Main menu

সাম্প্রদায়িকতার সেক্যুলার স্টাইলঃ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কিছু আন্দাজা

বাঙ্গালী এডুকেটেড ক্লাসের মইধ্যে জমিদারি এস্থেটিক লইয়া যে অবসেশন, তা কলকাতার এস্থেটিকের দিকে তাকাইলে আমরা বুঝতে পারি। জমিদারি লইয়া যে এইখানকার আতেলদের নস্টালজিয়া সেই কারণেই কলকাতা এইখানকার আর্ট কালচারের গোড়া হইতে পারছে। এইখানকার বেশিরভাগ জমিদার হিন্দু ছিলো বইলা, হিন্দুয়ানীর সাথে এইটারে কোইনসাইড করা যাইতেছে ঠিকই, কিন্তু এইটা আসলে কোইনসিডেন্সই। মূলত এই এস্থেটিকটা জমিদারি স্ট্যাটাসরে আপহোল্ড করার এস্থেটিক। সেইখানে হিন্দু এসপেক্ট আছে, মুসলিম এসপেক্ট আছে, কিন্তু আপহোল্ড হইতেছে জমিদারি স্ট্যাটাস। কলকাতার সুজিত সরকারের ছবি দেখলেও এইটা পরিষ্কার হয় যে কি স্ট্যাটাসরে উনি আপহোল্ড করতেছেন। উনার গুলাবো সিতাবো ছবিতে খেয়াল কইরা দেইখেন কিসের নস্টালজিয়া ওইখানে। জমিদার কন্যা ও কন্যার জামাই দুইজনই বুড়া হইয়া গেছে। আছে শুধু জমিদার বাড়িখান, ভাড়া দেওয়া। সেই বাড়ি ও জমি দখলে নিতে চায় আউটসাইডার (ও বাটপার) জামাই আর গরীব (ও বাটপার) ভাড়াটিয়ারা। শেষে অবশ্যই এই বাটপারদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। জমিদারির কিছুই ভাগে পায় না এরা। সুজিত সরকারের কলকাতাই ব্যাকগ্রাউন্ড কাহিনীর এই সেটআপ বুঝতে হেল্প করতে পারে আপনাদের। পিকু ছবিতেও কলকাতার যে আর্কিটেকচার উনি দেখাইছেন, জমিদারি আর্কিটেকচারই। এই জিনিস কলকাত্তাই ধারা হিসেবে বাংলাদেশেও ঢুকানো হইছে। এবং সেইটা হইছে সেই পাকিস্তান আমল হইতেই।

পুব বাংলায় টেনান্সি এক্ট পাশ হয় ১৯৫০ সালে। জমিদারি বন্ধ হয় তাতে। পাকিস্তান আমলে এইটা একটা বড় কাম ছিল। জমিদারি বেশিরভাগই ছিল হিন্দুদের হাতে। তবে মুসলমানেরাও কম ছিল না। কিন্তু ভুক্তভোগী প্রায় সবই ছিল লোয়ার কাস্ট হিন্দু, বর্গাদার মুসুলমানেরা। ফলে গণ মানুষ এই কামে খুশিই হইছিল। এইটারেও তারা তৎকালে পাকিস্তান আন্দোলনের একটা সুফল হিসাবেই বিবেচনা করতো। এরপরে ধীরে যখন বাঙ্গালী জাতিবাদী আন্দোলন দানা বাধতে থাকলো তখন এইখানকার আতেলেরা পাবলিকেরে ফুসলাইতে একটা বাজে কাম করলো। যেহেতু জমিদারিপ্রথা বাতিল পাকিস্তানি আমলের একটা বড় অর্জন ছিলো, এই আতেলেরা পাকিস্তানের এগেইনস্টে নেরেটিভ বানাইতে এই জমিদারি লইয়া শৈল্পিক সাংস্কৃতিক নষ্টালজিয়া শুরু করলো। এইটা বাজে কাম ছিল বিশেষ কইরা এই কারণে যে এইটা নেসেসারি ছিল না। মানে পাবলিক এইটা ছাড়াই পাকিস্তানের উপর এনাফ ক্ষেপা ছিল। এই জমিদারি নস্টালজিয়াই এইখানে রঠার পুনর্জাগরণে ভূমিকা রাখছে অধিক। মানে বাঙ্গালী কালচার বইলা যে জিনিস আইছে এই দেশে, তা মূলত জমিদারি এস্থেটিকই। রবীন্দ্রনাথের এস্থেটিকও খেয়াল করবেন আপনেরা নিশ্চই। তারপর ঢাকাই আর্টিশ-আতেলেরা যে কলকাতারে কেবলা করলো, তা তো মূলতই জমিদারি এস্থেটিকেরে কেবলা বানাইলো। কারণ পুব বাংলার অনেক জমিদারিরই হেড কোয়ার্টার ছিল কলকাতায়। তবে ব্যাপারটারে কেবলই হিন্দুয়ানী বা কলকাতাই ঘটনা হিসাবে দেখাটা অল্প দেখা। এর গোড়া আসলে জমিদারি এস্থেটিক, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে। এইখানকার এডুকেশন সিষ্টেমেই এইটা ঢুকায় দেয়া হইছে।

এখনো বাংলাদেশের এডুকেটেড ক্লাস ঢাবির কথা কইতে সলিমুল্লাহর জমি দেওয়ার কথা কয়। অথচ তখন সকল জমিই তো জমিদারের। ভার্সিটি বানাইতে জমিদারের জমি তো লাগবেই। পাবলিকের এজেন্সি লইয়া কথা কইলে, তাতে জমিদাররে ক্রেডিট দেওয়া লাগে না। মানে যদি আপনে মানেন যে জমিদারি সিস্টেমেই ভেজাল আছে, তখন উনাদের জমির হিস্যারে তো আপনে রাইট হিসাবে দেখবেন, দয়া না। তার উপর স্যার সলিমুল্লাহর যে ভার্সিটি নিয়া তদবির তাও তো জমিদারি তদবির। মানে ওইসময়ে শিক্ষার যে হালত এইখানকার মুসলমানদের তাতে ভার্সিটির আগে প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বেশি। তা তো হয়নাই। সেই পরিস্থিতিতে ভার্সিটি আসলে কাদের জন্য সেই আলাপও আসে। সলিমুল্লাহ খানের(জমিদার না) ভালো আর্গুমেন্ট আছে এই নিয়া। তো আমার মনে হয় আমাদের হায়ার এডুকেশনে সেই লিগেসি, আছর ভালো মতই আছে এখনো।

তো পাকিস্তান আমলের কথা কইতেছিলাম। মানে ওই আমলে জমিদারিরে রোমান্টিসাইজ করা আর্ট-কালচার বাংলাদেশ আমলেও ইনফিল্ট্রেট করতে দেখি আমরা। এমনকি আমাদের সবচে ট্যালেন্টেড আতেল ছফার উপন্যাস ওঙ্কার টা পড়েন আরেকবার। দেখেন কে হিরো আর কে ভিলেন। তালুকদারের পোলা হইল হিরো, তালুকদারি শেষ হওয়ার পর এই আলাভোলা শিক্ষিত পোলার জমিজমা নিয়া নেয় নব্য ধনী আবু নসর। তারপর নিজের ‘প্রতিবন্ধী’ মাইয়ারেও গছায় দেয় সেই পোলার লগে। ছফা বাঙ্গালী মুসুলমান ফ্যানবয় ছিলেন বইলা জমিদারদের রোমান্টিসাইজ করেন নাই হয়ত। কারণ তাতে কার্ড হিন্দু পক্ষে চইলা যাইতে পারে। কিন্তু তথাপি বিটিশদের অবদানের ব্যাপারে উনার কাতরতা লক্ষ্যণীয়। সুজিত সরকারও জমিদার দেখাইতে লখনৌয়ে গেছেন, পাছে কেউ বলতে না পারে কলকাতার হিন্দু বাঙ্গালী জমিদারদের নিয়া রোমান্টিসাইজ করতেছেন উনি। লেইমই একটু ব্যাপারগুলা।

সিনেমার পোস্টার

এই এস্থেটিক জায়গা থেকে যে ইন্টেলেকচুয়াল আলাপটা দাড় করানো হইছে, তা তো আসলে পিপলের রিয়েলিটি হইতে একদম আলাদা একটা আলাপ দাড়াইছে। পিপলের রিয়েলিটি ওয়াজ অলওয়েজ এগেইনস্ট জমিদারি, পাকিস্তানরে খেদাইতে পিপলের জমিদারি ভালোবাসতে হয় না। আম জনতার বড় একটা অংশ ওইখান থেকে অপারেট করে। ফলে বাংলাদেশী স্ট্যাবলিশমেন্টের ভেতর যখন জমিদারি এস্থেটিকের চর্চা দেখতে থাকে উনারা, তখন পিপলের নিজেদের মত কইরা জমিদারি খেদানোর কাম চালায় যাওয়ার ব্যাপার তৈরি হয়। এখনকার বাংলাদেশে বিভিন্ন পলিটিকাল কারণে যে হিন্দু মহল্লায় এটাকের ব্যাপার সেইটা এই জমিদারি খেদানোর মানসিকতা থেকে আসতে পারে। আমার মনে হয়, জমিদারি গেলেও জমিদারি এস্থেটিক, স্ট্যাটাসরে ইন্টেলেকচুয়ালি যথাযথভাবে ডিল না করায়, একটা ইনহেরেন্টলি রিপ্রেসিভ পলিটিকাল সিস্টেমের ভিতর একটা ততোধিক বাজে প্রতিক্রিয়া আমরা দেখি হিন্দু রিপ্রেশনের ভিতর দিয়া।

মানে এর ফলে দুইটা ঘটনা ঘটছে, এক, কালচারাল স্ট্যাবলিশমেন্টের ভিতর মুসুলমানি চিহ্নের ব্যাপক মার্জিনালাইজেশন হইছে, মানে মুসুলমানি চিহ্ন ধারণ করলে তো বাঙ্গালী হওয়াই যাইতেছে না আর। আবার দুই, স্ট্যাবলিশমেন্টের বাইরে সোশাল স্পেসে হিন্দুরা একটা অপোনেন্ট হিসাবে, জমিদারশ্রেণির ভুয়া প্রতিভু হিসাবে রইয়া যাইতেছে। এবং পলিটিকালি জমিদারি এস্থেটিকে পোতা সেক্যুলারেরা এই দুই ঘটনার রফা করেন এইভাবে যে বাংলাদেশের সমাজ সাম্প্রদায়িক, মানেই স্বাধীনতাবিরোধী, মানেই পাকিস্তানপন্থী। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতারে এরা ভারতীয় সাম্প্রদায়িকতার ফর্মুলা দিয়া বুঝেন। এইভাবে উনাদের জমিদারি এস্থেটিকরে কোশ্চেন না কইরা থাকতে পারা যাইতেছে। এবং একই সাথে হিন্দুদের রিপ্রেশনের কাজটা নিজেরাও পারপেচুয়েট কইরা যাইতে পারেন, সেই সোশ্যাল এন্টাগোনিজমরে নিজেদের পক্ষে ইউজ কইরা।

…………..

এর সাথে রিলেটেড লেখার লিংক:

১. আরিফুল হোসেন তুহিন:
https://www.facebook.com/etothepowerpi/posts/10164869715060383

২. ইমরুল হাসান

 

The following two tabs change content below.
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য