেহ থিকাই হয়তো কেউ
আমারে বানায়া দিবে প্রমিথিউস!
আমি চুপ কইরা থাকি,
কারন মুখে চুন-কালি নিয়া
কোন কথা বলা যায় না তো!
তখন কথার মানে থাকে না কোন
সারা শহর ঘুরে ঘুরে আমি নদীর পাড়ে আসি
পানিতে আমার মুখ ধুইতে থাকি
কিছু দাগ থাইকা যায় মুখে তবু
আমি ভাবি, এইটা ভালো
এইরকম দুক্খ-কষ্ট-অপমান
কবি’দের পাওনা জিনিসই তো!
কি হইছিল, কি হয় নাই –
তা দিয়া কিছু যায় আসে না তেমন,
কে জানে, কোন ভার্সনটা ট্রু?
যারা জানে, তাদের মুখেও চুন-কালি মাখা
তাদের কেউ কেউ মুখ লুকায়া বইসা আছে ঘরে
আমি শহরের মেইন রোড দিয়া হাঁটতেছি
একজন কবি’র সাহস, এইটুকই
কয়েকটা কাক কা কা করতেছে ইলেকট্রিকের তারে
কয়েকটা গাছের সবুজ পাতা বাতাসে দুলতেছে
রইদে ঝলমল করতেছে সবকিছু
মানুশ-জন তাড়াহুড়া করে চলে যাইতেছে
আমি, মুখে চুন-কালি মাখা, হাঁটতেছি ধিরে ধিরে…
১০/০৮/২৫
সূর্যমুখি ফুল
একটা এম্পটিনেস ছাড়া কবিতা লেখা পসিবল না। এম্পটিনেস’টা যত বড় হবে, কবিতাটা তত ছড়াইতে থাকবে; আর আপনি ঘুরতে ঘুরতে যত দূরে যাইবেন সীমানাটা টের পাইবেন এম্পটিনেসের, তারও দূরে গিয়া শুরু হইছে দেখবেন অন্য আরেকটা শূন্যতার জায়গা… আর বিশাল বিশাল সব শূন্যতার ভিতর বসে আছি আমরা, ওড়ে যাইতেছি বাতাসে ধুলার মতো, দেখা-ই যায় না… না-দেখার মতো এইরকম অনেক অনেক এম্পটিনেস ছড়ায়া আছে, আমাদের চারপাশে… সূর্য ডুইবা যাওয়ার সময়, সন্ধ্যাবেলায়, তারা আসে আমাদের কাছে, সূর্যমুখি ফুলের মতো বসে আমাদের পাশে; বলে, ও ফুল, তুমি ঝরে যেও না যে!
২২/০৮/২৫
সন্ধ্যাবেলায়
সন্ধ্যাবেলায়, বইসা আছি
বৃষ্টি পড়তেছে একটু একটু
চারপাশের আওয়াজ কমে আসতেছে
আকাশ’টা আন্ধার হইতেছে, সময়ের আগেই
গাছগুলা ডেকে নিতেছে সেই অন্ধকার’রে
তাদের নিজেদের ডাল-পালায়
ফিরতেছে কিছু পাখি, নীড়ে
আমি ভাবি, পাখি
পাখি কখোন জানি উড়ে যায়!
৩০/০৮/২০২৫
Latest posts by ইমরুল হাসান (see all)
- কথা বলার স্মৃতি: ইচক দুয়েন্দে (২০২৪) - মে 23, 2026
- কমেন্টস অন পলিটিকাল পার্টিস: মার্চ, ২০২৬ - মার্চ 25, 2026
- কবিতা – ২০২৫ - সেপ্টেম্বর 23, 2025