Main menu

বই: চিনোয়া আচেবে’র ইন্টারভিউ Featured

এই বইটাসহ ইন্টারভিউ সিরিজের অন্য বইগুলা কিনতে ফেসবুকে পেইজে নক করেন!

https://cutt.ly/Kbkxqz6
…………………….

অনুবাদকের খুচরা আলাপ

আমি খেয়াল কইরা দেখছি যে, কাউরে নিয়া, বিশেষ কইরা কবি সাহিত্যিকদের নিয়া লিখতে গেলেই তাদের জন্মসাল দিয়া লেখা শুরু করার একটা মার্শাল ল’র মতন ব্যাপার আছে। যাই হোক, চিনুয়া আচেবের ইন্টারভিউয়ের অনুবাদ নিয়া দু-চারটা খচুরা আলাপ পাড়তে গিয়া সেইটা মানব না ভাবছিলাম কিন্তু তা আর হইল না, কারণ তার জন্মসালটা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৩০ সালে, মানে তার জন্মের সময় নাইজেরিয়া ছিল পরাধীন একটা দেশ। ইংল্যান্ডের একটা কলোনি ছিল তারা। দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার ওগিদিতে জন্মানো আচেবে ছিলেন ইগবো গোত্রের লোক। তার পূর্বপুরুষেরা বাপ-দাদাদের ধর্ম ছাইড়া খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করছিলেন বহু আগেই। ফলে খ্রিস্টান পরিবারেই তার বাইড়া ওঠা। যদিও ইন্টারভিউটাতে তার বা তার পরিবারের এই জার্নি নিয়া খবু একটা আলাপ নাই। শুধু একটা জায়গায় আছে যে, তার বাবা যাজক হিসাবে নাইজেরিয়ায় নানান জায়গায় তাদের নিয়া ঘুরে বেড়াইছেন বহু বছর।

আচেবে ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন। ফলে স্কুল-কলেজ শেষে তিনি স্কলারশিপে ডাক্তারি পড়ারও সুযোগ পেয়ে যান। কিন্তু তা না পইড়া উনি বিখ্যাত ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন বইলা ঠিক করেন। ফলে স্কলারশিপটা মাঠে মারা যায়।

নাইজেরিয়ার ইতিহাসে ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব আমাদের দেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই। আচেবের থেকে বয়সে চার বছরের ছোট ওলে সোয়িংকাও ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র, যিনি পরে গিয়া নোবেল প্রাইজ পাইছিলেন। আসলে নাইজেরিয়ার স্বাধীনতার পেছনে এই জায়গার অনেক অবদান আছে।

তো যাই হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই আচেবের লেখালেখি শুরু। ঔপনিবেশিক শাসনে বাইড়া ওঠা আর দশটা শিক্ষিত পোলাপানের মতো আচেবেও নিজের দেশ-জাতি-ভাষা নিয়া ধীরে ধীরে সচেতন হইয়া উঠতে শুরু করেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হইল উনার সব লেখালেখির ইংরেজিতে।

সেইটা কেমনে হইল এইটার একটা মজার ব্যাখ্যাও এই ইন্টারভিউটায় আছে। খ্রিস্টান মিশনারিরা কেমনে উইড়া আইসা জুইড়া বইসা তাদের ভাষাটার দফারফা কইরা দিছিল, তা ওই জায়গাটা পড়লেই টের পাওয়া যায়। আর এগুলা যে সাম্রা জ্যবাদী আগ্রাসনের চিরাচরিত অভ্যাস তা আচেবে ঠিকই জানতেন। এগুলার পাশাপাশি জীবনের নানান কিসিমের তিতা অভিজ্ঞতা, কলোনিয়াল নাক উঁচা ভাবসাব, বর্ণবাদ ইত্যাদি তো আছেই।

ঔপনিবেশিক লুটতরাজ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আর পোস্ট কলোনিয়াল যুগে নিজেদের পুটকি মারামারির দিক দিয়া আফ্রিকা আর ইন্ডিয়ান উপমহাদেশের মারাত্মক মিল। এই দুইটা জায়গাতেই ওই দুই সময়ে দুর্দান্ত সব সাহিত্যিকদের দেখা পাওয়া গেছিল। আচেবেও তেমনি একজন। ইনারা আসলে একটা বিশাল স্কেলের আগ্রাসনের বাইপ্রোডাক্ট।

আধুিনক আফিকান সাহিত্যের প্রথম দিককার মায়েস্ত্রোদের মতো আচেবের লেখাও মলূ ত নিজেদের শিকড়ের দিকে ফোকাসড। হাজার হাজার বছরের পুরান আফ্রিকান রূপকথা, প্রবাদ-প্রবচন, পুরুষের মতো বা কখনো কখনো পুরুষের চাইতেও শক্তিশালী নারীই তার অধিকাংশ লেখার নিউক্লিয়াস। থিংস ফল অ্যাপার্ট তার প্রথম বিখ্যাত কাজ। তবে এতটা শিকড় সচেতন হইয়াও তিনি যে এলিয়টরে এড়াইতে পারেন নাই, তা উপন্যাসটার নাম দেখলেই টের পাওয়া যায়। আর এইটার ব্যাখ্যাও আচেবে এই ইন্টারভিউয়ে দিছেন। তবে এইটাও ঠিক যে, ধার করা নাম হইলেও তা উপন্যাসটার গায়ে দাগ লাগাইতে পারে নাই এতটুকু।

এই ইন্টারভিউয়ে আচেবের জীবনের একটা মহাগুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়া কোনো প্রশ্ন নাই। তা হইল বায়াফ্রা। ১৯৬৭ সালে নাইজেরিয়ায় বায়াফ্রা নামের একটা অ ল নিজেদের স্বাধীন বইলা ঘোষণা করে। আচেবে তাদের সমর্থন জানান। তিন বছর মারামারি-কাটাকাটি চলার পর নাইজেরিয়া সরকার আবার অ লটা নিজেদের দখলে নিয়া নেয়। এতদিন শাসন-শোষণে কাটানো একটা দেশের বুদ্ধিজীবী হইয়াও এরকম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন দেয়াটা কিন্তু যা তা কথা না! আচেবের এই জিনিসটা আমার ভাল্লাগছে। আর এই সিদ্ধান্তটা যে তার ক্যারিয়ারেরও ক্ষতি করছিল তাও একটু মাথা খেলাইলেই বোঝা যায়।

মানুষ হিসাবে যে তিনি যথেষ্ট ঠোঁটকাটা ছিলেন তা জোসেফ কনরাডের লেখা নিয়া করা তার অ্যান ইমেজ অফ আফ্রিকা: রেসিজম ইন কনরাড’স ‘হার্ট অফ ডার্কনেস’ শিরোনামের সমালোচনা পড়লেই বোঝা যায়। ফলে বেশ কয়েকটা জোশ উপন্যাস লেখেও তার কপালে নোবেল জোটে নাই। অথচ ওলে সোয়িংকা পাইছিলেন ঠিকই। বিতর্ক করার জন্যে বলতেছি না, তবে ২০১৩-তে আচেবে যখন মারা যান, তখন আফ্রিকায় তার নোবেল না পাওয়া নিয়া অনেক কথা উঠছিল। আর বলতে দ্বিধা নাই যে, আচেবের সেই নামকাওয়াস্তে সমর্থকেরা ব্যাপারটারে আসলেই নোংরামির পর্যায়ে নিয়া যান। তো তখন সোয়িংকা দ্য গার্ডিয়ান-এ দেয়া একটা সাক্ষাৎকারে এই নোংরামি নিয়া অনেক কথা বলছিলেন। তবে এও বলছিলেন যে, বায়াফ্রা প্রশ্নে আচেবের অবস্থান একেবারেই পছন্দ না তার। এইটা নিয়া আচেবের লেখা বই দেয়ার ওয়াজ অ্যা কান্ট্রি : অ্যা পারসোনাল হিস্ট্রি অফ বায়াফ্রা বিষয়ে তিনি বলছিলেন যে, এরকম একটা বই যেন আমার কোনোদিন না লেখা লাগে!

শেষ জীবনে আইসা আচেবে একটা খারাপ ধরনের গাড়ি দুর্ঘটনায় পইড়া মারাত্মক জখম হন। অপারেশন করা হয় তার শরীরে। বেঁচে গেলেও হুইল চেয়ারের জীবন মাইনা নিতে হয় তাকে। এরকম কিছুনা হইলে হয়তো জগতে আরও অনেকদিন পাওয়া যাইত তারে। যদিও আয়ুহিসাবে ৮২ বছর খুব একটা কম না!

তানভীর হোসেন
………………………………….


ইন্টারভিউয়ার :
আচেবে পরিবারের একজন হিসাবে ইগবো গ্রামে আপনার বাইরা ওঠা ও লেখাপড়া নিয়া কিছু বলেন; এমন কিছু কি ছিল সেই সময়, যা পরে আপনারে লেখালেখির দিকে ঠেলে দিছে?

চিনুয়া আচেবে : আমার মনেহয়, যেই জিনিসটা আমাকে এইখানে নিয়া আসছিল সেইটা হইতেছে গল্পের ব্যাপারে আমার আগ্রহ। এটাই হয়তো পরে গিয়া আমারে লেখালেখির দিকে ঠেলে দিছে। গল্প লেখা নিয়া তখন কোনো আগ্রহ ছিল না। তখন তা থাকার কথাও না, কারণ ওই বয়সে গল্প লেখা কঠিন। ফলে কেউ তা ভাবেও না। কিন্তু আমি জানতাম যে, আমি গল্প ভালোবাসি। আমাদের বাসায় বিশেষ করে আম্মা আর বড় বোনদের কাছে শোনা গল্পগুলা, যেমন ধরেন সেই কচ্ছপের গল্পটা। এইরকম যখন যারে পাইতাম, তার কাছেই গল্প শুনতাম। ধরেন আমার বাবার কাছে লোকজন আসছে, আলাপ করতেছে, আর আমি আশপাশে ঘুরঘুর করতেছি, তাদের গল্পগুজব শুনতেছি, এইরকম আর কি। স্কুলে থাকতে যেসব গল্প পড়া লাগত, সেগুলাও ভালো লাগত খুব।

একটুঅন্যরকম গল্প ছিল অবশ্য সেগুলা; তা ভালো লাগতো। নাইজেরিয়ার যে  অঞ্চলে আমরা থাকতাম, সেখানকার সবাই আবার অনেক আগে থেকেই খ্রিস্টান ধর্মে কনভার্ট হইছিলেন। আমার বাবা তো ধর্মগুরুও ছিলেন। ইগবোল্যান্ডের বিভিন্ন অ লে প্রায় ৩৫ বছর গসপেলের উনার বাণী প্রচার কইরা বেড়াইছেন। উনার ছয় সন্তানের মধ্যে আমি পাঁচ নাম্বার। আমি বড় হইতে না হইতেই বাবা অবসরে যান এবং পরিবার নিয়া নিজের গ্রামে ফিরে আসেন। স্কুলে পড়তে শেখার পরপরই নানান মানুষ, নানান দেশের গল্প পড়তে শুরু করি। যে জিনিসগুলা আমারে মুগ্ধ করে, সেগুলা নিয়া একবার একটা প্রবন্ধ লিখছিলাম। অদ্ভুত সব ব্যাপারস্যাপার আর কি! যেমন ধরেন আফ্রিকার এক জাদুকরের কথা, যিনি একটা প্রদীপ খুঁজতে চীন চইলা গেছিলেন। এগুলা আমারে খুব টানে, কারণ এই কাহিনিগুলা এত দূরের সব জিনিস নিয়া যে, অবাস্তব লাগে।

এরপর আরেকটুবড় হয়ে যখন অ্যাডভেঞ্চার পড়া শুরু করি, তখন কেন জানি না আমি কেবল সেসব গল্পে বলা অসভ্য জংলিদের সামনাসামনি হওয়া নামকাওয়াস্তে ভালো ভালো সাদা মানুষদের পক্ষই নিতাম। কত ভদ্র-সভ্য তারা! কী অসাধারণ। সমঝদার। বাকিরা তাদের নখেরও যোগ্য না, তারা ছাড়া সবাই কুৎসিত, মাথামোটা। আর এসব পইড়াই আমি বুঝতে পারি যে, আপনের নিজেরও একটা গল্প থাকা দরকার, তা না হইলে খবর আছে। কথায় আছে, সিংহের নিজের গল্প বলার যদি কেউ না থাকে তাইলে শিকারের যাবতীয় গল্প হবে শিকারির ভালোমানুষি নিয়া। এই জিনিসটা আমি বুঝছি অনেক পরে। একবার যখন বুঝতে পারলাম যে আমি লেখক হবো, তখনই টের পাইলাম যে আমার সেই গল্পকার হইতে হবে, ওই সিংহদের গল্পকার আর কি। এইটা একজনের কাম না। কিন্তু তারপরও কাজটা আমাদের করতেই হবে যেন শিকারের গল্পগুলায় শিকারের যন্ত্রণার গ্লানি, সাহসিকতার পাশাপাশি সিংহদের কথাটাও থাকে।

ইন্টারভিউয়ার : বিখ্যাত ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকের গ্রাজুয়েটদের মধ্যে আপনে একজন। তখনকার দিনগুলা কেমন ছিল, আর আপনে পড়াশোনা করছেন কী নিয়া? আপনের লেখালেখিতে কি সেগুলা কামে লাগছে?

আচেবে : সে সময় ইবাদান জোশ একটা জায়গা ছিল। একদিক দিয়া বলা যায়, সেইটা ঔপনিবেশিক পরিস্থিতির প্যারাডক্সটা অনেকটাই খোলাসা করতে পারছিল। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটার জন্ম নাইজেরিয়ায় ব্রিটিশ শাসনের শেষ দিকে। ভালো কাজ বইলা তাদের যদি কিছু থাইকা থাকে তাইলে ইবাদান তার মধ্যে একটা। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কলেজ হিসাবে এর শুরু হয়। কারণ ব্রিটিশদের অধীনে আপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা জিনিস তাড়াহুড়া কইরা করতে পারেন না, এইটা তাদের ধাতে নাই। আপনারে অন্য কারও ল্যাঞ্জা হিসাবে শুরু করা লাগে। একটা নিয়মের মধ্যে দিয়া যাইতে হয়। আমরা ছিলাম আসলে লন্ডনের ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। ফলে আমার ডিগ্রিটা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া। সে সময়কার ব্যাপারটাই ছিল এইরকম। ইবাদানের পুরাপুরি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াটা ছিল স্বাধীনতার একটা লক্ষণ।

বিজ্ঞান দিয়া শুরু কইরা একে একে আমি ইংরেজি, ইতিহাস আর ধর্ম নিয়া পড়াশোনা করি। এই বিষয়গুলা আমার ভাল্লাগত, কাজেরও মনে হইত। ধর্ম আমার কাছে নিতান্তই নতুন আর মজার একটা বিষয় ছিল, কারণ খ্রিস্টান ধর্মতত্বের পাশাপাশি আমাদের পশ্চিম আফ্রিকান ধর্মগুলা নিয়াও পড়া লাগত। ড. প্যারিন্ডার ছিলেন আমাদের ধর্মতত্তে¡র শিক্ষক; উনি এখন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস প্রফেসর। তিনি এই বিষয়ের এক্সপার্টদের একজন। পশ্চিম আফ্রিকার উপর দাহোমিতে  তার ব্যাপক গবেষণা আছে। ওই সময়টাতেই প্রথমবারের মতো নিজেরটাসহ অন্যান্য ধর্মী য় সিস্টেম আমার চোখে পরিষ্কারভাবে ধরা দেয়। সিস্টেমগুলারে পাশাপাশি দেখতে পারা এবং তাদের মধ্যেকার তলু নামলূ ক আলোচনা জানতে পারাটা আমার কাছে বেশ মজার একটা ব্যাপার ছিল। ওই ডিপার্টমেন্টে প্রফেসর জেমস ওয়েলচরেও পাইছিলাম আমরা, অসাধারণ একজন মানুষ। আমাদের এইখানে আসার আগে রাজা ষষ্ঠ জর্জ, বিবিসিসহ ক্ষমতাশালী প্রায় সব মহলেই যাজক হিসাবে কাম করছিলেন তিনি। বেশ ঝানুযাজক ছিলেন তিনি। একবার উনি আমারে বলছিলেন, হয়তো তোমাদের যা দরকার বা তোমরা যেমন চাও, তেমন কিছু শিখাইতে পারব না আমি। কেবল নিজে যা জানি, সেইটাই শিখাইতে পারব হয়তো। কথাগুলা খবু ভাল্লাগছিল আমার। জীবনের সেরা শিক্ষাটা ইবাদানেই পাইছি আমি। তাদের এই মানসিকতাটুকু ছাড়া দরকারি আর তেমন কিছু সেখানে শিখি নাই। সেইটা আমারেই শিখে নিতে হইছে। ইংরেজি ডিপার্টমেন্টটার কথা বললেই ব্যাপারটা ভালো কইরা বুঝতে পারবেন। আমরা যে লেখক হইতে পারি, এইটা নিয়া সেইখানকার লোকজন হাসাহাসি করত। এইটা তাদের মাথাতেই ঢুকত না। মনে আছে, একবার ডিপার্টমেন্টাল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। লম্বা ছুটিতে একটা ছোটগল্প লেখা লাগবে, এই ঘোষণা দিয়া নোটিস দেয়া হইছিল। এর আগে কোনোদিন আমি ছোটগল্প লিখি নাই কিন্তু বাড়িতে আসার পর ভাবলাম দেখিই না একবার চেষ্টা কইরা। যেই ভাবা সেই কাজ। একটা ছোটগল্প লিখে জমা দিয়া দিলাম। দেখতে দেখতে মাস কাইটা গেল; তারপর একদিন ফলাফল দেখলাম নোটিশ বোর্ডে। সেইখানে লেখা – যেসব লেখা জমা পড়ছে, সেসবের একটাও পুরস্কারের যোগ্য না। কিন্তু সেইখানে আমার নামটা দিয়া তারা বলছে যে, আমার লেখাটা উল্লেখ করার মতো। ইবাদান তখন যে সে জায়গা ছিল না, সেইখানে নাম ফুটাইতে হলে নিজের সর্বোচ্চটা দেয়া লাগত। তাই যেখানে ইবাদান বলতেছে যে, আপনের লেখা উল্লেখ করার মতো, তখন সেইটা বিরাট একটা ব্যাপার।

তো এরপর যে টিচার ওই প্রতিযোগিতা আয়োজন করছিলেন, আমি তার কাছে যাই। গিয়া বলি যে, আপনে বলছেন আমার গল্পটা খুব ভালো না হইলেও ইন্টারেস্টিং। তাইলে সমস্যাটা আসলে কই? তো উনি তখন বললেন যে, সমস্যাটা আসলে গল্পটার ফর্মে। ফর্মটা ঠিক হয় নাই। তো আমি বললাম, আচ্ছা, আমারে বিষয়টা একটু বুঝায়ে বলেন তো! তখন উনি বললেন, বলব, তবে এখন না। এখন আমি টেনিস খেলতে যাইতেছি; পরে এইটা নিয়া কথা হবে। একটুমনে করায়ে দিয়েন, বলব। এইভাবে পুরা টার্মটাই পার হইল। যখনই তার সাথে দেখা হইত তখনই আমি জিজ্ঞেস করতাম, আজকে কি ফর্ম নিয়া কথা বলা যাবে? আর উনি কইতেন, না, এখন না, পরে। এরপর টার্মের একেবারে শেষদিক আইসা একদিন উনি আমারে ডাইকা বললেন, আমি আপনের গল্পটা আরেকবার পইড়া দেখলাম, কোনো সমস্যা নাই। তো এই ছিল আমাদের ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট! ছোটগল্প লেখা নিয়া সেইখানে এতটুকুই শিখছি আমি। আপনের নিজের তরিকায় আগাইতে হবে এবং লেখতে হবে।

……………….

ইন্টারভিউয়ার : আপনে মি. জনসনরে বিখ্যাত কইরা দিছিলেন। কলোনিয়াল উপন্যাসগুলার মধ্যে কনরাডের হার্ট অফ ডার্কনেস নিয়া লেখা প্রবন্ধটাই আপনের সবচাইতে মারমার কাটকাট লেখা। আমার খবু জানতে ইচ্ছা করতেছে যে, এই জামানায় আইসা পশ্চিমাদের কাছে আফ্রিকার কোন চেহারাটা ফুইটা ওঠে বইলা আপনের ধারণা?

আচেবে : আমার ধারণা এইটা আগের চাইতে কিছুটা পাল্টাইছে এখন। তবে খুব যে বেশি তা না। অবস্থানের কথা যদি ধরি, হার্ট অফ ডার্কনেস-এর বর্ণবাদের মধ্যে কিছুনা দেখতে পাওয়া লোকজনের গুরুত্ব ও বিদ্যাবুদ্ধি নিয়া যদি বলি তাইলে বলা লাগে, আমরা যে পুরা আলাদা দুইটা জগতে বসবাস করতেছি, তা মোটামুটি নিশ্চিত। যাই হোক, যদি কারও গল্প আপনের না ভাল্লাগে তাইলে আপনাকে নিজেরটা লিখতে হবে। কারও বলা কথা যদি না ভাল্লাগে, তাইলে আপনাকে বলতে হবে যে, তার কোন জিনিসটা ভাল্লাগতেছে না আপনের। কেউ কেউ ভাবে যে, আমি হয়তো বুঝাইতে চাইতেছি, কনরাডের লেখা পড়ার দরকার নাই। এরকম কিছু নারে ভাই! আমি কনরাডের লেখা পড়াই। হার্ট অফ ডার্কনেসও পড়াই আমি। এইটার উপর একটা কোর্স পড়াই আমি, যেখানে বলি, খেয়াল করেন ইনি কেমনে আফ্রিকানদের দেখছেন। তার এই দেখার মধ্যে কোনো মানবতা দেখতে পাইতেছেন কি? লোকে বলবে, তিনি ইম্পেরিয়েলিজমের বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু এইটুক যথেষ্ট না। আমি নিজেও ইম্পেরিয়েলিজমের বিপক্ষে। কিন্তু শুধু এইটুকু বলাটাই যথেষ্ট না যে, আমি তো ইম্পেরিয়েলিজমের বিপক্ষে কিংবা এই লোকগুলার সাতে যে আচরণ করা হইতেছে তার বিপক্ষে। বিশেষ কইরা যেখানে কনরাড সরাসরি বলতেছেন, ‘পেছনের পায়ে ভর দিয়া দাঁড়ায়ে থাকা কুকুর।’ এই ধরনের জিনিসগুলা আগাগোড়াই পাশবিক ইমেজারি আসলে। তিনি এগুলার মধ্যে কোনো সমস্যা দেখেন নাই। তাইলে বলতেই হয় যে, আমরা পুরা আলাদা দুইটা জগতের বাসিন্দা। যতদিন এই দুইটা জগৎ এক না হবে, ততদিন কপালে বহুত দুঃখ আছে আমাদের।

………….

ইন্টারভিউয়ার : আপনের লেখাপত্রগুলা কি ইগবো ভাষায় অনূিদত হইছে? তা হওয়াটা কতটুকু দরকারি?

আচেবে : না হয় নাই। ইগবো ভাষার একটা সমস্যা আছে। সমস্যাটার সিলসিলা বেশ পুরান আর গোড়া বেশ শক্ত, বিষয়টার শুরু এই শতকের শুরুর দিকের অ্যাংলিকান মিশন থেকে। তারা ডেনিস নামের এক মিশনারিকে পাঠায়, আর্চডিকন ডেনিস। উনি পন্ডিত মানুষ ছিলেন। তো উনার কথা হইল যে, ইগবো ভাষার অনেকগুলা ডায়ালেক্ট আছে, যেগুলা নিয়া একটা সাধারণ ডায়ালেক্ট করা দরকার, যাতে তা লেখার জন্যে ব্যবহার করা যাইতে পারে। আর মিশনারিদের হাত যেহেতু খুব লম্বা ছিল, সেহেতু তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারত। তো তার কথাই আইন হয়ে গেল। বাইবেলের চমৎকার একটা পুরান অনুবাদ ছিল আমাদের ডায়ালেক্টে করা, অনুবাদ হিসাবে যদিও অসাধারণ কিন্তু তারপরেও তা সরায়ে ফেলা হইছিল ডেনিসের কারণে। এবং উনার ইচ্ছা অনুযায়ী নতুন ডায়ালেক্ট তৈরি করা হইছিল। তো কাজটা করতে গিয়া উনি ছয়টা ভিন্ন ডায়ালেক্টালের ছয়জনরে ধইরা আনছিলেন। তারপর তাদের এক টেবিলে বসাইয়া বাইবেল ধরাইয়া দিছিলেন অনুবাদ করার জন্য; তারা যা করছিলেন তা অনেকটা এইরকম। বাইবেলের প্রথম লাইনটার কথাই যদি ধরেন যে, In the begining, God created… যা-ই হোক। তো তারা প্রথমে In শব্দটা নিয়া হয়তো একজনরে কইলেন, তোমার ডায়ালেক্টে এইটার মানে কী? তো উনি যা কইলেন, সেইটা নেয়া হইল। এরপর আরেকজনরে ধরেন, বলা হইল, তোমার ডায়ালেক্টে the-এর মানে কী? তো উনি যা কইলেন, সেইটা নেয়া হইল। আর এইভাবে টেবিল ঘুইরা ঘুইরা তারা যা বানাইলেন, সেইটাই হইল ইগবো মানভাষা। আর এইটা দিয়া পরে আবার বাইবেলের অনুবাদ করা হয়। তো এর ফলাফল যা দাঁড়াইল, তা অদ্ভুত। আমাদের বাসায় দিনরাত বাইবেল পড়া হইত তাই ব্যাপারটা বলতে পারব আমি। বাইবেল খুব ভালো কইরা জানি আমি কিন্তু ওই মানভাষার কারণে গাইতে পারি না। ওই ভাষায় কোনো গান বানানো যায় না। ভাষাটা খুবই ভারী, কষা আর কাঠের মতো মরা, রসহীন। কিছুই করা যায় না সেইটা দিয়া। প্রায় একশ বছর ধইরা চালু থাকায় একটা প্রতিষ্ঠাও পাইছে। আমাদের পন্ডিতদের মধ্যে তার একটা কদরও আছে। ১৯০৬-এর ডেনিসের মতো এখনকার কিছু ব্যাকরণবিদ ভাষাটারে কুক্ষিগত কইরা রাখছেন এবং মানভাষা হিসাবে আগলাইয়া রাখছেন। আমার কাছে পুরা বিষয়টারে একটা ট্র্যাজেডি বইলা মনে হয়। আমার মতে ডায়ালেক্টরে তার নিজের মতো থাকতে দেয়া উচিত। লোকজন তাদের যে ডায়ালেক্টে ইচ্ছা লেখবে। সময় গেলে ডায়ালেক্টগুলা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে থেকে কোনো একটারে বাইছা নিবে আর তা শুরুও হইছিল, কারণ ইগবো লোকজন সব সময়ই একসাথে ঘোরাঘুির করত, মেলামেশা করত। যোগাযোগের একটা কায়দা তাদের ছিল। কিন্তু তা আর পরে হইতে দেয়া তো হয়ই নাই, বরং উল্টা আমাদের পন্ডিতেরা সব গুলাইয়া ফেলছেন। এই জাতীয় অনুবাদে আমার কোনো আগ্রহ নাই। কেউ যদি আইসা বলে যে, আমি আপনের উপন্যাস ইগবোতে অনুবাদ করতে চাই। তাইলে আমি তারে বলব, ঠিক আছে করেন। কিন্তু আমি যখন ইগবোতে লিখি, তখন নিজের ডায়ালেক্ট অনুযায়ী লিখি। কিছু কবিতা আছে আমার এই ডায়ালেক্টে। হয়তো কোনোদিন থিংস ফল অ্যাপার্টও সেই ডায়ালেক্টে অনুবাদ করতে পারি শুধু এইটা দেখাইতে যে, আমি কী বুঝাইতে চাইতেছি। যদিও দোভাষী হিসাবে আমি মনে করি যে, ভাষা হিসাবে ইংরেজিই উপন্যাস ফর্মটার সাথে ভালো যায়। আর কবিতা ও নাটকের সাথে যায় ইগবো ভাষা।

ইন্টারভিউয়ার : পাবলিক ইস্যুতে লেখকদের ঠিক কতখানি জড়ানো উচিত বইলা মনে করেন?

আচেবে : কারও জন্যে নিয়মকানুন ঠিক করার আমি কেউ না। কিন্তু আমি মনে করি লেখকরা শুধু লেখকই না, তারা তো একটা দেশের বাসিন্দাও। প্রাপ্তবয়স্ক লোকজন। এক্ষেত্রে আমার কথা হইল, ভালো ও সিরিয়াস আর্ট সবসময়ই দোষ দেয়ার বদলে মানবতার হেল্প করতে চায়, তার কাজে লাগতে চায়। মানবতার জন্যে হতাশাজনক আর্ট কেমনে আর্ট হয়, তা আমার বুঝে আসে না। মানবতাকে অস্বস্তিতে ফেলা আর্ট হইলেও মানা যায়; কিন্তু হ্যাঁ, যার মূল জিনিসই মানবতার বিরুদ্ধে তা আমি নিতে পারি না। এই জন্যেই আমি বর্ণবাদের ঘোর বিরোধী। কারণ এটা মানবতাবিরোধী। কিছু লোক মনে করে যে আমি হয়তো আমার দেশের মানুষের কথা বলতেছি তাই আমাদের প্রশংসা করা লাগবে তাদের। দোহাই লাগে! এগুলা ভাবার আগে আমার বইপত্র পইড়া দেখেন। তাদের কোনো প্রশংসা আমি করি না। তাদের সবচে বড় সমালোচক আমি নিজে। কিছুলোক ভাবে আমার ছোট প্যাম্ফলেট দ্য ট্রাবল উইথ নাইজেরিয়ায় একটু বেশিই বাড়াবাড়ি হইয়া গেছে। লেখালেখির জন্যে এমন কোনো ঝামেলা নাই, যাতে পড়তে হয় নাই আমারে। আর্টকে সবসময়ই মানবতার পাশে থাকতে হবে। মনে হয় র্যাঁবো সম্পর্কে ইয়েভতুশেঙ্কো একবার বলছিলেন যে, ওই ফ্রেঞ্চ লোকটা, যে ইথিওপিয়া গিয়া যাবতীয় রোগ আমদানি করছিল! উনি তার সম্পর্কে আরও বলছিলেন যে, একজন কবি কখনো দাস ব্যবসায়ী হইতে পারেন না। র্যাঁবো যখন দাস ব্যবসায় নামেন, তখন কবিতা লেখা ছাইড়া দেন। কবিতা আর দাস ব্যবসা একসাথে চলতে পারে না। এইটাই আমার কথা।

……………..

ইন্টারভিউয়ার : আমার মতে, আপনের বানানো বিখ্যাত নারী চরিত্রগুলার মধ্যে অ্যান্টহিলস অফ দ্য সাভানা-এর বিয়েট্রিস একটা। আপনে কি তাকে চিনেন? তার মধ্যে নিজের ছায়া দেখতে পান? আমার মতে, উনি অনেকটা উদ্ধারকারী টাইপের চরিত্র।

আচেবে : হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি তার মধ্যে নিজেরে দেখতে পাই। খারাপ হোক বা ভালো, আসলে আমার সব চরিত্রের মধ্যে নিজেরে দেখতে পাই আমি। তাদেরকে জীবন্ত কইরা তোলার জন্যে আমার তা করা লাগে। মানি আর না-মানি তাদেরকে আমার বুঝতে হয়। কিন্তু অবশ্যই তা পুরাপুরি না – সেইটা করা অসম্ভব; আসলে পুরাপুরি একরকম কইরা দেখানোটা ঠিকও না। নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের আপনার থেকে আলাদা হওয়ার মতো কিছু কিছু জায়গা থাকাই লাগবে। যদিও মাঝে মধ্যে বিয়েট্রিসের মতো চরিত্ররা মনে হয় আমার নিজের চালচলন, বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্খা পুরাপুরি ধারণ করে। বিয়েট্রিসই আমার ফিকশনের প্রথম প্রধান নারী চরিত্র। যারা আমার সব লেখাজোখা পড়ে নাই, তারা বলে যে, এটাই আমার একমাত্র নারী চরিত্র, সম্ভবত আমি তারে নারীবাদীদের চাপে পইড়া বানাইছি। আসলে বিয়েট্রিসের মতো চরিত্রের উপস্থিতি নো লংগার অ্যাট ইজ, অ্যা ম্যান অফ দ্য পিপল থেকে অ্যান্টহিলস অফ দ্য সাভানা সব ফিকশনেই কমবেশি ছিল। আমি নারীদের উপর নিজেদের পাকানো ঝামেলা থেকে উদ্ধার করার গুরুদায়িত্ব দিয়া থাকি, যা আসলে আমাদের প্রথাগত সংস্কৃতির কথাই বলে, যেখানে নারীরা ততক্ষণ পর্যন্ত রাজনীতি নিয়া মাথা ঘামায় না, যতক্ষণ পুরুষেরা এমন কোনো ঝামেলা না পাকায় যার ফলে পুরা সমাজটাই থমকায়ে যায়। এরকম হইলেই কেবল নারীরা আগায়ে আসে… এইভাবেই গল্পগুলা লেখা, এটাই বলার চেষ্টা করছি আমি। সেমবিন ওসমানের একটা সিনামায় উনি এরকমই একটা পরিস্থিতি দেখান, যেখানে পুরুষেরা ফরাসি কলোনিয়াল শাসনের সামনে ধুঁকতেছিল, মার খাচ্ছিল, কিন্তু নিজেদের অধিকারগুলা আদায় করতে পারতেছিল না। নিজেদের ধানচাল পযর্ন্ত জমা দিতে বাধ্য হইছিল তারা, যা খবু ই লজ্জার ব্যাপার। ফলে গ্রামে শেষবারের মতো নাচার পর সেখানেই নিজেদের বর্শাগুলা রাইখা তারা পালায়ে যায় – এইটা ছিল লজ্জার চূড়ান্ত। এরপর নারীরা আগায়ে আসে, বর্শাগুলা তুইলা নিয়া নাচতে শুরু করে। তাই বলা যায়, এগুলা শুধু ইগবো সংস্কৃতিতেই আছে, তা না। এইটা মনে হয় আর সব আফ্রিকান সংস্কৃতিতেও আছে, তাদের কাছ থেকেই এগুলা শিখছি আমরা।

………………….

এই বইটাসহ ইন্টারভিউ সিরিজের অন্য বইগুলা কিনতে ফেসবুকে পেইজে নক করেন!

https://cutt.ly/Kbkxqz6

The following two tabs change content below.

তানভীর হোসেন

জন্মঃ ২৫ জুলাই বগুড়া মিশন হাসপাতালে। জন্মের ২৫ বছর পর জানতে পারেন তার জন্ম সিজারিয়ান সেকশনে না বরং নরমাল ডেলিভারিতে হয়েছিল। পেশায় চিকিৎসক। দুই বাংলার বিভিন্ন মাধ্যমে (অনলাইন, অফলাইন- প্রিন্টেড) লেখালেখি করছেন। মূলত কবিতা লেখেন। প্রথম কবিতার বই "রাতের অপেরা"(জেব্রাক্রসিং প্রকাশনা) প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের বইমেলায়। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বেশ কিছু অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বই হিসাবে অনুবাদের কাজ "নাইন" প্রথম। বইটা ২০১৯ এর বইমেলায় বিদ্যানন্দ প্রকাশনা থেকে আসবে।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য