>> রিয়াবানু, আহারে >> এইভাবেই >> তোমার ড্রইংরুমের বনসাই গাছ নই >> সারা বাংলাদেশ >> এক দরিয়ারে ডাকতেছে আরেক দরিয়া >> যেখানে জিন্দা হয় মরা মাছ >>

রিয়াবানু, আহারে

আমি তারে এমন কইরা ফিল করি

সে যখন খুট খুট কইরা মেসেজ লিখে
ইংরেজি লেটারে বাংলা কথা

আর, একটাও ফুলএস্টপ না দিয়া
লম্বা লম্বা কথা লিখে যায়

আমার কি যে ভাল্লাগে

আমি তারে এমন কইরা ফিল করি
তার প্রতিটা মেসেজ ইমাজিন করি
যেন সে বলতেছে এভাবেই
অনেকক্ষণ কথা বলার পর থামতেছে
যেন হাঁপাইয়া উঠতেছে

তারপর আরও কথা
আরও কথা
ঝরনার মতো আমি ভিজে যাই
তার মেসেজে

আমি তারে এমন কইরা ফিল করি

তার কথাগুলা দিয়া
তৃষ্ণার্ত কাকের মতো তৃষ্ণা মিটাই

আমার কানে আমি বাজাই
তার কথাগুলাই

চোখের সামনে টিভির মতো দেখি
মুমিনুন্নেসা কলেজের ঘাসে ঘাসে
তার হাসির লহর বয়ে যাওয়া

দিনে দিনে সে যে আমার
কতো কাছের হইতেছে –

খুশিতে আমি রাস্তায় রাস্তায় দৌড়াই
সোনালি বিরি ধানের মাঠে ঘুড়ি উড়াই

খুশিতে আমি পাকা ধানের গন্ধ শুকি
পাকা আমের দিন গুনি
ছোট ফেনি নদীর জলে
গামছা পরে নেমে যাই


এইভাবেই

এইভাবেই তো আমি বড় হইছি
লাথিগুতা খাইয়া আর দুক্ষ পাইয়া

আর এমনেই বুইড়া হবো
তোমার দেয়া জ্বালায় পুইড়া পুইড়া

আর এই জ্বলন্ত আমার সামনে
তুমি বিসকুট খাইতে খাইতে
হেসে হেসে গইলা পড়বা

আমি বলবো, দেখো আমি জ্বলতেছি
দাউ দাউ করতেছে আমার সারা গা

তুমি হাসতে থাকবা যেন এটাও
আমার কোনো সারকাজম

মানুশ আমার ডাল কাইটা নিছে
মানুশ আমার ফল পাইড়া খাইছে
মনমতো কলম করছে আমারে
একই গাছ থেকে বিচিত্র রকম
ফল খাইবার লাইগা

শেষে আমারে গোড়াসুদ্ধা
ফালায় দিছে ধড়াম কইরা, ও মাগো
এটাই ছিল আমার সর্বশেষ চিৎকার

তারপরে খালি বয়স বাড়ছে
আর কখনো স্বর বাইরয় নাই

এইভাবেই তো আমি কাঠ হইছি
কখনো টিভি রাখার এস্ট্যান্ড
কখনো ডাইনিং রুমের চেয়ার
আর শেষমেশ তোমার ডেসিং টেবিল

এইভাবেই তো আমি কয়লা হবো
তোমার টিপ পরা দেখতে দেখতে
তোমার লাল নীল টিপ গায়ে নিয়ে
তোমার অনেক হাসিকান্নার নদী
বুকের মধ্যে নিয়ে এইভাবেই


তোমার ড্রইংরুমের বনসাই গাছ নই

আমি তোমার ড্রইংরুমের
সুন্দর সুশোভিত বনসাই গাছ নই

হইতে পারে চলে গেছে অনেক তুফান
হইতে পারে খরায় কখনও কখনও
মাটি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে

হইতে পারে সূর্যের আলো পাই নাই
সাড়ে সাত বছর

কিন্তু যে তোমার এক হাতে কাঁচি
আর অন্য হাতে রোদের আলো

তুমি আমারে বাইন্ধা ফেলতে পারবা না

তোমার চক্ষু শীতল করার মতো আকৃতি
আমারে দিতে পারবা না

আমি তোমার ড্রইংরুমের
সুন্দর সুশোভিত বনসাই গাছ নই

আমার নিজস্ব মাটি আছে
আমার নিজস্ব শিকড় আছে
আমার নিজস্ব রাস্তা আছে
রইদের দিকে যাইবার

আমার কাঁধে ভারী ব্যাগ তুলে দিয়ে
বলিও না ইস্কুলে যাইতে

তোমার মিথ্যা এলোপ্যাথি ওষুধ
আমারে বলিয়ো না গিলে খাইতে

আমারে পড়াইয়ো না তোমার উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

বলিও না টাওয়েল বিছানো চেয়ারে আছে
সীমাহীন মর্যাদা

আমার সব কাজের দিকে ছোক ছোক করে
তাকাইয়ো না

বলিও না যে আমি বেয়াড়া রকম বাড়তেছি

আমি বেয়াড়া আমি বেয়াড়া
আমি ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিক

তোমার সারভেইলেন্স ক্যামেরায় আমার রং
টকটকে লাল

আমার কিছুই বলার নাই আত্মপক্ষ সমর্থনে
তোমার কাছে

নদীশাসনের গুষ্টি মেরে প্রমত্তা স্রোতে ভাসাবো দুকূল
আমি সেই নদী

আমি সেই বটগাছ
আমি যেখানে সেখানে গজিয়ে উঠতে পারা
সেই সবুজ ঘাস

যখন তখন ফিরে আসতে পারা
সেই হারানো পাখির দল

আমি তোমার ড্রইংরুমের
সুন্দর সুশোভিত বনসাই গাছ নই


সারা বাংলাদেশ

আমি এক টাক ডাইবর
চলি সারা বাংলাদেশ

আমার নাই গা দিন
আমার নাই গা রাত
সাধারণ পরিবহন
দূরে থাকুন
একশো হাত

আমি এক টাক ডাইবর
চলি সারা বাংলাদেশ

আমার পাখির কথা মনে করি
ওভালটিন আইস কিরিমের
মতো পাখির দুই গাল
আমার শপ্নের ভিতর টাচ করি

আমি এক টাক ডাইবর
চলি সারা বাংলাদেশ

বাসের হেডলাইটে চোখ জইল্যা
শপ্ন আমার ভাঙে
কোনও একদিন মুখামুখি ধংঘর্ষে
জীবন যাইবো চাঙে

আমি এক টাক ডাইবর
চলি সারা বাংলাদেশ

রংপুর গাইবান্ধা খুলনা যশর
বেহিসাব খাই ধুল
শপ্নের ভিতর কড়া নাড়ি
পাখি দুয়ার খুল

আমি এক টাক ডাইবর
চলি সারা বাংলাদেশ

নেভি খাই আর ধুল খাই
ডিজেলের ঘেরান সারা গতর
ডিজেল দিয়া খোদা
রান্ধিলো মোরে
ছিটাইলো বালু তার উপর

আমি ডিজেলে ভাজা বেগুনি রে
চলি সারা বাংলাদেশ

বাঁও হাতে মেশিনের মতো আমি
গিয়ার তুলি গিয়ার নামাই
বালু দিয়া বুকের ভিতর আমি
পিরিতের তাজ মহল বানাই

আমি সম্রাট শাজাহান রে
ঠোঁটের ভিতর নেভি
চলি সারা বাংলাদেশ


এক দরিয়ারে ডাকতেছে আরেক দরিয়া

যেকোনো জায়গা থেকে
শুরু হইতে পারে একটা সংলাপ
এই ভেবে আমি ওয়েদারের কথা তুলি
তিনচারদিন সূর্য দেখা যায় নাই
এই কথাটা বলি

আমার সহআলোচক বলেন
হোগা ফাইট্টা যাইতাছে শীতে মিয়া

চা খাইতে খাইতে রাস্তা দেখি
টেম্পুর পাদানিতে তিনটা মানুশ দাঁড়ায়
চতুর্থ মানুশটা দাঁড়াইতে ট্রাই করে

সবাই মিলে জায়গা করে দিলে
সেও উঠতে পারলো

একটা এনিমেশন যদি বানাইতে পারতাম
মনে করেন টেম্পু চলতেছে চারশো পাঁচশো ইস্পিডে
আর পিছনে চাইরটা মানুশ
দড়িতে শুকাইতে দেয়া কাপড়ের মতো
ওড়াউড়ি করতেছে

ভাবতে ভাবতে হাইশা ফেললাম
লোকটারেও বললাম কল্পনাটার কথা
লোকটা বেক্কলের মতো হাশি দিলো একটা

যেকোনো জায়গায় গিয়া
পোছাইতে পারে একটা সংলাপ
রিক অ্যান্ড মর্টি, ফ্রেডরিখ নিৎশে,
গৌতম বুদ্ধ, খিজির এবং মুসা

যেকোনো দেয়াল ভাংতে পারি আমরা সংলাপে
খুলে ফেলতে পারি যেকোনো পোর্টাল
যেকোনো রাস্তা বানাইতে পারি আমরা
খনন করতে পারি যেকোনো খাল

যেকোনো নৌকা ছেড়ে দিতে
পারি যেকোনো পাড়ে যাওয়ার জন্য
আর ফকিরকে দিতে পারি পাঁচটা টাকা

আরেকটা চা নিতে পারি
এবার চিনি একটু কমায়ে
আর গাইতে পারি
ক্বারী আমীর উদ্দিনের গান

পিথিবিতে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছেন খিজির
পিথিবিতে এখনো হেঁটে বেড়াচ্ছেন খিজির

মূসা, মূসা, ওই পর্দাটা উঠাও তুমি
ওই পর্দাটা উঠাও

কেন তুমি, কেন তুমি,
দেখতে পাইতেছো না?

পাঁচটা টাকা নিয়ে চলে যাইতেছে খিজির
মাগরেবের আজান নেমে আসতেছে পিথিবিতে
পিথিবিকে ঘিরে ফেলতেছে একটা মশারির মতো

চায়ের রং বদলায়া যাইতেছে
হাসতেছে পাগলা শামস
খোদার কত লীলাখেলা
তাইনা দেখে

দরিয়ার তলায়
পোস্টার শাঁটানো হইতেছে মাছেদের লাইগা
দাউদ নবীর গানের পোস্টার
গান হইবো শনিবার! শনিবার! শনিবার!

কোনোদিন কোনো চোখ যা দেখে নাই
কোনোদিন কোনো অন্তর যা উপলব্ধি করে নাই
আসুন! আসুন! আসুন!
থাকবেন জমানার পয়গম্বরকুল শিরোমণি!
আসুন! আসুন! আসুন!
দাউদ নবির গান! দাউদ নবির গান!
কোনোদিন শোনে নাই কোনো কান
কোনোকিছু এতটা মহান

মাছেরা পোস্টার পইড়া দেখতেছে
আর বিচার বিবেচনা করতেছে
এস্প্যাম কিনা এইসব

ফিলাইওভারে জ্যাম লেগে গেছে
লাগতেছে চোখে বাত্তিঅলা
অনেকগুলা মাছ
ধরা পড়ছে জালে

যেহেতু অনেককিছু ঘটে যাইতেছে এই পিথিবিতে
শুরু হইতে পারে একটা সংলাপ
যেকোনো জায়গা থেকে


যেখানে জিন্দা হয় মরা মাছ

এই বস্তুময় জগতের
মশারির ভিতরে

আমি হৃদয় দিয়া ডাকি
মশার পৃথিবি

আমি ডাকি আমি ডাকি
ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া ফাইলেরিয়া

কখনও কখনও কামড় দিয়া
যায় শপ্নের ভিতরে

মাক্ষন – পুরাই মাক্ষন – আহা –
আহা, এমন পিরিতি,

এমন পিরিতি
আমারে করতে দাও রে

যেন পিরিতের টানে টানে
সুতায় টান পড়ে

যেন মশারি ছিড়িয়া যায়

বুকের মিসাইল দিয়া
মশারি ফুন্দা করে উইড়া যাবো

আহা, এমন পিরিতি, এমন পিরিতি
বুকে পুষতে দাও আমারে

ঘটনার পরম্পরা যেন আউলায়
ম্যাট্রিক্স ভাইঙা পড়ে

এমন গভীরে আমারে যাইতে দাও
বাঁশি বাজাইতে দাও এমন
ধারানো মধুর ধারে

যেন বাতাশে বাতাশে
ক্ষেইপা উঠে সকল দলের ভোমড়া

এমনভাবে চুপ হইয়া যাইতে দাও
এমন নাজুক করো এমন হায়া দাও
গায়েব হইতে দাও এমন পর্দার ভিতরে

যেন বেলীফুলের সুবাস ছড়ায়
যেন সোহাগের মসৃণ বিছানায়
ফুল তোলা কুশন কাভার

যেন নিখুঁত মাপে মাপে
সেজে উঠে আমার ঘর

এমন সিপাহসালার বানাও
এমন বিকট যুদ্ধের দামামা
বাজাইতে দাও রে

যেন হৃদয়ের উচ্ছাসের তোড়ে
ওয়ার্ল্ড অর্ডার ভাইঙা যায়

যেন ভাইশ্যা যায় সুইস ব্যাংক
এস্টক মার্কেট ক্র্যাশ করে

যেন কেওস,
যেন প্যানিক,
দিগ্বিদিক
ছড়ায়া পড়ে রে

যেন মানুশেরা বইলা উঠে,
এ কী হইলো আজ?

আমারে যাইতে দাও এমন গভীরে
যেন আল্লার ওলি হয়ে ঢুকে যাই
ডিএনএ সিকুয়েন্সের ভিতরে

মাথার উপর ঘোমটা রেখে সারা বর্ষাকাল
নকশী খ্যাঁতা শিলাইতে দাও এমন ছবরে

যেন মেঘের কোলে মেঘ তারপরে মেঘ
যেন বর্ষাও বইলা উঠে এই বর্ষা যেন
শেষ না হয়

এমন আঘাত হানতে দাও মুসার লাঠি ধরে
যেন সাগর যেন মহাসাগর চতুর্দিকে
খণ্ড খণ্ড হইয়া যায়

যেন দিকে দিকে রাস্তা ডুবে
যেন দিকে দিকে রাস্তা জন্মায়

যেন খালি আমারেই পাও
যেন খালি তোমারেই পাই
সকল রাস্তার মাথায়

যেন ক্ষণে ক্ষণে মরা মাছ
ফাল দিয়া উঠে রে

অম্ল মধু পিরিতির
মোক্ষম কামড়ে

 

The following two tabs change content below.
Avatar photo

লাবিব ওয়াহিদ

কবি। লেখক। কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট। রাজনীতি এবং বিবিধ বিষয়ে আগ্রহী।