এই তো রাত তিনটা বাজে, চারদিকে পাতিলের কালির মতো আন্ধাইর। চাঁদ কই লুকাইছে এ নিয়া মজলিশে কারো আগ্রহ নাই। চাঁদ লুকাইছে হয়তো আরিফের ঘুঙানির আওয়াজে, কিংবা শরমও পাইতে পারে; হয়তো আত্মহত্যা করছে লিঙ্ক ভাইরাল হওয়া কামাইল্যের ছেরিডার মতো।

যত যাইহোক, একজন তালেবুল ইলমের বিরুদ্ধে সালিশ তো দেখন যায় না। সূর্যের আলোয় তো এই বিচার সম্ভব না, আল্লা রাসূলের ইজ্জত না গেলেও তাদের ওয়ারিশদের ইজ্জতের গোয়া মারা সারা হয়া যাইব। চাঁদও এই কারণে লুকাইছে, গোয়া মাইরা ধরা খাওয়া তালেবুল ইলমের সালিশ সে দেখব না। কালা পানপাতা দিয়ে মুখ ঢাইকা রাখছে। মাঝেমধ্যে গোস্বায় ঝিলিক দিয়া গর্জন করতেছে!

শরমে গোটা হাউজ রি রি করতেছে। কেউ কথা কয় না। কী কইব? সবাই মির্জা গালিব হয়া গেছে। মুখ দিয়া কথা কইলে জিহ্বা পুইড়া যাইব, না কইলে কইলজা ছাই হয়া যাইব।

এইসব ডর হাঁসের মতো ঝাড়া দিয়া ফেলে দেয় কালাম মাতব্বর।

“কী কামডা করলেন মিয়া? আফনের মান ইজ্জতের কথা বা নাই ভাবলাইন, মাদ্রাসার ইজ্জতটা তো দেখবাইন। যদি এই ঘটনা জানাজানি হয়, আমরার মুখটা থুতু দিয়া ভইরা যাইব না? সমাজে মুখ দেখাইতে পারবাম? একটা ছেরা ভর্তি অইব নি মাদ্রাসায়?”

কালাম মাতব্বর মাদ্রাসার সভাপতি, সে চোখটা পেঁচার মতো বড় কইরা আরেকটা ধমক দিয়া কয়, “কী কামডা করলেন?”

না, মাওলানা আবরারুল হক জামিল জওয়াব দেয় না, ডিম নিয়ে তা’য়ে বসা মুরগির মতো ঝিম মাইরা আছে। একটা লেম্বু পাতা ছিঁড়ে যাইতেছে খালি। সালিশে অতো মানুষ নাই। পাঁচজন মানুষ। আসামি জামিলরে নিয়া ছয়জন।

বড় হুজুর মুফতি সাজ্জাদ আল রায়পুরী আঁতকা হুঙ্কার দিয়া উইঠা কন; আল্লার গজব পড়ব। কী জওয়াব দিবেন হাশরের ময়দানে? আল্লাহ কওমে লূতকে ধ্বংস করে দিছেন। মাটির সাথে মিশায়া দিছেন। ‌আর আপনি আলেম হয়া এইরকম গুণাহের কাজ কেমনে করলেন?

রাইত ক্রমশ আলোর দিকে যাইতেছে। কোন সময় মুরগি ডাক মারব। মসজিদের মাইক ফুঁইড়া আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়া দুনিয়া উজালা হয়া যাইব। ফলত তাড়াহুড়ো করতেছেন রফিকুল ইসলাম। মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার।

“কথা আর বাড়ায়া লাভ নাই হুজুর। এই ফকিন্নির পুতেরে কী শাস্তি দেওন যায় এইডা ঠিক করেন। ওর উপরে মই ফালায়া চাপ দিয়া ধইরা লাল পিঁপড়া ছাইড়া দেন। ওর পাছা দিয়া দুইডা বাঁশ ঢুকায়া দেন। মাছুম বাচ্চাডার সাথে করছেডা কি!”

না, রফিকুল তেড়ে যাওয়ার আগেই আটকায়া ফেলে রুহুল আমিন, জাবুইড়া ধইরা চেয়ারে বসায়া রুহুল কয়, “যেমনই হোক, পবিত্র কুরআন তার শিনায়। হাফেজ মানুষ। গায়ে হাত তোলা যাইব না।‌ আল্লাহ নারাজও হইতে পারে। এরে বিদায় করে দেন।”

একটা গরম রড পানিতে চুবাইলে যেমনে ছ্যাৎ করে উঠে রফিকুল অমনি ছ্যাৎ করে উঠে কয়, পুলিশে দেন। ওর গোয়ায় গরম ডিম ভইরা রাখব পুলিশ। তখন এর উপযুক্ত শিক্ষা হইব। ওর বিচার হওয়ার দরকার আছে।

তাড়াহুড়ো কইরা উঠে কালাম মাতব্বর। হাঁপানি বাইড়া গেছে, তবুও কইতে থাকে; কী মিয়া? বিবেক খায়া ফেলছো মদের মতো ঢোকঢোক কইরা? তোমার বাপে তো ভালা বুদ্ধিমান আছিল। তুমি ইয়ঙ মানুষ, এই কথাডা কেমনে কইলা?

মদ খাওয়ার খোঁচাটা শুইনাও রফিকুল বিগড়ে যায় না, সুজির মতো নরম হয়া কয়; “কেন কাকা? ও ধর্ষণের থেকে বড় কাম করছে। এতিম মাসুম বাচ্চাডারে দিনের পর দিন বলাৎকার করছে। ছেলেডার জীবনটা শেষ করে দিছে। ওর তো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।”

“দরকার যে নাই এই কথা তো আমি কইতাছি না বাজান। কিন্তু মাদ্রাসার ইজ্জতটা তো তোমার দেখতে হইব। যদি আজকে এই ঘটনা জানাজানি হয়, তাইলে কী হইব ভাবতে পার? মাদ্রাসাটা বন্ধ হয়া যাইব। হুজুররা ভাত পাইব না!”

এইদিকে রুহুল মিয়া উইঠা কয়, রাত তো আর আমরার লাইগা বইসা থাকতেছে না। সিদ্ধান্ত নিয়া নেন চাচা। একটা বিহিত করেন।

কালাম মাতব্বরে নিজের দাঁড়িগুলোয় হাতায় বারকয়েক, মোলায়েম হাত দিয়া এমনভাবে হাতায় যেন তমিজের মায়ের দুধ দুইটা হাতাইতেছে। তমিজের মায়ের গোয়া অবশ্য মারে নাই, গোয়া মারলে তো বিপদে পড়তে অইতো না মাতব্বরের। ভোদার ভিতরে মাল ফেলাইতে গিয়াই বিপদটা হইছিলো। ভুস্কি মাগি গাভীন হয়া গেছিলো।

এই কামের বেটিরে নিয়ে সংসার করলে এলাকার মানুষ ছি ছি করব না? মুখের কথা দিয়াই জুতা মারব, পায়ের জুতা লাগব না।

এরপরই না তমিজের মায়েরে রুবেলের সাথে বিয়া দেয় কালাম মাতব্বরের বাপ, তমিজরে দুই মাসের পেটে নিয়াই রুবেলের ঘাড়ে চাপায়া দেয়। নিজের মালে পয়দা হওয়া ছেড়া এখন বাপ ডাকে রুবেইল্লারে। রুবেইল্লাও তো মাতব্বর বাড়িতেই কাম কাইজ কইরা বড় হইছে!

এইটা নিয়া এখনো আফসোস করে কালাম মাতব্বর। নামাজ পড়ার সময় আঁতকা মনে হয়ে যায়, একটা কুড়াল যেন সবসময় কোপ মারতে থাকে কালাম মাতব্বররে।

না, এইসব চিন্তা করার সময় এইটা না। এখন রায় দিতে হইব। একটা কানাঘুষা হয় পাঁচজনের মধ্যে। কী রায় হয় আর জানা যায়নি। সকালে আর জামিল হুজুররে পাওয়া গেল না। হারায়া গেছে। এক রাইতে একটা জ্যান্ত মানুষ নাই হয়া গেছে। ফুড়ুৎ কইরা উড়াল দিয়া চইলা গেছে।

কই গেছে? আরেকটা মাদ্রাসায় না মসজিদে? কেউ জানে না!

হুজুরের বড় অস্ত্রটা গোয়ার ভিতরে হান্দায়া দিলে আরিফের দাঁতগুলো উপরনিচ বাড়ি খাইতে থাকে। চোখ দুইটা ঝাপসা হয়া যায়, অটোর গ্লাসে বৃষ্টি পড়লে যেমন ঝাপসা হয়া যায়; আরিফের দুনিয়া তেমন ঝাপসা হয়া যায়। না, চোখে পানি আসে না। এই প্রথম তো না, তিন মাস ধইরাই এই কাম চলতাছে। বাপ মরা এতিম আরিফ, মাও তো ভাইগা গেছে বাপের চাচাতো ভাইয়ের সাথে।

মাদ্রাসার সভাপতি কালাম মাতব্বর অভাগা ছেলেটারে এতিম কোটায় ভর্তি করায়া দেয় নূরানী মাদ্রাসায়। মাদ্রাসাটা খুব বড় না। ছিমছাম একটা মাদ্রাসা। চল্লিশ হাতের দুইটা ঘর। শ দুয়েক ছেলেমেয়ে মাদ্রাসাটায় পড়ে।

কালাম মাতব্বরের কথা হইতেছে, যতখানি পারে পড়ুক। এর বাড়িতে ওর বাড়িতে একমুঠ ভাতের লাইগা, পরনের লাইগা ঘোরার থেইকা, দিনরাইত লাত্থি গুতা খাওয়ার থেইকা, ফুটফরমাইশ খাটার থেইকা, এর ওর বাড়ির আমগাছে বড়ই গাছে ঢিল মারার থেইকা, বিড়ি গাঁজা টানার থেইকা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়া এলেম শিখুক। আর কিছু না হোক ছেরা তিনবেলা খাইতে তো পারব, ঘুমানির একটা আশ্রয় পাইব।

নাদুসনুদুস আরিফ, দশ এগারো বছর বয়স হইব। বাপ মায়ে হিসাব রাখে নাই বলে সঠিক জন্ম তারিখটা জানা যায় নাই। তবে দাদি কয়, তখন ঘোর বর্ষা। মাগরিবের সময় কী বৃষ্টিটাই না হইতেছিল, ঐ সময় আরিফের মায়ের প্রসব বেদনা ওঠে। এশারের সময় দুনিয়ার মুখ দেখে তার নাতি।

দেখতে পাকা সূর্যমুখী আমের মতো আরিফ, রোদে টকটক করে। ছেরি হইলে কথা আছিল না, মুখটা ফুইটা কইলে কত পুরুষ লাইন ধরতো। এক আনা পয়সাও খরচ লাগতো না। বিয়া দিয়া আজাইর হয়ে যাইতো এলাকার মুরুব্বিরা!

পাড়ার মাইনষের তো এতিমের প্রতি দায় আছে, এই দায় থেইকাই আজাইর হইতে একটা নেবি ব্লু পাঞ্জাবি পায়জামা, দুই তিনটা গেঞ্জী, দাঁত মাজার লাইগা একটা বিদ্যুৎ মাজন, গোসলের লাইগা একটা লাইফবয় সাবান, কাপড় চোপড় ধোঁয়ার লাইগা একটা তিব্বত বল সাবান, একটা সরিষা তেলের ছোট বোতল, আরো কিতা কিতা বাজারের ব্যাগে ভইরা মাদ্রাসায় পাঠায় আরিফরে। এই জিনিসপত্র যোগানের কাজটাও কালাম মাতব্বরই করে।

হাতে দুই তিনশ টাকা গুঁজে দেয় দাদি। রক্তের বলতে এই বুড়িই, এর ওর বাড়িতে রান্ধাবাড়া কইরা দিলে এক পাত ভাত পায়! কোনোদিন কাজ করতে না পারলে হাতও পাতে। বয়স্ক ভাতার টাকা পায়, রমজানে ফেতরার টাকা তুলে। লেংড়ায়া হলেও জীবন চলে যায়, থাইমা থাকে না!

হুজুর এখনো গোয়া মারতেই আছে। শেষ নাই। আল্লাহ সব জোর তার দনের মধ্যেই যেন বা দিছে! আরিফের মনে হইতেছে সেই লূৎ নবীর আমল থেইকা হুজুর তার উপর সওয়ার হইছে। কেয়ামত আইসা গেছে। দুনিয়া ধ্বংস হয়া গেছে। এখনো শেষ হওয়ার নাম নাই। আরিফ তখন কৌশল করে বাঁচতে চায়। মন অন্যদিকে সরায়া নেয়।

আরিফের চোখে ভাসতে থাকে, এইতো, মনে হইতেছে সেইদিন! রিক্সা থেকে নাইমা পকেট থেকে ভাড়ার টাকাটা মানিব্যাগ থেইকা বাইর করার মতো ভাব লয়া রিক্সাঅলারে দিয়া মাদ্রাসায় ঢুকতাছে। সবড়ির গাছটায় কয়েকটা চড়ুই উড়াউড়ি করতেছিল। আরিফের মনে হইতেছিল, এই চড়ুইগুলো তার ভিতর থেইকা গিয়েই সবড়ি গাছে বসছে।

পরের দিন জামিল হুজুর এতিমখানার টাকা দিয়া একটা সিঙ্গেল তোষক, একটা বিছনার চাদর, একটা ভাত খাওয়ার প্লেট, একটা বালিশ কিনে এনে দেয়। রাতে কোন জায়গায় বিছনা পাতব তাও ঠিক কইরা দিছিল হুজুর।

হুজুররে আর হুজুর মনে হইতেছিল না। আরিফের বাপের চেহারা মনে নাই। আরিফ মাঝেমধ্যে চেহারা একটা বানানোর চেষ্টা করে। অনেক সময় চাঁদের দিকে আবছা একটা চেহারা দেখে। কিন্তু পুরাপুরি আসে না। আরিফ ভাবে, এখন বুঝি সুবিধা হইব। হুজুরের চেহারাটা আঁকতে পারব, তার বাপের চেহারা আঁকতে আর অসুবিধা হইব না।

হুজুর আরিফের বিছানাটা পাতে হুজুরের চকির সাথে লাগায়া। না গো, হুজুর খুব যত্ন করে। পাতের অর্ধেকটা ডিম, অর্ধেকটা মাছ, গোশতের একটা টুকরা আরিফের পাতে দেয়। অন্য ছাত্ররা তাকায়া থাকে। চোখে একটা ভয় ঝিলিক মারে। কারো মুখ কুয়াশার মতো ফ্যাকাশে হয়া যায়। কেন হয়? আরিফ আন্তাজ করতে পারে না।

আরিফ অবশ্যই না না করে উঠে, প্লেট সরায়া নিতে চায়! বলে, ‘না হুজুর, আমার লাগব না, পেট ভইরা গেছে।’

হুজুর চোখ দুইটা বড় করে দুইটা মার্বেলের মতো, তারপর কয়, ‘দিতাছি খাও। মুখটা তো শুকায়া গেছে। ভালা বুড়া না খাইলে পড়বা কেমনে। উস্তাদ কিছু দিলে না করতে নাই!’

দুই তিনদিন পরেই হাতে চাপা টিউবওয়েলে আরিফ কাপড় ধুইতে যায়। কলের ডান্ডায় লইটকা থাকে, দুই চাইর ফোঁটার বেশি পানি বাইর করতে পারে না আরিফ। জামিল হুজুরের দরদ তখন চায়ের পানির মতো উতলায়া ওঠে। আগায়া আইসা বালতিটা ভইরা দিতে থাকে। আরিফের তো শরমে মুখটা লাল হয়া যায়। তাড়াহুড়ো কইরা হুজুররে না করে, কয়, ‘আপনার কলে চাপতে অইব না হুজুর, আমিই পারবাম।’

হুজুর এইবার ধমক দিয়া ওঠে, আবার একটা মুচকি হাঁসি দিয়া কয়, “খেদমত কী খালি তোমরা ছাত্ররাই করবা, ওস্তাদদেরও ছাত্রদের খেদমত করতে হয়, ইসলামে আছে!”

লেখাপড়ায় আরিফ ফার্স্ট। সবক দেওয়ার সময় পড়া সুন্দর কইরা কইতে পারলে হুজুর আরিফের কপালটা দুই হাতে টাইনা আইনা চুমা দেয়, এমনভাবে চুমা দেয় যেন হাজরে আসওয়াদ মিশে গেছে আরিফের কপালে। আরিফের শরীর তখন মুছড়ায়া উঠে, হুজুরের বরকতি ঠোঁটের ছোঁয়া নিতে চায় না। হুজুর থামে না, চিলের মতো থাবা দিয়ে ধইরা চুমু দেয়। বরকত দিতে হুজুর কিপ্টামি করে না কখনোই।

আরিফরে হুজুর নিজের ছেরার মতো আদর করে, অন্য ছাত্রগুলা কি আড়চোখে তাকায়া থাকে না ? হিংসা বিদ্বেষের বিষে দিল’টা ভরা খানকির পোলাগো!

নিজেরা কিচ্ছা কাহিনী কইতেছে, চোখে টিপ্পনী কাটতেছে, হাসাহাসি করতেছে। যেই না আরিফ গেল, আঁতকা কিচ্ছা থামায়া দেয়, হাসিটাও গায়েব হয়া যায়! মাদ্রাসায় আসতে যাইতে রাস্তার ধারের বড় বাড়িতে ফুল চুরি করতে গিয়া ধরা পড়ার পর যেমন ভ্যাবাচ্যাকা খায়া গেছিল, অমনি ভ্যাবাচ্যাকা খায়া যায় সবাই। আরিফ খেলতে গেলে ওরা খেলা বন্ধ কইরা দেয়। আরিফের থেইকা ছিটকে ছিটকে থাকে। আরিফের কী বালের ঠেকা, হুজুর আদর করে, তোমরা কোন চ্যাটের বাল, খেলায় না নিলে না নাও!

একদিন আসরের ওয়াক্তে নিমের একটা মিসওয়াকের ডাল নিয়ে আসে আরিফ। তিনটা মিসওয়াক বানায়। বাপে বেঁচে থাকতে আরিফ প্রাইমারি স্কুলে ওয়ানে পড়তো, তখন পড়া না পারলেই মুরগি বানায়া দাঁড় করায়া রাখতো স্যার। মুরগির মাথাটা বুকের দিকে নুইয়া রাইখা একটা মিসওয়াক হুজুররে দেয় আরিফ। হুজুর বত্রিশটা দাঁত বাইর কইরা একটা হাঁসি দিয়া আরিফের দুইটা গালে দুইটা চুমা দেয়। এখন আর আরিফের শরমে গাল লাল হয়া পড়ে না। ছেরার অভ্যাস হয়া গেছে হুজুরের মোহাব্বতে।

হুজুরের রুম থেইকা বাইর হইতেই মাদ্রাসার আরেকটা ছাত্র দৌড়ায়া আসে, মুশফিক, এক ক্লাস উপরে পড়ে। আরিফের থেইকা একটা মিসওয়াক চায়, দুইটা থাকায় একটা দিয়াও দেয়! মাগনা মিসওয়াক নেয় না ছেরা, মুখটা রসুনের মতো কুঁচকায়া চারদিক ভালো কইরা তাকায়া কয়, “তোরে না হুজুরে লাগাইব”!

“কী লাগাইব?” এই কথা কয়া শেষ করতে পারে না আরিফ!

মুশফিক দৌড়তেছে, দৌড়তেই আছে! সবুজ মাঠের ভিতরে হারায়া গেছে। এখন আসরের ছুটি, কেউ কেউ একটা ফুটবল নিয়া দৌড়তেছে, কেউ জুতারে ব্যাডমিন্টন ব্যাট বানায়া খেলতেছে পুরান একটা ফ্লাওয়ার দিয়া, কেউ খাতায় লিখতেছে বাড়ির কাজ। এসবের ভিড়ে মুশফিক কই হারায়া গেছে এইটা ঠাহর করতে পারে না আরিফ।

আরিফও আর পাত্তা দেয় না। কী লাগাইব হুজুর? আজগুবি কথা! হুজুরে যে আদর করে! সবাই খালি আরিফরে হিংসা করে, কইলজা ভরা হিংসা।

হুজুরের আইজ সময় লাগতাছে, কোন সময় থেইকা হান্দাইতাছে আর বাইর করতাছে। এখনো ফরফর কইরা গোয়ার ভিতরে কাশের মতো মাল ছিটকে গিয়া পড়তেছে না। পড়লে তো লেট্রিনে গিয় ঢাইলা আসতে পারে আরিফ। গোসল কইরা ঘুমাইতে পারে। ফজরের সময় আবার উঠে নামাজ পড়তে হইব। হুজুরের ইবাদতির পরে আল্লার ইবাদতি। আরিফের ইবাদতি জমতেছে তার চোখে নিচে, কালো হয়া শুভা দিতেছে, প্রতিটা রাত এর স্বাক্ষী!

সময় কাটানোর জন্য আরিফ আবার জোর কইরা চোখে ভাসাইতাছে পয়লা রাতের সিনেমা। বৃহষ্পতিবারের রাত, আশেপাশের গাঁওয়ের সব পুলাপান বাড়িতে চলে গেছে! একটা ঈদ নাইমা আসছে মাদ্রাসায়। ঈদের নতুন জামা পরার যে খুশি, এই খুশি নিয়া সবাই বাড়িতে যায়। না, আরিফরে যাইতে দেয় না হুজুর। কাম আছে কয়া আটকে রাখে।

বাড়িতে গিয়েই বা কিতা করব, দাদিটারে দেখা ছাড়া। যাইতেও মন চায় না। মাঝেধ্যে মা’র কথা মনে পড়ে, চোখে ধলা চেহারাটা ভাসতেই থুথু মারে আরিফ। একদিন তো এই থুতু এক ছেরার পাঞ্জাবিতে গিয়ে পড়ছিল। ছেরা দৌড়ে যাইতাছিল হুজুরের কাছে বিচার দিতে! আরিফ আরো গতিতে দৌড়ে গিয়া সামনে দাঁড়ায়। সবগুলো কাপর ধুয়ে দিব এই চুক্তি কইরা মাফ আদায় করে। বুদ্ধি কইরা না গেলে ফ্রেশ আরিফের নামে একটা দাগ পড়ে যাইতো না হুজুরের মনে! এইটা তো আরিফ চায় না!

মা’র কথা মনে হওয়ায় পরপরই বাপের কথাও মনে হয়। আরিফের চোখের কোণা থেকে গড়গড়ায়া পানি পইড়া বালিশ ভিজতাছে। আরিফ বুঝতে পারে না, হুজুরের অস্ত্রটা গোয়া পার হয়া কইলজার মইধ্যে গিয়া লাগতাছে দেইখা চোখে পানি আসতাছে না বাপ মার কথা মনে হওয়ার কারণে পানি আসতাছে! তবু জোর কইরা দেখতে থাকে আরিফ, বাপে আঙ্গুলে ধইরা নিয়া যাইতাছে পাড়ার দোকানে, মামা বিস্কুট নইলে একটা কেইক, বেশি জিদ করলে আমের এক প্যাকেট জুস দিতাছে। আবার পরক্ষনেই বাপ মুখে তুইলা গরম ভাত খাওয়াইতেছে বারবার ফু দিয়া।

প্রথম রাতে হুজুর আর আরিফ ছাড়া মাদ্রাসায় কেউ আছিল না। একে তো সাপ্তাহিক ছুটি, তাও মাসের শেষ সপ্তাহ। আরিফ খানা খেয়ে ঘুমানোর লাইগা বিছানা বিছাইতে গেলে হুজুর কয়, “একলা একলা ফ্লোরে থাকার কী দরকার, চকিতে আইসা পড়ো। আজকের রাতটা আমার সাথেই থাইকা পড়ো।”

হুজুরের কথাই আদেশ, কেমনে না করে ছাত্র! বালিশটা নিয়া শরীরটা গুটিসুটি মারা এক সাইটে শুয়ে পড়ে আরিফ।

আরিফ জানে না, হায় রে ঘুম, আজরাইলের ঘুম কই থেইকা আসছিল ঐদিন? শুয়ার সাথে সাথেই ঘুমে ভাইঙ্গা পইড়া যাইতেছিল। পাঁচটা ঘুমের ট্যাবলেট খায়াও কেউ এতো ঘুম ঘুমাইতে পারে না। নাকি ঘুমের ট্যাবলেটই খাইছিল আরিফ?

ঐ রাইতেই আরিফের অত ভালা হুজুরের শরীরে পয়লা ভর করছিল আল্লার আস্তানা থেইকা বিতাড়িত নাপাক ইবলিশ, এই ইবলিশ তো হুজুররে এখনো ছাড়ে নাই। ঐদিন ‘আল্লাগো আল্লাগো’ কইরা কী কান্দনই না কাঁদছিল পয়গম্বর লূত, মোহাম্মদ আল্লার রাসূল তো লজ্জ্বায় মুখটা আল্লার সিনার ভিতরে লুকায়া ফেলছিল গো। এইডা আরিফ নিজের চোখে দেখছে, এখনো ধ্যান করলে ভাসে!

তখন রাত কয়টা বাজে? আরিফ তা কেমনে জানব? আঁতকা গোয়ার মইধ্যে কীতা একটা ব্লেইটের মতো ছিইড়া ঢুকতে থাকে! আল্লা গো কয়া আরিফ চিৎকার মাইরা ওঠে, তৎক্ষণাৎ একটা স্বর্ণলতার ডোগা ভাইঙ্গা পড়ে! আরিফ খুব তাড়াতাড়ি বুইঝা ফেলে, হুজুরের অস্ত্রটা তার গোয়ার ভিতরে ঢুকতাছে! কীতা করব আরিফ?

এই মাদ্রাসাতেই কত হুজুরের ওয়াজেই শুনছে, লূত নবীর জাত ধ্বংস হয়া গেছিল। পুরুষ আর পুরুষের মধ্যে সহবাসকে আল্লার সৃষ্টির বিরুদ্ধে জিহাদ বলছিল কাশেম হুজুর।

সহবাস কী? তখন বুঝতো না আরিফ!

কেমনে বুঝলো?

রফিকুলের ছেলে মনোয়ার, হ্যাঁ, ওই তো বুঝায়া দিছিল। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে ছেলে। কঞ্চির মতো লকলকা।

এক শুক্রবারে বিলের পাড়ে, মাগরিব উঁকিঝুঁকি মারতেছে! বকরিটা বাড়িতে নিয়া যাইব মনোয়ার, সাথে নিয়ে আসছে আরিফরে। গত রাতে ওয়াজ হইছে মাদ্রাসায়। আরিফ আঁতকা কয়, মনু ভাই, সহবাস কিতা? মনুর তো চোখ দুইটা জ্বলজ্বল করে ওঠে, কারেন্টে শক খাওয়ার মতো রিয়েক্ট করে কয়, “তোরে সহবাসের কথা কইছে কে?”

“ওয়াজে শুনছি!”

না, আরিফরে নিরাশ করে না মনু। বুঝায়া দেয়, দুই গোপনাঙ্গ একসাথে মিলিত হওয়ার নাম হইতেছে সহবাস! অবশ্য এইটার বিল আদায় করে নেয় মনু। সহবাসের কথা শুইনা যে অস্ত্রটা দাঁড়ায় গেছে, এইটা ঠাণ্ডা করার ভার পড়ে আরিফের উপর। হাত মেরে দিছিল আরিফ? নাকি চুইষা দিছিল? এই মুহূর্তে মনে করতে চাইতেছে না আরিফ।

আরিফের শরীর মুচড়ে যাইতেছে। কাঁপুনি হইতেছে, খিঁচুনিও? স্পষ্ট না। আরিফ তো একটা হাতির নিচে চাপা পইড়া আছে। ঠোঁট মুখটা চইলা গেছে হুজুরের হাতের মুঠোয়। চোখ ফাইটা পানি পড়তেছে, কিন্তু বালিশ ভিজে না কেন? বালিশ চলে গেছে আরিফের পাছার নিচে।

আরিফের মনটা কয় কিয়ামত চলে আসতেছে, পুরা দুজাহান তার শরীরের ভিতর ঢুকে পড়ছে। আজ রক্ষা নাই। ঐ পয়লা রাইতে কি আরিফ জ্ঞান হারায়া গেছিল? হইতে পারে, খালি মনে হয় গোয়ার ভিতরে সাদা কাশ ফালায়া হুজুরে বড় একটা ঠেলা মারতেই জাইগা উঠে আরিফ।

খুব বেশি না, রক্তের কিছু ছিটা ফোঁটা দেখে আরিফ, বালিশের কভারে, হুজুরের অস্ত্রে। আর মরিচের গুঁড়া? মরিচের গুঁড়া কেমনে ঢুকলো গোয়ায়? কেন এতো জ্বলতেছিল? আজও বুঝতে পারে না আরিফ।

না গো, এরপরও হুজুরের মোহাব্বত কমে নাই। একটা কীসের ট্যাবলেট দিল, এইটা খাইতেই মরিচের জ্বালা আর নাই। হুজুর নিজের হাতে বালিশের কভার, চাদর ধুয়ে ফেলে আন্ধাইর রাতে। গোসল করে ফজরের নামাজ পড়ে একসাথে। এরপর দরসে বসে।

হুজুর খুব গম্ভীরভাবে কয়, ‘রাতে যা হইছে তা উস্তাদ আর ছাত্রের মোহাব্বত। উস্তাদের প্রতি ছাত্রের গোপন খেদমত। খুবই গোপন জিনিস। এইটা কাওরে কইতে পারবা না।’

আরিফ মাথা নাড়ায়া সায় দেয়।

হুজুর আরো কয়, এই ঘটনা জানাজানি হলে তোমার উপর জ্বিনের আছর পড়ব‌। তুমি বেপথে চইলা যাবা। তখন আল্লাহর বেহেশত তোমার জন্য হারাম হয়া যাইব।

আরিফের চোখ দুইটা তখনও ঘোলা, হুজুরের কথামতো চলার ওয়াদা করে। হুজুর বোঝায়া কইছে, দুক্ষু বেশিদিন থাকব না। কয়েকদিন খেদমত করলেই পরে মজা পাইবা।

হুজুর ডরও দেখায়, ‘কেউ যদি শুনে, হাড্ডি একটাও আস্ত থাকব না।’

আরিফ কেরে কইত যায়, এই পর্যন্ত কাউরে কয় নাই। বেহেশত থেইকা আরিফ বঞ্চিত হইতে চায় না। সে তো শুনছে, মুমিনের কারাগার দুনিয়া, আখেরাত সুখের জায়গা। আরিফ আখেরাতেই সুখ পাইতে চায়, দুনিয়ায় না।

আরিফ ফিরে আসছে অতীত থেইকা বর্তমানে, পয়লা রাতের সিনেমা আর দেখতে চায় না। আরিফের শরীর নিস্তেজ হয়া যাইতেছে। প্রতিটা সেকেন্ডকে এক ঘন্টা মনে হইতেছে। হুজুরের অস্ত্র এখনো গোয়ার ভিতরে। না, আরিফ আর স্মৃতির ভিতর গিয়া বাঁচতে পারতেছে না। মনে হইতেছে আজকে যে জ্বীন হুজুরের উপর আছর করছে সেইটা সামান্য কোনো জ্বীন না, জ্বীনে আকবর হইতে পারে।

আরিফের তো মনে পড়ে না, হুজুর বা জ্বীন নাখোশ হইব এইরকম তো কিছু করে নাই। তাইলে এমন হইতেছে কেন?

আরিফের সাহস হয়, হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মিইয়ে যাওয়া কণ্ঠে হুজুররে কয়, ‘আর পারতাছি না, ছাইড়া দেন!’

হুজুরের কণ্ঠে যায় না এই কথা!

আরিফ আঁতকা দেখে, একটা সাদা ঘোড়া আসতেছে তার দিকে। শত শত ডানা ঝাপটায়া আসতেছে। আরিফের এক চোখে ডর আরেক চোখে আশ্চর্য মুক্তির নিশানা জ্বলজ্বল করে! আরিফের তখন ব্যথা লাগে না। গলায় একটা কামড় পড়ে। পিঠে একটা কামড় পড়ে। চুলে দুইটা টান লাগে। আরিফের ব্যথা লাগে না। একটুও মুচড়ে উঠে না। খালি মুচকি হাঁসির ঘেরাণ বাইর হয়।

আরিফের চোখ আরো তীক্ষ্ণ হয়া ওঠে। ছয়শত ডানা অদৃশ্য হয়া যায়। দেখে আরেকজন, সবুজ পাগড়ি পরা আরেকজন ঘোড়ায় সওয়ার হয়া আছে। কী অলৌকিক সুরত! এতো সুন্দর আদম সন্তান আরিফ জীবনে দেখে নাই। আরিফের ঠোঁট দুইটা ফাঁকা হয়, আরিফ হাসতে হাসতে থাকে। মুচকি হাঁসি ক্রমশ ডালপালা মেলে দিতে থাকে। মেঘের মতো হাঁসির আওয়াজ ছড়ায়া যায়। হুজুর চমকে উঠে। মুখটা দুই হাত দিয়ে চাইপা ধরে। না, হাঁসি থামেই না। পুরা রুম হাসতে থাকে। খাটটা পর্যন্ত হাসতে থাকে। আলনাটা হাসতে থাকে। তোষকটা হাসতে থাকে। জানালাটা হাসতে থাকে। ডরে হুজুরের মুখটা নীল হয়া গেছে। হুজুর জবুথবু হয়া গেছে। হুজুরের চোখ দুইটা ঘোলা হয়া গেছে। হুজুরের মুখ দিয়া বিকট চিৎকার আসতে চাইতেছে।

না, হুজুর আর পারে না। সাদা মাল গলগল কইরা কখন পড়ছে এইটাও মনে করতে পারে না, মালে আরিফের পাছা লেপ্টে আছে। হুজুরের শক্তি কমে আসতেছে, হুজুর আরিফের মুখ ছাইড়া দেয়। আরিফ আরো হাসতে থাকে। হাসতেই থাকে। আরিফ দেখে ঘোড়াটা খুব কাছাকাছি চলে আসছে। আরিফ নাচতে থাকে, দুই হাত মেলায়া সুফির মতো ঘুরতে থাকে। ঘুরতেই থাকে। আরিফের সাথে পুরা দুনিয়া নাচতে থাকে। আজকে চাঁদও আরিফকে সঙ্গ দেয়।

হুজুর আর আটকায়া রাখতে পারে না, ঠোঁট ফাইটা আওয়াজ বাইর হয়া আসতে চায়। আর পারে না, একটা বিকট চিৎকার শোনা যায়, হুজুর বুঝতে পারে না এইটা তার মুখ থেকেই গেছে কিনা! হাজার হাজার মাইল দূরের পাহাড় পর্বত রুইয়ের মতো উড়তে থাকার পতপত শব্দ হুজুরের কানে আসে। হুজুরের হুঁশ নাই! হুজুর দুয়ার খুইলা দেয়। হুড়হুড় কইরা দুই তিন হুজুর রুমে ঢুইকা পড়ে।

জামিল হুজুরের ভিতর হুঁশ চইলা আসে। আরিফ ফ্লোরে পইড়া আছে। নিচের দিকে তাকাইয়া দেখে একটা সুতাও নাই আরিফের গায়ে, নিজের গায়েও নাই, অস্ত্রটা চুপসে গেছে, নীচের দিকে ঝুলে আছে। জামিল হুজুর তাড়াহুড়ো কইরা একটা লুঙ্গি দিয়া আড়াল করে নেয় নিজের ইজ্জত।

বড় হুজুর রায়পুরী হতবাক হয়া গেছে! পুরো ঘটনাটা বুঝতে বুঝতে এক দুই মিনিট লেগে গেছে। এরমধ্যে বড় হুজুরের বাইকটা কেউ একজন স্টার্ট দিছে সবড়ি গাছের নিচ থেইকা। বাইকের মাঝখানে আরিফের নিথর দেহ। সম্ভবত কোনো হাসপাতালের দিকে ছুটে যাইতেছে, কিংবা কবরস্থানে।

বাইচা আছে নাকি মইরা গেছে? এই সন্ধান করার পর থেইকা বড় হুজুর হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে, শিশুর মতো কাঁদতে থাকে। বড় হুজুর হয়তো বুঝে ফেলছে, আরিফের বাঁচা আর মরার মধ্যে কোনো তফাৎ নাই।

হয়তো বেঁচে থাকাটা মরার থেকেও বেশি বেদনাদায়ক। এই কারণেই কি বড় হুজুর কাঁদতে থাকে?

The following two tabs change content below.
Avatar photo

মুরাদ হাসান

কবিতা লিখি। গল্প লেখাটা ঐভাবে নিয়মিত না, দুই তিন বছরে হঠাৎ একটা। নিজের ভাব-বোঝাপড়াও লিখি গদ্যে। জন্ম ২০০৩ সালে। গুরুদয়াল সরকারি কলেজে পড়ি। কিশোরগঞ্জ থাকি।
Avatar photo

Latest posts by মুরাদ হাসান (see all)