দুর্দান্ত রমণী
~
সুন্দরী রমণীরা আমার গোপন রহস্য জানতে চায় মুগ্ধ হয়ে।
আমি তো কিউট পুতুল না কোন বা দেখতে ফ্যাশন মডেলদের মতও না।
অথচ আমি যখন তাদেরকে বলতে যাই,
তারা মনে করে, আমি বুঝি আজাইরা বাহাদুরি করতেছি।
আমি বলি,
এটা আমার হাতের নাগালেই থাকে,
আমার চওড়া পাছায়
আমার হাঁটার ভঙ্গিমায়
আমার ঠোঁটের কোণেই—
অবিশ্বাস্যরকমে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী,
আর এটাই আমি।
আমি যখন কোন রুমে ঢুকি
সবাই এমনভাবে তাকায়ে থাকে যেভাবে তারা আশা করে।
আর পুরুষের ক্ষেত্রে হয় কি
দেখামাত্র বন্ধুরা দাঁড়ায়ে যায় বা
নিচু হয়ে বসে ওয়েলকাম জানায় (আমারে)।
তারপর তারা আমারে ঘিরে ধরে
যেন মৌচাকে উড়তে থাকা মৌমাছির দল।
আমি বলি,
এটা আমার চোখের আগুনে
আমার দাঁতের ঝিলিকে
আমার কোমরের দোলায়
আমার পায়ের তালেই—
অকল্পনীয়ভাবে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী,
আর এটাই আমি।
পুরুষেরা নিজেরাই অবাক হয়ে ভাবে
তারা আমার মধ্যে কী এমন দেখে!
তারা বোঝার চেষ্টা করে
কিন্তু তারা আমার ভিতরগত রহস্যটি ছুঁইতে পারে না।
যখন আমি তাদের বুঝানোর ট্রাই করি
তারা তখনও বলে যে, সব মাথার উপ্রে দিয়ে যায়।
আমি বলি,
এটা আমার শরীরের বাঁকে
আমার হাসির ঝলকে
আমার মাইয়ের ঢেউয়ে
আমার স্টাইলের সৌন্দর্যেই—
অবিশ্বাস্যরকমে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী
আর এটাই আমি।
এখন তুমি বুঝবা
কেন আমার মাথা নত হয় না,
কেন আমি চিল্লাফাল্লা করতে হয় না বা লাফাই না
অথবা কারো নজরে পড়ার চেষ্টাও করতে হয় না।
যখন তুমি আমারে দেখো হেঁটে যাইতে
এটা তোমারে প্রাউড ফিল করানোর কথা।
আমি বলি,
এটা আমার হাঁটার ঢঙে
আমার চুলের ভাঁজে
আমার হাতের উমে
আমার দরদের তাগিদেই—
অকল্পনীয়ভাবে
আমি একজন নারী।
দারুণ রমণী
আর এটাই আমি।
লাইফ ডাজ নট ফ্রাইটেন্ড মি
~
দেয়ালভরা ছায়া
আর দালান জুড়ে হৈচৈ
তবু জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
নেড়িকুত্তার অহেতুক ঘেউ ঘেউ
কিংবা মেঘে মেঘ হয়ে থাকা অশরীরী কেউ
এমন জীবনরেও আমি ডরাই না একদম।
জালিম বুড়ি শাকচুন্নি
বা কোন সিংহ, হোক বন্য
কোনটারেই ডরাই না আমি।
হোক আগুনজ্বলা ড্রাগন
অন মাই কাউন্টারপেন
সেটাও ডরাই না আমি একদম।
আমি “ভেউ” দিই উল্টা
আমি খিলখিলায়ে উঠি
আর ওরা দৌড়ায়,
আমি কান্দি না
তাই তারা পালায়,
আমি জাস্ট হাসি
আর তারা আউলায়ে যায়।
জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
তাগড়া ব্যাটারা মারামারি করে, করুক
রাতের অন্ধকারে নিজেরা একা একা।
জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
পার্কে প্যান্থার
অচেনালোকভরা অন্ধকার’
না, কোনটারেই আমি ডরাই না।
ঐ নতুন ক্লাসরুম যেখানে
ছেলেরা আমার চুল টানে
কিংবা (কিসি বেবি গার্লস
উইথ দেয়ার হেয়ার ইন কার্লস)
কোনটারেই আমি ডরাই না মোটেও।
আমারে ব্যাঙ আর সাপও দেখাইতে আইসো না
আর যদি শুনেও থাকো আমার চিৎকার
যদি আমি ভীত হয়েও থাকি
সেটা শুধুমাত্র আমার স্বপ্নেই।
আমার কাছে এক জাদুমন্ত্র আছে
গুজায়ে রাখছি হাতার ভিতরে।
আমি দরিয়ার তলদেশেও হাঁটতে পারি,
আর শ্বাস না নিয়েও বাঁচতে পারি।
জীবনরে আমি ডরাই না মোটেও।
একটুও না।
একটুও না।
আমি জীবনরে ডরাই না মোটেও।
নারীশ্রম
~
আমারে বাচ্চা পালা লাগে
জামাকাপড় আছে সেলাই করা লাগে
ফ্লোর মোছা
বাজার করা
তারপর চিকেন ফ্রাই করা
বাচ্চার গা মোছা
আরো ধরো যে মেহমানদারী
তারপর বাগানে আগাছা ছাফ করা।
শার্ট আয়রন করা লাগে
বাচ্চাদের ড্রেস পরানো
আঁখ কাটা
ঘরদুয়ার ছাফসুরৎ রাখা
তারপর রোগীদের টেইক কেয়ার
আর তুলা তোলার কাজও করা লাগে।
ঝলমলায়ে উঠো গো, রইদ
ঝমঝমায়ে পড়ো রে, বিষ্টি
আলতো করে ঝরো, হে খোয়া
আর ঠান্ডা করে দাও আমার কপাল।
ঝড় গো, তোমার প্রচণ্ড বেগে
আমারে উড়ায়ে নাও এইখান থেকে
আকাশ পার করে ভাসায়ে দাও
যতক্ষণ না আমি আবার রেস্ট নিতে পারি।
বরফশীতল চুমা নিয়ে
আলতো করে পড়ো গো, তুহিন
সাদা চাদরে ঢাকো আমারে
আর আজ রাতে নিতে দাও বিশ্রাম।
সূয্য, বিষ্টি, বাঁকা আকাশ
পর্বত, সাগর, পাতা আর পাথর
তারার আলো, জোছনা
তোমরাই শুধু আছো আমার
যাদেরকে আমার আপন ভাবতে পারি।
আমি উঠে আসি
~
তুমি আমার কথা ইতিহাসে লিখে রাখতে পারো
তোমার বিষাক্ত আর বিকৃত কথা মিশায়ে তুমি
আমারে ময়লার মতন পিষে ফেলে দিতে পারো ভাগাড়ে
কিন্তু তারপরও ধূলার মতন আমি আবার আসবোই উড়ে।
আমার ঠোঁটকাটাভাব কি ভচকায়ে দেয় তোমারে?
কেন চেহারাটারে এমন বাংলা পাঁচ করে রাখো তুমি?
কারণ, আমি এমনভাবে হাঁটাচলা করি
যেন আমি তেলের খনি পাইছি আমার খাটের নিচে
আর তা উঠাইতে আছি।
ঠিক অজস্র চাঁদের মত আর অগণিত সূয্যের মত
নির্দিষ্ট টাইমে ফুলতে থাকা জোয়ারের মত
ঠিক বাড়তে থাকা আশার মত
এইভাবে আমি আবার আসবোই ফিরে।
তুমি কি আমারে মাজাভাঙ্গা দেখতে চাইছিলা?
মাথা নোয়াইন্না আর চোখ নামাইন্না?
চোখের পানির ফোঁটার মতন মাজুর শিনায়
আর আমার গূর্দাফাটা কান্দনে আমি দূর্বল, নেতাইন্না?
আমার অহংকার কি চ্যাতায়ে দেয় তোমারে?
তুমি চাইলেও কি এইটারে ড্যাঞ্জারাসলি পারো না নিতে?
কারণ, আমি এমনভাবে হাসি
যেন আমি গোল্ড পাইছি আমার পিছনের আঙিনাতে।
তুমি আমারে তোমার কথা দিয়েই কইলজা ছ্যাঁদা করে দিতে পারো
তুমি আমারে তোমার চোখ দিয়েই গিলে ফেলতে পারো
তোমার ঘৃণা দিয়েই তুমি আমারে গুম করে ফেলতে পারো
কিন্তু তারপরও বাতাসের মতন আমি আবারও উঠবোই মোচড়ায়ে।
আমার লাস্যময়তা কি আউলায়ে দেয় তোমারে?
এইটা কি তোমারে তব্দা খাওয়ায়ে ছাড়ে?
এই যে এমনভাবে আমি নাচি
যেন আমি ডায়মন্ড পাইছি আমার দুই উরুর মাঝেই?
ইতিহাসের কলঙ্কজনক কুঁড়েঘর পাড়ায়েই আমি আবার উঠে আসবো।
যেকোন অতীত থেকেই আমি মাথা তুলবো যা রোয়া আছে ব্যথার মধ্যে।
আমি এক কৃষ্ণসাগর, যে লাফায়ে উঠি আর ছড়ায়ে পড়ি
একটানা বয়ে চলি আর ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাসি।
ভয় আর আতঙ্কের রাইতগুলা পিছনে ফালায়ে আমি জেগে উঠি
এক নতুন সূয্যোদয়ে, যা ঝলমলে রঙিন
আমি উঠে আসি
ওই উপহার নিয়ে উঠে আসি যা আমার পূর্বপুরুষদের দেয়া
আমিই জনগণের সেই স্বপ্ন আর আশা
আমি উঠে আসি
আমি উঠে আসি
I rise.
আসো, আর হয়ে যাও আমার ননাই
~
হাইওয়ে জুড়ে বড় বড় গাড়ি
সব যেন এক জায়গায় ঘুরপাক খাইতেছে, দ্রুতগতিতে।
আর লোকজন? যা-ই জ্বলে, তা থেকেই ধুঁয়া টানতেছে।
কেউ কেউ তাদের জীবন জড়ায়ে ফেলছে
একটা ককটেল গ্লাসের চারপাশে।
আর তুমি বসে ভাবতেছো,
কোথায় যাবা এবার?
আমি জানি উত্তরটা।
আসো, আর হয়ে যাও আমার ননাই।
কিছু জোত্যিষী বলে,
আগামীকালই শেষ হয়ে যাবে পৃথিবী।
আবার কেউ কেউ বলে,
আমাদের হাতে আছে আর দুয়েক সপ্তা মাত্র।
খবরের কাগজ ভয়াবহ সব ঘটনায় ভরা।
আর তুমি বসে ভাবতেছো,
এখন কী করবা?
আমি জানি উত্তরটা।
আসো, আর হয়ে যাও আমার ননাই।
প্রেমের পরশে
~
আমরা, যারা সাহসের লগে অভ্যস্ত নই
উৎসববিমুখ,
একাকিত্বের খোলসে বন্দি হয়ে কোনরকম বেঁচে থাকি।
যতক্ষণ না প্রেম
তার পবিত্র উঁচা মন্দির রেখে
নেমে আসে আমাদের অন্তরে,
জীবনে মুক্তির স্বাদ দিতে।
প্রেম আসে,
আর লগে করে নিয়ে আসে উত্তেজনার ঢেউ
সুখের পুরানা স্মৃতি,
দুঃখের জীর্ণগাঁথা।
যদি আমরা সাহসী হই,
প্রেম ভয়ের শিকল ভেঙ্গে
মুক্ত করে আত্মারে।
প্রেম আমাদেরকে লজ্জা থেকে সরায়ে নেয়,
তার জ্বলজ্বলানো আলোয়
আমরা দস্যি হয়ে ওঠি
আর হঠাৎ বুঝতে পারি—
প্রেমই আমাদের সবকিছু।
আমরা যা ছিলাম, যা হবো—
তার সবটাই প্রেমের আলোয় গাঁথা।
একমাত্র প্রেমই আমাদের সত্যিকারের মুক্তি দেয়।
মায়াজাল
~
তোমার হাতটা দাও আমারে
আর আরশীনগর বানাও
আমার জন্যে।
তোমারে দেখবো সেখানে
আর চোখে চোখে রাখবো,
এই কবিতার উন্মত্ততার বাইরে।
অন্যদের জন্যে রাখো
তোমার শব্দ ছোঁয়ার গোপনীয়তা
আর বিরহী প্রেমের মউজ
কিন্তু আমারে
তোমার হাতটুকুই দাও।
তুমি যখন আসো
~
তুমি যখন আমার কাছে আসো, সাবলীলভাবে
আর আমারে ডাকো
অনেক দিনের পুরানা সেই রুমগুলার দিকে
যেখানে স্মৃতিরা বিশ্রাম নেয়
আর তা আমার সামনে এমনভাবে আনো, যেন কোন শিশুর জন্য, এক নিরিবিলি চিলেকোঠা
অল্প কিছু দিনের স্মৃতি
চুরি করা চুম্বনের গয়না,
ধার করা ভালোবাসার সামান্য স্মারক,
গোপন কথা বোঝাই ট্রাঙ্ক
আর আমি কানতে থাকি।
ফুল্লরা
Latest posts by ফুল্লরা (see all)
- মায়া এঞ্জেলোর কবিতা - August 19, 2025
- কবিতার বই থেকে কবিতা: দুই আনা সফর - July 3, 2024
- মরম আল মাসরী’র কবিতা - March 12, 2024