পার্ট ১: বাংলাদেশের বা পূর্ব পাকিস্তানের এই জনপদের মানুষ কখনোই প্রো-ইন্ডিয়ান ছিল না
প্রশ্ন: ভাই, মব ও জনরোষটা দেখতেছিলাম, এবং আমি শুরুতে কিছু ডেফিনিশন দেখলাম কেমব্রিজ ডিকশনারি বা ব্রিটান্নিকার, তারপর আমি চ্যাটজিপিটির কাছে একটু গেলাম। জিপিটির কাছে জিগ্যেস করলাম, মব ও জনরোষের মূল পার্থক্যটা কী? ও আমাকে যেটা এট-আ-গেলন্স বলল, যে মব সবসময় সহিংস হয় এবং একটা ক্রাউড বা যে ক্রাউডটা ভায়োলেন্স সৃষ্টি করে, বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর জনরোষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সহিংস হয় না, কিন্তু সহিংস হতে পারে। সে আমাকে বলল আরকি…
আরেকজনের প্রশ্ন: মব যে নেগেটিভ, এর কনটেক্সটা নিয়া যদি বলি… ১৯৭১ সালে আমরা ধরে নিচ্ছি ৯০{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e} মানুষ প্রো-ইন্ডিয়ান। মানে ইন্ডিয়াকে ট্রাস্ট করতাম এবং এজ এ কান্ট্রি ইনডিয়া আমাদের কাছে ট্রাস্ট-অর্দি ছিল বাট ধীরে ধীরে আমাদের ভেতর যে ইনডিয়ার বিরুদ্ধে একটা নেগেটিভিটি তৈরি হচ্ছে, ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্টের এগেইনেসে্ট, এইটার যে কনটেক্সচুয়াল ব্যাকগ্রাউন্ড, কখন থেকে এটা তৈরি হচ্ছে? বা কীভাবে এটা তৈরি হচ্ছে?
রক মনু: একটু মাঝখান থেকে বলি… এই যে ধরে নিলেন না? আপনি কি সার্চ করছেন যে, ৭০ এর ইলেকশনে আওমি লিগ কত পার্সেন্ট ({0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e}) ভোট পাইছে? পূর্ব পাকিস্তানে আওমি লিগ কত পার্সেন্ট ভোট পাইছে? মানে, সবগুলা সিটে হয়তো জিতছে… কিনতু এমপি হওয়ার জন্য তো ৫০{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e} ভোট লাগে না! শুরুতে যা করতে হবে, কত পার্সেন্ট কাস্ট হইলো ভোট, সেই কাস্ট ভোটের ৩০{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e} ভোট একজন পাইলে সে এমপি হয়া যাইতে পারে! তাই না? আপনি যদি এইটা ভাবেন যে, অন্য কোনো ফ্যাক্টর বাদে, একদমই এন্টি-পাকিস্তান একটা মাইন্ডসেট থেকে আওমি লিগরে ভোট দিছে, এইটা যদি আমরা ধইরা নেই, আরও কিন্তু অনেক ফ্যাক্টর থাকে।
রিজিওনাল ফ্যাক্টর থাকে, ধরেন, আমি ওর প্রজা সেই কারণে ওর কথা আমার শুনতে হচ্ছে। আবার প্রার্থীকে আমার পছন্দ, বহুবিধ ফ্যাক্টর থাকে… যদি ধইরাও নেই যে, সবাই আওমি লিগের যেই ইশতেহার তা এন্টি-পাঞ্জাবি, নট এন্টি-পাকিস্তানি, খেয়াল করেন, ৭০’র ইলেকশন কিন্তু এন্টি পাকিস্তানি এটিচ্যুড না। আসলে যে সেন্টিমেন্ট ছিল তা এন্টি-পাঞ্জাবি। কারণ হচ্ছে পাকিস্তানের সব জায়গায় পাঞ্জাবিদের আধিপত্য। আর্মি থেকে আমলাতন্ত্র সব জায়গায়। ফলে এইটা কিন্তু আসলে পাকিস্তানের ভিতরে তার যে অনেকগুলা স্টেট আছে সেই স্টেটগুলার রেশারেশির ইলেকশন। নট এন্টি–পাকিস্তানি ইলেকশন। আওমি লিগের ইশতেহারে, ইভেন ৬ দফার ভিতরে কোনো ধরণের এন্টি-পাকিস্তান কোন কিছু কিন্তু ছিল না। এইটা একটু খেয়াল কইরেন যে, ৭০ এর ইলেকশনে বা তার আগে এন্টি-পাকিস্তানি কোনো ধরণের এজেন্ডা, এইটা আসলে ছিল না।
বেসিক্যালি যেইটা জিনিসটা আটার্ড করা হইতো, একটা হইতেছে যে মনের ভিতর কী আছে! ধরেন যে অনেকে তো বাংলাদেশ অনেক আগে বানাইতে চাচ্ছে, সেটা অন্য মামলা। কিনতু যেইটা আটার্ড করা হচ্ছে, সেইটা হচ্ছে, পাকিস্তানের ভেতর যে অনেকগুলা স্টেট সেই স্টেটগুলার ভেতর যে ঝামেলা, রেষারেষি — সেইটা। এবং সেইটার মূল এক্সপ্রেশন পূর্ব পাকিস্তানে ছিল এন্টি-পাঞ্জাব। কারণ পাকিস্তানের সব জায়গায় পাঞ্জাবি।
তো, তারপরে যদি আমরা ধইরা নেই যে, এই এন্টি-পাঞ্জাব মানেই হচ্ছে এন্টি-পাকিস্তানের কাছাকাছি একটা মিনিং যদি হয়ও, সেটা হচ্ছে যদি আমরা স্বীকার করি আওমি লিগের সকল ভোটার ওইটা দ্বারা মোটিভেটেড, এইটা বিলিফ করে, তারপরেও আসলে তারা কাস্ট ভোটের কত পার্সেন্ট? ৪০{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e}, ৫০{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e}? এখন ভোট কাস্ট হইছিল মনে করেন যে হয়তো ৬৭{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e}, দেখেন তাইলে কি হইলো? ১০০ জনের ভেতরে এই ৪০{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e} আসলে কতজন হয়? বুঝছেন? ফলে আমরা যখন ওই জেনারালাইজেশন করি, সেটা অনেক ধরনের ঝামেলা হয়ে যায়। ৯৫{0b4ea9d2842218ea83bdd5b62f85ecd3d00933ad686cadb5cda76a757304289e}, এটা রং।
এরপরে হচ্ছে যে আপনি বাংলাদেশে ৭১-কে ২টা প্রায়শই আলোচনায় দেখবেন – একটা হচ্ছে ধরেন, বাংলাদেশবাদী বাঙালি জাতীয়তাবাদী একটা, এন্টি পাকিস্তান একটা; আরেকটা হচ্ছে ধরেন এন্টি-ইন্ডিয়ান, প্রো-পাকিস্তান একটা। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে ঘুইরা স্পেশালি বয়স্ক লোকদের লগে আলাপ করবেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আলাপ করবেন না, অন্যান্য বিষয় লইয়া আলাপ করবেন — ওই টাইমটা নিয়া। প্রায়শই যেইটা দেখা যায় মানুষের সাথে যেই বিষয়ে আলাপ করেন, তখন ওই বিষয়ে তার রিয়াল ভাবনা আপনি সবচে কম বুঝবেন। যদি এই বিষয়ে আলাপ করেন। রিয়াল-ভাবনা বুঝবেন ওই বিষয়ে যদি আলাপ না করেন, তখন যদি ওইটা ইস্যু হিসাবে আসে, তার কথায়। তখন তার রিয়াল ভাবনা বেশি বুঝবেন। আপনারে যদি জিগাই উনি কেমন লোক? কিছুই উত্তর আমি তখন পাব না। এইযে আমি কালকে একটা ইয়ে দিলাম আপনারা লাভ ইমো দিলেন। ইমোতে আসলে কী বুঝি নাই।
আপনি যখন অন্য ইস্যুতে মিনি আলাপ করবেন আমার সাথেই, আপনি যখন আলাপ করবেন তখন হয়তো ওইটার কোনো রেফারেন্স আসলে তখন আপনি তার ভাবনাটা বুঝে যাবেন। যখন আপনি জানতে চান। ওইটাই যদি জানতে চান, তাইলে আপনি সবচে কম জানবেন, কারণ মানুষ চ্যাটজিপিটি না। এইটা একটা ইম্পরট্যান্ট ব্যাপার।
তো, যে কারণে বললাম এই যে মানুষের সাথে যখন আলাপ করবেন, প্রায়শই যেইটা পাবেন, অমুক হইছে গণ্ডগোলের ৩ বছর পরে। এখন, হোয়াট ইজ গন্ডগোল? খেয়াল করেন, একটা হচ্ছে যে নট প্রো-পাকিস্তানি নট প্রো-বাঙালি বা প্রো-বাংলাদেশ বা প্রো-বাঙালিজাতীয়তাবাদী — গণ্ডগোল এমন একটা ওয়ার্ড যেটার কোনোটাতেই সিচুয়েট করা যায় না। তাইলে গণ্ডগোল কী? এইটা এক নাম্বার। দুই নাম্বার হচ্ছে যে গণ্ডগোল এইটা আপনি ভাবেন, এইদিকেও না, ওইদিকেও না। তারপরেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে জয়েন করতে পারেন কিনা, মুক্তিযোদ্ধা হইতে পারেন কিনা? পারেন।
ব্যাপারটা কী? ব্যাপারটা হচ্ছে ধরেন, মানুষ ভাবল যে, পাঞ্জাবি আর বাঙালি – এদের একটা দ্বন্দ্ব সংঘাত। আমি তো একটা নিরীহ মানুষ, যে বিয়ে-শাদি করছি, বাচ্চা হইছে গরু ছাগল পালি হাঁস মুরগী আছে, মাছ ধর্ খাই। মাঝেমাঝে উদাস হই। একটু গান গাই। গরমেরমধ্যে বাতাসে বসি। ফট কইরা আমি দেখলাম যে পাকিস্তানি আর্মি। তারা হচ্ছে আমার গ্রামে আমার ঘরে আগুন দিছে। আমার মাইয়ারে ধইরা লইয়া গেছে। আমি এখন কী করব? এক হচ্ছে আমি শ্ত্রু চিনে ফেললাম না! যে আমারে এটাক করল, তার বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধে নামব না? আমি হচ্ছে যে তার বদলা নিব না?
দেখেন রিভেঞ্জ, বদলা এইগুলা হচ্ছে হিউম্যান সাইকোলজির প্রি-ফান্ডামেন্টাল জায়গা। দুনিয়ার সবচে হিট মুভিগুলা আপনি দেখেন, মুভি মানে হচ্ছে, যে কোনো ধরনের ফিকশন, সেইটার মেইন ইয়ে হচ্ছে কোনো একটা ইনজাস্টিস ঘটছে, তারপরে সেইটার বদলা নেওয়া। আইদার সে নায়ক হয়, যে হচ্ছে ওই বদলা নিজে নেয়। আইনের কিছু লোক নায়ক হয়, যে হচ্ছে অন্যের উপর হওয়া অবিচারের বদলা নিয়া দেয়—থ্রু আইন। ওই অর্থে যে, গণ্ডগোল ডিসকোর্সে, যদি ডিসকোর্স বলি, আপনারা ডিসকোর্স তো বোঝেন, ডিসকোর্স হচ্ছে, একটা ইস্যুকে ভেঙে আশপাশ দিয়ে যে ভাবনাগুলা এসোসিয়েটেড থাকে। একসাথে একটা ডিসকোর্স বলা যায়। একটা বললে আরেকটা বলে দেওয়া হয়। মানে হচ্ছে যেমন ধরেন, আমি বললাম, এইটা হারাম। এইটা একটা ওয়ার্ড ইউজ করছি, কিন্তু আসলে ডিসকোর্সে ঢুইকা গেছি। কী অর্থে? যে ইসলামের যে শরীয়া, আপনার ফতোয়া, মুফতি এদের অথোরিটি যেভাবে কাজ করে – যে কে এই কথাটা বলবে, এরপরে হচ্ছে আপনার ১৪০০ বছরের যে ইলমের সিলসিলা এরকম বহু জিনিস চলে আসে। কিন্তু আমি তো ইউজ করছিলাম একটা ওয়ার্ড। সেই অর্থে, যে এইটা একটা ওয়ার্ডটা মিনিংফুল হচ্ছে একটা সার্টেন ডিসকোর্সে। ভাবনার একটা টেরিটরি আছে। টেরিটরির মধ্যেই মিনিংফুল হয়। ওই অর্থে আর কি, এইটা ডিসকোর্স।
তো, বললাম যে গণ্ডগোল একটা ডিসকোর্স। যেইটা এইদিকেও না, বাঙালি জাতীয়তাবাদীও না; আবার অইদিকেও না, প্রো-পাকিস্তানও না। প্রো-পাকিস্তান কী? যেমন ধরেন যারা পাকিস্তান আর্মির সাথে জয়েন করছে, এইটা ধরেন এখন আমরা যে যেইভাবেই দেখি না কেন, তখন তো হচ্ছে যে এইটা তো রিয়াল যে আল-বদর আল-শামস রাজাকার এরা ছিল। তারা কারা ছিল? কে ক্রিমিনাল কে না — সেইটা অন্য তর্ক বা আওমি-লিগ কেমনে বিচার করছে বা ফাঁসি দিয়া দিছে। কিন্তু সে একটা মোটিভেশনেই গেছে, সে কিন্তু এইটা দেশপ্রেম হিসাবেই রিড করছে। অন্য দিকে ধরেন যে মুক্তিযোদ্ধা, তারাও দেশপ্রেমের জায়গা থেকেই করছে। কিন্তু দুইটা আলাদা বাহিনী, যারা উভয়েই দেশপ্রেম দ্বারা মোটিভেটেড। ওই অর্থে। তো, এই দুইটারই বাইরে হচ্ছে গণ্ডগোল ডিসকোর্স। এবং সেইখান থেকে মুক্তিযুদ্ধও করা সম্ভব। বাস্তবে এই মুক্তিযোদ্ধাই বেশি ছিল।
আপনি কি মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ট্যাম্প বা ওদের কোন ছবি দেখছেন? এই যে ধরেন আপনার এই লুঙ্গি পরা, কাছা দেওয়া, খালি-গায়ে, দেখছেন? এরাই বেশি ছিল। এবং যারা মুক্তিযুদ্ধ করতে পারত, বা যাদের সার্টিফিকেট আছে, এরা বেশি কলকতায় গিয়া ছিল — ইন্ডিয়ায়। এখনো ভাইগা ইন্ডিয়ায় গেছে না? একজাক্টলি এই সেইম ঘটনা ঘটছে। তখন ৭৫ এর পরে, এবং এখন। একজাক্টলি সেইম। এই যে মানুষজন। এরা বেসিক্যালি গণ্ডগোল ডিসকোর্সের লোক, যারা হচ্ছে আপনার ধরেন সার্টেন কতগুলা টর্চারের জবাব তারা কীভাবে দেবে? সেইটার ওয়ে সার্চ করতে করতে মুক্তিযুদ্ধে গেছে। এবং আওয়ামীলীগ এতটাই দখল করে রাখছিল যে ধরেন পাহাড়ের কিছু মানুষজন যারা বাঙালি না তারা মুক্তিযুদ্ধে যাইতে চাইছে, তাদেরকে নেয় নাই। আওয়ামী লীগ তাদেরকে নেয় নাই। এমন ঘটনাও আছে।
তো, এনিওয়ে। ফলে আপনি যেইটা বলছিলেন যে এন্টি-ইন্ডিয়ান হওয়ার জন্য, ব্যাপারটা এরকম না যে ৭১-এ অনেক বেশি প্রো-ইন্ডিয়ান ছিল, তারপরে এন্টি-ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট গ্রো করছে। ব্যাপারটা এরকম না।
কেন না? কারণ হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরও ভাগ ছিল। মুজিব বাহিনী ছিল। মুজিব বাহিনী হচ্ছে প্রো-ইন্ডিয়ান। আর তার বাইরে যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল তাদেরকে মুজিব বাহিনী খুন করত। মুক্তিযোদ্ধা বলতে কিন্তু আসলে একটা দল বোঝায় না। এগুলো হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের প্রচার। এবসোলুটলি ফলস। মুজিব বাহিনী, অন্য যে মুক্তিযোদ্ধা আছে, ওই যে বললাম যে চাকমা মারমা ওদেরকে নেয় নাই, ঢুকতে দেয় নাই। ভাসানীকে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধ সরকার এদের সাথে এসোসিয়েট হতে দেয় নাই। হোয়াই? ভাসানী হচ্ছে এন্টি-ইন্ডিয়ান। কিন্তু দেখেন, এন্টি ইন্ডিয়ান হইয়াও সে তো আসলে বাংলাদেশ চাইছে। ইন ফাক্ট, সবার আগে চাইছে। এবং সেই ফিফটিজে সে বলছে ওয়ালাইকুম সালাম। সে কিন্তু এন্টি-ইন্ডিয়ান। তার মানে হচ্ছে এন্টি-ইন্ডিয়ান হইয়াও একটা এন্টি-পাঞ্জাবি পজিশন আপনি নিতে পারেন।
এটা কিন্তু খুব ফান্ডামেন্টাল জায়গা, বুঝবার জন্য যে, তার মানে ৭১-এ আপনার প্রো-ইন্ডিয়ান হওয়ার দরকার নাই। ইভেন শেখ মুজিব নিজেই প্রো-ইন্ডিয়ান না আসলে। পারসোনালি কিন্তু সাম্প্রদায়িক লোকও ছিল। হিন্দুদের মালু বইলা গালাগালি করত। এবং সে এদেরকে লাইক করত না। সে তো হচ্ছে ধরেন যে ফর্টি সিক্সে রায়টও করছে। কলকাতায় সে রায়টও করছে। সে তো পাকিস্তানের মুভমেন্ট করছে, কেবল মাত্র এইটা কেবল পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড ছিল। মন থেকেই তার, ভিতরে এইটা ছিল। এইজন্য আমার যেইটা এনালাইসিস হচ্ছে যে, বাংলাদেশের মানুষ এন্টি ইন্ডিয়ান বইলা মুক্তিযুদ্ধ করছে বা বাংলাদেশ বানাইছে।
কেন? কারণ ফান্ডামেন্টাল জায়গা হচ্ছে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ, যেই সময় বাংলাদেশের মুসলমানরা, তারা ফিল করল যে তারা যেই কারণে পাকিস্তান বানাইছিল, পাকিস্তান বানাইছিল সিকিউরিটির জন্য, ইন্ডিয়ার হাত থেকে সিকিউরড থাকার জন্য, কিন্তু ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে দেখা গেল যে পাকিস্তান তার সিকিউরিটি নিয়া আদৌ চিন্তা করে না! তারে হচ্ছে যে যেকোনো সময় ইন্ডিয়া দখল করে নিতে পারে! তখন সে বলছে যে তার সিকিউরিটি তার নিজের লাগবে। এই কারণে ৬দফার লাস্ট দফাটা আপনি দেখবেন সেইখানে হচ্ছে রিজিওনাল মিলিশিয়া-টিশিয়া এইসব জিনিস — এইটা হচ্ছে কারণ।
তো, ফলে আসলে বাংলাদেশের বা পূর্ব পাকিস্তানের এই জনপদের মানুষ কখনোই প্রো-ইন্ডিয়ান ছিল না। ইন্ডিয়া যদি মুসলমানদের দখলেও থাকে, তা-ও প্রো-ইন্ডিয়ান ছিল না। দেখেন যখন মোগল শাসন ছিল তখনও এই জায়গায় ঈসা খাঁ বিদ্রোহ করছে না? দিল্লিতে যখন সালতানাত তখন বাংলাদেশে বাংলায় একদম স্বাধীন সালতানাত কায়েম করছে। এবং দিল্লির সাথে অলওয়েজ এখানে যুদ্ধ হইছে। ফলে ওইখানে হিন্দু থাক, মুসলমান থাক, খ্রিস্টান থাক, কিছু যায় আসে না। এই জায়গার মানুষ অলওয়েজ চাইছে নিজে নিজেকে ম্যানেজ করবে। শাসন খারাপ ওয়ার্ড। ম্যানেজ করবে। সে কখনোই আসলে ইন্ডিয়া বলেন, দিল্লি বলেন, প্রো-ইন্ডিয়ান ছিল না।
পার্ট ২: বিচারপতির বিচার করবে কারা?
এখন এই আলোচনা আনরিলেটেড — তা না, এইটা রিলিটেড কোন জায়গায় বলি, এই যে মুক্তিযুদ্ধের আগে একটা মুভির মেবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় জনপ্রিয় ছিল একটা গান আছে – ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে সেই জনতা’। এই যে জনতা, এই জনতার লগে মবের ডিফারেন্স কোথায়?
এই যে ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা’ – এইটার ভিতরে তো, এইটা কিন্তু ডিসকোর্স, এই অর্থে যে এইখান দিয়ে শুরুতেই যেইটা বলা হলো, বিচারপতির যেইটা করবার কথা, সেইটা কিন্তু বিচারপতি করতেছে না। এইটা কিন্তু শুরুতেই এই দাবিটা আছে। সেই কারণে বিচারপতির বিচার করার দরকার হয়ে পড়ছে। এই বিচারটা কে করবে? জনতা। এইটা করবার আর তো কোনো অথরিটি নাই। কারণ সেই তো বিচারক রাষ্ট্রের। কারণ বিচারকদের উপরে অথরিটি বা এখতিয়ার কার? একটা তো হচ্ছে একদম সুপ্রিম। গড। সেইটা একটা।
কিন্তু যদি দুনিয়াবি জায়গায় আসি, দুনিয়াবি জায়গায় বিচারপতি সে তো সর্বোচ্চ জায়গায় বসে আছে বিচারকের পদে, কাজীর পদে। তার বিচারের অথরিটি, তার বিচারের এখতিয়ার হচ্ছে পিপলের। এইটা হচ্ছে ধরেন ডেমোক্রেটিক স্টেটের ফান্ডামেন্টাল। যে ডেমোক্রেটিক স্টেটে সাভ্রেন অথোরিটি হচ্ছে পিপলের। নোবডি এলস। এখন বিচারপতি যদি বিচার না করে তাইলে তাকে কে পানিশমেন্ট দিবে? তার বিচারটা কে করবে বা আদৌ বিচার তো পরের কথা যে ক্রাইম হইছে, যেইটার বিচার সে করলনা, সেই বিচারটা কে করবে?
তথা একটা রাষ্ট্রের বুনিয়াদ—ফান্ডামেন্টাল এজেন্ডা যদি হয় ইনসাফ কায়েম করা, জাস্টিস কায়েম করা, ন্যায় বিচার কায়েম করা, সেইটার জন্যই তো হচ্ছে যে একটা রাষ্ট্র হচ্ছে জাস্টিস সিস্টেম আদালত বিচারক এইগুলা বানায়। পুলিশ ইত্যাদি এই জিনিসগুলা বানায় কে? সরকার বানায়। তো তারা যদি সেইটা না করে, তখন পিপল কী করবে? পিপলের ওয়ে কী? এইটা হচ্ছে ফান্ডামেন্টাল কোয়েশ্চেন। এক, সাভ্রেন অথোরিটি হচ্ছে পিপলের, এবং পিপল স্টেট বানাইলো এই করবার জন্য। স্টেট তাকে হচ্ছে যে জাস্টিস দিবে, তার উপর যে ক্রাইম হইছে। এবং তার যে হক, রাইটস, অধিকার—যেটাই বলেন না কেন—কাছাকাছি শব্দ, অনেকসময় যেটা হয় যে, ভাইবা নিই যে অমুক ল্যাঙ্গুয়েজের শব্দ ইউজ করছে, সে আসলে ডিফ্রেন্ট কিছু বলতেছে। আসলে তা না। ইনসাফ, ন্যায় বিচার, বা কেবলমাত্র বিচার, ন্যায়বিচার কথাটা একটা ফাউ কথা, কেন ফাউ কথা? বিচার মানেই ন্যায়। কারণ বিচারের উল্টাতো হচ্ছে অবিচার।
তার মানে বিচার মানেই হচ্ছে জাস্টিস। যেকারণে ওর নাম বিচারক, ওর নাম কেন ন্যায়বিচারক না? ন্যায়বিচার যদি দরকার হইতো, তাইলে তো নাম হওয়া দরকার ছিল ন্যায় বিচারক। কেন কেবল বিচারক? বিচার মানেই হচ্ছে জাস্টিস। বিচার, ন্যায়বিচার, জাস্টিস, রাইটস, অধিকার এইগুলা সেইম। এইগুলা মোর অর লেস সেইম। কিছু কিছু ব্যবহারে লম্বা সময় ধরে আলাদা আলাদা জায়গায় ইউজ হয়, তখন বাক্যে কিছু কনটোশন ঢুইকা পড়ে এইটার ভেতরে। শব্দের ব্যাপারে মিনিংয়ের কনটোশন নিয়া কনসার্ন বা চিন্তা ভাবনা করতে পারেন। একদম বেহুদা জিনিস, তা না।
কী অর্থে যে, কতগুলা শব্দ আছে যেইটা আসলে যেইখান থেকে আসছে ওইখানে ওইরকম মিনিং ছিল না। হিন্দি বা উর্দুকে দুইটা শব্দকে চিনতে পারেন একটা হচ্ছে ধান্দা অথবা মতলব। হিন্দি বা উর্দুতে এইটা কী মিন করে? ব্যবসা, কাজ, জব। যেটাই মিন করুক না কেন ডেফিনেটলি নেগেটিভ কিছু না। মতলব অর্থ হচ্ছে মানে, মিনিং। ধান্দা হচ্ছে, কাজকাম। ধান্দা মানে এইটা চাকরি হতে পারে ব্যবসা হতে পারে। এখন বাংলাদেশে চিন্তা করেন, বাংলায় এইটার অর্থ কী?
যেইটা আমি বলি যে এই জনপদের মানুষ যেই সেলফ গভর্মেন্সের ট্রাই করছে এইটা লিঙ্গুয়িস্টিক এক্সপ্রেশনের ভিতরেও আছে। যেমন ধরেন হিন্দিতে বা উর্দুতে আপনার যে ধান্দা মতলব এটা তো পজিটিভ মিনিং। এইটা বাংলায় আসার পরে এইটা অটোমেটিক্যালি সামথিং নেগেটিভ কিছু একটা হইছে। এইটা দিয়া আপনাকে আসলে কাইন্ড অফ আপনাকে হচ্ছে পাঞ্জাবি টাইপের কিছু একটা বলা হচ্ছে হিন্দি বা উর্দু ওইদিকের। আরও সিরিয়াস এক্সাম্পল হয় যেমন ধরেন যে, হিন্দি বা উর্দুতে বাল কী? চুল। কিন্তু বাংলায় আমরা যেইটা করছি যে লোমের ভেতরে হেয়ারের ভেতরে যে নিকৃষ্ট জিনিসটা সেইটার সাথে এসোসিয়েট করছি। এইটা কাইন্ড অফ হচ্ছে যে পিপলের রেজিস্ট্যান্স। আমি যেভাবে দেখি পিপলের রেজিস্ট্যান্স। আমরা কীভাবে রেজিস্ট করি বা পিপল কীভাবে রেজিস্ট করে।
এই যে পিপলের রেজিস্ট্যান্স, পিপল তো রাষ্ট্র বানাইছে তাই না? রাষ্ট্র বানানো মানেই তো হচ্ছে সে জাস্টিস সিস্টেম বানাইছে, সরকার বানাইছে, এই বানাইছে সেই বানাইছে। তার কতগুলা কাজও আছে। কিন্তু কাজটা সে করতেছে না। কিন্তু পিপল সেইটা যখন করে, তার অরগাইজড ফোর্সড তো ছিল স্টেট, জাস্টিস সিস্টেম। তো তারা যখন করে না, তার মানে কী? তারা অরগানাইজ ফোর্সড যেইটা বানাছিল তারা সেই কাজটা করতেছে না। পিপল যখন তার সভ্রেন্টি ক্লেইম করতে যায়, সে তো অটোমেটিক্যালি আন-অরগানাইজড হয়া যায়। তার তো অর্গানাইজড ফর্ম তো এইটা। এইটাও তো পিপল। অর্গানাইজেশন তো পিপলের বাইরের কিছু না। পিপলই তো এইটা বানাইছে। বানাইছে হচ্ছে যে ধরেন, আপনি যদি ফান্ডামেন্টালি চিন্তা করেন, জাস্টিস সিস্টেম কেন দরকার? ধরেন ওর ওপর আমি একটা অন্যায় করছি, কোন জাস্টিস সিস্টেম নাই, ও হচ্ছে আমার ওপর প্রতিশোধ নিবে। ও যদি দুর্বল হয়, দুর্বল প্রতিশোধ নিতে পারবে? পারবে না তো। কিন্তু ওর তো আসলে এই ন্যায়বিচার বা বিচার, ইনসাফ এইটা তো পাওনা। আমার কাছে, আমি ওর উপর অন্যায় করছি মানেই তো আমি ওর কিছু একটা কাইড়া নিছি। এই পার্ট কে আদায় করে দিবে?
দুই নাম্বার হচ্ছে ধরেন যে, ধরেন ও শক্তিশালী আমি কিছু একটা করছি। আমি চুরি করছি ওর কিছু। ধরার পরে আমি যে ক্রাইমটা করছি, আমার শাস্তি হওয়ার কথা মনে করেন যে পাঁচ বছর কিন্তু ও যেহেতু শক্তিশালী এবং আমি ওর এগেনেস্টে কাজটা করছি, ও আমাকে ঘেন্না করে, সেখান থেকে ও যখন এইটা নিজে করবে তখন ওইটা সাত বছর হয়ে যেতে পারে। তাইলে এইটা ইনজাস্টিস হয়া গেল না? এইজন্য হচ্ছে যে থার্ড একটা জিনিস দরকার। ওর প্রতি যার কোনো বাড়তি পিরিত নাই। আমার প্রতিও তার বাড়তি পিরিত নাই। যাতে সে এই পাঁচ বছরের শাস্তিটা দিতে পারে। এই কারণে হচ্ছে যে এই অর্গানাইজেশন বানাইছে।
আরও কারণ আছে। আরও কারণ হচ্ছে যে ধরেন আমরা যেই কয়জন, এইখানে ৭ জন আছি। ৭ জন ধরেন ৭ রকমের মোরাল স্ট্যান্ড থাকতে পারে, ঠিক অঠিক এইটা আলাদা ইয়ে করতে পারে। এখন আলাদা আলাদা মোরাল স্ট্যান্ডার্ডে আমি আপনার লগে কিছু একটা করলাম, আমার মোরাল স্ট্যান্ডার্ডে ক্রাইম না, আপনার মোরাল স্ট্যান্ডার্ডে ক্রাইম। তাইলে আপনার মনে হচ্ছে যে, এইটা জুলুম হইছে। আমার মনে হইছে যে আমি কিছু করি নাই। আপনার মনে হচ্ছে আমার শাস্তি পাওনা। আমার মনে হচ্ছে আমার কোনো ক্রাইম নাই। ঠিকই করছি। এখন এই আলাদা আলাদা মোরাল স্ট্যান্ডার্ড—এইটার ফয়সালা কে করবে?
এই দুইটা কারনে হচ্ছে যে এক হচ্ছে, বিচার করতে গিয়ে অবিচারের সম্ভাবনা রদ করা। আরেকটা হচ্ছে ডিফরেন্ট মোরাল পজিশন, এইটা ম্যানেজ করা। চুক্তি ক্রিয়েট করা। স্ট্যান্ডার্ডের ভেতর একটা বাড়তি পজিটিভ বা উচ্চতর সেন্স আছে। একটা পিস ট্রিটি করা। যে ওকে, আপনিও জানেন এইটা আপনার মোরাল, আমিও জানি এইটা আমার মোরাল—আপনি আমি চুক্তি করলাম। তোমার যেটাই মনে হোক না কেন বা আমার যেটাই মনে হোক না কেন। এই সীমার এইপাশে গেলে জুলুম হইছে, এই সীমার এইপাশে থাকলে জুলুম হয় নাই। পাশাপাশি বারের দুইটা সীমানা নির্ধারণ করা। এই যে সীমানাটা, এইটা হচ্ছে জাস্টিস সিস্টেম। এই ২টা কারণে হচ্ছে জাস্টিস সিস্টেম দরকার।
এখন যখন পিপলের সভ্রেন্টি এইটা যখন চর্চা করে, এর অর্থ এই না সে আসলে জাস্টিস সিস্টেম চায় না। তার অর্থ এই, তাকে এইটা দেওয়া হচ্ছে না। সেটা সে চাচ্ছে। পিপল আসলে জাস্টিস সিস্টেমকে প্রেশার দেয়। ওই যে গানটা – বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা, এইটা যতটা বিচারককে মারার ইচ্ছা, তার তুলনায় বিচারক যাতে ঠিক বিচারটা সেই জন্য প্রেশার দেওয়া। উইথআউট প্রেশার, কে কবে কী করছেবলেন তো? আল্লারে তো প্রেশার দিয়ে দেওয়ার কিছু নাই, তাই না? তার জাজমেন্ট তো অলওয়েজ সহিহ। ফলে ওইটা অন্য আলাপ। এই বাংলায় একটা কথা আছে, না কানলে মায়েও দুধ দেয় না — এরকম আছে না? তার মানে চিন্তা করেন, এই পারসুয়েশন, পারসুয়েসিভ, কে কবে কী দিছে?
আপনি বাংলাদেশের এক্সাম্পল যদি দেখেন, যখন হচ্ছে কোনো একটা জিনিসে পিপল খেপে গেছে, তার যে সভ্রেন্টি সেটা যখন সে ক্লেইম করতে গেছে, তখন হচ্ছে স্টেট নড়েচড়ে বসছে, না এইটার জন্য তো কিছু একটা করা দরকার। তার আগ পর্যন্ত হচ্ছে যে এইটা কোনো ব্যাপারই না — চলতেছে চলুক — এরকম।
এই ধরেন হাসিনার সময় যে মুভমেন্ট হইল, বেতালে পইড়া তোমরা আসো, আমি তো আসলে মাইনা নিছি তোমাদের কথা। এইরকম হইছে না? এখন তাইলে তোমাদের আন্দোলনের কারণ কী? ২০১৮তেও মাইনা নিছিল। লিটারেলি বলছে, আমি তো মাইনা নিছি তোমাদের তাইলে আর পয়েন্ট কী? তোমরা ক্লাসে যাও, ঘরে যাও। এইটার মানে কি? পিপল এই যে প্রেশার দেয়, এইটাকে যারা হইতেছে স্টাবলিশমেন্টের পক্ষে, স্টাবলিশমেন্ট বলতে কিন্তু দুইটা মিন করে আসলে। রিয়েলি স্টাবলিশমেন্ট বলতে মিন করার কথা আসলে এই যে ইন্সটিটিউশনটা। জাস্টিস সিস্টেম, সরকার এইটা। যাদের অথরিটি তাদের বাই ডিফল্ট আছে তা না, পিপল তাদেরকে বসাইছে, পিপল তাদেরকে অথরিটি দিছে এই কাজটা করার। স্টাবলিশমেন্টের পক্ষে হওয়ার কথা আসলে এইটা — যে এই ইন্সটিটিউশনের পক্ষে। কিন্তু আরেকটা মিনিং হচ্ছে ইন্সটিটিউশন তো আছেছ তার পোস্টগুলা চেয়ারগুলায় তো কতগুলা লোকই বইসা আছে। সেই লোকগুলার যে ব্যক্তিগত খায়েশ, এজেন্ডা — সেইটা দিয়া তারা ইন্সটিটিউশনকে ইউজ করে।
স্টেট তো একটা ইন্সটিটিউশন, সেইখানে বসে হচ্ছে হাসিনা। তারপরে সে হচ্ছে তার মতো করে ইউজ করছে। ফলে হচ্ছে তার এগেনেস্টে রিভল্ট করতে হইছে। তো, এইটা স্টেটের এগেনেস্টে রিভল্ট নাকি হাসিনার এগেনেস্টে রিভল্ট? হাসিনা ক্লেইম করতে চাইছে, অলওয়েজ পদে যে ব্যক্তিটা থাকে, সে ক্লেইম করতে চায়, এরা স্টেটের এগেনেস্টে বিদ্রোহ করতেছে। ফলে কিন্তু ওই যে দেশদ্রোহী মামলা, সেরিশন মামলা, এই ধরনের জিনিসপত্র আসে। তার মানে হচ্ছে যে জালিম, সে অলওয়েজ ক্লেইম করে, তার এগেনেস্টের মুভমেন্ট হচ্ছে স্টেটের এগেনেস্টের মুভমেন্ট। এইটা সে ক্লেইম করে। কিন্তু এইদিকের লোক অলওয়েজ ক্লেইম করে যে, ও জালিম, আমি যে ইন্সটিটিউশনটা বানাইছি সেইটা সে দখল করে রাখছে। আমার মুভমেন্ট হচ্ছে ওর এগেনেস্টে। আমি ওরে সরায়া যেইটা আমার মালিকানার, আমার এখতিয়ারের, সেইটা আমি আমার মালিকানায় নিব। সে তো বেদখল কইরা আছে। হাসিনা তো অইটা বেদখল কইরা আছে।
কেন হচ্ছে ১৪, ১৮, ২৪ ইলেকশন এইটা ইম্পর্ট্যান্ট? এইটার বেসিসেই আমরা বুঝতে পারব হাসিনা বেদখলকারী। ইলেকশনগুলা তো হয় নাই। ইলেকশন হচ্ছে সে যে ওই পদে থাকার ব্যাপারে পিপলের যে পারমিশন আছে, সেইটা বোঝার উপায়। এই কারণে হচ্ছে লেজিটেমেট ইলেকশন। কারণ ইলেকশনই হচ্ছে লেজেটেমেসিটা দেয়, সে ওই জায়গায় থাকবে কি থাকবে না। তার মানে হচ্ছে স্টাবলিশমেন্ট ২টা, একটা হচ্ছে যে, যেই ব্যক্তি মানুষটা বইসা থাকে, সে হচ্ছে ইন্সটিটিউশনকে দখল কইরা ইউজ কইরা অন্যদেরকে দমাইতে করতে চায়। আর পিপল যখন তার সভ্রেন্টি ক্লেইম করতে যায়, তখন সে স্টাবলিশমেন্টের, মানে হচ্ছে যে ইন্সটিটিউশনের বিপক্ষে বিদ্রোহ করে না। সে বিদ্রোহ করতেছে ওই ইন্সটিটিউশন যে বেদখল কইরা তার ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেছে—তার এগেনেস্টে করতেছে।
তাইলে আপনি চিন্তা করেন যে পুলিশ একটা ইন্সটিটিউশন, আদালত একটা ইন্সটিটিউশন। পিপলের কমপ্লেন হচ্ছে, এই ইন্সটিটিউশনগুলায় যে লোকগুলা বইসা আছে, এই লোকগুলা দখল কইরা তার নিজের এজেন্ডায় ইউজ করতেছে। ফলে পিপল যেই আগ্রহ থেইকা ইন্সটিটিউশনগুলা বানাইছিল, সেই জিনিসগুলা সে সার্ভ করতেছে না। এই কারণে পিপল হচ্ছে এই মানুষগুলারে ওইখান থেকে খেদাইতে চায়। হাসিনাকে খেদাইছে। এবং তার মানে হচ্ছে, পিপলের এইটা হচ্ছে ইন্সটিটিউশনগুলা ঠিক করার লড়াই। সে এইটা করতেছে হচ্ছে, ইন্সটিটিউশনের যা করবার কথা, সে সেইটা করতেছে না। ফলে ইন্সটিটিউশনকে প্রেশার দেওয়া। ইন্সটিটিউশনকে ঠিক করার চেষ্টা করা। ওইখানে যে বেদখলকারী ব্যক্তিগত এজেন্ডা ফুলফিল করা যে লোকগুলা আছে, দুই নাম্বার, তাদেরকে খেদায়া ইন্সটিটিউশনকে তার যেইটা করবার কথা সেইটা করতে বাধ্য করতে চায়।
এই লোকগুলা যখন এদেরকে নক দেয়, নক। এইটা হচ্ছে মূল খেলাটা। বেসিক্যালি ২টা, একদিকে পিপল, অন্যদিকে হচ্ছে দখলদার — একজন আরেকজনকে ডি-লেজিটিমাইজ করার স্ট্রাগল করতেছে, এই এই ওয়ার্ড গেইমের এই এইটার ভেতর দিয়া। এই ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে এই জায়গা থেকে। ফলে আপনার এই পিপলের, এই যে দখলদারদের পক্ষ যারা তারা হচ্ছে এরকম ওয়ার্ডগুলা ইউজ করে। এখন অন্য একটা জিনিস এখানে বোঝাবুঝির দরকার আছে। একটা তো বললাম, যে বিচারপতি। তাইলে ওইখান থেকে আমরা বলতে পারি যে যারা হচ্ছে ওই কথাটা বলে, তাদেরকে মব-টব ইত্যাদি বলে, তারা আসলে আমরা যেটা করব হিট করার জন্য। একদম জায়গা মতো হিট করা — সেটার জন্য। তারা লিখবে যে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি’। কেন? কারণ হচ্ছে এই যে বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, ওরাই হচ্ছে — আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ, মুক্তিযুদ্ধকে ইউজ করতে চাচ্ছি তা না — যেহেতু এরকম একটা ডিসকোর্স আছে — ফলে ওরাই হচ্ছে আসল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। কারণ এই গানের যে এসেন্স, সেই গানের থেকে এইটা হইছে। এবং সেই এসেন্সটার ওরা বিরোধিতা করে। ও এই গানের যে জনতা, সেই জনতাকে ও বলতেছে মব। নেগেটিভ অর্থে মব।
ফলে ও আসলে মুক্তিযুদ্ধের যে মর্ম, সেই মর্মের বিরোধিতা করতেছে। এবং বিরোধিতা কইরা পিপল জনগণ নাগরিক সে তার সভ্রেন্টি থেকে যে ইন্সটিটিউশনগুলা তৈরি করছে তাকে সার্ভ করার জন্য, সেই ইন্সটিটিউশনগুলা দখলদার দখল করে রাখছে। তারপর তার ব্যক্তিগত এজেন্ডা ফুলফিল করতেছে। তারে বাধ্য করতে চাচ্ছে পিপল, এই লোকগুলা যারা মব বলে গালাগালি করে, এরা হচ্ছে এই দখলদারদের পক্ষ হইয়া, ওই জনতাকে এবং এই জনতাকে ভিলিফাই করতেছে। এইটা হচ্ছে তার প্রটেস্ট। ফলে ওই লোকগুলা ইন্সটিটিউশনের পক্ষের লোক না। ইন্সটিটিউশনের রিয়েল পক্ষের — আদালত জাস্টিস সিস্টেমের — লোক হচ্ছে এই পিপল। যে হচ্ছে ইন্সটিটিউশনের ওপর প্রেশার দিচ্ছে, ইন্সটিটিউশনকে ঠিক হওয়ার জন্য। আর এই লোকগুলা যারা ইন্সটিটিউশনের বেদখলকারী দুই নাম্বার লোকেরা দখল করে রাখছে, তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই যে যারা রিয়েল প্রেশারটা দিচ্ছে তাদের ভিলিফাই করতেছে।
আমি কি বুঝাইতে পারতেছি, কীভাবে হচ্ছে যে এজ এ ন্যারেটিভ কীভাবে আমাদের স্টাবলিশ করার জায়গাটা আসবে। ফলে এইভাবে হচ্ছে যে এই জনতা সেই জনতা কানেক্ট করা। এবং ইন্সটিটিউশন এবং তার যে পদাধিকারী, পোস্টে যে বইসা আছে সেই ব্যক্তি মানুষটা তাদেরকে ডিজ-এসোসিয়েট করা আলাদা করা।
ব্যক্তি মানুষটা আর ইন্সটিটিউশন দুইটা দুই জিনিস। বিচারক এবং তার চেয়ার দুইটা দুই জিনিস। আদালত হচ্ছে ইন্সটিটিউশন, নির্বাচন কমিশন হচ্ছে ইন্সটিটিউশন। নুরুল হুদা তো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনার। এই নুরুল হুদাই কি ইন্সটিটিউশন? নো। সে হচ্ছে পিপলের যেই প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের বেদখলকারী। তার মালিক হচ্ছে হাসিনা। হাসিনা দ্বারা ইমপাওয়ার্ড হইয়া, নট বাই পিপল। ইমপাওয়ার্ড বাই হু? হাসিনা। নট বাই পিপল। হাসিনার দ্বারা ইমপাওয়ার্ড হইয়া পিপলের এগেনেস্টে পিপলের ইন্সটিটিউশন সে দখল কইরা রাখছে। ফলে এই জিনিসটা হচ্ছে আলাদা করা। পিপলকে স্টাবলিশ করা, পিপলের সভ্রেন্টির কথা বলা, সে সভ্রেন্টি কীভাবে প্র্যাকটিসড হবে সেই আলাপটায় যাওয়া। এবং যারা এই দখলদার তাদের পক্ষের লোকেরা কীভাবে পিপলকে ভিলিফাই কইরা তারপর পক্ষের লোকদের স্বার্থ হাসিল কইরা দিতে চায়। সেইটাকে ইন্ডিকেট করা।
এইটা হচ্ছে কোনো একটা ইন্ডিভিজুয়াল ঘটনায়, কারো হাত ভাঙলো, পা ভাঙলো, এইটা ডাজন্ট মেটার। আসল ব্যাপারটা হচ্ছে এই থিওরেটিক্যাল ও ন্যারেটিভের স্ট্রাকচার সেইটা হচ্ছে জিনিস। আপনারা যদি জাস্টিস সিস্টেম নাড়াচাড়া করেন, স্পেশালি ইউরোপে, হলিউডের মুভি-টুভিতে, দুইটা জিনিস আছে। এক হচ্ছে, আপনারা দেখছেন কখনো? একটা হচ্ছে, জাজ আরেকটা প্যানেল থাকে। জুরি বোর্ড। কনসেপচুয়ালি এইটা আসলে কী? এবং কীভাবে এইটা কাজ করে? এইটা কিন্তু এইখানেও ছিল। শুরুতে ছিল, পরে এইটা তুলে দিছে। ইংরেজদের শুরুতে ছিল, পরে এইটা তুলে দিছে। এইটা একটু বুঝার দরকার আছে…
(চলবে…)
[অডিও থেকে ট্রান্সস্ক্রাইব করছেন হোসাইন হানিফ]
রক মনু
Latest posts by রক মনু (see all)
- অ্যা টেল অব টু আইল্যান্ডছ্ - মার্চ 30, 2026
- মব নিয়া আলাপ – লাস্ট পার্ট (জুন ২৪, ২০২৫) - ডিসেম্বর 23, 2025
- মব নিয়া আলাপ – পার্ট ১ (জুন ২৪, ২০২৫) - নভেম্বর 11, 2025