এমন মিথের দুনিয়ার সাথে আজকে আমার এলহাম হইসে, যেই ঘটনা সবাই জানত
কিন্তু তারে কখনো এমনে ভাবতে শিখে নাই,
যারে নতুন লজিক, নতুন ফিকির
আর ভাবনার ফিরিস্তি দিয়া
আগের মিথের এলগরিদম থিকা নামায়া আনতেসি
আমাদের কাছে

আমি ইসরাইলি রেওয়ায়েতের দিকে আমার ঘোড়ার রুখ ঘুরায়া দিসি,
আমি হাটব সালমান ফারসির মতো লম্বা হায়াতের মানুশের ওরাল কাহিনির জার্নি দিয়া,
সাথে নিব মউজু হাদিস,
সাথে নিব আলিফ লায়লা,
আর সিরিয়ার সেই গোত্রের লোকদের কথা,
যার ভিতর দিয়া গ্রিক রোমান জুডিও ভাবনার ভিতর মধ্য এশিয়া তার উইজডম ঢুকায়া দিসে

আমি একটা জিনিসই চাইসি এশিয়ার রুহটারে ভালোভাবে আবিষ্কার করতে

অনেকের সাথে দেখা হইল,
কেউ লম্বা কি সুন্দর,
একজন কালো তার রিদয় কয়লার মতো চিকচিক করতেসে,
যেন আর কয়দিন গেলে হিরা হয়া যাবে,
আরেক পিঠে টিউমার, কুজা হয়া হাটে,
আরেক নারি, যার ভিতর থিকা সেক্সের মউমউ করা সুরভি আসতেছে

আমারে ওরা কোথায় রাখবে বুঝতেসে না,
বলতেসে, কারা আইসা আমারে লুটপাট কইরা দিবে
আমি যদি লুকায়া থাকি পাহাড়ের চিপায়,
অথবা গার্হস্ত বাগানে ফসলের সাথে,
নাহলে ভেলা বানায়া দিবে এই সুদির্ঘ নদির দেশের ভিতর দিয়া আমি যেন ঝিরির পথে পথে খুজি বনের খাবার,
আমি অদের কথা শুনব নাকি লেখার ভিতর দিয়া চাইরপাশে এক দেয়াল বানাবো!

আমারে ডাকতেছে লম্বা সময়ের ইতিহাস,
নবি ঈসা তখনো জন্মায় নাই,
তার বহু আগে আমার উরুক শহর থিকা বেশকিছু মেমোরি রয়া গেসে,
তারে আশ্রয় কইরা আসছে আরব যোদ্ধাদের কাহিনি,
যারে ইউরোপ দন কিহোতে বানায়া ফেলসে

আমার জন্মের সময় আমার মা তার মুখ থিকা ওজু করা ফু দিয়া আমার রুহটারে জগতের সাথে যোগাযোগ ঘটায়া দিসে,
আমি নিজের অস্তিত্ব, পরিচয় আর ভাবনা দিয়া নিজেরে অনেকের সাথে ভাবতে থাকি
আর তারা ইতিহাস থিকা বাইর হয়া কোনদিকে যাবে,
তার মেপ ঠিক কইরা দেয়ার ভাবনায় বেচাইন

আমি ইউসুফের কুয়াতে মদদ করতে আসা ফেরেশতার গায়ের আতরের খুশবু মনে করতে পারি,
নবি মোহাম্মাদের রিদয় যখন চিড়া ফেলল জিবরিল,
সেই জমজমের পানির সাথে আমার দেশের ভুমিপুত্র কৃষকের ঘামের গন্ধরে আলাদা করতে পারি না

আর এর পর মনে পরে কৃষ্ণের কথা,
যে আমাদের ফোকের ভিতর ঢুইকা হয়া উঠসিল রাখাল,
কালো গায়ের চামড়ায় মহিশ আর গরুর পিঠের উপর উইঠা বাশির সুরে মাতোয়ারা কইরা ফেলত বেবাক আসমান জমিন,
অই রাখালের কামনায় থরথর করতে থাকত রাধার মাই,
সেখানে এখানের কোনো ভুমিপুত্র শিশুর জন্য দুধ ছলকাইতে থাকত,
আমরা এগুলারে মিশায়া আনসি ত এভাবে,
আমরা নতুন কইরা সাজায়া তুলতেসি বাকাবিল্লাহ ফানাফিল্লায়,
সনাতনিদের ইকোলজি আর কৃষির যে ফিলোসফি, আমি তারে খুব কাছ থিকা ছুয়া দেখি

জান্নাতের ভাবনার ভিতর আমার স্থাপত্যকৌশল লুকায়া আছে,
যখন দুনিয়ার দিকে তাকাই তখন ভাবতে থাকি কোন স্পেসের কল্পনায় খোদা জান্নাতরে আমাদের সামনে আনতে চাইসে,
কোন সে বিপুল এলাকা, যেখানে স্পেসের এত বিপুল কারিকুরি!

আমাদের কাছে হাবিলের কাহিনি বিস্তারিত আছে,
যখন খিদা লাগে আমাদের,
পশু জবাই কইরা খুদা মিটাইতে সুসাদু গোস্তের সোয়াদ নিই,
আর আদর কইরা আমাদের ভেড়ার পালরে হায়না থিকা বাচাইতে থাকি মুসার বড় লাঠি হাতে নিয়া

আমার ঘরের কথা ভাবতে খুব ইচ্ছা করে,
কিন্তু এই যে হাইটা যাইতেসি এই পথ দিয়া,
সামনে অন্য কোনো জনপদ, তারা কি আমার মতো নয়? আমি আমি না হয়া হইতে পারতাম সে,
আমিই খেতের নিড়ানি দেয়া লোকটা,
আমিই পাঞ্জেগানা মসজিদে থাকা একমাত্র ইমাম, যে খাদেমের কাজও করে,
আমার আলাদা কোনো ঘর নাই,
আমি যেদিক দিয়া হাটি, সেইটাই মোহাম্মাদপুর,
আমি যেখানে পা ফেলব তার পাশের ঘরটাই আমার বাড়ি,
আমি যেখানে দাড়ায়া কল্পনা করতে পারি,
লেখতে পারি দুইচারলাইন,
সেইটাই কি আমার বাপের ভিটা না?
আমি এইভাবে জগতরে দেখি,
আমি কোনো ভুগোলের কাছে অপর হই না,
আমার ফিলোসফির রশি সবার ইতিহাসের সাথে ঘুরানো

আমি আর আমি বলতে চাই না,
বলতে চাই আমরা কখনো কারো সুলতানি মানি নাই,
আমরাই নবাবের পোলা,
দাউদ খান কাররানির রক্ত আমাদের গায়ে প্রবাহিত

আমরা আমাদের বিজ হেফাজত করব,
আমাদের কৃষির গেন কারো থিকা নেয়া লাগবে না,
যে দরবেশরা ছিলেন আমাদের জগতে,
তারা বলতেন, একটা মাখলুকরেও তোমরা কষ্ট দিও না,
খোদা তোমার উপর যে রহমত করেন,
তুমি কেন তোমার ভোগের জন্য সেই রহমের কথা ভুইলা যাও?
আমার শব্দের খাজানায় আগাছা বইলা কিছু নাই,
আমাদের এখানের মানুশ পলিগেমাস কারন আমাদের জমি কখনোই এক ফসলের জন্য ছিল না

একটা খাটাশের গল্প বলতে চাই তোমাদের,
বনবিলাইয়ের কাহিনি কখনো কবিতায় শুনসো?
পেচা নিয়া কেউ কির্তন করে না,
আসলে এরাই আমাদের দোস্ত,
আমাদের খেতের পাশে তাদের জন্য ঝোপ রাখত আমাদের পিতারা,
পেচার জন্য রাইতের বেলায় আন্ধার থাকত উঠান,
ওরা আমাদের ফসল দেইখা রাখে,
আমরা দোস্তদের সাথে আমাদের ইকোলজিরে টিকায়া রাখতাম

কে হানা দিল এইখানে শুধুই সওদার জন্য?
ওরা আমাদের শরিল চিনে না,
আমাদের সেক্সের ভেরিয়েশান কিছুই জানত না,
আমাদের রক্তের কোথাও সয়াবিন আর ওটসের সিলসিলা ছিল না,
আমাদের নারিদের মুখে পানের সুবাসে পুরুশরা সেনসুয়াল হয়া উঠত,
তাদের হাতে বাটা মেন্দির রঙ কামনায় কাতর করত

ওহ কি আসমান আমাদের শরতে!
আর কি জমিন ছিল লেন্ডস্কেপে খালের পাশ দিয়া,
ছোট মাছের খলবলে সোয়াদে আমরা চোখে দেখতাম দুর থিকা দুরে,
এই জমিন এতই উর্বরা,
যেখানে রুইতে পারবা বিজ,
ঝলমল কইরা উঠবে সবুজ সেই উঠান

আমরা নিজেরে শান্ত করতে পারি না,
একের পর এক নতুন কাজে হাত দিই,
নতুন খোয়াবে অস্থির হয়া থাকি সারাদিন,
মনে হয় এই কাজ শেষ হয়া গেলে পরম খাহেশের শান্তি চইলা আসবে,
আর তারপর বুঝতে পারি মউতের আগ পর্যন্ত নফসের সাথে লাগাতার ফাইট করতে হবে,
আরেকটা কাজ এরপর আরেকটা,
আরেকটা সবুজ খোয়াব
না হয় আমাদের নার্ভরে উত্তেজিত করতে থাকবে

আমাদের বিষ্টির পানি ঝরতে থাকে যখন রিতুতে সময় বদলায়,
যখন জমিন শুকনা, আমাদের কৃষকরা তাকায় আসমানের দিকে,
মাটি ফাইটা যায় আর মাটির কেচোরা হাসফাস করতে থাকে পানির অভাবে,
এরপর শুরু হয় বিষ্টি আর বিজলির চমক,
আমার দুনিয়া সাজতে থাকে সবুজ রঙের ভিতর

আমাদের ভিতর আছে প্রবল প্রকাশকামিতা,
যেভাবে আমাদের গাছগুলা রইদের দেখা পাইতে আকাশের দিকে যায়,
আমাদের জঙ্গল ভইরা উঠে মাইক্রোমেটারে আর জান্নাতি খাবারে আমাদের গাছগুলা সাইজা যায়

এই রাস্তা দিয়া হাটতে হাটতে আমরা সিমাহিন স্পেসের দিকে নিজেদের দুনিয়ারে জোড়া দিয়া দিই,
আমাদের রুহানিয়াত চুলের সুন্দর বড় করতে থাকে,
আর গোফ দাড়ি আদিম যোদ্ধাদের কথা মনে করায়,
আমরা কখনোই হার মানি নাই,
ফকিররা বড় বড় লাঠি আর চুলের জংলায় কলোনির লোকদের এমন ডরপুক কইরা ফেলল,
ওরা হাত দিল আমাদের রিদয় আর মনরে অন্য গেনে বার্নিশ কইরা ফেলতে

তবু আমরা হারাই নাই আমাদের,
এই ত কয়েকদিন আগে আমাদের জোয়ানরা বুক পাইতা দিল রাস্তায়,
জালেমের খুনের পিয়াস মিটায়া আমাদের দিল আজাদির সৌরভ,
আমরা আমাদের জমিনে লুকায়া রাখসিলাম আদি নলেজের ভান্ডার, ইতিহাস, আমাদের মিথের শক্তি, ফিকির ও রুহানিয়াত
এইখানে গনগনে সেক্সের জালায় জলতে জলতে জালেমরে হারায়া নিজেদের খাজানাগুলা উজাড় কইরা ইয়াংদের ভিতর আমরা পুইরা দিব আমাদের আমের সুবাস

.
মে, জুন ২০২৬

The following two tabs change content below.
Avatar photo

মীর হাবীব আল মানজুর

জন্ম ১৯৯৯। কবি, কালচারাল কাজকাম করেন, প্রাকৃতিক কৃষি, পরিবেশ ও আর্কিটেকচারে আগ্রহি।
Avatar photo

Latest posts by মীর হাবীব আল মানজুর (see all)