হাসান আজিজুল হকের নভেল আগুনপাখি আর গৌতম ঘোষের সিনেমা শঙ্খচিলের দেশে- দুইটা উদাহরণ দেই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়ছিলাম বা দেখছিলাম। দেশভাগের দু:খ-কষ্ট নিয়া বহু লিটারেচার আছে।আর্ট আছে। এই দুইটা পিক করলাম- দুইজন দুই দেশের তাই।

গৌতম ঘোষ দেখাইছেন যে, এই বাংলাদেশের একজন মানুষ ওপার বাংলার জন্য দু:খ পাইতেছেন। হাসান আজিজুল হক দেখাইছিলেন যে, ওপার বাংলা মানে পশ্চিমবঙ্গের একজন মানুষ অভিমানে দেশভাগে একাই ওখানে রয়ে গেলেন। ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ভিটেমাটি ছাড়া করছে। কথা ঠিক আছে। কিন্তু এইটার মধ্যে একটা শুভঙ্করের ফাঁকিও আছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গের সাদৃশ্য কি? জাতিগত সাদৃশ্য। বাঙালি জাতি।

দুনিয়ার কয়টা জাতি তাদের নিজেদের রাষ্ট্র পাইছে? সবাই পায় নাই। কুর্দিরা পায় নাই। উইঘুরেরা পায় নাই। কাতালানরা পায় নাই।

অথচ চীন রাশিয়ায় জাতি-রাষ্ট্র হওয়ার মত জাতি আছে প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। ভারতে এনলিস্টেট জাতি ৭০৫।

সব না ধরলেও নাগা,তামিল,শিখ,মণিপুরী-এই রকম জাতি রাষ্ট্র হওয়ার মত অন্তত গোটা দশেক আছে। কেউ নিজের রাষ্ট্র পায় নাই।

মানে, আপনি বড় কোন জাতি হইলেই যে রাষ্ট্র পাইবেন,এমন না। কেউ কেউ নাগরিকত্বও পায় না। রোহিঙ্গাদের মায়ানমারেও নাগরিকত্ব দেয় না।বাংলাদেশও দেয় না। বাংলাদেশের উর্দুভাষী বিহারীরা নাগরিকত্ব পাইছে ২০০৮ সালে।

বলতে চাইতেছি যে, এইটা যে উপায়েই হোক- বাঙালিরা যে রাষ্ট্র পাইছে, তা একটা ব্লেজিং। কিন্তু কাটা পড়ছে পশ্চিমবঙ্গ। তারা বাঙালি জাতি হিসাবে নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হইতে পারতো। ঐতিহাসিক ঘটনাচক্রে তা পায় নাই।

কিন্তু কলকাতার আর্ট-কালচারে কি দেখবেন? বা কলকাতাকেন্দ্রিক বাংলাদেশি আর্টিস্টদেরও দেখবেন যে, তারা ট্র‍্যাজেডি দেখে উলটা। বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের বাইরে কাটা পড়ছে। এইটা তাদের রোমান্টিক আর্টিস্টিক দু:খ!

বাংলাদেশ যদি ওদের সাথেই থাকতো, তাতে সে জাতি-রাষ্ট্র পাইতো না। আরো বিশটা জাতির সাথে ভারতীয় হয়ে থাকতো। কিন্তু তারা বাংলাদেশের সাথে থাকলে বাঙালি জাতি-রাষ্ট্র হয়ে থাকতো।

যা হবার হইছে। কিন্তু ভারতীয় সাংস্কৃতিক রাজনীতি হইতেছে এই উল্টা জিনিস দেখানো। বানানো। প্রচুর বইপত্র-সিনেমায় এই জিনিস পাইবেন। কোথাও পাইবেন না যে, কলকাতার দুঃখ যে সে বাংলাদেশের সাথে আসতে পারে নাই।

বড়ভাই পশ্চিমবঙ্গ না। বাঙালি জাতির বড় ভাই বাংলাদেশ যার নিজস্ব জাতি-রাষ্ট্র আছে। ছোট ভাই ওইপারে আটকা পড়ছে। পড়ুক। কিন্তু উলটা কান্নাকাটি কেন করেন, যারা করেন?

শওকত ওসমানরে ছফা রাগ করে সাথে নিয়ে দেখাইছিলেন যে, নীলক্ষেতে সমরেশদের বই ভুরি ভুরি। কিন্তু জননী বা ক্রীতদাসের হাসি লেখতে পারা শওকত ওসমানের বই নীলক্ষেতের লোকজন সেই তুলনায় চেনেই না। অথচ শওকত ওসমান এই দেশের। পাশেই ঢাকা কলেজের শিক্ষক।

সকল বইপত্রই সকলে পড়ুক। কিন্তু কার ওপরে কি উপরিপাতন হইতেছে, সেই জায়গাটা দেখার দরকার আছে।

The following two tabs change content below.
Avatar photo

কবির আহমেদ

জীবিকার জন্য একটা চাকরি করি। তবে পড়তে ও লেখতে ভালবাসি। স্পেশালি পাঠক আমি। যা লেখার ফেসবুকেই লেখি। গদ্যই প্রিয়। কিন্তু কোন এক ফাঁকে গত বছর একটা কবিতার বই বের হইছে।