This entry is part 3 of 29 in the series ইন্টারভিউ সিরিজ

নভেম্বর ২০১৯ এ বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি পাবলিকেশনের ব্যানারে হেমিংওয়ের এই ইন্টারভিউর বইটা ছাপানো হইতেছে। বইয়ের অনুবাদক তানভীর হোসেনের ইন্ট্রো এইটা।

……………………………………………………………

রিকার্দো এলিয়াসার নেফতালি রেয়েস বাসোয়ালতোর জন্ম চিলিতে। এই নামে তারে সম্ভবতআপনেরাচেনেন না। চেনেন পাবলো নেরুদা নামে।

টিনেজেই কবি হিসাবে মোটামুটি সাড়া জাগাইছিলেন নেরুদা। আর মরার আগপর্যন্ত সেইটা ক্রমে বাড়তেই থাকছে। মরার পর বাড়ছে আরও বেশি।১৯৭৪ এ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর সান্তা মনিকা ক্লিনিকে মারা যান ১৯৭১ এ সাহিত্যে নোবেল পাওয়া পাবলো নেরুদা।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কবিতা বা মেনস্ট্রিম শিল্প- সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি ছিলেন রাজনীতিবিদ, ডিপ্লোম্যাট, এক্টিভিস্ট। ১৯৭১ এর চিলিয়ান নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কম্যুনিস্ট পার্টি থিকা নমিনেশনও পাইছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ভোট করেন নাই। সালভাদর আলেন্দেরে সমর্থন জানান ফলে গণতান্ত্রিক উপায়ে চিলির প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হন আলেন্দে।

কিন্তু ১৯৭৩ সালেই জেনারেল অগুস্তো পিনোশের করা সেনা অভ্যুত্থানে আলেন্দেরে হত্যা করা হয়। নেরুদার বাড়িতেও হামলা হয়। বইপত্র পুড়াইয়া ফেলা হয় তার। শোনা যায় সেনারা যখন তার বাড়িতে তল্লাশী চালাইতেছিল তখন নেরুদা বলছিলেন, “খোঁজো, খোঁজো এইখানে তোমাদের ভয় খাওয়ানোর মতো একটা জিনিসই আছে… কবিতা।”

প্যারিস রিভিউয়ে প্রকাশিত রিটা গিবার্টের নেয়া নেরুদার ইন্টারভিউটার ইংরেজি অনুবাদ করছিলেন রোনাল্ড ক্রাইস্ট আর আমি করছি সেইটার বাংলা।

তো ইন্টারভিউটার একটা ইন্ট্রো আছে যা শুরু হইছে নেরুদার একটা কথা দিয়া। কথাটা হইলো, “জীবনরে আমি কবিতা থিকা আলাদা কইরা দেখি নাই কখনও।” সান্তা মনিকায় মারা যাওয়ার দিন নেরুদা তার বউ মাতিলদেকে ফোন করেন, বলেন যে তারা মনে হয় আমারে মাইরা ফেলার জন্যে কিছু একটা দিছে।

এরপর দুনিয়ায় অনেক কিছুই ঘইটা গেছে। তার মধ্যে একটা হইলো ফোনটা করার সাড়ে ছয় ঘন্টা পর নেরুদার মৃত্যু। এরপর নানান সমায় তার মৃত্যুর কারণ খুঁজতে পোস্টমর্টেম করা হইছে। যার গড়পড়তা ফলাফল হইলো তারে ব্যাকটেরিয়া ইনজেক্ট কইরা মারাইছিল পিনোশে।

নেরুদার কবিতা বা কবিত্ব নিয়া এইখানে কিছু বলতে চাইতেছি না। সেইটা আপনেরাই যাচাই কইরা দেখতে পারবেন। তাই এইসব প্যাচাল।

ইন্টারভিউটা মোটাদাগে আমার বেশ ভাল্লাগছে। তবে একটা জায়গা নিয়া ফোকাসটা কম মনে হইছে সেইটা হইলো তার বাল্যকাল।

এইখানে তার বলা কথাগুলার প্রেক্ষিতে নেরুদারে ভালই লাগছে আমার। প্রথাগত কোন পেশাজীবি না হইলেও বই থিকা রয়্যালটির টাকায় তিনি বেশ কয়েকটা বাড়ি আর জাগাজমি কিনছিলেন। সেগুলার সবই আবার হয় কম্যুনিস্ট পার্টি না হয় কবি সাহিত্যিকদের খেদমতে খরচ করছেন। অথচ এরপরেও তারে সমসাময়িক লাতিন আমেরিকান সাহিত্য শিবির আক্রমণ কইরা গেছে সারা জীবন।

নেরুদা বেসিকালি সিস্টেমে ঢুইকা সিস্টেম বদলানোর ইচ্ছা ওয়ালা বান্দা ছিলেন বইলা মনে হইছে আমার। মানে এলার্জি থিকা কাউরে এড়াইয়া যাওয়ার লোক তিনি ছিলেন না মোটেও। তার এই পলিটিকাল এপ্রোচটাও ভাল্লাগছে আমার।

১৯৭১ এ নোবেল প্রাইজ পান নেরুদা। ঘুরছেন নানান দেশ। ভারতেও কাটাইয়া গেছেন বড় একটা সমায়। স্পেনে তো ছিলেনই। লোরকার সাথে তার বন্ধুত্বের কাহিনীও মোটামুটি সবারই জানা।

চিলিয়ানদের অরিজিন নিয়া তার উত্তর আমার কাছে খানিকটা উগ্র জাতীয়তাবাদী টাইপ মনে হইছে। অবশ্য এইটার কারণও আছে। স্প্যানিশ সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে তাদের কয়েকশো বছরের যুদ্ধ, এরপর নিজের বামপন্থী রাজনৈতিক জীবন, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের চোখের সামনে মরতে দেখা এগুলা হজম করাটা তো সহজ না মোটেও। কম্যুনিস্ট হইয়াও তাই চিলিয়ান অরিজিন প্রশ্নে তিনি রেসিয়াল সুপিরিয়রিটির সাবস্ক্রাইবার।

যাই হোক, জীবদ্দশায় নানান দেশ থিকা নানান মানুষের ভালবাসা পাওয়ার পাশাপাশি ঘৃণাও কুড়াইছিলেন প্রচুর।

আর এইরকম রঙিন জীবন আর কয়জন কবিরই বা হয়। নেরুদার ছিল কোন সন্দেহ নাই। যেমন তিনি নিজেই বলছেন যে প্রত্যেক লেখকেরই নানান ফেইজ থাকে আর একেকটা ফেইজ তার একেকটা জায়গা সবার সামনে নিয়া আসে।

……………………………………………………………

বইটা রকমারি’তে প্রি-অর্ডার করতে পারেন:

https://www.rokomari.com/book/191552/the-art-of-fiction

এই বইটাসহ বাছবিচার ও প্রিন্ট পোয়েট্রি সিরিজের পয়লা কিস্তির ৬টা ইন্টারভিউ’র বই প্রি-অর্ডারে কিনতে পারেন, এই লিংকে:

https://www.facebook.com/103006071146144/posts/103248241121927/

Series Navigation<< বইয়ের ইন্ট্রু: একেক জন লেখক একেক তরিকায় লেখেন, আর কামিয়াবি তাদের কাছে একেকভাবে ধরা দেয় -টি.এস. এলিয়টবইয়ের ইন্ট্রু: যা দরকার… তা হইতেছে… একটা শক্তিশালী লোকাল কালচার উদ্ভাবন করা – ওরহান পামুক >>
The following two tabs change content below.
Avatar photo

তানভীর হোসেন

জন্মঃ ২৫ জুলাই বগুড়া মিশন হাসপাতালে। জন্মের ২৫ বছর পর জানতে পারেন তার জন্ম সিজারিয়ান সেকশনে না বরং নরমাল ডেলিভারিতে হয়েছিল। পেশায় চিকিৎসক। দুই বাংলার বিভিন্ন মাধ্যমে (অনলাইন, অফলাইন- প্রিন্টেড) লেখালেখি করছেন। মূলত কবিতা লেখেন। প্রথম কবিতার বই "রাতের অপেরা"(জেব্রাক্রসিং প্রকাশনা) প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের বইমেলায়। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বেশ কিছু অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বই হিসাবে অনুবাদের কাজ "নাইন" প্রথম। বইটা ২০১৯ এর বইমেলায় বিদ্যানন্দ প্রকাশনা থেকে আসবে।