Main menu

ইব্রাকর ঝিল্লী’র কবিতা

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

প্রথম দিন চোখে মাছ হলো,
দ্বিতীয় দিন হৃদয়ে গাছ হলো,
তৃতীয় দিন হাতে পাখি;

অতঃপর তিনি জন্ম নিলেন,
তাদের কথা শুনতে যারা
হ্রদের ধারে বসে নতুবা
একা একা কথা বলতেন।

০৬/০৯/’১৯

 

বাইস্কোপ

শুক্কুরবার সকালবেলা চিনতেও পারেন আমারে; ওইসময় আমি খোলাসা হই।

তার আগেরদিন রাত্রেও বিলের ধারে মজা পানিত খইসা পড়া ডুমুর ফলের ভিতর ডুকরায় ডুকরায় কান্দি। কিন্তু শুক্কুরবার শেষ রাত্রে, ভোর হইতে চাইলে ভোরের হ্যান্ডেল ধইরা ঝুইলা পড়ি আমি। আকাশ যখন ফরসা হইছে সবে, তখন বোটানিকাল গার্ডেনের সামনে বাম-পা আগে দিয়া দৌড়ের উপরে নামি।

কিন্তু বোটানিকাল তখনও খুলে নাই; যখন আমি খোলাসা হই তখনও বোটানিকাল ওপেন হয়নাই।

০৯/১১/’১৯

 

পল্লবগ্রাহিতা

একেলা হেঁটে হেঁটে মন পড়িবো কেমনে চোখ!
যদি দুয়ারই না থাকে তবে ,
ঘুমেরই ভেতরে দোর খুলিবো কেমনে?

সকলের মধ্যিখানে কেমনে বুঝাইয়া তুলিবো যে মরিয়া গিয়াছি রাতে, মরে গেলে!
যদি ঘুম না আসে তবে বুঝিবো কেমনে-
মরিয়া গেলে ঘুমের ভেতরে?

যদি মরে গেলে বুঝিতে না পারি,
যদি জেগে জেগে বুঝিতে না পারি,
মরে গেলে কী হবে ভেবে!

ঘুমের ভেতরে মরে গেলে বুঝিবো কেমনে!
রোদের ভেতরে ভেসে ভেসে রাতের কথা আমি বুঝিবো কেমনে!
পাখি, উড়িবো কেমনে?
ছাই, পুড়িবো কেমনে যদি, ঘুমের ভেতরে
মরে যাই বুঝিবো কেমনে?

১৯/০৫/’১৯

 

অল্প

কত বছর আগে? বিশ বছর? বাইশ বছর?

যে হ্যালুসিনেশানের দিকে আমি তাকাইছিলাম,
এখন বুঝতে পারি,
আমিই ছিলাম সের হ্যালুসিনেশান।

আমি তো নাইই প্রায়; এত অল্প।

আমারে আপনি কোথাও পাবেন না।

১৬/১০/’১৮

 

বনলতা সেন (ছদ্মনাম)

মুখোমুখি বসিবার সুযোগ কি হইবে আর!

কিন্তু সে একটা মাল ছিল।
খালি খায়া দিতে মন চায়!
অথচ নিকুঞ্জে সে যখন হাইটা যায়,
এলাকার পোলাপাইন- আমি চা খাই;
সে তখন তাড়াতাড়ি হাঁটে।
লাগে পত্রিকার রেইপগুলার কথা ভাবে- মানে আমিই ভাবি আর কি, যে সে এই রকম কিছু একটা ভাবতে পারে; বিশেষ কইরা আমার চাহনি! লাগে পত্রিকার রেইপিস্টগুলি আমিই তো হইতে পারি!
কে বলতে পারে এইসব, কখন কি হইয়া যায়!

-এইরকম দার্শনিক-নিরুপায়-চাখাওয়া-চাহনি।
কিন্তু এইরকম অভদ্র-অসভ্য…
ওইরকম সর্বতোভদ্রমন্ডল…
তা কি ঠিক হয়?
সুতরাং আমার কি আর হবে!

১৩/০৫/’১৯

 

আমারে হারায়ে দিওনা, সন্ধ্যা

রৌদ্রে
জীবিত প্রাণি
ছাতা হাতে খাড়ায়া আছি।
যদিও কারও আমি নই-
একটা সিএনজি পাবো আশা করি।
.
তোমারে খাচ্ছি;
কিছু মনে কোরো না, বার্গার।
যাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়নাই-
রেস্তোরায় আমরা
একসাথে বসে;
তোমারে খাচ্ছি।
.
তারপর,
বাসায় এসে দেখি
আমার আগে এসে বসে আছে সন্ধ্যা।
সন্ধ্যা!
এইভাবে প্রতিদিন,
আমারে হারায়ে দিওনা।

১৩/১২/’১৮

 

আভাস ও গঞ্জনা

কেন আমাকে আপনি পছন্দ করবেন না!
আমি তো হরিণ, এবং শাদা।
এছাড়াও শুকরের পিছে পিছে ঘুরিনাই কোনদিনও।
আপনার যা ভালো লাগে তাই দেখি আমি।
বনের ভিতর এবং
মাঝে মাঝে মনের ভিতর
একেলা অবেলা মাঝারি সুরে গান গাই আমি।

আমাদের সকলের নিজেদের শাদা আছে;
আমরা নিজেরাও শাদা নই কি?
গাছেদের কানের কাছে,
ফিসফিস অনুরোধ নাই!
তবুও পছন্দ করেননাই তো!
কেন করেননাই পছন্দ?

আমার আঙ্গুলগুলা একেকটা একেকখানে থাকে।
আমার প্লীহা, উৎকণ্ঠা, ষড়যন্ত্র, শিশ্ন,
অনাস্থা, উষ্ণতা ও যকৃত
একেক জায়গায় ঘুরে বেড়ায়
নিজেদের মাথা নিয়ে।
একটি চোখ এবং
আরেকটি চোখ তবু আপনাকে… বারান্দায় ঘুমাচ্ছে, ঘুমাইতেছে।

কেন আমাকে আপনি পছন্দ করবেন না?
আমি তো প্যাঁচা,
উড়তে গিয়ে ধাক্কা খাইছি।

আমাকে দেখেছেন তবু-
আমাকে মনে রাখেননাই!

০৬/০২/’১৯

 

ক্রোকোডাইল টিয়ারস

মনের ভেতরে বাঘ;
ঘুমাইতেছে।
তাই সাবধানে, সন্তর্পণে লিখতেছি গান-
মনের ভেতরে কোন পাখি যেন গাইয়া না ফেলে;
ঝিমাইতেছে যে হরিণ সুন্দর সুন্দরমনে,
হায়!
জাগ্রত বাঘ যেন খাইয়া না ফেলে!

তারপরও ভাবতেছি,
এহেন গান তবে কি
অপচয় হইয়া যাইবে ছিচকাদুনিতে?

মনের ভেতরে বাঘ
ঘুমের ভিতরে
সরল পৃথিবী সাজাইতেছে-
একটি হরিণ,
তার কচি গোশতের স্বাদ!
যত বেশি লিখতেছি গান
ততই হরিণের দিন
ফুরাইতেছে।

হরিণ চলে গেলে
ক্রোকোডাইল কী খাবে?

১৪/০৫/’২০

 

আখাউড়া জংশন

সময় একটা এক।
তারপর আমাদের দেখার সুবিধার জন্যে দিনে দিনে ভাগ হয়ে গেছে;
দিনে ও রাতে।
ভোরে আর সন্ধ্যায়
ঘন্টায় ঘন্টায়।

তবুও একটা এক আমরা দেখি;
দুর্ভেদ্য কিউব। সন্ধ্যার সময় বিশেষতঃ,
সময় থাকে না আর।
আলো স্লো হয়ে যায় বাতাসের খাঁজের ভেতর;
সুন্দর রেললাইন- একটা একাকী রেললাইন
পিছে পিছে হাঁটে আমার।
আমিও দেখি
একটা এক দিনে দিনে ভাগ হয়ে গেছে ছিমছাম সন্ধ্যায়!

১৬/১০/’১৯

 

বাইনোকুলার

আমার অবাক লাগে আমারে দেইখা যে আমি আছি।
আমার একটা নাম আছে এইটা আরও অভাবনীয় মনে হয়।

মনে হয় আপন ভাইবোন,
আপন চেয়ার, কাঠোল গাছটির মতন
দূরবর্তী একটি আপন লগে লইয়া লইয়া ঘুরি;

মনে হয় কার ওইটা আমার হইয়া বসে আছে একলা নদীর পাড়, কেহ ডাকিলে ঘাড় ঘুরায়ে কাহারও কথা শোনে।
মাঝে মাঝে শোনে না অবশ্য; আমি কহেন,
ওইটা তো আমি না, আমার নাম।
মনে হয় আমিই তো আছি আমার থেকে একটু দূরে বইসা;
নদীর পাড়ে দেখি আমারে আমার নামের বাইনোকুলার দিয়া।

আমি কই তাইলে?
কে খোজবে আমারে?

১৯/০১/’২০

 

The following two tabs change content below.

ইব্রাকর ঝিল্লী

কবি ও ক্রিটিক।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য