Main menu

দ্য টাইমলি মরণ অব আহমদ ছফা

ফাউস্টের ভালো একটা ট্রান্সলেশন করতে ছফা এখন ভাইবার ইউজ করতে পারতেন; জার্মান বান্ধবীর লগে ভাইবারে গ্যেটে বুঝে নিতে পারতেন আরো ক্লিয়ারলি। প্রাইভেট ব্যাংকের এটিএম ইউজ করতেও আরাম পাইতেন মে বি; বেনামে তারে টাকা দিতে পারতেন অগুণতি ওয়েলউইশার; নিজের গ্রামের বাড়িতে ভালো একটা ঘর বানাইয়া, ভালো চেয়ারে ফরহাদ আর জিল্লুরকে বসাইয়াi মস্ত শরম থেকে ডেফিনিটলি বাঁচতে পারতেন। বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে ‘এ্য ডেট উইথ ছফা’ও অনেক মজার, হট একটা টক শো হইতে পারতো। বাট তবু, প্রাইভেট ব্যাংক আর টেলিকম আর অ্যাড এজেন্সি এবং প্রাইভেট টেলিভিশনের এমন হাই-টাইমে ছফার জিন্দা থাকাটা ঠিক হইতো না।

কেননা, লাস্ট সেঞ্চুরির লেট এইটিজ থেকে প্রায় পুরা নাইন্টিজ ছফার যেই পরানগুলি আজিজ মার্কেট বা শাহবাগের রাস্তায় ঘুরতো তাগো খাইয়া ফেলছিল ব্যাংক-টেলিকম-টেলিভিশন; আরো একটা মাল আস্তে আস্তে ছফার পরানগুলিরে খাওয়া শুরু করছিল–কম্পিউটার। এমএসএন আর ইয়াহু মেসেঞ্জারে ঠিক কইরা নেওয়া যাইতেছিল ডেটিং শিডিউল, সিডিতে ছিল গান-মুভি, ছফার চাইতে ডিএক্স বলের চেহারাটা বেশি মিঠা হইয়া উঠছিল।

ছফা একটা লাইফস্টাইল প্রোপোজ করছিলেন; ছফাই সেইটার মাদার আছিলেন–ব্যাপারটা তেমন না, বাট মিডল ক্লাসের মাঝে থাইকাই ঐ ক্লাসের স্ট্যান্ডার্ডের বাইরে আরেকটা লাইফস্টাইল (স্রেফ রিঅ্যাকশন মাত্র হইলেও) যে এনাফ প্রাইড নিয়াই লওয়া যায় সেইটা শিখাইছিলেন ছফা, এ প্রাইড টট বাই ছফা; ছাদের নিচে না ঘুমাবার প্রাইড, শাহবাগ মোড় হতে হাইটা চানখারপুল যাইয়া একটা চা ভাগাভাগি কইরা খাইয়া শাহবাগ ফেরার প্রাইড, এমনকি বিয়া না করার প্রাইড।

ওই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তারা হয়তো পুসকে কেরানি ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের বেজার মুখ লইয়া ভাবতো, সেই বেচারা মিডল ক্লাসের কথা ভাইবা এম্প্যাথিতে ভিজে যাইতো তাহাদের শেয়ার্ড মন! তারপর কোন একদিন সেইসব দিনের ভিতরে ঢুইকা গেল প্রাইভেট ব্যাংক, ক্যাশিয়ারের মুখে এই ব্যাংকগুলি পেইন্ট করে দিতে থাকলো স্মাইল। বেইলী রোডে ফাস্ট ফুড খাইতাছে কেরানিরা, দ্যাখে ছফার পরানগুলি–ট্রান্সপারেন্ট গ্লাসের ভিতর দিয়া–রাস্তায় খাড়াইয়া খাড়াইয়া–দুই টাকার পুরির অর্ধেকটা চাবাইতে চাবাইতে।

কেরানি থেকে ক্যাশিয়ারের এক্সিকিউটিভ হওয়াটা ঠেকাইতে পারেন নাই ছফা এবং তাঁর পরানগুলি; তাগো ইমাজিনেশনের সেইসব গোমড়া-টায়ার্ড কেরানির মুখগুলি কনফিডেন্ট স্মাইল দেওয়া শুরু করছে প্রাইভেট ব্যাংকের পয়সায়; আরো বহু এক্সিকিউটিভ রাস্তায় ছাইড়া দিছে টেলিকমসহ বহু মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশন; জটিল এক প্যানিক তৈরি হইছে তাতে ছফার পরানগুলির ভিতর, স্পেশালি পোলা পরানগুলির ভিতর; নিজেদের ঘামের ঘ্রাণ লইয়া ইনফিরিয়র ফিল করা শুরু করছে তারা এক্সিকিউটিভের পারফিউমের সামনে; আলু পুরির বোহেমিয়ান সুফিয়ানা আর চা ভাগাভাগি করার রোমান্টিক ইউনিয়ন চুরমার কইরা দিতে থাকলো প্রেমিকার টেবিলের দিকে আগাইতে থাকা স্মাইলিং এক্সিকিউটিভের হাতে ধরা ট্রে’র ডেজার্ট আর আইস কফি!

আরাম লাগছিলো না আর ছফার পোলা পরানগুলির; আনমনা প্রেমিকার মুখ দেখলেই তাগো সন্দেহ হয় এখন, নাকের ট্রেনিং লয় কুত্তার কাছে, প্রেমিকার চামড়ার ভিতর দিয়া সেইসব ট্রেইন্ড নাক টাইনা বাইর করে এক্সিকিউটিভের পারফিউম; এ এক তুমুল যৌনখরার ইনটেন্স প্যানিক, প্রোমিজের গায়ে জং ধরানো হিউমিডিটি, লয়্যালটি ভুলাইয়া দেওয়া শরবত।

নাইন্টিজের শেষদিকে হায়ার স্টাডিজের কতগুলি নড়চড় দিয়াও ব্যাপারটা বুঝতে পারি আমরা; কম্পিউটার সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সায়েন্স ডিসিপ্লিনগুলি ফল করে এই সময়; ইংরাজি, ল ইত্যাদিরে চাইপা ধরে কমার্সের ডিসিপ্লিনগুলি; সামনে চইলা আসে একাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট আর বিবিএ; আরেক দিক দিয়া ইমার্জ করে সোশ্যাল সায়েন্স। একাডেমীর এই শিফটের মতলব কিন্তু কমপ্লেক্স। বাংলার ইতিহাসে এই পয়লা মাইয়া আর মাইয়ার প্যারেন্ট এলিজিবল পোলা ব্যাচেলর ইস্যুতে একমত হবার থিয়োরেটিক্যাল সুযোগ তৈরি হইলো। আরেকটু খোলাশা করি; ধরেন, ছফা এবং তাঁর পোলা পরানগুলির গান্ধি ঘাম বহু মাইয়ারে হয়তো ভিজাইয়া ফেলতো, বাট সেইসব মাইয়ার প্যারেন্ট পারলে সকাল-বিকাল লাথি মারতো ছফার পাছায়; হামবড়া রোশনাই ছফাদের চেহারায়, পকেট ছাড়া ড্রেস হইলে রোশনাই আরো বাড়ে; প্রাইডের এই রোশনাই সেক্সুয়ালি অ্যাপিলিং, এইসব প্রাউড জিভ আপনারে চাটতে চাটতে পায়ের দিক থেকে উপরে উঠতাছে ধীরে–উমম্ থ্রিলিং বটেই। বাট মাইয়াগো প্যারেন্টরা মাইয়ার আর ফিউচার বাছুরদের স্টোম্যাক লইয়াই বেশি ভাবতেন মে বি, আবার চাটাচাটির স্কিল টাকাঅলা পোলাদেরো কম থাকারো তো কারণ নাই কোন!

বাট ইতিহাসে পয়লা বারের মতো এক্সিকিউটিভের স্মাইল ছিনতাই করতে থাকে ছফা আর তাঁর পোলা পরানগুলির প্রাইড, নিজেদের খোয়াবে দ্যাখে পরানগুলি ১৫/২০ বছর পরের তপন বড়ুয়ার মতো একেকজন, সাজ্জাদ শরীফদের দেবে বইলা নতুন নতুন খিস্তি-খেউর শিখতাছে সন্দীপন আর হাংরির কাছে।

এ এক বেমালুম প্যানিক, ঘুম ভাঙ্গতেই ছফার পরানগুলি নীলখেত দৌঁড়ায়–চাকরির গাইড বই কিনতে, বা এতদিন পাত্তা না দেওয়া ‘গুড বয়’ দোস্তের বাসায় যায় কম্পিউটার লিটারেসির জন্য।

ঠিক অই সময়ই প্রাইভেট টেলিভিশনও ইমার্জ করতে থাকে; জিটিভি’র এক নজর আর চ্যানেল ভি’র মিউজিক ভিডিও, রেসলিং, হলিউডের সিনেমা দেখতাছে, আর ছফার একজন পরান তারেক মাসুদ নামের এক টেলিস্কোপের ভিতর দিয়া রিয়েলিটি দেখা শুরু করছে ছফার আর আর পরানেরা। দেশি চ্যানেল আইছে তখন তখন, শুরু হইতাছে প্যাকেজ নাটকের জমানা; মাল্টি-ন্যাশনাল ক্যাপিটালের প্রোমোশনাল অডিও-ভিজ্যুয়ালের কামও তো আইছে।

এন্টারটেইনমেন্টের এই দুনিয়া সেক্সি, স্টারডমের এক নয়া স্পেস, পয়সারও; ছফার পরানগুলির মাঝে যেই কয়েক দলা নাইন্টিজ আছিল, তারা ক্লিয়ারলি দেইখা ফালাইছে ঐ দুনিয়া তারেক মাসুদ নামের সেই টেলিস্কোপের ভিতর দিয়া। এনারা আর্ট-ফিল্ম লইয়া আড্ডা দিয়া দিয়া ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন করতাছে; পরে সুবিধা মতো তুমুল প্যাকেজ নাটক বানাইতাছে। পরে টিভি অডিয়েন্স যখন কম কম লাগতাছে তখন এনারা থিয়েটারঅলা বা ছায়ানটি/উদীচিদের লগে লইয়া হাতে পিছা, মুখে অশ্লীল ঝুলাইয়া সিনেমা হলে ঢুইকা পড়ছে, তারপর ঢাকাই সিনেমার অয়িডেন্স খেদাইয়া টিভির সামনে নিয়া বসাইছে।

আরেক দল পরান এনজিও বা মিডিয়া বা ব্যাংক বা টেলিকম–কোথাও সুবিধা করতে পারে নাই; বাট বুইঝা গেছে তত দিনে, দেশে আর আরাম নাই তাগো; তারা তখন কানাডা গেছেন, অস্ট্রেলিয়া বা ইতালি বা ইংল্যন্ড যাইয়া বাঁচছেন বিরাট।

সো, এনারা বিজি, ১০০% অকুপাইড। ছফার কোলের চাইতে বেশি উম নতুন নতুন সব কোলে। সি বীচের সেইসব কাছিমের মতো ছফা তখন ডিম তালাশ করে, পায় না–কেননা, মানুষের বাচ্চারা খাইয়া ফেলছে তার ডিম। আহা।

তবু, এগুলি ছফার মাঝে গোস্বার বেশি কিছু পয়দা করতে পারে নাই; ভেজাল সব পরান ছফার মন খারাপ কইরা দিছিল বাট দেমাগ তখনো অফুরান।

ঢাকায় নয়া কিছু থিওরির আমদানির প্রেশার গোস্বার বেশি কিছু ঘটাইয়া দেয় ছফার মাঝে, জখম হইতে থাকে ছফার দেমাগ। বাংলাদেশের মোসলমান বাঙালির আইডেন্টিটি কোলকাতার বাঙালি জাতীয়তাবাদ পুরা ধরতে পারে না বইলা একটা অনুমান প্রফেসর রাজ্জাক নামের এক সিরিঞ্জ ইনজেক্ট করছিলো ছফার মাঝে–ওনারা যদিও ‘বাঙালি মোসলমান’ নামের ভাবনায় বঙ্কিমের নাম বেশ গোপন রাখছিলেন; এনিওয়ে, এই কারণেই ওনারা বঙ্গভঙ্গ এনজয় করতে পারছিলেন–১৯০৫ বা ১৯৪৭ সালে; বাট খেয়াল করার ব্যাপার হইলো, এনজয় করার জন্য রিলিজিয়নকে যতটা রিকগনাইজ করার দরকার আছিল ততোটা করেন নাই এনারা, মানে ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট আর সেক্যুলারিজমের ফ্যান আছিলেন পুরাই! ছফা এই কন্ট্রাডিকশন মেক-আপ করতে ট্রাই করছেন ঢাকাই সেক্যুলারদের খারাপ ভাইবা; যেনবা খোদ এনলাইটেনমেন্ট ভালো, বাট তার ঢাকাই এজেন্টরা ইভিল!

নতুন আমদানি হওয়া থিওরি–ছফার ওই কনট্রাডিকশন আনফোল্ড কইরা দেয়; ছফার মে বি ভয় আছিল যে, খোদ এনলাইটেনমেন্ট বা সেক্যুলারিজমের ক্রিটিক করলে নেসেসারিলি কম্যুনাল হইয়া পড়তে হয়; ধর্মান্ধ হিসাবে ট্যাগ তবু খাইতে হইছে তার–ভায়োলেন্ট হুমায়ুন আজাদদের তরফে বাট নিজের কাছে অনেস্ট থাকতে চাইছেন মে বি ছফা বা মাঝে মাঝেই মাথার বদলে রঠার এসথেটিক্স দিয়া ভাবার কারণে ইসলামরে বেশ আনকালচার্ড ব্যাপার ভাবতেন উনি।

তো, নতুন থিওরি–মানে তালাল আসাদ বা এডোয়ার্ড সাঈদ বা কোলকাতার সাব-অল্টার্নদের পোস্ট-কলোনিয়ালিজম ছফার ক্রিটিকগুলিরে আধো আধো বুলি বানাইয়া ফেলে, এইসব চিন্তার লগে পরিচিত হওয়া ছফার পরানগুলির কাছে ছফা স্রেফ এক ফোড়ন কাটা ইন্টেলেকচুয়াল হইয়া পড়েন, রেসপেক্ট হারাইয়া ফেলেন ছফা। তবু ঐ ফোড়নই ছফার সবচে ইনফ্লুয়েন্সিয়াল সবক হইয়া আছে এখনো–ঢাকায় এখনো ফোড়ন কাইটা খাইতে পারতাছে ছফার কিছু পরান।

এইভাবে রেসপেক্ট হারাইলেন ছফা, বাট আরো দর্দের ব্যাপার হইলো তালাল আসাদের বলে বলিয়ান হইয়া ছফার সাবেক দোস্ত ফরহাদ মজহার ছফার কতিপয় পরান ছিনতাই কইরা ফেলেন; মরার আগে মিজারেবল এক ইনফিরিয়রিটির টাইম পার হইতে হইছে ছফার, যারা রেসপেক্ট করতো ছফারে, তারা এখন আদর করা শুরু করছে, ভক্তির বদলে সাগরেদের স্নেহ কারই বা মজা লাগে! আহা! এইভাবে আজিজে ছফার চিন্তার হাট ভাইঙ্গা যায়, নাকি ছফাই ভাইঙ্গা দিলেন দারুণ গোস্বায়, করুণ দেমাগে!

আরো একটা বড়ো চিন্তা–ফেমিনিজমের আমদানি হয় লেট-এইটিজ বা আর্লি নাইন্টিজে; নয়া এই ফেমিনিজম ছফারে বেশ ঝামেলায় ফালাইয়া দেয়; ছফা তসলিমা বা হুমায়ুন আজাদরে নাপছন্দ করতেন; বাট সেইটা এন্টি-ওমেন ব্যাপার বইলা মনে করে নাই ছফার পরানেরা; ড. তসলিমারে হঠকারি বইলা দেখাইতে কামিয়াব হইছিলেন ছফা ভালো ভাবেই, আর ড. হুমায়ুন আজাদের লগে ঝগড়ার বেলায় দুশমনি তো ড. হুমায়ুনের দিক থেকেই বেশি আছিল।

নতুন এই আমদানি ছফারে বেকায়দায় ফালাইয়া তার পোলাহুড উদাম কইরা দেয়; এই ফেমিনিজমের লগে ছফার এনকাউন্টার পাওয়া যায় রেহনুমা আহমেদের জবানে। ii এর আগে ড. তসলিমা বা ড হুমায়ুনের লগে ঝগড়ায় ফেমিনিজমের আসপেক্ট আছিল না বা থাকলেও তাতে নিজের পরানগুলির ভক্তি বা রেসপেক্ট হারান নাই ছফা।

দেশে ফেমিনিজমের নতুন এই ওয়েভ সেক্সিস্ট হিসাবে ইন্টেলেকচুয়ালদের পাবলিক ইমেজ হজম করা ইম্পসিবল কইরা তোলে; ব্যাপারটা বুঝবেন রেসিজম বা কম্যুনালিজমের হিস্ট্রি খেয়াল করলে; একটা সময় তক নিজেরে রেসিস্ট হিসাবে পরিচয় দিয়াও পাওয়ারফুল থাকা যাইতো: ১৮০০-১৯০০ তক খুব আরামেই রেসিস্ট হিস্ট্রি প্রাকটিস করা যাইতো বা ১৯২০/৪০ সালেও বহু কম্যুনাল ইন্টেলেকচুয়ালিটি আছিল: মাওলানা আকরাম খাঁ কম্যুনাল হইয়াও বড়ো বুদ্ধিজীবী তার টাইমে, এমনকি কম্যুনাল বইলাই হয়তো! বাট এই সময়ে রেসিজম বা কম্যুনালিজম আপহোল্ড করা যায় না আর; ভারতের বিজেপি বা বাংলাদেশের জামাতও নিজেরে কম্যুনাল বইলা পরিচয় করাইয়া দিতে পারে না! এমন কইরাই সেক্সিস্ট আইডেন্টিটিতে ম্যাচো প্রাইড বা ইন্টেলেকচুয়াল আরাম ইম্পসিবল কইরা তোলে ঐ ওয়েভ। আরো কিছু ব্যাপারও মনে রাখা দরকার: এনজিও বা মিডিয়ায় ব্ল্যাক-লিস্টেড হবার ঝুঁকিও পয়দা হইছে তত দিনে বা মেয়েরাও পীরিত/সেক্সের বেলায় আরো ইজ্জত চাইছে ততদিনে বা ধরেন পোলারাও ‘ওমেন অন টপ’-এ ফেসিনেটেড হইয়া উঠছে ইন্টেলেকচুয়াল এ্যরেনায়।

ইন্টেলেকচুয়াল এ্যরোগ্যান্সের ডিমান্ড এখনো আছে, বাট ছফার এ্যরোগ্যান্সের মাঝে যেই এন্টি-ওমেন এলিমেন্টস সেইটা বাদ দিয়াই এ্যরোগ্যান্ট হইতে হয় এখন। সো, ছফার টান প্রায়ই লুকাইতে হয় এখন।

এইখানে ছফার মেয়েদের নিয়া সবক দেওয়া দরকার একটু; ছফার মাইয়ারা মাইয়া ততো না, যতোটা সিম্বল; ছফার মাইয়ারা ডিভাইন, ইনোসেন্ট, কখনো বা দেশের সিম্বল; কখনো বা বন্দি–ফলে বোবা, তারা ঘটায় না, ঘটার জন্য ওয়েট করে, এই মাইয়ারে অন্য কেউ ফ্রিডম আইনা দেয়, সে তখন কথা কইয়া ওঠে! কখনো বা এই মাইয়ারা মা, বাট এই মাদারহুডের পিছে সেক্স নাই যেন, বা মাদার হইতে-থাকতেও সেক্সি হইতে-থাকতে পারেন না এনারা। মাইয়াদের সেক্স যেনবা এক নোংরা ব্যাপার, ডিভিনিটি আর ইনোসেন্স খুন কইরা ফালায় সেক্স, সেক্স একটা ওভারকাম করার ব্যাপার, এমনকি তার চাইতেও বেশি অপরিচয়ের মে বি।

সেক্সি ড. তসলিমা তাই ছফার কাছে ড্রইং রুম–বহুর আনাগোনার কোলাহল, ছফার চাই সলিটারি অন্দর, খুবই গোপন-দূরের আনকোড়া–পার্সোনাল আরামখানা; পোলাদের এমন পার্সোনাল, ইনহেরেন্টলি লয়্যাল আরামখানা হইয়া থাকাটাই মাইয়াজনমের পারপাস; ইনহেরেন্টলি লয়্যাল, কেননা সে তো নিজের ডিজ্যায়ারের লগে আমরণ অপরিচিত ডিভিনিটি, ইনোসেন্স।

হালচাল হইলো, এতে আর ততো মাইয়া পটে কই! সেক্সুয়ালি পারফর্ম কইরা মাইয়াদের পটাইতে হইতাছে এখন; ইভেন, যতো পটে, তার চাইতে পটায়ও তো কম না মোটেই!

কোন কামেই তো ছফারে আর লাগে না! সো স্যাড! আর দেরি করা ঠিক হইতো না ছফার, অন টাইম মইরা তবু কিছু পার্মানেন্ট গিল্টি ফিলিং রাইখা যাইতে পারছেন ওনার সাবেক সব পরানের মনে!

৬ নভেম্বর ২০১৫

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.