পুঁজি

বনিজ নাই, নাই বাপ-দাদার সম্পত্তি
তবু কতো টাকা কে গুনে, কে বা জানে
কোথায় ব্যাংক, কোথায় যে বাড়ি
ঢাকা শহর, নিউইয়র্ক, এই দুনিয়ার মাঝে!

অথচ লোকে কতো খবর না জাইনাই
অভাবের কথা বলে, দেশের কথা বলে
আসমানে মেঘ আসলে কয়- ফলনের কথা
কথাসব রাইখা আসি রসুলপুরে।

 

শিস

দুই তালগাছের মাঝখানে এক খেজুর গাছ আছে।
তার ডালে বইয়া এক পাতি ময়না শিষ মারে।
সে-পাখিরে আমি দেখি নাই, দেখি কি তোমারে?

দুই গাছের মধ্যিখানে গিয়া দেখি হায়, সে নাই,
দূরের ফিকাস গাছে চইলা গেছে।

দুইপহরে নাই কেউ কোথায়, খালি মারে শিস।
হায় রে হায়, মনে হয় খালি ডাকে মোরে।

 

গত হওয়ার পরে

ফুলটা বাসি হওয়ার আগে
বিকালে ম ম করতেছিল
আর চন্দনির জন্য কে বা সে-
আমারে নিয়া সন্ধ্যায়
বাড়ির পিছনবনে চইলা গেল

বললো- তারার কথা;
ওরা মরনের পরে রয়ে যায় অনন্ত
নিভে যাওয়ার আগে বাঁশ-ঝারের উপরে
পাঠাইছে আলো কতোকাল ধরে
কবেই তো মিলায়ে গেছিলো

সেই যে কোন রাইতে প্যাঁচা ডাকছিল
কোন আমলের মরার খবর
অদ্য তুমি গত হওয়ার পরে-ও
আসতেছে এতোকাল যাবৎ ।

 

শীত খাওয়া

নয়া পাখিদের আসা ও
ফসলের গন্ধে ভাষা পাইলাম
ভাবতে পারলাম- শীতকাল

ঝিমাইতে ঝিমাইবার আগে
তরি-তরকারির কথা কইবো
কথা তো অনেক খর্চা হইয়া যায়
এখন আর কম-দামি জিনিসও নাই

ভাইয়া, আপা, আরও কিছু জানাই ?
বউরে জানাই- কাঁথার নিচে কেমনে ঘুমাই,
জোয়ানকিরে দেখাই- হাঁটুপানির গাং
শুকনায় লাই খেলার কোনও মানে নাই

কইতে না কইতে শীত আইলো
বানতেছে কেউ ধানের গীত
চাউল উঠতেছে বলে উগারে
মাছ নিয়া কিছু বলার থাকে

না বইলা বরং রানতে হইতেছে
পাইয়া বসে উম, কোথাও ঘুম
আগুন পোহাই আর শীত খাই
কুচিমুচি খাইয়া।

 

বিদ্যা-বুদ্ধি

একটা পাগলা ঘোড়া-
একে একে সাত-চক্কর দিয়া দিলো
তবু হাতির ন্যায় মাস্তি থামলো না,

_হুইচ ওয়ে সেল আই গো নাও ?

বিদ্যান হওয়ার বুদ্ধি জেনে
অসংখ্য দরজা খুলতে গেলো
তবু ঘোড়াটা চীন-দেশে পৌছাইতে পারলো না ।

(‘উৎলুবুল ইলমা আলাওকানা বিস্ সিন’)

 

একটি পথ তোমার দিকে

যদি জাতীয় সীমানা পার হয়ে দেখি-
জান্নাত কি জাহান্নাম দাঁড়িয়ে আছে

আমি কোথায় উঠবো,
তোমার রুশনাই ঠাহর করব হয়ত
এরই মাঝে যদি জিজ্ঞেস করো-
কী চাও ?
বর্তমানেও তো কেউ কেউ তা জিগায়!

বলব, যারে খুঁজছি- তার সঙ্গে
দেখা হবে কি না- জানি না
তবু তার জন্যই দুই ভূবনের ধারণা জন্মেছিল!

এরই মাঝে হঠাৎ দেখা হবে কি ?
শর্ত মেনে তো আসি নাই,
তবু হয়ে গেলে সাক্ষাৎ- অবাক হব না
যেহেতু বান্দা থেকে বন্ধুর খোঁজে
মানচিত্র কোনও বাঁধাই না

তাই যদি মহাবিশ্বের পরে মহাজাগতিক ভূগোল থাকে
যারে আঁকা হয় নাই মগজে,
থাকতে পারে দুধের নহর
এরপরও ভাসবো না সেখানে

শুধু খোঁজতে থাকবো
তোমার দিকে হেঁটে যাওয়া একটি পথ

আমি তো হাঁটতেছিলাম একরকম
ওড়না সরায়ে বদন দেখবো বলে
অথচ এই পৃথিবীর থেকে বেশি দূর হাঁটি নাই ।

 

আলিফ

হরফগুলা; বা তা সা জিম হা
দেখো ক খ গ, আ-মরি বর্ণমালা
এ বি সি ডি-তে যা আছে মানে
এরই মাঝে আলিফ হইল সে

তুমিও সোজা দাঁড়াইয়া দেখো
সে-মানুষ ভাববাহী এক আলিফ!

কে কে আছো গো বন্ধুহীন একলা
একক হেরার মাজারে যে যে গেছো
রাবেয়ার ধিয়ান ভংগো করো না

জাইনো জালাল উদ্দিন একলা
জাইনা আদি আল্লাহুর নিঃস্বঙ্গতা-

তুমি রুহের ভিতর হারাইয়া যাইয়ো
নির্জন, বন্ধুহীন তিন আলিফ পথে
নিরাকার অনন্তের কিনারে
তুমিও একলা এক আলিফ
সংগোপনে সংগ ধরো ।

 

এমনি এমনি

দরিয়ার দিকে বয়ে যাইতে গাঙের তো দিক্ষা নাই
ব্যাখ্যা করা লাগে না- গাছ যে উপরের দিকে যায়
পাখিদের কে কয় কুজন করতে,
ওমনি কেউ কাওরে শিখায় নাই ভালবাসতে
যারে বাসবো, সে আন্দাজ করতে পারে শুধু

ধরো, তোমার নিয়ড়ে যাইতে যাইতে
সম্মোহিত হইল চোখ, হৃদয় আর ঠোঁট
এমনি এমনি পথের ধারে দাঁড়াইয়া থাকা লাগলো
রাইত-বিরাইতে ইনবক্সে হাই দিতে দিতেও
কথা-সব মনরে সম্বোধন করলো না ।

 

ঘাট আর দূরে নাই

কতোকাল ধইরা বৈঠা বাইতেছি
আরও যলদি গুন-টানি ।
তবু গাঙ উতাল হইলে
ঢেউ আমারে পর করতে থাকে
বাধ্য হয়া ঘাটের কথাই তুলি
ও রে ভবের নাইয়া-
তুই-ই তো কইছিলি- ঘাট আর দূরে নাই!

আমি নাও বাইতে বাইতে
বাঁকা গাঙে রঙিন পাল উড়াইলাম
বাঁকা গাঁওয়ে ঘাট ভাইবা ভুল করলাম

গাং আর গাং রইল কি ?

এই জন্মের ভারও নৌকায় উঠলো
ধানের গন্ধ, মাছের খেলা,
মাইজ্বির ডাক, নাইওরির আনন্ধ,
আরও না-কওয়া যত কথা-
সবাই মুসাফির হইয়া বসলো

বৈঠা যে ক্ষয় হইতে থাকে
হাতের তালু লাল হইতে থাকলেও
আমার তো থামা নাই
তোমার ঘাটে পৌঁছাইতে থাকি-
তবু যে পৌঁছাই না।

The following two tabs change content below.
Avatar photo

ওয়াহিদ রোকন

কবি। থাকেন সিলেটে।
Avatar photo

Latest posts by ওয়াহিদ রোকন (see all)