২০২৬ সালে আইসা ইতিহাসের পর্বগুলারে পার হইয়া আপনার কাছে ১৯৪৭ এর সিগনিফিকেন্স যদি হয় ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা’ তাইলে আপনে একটু পাকিস্তানপন্থী আছেন আর কি! স্বীকার করেন; আমরা মোকাবেলা করি।

১৯৪৭ এর রিয়েল সিগনিফিকেন্স, বাংলাদেশিদের কাছে, ইন্ডিয়া হইতে আলাদা হইতে পারা। বাঙলাদেশপন্থি রাজনিতির গোমর হইলো এইখানে। ইন্ডিয়া হইতে আলাদা হওয়ার পলিটিকাল প্যাকেজের অংশ ছিলো পাকিস্তান হওয়া। যেইটা ওয়ার্ক করলে ভিন্ন বিষয় ছিলো, কিন্তু ফ্রম দা গেট-গো এইটা এই অঞ্চলের মানুশেরে ভুগাইছে।
এখন এই ভোগার জায়গাটারে ভারতবাদী অংশ দেখাইতে চায় পার্টিশনের যাতনা হিশাবে। তাইলে আসলে এই অঞ্চলের মানুশের স্ট্রাগলরে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুশের ক্রাইসিস হইতে আলাদা করতে পারবেন না; যেহেতু পার্টিশন পশ্চিম পাকিস্তানেরও ঘটনা। এবং আপনিও যখন ৪৭ এর সিগনিফিকেন্স ‘পাকিস্তান হওয়া’ দিয়া বুঝেন, আপনার পলিটিক্সের ডাইনামিকস ভারতবাদীদের ডাইনামিক্সের সাথে এলাইন করতে থাকে এবং পলিটিকাল খেলা তখন পাকিস্তান আর ইন্ডিয়ার কোর্টে অল্টারনেটিভলি হোম এন্ড এওয়ে ম্যাচে পর্যবসিত হয় এবং আপনার ‘বাঙলাদেশপন্থী’ হওয়ার স্ক্রিপ্ট ওইখানেই হোচট খায়; আপনার ‘বাঙলাদেশপন্থা’ পাকিস্তানপন্থার সিনোনিমাস হইয়া যায়।

এবং আরেকদিকে ৪৭ এর প্রোগ্রেস হিসাবে ৭১ বোঝা যায় না তখন। বরং ৭১ হয় ৪৭ এর এনাক্রনিজম। যেইখানে পাকিস্তান হারছে এবং জিতছে ইন্ডিয়া; বাঙলাদেশ না। এই বয়ান ভারতবাদীদেরও; দুই শিবিরের ফারাক শুধু যথাক্রমে হতাশা আর গর্বের।

বাঙলাদেশপন্থীদের কাছে ৭১ হইলো ৪৭ এর মেজর প্রোগ্রেস। ৪৭ এ এই অঞ্চলের মানুশ ইন্ডিয়া হইতে আলাদা হইছে, ৭১ এ পাইছে নিজেদের স্টেট। পাকিস্তানপন্থিদের কাছে ৭১ হইলো ‘পাকিস্তান ভাঙ্গার’ দুঃসংবাদ। ভারতবাদীরা ৭১ কে নেয় পাকিস্তান বরবাদ হওয়ার সুসমাচার হিসাবে আর বাঙলাদেশ হওয়ার একটা ইন্টেরিম কনসেশনস্বরূপ; ভারতবাদীদের কাছে ‘মুক্তিজুদ্ধ’ কখনও শেশ হয় না; একটা বাঙলাদেশ হওয়া তাদের জন্য এনাফ না; তারা বাঙলাদেশের স্ট্রাগলরে একটা রাষ্ট্রের মেচুরিটি থেকে বোঝে না, বাঙলাদেশরে একটা রাষ্ট্র হিসাবে তার সমস্যাগুলারে নেভিগেট করতে দেয়না বরং মনে করে ‘মুক্তিজুদ্ধের চেতনা’ মানে কার্যত ৪৭ এর পূর্বের দশায় ফিরা যাওয়ার একটা অনিঃশেষ অডিসি হিসাবে। একের পর এক বিপদে বাঙলাদেশ পরে তার আপন মহাভারতে ফেরত যাইতে; বিপদগুলা বাঙলাদেশের নিজস্ব জার্নির পুথিতে ঢোকে না আর। যেমন দেখবেন ভারতবাদীরা বলে, হাছিনার বিচার করা যাবে না কারণ তার চেয়ে বেশি অপরাধ করার পরও জামাত টিকে গেছে। মানে প্রতিষ্ঠাকালিন যুদ্ধের মিমাংসা কইরাই তবে বাঙলাদেশ রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, রাষ্ট্র হবার পরের অপরাধের বিচারের দায়িত্ব নিজের কাধে নিতে পারবে( যদিও জামাতের অনেক নেতার ফাসিও হয়ে গেছে, মানে বিচার যেমনই হউক ইরিভার্সেবল জাজমেন্টে অনেকের ফাসি শেশ)। রাষ্ট্র হিসাবে এই খর্বতা বাঙলাদেশকে বহন করতে হয় কারণ, ভারতবাদিদের মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এ শেশ হয় নাই। এখনো চলতেছে। এবং পাকিস্তানপন্থিরা এই ২৬সালীয় ৭১এ পার্টিসিপেটও করে, জাইনাশুইনাই যে খেলাটা ভারতবাদিদের নিয়মে হইতেছে, এই আশায় যে, একটা পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার এইটাই রাস্তা।

পাকিস্তানপন্থি বা ভারতবাদীদের সাথে বাঙলাদেশপন্থিদের রাজনিতি ফারাক করার একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হইলো ৪৭, ৭১ এই ঘটনা দুইটারে কোন হিস্টরিকাল লিগেছি থেকে এরা বুঝতেছে। কারণ দিনশেষে তিন পক্ষই ‘বাঙলাদেশ’ নামটাই ইউজ করে।

সাথে এই লেখাটাও পড়তে পারেন:

নট ইওর টিপিকাল মুক্তিজুদ্ধের গোসাঁই

The following two tabs change content below.
Avatar photo

ইব্রাকর ঝিল্লী

কবি ও ক্রিটিক। rebelinmood@gmail.com