ফাঁকফোকর
কোনো জায়গায় তোমারে ভাবতে
আনকম্ফোর্টেবল হয়ে উঠলে
মনে হতে থাকে
ইস্রাফিলের শিঙায় ফুঁ দেয়ার মুহূর্তে নিয়ে আসছি আমি আমারে।
আমার দিনগুলো জানতো তুমি এইখানে এইখানে থাকতা
আমার বছরগুলিও হাঁইটা যাবে সামনে
তোমার থাকার মধ্যে দিয়া।
তুমি কেবল তোমার পরিত্যক্ত স্থানটাই আমারে
দিলা,
আর দিলা আমার আনটোল্ড কনভারসেশনের সুরত
কল্পনা করার এলিমেন্ট।
কিন্তু তুমি নিয়ে গেছো তোমারে দূরে কোথাও—
উড়ে যাওয়া কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির মতোন।
সেখানে বেখেয়ালে ঝরে পড়তেছো
সিগারেটের ছাই হয়ে নিজস্ব এস্ট্রেতে।
রাতের অপেরা সাজিয়ে শুনতেছো রেডিওহেড
কিন্তু বুঝতেছো না এসব এক্সপেন্সিভ ডেকোরেশনের ভিত্রে আমি নাই।
আমারে কেন রাখো নাই রবার্ট ডি নিরো?
অভ্যর্থনা
আমরা যেখানেই গিয়েছি, সাথে এনেছি পরস্পরের অতীত,
তোমার বদলির খবর এমনভাবে টের পাওয়া যায় যেন
গরীব মাঝির নৌকার মতো ছিদ্র হয়ে গেছে বুক।
স্বপ্নের গোলাপি আকাশ আর মহাজাগতিক সব অসম্ভব সুন্দরকে গুটিয়ে রেখেছি তোমার কার্পেট হিসেবে,
তোমাকে অভ্যর্থনা জানাবে হাওরের চরে কোনো দুপুরে
একা চড়ে বেড়ানো গাভীর পিঠে বসা একজোড়া ভীমরাজ পাখি।
সাবলেট খোঁজার পেরেশানি থেকে বাঁচিয়ে
উপঢৌকন হিসেবে তোমার বুক ভরে দিবো
নির্মল বাতাসে সূর্যের ঝিলিমিলিকে।
তোমার ঘর একটা হিজল গাছ,
যে বিকাল আশ্রয়ের আশ্বাস, প্রেমিকার নির্ভার চাহনি
যেসব সন্ধ্যা তারই আশ্রয়ের কোমল আঁচল।
তোমাকে সব দিবো এইসব মোহ ভারাক্রান্ত দিন ভুলিয়ে,
তোমার সংসার কার যে জানি না আমি,
কলহ-কন্দোল হও কিনা তুমি বিরক্ত
কে জানে তোমার ব্রাউন কালার জুতোর বাক্স গুছিয়ে রাখো কীভাবে।
আমার বুক ভারী হয়ে আসে এইসব দিনে,
নির্দ্বিধায় তোমারে এম্ব্রেস করতে না পারার
একটা দুঃখ তো আমি ঢেকে রাখি গোপনেই।
কাগজের পাখি
তুমি আমার কাছ থেকে নিজেরে এভাবে লুকাইছো
যে তোমার ঐ লুকানোর জায়গা ছাড়া
সবখানেই তুমি স্ক্যাটারড হয়ে গেছো।
ডেকোরেশনের জন্য বানানো যেকোনো কাগজের পাখিই
যেন উড়ে আসছে তোমার হাতের মুঠো থেকে,
দিকভ্রান্ত হয়ে উড়ে যাচ্ছে আমার ঘর জুড়ে।
এমনকি এখন তুমি মিশে যাইতে পারতেছো
আমার বারান্দার নয়নতারার মাটিতে সার হয়ে।
তুমি বাড়তেছো, কিন্তু লুকাইতে পারতেছো না
তুমি দূরে যাইতেছো, কিন্তু সরতে পারতেছো না
আমি তোমারে দেখি না ঠিক, কিন্তু না দেখে থাকতেছি না মূলত।
এই অচেনা জায়গার ভার, না-চেনা মানুষের ভালোবাসা
অজানা জায়গার গন্তব্য আমার হওয়ার কথা ছিল না,
আমার যা ছিল, তুমি সব নিয়ে গেছো—
আমি দাঁড়িয়ে আছি বিশাল ধানের মাঠের কাকতাড়ুয়া হয়ে
এই যে আকাশ; এত এত মেঘ নিয়ে সফরে যায় কোথাও
তার নিচে দাঁড়ায়ে আমি মুভ অন করতেছি জীবনের।
অ্যানোনিমাস
তোমার সংসার।
তুমি বেছে বেছে কিনো নরম ঢেঁড়স,
শহরের বাজারে কাঁপতে থাকা কই মাছের প্রাণ,
ভুলে যেও না নিতে জরুরি ধনেপাতা।
তুমি ফিরে এসো তাড়াতাড়ি,
বৃষ্টি হইলে ভিজে যেও না, রিক্সা নিও।
তোমার কর্ণফুলী।
তুমি দেখে দেখে রেখো তার সব সন্ধ্যার ঢেউ
যে তোমাকে দেখলো ফিরতে বাড়িতে,
তার নদীর মতোন চোখকে ভালোবাসা দিও।
শুনাইও না তাকে আর কোনো স্ট্র্যাঞ্জ গান,
কোনো বিষন্ন চিলেকোঠা, কোনো ভোর, কোনো রাতের কথা।
তোমার সময়।
ঐখানে বেঁচতে বসি কথাসমূহ আমি, খরিদ্দারও আমি।
কোনো পেইন্টেড ময়ূর এখনো নাড়তেছে পেখম দেয়ালে
কোনো কোনো দিন এখনো ভাবতেছে তোমারে।
তোমার স্মৃতির আড়ৎ নিয়ে তোমার বিপরীতে
দাঁড়ায়ে থাকো কেবল তুমিই।
তুমি যাওয়ার পর
তুমি যাওয়ার পর,
তুমি নিয়ে গেছো আমার কথা
তোমার অতীতের ভিতর।
আসো, কমিটি বানাই,
সেখানে প্রেসিডেন্ট বানায়া দেই
তোমার উছিলায় মরা যাওয়া মনটাকে।
পোস্টমর্টেম করতে থাকি
তোমার চলে যাওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
যেহেতু, যেহেতু কোনো ম্যালানকোলিক রাতে
তোমারে ট্রান্সলেট করা যাবেনা কোনোভাবেই
অজানা ভাষার গানগুলোর মতোন,
তাহলে তুমি চলে যাইও,
সব ফর্মাল লেটারের ‘আনএভয়ডেবল ইনসাইডেন্ট’ শব্দগুচ্ছের সহবতে।
তোমাকে চলে যেতে দিলেই
তুমি সারেঙ্গীর বেদনা হয়ে আরও
জোরে, জোরেশোরেই বাজতে থাকো আমার মাথায়।
তবু তোমারে অনুরোধ,
তুমি চলে যাইও তোমার অতীতের ভিতরে।
ইসরাত জাহান গয়না
Latest posts by ইসরাত জাহান গয়না (see all)
- ইসরাত জাহান গয়না’র কবিতা - September 7, 2026