Main menu

ভায়োলেন্সের রাজনীতিতে সিনেমার আছর

সিনেমা আমাদের আদি হরফে নিয়া যায় প্রায়ই, বা ফটোগ্রাফিরেই সেই আদি হরফের চর্চা ধরা যাইতে পারি অনেকখানি; সেই আদি হরফ, মানে ছবিই বেশি সিনেমার কারিগরিতে; এখনকার টেক্সুয়াল হরফও তো ছবি, বাট সেকেন্ডারি ছবি কইতে পারি। ওদিকে আমাদের আটারেন্স বা বুলির ফোনিমগুলিরেও কি হরফ কওয়া যায়? কি জানি, এগুলি নিয়া ভাবাভাবি আছে জরুর।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

তো, জীবনানন্দ হইলেন এখনকার হরফ সিস্টেম দিয়া পোয়েটিক কারিগরি করছেন; কেমন হইতে পারে জীবনানন্দের পোয়েটিক কারিগরিরে ছবির হরফে ট্রান্সলেট করলে?

“এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।”/সুচেতনা, জীবনানন্দ

এইটারে ছবি/সিনেমায় ট্রান্সলেট করা যায় নাকি? সিনেমার অবশ্য আরো সুবিধা হইলো–এতে এখনকার হরফ/বুলিও রাখা যায়। জীবনানন্দের লাইন দুইটার পয়লা পার্টটা আপনি পাইবেন কিল বিল সিনেমায়; মানুষের ক্রুয়েল্টি আর প্লেজারের এক ধরনের রিলেশনের পোয়েটিক ডেসক্রিপশন আছে জীবনানন্দে, কিল বিল সিনেমার ব্ল্যাক মাম্বা সিনটা ভাবেন এইটা ভিজ্যুয়ালি ফিল করতে।

 

[youtube id=”QsaG8rJGlyQ”]

 

জীবনানন্দ টেক্সুয়াল হরফ ইউজ করছেন বইলা তার খুন, ভায়োলেন্স বা রক্তের লাল ব্যাপারগুলি ততো টের পাই না আমরা; টারান্টিনো জীবননান্দের এই ব্যাপারগুলিরে ভিজ্যুয়ালে ট্রান্সলেট করেন।

ভায়োলেন্স আর ব্লাড রেড আরো বহু ডিরেক্টরই ইউজ করছেন, বাট জীবনানন্দের লগে টারান্টিনোর কথা কইলাম আরো কিছু কারণে; জীবনানন্দে তো একটা ‘তবু’ আছে–এই লাইন দুইটাতেও যেমন; ‘শেষ সত্য’ তাইলে কোনটা? জীবনানন্দের ‘শেষ সত্য’ হইলো মানুষের পীরিতি; এতো এতো ক্রুয়েল্টি আর ভায়োলেন্স আর ব্লাডের পরেও মানুষের গ্রোথরেট পজিটিভ, মানুষের হাতে খুন হওয়া মানুষের চাইতে বেশি জন্ম দিছে মানুষ, বাচ্চাগুলিরে রেইজ করছে–এইটা খেয়াল করছেন জীবনানন্দ, খেয়াল কইরা পীরিতি নামের ‘শেষ সত্য’-এ বিলিভ করছেন।

[youtube id=”6n9Q8bsONw4″]

 

এই জিনিসটারেই আপনে পাইবেন টারান্টিনোতে–ওনার বহু সিনেমাতেই; কিল বিল সিনেমাতেই দ্যাখেন–সকল ভায়োলেন্সের শুরু হইলো একটা প্রেগনেন্সি কিটের পজিটিভ ইন্ডিকেট করা! ট্রু রোমান্স সিনেমায় দ্যাখেন বিলিভিং ইন লাভ, দ্যাখেন ন্যাচারাল বর্ন কিলার-এ: অনলি লাভ ক্যান কিল দ্য ডেমন। টারান্টিনো হইলো সিনেমার জীবনানন্দ।

১১ অক্টোবর ২০১৫

 

Escape from L.A. সিনেমার পোস্টার

Escape from L.A. সিনেমার পোস্টার

কম খরচে একটা সিকিওরড জেলখানা চালাবার ভালো উপায় হইলো একটা আইল্যান্ডরে জেলখানা বানাইয়া ফেলা; এর আরো সুবিধা আছে; যেমন, ক্রিমিনালরা নিজেরাই মারামারি করে মরবে, আর একবার কেউ মরলে সে তো আর করে না ক্রাইম!

দুনিয়ায় এমন জেলখানা আছিল অনেক, এখনো আছে; সিকিউরিটির জন্য সেই আইল্যান্ড জেলখানায় কোন গার্ড রাখার দরকার নাই, মেইনল্যান্ডে রাখলেই হইলো, পানি পার হইয়া কেউ ল্যান্ডে আসতে চাইলে আপনে গুলি কইরা মাইরা ফেললেন বা ধইরা ফেরত পাঠাইলেন জেলখানায়… এমন জেলখানা নিয়া হলিউড সিনামাও আছে অনেক; যেমন ধরেন, Escape from L.A.

আইএস-এর খিলাফতের টেরিটরিরে এমন একটা আইল্যান্ড ভাবেন; এমন একটা জেলখানা যেইখানে ধইরা ঢুকাইতে হয় না, নিজেরাই যায়–টেররিস্ট ক্রিমিনালরা; কেননা, তারা ভাবছেন–ওইখানে যাওয়াটাই ফ্রিডম এবং ওইভাবে সারা বিশ্ব দখল করা যাবে।

যেইসব ইসলামিস্ট ইউরোপ আমেরিকা ছিল বা আছে, হয়তো বিজি আছিল সেই সেই দেশের কোথায় বোমা মারা যায়, হামলা করা যায় তারা এখন ইরাকে যাবার চেষ্টায় বিজি; আমার কাছে কোন সহি স্ট্যাটিসটিক্স নাই, বাট অনুমান করি খিলাফত ফাউন্ডেড হবার পরে ইউরোপ-আমেরিকায় ইসলামিস্ট হামলা কমে গেছে; ওইসব দেশের ইসলামিস্টরা ইরাকে যাইতাছে, এইটা সুখবর তাদের জন্য–কেবল খেয়াল রাখতে হবে, ইরাক থেকে যেন তারা বাইরাইতে না পারে; বাংলাদেশ/পাকিস্তান/ভারতের ইসলামিস্টরা ইরাকে চইলা গেলেও সরকারের খুশি হবার কথা; বাট ওইটা যে একটা জেলখানা না সেইটা বুঝাইতে, মানে ডিজগাইজটা ফুটাহীন করতে সরকারগুলি ভান করবে যেন তারা আসলে চায় না তাদের নাগরিকরা ইরাকে যাক; বাট চিন্তা করেন–বৃটেন থেকে যদি ২৫০০০ হাজার ইসলামিস্ট ইরাকে যায় এবং ইরাক থেকে তারা বাইরাইতে না পারে তাতে বৃটেন খুশি নাকি অখুশি?

আইএস কন্ট্রোলের ভিতর রাখা কোন সমস্যাই না আসলে; তাগো ধরেন রাইফেল, ট্যাঙ্ক আছে বাট বুলেট বানাইতে পারে না; বুলেট সাপ্লাই সীমিত রাখলেই কাম সারা, বিশেষ আর কিছু দরকার হয় না–বুলেট ছাড়া রাইফেল একটা লাঠি হইতে পারে বড়জোর।

এই হিসাবে আশা করা যায়, ইসলামিস্ট রাখার জেলখানা হিসাবে আইএস টেরিটরি থাকবে অনেক দিনই; এ এমন এক জেলখানা যাতে আত্মমগ্ন থাকতে থাকবে মিডল ইস্ট এবং ইসলামিস্টরা।i

২৪ জুন ২০১৫

 

কোয়ানটিন টারানটিনো

কোয়ানটিন টারানটিনো

ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডদের কি ইহুদীরা ঔন করে, ঔন করা কি পসিবল? বাট মনে কী ভাবে–কোন প্লেজার দেয় নাকি তাগো ঐ ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস?

পাবলিকলি ঔন করা পসিবল না মনে হয়, হিউম্যান রাইটস, বন্দীদের হক, ওয়ার ক্রাইম–এমনসব রিকগনাইজড ফাউ কথার কারণে পাবলিকলি কত কী ঔন করা যায় না তো আর!

‘সাম পিপল ডিজার্ভ টু ডাই.’–এই কথাটার পপুলারিটি যারা মালুম করতে পারেন, তারা হয়তো কতক অনুমান করতে পারবেন ইহুদীরা মনে মনে কি ভাবে–কতটা প্লেজার তারা পায়…। ইহুদীদের ব্যাপারে কইয়া শুরু করলেও ‘আইডিয়া অব জাস্টিস’ এবং খুনের রিলেশন মে বি পাওয়া যাবে প্রায় সব কালচারেই; বুদ্ধিজম বা জৈন ধর্ম–এমন কিছু রিলিজিয়নে খুন মানা করা থাকলেও এইসব রিলিজিয়ন অলা দেশ/কালচারে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট থাকাটা যেই ‘আইডিয়া অব জাস্টিজ’ ইন্ডিকেট করে সেইটা খুনমূলকই। ইউরোপে (কানাডায়ও কি?) এখন ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট তুলে দিছে কিছু দেশ; আগে একটা লেখায় কইছিলাম–সাদা মানুষের গ্রোথরেট নেগেটিভ নাম্বারে যাবার পরে ইউরোপের এই ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বিরোধী পজিশন পাইলাম আমরা।

যাই হোক, ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডরা কি করে? কেবল খুন না, এইটা রিভেঞ্জ এবং নেসেসারিলি ক্রুয়েল, ক্রুয়েলটি ডিসপ্লে এবং সেলিব্রেট করে এনারা; ২০০৯ সালে টারান্টিনো এইটা দেখাইলেন। কয়েক বছরের ভিতরেই আমরা এইটার ‘ট্রান্সলেটিং ইনটু রিয়েলিটি’ পাইলাম আইএস মারফতে। ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস চ্যাপ্টারে ভাগ করা, টারান্টিনোর কিল বিল-এর মতোই; চ্যাপ্টার টু দেখলে আইএস-মেনিফেস্টো পাইবেন মোটামুটি।

আইএসরেও পাবলিকলি ঔন করতে পারে না মোসলমানরা, বাট মনে মনে প্লেজার পাইতে প্রোবলেম নাই তো; সেই একই ‘আইডিয়া অব জাস্টিস’ এই প্লেজার দিতে পারে; এর লগে আছে নজিরমূলক/দৃষ্টান্তমূলক পানিশমেন্টের আইডিয়া, এইটা থেকে আসে ক্রুয়েল্টি এবং ক্রুয়েল্টির ডিসপ্লে। ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস আর আইএস–দুইটাই এইটা শেয়ার করে, মানে খুবই দৃষ্টান্তমূলক।

বাট আইএস যতদিন সাদা বা খৃস্টানদের ওইভাবে খুন করছিল, ক্রুয়েল্টি ভিডিও কইরা ছাড়ছিল ততদিন প্লেজারটা ভালোই ছিল; পরে মোসলমানদের আনইজি লাগা শুরু করে; আইএস যখন ইসরায়েল বিষয়ে চুপ থাকে, ফিলিস্তিনের মোসলমানদের ফ্রিডম লইয়া কোন হেডেক দেখায় না, শিয়াদের খুন করতে থাকে বা অন্যান্য মোসলমানদের তখন ব্যাপক মোসলমানের সন্দেহ হইতে থাকে, আরামের থাকে না আর। সো, আইএস আর মোসলমানদের ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস হইতে পারলো না।

তাইলে নতুন সওয়াল হইলো, আইএস বানাইয়া ইউএসএ/ইসরায়েল কী পাইলো? এসব ব্যাপারে লিখছি আগেও, আবার একটু কই। ইউরোপ-আমেরিকার ইসলামিস্টদের কাছে ড্রিমল্যান্ড হইলো আইএস টেরিটরি, ফলে ইউরোপ-আমেরিকার ‘আবর্জনা’ সাফ হইতে থাকলো বেশ; মধ্যপন্থি বিরাট এক মোসলমান দল যারা ইসলামিস্ট বিষয়ে একটু নরম আছিল, তাগো দেখাইয়া দেওয়া গেল–ইসলামিস্টরা পাওয়ারে গেলে কেমন দশা হবে; সো, এই মোসলমানদের খেলাফতের ড্রিম নাইটমেয়ার হইয়া উঠলো; মোসলমানদের ভিতরেই ইসলামিস্টদের ক্রেডিবিলিটি পচাইয়া ফেলা গেল। এদিকে রাশিয়ার মাধ্যমে একদল ‘ভালো খ্রিস্টান’ দেখলো মোসলমানরা, যারা এমনকি ইসরায়েল বিরোধীও।

লক্ষ লক্ষ খুনের ভিতর দিয়া একটা লাইভ টিভি সিরিয়াল হইলো যেন, বিভিন্ন রিলিজিয়নের ভিতর শত্রুতা আরো বাড়লো–মোটের উপর, এগুলিকে কি লাভ হিসাবে আদৌ ভাবা যায়?

নোট: ফিকশন নকল কইরা রিয়েলিটি বানানো হইতাছে এমন, আর আমাদের রাইটাররা এখনো মানিকের পদ্মা নদীর মাঝি, দেবেশ রায়দের বাপ-মা বানাইয়া শাহাদুজ্জামান-অদিতি হইতাছে; এনারা সমাজের ছবি আঁকেন, ফিকশন বলতে এনারা বোঝেন এথনোগ্রাফিক ডকুমেন্টারি, যেই এথনোগ্রাফি আদৌ ডকুমেন্টারি কিনা–সেই আলাপও পুরানা হইয়া গেছে সেই কবে, ইভেন ডকুমেন্টারি আদৌ ডকুমেন্টারি কিনা–সেই আলাপও পুরানা হয় হয়…

১২.১০.১৫

 

 

The following two tabs change content below.

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।

Latest posts by রক মনু (see all)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য