ভূমিকা
[১]
বুলশিটের ডিরেক্ট কোনো বাংলা নাই সম্ভবত। তবে বাংলা করে নেয়া যায়। তবে বাংলা করলে এর গুরুত্বহানি ঘটবে এবং অতিরিক্ত বিশেষ কোনো ফায়দা, যেমন স্পষ্টতা, বৃদ্ধি পাবে না, বরং স্পাইনাল কর্ডকে সুষুম্নাকাণ্ড বললে যে সিনারিওটা তৈরি হয় এরচেয়ে হেলদি কিছু তৈরি হবে না বলেই আমার ধারনা। নিতান্ত যদি বুলশিটের একটি বাংলা প্রতিনিধি শব্দ নির্বাচন করতে বলা হয়, আমি বেছে নিব ‘বালের আলাপ’-কে। (কে এম রাকিব ভাই এই একই বইয়ের সমালোচনা লিখতে গিয়ে বুলশিটের বাংলা করছিলেন ‘বালছাল’।)
বালের আলাপ বা বালছাল কোনোটাই আসলে বুলশিটের সামগ্রিক ভাব প্রকাশক না। এইজন্য পুরা লেখাটাতে আমি বুলশিটের পরিবর্তে কোনো বাংলা শব্দ ব্যবহার না করে বুলশিট-ই রাখছি। কারণ পুরা লেখাটার বিভিন্ন জায়গায় ফ্রাঙ্কফুর্ট বুলশিটরে ব্যাখ্যা করতে গিয়া বিভিন্ন টার্মে শব্দটারে ইউজ করছেন। টেকনিক্যাল টার্ম হিসেবে যেমন ব্যবহার করছেন, আবার অ্যানালিটিক্যাল নাউন হিসেবেও ব্যবহার করছেন। এখন আমি যদি টার্মের বাছবিচার না করে সব জায়গায় বুলশিটরে পাইকারি দরে ‘বালের আলাপ’ (‘বালছাল’ বা অন্য যেকোনো প্রতিনিধি বাংলা শব্দ) দিয়া প্রতিস্থাপিত করে অনুবাদ করতাম তাইলে লেখকের লিখার উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হইত বলেই আমার বিশ্বাস। বালের আলাপ বা বালছাল শব্দ দিয়া অর্থহীন আলাপ বা ওর্থলেস কোনোকিছুরে বোঝায়, এটা স্পষ্ট। এই হিসাবে ‘বুলশিট’-এর বাংলা যদি ‘বালের আলাপ’ করি তাইলে যেসব জায়গায় বুলশিটরে ভালগার ইন্টারজেকশন হিসেবে ইউজ করা হইছে, এইসব জায়গায় ইম্প্রেশনটা ঠিক থাকবে। কিন্তু যেইখানে অ্যানালিটিক্যাল নাউন হিসেবে ইউজ করছেন বা বুলশিটের ‘কনসেপ্ট’ আলোচনা করছেন সেই জায়গায় আবার বালের আলাপ বললে একুরেসি ঠিক থাকে না। তাছাড়া ‘বালের আলাপ’-এর একটা সমস্যা আছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট তো বুলশিটরে ইউজ করছেন ম্যাস নাউন বা স্ট্যান্ড এলোন নাউন হিসেবে, অর্থাৎ এতদসম্পর্কিত সকল বিষয়ের এজমালি প্রতিনিধি-শব্দ হিসেবে। কিন্তু ‘বালের আলাপ’ তো শুধু কথা-বার্তা, বয়ান, তর্ক ও লেখা-জোখারেই নির্দেশ করে। যেহেতু ‘বালের আলাপ’-এ ‘আলাপ’ হেড-নাউন। কিন্তু শুধু কথাবার্তা-ই তো না, বুলশিট কাজকর্মও হইতে পারে, বিহেভিয়ার হইতে পারে। এইদিক বিবেচনায় ‘বালছাল’ আবার ঠিক আছে। যেহেতু ‘বালছাল’ একটা ফিক্সড-ইডিওমেটিক শব্দ আর এতে কোনো হেড-নাউনও নাই। কিন্তু যদি ডিসকোর্স বোঝায় তাইলে ‘বালের আলাপ’ সহিহ হয়। তবে বুলশিট শব্দের বাংলা অর্থ অত বেশি প্রয়োজনীয় না। যতটা প্রয়োজনীয় বুলশিট জিনিসটা আসলে কী এটা জানা। কারণ বুলশিটের পরিবর্তে যে শব্দই ইউজ করি না কেন ঐ শব্দ দিয়া বুলশিটের সবচেয়ে ক্রুশাল যে বৈশিষ্ট্য আছে, সত্যের প্রতি বা বাস্তবতার প্রতি লা-পরওয়া ভাব, অর্থাৎ সত্য বা বাস্তবতারে নন-এগজিসটেন্স করে দেয়া, এইটা প্রকাশ করা যায় না। মানে বুলশিট শব্দটার ধার কমে যায় আরকি। ফলে বুলশিট-কে বুলশিট বলাটা অনেক সেইফ। নতুন কোনো বুলশিট তৈরি হওয়ার সম্ভবনারে নাকচ করে দেয়!
প্রথমে আমার ধারনা ছিল বুলশিট বোধহয় সেই অর্থে কোনো স্ল্যাং না। কারণ, সাধারণত ‘অশ্লীল’ ও ‘অশিষ্ট’ শব্দরেই তো স্ল্যাং হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু অক্সফোর্ড ডিকশনারি ও মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারি দুইটাতেই বুলশিটকে স্ল্যাং হিসেবে মার্ক করা হইছে। মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারি বুলশিটরে ইনফর্মাল আর অফেনসিভ শব্দ বলছে। আবার অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে সরাসরি ভালগার স্ল্যাং বলে ট্যাগ করা হইছে। বুলশিটকে স্ল্যাং মনে না করার আমার একটা কারণ ছিল, একবার বাংলা স্ল্যাং বিষয়ক একটা বইয়ের কিঞ্চিত পড়ছিলাম। বইটাতে স্ল্যাং-এর সোসাইটাল, কালচারাল, ক্লাস ও পাওয়ার-স্ট্রাকচার সিগনিফিকেন্স নিয়া কিছু কথা ছিল। সামাজিক শ্রেণি ও ক্ষমতার কাঠামো-ভেদে গালি বা স্ল্যাং এর কিছু মেকানিজম ও পার্থক্য আছে। মনে হয় ঠিকমতো বুঝতে পারি নাই তখন। তবে বুলশিট যে আসলেও একধরনের স্ল্যাযাং, এই কথাটা তো ডিকশনারিই কনফার্ম করে দিতেছে। ক্লাস বা পাওয়ার-স্ট্রাকচার অনুযায়ী এর ব্যবহারে কী কী তফাত হয়, এইটা অন্য আলোচনা।
[২]
বুলশিট শব্দটা নিত্যদিন আমরা যত বেশি ব্যবহার করি, শব্দটারে আমরা কয়জন খুব মনোযোগ দিয়া খেয়াল করছি বা ভাবছি এই বিষয়ে একটা জোরালো প্রশ্ন তোলা যায়। আমরা দৈনন্দিন যেসব শব্দ ব্যবহার করি এইগুলার যে একটা সিগনিফিকেন্স আছে এইটা নিয়া তো সিরিয়াসলি কখনো ভাবি না। দার্শনিক অর্থ অনুসন্ধানের কথা বাদ-ই দিলাম। হ্যারি জি. ফ্রাঙ্কফুর্ট (Harry G. Frankfurt) ঠিক এই গ্যাপটাতেই একটা দারুণ কাজ করে বসলেন। বুলশিট নিয়া পুরাদস্তুর একটা দার্শনিক প্রবন্ধ লিখে ফেললেন। নাম দিলেন “On Bullshit”। বুলশিট তো একটা গালিগালাজের মতো শব্দ, অন্তত গালিগালাজের মতো ব্যবহার করার একটা প্রবণতা সোসাইটিতে লক্ষ্য করা যায়, এই শব্দরে নিয়া এত সিরিয়াসলি কে ভাবছে এর আগে, ভাবলেও প্রকাশ করছেন কয়জন?
হ্যারি জি. ফ্রাঙ্কফুর্ট পড়াশোনা করছেন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শিক্ষকতা জীবনে বেশ কয়েকটা প্রতিষ্ঠানে পর পর ছিলেন। ওহাইও স্টেট, বিংহ্যামটন, রকফেলার, ইয়েল এবং সবশেষে ছিলেন প্রিন্সটনে। ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের হেড ছিলেন। আর প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে নীতিদর্শনের (moral philosophy) প্রফেসর ছিলেন। “On bullshit” তার বিখ্যাত কাজগুলার একটা হইলেও ফ্রাঙ্কফুর্টের আসল ফিলোসফিক্যাল এচিভমেন্ট কিন্তু এই বুলশিট নিয়ে লেখাটা না, বরং ফ্রি-উইল নিয়ে করা তার কাজগুলা। ১৯৬৯ সালের “Alternate Possibilities and Moral Responsibility” প্রবন্ধে ফ্রাঙ্কফুর্ট একটা যুক্তি দাঁড় করায়া দেখায়ছিলেন যে, একজন মানুষ তার নেয়া প্রতিটা সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী। এমনকি সে যদি ওই সিদ্ধান্তটা এমন কোনো পরিস্থিতির মধ্যেও নেয় যে তখন তার আর কোনো কিছু করার উপায় ছিল না, তবুও। তার এই কাজগুলা এখন ফিলোসফিতে “Frankfurt Cases” নামে পরিচিত। হ্যারি জি. ফ্রাঙ্কফুর্ট-কে একজন গুরুত্বপূর্ণ ‘হিউমিয়ান কম্প্যাটিবিলিস্ট’ দার্শনিক হিসেবেও ধরা হয়। ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউমের ‘স্বাধীনতা’র ধারণাটারে (স্বাধীনতা মানে হইলো নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারা) আরেকটু আগায় নিয়ে গেছিলেন। ফ্রাঙ্কফুর্টের “Hierarchical theory of the will”-ও দর্শনের বহুল আলোচিত টপিকগুলার একটা। এই থিওরি মতে, একজন মানুষ তখনই প্রকৃত অর্থে “ব্যক্তি” হয়ে ওঠেন, যখন তার শুধু ইচ্ছাই থাকে না, বরং সে নিজের ইচ্ছাগুলা নিয়ে ভাবতেও পারে, এবং নিজের মতো করে ইচ্ছাগুলার প্রায়োরোটাইজ করতে পারে। জীবনের শেষ দিকে ফ্রাঙ্কফুর্টের ইন্টারেস্ট ভালোবাসা আর কেয়ারিং-এর দিকে সরে আসছিল। তিনি ভালোবাসা, কেয়ারিং-কে দেখতেন মানুষের একপ্রকার সক্ষমতা হিসেবে। এর মাধ্যমে একজন মানুষ অন্য কোনো মানুষ বা আইডিয়ার সাথে নিজেরে জড়ায়ে ফেলতে পারে, যে মানুষটার বা আইডিয়াটার আদতে কোনো বিশেষ মূল্য নাই, কিন্তু কেবল ভালোবাসা, কেয়ারিং-এর কারণেই তা মানুষটার কাছে মিনিংফুল, মূল্যবান হয়ে ওঠে।
“On Bullshit” প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৮৬ সালে। Raritan Quarterly Review নামের একটা লিটল ম্যাগাজিনে। তখন এইটা ছিল সাকুল্যে বিশ পাতার একটা প্রবন্ধ। আর্টিকেলটা তখন তেমন কারোরই নজরে পড়ে নাই। কিন্তু ২০০৫ সালে যখন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস আর্টিকেলটারে সাতষট্টি পৃষ্ঠার একটা ছোট্ট বই আকারে ছাপায়, সিনারিও পুরাই পাল্টায়া যায়। রাতারাতি বেস্টসেলার হয়ে উঠে বইটা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার লিস্টে টানা প্রায় সাত মাস টপে থাকে। আর ফ্রাঙ্কফুর্ট-এর মতো সিরিয়াস একজন দার্শনিকরে প্রায় তারকাখ্যাতি এনে দেয়। তারে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় টেলিভিশনের টক শো-তে। একটা “অশ্লীল” ও “অশিষ্ট” শব্দরে নিয়ে লিখা একটা গুরুগম্ভীর দার্শনিক প্রবন্ধ এত এত মানুষের মনোযোগ ক্যাচ করতে পারবে এইটা কারো ভাবনাতেও ছিল না। On Bullshit (২০০৫)-এর পর ফ্রাঙ্কফুর্ট ২০০৬ সালে On Truth লিখছিলেন। On Truth-এর আলোচ্য ছিল সত্যের প্রতি অবহেলা। মজার ব্যাপার হইলো, On Bullshit এতই বিখ্যাত হইছিল যে এইটা তার আজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, ফ্রি উইল নিয়া গবেষণাগুলারেও ছাপায়ে গেছিল।
হ্যারি জি. ফ্রাঙ্কফুর্ট ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওরে মারা যান।
[৩]
লেখাটা নাতিদীর্ঘ আর এত ইলাবরেটিভ যে পুরা লেখাটা একবার কেউ পড়ে ফেললে বুলশিট, এমনকি সত্য-মিথ্যা নিয়েও তার একটা নতুন ক্লিয়ার ধারণা জন্মাবে। পুরা লেখাটাতে ফ্রাঙ্কফুর্ট নানান পারসপেক্টিভ আর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুলশিটের পসিবল চরিত্র, বৈশিষ্ট্য ও স্বরূপ ব্যাখ্যা করে দেখাতে চায়ছেন। একে তো লেখাটা ছোট, মজারও। আবার সিরিয়াসও। ম্যাক্স ব্ল্যাকের হামবাগ থিওরি থেকে শুরু করে ভিটগেনস্টাইনের ব্যক্তিগত জীবনের স্টোরি, অক্সফোর্ড ডিকশনারির শব্দ-ব্যুৎপত্তি থেকে সেইন্ট অগাস্টিনের মিথ্যার শ্রেণিবিভাগের অবতারণা করে একটা জিনিসই দেখাতে চায়ছেন সেটা হইলো আমাদের সমাজে ও কালচারে বুলশিটের চরিত্রটা আসলে কেমন, বুলশিটের ক্ষতিকর দিকটা কতটা ক্ষতিকর। বইটা মূলত বুলশিট নিয়া জনমানসে একটি তাত্ত্বিক বোঝাপড়া তৈরি করতে লিখা।
বলা বাহুল্য, বুলশিটের সবচেয়ে বড় প্রডিউসার মিডিয়া, মাধ্যম হিসেবে। আসল প্রডিউসার তো মানুষই। আর আমরা অহরহ বুলশিট দেখতে পাই টক শোগুলাতে, বিজ্ঞাপন, এমনকি হাল আমলের ফেইসবুক পোস্টেও। আমি ভাবতেছিলাম, নির্বাচনী ইশতেহার কিংবা নির্বাচনী বয়ানগুলাও কি বুলশিটের মধ্যে পড়ে কিনা—মানে এমন কিছু নির্বাচনী বয়ান তো শুনছি যে এলাকায় অলরেডি মেডিকেল কলেজ আছে তবু নেতা আশ্বাস দিছেন যে মেডিকেল কলেজ করে দেয়া হবে। আবার এমন অনেক কর্মকাণ্ডও তো দেখছি যে নারী অধিকার নিয়া আলোচনা সভা ডেকে কেবল পুরুষরাই নিজেরা নিজেরা ভালো ভালো কথা বলে সভা খালাস করে দিছেন। অথচ একবারও ভাবেন নাই বা দরকার মনে করেন নাই যে আসলেই কোনো নারীরেও ডাকা দরকার কিনা। আবার এক নেত্রী একবার বলছিলেন যে তিনি বা তার দল নাকি কখনো পালায় না। কিন্তু বাস্তবতা যে কী তা তো আমরা দেখছিই, এখন সবার জানা। ঐ নেত্রী যে কথাটা বলছিলেন, কেন বলছিলেন? রিয়েলিটি বুঝায়তে? না। বরং একটা ইমপ্রেশন তৈরি করতে। শুধু বাক্য-কথাই যে বুলশিট হবে এমন না, বুলশিট কাজকর্মও হইতে পারে। ফলে বুলশিটের একটা ন্যূনতম তাত্ত্বিক বোঝাপড়া থাকলে সোসাইটাল বিভিন্ন নর্ম ও ফেনোমেননগুলাও ঠিকভাবে রিড করতে পারা যাবে। আরেকভাবে বললে, সোসাইটাল ফেনোমেননগুলারে সঠিকভাবে বুঝতে চাইলে বুলশিটের একটা হেলদি আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকা অপরিহার্য। নাইলে দেখা গেল আপনি একটা বক্তৃতা শুনলেন কিংবা একটা ঘটনা ঘটতে দেখলেন, অথচ আপনি বুঝতেই পারলেন না এই বক্তৃতা বা ঘটনাটার সঙ্গে বাস্তবতার সংযোগ কতটুকু, বা আদৌ আছে কিনা। বুলশিট প্রডিউস করতে মনোযোগ লাগে, আবার অমনোযোগিতাও বুলশিট উৎপাদনের একটা কারণ হতে পারে। আর আমাদের সমাজে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অমনোযোগী অডিয়েন্সের সংখ্যা তো কম না। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হইলো, অনেক মানুষ তো জানেই না যে সে বুলশিটের শিকার হইছে বা সে নিজেই বুলশিট প্রডিউস করতেছে। মিডিয়া লিটারেসির মতো বুলশিট সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনরে বলা যায় রিয়েলিটি লিটারেসি।
এই বইটা আমি নিজে পড়ে বেশ উপকৃত হইছি। আমার কিছু কিছু বোঝাপড়াতে ক্ল্যারিটি আসছে। এমনকি এখন আড্ডাতে কথা বলতে গেলে ন্যাচারালিই আমার ভেতরে একটা প্রহরী সজাগ হয়ে উঠে আমি বুলশিটিং করতেছি কিনা। এখন কোনো একটা কম জানা ব্যাপারে কথা বলতে গেলে অটোমেটিক একটা সতর্কতা জারি হয়ে যায় সচেতন মনে। তো এই লেখাটা পড়ে আরো দুইজন মানুষের যদি উপকার হয় এই ভেবেই অনুবাদ করা। ছোট দুইটা লাইন বলে শেষ করি। বুলশিট ও মিথ্যা পুরাপুরি আলাদা জিনিস। আমাদের কালচারে সত্যযের প্রতি যত্নের যে ঘাটতি, অনীহা আর উদাসীনতা, বুলশিট আসলে এরই একটা লক্ষণ। এবং বুলশিট অনেক বেশি বিপদজনক, মিথ্যার চাইতেও, হাজার-কোটি গুণে।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকে সকল প্রকার বুলশিট উৎপাদন ও বুলশিটের শিকার হইতে বেঁচে থাকতে এবং বুলশিট সম্পর্কিত অর্জিত জ্ঞানের ওপরে আমল করার ও অটল থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন!
শাদাব হাসিন
সদর, পিরোজপুর
বাছবিচার
Latest posts by বাছবিচার (see all)
- হ্যারি জি. ফ্রাঙ্কফুর্ট-এর বুলশিট - July 24, 2026
- (বই থেকে) বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মপ্রকাশ – কামরুদ্দীন আহমদ (এক) - March 14, 2026
- বাংলাদেশি ফিকশন: জমিদারি উচ্ছেদ – আবুল মনসুর আহমদ (১৯৪৫) - January 30, 2026