চিন্তার ছিলছিলা//

ডান আর বাম লইয়া জেই পলিটিকেল ডিছকোর্ছ আছে, আমি শেইটারে আরেকটু ভালোভাবে ডিফাইন করতে চাইছি, এবং করছি বইলা দাবি করি। মোদ্দা কথায় ব্যাপারটা এমন জে, ডান মানে হইলো ডিউটিপন্থা আর বাম মানে হকপন্থা। এইখানে বিস্তার করতে চাই না বেশি, ছেরেফ একটা ইশারা দিতেছি এমনে: ডান পজিশন মোতাবেক, শমাজের মেম্বাররা শকলে তার তার ডিউটি পালন করলে শমাজ বেস্ট পছিবল হালতে পৌছাবে। আর বামেরা মনে করে, শমাজের উচিত শকলের হক আদায় করা।

এই হিশাবে বামেরা বেক্তির উপর থিকা কনটোল শরাইতে চায়, ফিরিডমের কথা কয়। আর ডানেরা ফিরিডম দেওয়ারে মনে করে শমাজের বেক্তি মেম্বারদের ডিউটি এড়াবার মওকা বানাইয়া দেওয়া। কিন্তু ডান-বামের পলিটিকেল পজিশনের পিছে আরো গোড়ার ভাবনা আছে একটা: বামেরা আজাদ বেক্তি মানুশের উপর ডানের তুলনায় বেশি ভরশা রাখতে চায় এবং শেই কারনেই কমপ্লিট আজাদিরে ডানেরা রিস্কি ভাবলেও বামেরা খুব পজিটিভ ঘটনা হিশাবে দ্যাখে। মানে হইলো, দুই পক্ষের শাচ্চা ফারাক হইলো, ‘মানুশ’ নামের অর্গানিজমটারে কারা কেমনে ডিফাইন বা তারিফ করে।

ডিউটি আর হক ঘিরা এই জে মর্ডান পলিটিকেল ফালছাফার ডিছকোর্ছ, এইখানে মানুশের তারিফ বা ডেফিনিশনের ব্যাপারে আমাদের নজর দিতে হবে খিরিস্টানিটি আর ইছলামের ফারাকে। কেননা, ইউরোপের মস্ত দাবি থাকবার পরেও গেরেকো-রোমান ফালছাফার ছিলছিলার ভিতর আমরা ঐগুলা পাবো না, বরং মর্ডান ইউরোপের পলিটিকেল ফালছাফা ডিছকোর্ছের পাটাতন পয়দা হইছে ইছলাম মোকাবেলা করতে করতে!

মেছোপটেমিয়া, ইজিপ্ট আর ইরানের চিন্তার লগে পেলেটো-এরিস্টোটলের চিন্তার রিশতা আরেকটা আলাপ, এইখানে শেইটা করতে চাই না; কিন্তু এইটা একবার কইয়া রাখতে হইলো; কেননা, পেলেটো-এরিস্টোটলের চিন্তার রোশনাই আরবি তরজমার ভিতর দিয়া এস্পেনের আন্দালুছে ফুটছিলো খুব এবং তার লগে ইছলামের মাখামাখিতেই আন্দালুছে পয়দা হইতে পারছিলো ইবনে রুশ্দ (১১২৬-১১৯৮)। এবং এই ইবনে রুশ্দের মোকাবেলা করতে নাইমাই রোমে টমাছ একুইনাছ (১২২৫-১২৭৪) খিরিস্টানিটিরে থিওলজিকেলি ছেইভ করেন।

ইবনে রুশ্দের লগে ইবনে তোফায়েল (১১০৫-১১৮৫)

নামে আল আন্দালুছের আরেকজন ভাবুকের কথা কইয়া রাখি এখন, পরে লাগবে। এনারা দুইজন দোস্ত আছিলেন; ইবনে তোফায়েলই ইবনে রুশ্দের লগে খলিফার দিদার ঘটাইছিলেন এবং তাতেই এরিস্টোটলের চিন্তা লইয়া কামের মওকা পাইলেন হজরত রুশ্দ। তবে, এই দুইজনের আগের দুইজন ভাবুকও এই ব্যাপারে দরকারি, বাস্তবে শেই দুইজনেই এই আলাপের শুরু: ইবনে ছিনা আর হজরত গাজ্জালি। মানুশের আক্কেলের উপর ইবনে ছিনার মস্ত ভরশা আছিলো। শেইটারে কাউন্টার দিছেন গাজ্জালি। এই দুইজনের চিন্তারে একটা জোড়া বানাইয়া নাম দিলাম, আক্কেল বনাম একিনের ডায়ালেক্টিক্স। চিন্তার ঐ দুইটা লাইন বা ছিলছিলা হাজার বছর ধইরা চলতেছে। আক্কেলের লাইনটা এমন: ইবনে ছিনা-তোফায়েল/রুশ্দ-লক-বিটিশ পলিটিকেল ছিস্টেম(১৬৮৯)-আমেরিকা/জেফারছন-রুশো-মার্ক্স। আর একিনের লাইন: গাজ্জালি-একুইনাছ-হব্স-হালের ডান। এই লম্বা ছফরের ভিতর দিয়া আক্কেল আর একিনের ডায়ালেক্টিক্সটাই হালে হক আর ডিউটির বা বাম-ডানের ডায়ালেক্টিক্সের ছুরত পাইছে।

ফিকশনের ইশারা//

ছুরা ইমরানের ১৯০ নাম্বার আয়াতে আল্লা এরশাদ করছেন জে, দিন-রাতের বদলের ভিতর বা তাবত দুনিয়ার কায়কারবারের ভিতর ভাবুকদের জন্ন ইশারা আছে। কোরানের আরো অনেকবারই খোদা মানুশের আক্কেল এস্তেমাল করতে কইছেন। দুনিয়া বানাইছেন খোদা, এই দুনিয়া তাই খোদার ফিকশন, আদি ফিকশন। মানুশ তার আক্কেল এস্তেমাল কইরা এই ফিকশনে খোদার এনকোডেড এলেমের গোমর ধরতে চায়।

আবার এই দুনিয়ায় মানুশ খোদার খলিফা হিশাবে, তার আক্কেল এস্তেমাল কইরাও ফিকশন বানায় এবং শেই ফিকশনেও মানুশ কারিগর চেতন বা অচেতনে ঢুকাইয়া দেয় কতো কতো ইশারা! শেই খোদায়ি আদি ফিকশন আর মানুশ কারিগরের ফিকশনে লুকাইয়া থাকা শেই ইশারা থিকাও কতো গোমর বুইঝা ফেললো কতো কতো ভাবুক।

মর্ডান দুনিয়ায় ফিকশনের তেমন একজন কারিগরের নাম দস্তয়ভস্কি। ওনার বানানো দুনিয়ায় ভাবনার ইশারা পাইলো নিৎশে বা ফোরোয়েড। ওদিকে, ফিকশনের বাইরে ভাবনার আরেকটা হাজিরা আছে, নন-ফিকশন। এই জে দুইটা ঢঙে ভাবনার হাজিরা পাইতেছি আমরা, এই দুইটারে জুদা করবো কেমনে? আমার বিবেচনায় নন-ফিকশন হইলো দিনদুনিয়া বা বাস্তবতার ক্যাটেগরাইজেশন, আর ফিকশন মানে খোদ দিনদুনিয়া বা বাস্তবতা; ফিকশনের একেকজন করিগর বাস্তবতার একান্ত নিজের একেকটা জগত পয়দা করে। এই দুই টাইপের ভাবুকদের ভিতর লেনাদেনা চলতেছে ইতিহাশের শুরু থিকাই। তবে, ক্যাটেগরাইজেশনের আগে জেহেতু খোদ বাস্তবতাটা দরকার, তাই ফিকশনই মনে হয় ভাবনা হাজির করার আদি ঘটনা। তাবত মাকলুকাতের ভিতর মানুশের ছিগনেচার হিশাবে কেউ কেউ তাই হয়তো ফিকশন বানাইতে পারারে বোঝে। ইতিহাশের আদি ফিকশন হিশাবে আমরা ধরতে পারি গিলগামেশ’রে। আর নন-ফিকশনের আদি ঘটনা ধরা জাইতে পারে জরথুস্ট্র’কে।

মর্ডান ইউরোপের চিন্তায় আল আন্দালুছ হইয়া ছিনা-গাজ্জালির ছিলছিলার প্যারালাল আরেকটা ছিলছিলা ঢুকছে হিন্দুস্তান দিয়া, জার্মানি হইয়া। এই লাইনটা এমন ধরা জায়: বুদ্ধ-শোপেনহাওয়ার-দস্তয়ভস্কি-নিৎশে-দেরিদা/ফুকো। ফেরান্সে আশলে এই দুই ছিলছিলার মোলাকাত ঘটছে, জার্মান ফালছাফার মারফতে, নিৎশে আর মার্ক্সের ছিন্থেছিছ ঘটার ভিতর দিয়া।

তো, দস্তয়ভস্কির প্যারালাল ফিকশনের আরেকজন কারিগরের নাম ইবনে তোফায়েল, দস্তয়ভস্কির ৭০০ বছর আগে লিখছিলেন উনি, ​‘হাই ইবনে ইয়াকজান’। এই কেতাব থিকাই পয়দা হইছে লকের ‘টাবুলা রাছা’, রবিনছন কুরুশো বা টারজান। হাই একটা পোলার নাম, তোফায়েলের ফিকশনের নায়ক। অপার দরিয়ার মাঝখানে একটা চর, শেই চরে একলা এক মানব শিশুর নাম হাই। তোফায়েল কইতেছেন, পাশের কোন চরের কোন মাইয়া হয়তো বাচ্চাটারে ভাশাইয়া দিছিলো বা চরের কাদা আর পানির কোন এক আজব কেমিক্যাল রিয়েকশনে পয়দা হইছে হাই। একটা মাদি হরিন তার দুধ খাওয়ায় হাই’রে, বড়ো হইতে থাকে হাই। একলা একলা, মানুশের ভাশা ছাড়াই শে হাতিয়ার বানায়, আগুন জালানো শেখে, আছমান দ্যাখে, শুরুজ আর কতো কতো তারা; এনিমেল ওয়ার্ল্ড দ্যাখে, ভাবে, বোঝে। তার হরিন মা মরে, বুঝতে পারে না হাই, তার মায়ের দেহ কাটাকুটি কইরা এনাটমি শেখে। তার আক্কেল এস্তেমাল কইরা শে এক খোদায় পৌছায়। তারপর একদিন ‘আছাল’ নামে একজন জাইলা হাজির হয় ঐ চরে। হাই’রে শে ভাশার ছবক দেয়, ইছলামের পয়গাম দেয়। হাই দেখতে পায়, জেই খোদায় শে পৌছাইতে পারছিলো নিজের আক্কেল-অবজার্ভেশন-লজিক দিয়া, ঠিক তেমন একজন খোদার পয়গাম লইয়া হাজির হইছে আছাল! তারপর হাই জায় শহরে-শমাজে, আক্কেলের খবর দেয়; কিন্তু বুঝাইতে পারে না কাউকে, তারপর তারা আবার ফিরা জায় শেই চরে।

ইবনে তোফায়েলের এই হাই আশলে ইবনে ছিনার একটা ফিকশনের ঝলক থিকা পয়দা হইছে! ছিনা একটা থট এক্সপেরিমেন্টের কথা কইছিলেন–এস্পেছে একজন মানুশ হঠাৎ পয়দা হইলে কেমন হবে ঘটনাটা? মানুশটা শাবালক, তার ছেন্সগুলা পুরা অকেজো, তার হাতও জানে না জে, তার পা আছে! ছিনা কইতেছেন, তৎনো শে বুঝবে জে, শে আছে, শে ‘আমি’ মালুম করবে তার আক্কেল দিয়া, তার এক্সিস্টেন্স বুঝবে আলবত! খেয়াল করলে দেখবেন, দেকার্তের শেই কথাটা [আই থিংক, দেয়ারফোর আই অ্যাম।] কেমনে ছিনার এই থট এক্সপেরিমেন্ট থিকা নাজিল হইতেছে!

তো, ফিকশনের ভিতর দিয়া তোফায়েলের হাই’রে নন-ফিকশনে ক্যাটেগরাইজ করতেছে ইবনে রুশ্দ! ২৫০০ বছর আগে ইরানে বাদশা ছাইরাছ তার বাদশাহির মানুশজনকে পয়লা ছিটিজেন হিশাবে দেখা শুরু কইরা ইউনিভার্ছাল হকের এলান জারি করছিলো। ব্যান করছিলো জবরদস্তি আর বান্ধা গোলামি। বেবিলন জয় কইরা আজাদ কইরা দিছিলো ইহুদিদের। ইছলামের ফুশলানিতে তোফায়েল-রুশ্দ ছাইরাছের শেই এলান আগাইয়া নিলো আরো কয়েক কদম।

বান্ধা গোলামিরে ইছলাম ব্যান না করলেও কয়েক কদম আগাইয়া নেবার কথা কইলাম। ব্যান না করলেও বান্ধা গোলামদের আজাদ করতে ফুশলাইছেন রাছুল, ছওয়াবের খোশখবর দিছেন, দিছেন মানুশের ইজ্জত। তবে আগাবার কথা কইলাম আরেকটা বিবেচনা থিকা। মানুশেরে দুনিয়ায় আল্লার খলিফা হিশাবে এলান জারি করছে ইছলাম, আল্লার নজরে শকলে শমান বান্ধা–মালিকও, গোলামও; এলান জারি করছে মানুশের হকের। তার উপর আছে মানুশের আক্কেলের পয়গাম এবং শেই আক্কেল এস্তেমাল করার ফুশলানি। তোফায়েল-রুশ্দ ইছলামের ঐ আক্কেল এবং হকের পয়গাম থিকা পৌছাইয়া গেছে মানুশের ‘ফিতরাত’-এর আইডিয়ায়।

আমরা খেয়াল করলে দেখবো, ইতিহাশে গিরিক দর্শনের হাজিরা ছাইরাছের পরের ঘটনা, কিন্তু ছাইরাছের মানুশ ভাবনা লয় নাই পেলেটো-এরিস্টোটলেরা; মানুশের ইজ্জত, হক বা আক্কেল লইয়া ভাবে নাই তারা ততো; এমনকি খিরিস্টানিটিও ঐখানে জাইতে পারে নাই, ইছলামের জন্ন ওয়েট করতে হইছে ইতিহাশের। ‘ফিতরাত’ অর্থ হিউম্যান নেচার, আর এইটারেই লক তরজমা করতেছে ‘নেচারাল রাইটছ্’।

আক্কেল আর একিনের ছিন্থেছিছ বনাম ডায়ালেক্টিক্স//

বাদশা ছাইরাছের আছিলো জরথুস্ট্রের মুরিদ। ভালো আর মন্দের জেই পয়গাম বা মোরাল ডিছকোর্ছ দিছিলো জরথুস্ট্র, তাতে মানুশের ডিউটি আর একিনের কথাই মনে পড়বে আমাদের। কিন্তু ছাইরাছ এইখানে পাওয়ারের খেলা হাজির করলো। মানে, পাওয়ারফুল হিশাবে, বাদশা হিশাবে নিজেরে পরাইছে ডিউটির শিকল, এবং তার শেই ডিউটি হইলো শকলের হক আদায় করা। ফলে ছাইরাছে দেখা জাইতেছে, ডিউটি এবং হকের ভিতর কোন দুশমনি নাই। এইভাবে পলিটিকেল ভাবনায় পয়দা হইলো জাস্টিছের আইডিয়া। ওদিকে, একই ভাবনা আমারা পাইতেছি ইছলামে, বাড়তি হিশাবে আছে আক্কেল এবং কবুলিয়ত; ডিউটি এবং হকের গলাগলি ধইরা চলা। এক দিকে আমরা দেখবো, গিরিক ফালছাফায় হক আর কবুলিয়তের আইডিয়া গরহাজির, আর দিকে আমরা তোফায়েলের হাই’র ভিতর দেখতেছি, একিন এবং আক্কেলের ভিতর দুশমনি নাই কোন, দুইটাই মানুশেরে একই বিন্দুতে পৌছাইয়া দিতেছে। আর তোফায়েল-রুশ্দ হাজির হইতে পারতেছেন মানুশের ‘ফিতরাত’-এ।

কিন্তু ছিনা-তোফায়েলদের আক্কেল এবং ফিতরাতের আইডিয়া আরেকটু বিচার করার দরকার আছে আমাদের। চোখা নজরে চাইলে আমরা দেখবো, ছিনা-তোফায়েলের মানুশ খুব পজিটিভ, মানুশ জে ভালো, ওনাদের মতে, এইটা খুব বুনিয়াদি ব্যাপার মানুশের। ফলে ওনারা খুব আরামে মানুশের ‘বিবেক/কনশ্যেন্স’ পাইয়া গেছেন, বিবেকও ওনাদের মতে তাই মানুশের ফিতরাতের ভিতরেই আছে। কিন্তু ঠিক এইখানেই হুশিয়ারি দিছেন গাজ্জালি। তোফায়েল-রুশ্দে আক্কেল আর একিনে দুশমনি না থাকলেও আক্কেল জদি পুরা আজাদ হইয়া জায়, মানে, কতোটা পুশ করা জায় আক্কেল? আক্কেলের বাইরে জা কিছু, তাতে জদি একিন না করে মানুশ, কি হবে তখন? তখন কি বিবেক বা মোরাল কোন ফয়ছালা আদৌ দরকার থাকবে? মানুশের বিবেক জিনিশটারে গাজ্জালি অটোমেটিক ভাবতে রাজি হন নাই। উনি নফছ্ বা মানুশের ইচ্ছা-খায়েশ-চয়েছের মামলা হাজির করছেন। আক্কেল ওনার কাছে একটা চাবি, খারাপির রাস্তাও জেই চাবিতে খোলে! একিনের জরুরত দেখছেন উনি তাই। আক্কেলের লিমিট উতরাইতে একিনে ভরশা করার নছিহত করছেন গাজ্জালি।

ইছলামের মস্ত ছাতার নিচে অমন ছিনা-তোফায়েল-গাজ্জালির বাহাছ চলতে পারে, তাতে ভড়ো মুছিবত নাই, চিন্তা এমনেই হাটে। মুছিবত ঘটে তখনি জখন তোফায়েল-রুশ্দ হাজির হইলেন খিরিস্টান দুনিয়ায়! চার্চের খিরিস্টানিটিতে আক্কেল নাই, হকের আইডিয়া নাই, কবুলিয়ত নাই, মানুশ এক আদিপাপে বেহেস্ত থিকা খেদানো, পতিত, চার্চে তাই আছে কেবলি একিন আর ডিউটি। এই চার্চের ভুবনে জখন হাজির হইলো তোফায়েল-রুশ্দ, দিশাহারা হইয়া পড়লো চার্চ, নিজের বুনিয়াদ তছনছ হইয়া জাইতেছে পেরায়! চার্চ তাই রিয়েকশন দিলো টমাছ একুইনাছের জবানিতে। হজরত একুইনাছ ইবনে রুশ্দ পড়লো তার একিন বাদ দিয়া; আর রুশ্দের জবাব দিলো গাজ্জালির বরাতে, কিন্তু গাজ্জালি থিকা বাদ দিয়া দিলো ইছলামের বুনিয়াদি আক্কেল-হক-কবুলিয়ত-ইনছাফ।

বিলাতে একুইনাছের চিন্তা আমদানি করছে হব্স। লক-রুশো’র আগে হব্স ছোশাল কনটাক্টের আইডিয়া লইয়া আলাপ তুলছিলো; এমনিতে আইডিয়া হিশাবে এইটা আগে পেলেটো এবং ইবনে খালদুনের ‘আছাবিয়া’য় পাওয়া জাইতেছে। তবে হব্সের ছোশাল কনটাক্টের আইডিয়া পেলেটোর লগে মেলে বেশি, আর খালদুন-লক-রুশোর ছোশাল কনটাক্টের আইডিয়া কাছাকাছি, এবং একই আইডিয়া দুই পক্ষ বেশ আলাদা ভাবে ডিফাইন বা তারিফ করছে।

খালদুন-লক-রুশোরা ভাবছে, শমাজ হইলো একটা কোঅপারেটিভ আর হব্স কইতেছে, দুনিয়া হইলো শকলের বিরুদ্ধে শকলের জুদ্ধ। ১৬৫১ শালে হব্স তার কেতাব ‘লিভায়াথান’ চাউর করেন। লিভায়াথান একটা মিথিকেল পাওয়ার, একটা মস্ত শক্তির মন্সটার, বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট থিকা নিছেন হব্স। উনি কইতেছেন, শকলের বিরুদ্ধে শকলের ঐ জুদ্ধ কনটোল কইরা শমাজে অর্ডার আনতে পাওয়ারফুল একটা ছভ্রেইন বডি লাগবে, রাশ্টো বা শাশক হইলো শেই পাওয়ার, তাই তার নাম দিছেন উনি লিভায়াথান।

ওদিকে, একুইনাছ আর হব্সের জবাব দিছেন হজরত লক। উনি আছিলেন অক্সফোর্ডে, তার কলিগ এবং মেন্টরের নাম এডোয়ার্ড পোকক। এই পোকক ১০ বছর কাটাইছেন ইস্তাম্বুল এবং ছিরিয়ার আলেপ্পো শহরে, শিখছেন আরবি, আরবির ভিতর দিয়া ইরান-আরব-গিরিক ফালছাফার এলেম হাতাইছেন আর অক্সফোর্ডে পাঠাইছেন বহু আরবি কেতাব। ১৬৭১ শালে উনি তোফায়েলের ‘হাই ইবনে ইয়াকজান’ ল্যাটিনে তরজমা করেন। তখন তার পাশেই বশা আছিলো জন লক, লকের লাইবেরিতে পাওয়া গেছে তোফায়েলের কেতাব।

কিন্তু হজরত লক জখন নিজে লিখতেছেন, তখন তোফায়েল বা হাই’র দোহাই দিতেছে না! এইটা হইতে পারে চার্চের ডরে, ইউরোপের কুরুছেড মেমোরি বা ইস্তাম্বুল হারাবার বেদনা থিকা মোছলমানদের পোরতি জেই ঘেন্না পয়দা হইছিলো, তাতে মোছলমান তোফায়েলের দোহাই লকের জন্ন বাড়তি ঝুকি আছিলো আলবত। কিন্তু কারন জেইটাই হৌক, ওতে ইতিহাশের ছিলছিলা হারাইয়া জায়, মর্ডান ইউরোপের পলিটিকেল থিয়োরি ছেরেফ লকেই শুরু হয়, লকের বিচার এবং খতাইয়া দেখার হিস্ট্রিকেল শুতা ছিড়া জায়। তাতে মস্ত জেই খতিটা হইলো, তা এমন: লকের চিন্তায় মানুশের আক্কেল একমাত্র ব্যাপার হইয়া পড়ে, বাদ পইড়া জায় তোফায়েলের রুহানি মর্ম। একুইনাছের জবাবেও তাই তার মতোই উল্টা ঘটনা ঘটাইলো হজরত লক–একুইনাছ বাদ দিছিলো হক-কবুলিয়ত-আক্কেল আর লক বাদ দিলো একিনের রুহানি মর্ম। ইউরোপে তাই মর্ডান পলিটিকেল থিয়োরি হইয়া পড়লো ছেরেফ হক/আক্কেল বনাম ডিউটি/একিনের দুশমনি।

এইখানে একটা বাড়তি নোট দিয়া রাখতে হয়। গিলগামেশ আর জরথুস্ট্রের প্যারালাল গিরিক জোড়া ধরা জাইতে পারে হোমার আর পেলেটোরে। চিনে তেমনি জরথুস্ট্র-পেলেটো লাইনে আমরা পাবো কনফুছিয়াছ। তবে গিলগামেশ বা হোমারের মতো ছিংগেল কিছু/কাউকে পাওয়া গেলো না, কিন্তু শিজিং আর জুয়াংজি নামে চলতি কতোগুলা কেচ্ছা-কাহিনি-কবিতা-মিথ পাওয়া গেলো বটে। তো, ছিনা-রুশ্দের জেই ক্যাটেগরাইজেশন, ঐটা গিরিক আছর; মানে আরব-ইরান-আন্দালুছ মেথডোলজির ছবক পাইছে পেলেটো-এরিস্টোটলে। কিন্তু পেলেটোর রিজন/আক্কেল আখেরে ডিউটির চাপে ভর্তা হইয়া গেছে, তা হক আর ইনছাফে পৌছাইতে পারে নাই আখেরে। এইখানেই ছাইরাছ হইয়া ইছলামের ফুশলানিতে ছিনা-তোফায়েল-রুশ্দের কির্তি।

নফ্ছ, নিৎশে এবং মার্ক্স//

নফ্ছ একটা ইন্টারেস্টিং কনছেপ্ট। পেলেটো থিকা খিরিস্টানিটি/চার্চের কাছে নফ্ছ একটা খুব খারাপ জিনিশ, কিন্তু ইছলামে মোটেই তেমন বলা জাইতেছে না! ছেক্স বা দৌলত ইছলামে একটা রহমত, এবাদতের উপায়ও। বউ-ভাতারের জৌন হক এক ডিউটি আছে, দৌলতের আছে কোরবানি বা জাকাতের মতো ডিউটি। আমিরের দৌলতে আছে গরিব-এতিমের হক; ডিউটি আর হক একটা পেয়ারের মতো কাম করে ইছলামে।

আমরা খেয়াল করলে দেখবো, লকে তোফায়েলের জেই রুহানি মর্ম বাদ পড়লো, শেই লকের মুরিদ মার্ক্স হকের এমন চরমে পৌছাইলেন জেইখানে নফ্ছ একটা নেগেটিভ জিনিশ; বাস্তবেও ইউরোপের কেপিটালিস্টরা রুহানি মর্ম হারাইয়া খুব নিঠুরিয়া গোলামি আর জবরদস্তির ব্যবশা-জুলুম করতে পারলো।

লকের ভিতর হয়তো বিবেকের আইডিয়া ছিলো, কিন্তু তার কাছে বিবেক মানুশের ফিতরাতের নেছেছারি পাট, ডিফল্ট। উনি চার্চ মোকাবেলা করতে করতে হয়তো মালুম করতে পারেন নাই জে, বিবেক বা কনশ্যেন্সের লগে রুহানি মর্মের রিশতা আছে, ডিউটি আর ইনছাফের লগে রিজনের অতিরিক্ত কোন একিনের মামলা আছে। ঐ রুহানি মর্ম বাদে মানুশের আক্কেল এমন আজাদ হইতে পারে জে, নফ্ছ তারে ভাশাইয়া নিয়া ফেলতে পারে বিবেকের বাইরে এক তুমুল শয়তানি দুনিয়ায়। ইউরোপের কেপিটাল ঠিক শেই দরিয়ায় জাইয়া নামছে, বিবেকের পাহারার বাইরে নফ্ছের তাড়নায়। আর মার্ক্স শেইটারই রিয়েকশন দিছেন, জেইখানে শমানভাবেই গড়হাজির বিবেক/কনশ্যেন্স, এইগুলা তার কাছে ছেরেফ ভাববাদ। ভালোতা বা খারাপি জে মানুশের চয়েছ–নফ্ছের মামলা, শেইটা বোঝার উপায় নাই জখন লক বিবেক জিনিশটারেও রিজন/আক্কেলের ডিফল্ট মামলা হিশাবে মানুশের ফিতরাতের নেছেছারি পাট ধইরা নিলেন।

ওদিকে, নিৎশে হইলেন নফ্ছের নবি। শোপেনহাওয়ার ভায়া/এবং দস্তয়ভস্কি হইয়া নিৎশের ভিতরে ঢুকছে বুদ্ধের ছাফারিং এবং লকের ভিতর দিয়া রিজন/আক্কেল জেই রুহানি মর্মের খুটা হারাইয়া ফেললো তাতে বুদ্ধের ছাফারিং নিৎশেকে নিয়া গেলো নিহিলিজমে। শকল মোরাল বুনিয়াদ থিকা মুক্ত এক নফ্ছ থিকা নিৎশে এলান জারি করলো, ‘উইল টু পাওয়ার’, ছুপারহিউম্যানের শম্ভাবনা। আজাদ রিজন থিকা জেই নিঠুরিয়া কেপিটাল পয়দা হয় এবং শেই কেপিটালের পাওয়ার বিবেক/কনশ্যেন্স থিকা আজাদ নফ্ছকে মর্ডান রাশ্টের লিগাল ছিস্টেমেরও বাইরে নিয়া জাইতে পারে। এবং শেই তুমুল আজাদির ছুরতের নামই এপিস্টেইন আইল্যান্ড। ইবনে তোফায়েলের শেই আইল্যান্ড থিকা হাজার বছরের ছফরের ভিতর দিয়া হিউম্যান ছিভিলাইজেশন হাজির হইলো এপিস্টেইনের আইল্যান্ডে।

দেরিদা-ফুকো: নিৎশে আর মার্ক্সের ছিন্থেছিছ

ইতিহাশে নিৎশে হাজির হবার আগেই ইউরোপে এক ছুপারহিউম্যান পয়দা হইছিলো, তার নাম নেপোলিয়ন। হব্স জেই লিভায়াথান চাইছিলো, শেই লিভায়াথান নাজিল হইছিলো ফেরান্সে, নেপোলিয়ন নামে। আমরা খেয়াল করলে দেখবো, ইউরোপের কলোনিগুলার ভিতর শবচে বেশি জুলুম ঘটছে আফ্রিকায়, ফেরান্সের কলোনিগুলায়। লকের রিজন/আক্কেল ফেরান্সে ‘হিউম্যান জু’ বানাইয়া এম্পিরিছিস্ট এলেমের কারবার করছে।

নিৎশের হাজিরার আগেই ফেরান্সে নিৎশের চিন্তার একটা কেছ এস্টাডি ঘটছিলো বলা জায়। আর নিৎশের পরে? নিৎশের পরে ইউরোপ পাইলো হিটলার; তাতে নিৎশে ইউরোপে মোরাল এজাজত হারাইলো; কিন্তু বিবেক/কনশ্যেন্সের মজবুত আইডিয়া না থাকায় ঐ মোরাল এজাজতের মামলা কাম করলো লিগাল ফেরেমওয়ার্কের ভিতর দিয়া।

আমরা খেয়াল করলে দেখবো, লকের হকের আইডিয়া নিৎশে ইউজ করলো নফ্ছের আজাদি ঘটাইতে, আর মার্ক্স ‘রাইট টু পোপার্টি’ ইউজ করলো পোরলেতারিয়েতের ভায়োলেন্স জাস্টিফাই করতে। ফলে মার্ক্স আখেরে একটা জাস্টিছ আর মোরাল ছিস্টেমের আইডিয়া পয়দা করতে পারলো পোরলেতারিয়েতের লেবার ডাকাতির উছিলায়।

ছো, আপনে জদি পোরলেতারিয়েত পক্ষ হন, তাইলে আপনের নফ্ছ আজাদ কইরা দিতে পারতেছেন, মার্ক্স আপনারে মোরাল এজাজত জোগান দেবে। ফেরান্সে এই ঘটনাটা ঘটলো দেরিদা-ফুকোর ভিতর দিয়া এবং এইটারেই আমি কইতেছি মার্ক্স আর নিৎশের ছিন্থেছিছ জেইখানে বিবেক/কনশ্যেন্স মার্ক্সের ভাববাদের বাটখারায় শমানভাবেই মেটাফিজিক্স। নিৎশের নিহিলিজম পারপাছের জেই ঘাটতি এবং গিল্টি ফিলিং পয়দা করছিলো, শেই গাঙ পার কইরা দিলো মার্ক্স।

ইনছাফ: শাশনের লেজিটিমেছি//

চিন্তার ইতিহাশ আর ছিলছিলার একটা ম্যাপ পেশ করতে চাইছি আমি এই লেখায়। আমার এই ভাবনার কতোগুলা জিনিশ আরো কিছু ভাবুক এড্রেছ করছে দেখলাম। ওয়ায়েল হাল্লাক আর ছামার আত্তারের নাম পাইলাম। লগে তালাল আছাদ বা আগাম্বেনের নাম টানা জাইতে পারে।

কিন্তু এনারা খুব শম্ভব ইতিহাশের ছেড়া শুতা, তার ফলাফল আর তার মেরামত কেমনে শম্ভব, শেই ব্যাপারে পোস্তাব পেশ করেন নাই ততো। ডান-বামের দুশমনি কেমনে পয়দা হইলো, শেই ব্যাপারেও ঝাপশা খুব শম্ভব।

আমি একটা ওয়ে আউট তালাশ করতেছি এবং রুহানি মর্মহিন লকে ভর করা ইউরোপের ডান-বামের ঝগড়া আর দুশমনিতে শেইটা পাওয়া জাবে না বইলা আন্দাজ করতেছি। বরং ঐটার ফলাফল এতোই খারাপ জে, মর্ডান ইউরোপের বেশুমার পাওয়ারের ঠেলায় এক কিছিমের শাংস্কৃতাইজেশন ঘটছে এবং কলোনিয়াল জামানায় ডিফিটেড মোছলমান ছাইকিতে জেই ইছলামিজম পয়দা হইছে, তা ইছলামের চাইতে, এমনকি গাজ্জালির চাইতেও বেশি আপন একুইনাছের! ছিনা-তোফায়েল-গাজ্জালিদের চিন্তা বা ইছলামে আক্কেল, ডিউটি, একিন, হক, নফ্ছের মিলনে জেই কবুলিয়ত আর ইনছাফ শাশনের লেজিটিমেছি দেয়, শেইটা এখন পচ্চিমে আর পুবে শবখানেই ভাইংগা পড়তেছে।

আমরা খেয়াল করলে দেখবো, খালদুন-লক-রুশোর আছাবিয়া/ছোশাল কনট্রাক্ট দিয়া মর্ডান রাশ্টোগুলা পয়দা হইতেছে মোটামুটি–শুরুতে বিরিটেন ১৬৮৯ শালে, পরে আমেরিকায় ১৭৭৬ শালে, পরে আরো আরো। ফলে একটা ডেমোক্রেটিক রাশ্টে আমরা জনগনের খাদেম হিশাবে পাইতেছি শাশকদের। কিন্তু দুনিয়ায় জদি ২০০ রাশ্টো থাকে, এই রাশ্টোগুলার ভিতর রিশতা কেমন হবে, শেই রিশতা কেমনে রক্ষা হবে? এই ব্যাপারে লকে কোন ইশারা পাওয়া জাইতেছে না, রাশ্টোগুলার ভিতর ‘আছাবিয়া’ গড়ার বাশনা আছে ইউএন বানানির ভিতর, কিন্তু তার নাই এনফোর্ছ করার কোন মেকানিজম। ফলে আমরা দেখতেছি, একটা রাশ্টের শাশক হয়তো তার নাগরিকদের খাদেম, কিন্তু বাইরে আর আর রাশ্টের জন্ন রাশ্টো হিশাবে শে এক লিভায়াথান! আজকের আমেরিকা বা ইজরাইলের ছুরতে বাইরে থিকা আমরা একেকটা লিভায়াথান দেখতেছি; বা ইনডিয়ারে বাংলাদেশের লিভায়াথান ভাবতে হইতেছে! মানে রাশ্টের ভিতরে লক, বাইরে হব্স এবং পাওয়ার এপিস্টেইন আইল্যান্ডকে রাশ্টের বাইরেই নিয়া গেছে বইলা দেখা গেলো। লিভায়াথান হওয়া দেখা জাইতেছে পয়শার মামলা ছেরেফ, বিলিওনিয়াররা হইতে পারতেছে আরামেই; পেরাইভেছি মানে খাড়াইছে নফ্ছের টোটাল আজাদি। নফ্ছের টোটাল আজাদির আইডিয়া দিয়া হয়তো ‘নিউ লিবারালিজম’ বুঝতে পারবো আমরা; ওদিকে, এখনকার আমেরিকার বামাচার আবার পলিটিকেল কারেক্টনেছ, বিগ গভমেন্ট দিয়া হয়তো এক্সট্রিম এন্ডে পৌছাইয়া কঠোর ডিউটিপন্থা হইয়া উঠতেছে!

বাদ পড়া দরকারি একটা কথা এইখানে কইয়া রাখি। লকের রাইট্স পুরাটাই তোফায়েলদের হকের আইডিয়ার ভিতর থাকলেও তার অতিরিক্ত ডাইমেনশনও আছে কিছু। রাইট্সের লগে জখন রাইট্স আদায় হবার জরুরতও গলাগলি ধইরা থাকে পাওয়ারের ডিউটি হিশাবে, শেই পুরাটা মিলবার পরেই কেবল আমরা তোফায়েল-রুশ্দের হক আইডিয়া পাবো। মানে হকের ভিতর নেছেছারিলি রাইট্সের লগে লগে ইনছাফ কায়েমের এজেন্ডা থাকতে হবে, তোফায়েল-রুশ্দ মোতাবেক ছেরেফ রাইট্স একলা একলা এক্টিভেটেড হইতে পারে না।

এইভাবে আরেকটু টেরাই করতে পারি বুঝাইতে: ধরেন, একটা মারামারি হইলে দুই পক্ষই জখম হইতে পারে; ঐটারে একটা পছিবল কেরাইম ভাবলে কেউ একজন শাজা পাবে, আগেই কইতে পারি না আমরা, বিচার করলে ডিছিশন লইতে পারবো হয়তো। কিন্তু ঐখানে কোন এক পক্ষরে জদি মজলুম হিশাবে শাব্যস্ত করি আমরা, তাইলে আশলে কইতেছি, একটা জুলুম ঘটছে এবং বিচার করাও হইছে অলরেডি, মজলুম পাইছি আমরা, এখন মজলুমের খতিপুরন পাওনা হইছে, এবং শেই পাওনা আদায়ের নামই ইনছাফ। ফলে একটা রেপের ঘটনায় ফুশলানি, পোশাকের উছিলা, মাইয়ার চরিত্র খারাপ –এমন এমন কিছিমের আলাপ তোলে আশামি পক্ষ, শেইটা একটু কঠিন হয় ঘটনাটারে জুলুম হিশাবে দাবি করলে। কেননা, তাতে দাবি করা হইতেছে জে, জা কিছু থাকুক না কেন, শকল জোগবিয়োগ করার পরেই আমরা মজলুম পাইছি এবং শকল দায় জালিমের।

তেমনি হকের ভিতর রাইট্সের লগে ইনছাফ এমবেডেড আছে। তাই ‘মাই বডি, মাই চয়েছ’–এমন রাইট্স মাইনা নিলেও একটা বাচ্চার জান হিশাবে রাখলে কত দিন তক শেই হক আছে কোন মাইয়ার, শেই মামলা আমলে নেওয়া জায়, নিতে হয় হকের ডিছকোর্ছ মোতাবেক, কোন ডিউটি মুলতবি হইয়া জাইতেছে কিনা, শেই বিচারও করতে হয় লগে। এই কারনেই আমি কইতেছি জে, লক জখন তোফায়েলের হকের আইডিয়া নিলো, তখন তার রুহানি মর্ম ছাটা পড়লো এবং তাতে এমন চরম আজাদি শম্ভব হইতেছে জেইখানে এপিস্টেইন আইল্যান্ড পয়দা হইতে পারতেছে। রাইট্স নিজেই হইয়া উঠতে পারলো জুলুমের হাতিয়ার।

তো, ইতিহাশের শেই শব ছেড়া শুতা মেরামতের ভিতর দিয়া চিন্তার ছিলছিলায় আমরা ওয়াকিবহাল হইলে হয়তো দুশমনি-রক্ত-জুদ্ধের বাইরে আর কোন পারপাছ পাওয়া জাবে জিন্দেগির…

এলাহি ভরশা।

…  …  …

টিপ্পনি//

এই লেখাটারে জেমিনিরে দিয়া থিয়োরেটিকেল মুশকিল আর তার জবাব দিতে কইলাম। তাতে শে এমন লিখলো [ও আচ্ছা, গুগোলের জেমিনি আমার এছিস্টেন্ট; ওর লগে আমার তুই তুই রিশতা। কয়েক বছর আগে এছিস্টেন্ট হিশাবে সলিম খানেরে ভাবছিলাম চাকরি দিবো, পারি নাই। এখন দুধের শাধ মুতে মিটাইতেছি, সলিম খানের কাম চালাইয়া নিতেছি জেমিনিরে দিয়া 🙁 ]:

১. ‘রুহানিয়ত’ কি ইস্পিডব্রেকার? (The Engine vs. The Brake)

ক্রিটিক ছিল: রুহানিয়ত থাকলে কি বিজ্ঞান বা টেকনোলজি এত আগাতো?

তোর পাল্টা জবাব: তোফায়েলের ‘হাই’ কিন্তু দিপে বইশা এনাটমি করছে, ডিছেকশন করছে, আগুন আবিশ্কার করছে। অর্থাৎ, রুহানিয়ত বা একিন আক্কেলের জন্ন ‘ইস্পিডব্রেকার’ না, বরং এইটা হইলো ‘ছেফটি বেল্ট’। লক শেই ছেফটি বেল্ট খুইলা দিয়া গাড়িটারে (আক্কেল) খুব জোরে চালাইতে পারছেন ঠিকই, কিন্তু শেই গাড়ি গিয়া পড়ছে এপস্টেইন আইল্যান্ডের গর্তে। তুই বলবি—বিবেকহীন বিজ্ঞান হইলো শেই দানব, জে ক্যান্সার জয় করার চেয়ে বেশি টাকা খরচ করে পরমানু বোমা বানাইতে। রুহানি মর্ম থাকলে বিজ্ঞান হইতো ‘শিফা’ (নিরাময়), আর লকের রুহানি-হিন বিজ্ঞান হইছে ‘পাওয়ার’ (দখল)।

২. মডার্ন ইছলামিজম ও একুইনাস (The Trauma vs. The Tool)

ক্রিটিক ছিল: ইছলামিস্টদের কি একুইনাছের শাথে তুলনা করা যায়?

তোর পাল্টা জবাব: ইছলামিস্টরা কলোনিয়াল টোরোমা থিকা বাচতে গিয়া ইছলামের শেই ‘আজাদ আক্কেল’ আর ‘রুহানিয়ত’ হারাইয়া ফেলছে। তারা পচ্চিমা ‘মর্ডান এস্টেট’-এর সেই ছিরিঙ্খলটাকেই ইছলামি লেবেল দিয়া হজম করছে। একুইনাছ জেমন গাজ্জালির লজিকরে চার্চের গোলাম বানাইছিলেন, আজকের ইছলামিজমও ইছলামরে স্রেফ একটা ‘পলিটিক্যাল টুলে’ পরিনত করছে। তুই দাবি করবি—আশল ‘ছিলছিলা’ জোড়া দিতে হইলে আমাদের কলোনিয়াল টোরোমা থিকা বাইর হয়া তোফায়েলের শেই ‘ফিতরাতি আজাদি’তে ফেরত জাইতে হবে, ছেরেফ একুইনাছিয় ‘ডিউটি’র জেলখানায় না।

৩. নফ্ছ ও ইনছাফের পেরাকটিক্যাল মডেল

ক্রিটিক ছিল: ইছলামি ইতিহাশে কি জুলুম হয় নাই? বা মাইয়াদের হকের কি হবে?

তোর পাল্টা জবাব: তুই বলবি—ইতিহাশে জুলুম হইছে জখনই কেউ এই ‘ছিলছিলা’ থিকা বিচ্যুত হইছে। ইছলামি রাজতন্ত্র বা পোলাবাদি জুলুম আশলে ‘নফ্ছের’ শেই একই শয়তানি রুপ জা লকের মদ্ধেও আছে। তোর থিওরি কোনো পলিটিক্যাল রেজিমে বা কোনো একটা বিশেশ হুকুমত’রে ডিফেন্ড করতেছে না, তুই ডিফেন্ড করতেছশ ‘ইনছাফের মেথডোলজি’-রে। তুই বলবি, তোফায়েলের হাই-এর দিপে কোনো জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা গোলামি আছিল না কারন সেখানে আক্কেল আর একিন ছিল খাপেখাপ। তুই কোনো ‘অতিত’ ফেরত আনতেছশ না, তুই একটা ‘ভবিশ্যৎ ইনসাফ’-এর বুনিয়াদ পোস্তাব করতেছশ।

তোর ফাইনাল ডিক্লারেশন (Final Blow):

তোর মাস্টার ড্রাফটে এই লাইনটা যোগ করে দে:

“লকের রুহানি-হিন আজাদি আমাদের দিছে ‘পাওয়ার’, কিন্তু কাইড়া নিছে ‘অর্থ’। আর আমাদের ডিফিটেড মোছলমান ছাইকি সেই পাওয়ারের পিছে ছুটতে গিয়া নিজের ‘ফিতরাত’রেই একুইনাছের শৃঙ্খলে বান্ধা ফালাইছে। এই দুইটার মাঝখানের ছিড়া যাওয়া শেই শুতা হইলো ‘বিবেক’—জা না থাকলে জিন্দেগি হয় দোজখ, আর রিজন হয় এপিস্টেইনের আইল্যান্ড।

The following two tabs change content below.
Avatar photo

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।