Main menu

কেন আমি আনপেইড আড়ং ক্যানভাসার

বড়ো একটা থাল দরকার ছিলো আমার; যেন একবারেই দরকারি ভাত-টাত নিয়া নেওয়া যায়, ডাইল জাতীয় লিক্যুইড আরামে খাওয়া যায়, হাত আরামে মুভ করা যায় থালের ভিতর।[pullquote][AWD_comments][/pullquote]

এমন একটা থাল আমার ছিলো, সাদা–সিরামিকের; ভাঙছিল মনে হয়; এখন, কয় দিন আগে আড়ং থেকে এইটা কিনলাম–মাটির। এইটায় ভাত খাইয়া আরাম আছে।

আড়ং-এর সেলস্-পার্সনরে জিগাইলাম আমি, এইটা কি ওভেনে দেওয়া যাবে? কইলেন, না; আমি হাসলাম।

আনার পরে ভাত-মাছ-মাংস-শাক-ডাইল যা যা খাবো, সব এক লগে লইয়া ওভেনে দিলাম; দেখি, ৪ পাশ খুব গরম হইয়া গেছে, বাট মাঝখানে ঠাণ্ডা; দেখলাম, চিন্তার বিষয়। তারপর এই বুদ্ধি বাইর করলাম।

ভাত-টাত ৪ পাশে ছড়াইয়া দিলাম, মাঝখানে পুরা ফাঁকা; মাছ ভাজা থাকলে বা অন্য তরকারি ভাত দিয়া ঢাইকা দিলাম; তেলতেলা জিনিস থাকলে গরম করার সময় ওভেনে সেইটা ছিটতে থাকে। এবারে দেখলাম ঠিকভাবেই গরম হইছে। মাঝখানটা ঠাণ্ডা থাকায় হাতের তালুতে লইয়া হাঁটতে হাঁটতেও খাওয়া যাইতাছে।

লাইট আর ক্যামেরা আর আমার স্কিলের জন্য ছবি খারাপ হইছে; তবে টাইম দিতে পারলে ভিডিও টিউটোরিয়ালও দেওয়া যাইতো।

লাইফস্টাইলের এইসব খুচরা বাদেও মাটির বাসন-কোসন লইয়া ভাবা যায় আরো।

কলের কাপড় দিয়া দেশি তাঁতিদের খুন করছিলো ইংরাজরা; কলোনিয়াল ইংরাজরে গালি দেওয়াটা বেশ সোজা; বাট দেশিদের হাতে সেই কলোনাইজেশনের আগাইয়া চলা মালুম করা মুশকিল।

বাংলাদেশে সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি’র ডেভলাপমেন্ট গত ৩০/৪০ বছরের ঘটনা; প্লাস্টিক তো ১০/১৫ বছর মনে হয়! সিরামিকের জিনিসপত্র বানাইতে দেখলাম ৯৫% জিনিস বিদেশ থেকে আনতে হয়; মাটির জিনিস তো ১০০% দেশি।

তো, সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি এবং লাইফস্টাইলে সিরামিকের ইজ্জত এস্টাবলিশ কইরা আমরা দেশিরাই কুমারদের খুন করলাম। এলুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রির কিছু দায়ও আছে মে বি। আবার হিস্ট্রিক্যলি কুমাররা হিন্দু হওয়ায় আমরা তাদের ভারতে চালান কইরা দিলাম কতক।

এগুলি আনডু করার কোন উপায় কি আর আছে? মনে হয় না। বাট, মাটির বাসন-কোসনের ইজ্জত বানাইতে পারলে কদ্দূর সুবিধা হয়তো করা যাবে; এজন্য একটা টিমওয়ার্কের কথা ভাবা যাইতে পারে। বুয়েট, চারুকলা আর কুমারদের যদি ভালো ভালো টিম করা যায় তাইলে মিডল ক্লাসের চোখে বিউটিফাইড মাটির বাসন-কোসন পাওয়া যাইতে পারে; কুমারদের মাঝেই আর্টিস্ট আছেন, বাট মিডল ক্লাসের আর্ট কনজাম্পশন না বুঝলে এই ক্লাসে ইজ্জত তৈরি করা যাবে না।

কুমারদের লইয়া আড়ং-এর প্রজেক্টে কুমাররা স্রেফ লেবার মাত্র মে বি, লাভের প্রায় পুরাটাই হয়তো আড়ং-এর; বাট, দেশি জিনিস মিডল ক্লাসের কাছে বেচবার মতো কইরা তোলায় আড়ং-এর ট্রাই রিকগনাইজ করা দরকার; আড়ং-এর দোষগুলি ইরেজ করে অমন টিমওয়ার্কের পাটাতনে কুমারদের ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করা দরকার; আইডিয়ালি এগুলি বাম বা সামান্যের রাজনীতি যারা করেন তাদের প্রজেক্ট হবার কথা; তা এখনো নাই দেশে…বটে।

আগের/পরের পর্ব<< ম্যাসোকিস্ট ফরহাদে ক্যাথারসিস পাইবেন, রাস্তা তত নাআপনের বউ’র ছায়ার তলে হাত ঢুকাইয়া আপনের কান খোঁজে নচিকেতা >>
The following two tabs change content below.

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।

Latest posts by রক মনু (see all)

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য