Main menu

পলিটিক্যাল আক্কেল

কয়েকটা বেপারে কিছু কথা কই আমি মাঝে মাঝে, কেউ খুব একটা পাত্তা দেন না; তাও কইতে থাকি, টিভি অ্যাড আমি একটা, চলতেই থাকবো ইন এভরি বেরেক :) ! আজকের ইশু হইলো, আমাদের ভোকাবুলারি, পলিটিক্যাল টার্মিনোলজি।

আমাদের ভোকাবুলারি রিডিজাইন করা দরকার। জেমন ধরেন, নিজেদের ‘বাম’ নামে পরিচয় দেন অনেকে, বুক ফুলাইয়া বা নর্মাল ফোলা বুকেই কইতে থাকেন, ‘আমি বাম’, অনেকে অবশ্য নিজেরা কন না, অন্যরা তাদের কন, কিন্তু তারা শেইটা মাইনা নেন, আপত্তি করেন না। আমি কইছি, ‘বাম’ পরিচয়টা বাংলাদেশে রাজনিতির জন্য শুবিধার না; কারন, আমজনতার কাছে ‘বাম’ মানে কুফা। তেমনি ‘থাম্বছ্ আপ’ও আশলে দেশাচারের খেলাপ, বুইড়া আংগুল দেখানোর অর্থ ‘পাত্তা না দেওয়া’, ‘তুই আমার বালও ফালাইতে পারবি না’র লগে লোকে বুইড়া আংগুল দেখাইয়া থাকে, কথা আর ভিজুয়ালে মিলায় ঐভাবে।

আমি রেপকেও জুলুমের ছাব-ক্যাটেগরি হিশাবে দেখতে কইছি; এইখানে দুই কথায় কারনটা আরেকবার কইতেছি: দেশে জে কোন একটা রেপের ইশুতেই বাড়তি কতগুলা কথা হাজির করে কতগুলা লোক, কখনো রেপিস্টের দালালি করতে, কখনো ধান্দাবাজি হিশাবে, কখনো আশল আলাপটা ছেরেফ আউলা কইরা দিতে, কখনো বা ধর্মরেও হাজির করে কেউ কেউ; জে এংগেল থিকাই হৌক, রেপের বেলায় দেশে ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ করা লোক এত বেশি জে, শামাল দিতে হিমশিম খাইতে হয়! এখন, রেপের বেপারে আপনে জা ভাবেন, তা তো শবাইরে ভাবাইতে পারবেন না দুই দিনেই, কিন্তু রেপকে জদি জুলুম হিশাবে দেখাইতে পারেন তাইলে ঐ ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ ঘটার উপায় থাকে না! কেননা, জুলুম দায় কার? জালেমের আলবত, দায় কার শেইটা ফয়ছালার পরেই জুলুম পাইতেছেন, জুলুমের দায় মজলুমের হইতেই পারে না! তাই দেশের পাবলিক ডিছকোর্ছে রেপকে জুলুমের ছাব-ক্যাটেগরি হিশাবে হাজির করাই আক্কেল মনে হয় আমার, তাতে খোদ ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ করা কতগুলা লোককে আপনে লগেও পাইতে পারেন!

এখন আরেকটু খেয়াল করেন, এই জে ‘বাম’ বা ‘থাম্বছ্ আপ’ পেরাকটিছ করা লোকদেরই বিরাট একটা শরিক কিন্তু এই জামানার বহু চিন্তার লগে পরিচিত, তারা অনেকেই চিন্তায় পোস্ট-কলোনিয়াল হইয়া উঠতে চায়। তাইলে ঘটনাটা কি আশলে, এই শব টার্মের বেপারেও পোস্ট-কলোনিয়াল হইয়া ওঠার জে কোন মামলা থাকা শম্ভব, শেইটা কি ভাবেই না তারা! ইউরো-ছেন্ট্রিজম নামের একটা জিনিশ জে তারা ভাবেন, এই শব টার্মকে কি শেই ইউরো-ছেন্ট্রিজমের পুরা বাইরের মালামাল ভাইবা বইশা থাকেন তারা!?

এখন আমার এই ভাবনার রোশনাই দিয়া এই পোস্টারটারে একটু ভাবেন পিলিজ। ‘বাক-শাধিনতা’ বা ‘ফিরিডম অব এক্সপেরেশন’ নামের আইডিয়া উপচাইয়া পড়তেছে এই পোস্টারে। এই পোস্টার দিয়া জারা মুভমেন্ট করবেন, তাগো কোন পরিচয়ে চেনে দেশের আমজনতা? আইডিয়া হিশাবে দেখেন তো, ‘থাবা বাবা’র পক্ষে জারা মুভমেন্ট করছিলেন, তাগো আইডিয়ার লগে এই পোস্টার অবিকল খাপ খায় কি না? শেই মুভমেন্টও শবাই একই পাটাতনে উইঠা করে নাই, এখনকার এই পোস্টারঅলারাও শবাই ‘থাবা বাবা’র পক্ষে নামেন নাই, নামলেও ‘থাবা বাবা’র এজেন্ডার লগে তারা অনেকেই মিলতে রাজি হবেন না। কিন্তু এই পোস্টার জেহেতু ‘থাবা বাবা’র পক্ষেও খাড়ায় তাই থাবা বাবার কায়কারবারকে ঘেন্না বা ডিনাই করা লোকের কাউকে লগে পাইবেন আজকের এই পোস্টারের মুভমেন্টে? ঘেন্না বা ডিনাই করার লগে খুনের তফাত অনেকখানি, জারাই ঘেন্না করে, তারা শবাই খুনি না, তারা এমনকি খুন ঠেকাইতেও চাইতে পারে অনেকে, অনেকে হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে পারে, একটা দলা হিশাবে দেখা তো আলবত বেআক্কেলের কাম হয়!

এই জে ‘থাবা বাবা’রে ডিনাই করা লোকদের মনকে আদৌ তোয়াক্কা করলাম না আমরা, ওদিকে তারাও আমাদের বেপারে কতগুলা ভুলকে ছহি ভাইবা শন্দেহ জারি রাখলো, আমরা তাদের একটা দলা ভাবলাম, জবাবে তারাও আমাদেরকে ঠিক একটা দলাই ভাবলো, ফায়দা কতটা পাইলাম আমরা? আমজনতার শরিক হিশাবে আমরা শবাই-ই তো বাকশালি হুকুমতে কোন না কোন ভাবে জুলুমের ভিতর আছি (ছেরেফ ১০০ টাকা মোবাইল রিচার্জে ৩০ টাকা নাই ভাবেন!), এই মজলুম আমরা ভুল দুশমন লইয়া বিজি থাকলাম হুদাই, আখের গুছাইলো বাকশাল, গদিতে বহাল থাইকা জুলুম জারি রাখতে পারলো বরাবরের মতোই!

কিন্তু পোবলেম কিন্তু এতটুকই না; আবার আমরা আশলেই জদি পোস্ট-কলোনিয়াল হইতে রাজি হইতাম তাই এই পোস্টারে কতক কলোনিয়াল আছর দেখতে পাবার কথা! কিন্তু পোবলেম আশলেই এইখানেই খতম হইলো না।

বাকশাল ধরেন চ্যালেঞ্জ করলো আপনারে, ‘ফিরিডম অব এক্সপেরেশন’ আছে, এমন একটা রাশ্টো দেখাও, পারবেন? না। কারন, এইটা নাই। আপনাদের আইডিয়াল রাশ্টোগুলাতেও হলোকাস্ট ডিনায়াল থিকা এন্টি-স্টেট মামলা হয়, হইতে পারে, হিটলারের একটা ফ্যানপেজ বানাইতে পারেন না ফেছবুকে। এমন একটা ইউটোপিয়া আপনে চাইতেছেন জেইটা দুনিয়ায় নাই বইলা শেইটা তো পাইতেছেনই না, লগে জতোটুক পাইতে পারতেন, তাও ১৬ আনা হারাইতে হয়, কিছুই আদায় করতে পারেন না! তো, পোস্ট-কলোনিয়াল হইতে জদি রাজি নাও থাকেন, ইউটোপিয়া কেন চাইবেন, ফায়দা কি?

তাইলে জিগাইতে পারেন, রাস্তা কি? আমি কইবো, একদম গোড়ায় শুরু করেন, আপনের টার্মিনোলজি পুরা রিডিজাইন করেন!

রাশ্টো কার? জনতার। তাইলে মালিক তার শম্পত্তি তদারক করবে না? দেখভাল করবে? নজর রাখবে না? পাবলিক ছার্ভেন্ট নাকি জনতা, কার ইজ্জত বেশি থাকবে?

জনতা তার রাশ্টো তদারক করবে, তাই রাশ্টের শব কিছু জানার হক আছে জনতার, পাবলিক ছার্ভেন্টদের জনতার নজরের নিচে থাকতে হবে। ডিজিটাল ছিকিউরিটি আইন একটা খারাপ আইন শেইটা এই কারনে না জে এইটা ফিরিডম অব এক্সপেরেশন আটকায়, বরং এই কারনে জে, এই আইনের হামলায় জনতা তার শম্পত্তি তদারক করতে পারে না।

ধর্ম লইয়া খোলামেলা আলাপের খায়েশে একটু ছাড় দেন, জনতার মন বুইঝা চলেন একটু। রাশ্টের পোরতিটা বেপারে আপনার মতোই তাবত জনতা বহু কথা কইতে চায়; কিন্তু আপনে ধর্মের বেপারে খোলামেলা হবার দাবি করতে থাকেন, তখনই জনতার বিরাট এক শরিকের লগে আতাতের মওকা পাইয়া জায় শরকার, আপনে তখন ধর্ম লইয়া আরো কম কইতে পারেন, লগে রাশ্টো লইয়া পেরায় কিছুই কইতে পারেন না আর! শরকার মওকা পাইয়া নিজেরেই রাশ্টো দাবি করতে মওকা পায়; এইভাবেই খাদেমের দখলে চইলা জায় খোদ রাশ্টোই, আপনে বা জনতার উপর জুলুমের চাবুকটা আরো মজবুত হইতে থাকে!

বি ওয়াইজ, পিলিজ।

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
রক মনু

লেটেস্ট ।। রক মনু (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য