[ ছাপা-হওয়া (পুরান) বা ছাপা হইতে যাওয়া (নতুন) বই থিকা কিছু অংশ আমরা এই সিরিজে রাখবো। – এডিটর, বাছবিচার। ]

—————————————-

বইয়ের নাম: তোমার সাথে আক্ষরিক।
ক্যাটাগরি: কবিতা।
ছাপার সময়: ফেব্রুয়ারি, ২০১৬।
প্রকাশক: জনান্তিক।
কাভার ডিজাইন: মহসিন রাহুল।
পৃষ্টা: ১০৮। মূল্য: ২০০ টাকা।

——————————————-

 

রাত দেড়টায়

রাত দেড়টায়
লিখতে গিয়ে আমার এক-পেয়ে স্টুল মেঝেতে পড়ে গেল
সুন্দর শব্দ হলো –
পাশের ফ্ল্যাটের মিষ্টি মেয়েটা নালিশ করেছে গতকাল
আমার ঘর থেকে
ভারি ফ্যাক্টরির মতো ধাতব শব্দ
রাত দেড়টার
বিভিন্ন সময় সে শুনতে পেয়েছে প্রায় প্রায় এবং
আমি নাকি ঠিক দেড়টার দিকে
বঙ্গ বাজাই

ম্যানেজার মহিলা চিঠি দিয়েছে -আমি নীরব না হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজকে দেখলাম দুইটা তরমুজ নিয়ে ঘরে ঢুকছে

আমি ওর তরমুজ নিয়ে
ম্যানেজার মহিলার তরমুজ নিয়ে
খুব সাধারণ অর্থে
তরমুজ নিয়ে একটা কবিতা
লিখতে গেলাম আর
এক-পেয়ে স্টুল মেঝেতে পড়ে গেল
সুন্দর শব্দ হলো

আমি খুব সম্ভব
রাত দেড়টায়
না লিখলেও
অসুবিধা নাই-যতক্ষণ পর্যন্ত শব্দ হচ্ছে

 

মঙ্গল গ্রহ

মঙ্গল গ্রহ খুঁজছি আকাশে
কিন্তু সে নাই
তার বদলে আছে কমলা একটা দাগ
আর মেঘ,
মেঘ আর
বিভিন্ন অস্বাভাবিক কল্পনার
বোদলেয়ার
কাটাতে না পারা তোমাকে এসব নিয়ে
কিছুই বলতে না পারার উছিলায়
বন্যার কথা ভাবতে থাকি আমি –
মঙ্গলগ্রহ খুব কাছে আসলে তো জলোচ্ছ্বাস হবে
অনেক মানুষ মারা যাবে পৃথিবীতে
তাও যদি আসতো!

অভিব্যক্তি না

গুজব, ছন্দ ইত্যাদি না
আমি খুঁজছি নিতান্ত স্বাভাবিক একটা গ্রহ
ক্রমে থির হয়ে
পৃথিবীর
একটা বোতলের
পাশে
ক্রমে আর
তোমার প্রিয়

কবিতা লিখছি না বলে, যে
তুমি দেখতে ভালো তাই
কবিতার একটা মান তৈরি হয়ে যাবে
যে তুমি আকর্ষণীয় এবং
অপমানিত – পৃথিবীর এহেন
নানা ধর্মের মানুষের মদের বোতলে
খুব গভীর কিছু কথা
লেখা হয়ে যাবে

 

রবিবার রোদ থাকায়

রবিবার রোদ থাকায়
বারান্দায় রবিবার
আমরা পুরুষ ভাড়াইট্টারা মদ খাই
আলাপ করি – পৃথিবীটা কেন সরল হলো না
এই দালানের ডাটাসোর্স কোথায়

একটা কবুতর
আমার রেলিঙে
ওদের রেলিঙে ঘুরপাক খায়
চারকোণা কবুতর,
চারকোণাই –
যেহেতু আমরা জানি পুরুষের ভিতরে পুরুষ
নারীর ভিতরে পুরুষ
বারান্দায়
রোদে
কবুতরে
হরেক রকম পুরুষ রয়েছে

আমরা ভাড়াইট্টারা
পুরুষের আলো নিয়ে
নারী নিয়ে
রোদ
কবুতর ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করি

মৃদু হেসে
মৃদু
মৃদু
মাটির নিচের গ্যাসলাইন
সামনে ঠান্ডা গাছটাতে বসন্তের পাতা এসেছে
চারকোণা পাতা
বাচ্চারা সাইকেল চালাচ্ছে
চারকোণা চাকার সাইকেল
চালাচ্ছে
কি সুন্দর ভাবে
ওদের চাকা গড়িয়ে যাচ্ছে টারের উপর …
যেন গোল

 

সিলজিজম

ম্যাচকাঠি একা ধরে কি
মানুষ একা ধরে কী?
আমার হাতে
রাজশাহীর এক তরতাজা নতুন
গাছের কিনারে এক তরতাজা রাজশাহীর
ম্যাচবাক্স
ফুটে গেল আচমকা
একদিন
পটকার মতো আওয়াজ হয়েছিল
বুড়া আঙুল ও তর্জনী
ফুলে উঠেছিল
পটকার মতো
চুপচাপ

 

বারান্দায় বৃষ্টিতে

বারান্দায় বৃষ্টিতে
একটা মদের শিশি ভিজছে
পুরানো লেখার টেবিল ভিজছে

টেবিলের কাঠ পচে নরম হচ্ছে যেহেতু
এই টেবিলে আমি আর বসবোনা, কিংবা…
আত্মপ্রেমী ছেলেগুলিই ঢোল পিটিয়ে সাবমিসিভ হয়

তার ভালবাসা তো তোমার একাকীত্ব আরো জটিল করে তুলবে
তুমি নিজেই আর পারবে না

কাঠ পচে নরম হচ্ছে
যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে

 

খাতা  

সেদিন মদ খেয়ে
কী যে বলেছি তোমাকে
তোমাকে!

কে যেন চিৎকার করছিল
পৃথিবী জ্বলছিল
আকাশ
রাস্তা
রাস্তা বোঝাই কবি

ঠান্ডা, কালো
শহরের টার জুড়ে
ওরা লিখছিল গাছের কথা
বিনয়ের গাছের কথা আর
উৎপলের পাখি

তার ভিতর যে আমাকে বাসায় পৌছালো
একটা জীবিত খাতা বদলে বদলে
ঘনায়মান
অক্ষরের স্রোতের মতো–আমার কাঁধ ধরে
লিফটে তুললো
ওকে আমি ভালবাসি

 

পিন্ডি

সকল পিন্ডি নিজের ঘাড়ে চাপাতে চাপাতে গল্প করছিলাম
এর ভিতর কী হলো বৃষ্টি হলো
আমরা বুঝলাম
বন্যায় ব্রিজ ভাঙে, ট্রেন ডোবে… এসবের গোপন একটা দিক আছে

 

পূর্বাচলে

আমি তোমার মতো করে ভাবি না
আমি খুব লোকাল
আমাকে তুমি পাবে
পূর্বাচলের বাংলাকলার ভিতর
খুব ধূসর
খুব দম বন্ধ অথচ
প্রচণ্ড শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে এমন হলুদ

অথচ আমি তো তোমাকে আমার আসল বাতায়ন দেখাতে চেয়েছিলাম
বালুনদী ব্রিজের কিনারে
বাংলাকলার দরদামরত অবস্থায়
আমার সামাজিক স্থানাঙ্কের বাইরে
আসল স্থানাঙ্কের সমাজে তো
তোমাকে আমি চাই

তুমি চলে আসো
আমার চিকন যৌন ইন্টারপ্রিটেশন
তোমার যৌনতার সাথে মিলে মিশে
অর্থাৎ যেখানে একটা মধ্যবিত্তীয় জটিলতার উপর বহমান
মোলায়েম বালুনদী ব্রিজ
সরকারি প্লটের মতো এফোঁড় ওফোঁড় করে ফেলেছে বাংলা কলার বাতায়ন

একটা বাছুর তাকিয়ে আছে

 

 

The following two tabs change content below.
Avatar photo
মেসবা আলম অর্ঘ্যঃ জন্ম ডিসেম্বর ১৯৮১, ঢাকা। কবিতা, ছোটগল্প ও কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখেন। মাঝে মাঝে বাংলা কবিতা ইংরেজি করেন। ওয়েব: www.dotara.net.
Avatar photo

Latest posts by মেসবা আলম অর্ঘ্য (see all)