১।

আবু সাইদ

উইথ-আউট এনি ডাউট, ২০২৪ সালের, বাংলাদেশের, পারসন অফ দা ইয়ার হইতেছেন – আবু সাইদ!

অনেকে সারাজীবন ধইরা অনেক কিছু করতে পারেন, কিনতু এমন অনেক মানুশ আছেন যারা একটা মোমেন্টে যা করতে পারেন হাজার হাজার মানুশ হাজার হাজার জীবন পার কইরা দিতে পারে শুধু এইরকম একটা মোমেন্টের সামনাসামনি হইতে পারার জন্য! এই নসিব সবার হয় না!

সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ দেখবেন অনেকেই পাইছেন, কিনতু ১৫-২০ বছর পরে এইরকম অনেকের নাম আমরা মনে রাখতে পারি না, মানে, তেমন দরকার পড়ে না, আবার অনেকে দেখবেন নোবেল প্রাইজ পাইছেন কি পান নাই – এইগুলা কোন ঘটনাই না! বব ডিলান নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরে লেনার্ড কোহেন কইছিলেন, এইটা হইতেছে এভারেস্টের চূড়ায় সাইন লাগায়া দেয়ার মতো যে, এইটা হইতেছে দুনিয়ার সবচে উঁচা পাহাড়, এইরকম

তো, আবু সাইদ’রে বাংলাদেশের, ২০২৪ সালের পারসন অফ দা ইয়ার বলাটা হইতেছে এইরকমের একটা ঘটনা…

আবু সাইদের যেই সাহস, সেই সাহসের উপর ভর দিয়া আমরা বহু বছরের জালিমরে সরাইতে পারছি, ফিউচারেও উনার এই সাহস আমাদের ইন্সপারেশনের ঘটনা হয়া থাকবে

এই সৎ-সাহস’টাই আমাদের নতুন বাংলাদেশের আশা, একমাত্র ভরসা! আমরা আশা করি, ভালো’রে ভালো খারাপ’রে খারাপ বলার সাহস’টা আমরা দেখাইতে পারবো, ইভেন এর জন্য যদি মরতে হয়, তারপরও!

আর এইটা যে করা যায়, এর উদাহারন আমাদের সামনে রাইখা গেছেন আবু সাইদ!

যখনই জালিমের জুলুম সীমা ছাড়ায়া যায়, আমরা যেন আপনার মতো সৎ-সাহস নিয়া দুই হাত ছড়ায়া দিয়া বুক পাইতা দিতে পারি তারে ঠেকানোর জন্য!

স্যালুট, আবু সাইদ! সালাম আপনারে, হাজারবার!

৩১.১২.২০২৪


২।

 

গতকালকে একজন জেন-জি’র সাথে কথা হইতেছিল, যে কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে; ওর এক ফ্রেন্ড পুলিশের গুলিতে মারা গেছে জুলাই মুভমেন্টে; তো, অরে জিগাইতেছিলাম কোন সময়টা সবচে ক্রুশিয়াল ছিল, বা ফার্স্ট কোন সময়টাতে মনে হইছিল যে, অন্যায় কিছু হইতেছে, বা রাস্তায় নামা উচিত?

ও বললো, যেইদিন ছাত্রলিগের লোকজন ঢাকা ভার্সিটিতে মেয়েদের গায়ে হাত তুললো, দ্যাট ওয়াজ সিম্পলি টু মাচ!

আমার কথাও যদি বলেন, ফার্স্ট স্পার্কিং মোমেন্ট অইটা, যেইদিন মেয়েদের মাইর-ধর করলো ছাত্রলিগের সন্ত্রাসিরা! এইটা মাইনা নেয়ার মতো কোন ঘটনা না!

এই ছবি দুইটা অইদিনের। এই ছবি দেখলে কান্দা চইলা আসার কথা, একইসাথে রক্ত গরম হয়া উঠার কথা! মেয়েদের গায়ে হাত তোলার, মাইরা রক্তাক্ত করার সাহস অরা পায় কেমনে!

দুই মাস পরে হইলেও এই সন্ত্রাসি সংগঠনরে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হইছে; কিনতু এদের বিচারও করতে হবে আসলে

(ফেইসবুকের নিউজফিড থিকা নিয়া সেইভ করে রাখছিলাম বইলা ফটোগ্রাফারের নাম দিতে পারতেছি না সাথে, সরি ফর দ্যাট…)

২৪.১০.২০২৪

 

৩।

এইটা হইতেছে আরেকটা পরিচিত এবং আইকনিক ছবি জুলাই মুভমেন্টের… অগাস্টের ২ তারিখেরই হবে, শহিদ মিনারের কাছে, দোয়েল চত্বরে (আন-ফরচুনেটলি ফটোগ্রাফারের নাম জানা নাই, কেউ জানাইলে অ্যাড কইরা নিবো)

ছবিটার সিগনিফিকেন্স হইতেছে মানুশ’টার চোখ দুইটা – একটা কঠিন ডেডিকেশন, রেডিনেস, যেন অর্ডারটা আসবে, আর আমরা যুদ্ধে নাইমা পড়বো! দাঁড়ায়া থাকাটার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোন কনফিউশন নাই! উই আর রেডি টু ফাইট! এইটাই ছিল আসলে জুলাই মুভমেন্টের স্পিরিট’টা!

রিকশার উপরে দাঁড়ায়া থাকার কারনে, পাশের সবার চাইতে একটু উঁচাতে আছেন উনি, একইসাথে পইরা আছেন লুঙ্গি ও গেঞ্জি – যেইটার কারনে উনারে ‘সাধারন মানুশ’র ইমেজের সাথেও মিলায়া ফেলা যায়; এবং অই মেসেজ’টা তৈরি হয় যে, একজন ‘সাধারন’ ‘রিকশা-ড্রাইভার’ও জীবন দেয়ার জন্য রেডি হয়া আছে, আর আমরা রাস্তায় নামবো না! এখনো!

এই ছবিটা একটা সিম্বল হিসাবে এপিয়ারড হইছিল তখন; যে, যা কিছুই আসুক, উই আর রেডি! কোনকিছুই টলাইতে পারবে না আমাদেরকে! স্যালুট, বাংলাদেশ! তোমায় সালাম!

নেভার ফরগেট! নেভার ফরগিভ!

০৩.১১.২০২৪

 

৪।

ছবিটা তুলছেন সৈয়দ আশরাফুল আলম

অগাস্ট ০২, ২০২৪ সালের ছবি

এইটা একটা আইকনিক ছবি মনেহয় আমার কাছে; ইমোশনাল এক্সপ্রেশনগুলা পিক করতে পারার কারনে, কোন ডর-ভয় নাই কারো চেহারায়! যেই ডরের শাসন কায়েম করা হইছিল, সেইটা ভাইঙ্গা গেছে এইভাবেই!

বাংলাদেশের বাঘিনী এরা! অগ্নিকন্যা!

NEVER FORGET! NEVER FORGIVE!
.

(ছবিটা তুলছেন সৈয়দ আশরাফুল আলম)

২০.১০.২০২৪

 

৫।

১৯৭১’র সাথে ২০২৪’র স্পিরিটের বেসিক ডিফরেন্সের জায়গাটা কোনটা? আমি বলবো এইটা একটু ভাইবা দেখেন…

মানে, অনেকগুলা জায়গাই তো আছে, কিনতু ৭১-এ দেখবেন নাকি-কান্দার আবেগটাই বেশি, সেক্রিফাইসের জায়গাটা (৩০ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগ, ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে…) , এবং অই গর্তজীবীরা, যারা ৭১’র এই নেরেটিভটারে তৈরি করছে তাদের ডামি কপিগুলাও ২৪’রে অইরকম প্যানপ্যানানি বানাইতে চায়, শোকগাঁথা লেইখা!

কিনতু অইটা ‘২৪-এর মেইন স্পিরিট না, মানে, সেক্রিফাইস তো আছেই, দুনিয়াতে কোন স্বাধিন দেশে, কোন সরকার ২ সপ্তাহে ২ হাজার মানুশ খুন করে নাই! সেক্রিফাইস এইখানে কোনভাবেই কম না, কিনতু যদি খেয়াল করেন, দেখতে পাইবেন, তার চাইতে বড় ঘটনা হইতেছে এইখানে সাহস’টা!

কেউ আর ডরাইতেছে না!

আবু সাইদের বুক ভাইঙ্গা হাজার হাজার লাখ লাখ সাহসের পাখি বাংলাদেশের বাতাসে উইড়া বেড়াইতেছে…

একজনের সাথে আরেকজনের আত্মা মিলে যাইতেছে, আর সেইটা মিলতেছে একটা সাহসের জায়গাতে, এইটা হইতেছে সেন্টার একটা পয়েন্ট, ‘২৪-এর; যে, আমরা আর ডরাইতেছি না!

আমরা সাহসের শ্লোগানগুলা দিতে পারতেছি!

এবং আইরকনিকালি শ্লোগানের কথাগুলা শোনেন:

“চশমাওলী বুবুজান
নৌকা লইয়া ভার* যান!

ভারত যাদের মামার বাড়ি
বাংলা ছাড়ো তাড়াতাড়ি!”

এবং লিটারালি এইটাই ঘটছে!

NEVER FORGET, NEVER FORGIVE

(তো, এইখানে ছোট্ট আরেকটা কাহিনি আছে, ভিডিওটা তো অনেক পোস্ট ঘুইরা আমার কাছে আসছিল, তারপরে শস্তা ফ্রি অ্যাপ দিয়া ট্রিম করছি ভিডিওটা, যার ফলে কোয়ালিটি তো অনেক বাজে হয়া গেছে, তখন একজন কমেন্ট করতেছিল – ভিডিও’টা ভুয়া, কারন মুখের সাথে আওয়াজ মিলে না! মানে, জিনিসটার কোয়ালিটি যেহেতু ভালো না, তার মানে নিশ্চয়ই ফেইক! এখনো তাদেরকে অই বিশ্বাসের জায়গা থিকা খুব একটা সরাইতে পারবেন না!

অথচ দেখবেন, এই গ্রুপটাই দেখবেন এখন এআই জেনারেটেট ফেইক-ভিডিওগুলাতে ঈমান আনে, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশনের ঘটনাগুলা নিয়া ‘বিপ্লব’ করতে থাকে!)

২০.১০.২০২৪

 

৬।


এইটা হইতেছে জুলাই মুভমেন্টের আরেকটা আইকনিক ছবি!

হাইকোর্টের সামনে মেবি; ভিডিও’টা থাকার কথা কোথাও, কারো কাছে (আপনারা এই ছবিগুলা নিজেরা সেইভ কইরা রাইখেন, ফেইসবুকে এইগুলা পাইবেন না সার্চ করলে, গুগুল সার্চ থিকাও ডিলিট কইরা দেয়া হবে ধিরে, ধিরে, আমাদের পারসোনাল মেমোরিও ঝাপসা হয়া আসতে থাকবে, কিনতু কোন না কোন ফর্মে এই সাহসের কাহিনিগুলা থাইকা যাবে…)

যতদূর মনে আছে, মেয়েটার সাথের একজন স্টুডেন্টকে জোর কইরা এই পুলিশ ভ্যানে তুইলা নেয়, অনেকে ছাড়ানো ট্রাই করে, কিনতু পারে না, ছেলেটারে নিয়াই পুলিশ ভ্যান অই এলাকা থিকা চইলা যাইতে নেয়

তখন এই মেয়েটা গিয়া সামনে দাঁড়ায়, আরো কয়েকটা ছবি আছে, কয়েকটা এঙ্গেলে, সেইখানে দেখা যায় মেয়েটার একটা হাঁটু সামনের দিকে ভাঁজ করা, মানে, শে শক্তি দিয়া আটকাইতেছে পুলিশ ভ্যান’টারে! চিকনা, লিকলিকে একটা মেয়ে, কিনতু শরীর দিয়া শে আটকাইতেছে না পুলিশ ভ্যানটারে, শে আটকাইতেছে তাঁর সাহস দিয়া!

তারপরে আরো আরো মানুশ আসে, মেয়েটার পাশে দাঁড়ায়, ছেলেটারে পুলিশের ভ্যান থিকা বাইর কইরা নিয়া আসে!

মনে রাখবেন, জুলাই হইতেছে আমাদের এইরকম হাজারটা সাহসের ঘটনা! হাজার হাজার মানুশ মরার ভয় না কইরা রাস্তায় নাইমা আসছিল! এই সাহস’রে এতো সহজে মব সাজায়া, প্রপাগান্ডা চালায়া, আরেকটা ভয়ের ভিতরে বন্দি কইরা ফেলা যাবে না!

নেভার ফরগিভ! নেভার ফরগেট!

২৯.১১.২০২৪

 

৭।

 কি ভয়াবহ একটা জিনিস যে ছিল এইটা! ফোনটা অন করা আর বাচ্চারা শুনতেছে ‘লাইভ’ তাদের বাপরে গুলি কইরা খুন করা হইতেছে! এইরকমের অসহায় ছিলাম আমরা!

নেভার ফরগেট! নেভার ফরগিভ!

০৯.০৩.২০২৫

 

৮।

কয়েক সেকেন্ডের একটা ভিডিও থিকা এই ফ্রেমটা নেয়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থিকা ভাইয়ের লাশ ছিনায়া নিয়া যাইতেছে দুই বইন, আর শ্লোগান দিতেছে – খুনি হাসিনার বিচার চাই!

ওদের আওয়াজই হইতেছে বাংলাদেশের আওয়াজ! ওদের সাহসটা হইতেছে বাংলাদেশের সাহস! ওদের বুক-ফাটা বেদনা হইতেছে বাংলাদেশের হাজার বছরের আর্তনাদ!

এই আওয়াজটারে শুনেন! ফিল করেন!
নেভারে ফরগেট! নেভার ফরগিভ!

৯।

 এই ভিডিও’টা দেখলে আমার নিজের কথা মনেহয় অনেক সময়; কারন আমার বয়স উনার বয়সের চাইতে একটু বেশিই হবে, কিনতু প্রোফাইল অনেকটা মিলে – চাকরি-বাকরি করি, অফিসিয়াল ড্রেস পরি 🙂 কিনতু তাই বইলা দেশ-সমাজ-রাজনীতি নিয়া কিছু ফিল করি না – তা তো না! মাঝে-মধ্যে তো মেজাজ গরম হয়া যায়!

এইরকম আমরা যারা আছি, জুলাই-অগাস্টে রাস্তায় নাইমা আসছিলাম তো! যে, টাকা-পয়সা দিয়া কি করবো বাল! লাইফ’টা আছে কি জন্য, মইরা যাওয়ার জন্যই তো!

জুলাই-অগাস্টে এইরকম আমাদের মতো ‘সাধারন মানুশ’ শহিদ হওয়ার জন্য রাস্তায় নামছিল, ইতিহাসরে বদলায়া দিছিল! এইরকম ‘সাধারন মানুশ’রা যখন হিরো হয়া উঠে, ঘটনারে কন্ট্রোল নিয়া নেয়, তখনই নতুন ইতিহাস তৈরি হয় দুনিয়ায়! আমরা খুবই ফরচুনেট যে, এইরকম একটা জুলাই আমাদের জীবনে আসছিল!

০১.০৭.২০২৫

The following two tabs change content below.
Avatar photo
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।