পার্ট ১

 

পার্ট ৩: দুইটা জাস্টিস সিস্টেম

প্রশ্ন: ধরুন আমি নিজেও ডিফেন্ড করছি, এইসব পিপলরা নুরুল হুদারে জুতার মালা পরাইয়া ইয়ে টিয়ে করছে, দ্যাটস অল। আমরা এইটা মব বলতেছি না জনরোষ বলার চেষ্টা করছি। আরেক জায়গায়, সম্ভবত উত্তরবঙ্গে কোনো এক জেলায় মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বলছে যে, তার নাম নেওয়ার পর দরুদ পড়ে নাই, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে নাই। ফলে তারে ধরে মারা হইছে, অনেক পিপলরা মারছে। এইটা জনরোষ হইতে পারে কিনা? এইটা মবের সংজ্ঞায় পড়ে কিনা। যদি এইটা মবের সংজ্ঞায় পড়ে, আমরা ক্লাসিফাই করব কেমনে আসলে? ধরেন, যারা সিইসি নুরুল হুদারে মারছে, এদেরকে আমরা ডিফেন্ড করলাম…

রক মনু: বুঝতে পারছি। এই জায়গায় যাব। এই বিষয়টা মাথায় থাকলো, এই বিষযটা বলার পরে অই জায়গাটায় যাচ্ছি। সেটা হচ্ছে যে, সিস্টেমটা হচ্ছে জাস্টিস সিস্টেমের, একজন আসামী সে, ধরেন… আরেকটা জায়গা থেকে শুরু করি, এই যে প্রেসিডেন্ট ও প্রাইম মিনিস্টার আছে না? এদের কিন্তু একটা ইনডেমনিটি দেওয়া হয়। এরা যে কাজকাম করছে, সেইটা হচ্ছে তারা এজ লং এজ, তারা ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি করবে না, হাসিনার মতো, তার বাইরে… তারা যে কাজকাম করছে সেইটা, ধরেন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, পুলিশ গুলি করতে বাধ্য হইলো, তারপর মানুষ মারা গেল। এরকম ঘটনা তো ঘটতে পারে, একটা আইডিয়াল স্টেটে। তারা যে কাজকাম করছে তার দায় তাদের উপরে যাবে না। ওইটার জন্য তার নামে আপনি খুনের মামলা করতে পারবেন না। খুনের মামলা করবার জন্য অন্য জিনিস লাগবে।

এই যেমন হাসিনার জন্য এইখানে এভিডেন্স, ওই যে অডিও টডিও, এভিডেন্স যে,ওরে খুন করো… তার মানে খুনটাই তার টার্গেট। নট যে, পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলা হইতে এইটাকে নরমালাইজেশন করবে — এইটা তার উদ্দেশ্য না, খুনটাকেই সেইটা হচ্ছে বাইছা নিছে। এরকম যে তারপরেও বাড়াবাড়ি রকমের কিছু হয়, তার তো বিচারটা করা যাচ্ছে না। তাইলে তার বিচারটা কেমনে হয়? আসলে তার বিচারটা হবে য পলিটিক্যাল বিচার — জনতার আদালতে। নেক্সট ইলেকশনে তার বিচারটা হবে। ওই বিচারটা নেক্সট ইলেকশনে। সেই কারণেও ইলেকশন দরকার। উইথআউট ইলেকশন তার বিচারটা আমি করব কেমনে? আমি তো জনগণ। আমি তার বিচার করব। কারণ এটা কনভেনশনাল যে প্রতিষ্ঠান আমি বানাইছি আদালত নামে, সে কিন্তু এর বিচার করতে পারতেছে না। কেন? তাইলে তো আর স্টেটই চালানো যাবে না। সে যদি মনে করেন যেকোনো একটা শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য, পুলিশ লাঠি চার্জ করল, সবগুলাতেই যদি আপনি মামলা দিতে থাকেন, তাইলে হচ্ছে যে, প্রাইম মিনিস্টার বা প্রেসিডেন্ট কাজটা করবে কেমনে? এই কারণে এইসব বিষয়ে আদালতে তাকে বিচার করা যাচ্ছে না। কিন্তু সে তো বাড়াবাড়ি করতে পারে। একদম লিটারেলি খুনের প্রস্তাব বাদেও বাড়াবাড়ি করতে পারে। ধরেন, একটা মওকা পাইছে, ৩টা বাড়ি দিলে হয়া যাইতো, সেইখানে ১০টা দিল — এইটা বাড়াবাড়ি না? যে হচ্ছে থাইমা গেছে, তারপরও তাকে মারতেছে। তার বিচার কেমনে হবে?

এই কারণে এইটার বিচারের ওয়েটা হচ্ছে ইলেকশন। জনতার আদালতে তার বিচারটা হয়। তার মানে হচ্ছে যে অলওয়েজ বিচারের ২টা পথ থাকে। একটা হচ্ছে, আদালতের জাস্টিস সিস্টেম কনভেনশনাল ইন্সটিটিউশনাল জাস্টিস সিস্টেমে বিচার করে, আরেকটা হচ্ছে, হচ্ছে পিপল বিচার করে, পলিটিকা — থ্রু ইলেকশন। এবং তারা বিভিন্নভাবে টর্চার্ড হয়। এইটা একটা, এই যে দুইটাই থাকল, এইটা আসলে, এইটার একটা ফর্ম হচ্ছে জুরি সিস্টেম থাকা। জুরি সিস্টেম আদালত বা জাজ, সে হচ্ছে বিধিবদ্ধ যে আইন, এলেম দিয়া সে বিচার করতেছে। কিন্তু এই যে কোনো একটা দেশের আইন, সেইদেশের টোটাল পিপলের ভেতরে যে আইডিয়াল জাস্টিস সেইটারই একটা কো-ডিফাইড ফর্ম, রিটেন ফর্ম।

একটা দেশের আইন কী? ‍আইন হচ্ছে, পিপলের ভেতরে যে সেন্স অফ জাস্টিস, সেইটার রিটেন ফর্ম। এখন এই রিটেন ফর্মটা তো হচ্ছে গতকালকের। আজকে কি তা চেইঞ্জ হতে পারে না? আমি কি বুঝাইতে পারছি? রিটেন ফর্ম তো অলওয়েজ অতীত। কারণ এইটা কোনো এক সময়ে করা হইছে, তারপরেকোডিফাই করা হইছে, রাইট করা হইছে, পাশ হইছে। এর মাঝখানে তো বহুদিন চইলা গেছে। ওইটার পরে পিপলের চেইঞ্জ হইতে পারে না? বিচারটা হবে এই কোডিফায়েড ইসে। কিন্তু একজন আসামী বলল, আমি হচ্ছে এই অতীতের জাস্টিসের বিচারের ধারণায় আমি বিচার নিব না। আমি হচ্ছে এখনকার পিপল কী ভাবে – সেই বিচার নিব। জুরি বোর্ড হচ্ছে, এখনকার পিপলের যে সেন্স অফ জাস্টিস, সেইটাকে রিপ্রেজেন্ট করে। একটা হচ্ছে জাজ, আরেকটা হচ্ছে জুরি বোর্ড — যে হচ্ছে পিপলকে রিপ্রেজেন্ট করে।

তার মানে ওই যে প্রেসিডেন্ট প্রাইম মিনিস্টার তারা যে দুইটা বিচারের কথা বললাম না, তাদের তো বিচার হচ্ছে না, করা যাচ্ছে না। জনগণ তার বিচার করতেছে। পিপল বিচার করতেছে। একজন আসামী এইটা চুজ করতে পারে আদালতে, সে হচ্ছে অতীতের কনভেনশনাল যে এলেমদারী কো-ডিফাইড ল, এইটার বিচার নিবে না। সে হচ্ছে পিপলের ভিতর এখন যে সেন্স অফ জাস্টিস আছে সেইটার বিচার নিবে। সেইখান থেকে এই আইডিয়া অফ জুরিবোর্ড — যারা হচ্ছে পিপলকে রিপ্রেজেন্ট করে। তথা ওই মবকে রিপ্রেজেন্ট করে। সে এই বিচারটা করতেছে।

এখন দেখেন, কাজ করার কিছু ডিফরেন্ট টাইপের এক্সাম্পল আছে। আমাদের এইখানে তো নাই। এইটাই হচ্ছে যে ধরেন আপনার, পিপল তার সভ্রেন্টি প্র্যাকটিস করার জন্য যে একটা ফর্ম দরকার সেই ফর্মের এবসেন্স, যেই কারণে এই শব্দটা তৈরি হয়। আদালতেই যদি এই মব’টাকে একোডোমেট করার ওয়ে হিসাবে জুরি বোর্ড থাকত, তাইলে সে হচ্ছে এই জুরি বোর্ড দিয়া এই যে আদালতের খারাপ খারাপ কমিশনার বইসা রইছে, তারা যে ঠিকঠাক বিচার করে না, সেইটা থেকে আমরা হচ্ছে এইখান থেকে বিচারটা পাইতে পারতাম। পিপলকে একোডোমেট করার কোনো ব্যবস্থা নাই। অন্যদিকে এইটা যে নাই, তারপরেও এইটা কীভাবে আসলে আমাদের অঞ্চলে এই হয়, এইটার একটা ভালো কিছু এক্সাম্পল আছে।

ফুলনদেবীর কী হইছিল? ফাঁসি টাসি হইছিল না? জেল হইছিল, যাবজ্জীবন। ফাঁসি হইছিল মনেহয়, পরে হচ্ছে যে স্টেট তাকে মাফ করে দিল। মাফ করে দিয়ে পরে সে এমপি হইল, মন্ত্রী হইল, পরে মার্ডার্ড হইছে — সেইটা পরে। এখন ধরেন, স্টেট যে মাফ করে দিছে, ওই স্টেট কে? দেখেন, আদালতও তো স্টেট। যে স্টেট মাফ করে দিছে সেও তো স্টেট। দুইটাই স্টেট। আদালত হচ্ছে ধরেন কোডিফায়েড ল — গতকালকের। যে স্টেট মাফ করে দিছে সে হচ্ছে সরকার। সে হচ্ছে পিপল’স রিপ্রেজেন্টিটিভ।

ধরেন এইটা একটা তার পপুলার ইয়ে হবে, সে কোনো পলিটিক্যাল বেনিফিট পাবে সেইখান থেকে। কারণ পিপল এরে ক্রিমিনাল ভাবতেছে না। পিপলের যে সেন্স অফ জাস্টিস, আদালতের সেন্স অফ জাস্টিসে সে কিন্তু কনভিক্টেড, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট পাইছে। কিন্তু পিপলের যে সেন্স অফ জাস্টিস সেইখানে সে হচ্ছে একজন হিরো। সেইখান থেকে তারে ধরেন মাফ করে দেওয়া হইলো, তারপরে পলিটিক্যাল পার্টিতে গেল, তারপরে সে ইলেক্টেড হয়ে গেল। এই যে ইলেক্টেড হইলো, হইতে পারল, এইটাই তো ইন্ডিকেট করে সে হচ্ছে পিপলের নজরে হিরো। এইটা হচ্ছে এক্সাম্পল যে আসলে, দুইটা সেন্স অফ জাস্টিস অলওয়েজ এক্সিস্ট করে, অলওয়ে। একটা হচ্ছে কো-ডিফাইড, রিটেন — যেটা নেসেসারিলি ইয়েসটারডের —গতকালকের। আরেকটা হচ্ছে প্রেজেন্ট। অলওয়েজ, ট্রান্সফর্মিং এবং আপডেটিং ইটসেল্ফ।

কারণ নিউ পিপল হয়, অন্য কালচারের সাথে যোগাযোগ হয়, অন্য আইডিয়ার সাথে যোগাযোগ হয়, আগের ভাবনাটা আর থাকে না—ওই অর্থে। তাইলে হচ্ছে যে, যেইটাকে এরা মব বলতেছে, বেসিক্যালি তারা পিপল, যারা হচ্ছে, তাদের যেই সেন্স অফ জাস্টিস, সেই জাস্টিস ইন্সটিটিউশনের যে সেন্স অফ জাস্টিস, স্পেশালি ইন্সটিটিউশনের ব্যক্তিরা যেইভাবে ইউজ করতেছে, সেইটার ব্যাপারে তার ডিফারেন্স এতই বেশি যে সে অলওয়েজ একটা রিভল্টিং মোডে থাকে, থাকতে হয় তার। কারণ সে ফিল করে যে তার কিছুই সার্ভ করা হচ্ছে না।

আপনারা তখন তো পুচকি—পুচকি নেগেটিভ ওয়ার্ড না—ছোট আরকি। ওই সময় আপনাদের জন্মই হয় নাই। একটা নাটক ছিল ‘কোথাও কেউ নাই’। ওইখানে আসাদুজ্জামান নূরের যে ক্যারেক্টারটা, বাকের ভাই, বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হয়। মানুষ হচ্ছে মিছিল মিটিং ভাঙচুর, জটিল অবস্থা ক্রিয়েট করে। আপনারা হয়তো লেখোজোকার ভেতর দিয়া আভাস পাইছেন। কিনতু চিন্তা করেন এই জায়গায় আসলে এই ঘটনাটা পাচ্ছেন কিনা… ওইখানে পিপলের যে সেন্স অফ জাস্টিস, সেইটা ওইখানে স্টাবলিশড হচ্ছে না। সেই কারণে পিপল ভাঙচুর করে। তো, অইটা কিনতু খালেদা জিয়া পর্যন্ত গেছে, তখন খালেদা জিয়া হচ্ছে পিএম। খালেদা জিয়া হুমায়ূন আহমেদরে ফোন দিয়া বলছে, কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ বলছেন যে না, এইটা করা যাবে না। পরে ফাঁসি দিছে।

এই যে যারা বলে না হাসিনার খালেদার তুলনা-টুলনা করে, বহু বছর আগে ওই সময় বলছিলা, হুমায়ূন আহমেদ এই যে খালেদা জিয়া বলল, পিএম বলল, সেইটাকে অস্বীকার করতে পারল, এইটা ডেফিনিটলি হুমায়ূন আহমেদের একটা হিম্মতের মামলা, কিন্তু একইসাথে এইটার পরে খালেদা জিয়া কী করছে? খালেদা জিয়া, আমার কথা শুনল না, এইটা বইলা সে মনোক্ষুণ্ণ হইয়া অন্য কোনো ধরনের কিছু করতে পারত না? করছে কি? উল্টা তার এক দুই বছরের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদরে একুশে পদক দিয়া দিছে। বুঝছেন, এইগুলা হইতেছে ডিফরেন্সের জায়গা।…

তাইলে খালেদা জিয়া হুমায়ূন আহমেদরে বলল, এইটাই তো হচ্ছে, ওই পিপলের সেন্স অফ জাস্টিস, সেইটাকে পারস্যু করা, যেইখান থেকে ফুলন দেবীকে মাফ করে দেওয়া হইছে, সেই জায়গা থেকে জিনিসটা বলছে। আর হুমায়ূন আহমেদ সে হচ্ছে ক্রিয়েটর। তার সেন্স অফ আর্ট, ফিকশনাল রিয়ালিটি, সেই জায়গা থেকে তার তো ছাড় দেওয়ার অপশন নাই। এটা হচ্ছে যে ঘটনা এবং ক্যারেক্টার, তার আনডিয়াবল পরিণতি। সেই জায়গা থেকে সে করল আরকি।

বেসিক্যালি এইগুলা হইতেছে এক্সাম্পল যে অলওয়েজ দুইটা সেন্স জাস্টিস হাজির থাকে। একটা হচ্ছে ইন্সটিটিউশন—এইটা ততক্ষণ পর্যন্ত ঝামেলা ক্রিয়েট করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ইন্সটিটিউশন—এটলিস্ট পিপলের কোডিফাইড আছে, পিপলের যে এখনকার যে সেন্স অফ জাস্টিস আছে, সেইটা দিতে হবে তাও না। যেটা কোডিফাইড আছে সেইটা যদি সার্ভ করে তাইলেও ঝামেলা ক্রিয়েট করে না। আর পিপলের যে এই যে যেইটা বললাম ২টা সেন্স অফ জাস্টিস, পিপলের যে এইটার থেকে ডিফরেন্ট সেন্স অফ জাস্টিস না? সেইটা ততক্ষণ পর্যন্ত জনরোষে পরিণত হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত পিপলের হাতে ওয়ে থাকে, থ্রু ইলেকশন, সে হচ্ছে এইটাকে আপডেট করতে পারবে।

ইলেকশন কী? এমপিরা কী? মেম্বার অফ পার্লামেন্ট। হোয়াট ইজ পার্লামেন্ট? পার্লামেন্ট হচ্ছে আইন প্রণয়নের জায়গা। তাই না? প্রণয়ন মানে কী? আই আপডেট করা। হোয়াট ইজ আপডেটিং? এই যে পিপলের যে নিউ সেন্স অফ জাস্টিস, ইভলভিং, সেইটাকে রেজিস্টার করে, এইটাকে আপডেট করার জন্য, পিপল সার্টেন একটা পলিটিক্যাল পার্টি নিয়ে তাকে ইলেক্ট করতেছে। সে ইলেক্টেড হইয়া এইটা ট্রান্সফর্ম করতেছে। এবং এইটার সাথে এইটার রিলেশন কী? কীভাবে এইটা হচ্ছে? পলিটিক্যাল পার্টি ইলেকশনে ইশতেহার ঘোষণা করতেছে। সেই ইশতেহারে পিপলের যে নিউ সেন্স অফ জাস্টিস সেইটার রিফ্লেকশন থাকে। যেইটা সবচে বেটার রিফ্লেক্ট করে, পিপল তাকেই ইলেক্ট করে।

সে ইলেক্টেড হইয়া ইয়েস্টারডের যে কোডিফাইড ল সেইটারে আপডেট করে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সার্কেলটা রান করে ততক্ষণ পর্যন্ত জনরোষের দরকার হয় না। বা জনরোষের দরকার হয় না — বাস্তবে আসলে বিষয়টা কী? বিষয়টা হচ্ছে যতক্ষণ পর্যন্ত পিপল ফিল করে তার সভ্রেন্টি স্টাবলিশড আছে, ফলে তার সভ্রেন্টি ক্লেইম করতে এভ্রিডে তার হাজির হইতে হয় না রাস্তায়। কিন্তু যখনই সিস্টেমটা না কাজ করে, এ হচ্ছে কোডিফাইড জাস্টিসটা দিচ্ছে না, ইলেকশন প্রোসেস নাই, পিপল যেইটা চাচ্ছে তাকে সে সেইটা আপডেট করতে পাঠাইতে পারতেছে না। তখন সে ফিল করে তার সভ্রেন্টি নাই, তখন সে তার সভ্রেন্টি ক্লেইম করতে নামে। এই ঘটনাগুলা হচ্ছে তার সভ্রেন্টি ক্লেইম করার এক্সাম্পল। তো এই হচ্ছে বিষয়। এইগুলা এইভাবে কাজ করে।

আমি কি ক্লিয়ার কর পারছি? জিনিসগুলা হয়তো এতোটা জটিল না, আমি জানি না… যে বলে, তার বলাবলি, ক্যাপাবিলিটি, অনেকগুলা ইস্যু আছে…

পার্ট ৪: পিপলস সভ্রেনটি

প্রশ্ন: এই গানটা কিনতু আমার প্লে-লিসে্ট আছে ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, কিনতু এইরকম বিস্তৃতভাবে ভাবি নাই, ভাবছি যখন একটা সংকট তৈরি হয় তখন জনগনকেই আগায়া আসতে হয় ব্যাপারটা চূড়ান্ত করতে, মোকাবেলা করতে…

প্রশ্ন: ওনার কোশ্চেনের সাথে আমি একটু এড করতে চাই। কোনটাকে জনরোষ বল আর কোনটাকে উগ্রতা বলব? আমি যদি সিম্পল ওয়ার্ডে বলি।… কালকে আলোচনা করতেছিলাম যে যখন আওয়ামী লীগের ওপর এটাক হয়, তখন হচ্ছে মিডিয়া, ইভেন সাধারণ মানুষ এইটাকে মব হিসাবে দেখে বা ওইভাবে ফ্রেম করা হয়। বাট যখন আওয়ামী লীগ ওই কাজগুলো করতেছিল তখন কিন্তু ওই ফ্রেমিংটা হচ্ছিল না। এবং না করার একটা কারন হইতেছে আওয়ামী লীগের একটা ন্যারেটিভ ছিল, যখন জামাতের উপর বা শিবিরের উপর হামলা করত তখন চালায়া দিত এরা পাকিস্তানপন্থী রাজাকার। আল্টিমেটলি বুঝাইতো যারা পাকিস্তানপন্থী তাদের মাইরা ফেলা যায়। ওই ধরণের ফ্রেমিং কিন্তু হইতো না। এইটা না হওয়ার কারণটা কী? এইটা কি জাস্ট হচ্ছে আওয়ামী লীগের একটা ন্যারেটিভ আছে এইজন্য, বিরোধী কোনো সেন্টিমেন্ট নাই সেই জন্য?

রক মনু: এই দখলদারদের কথা বললাম এরা কারা? দখলদার আর তার কোলাবোরেটর হচ্ছে ওই লোক যারা বলে, এরা হচ্ছে আওয়ামী লীগ। নিজেরটা ইগনোর করে, অন্যদেরটা ভিলিফাই করে। এই কারণে হচ্ছে যে ইন্সটিটিউশন, চেয়ার এবং ব্যক্তির আলাদা করতে বললাম। বললাম যে এরা চেয়ার এবং ইন্সটিটিউশন তার এগনেস্টে রিভল্ট করতেছে না। তারা রিভল্ট করতেছে এই ব্যক্তিটার বিপক্ষে।

প্রশ্ন: আরেকটা জিনিস হচ্ছে, এই অকুপাইয়াররাই যখন ক্ষমতায় থাকে তারা কিন্তু এইসব মাইরা ধইরা একদম ইয়া করে ফেলতেছে। তখন কিন্তু সাধারণ মানুষের ভেতর থেকে মব বলার ইয়াও থাকে না। এখন জিনিসটা পুরাই ঘুইরা গেছে আসলে।

রক মনু: …পিপল যে ইন্সটিটিউশন বানাইছে, সে তো একটা মোটিভ থেকে বানাইছে। ওই যে বাড়াবাড়ি যাতে না হয়, তার সভ্রেন্টি যাতে পায়। ডিফ্রেন্ট জায়গা থেকে একটা ফয়সালার ভেতর দিয়ে সে এইটা বানাইলো যাতে একটা শৃঙ্খলার ভেতর দিয়া তার যেইটা পাওনা সেইটা ডেলিভার্ড হয়। যখন সেইটা হয় না, তখন তো আসলে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে গেল। পিপল যখন নামে, যখন একটা রিভোলুশনের সময়, ধরেন এই জুলাইতে তখন ব্যাপারটা মূলত কী হইছে? শৃঙ্খলা নষ্ট হইছে। এই শৃঙ্খলাকে আসলে যেই শৃঙ্খলা নষ্ট করে, পিপলের অর্থে বলি, সেই পিপলের তো এজেন্ডা না যে সে শৃঙ্খলা নষ্ট করা। পিপলের তো এজেন্ডা ছিল অন্য কিছু।

সে এই কাজ করতে গিয়া মনে করেন দেড় মাস প্রেম করতে পারে নাই। এইটা তো আসলে মনের ভেতর বেদনা। তার তো আলাদা এজেন্ডা আছে। কিন্তু তার কাছে ইমারজেন্ট লাগছে এইটা। এইটা আগে তার ফয়সালা কইরা নিতে হবে। তারপরে পরেরটা পরে বুঝবো নে। তো এইটা করতে গিয়া হয়তো সে মইরাই গেল। তার মানে বিশৃঙ্খলা ঘটে কিন্তু সেইটা তার এজেন্ডা না। তার এজেন্ডা হচ্ছে শৃঙ্খলা। যাতে তার যেটা করবার সেটা সে করতে পারে। কিনতু বিশৃঙ্খলা তো আসলে একটা মওকা, কতগুলা মানুষ তো বিশৃঙ্খলার জন্য ওয়েট করে। তখন তার যে পারসোনাল ভেনদেত্তা, সেই জিনিসগুলা সে ফুলফিল করতে পারে।

কতগুলা মানুষ আছে, কতগুলা গোষ্ঠি আছে, এইটার পক্ষে। বিশৃঙ্খলা ঘটাইয়া তারা যাতে এরকম করতে পারে এরকম ইডিওলজিক্যাল কতগুলা স্কুলও থাকতে পারে। একটা অর্গানাইজড একটা ফোর্সও থাকতে পারে। যখন মওকা হবে তখন তারা ইয়ে করতে পারে। ওই যেইটা খাস বাংলায় বলে ঘরপোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দেওয়া। আগুন লাগছে অইখান থিকা সিগারেট ধরাইয়া খাইতেছে। এরকম হরেক লোকজন আছে। যেটা বললাম, পিপল যখন তার জিনিস ক্লেইম করতে যায়, শুরুতে যেটা বললাম, জাস্টিস সিস্টেম দরকার তার শাক যাতে সাপ না হয়। ফলে এইখানে যেইটা করতেছে সেই তো আসলে ইন্সটিটিউশন বানাইছিল, কিন্তু যখন ইন্সটিটিউশন কাজ করে না তখন আপনি যেইটা বলছেন সেই সম্ভাবনাটা থাকে। তো, আপনি যেইটা বলছেন সেইটা হয়তো শাকক কিনতু সেইটার জন্য অপরাধী তারা যতটা তার চাইতে যার ওই জাস্টিসটা ডেলিভার করার কথা ছিল তার।

কী অর্থে? স্টেট ইন্সটিটিউশন হচ্ছে প্যারেন্ট। পিপল হচ্ছে চিলড্রেন। এই অর্থে যদি চিন্তা করেন। বাস্তবে এই পিপলই মালিক। কিনতু পিপল তো একটা কালেক্টিভ সাইকি, হরেক রকম মানুষ হরেক রকম এজেন্ডা থেকে ইয়ে করে। পিপলের ভেতরেই কেউ একজন, যেহেতু সে একটা আনডিফাইনড একটা বর্গের ভেতরে একটা কালেক্টিভের ভেতরে আছে, সে একলা যেইটা তার ভেতর থেকে এক্সপ্রেসড হইতো না, সেইটা হয়তো ভেতর দিয়ে এক্সপ্রেসড হয়। যেই কারণে হচ্ছে ধরেন, একটা মব টাইপের জিনিসে যেইটা কালেক্টিভ, সেইখানে যেইটা হয়, পাঁচজন লোক যোগ করলে পাঁচের থেকে বেশি হয়।

কারণ হচ্ছে যে এমনি যে নরমাল পাঁচজন লোক সবাই সবাইকে যেমন চেনে, এইটা অনলাইনে যে বেনামি একাউন্ট আর ফেইক একাউন্টের একটা ইয়ে আছে না, ফেইক একাউন্ট দিয়া গালাগালি করতে পারে, আপনি তো নিজের নামে সেইটা করতে পারতেছেন না, প্রায়শই। তার মানে হচ্ছে যে ফেইক একাউন্ট, সেইখানে একজন সামাজিক ব্যক্তির চাইতে বেশি আছে। কারণ নিজ পরিচয়ে ব্যক্তি যা যা করতে পারে তার বাইরেও সে কতগুলা জিনিস করতে পারে। কিন্তু করে না। সেই অর্থে যে সামাজিক ব্যক্তির চেয়ে তার ভেতরে ই বেশি। একটা কালেক্টিভে আনডিফাইনড, তখন বোঝা যাচ্ছে না কারা, বেনামি। তখন হচ্ছে সে তো আসলে একটা ফেইক একাউন্ট, সেই জায়গা ক্রিয়েট করতেছে। ফেইক একাউন্ট ক্রিয়েট করে সামাজিকভাবে যা সে করত না, তাও সে তা করতেছে। এই জায়গা থেকে ওই বাড়াবাড়ির সম্ভাবনা।

এই পিপল যাতে বাড়াবাড়িটা করতে না হয়, তার ভিতর থেকে এইরকম ঘরপোড়ার ভেতর আলু পোড়া দিতে না হয়, সেই জন্যই তো সে ইন্সটিটিউশন বানাইছে। তুমি এইটা ঠিক করো না কেন? যাতে হচ্ছে পিপল তার সভ্রেন্টি এভ্রিডে ক্লেইম করতে না হয়। মূল ব্যাপারটা হচ্ছে, পিপল স্টেট, ইন্সটিটিউশন বানাইছে এভ্রিডে সভ্রেন্টি ক্লেইম করতে না হয়। তার যে ব্যক্তিগত জীবন, তার যে প্রোডাকশন, রিপ্রোডাকশন, ডিজায়ার, এইগুলা ফুলফিল করা যাতে মূল হইতে পারে, ২ টাকা কামাই করা, গাছে পানি দেওয়া, একটা ফুল ফুটল সেইটার দিকে সে ১০ মিনিট চেয়ে থাকবে। এইটাই তার কাজ। ভালো লাগে তার। এই যে ভালো লাগে, একটা ফুলের দিকে চায়া থাকা, একটা পাখি উড়তেছে, ভালো লাগে।

ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতে ছাগলের বাচ্চা হইলো, পরে আমি চিন্তা করলাম যে ছাগলের মা’টার তো খাইতে হবে, কেমনে যাবে? পরে আমি ঘাস কাটতে চইলা গেলাম। ছাগলের জন্য ঘাস কেটে নিয়ে আসলাম। ঘাস কাটতে গিয়া তিনটা আঙুল কাস্তে দিয়া কাইটা গেল। আমি তো এইটা করব। কিন্তু আমি এইটা করতে পারতেছি না। কারণ তুমি সার্ভ করতেছো না। ফলে আমার রাস্তায় নাইমা এভ্রিডে, সভ্রেন্টি ক্লেইম করতেই বিজি থাকতে হচ্ছে। তার মানে হচ্ছে আমি এইটা করলাম তুমি এইটা করো, তাইলে হচ্ছে যে আমারও এইটা করতে হবে না। কারণ এইটা তো আমার এজেন্ডা না, আমি তো এইটা করতেও চাই না। আমি তো অন্য কাজ করতে চাই। তখন তুমি যদি এইটা করতে চাও তখন বিশৃঙ্খলাও হবে না, ঘরপোড়ার ভেতর যারা আলুপোড়াও দেয় তারাও খাইতে পারবে না। এবং আমি করতে গেলে ওইখানে যে কালেক্টিভ সাইকি তাদের যে বাড়াবাড়ির সম্ভাবনা সেইটাও হইতে পারবে না। বিষয়টা হচ্ছে এইটাকে এবসোলুটলি পজিটিভ বা এইটাই দরকার, এইটা আমাদের এজেন্ডা না। পিপলেরও এজেন্ডা এইটা না। এদেরও এজেন্ডা এইটা না।

আপনি যদি লজিক দিয়া চিন্তা করেন তাইলে বুঝবেন এইখানে কালেক্টিভ সাইকি, সেইটার আল্টিমেট এজেন্ডা কোনোভাবেই এইগুলা না, যে এইগুলা না থাক। ইন্সটিটিউশন এইগুলা ভাইঙা আমরা ল-লেসনেসের ভেতরে থাকব। এইটা তার এজেন্ডা না। তাদের এজেন্ডা তারা যা করে সেই জিনিসগুলিই করা। কিন্তু যখন তার কতকগুলা দরকারি জিনিস জাস্টিস সেইটা যখন ইন্সটিটিউশন প্রোভাইড করে না, ডেলিভারি করে না, তখন তার এভ্রিডে রাস্তায় নাইমা সভ্রেন্টি ক্লেইম করতে হয়, যেইটা তার এজেন্ডা না। কিন্তু যখন করতে হয়, তখন যে বিশৃঙ্খলাটা হয়, কতকগুলা লোক ঘরপোড়ার ভেতর আলুপোড়া দেয়, কতকগুলা লোক বাড়াবাড়ি কইরা ফেলে। কারণ ওদের নিজ নাম নিজ পরিচয় নাই। এইটা তো একটা কালেক্টিভ সাইকি। আমার তো কতক ইন্ডিভজুয়ালই তো এইখানে!

ধরেন, পয়লা বৈশাখে,টিএসসিতে ছাত্রলীগ তিনজনার পেছন থেকে হাত ঢুকাইয়া সামনের একটা মাইয়ারে গায়ে হাত দিল। দিছে না? সে তো একটা লোক। কালেক্টিভ। কিন্তু একইসাথে কতকগুলা লোকও, তার যে পারসোনাল এজেন্ডা, সেইখান থেকেও কতকগুলা কাজ করতে পারে। পয়েন্ট হচ্ছে যে যখন এইটা ডেলিভার করে না, তখন পিপলের এই রিস্কটা নিতে হয়। নাইলে সে তারে উৎখাত করবে কেমনে? পিপলের এই সভ্রেন্টির ক্লেইমের ফলে যে সার্টেন কতগুলা বিশৃঙ্খলা হবে, এইটা তো পিপল জানে। কিনতু তার ওই রিস্কটা নিতেই হয়। এছাড়া দখলদারদের সে উৎখাত করবে কেমনে? দখলদার তো অর্গানাইজড। তার হাতে ইভেন পিপল অস্ত্রও দিয়া দিছে। কাঁদানে গ্যাস দিছে, লাঠি দিছে, হেলমেট আছে, বর্ম আছে, বন্দুক আছে, গরম পানির কামান আছে। কত কী আছে, কাঁটাতারের বেড়া আছে। ট্যাংক আছে। এখন এদেরকে পিপল কন্ট্রোল করবে কেমনে? যেইখানে এরা পিপলের কন্ট্রোলের যে মিনিমাল অপশন ইলেকশন, সেইটাও যদি বন্ধ করে দেয়? তখন কী করবে? তার তো তখন অই বিশৃঙ্খলার রিস্ক নিয়া সভ্রেন্টি ক্লেইম করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা নাই।

মূল ব্যাপারটা হচ্ছে যে, শেষ পর্যন্ত একটা আর্তি, একটা আর্জি ক্রিয়েট করা যে তোমরা এইখান থেকে যা করবা তা তোমরা করো। এই বিচারপতি তুমি তোমারটা করো। যাতে হচ্ছে পিপলের এই কাজটা করতে না হয়। কারণ পিপল এইটা করতে চায় না। তার অন্য কাম আছে। মোর জরুরি কাম আছে। তার রাস্তায় নাইমা কাদায় নাইমা যাওয়ার — এইটার লোভ নাই তো। কিন্তু তুমি করো যে এভ্রিডে সভ্রেন্টি ক্লেইম করতে না হয়।

এই যে আমি বারবার বলতেছি যে সভ্রেন্টির কথা, এইটা আপনার মাথায় রাইখেন।

The following two tabs change content below.
Avatar photo

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।