Main menu

এডিটোরিয়াল: সুখের ঠিকানা

ইতিহাসের দারুণ মুসিবতে কেবল সত্যই জনতার হেফাজতের উছিলা হইতে পারে। কিন্তু আফসোস, আমাদের গাফিলতির ভিতর দিয়া মস্ত মওকা পাইছে জালিম, সে এখন কয়- সত্যই তো নাই দুনিয়ায়, নিজের দরকারে আবার সত্য বানায় নিজেরই কারখানায়, আমাদের দোমনা কইরা তোলে আখেরে; সত্যের নিশানা ভুলি!

কিন্তু সত্য তো আমাদের লাগেই, বিস্টি নামলে বিস্টি যে নামলো সেইটারে সত্য মানার পরেই হাতের ছাতি খুলি অথবা আরো অনেকের লগে একলা ভিজি বা কাপলে!

ফানি। কেমন পোয়েটিক হইয়া উঠতেছে, বা কোন এক আউলিয়া এরশাদ করতেছে যেন! আচ্ছা, বাদ। শব্দের এই মফেল প্রেসিডেন্ট মুরছিরে লইয়া, উনি যে মরলেন!

ইতিহাসে এই মুরছি এবং তার মরণ জনতার মস্ত দুই শরিকের চুক্তির মওকা বানাইয়া দিছে, চলেন চুক্তি করি। নিজের দলের স্বার্থ লইয়া দরাদরি করতেছি আমরা সেই কবে থিকা, কখনো বা দরাদরি খুব মরামরি হইয়া ওঠে, প্রেসিডেন্ট মুরছি আমাদের এক এজমালি পাটাতন দিয়া মরলেন, এই মফেল তারই শোকরানা মফেল!

মিশরের একমাত্র হালাল প্রেসিডেন্ট মুরছি, কেমনে হালাল? কেননা, মিশরের জনতা তারে কবুল কইছেন ইলেকশনে। দুনিয়ায় মুরছিতে যাগো পলিটিক্যাল নাপছন্দ কিন্তু ইলেকশনে জনতার কবুলের অভাবের কারণে সিসিতেও নাখোশ এবং মুরছি যাগো ইমাম–জনতার এই মস্ত দুই শরিকই ইলেকশনে জনতার কবুল করারেই সবচে দামি ভাবতেছেন, মুরছির ইলেকশন তাই হালাল এবং লিগ্যালের এজমালি পাটাতন– এ বড়ো আশার কথা!

চলেন ফ্যাসাদ করতে এই পাটাতনে উঠি আমরা জনতা, দরাদরি করি, একটু ছাড় দিলেই মজবুত চুক্তি করা খুবই সম্ভব! ভারতে দেখেন বিজেপি-শিবসেনা ইলেকটেড হইলো, কোন সিসি কি আসলো? তাইলে মুরছিরে যদি আপনে ডরানও তবু কেন সিসিদের আসায়-থাকায়, দখলে মদদ দেবেন!

মুরছি এবং তার ইলেকশনের দোহাই, চলেন, ১ নম্বরে মাইনা লই আমরা যে, জনতার মস্ত দুই শরিক আমরা, খুবই যুদা, কিন্তু জনতার কবুল করাই আমাদের হালাল-লিগ্যাল। তারপরে দরাদরি। দরাদরির পয়লা ইস্যু হইলো–দুর্বলের বাঁচার হক আছে কিনা। আইন এবং আল্লার নজরে সবারই আছে ভোট অথবা কবুল করা বা না করার হক। আছে কিনা? তাইলে আমরা কেমনে সমাজের দুর্বলকে মারতে পারি নাম্বার আর গায়ের জোরে? কবুলের মাঝেই আছে গায়ের জোরের কবর, মোদিদের মতো পপুলিজমের গায়ের জোর যেন কবুলের গোরস্তান বানাইতে না পারে!

তারপরের ইস্যু হইলো, কে কতটা ছাড় দেবে? মানুষের মুক্তি, সুখ, হক আর দায়িত্বের ফয়সালা করতে হবে আমাদের। সমাজ জীবনের মঞ্জিল কি সারভাইভাল এবং সুখ না? এইখানেও তো একমত আমরা! এইটা যদি মর্ম হয় সমাজ-জিন্দেগির, তাইলে ঐ ফয়সালা লাগবে আমাদের। এক শরিক পাবলিকে ছাড় দেবে, প্রাইভেটে পাবে, আরেক শরিক প্রাইভেটে ছাড় দিয়া পাবলিকে লাভ করবে।

দুই শরিকের কারোই অন্যের সবটা ভালো এবং সহি ভাবার বা মানার দরকার তো নাই, চুক্তির মানেই হইলো গলদ এবং খারাপের লগে শান্তিতে থাকতে থাকা, এবং এইখানেই অন্তত দুনিয়াবি সুখের ঠিকানা।

মুরছিরে ইমাম মানার দরকার নাই, অন্তত ইতিহাসের ট্রায়াল হিসাবে লইয়া এরর থিকা রেহাই পাইতে পারেন। গুড লাক টু আস।

…………………………………………………..

১২ জুলাই ২০১৭

হোয়াইট ভালো লাগে, সারা জিন্দেগি হোয়াইট পার্টনার লইয়া কাটাইছেন, এমন কেউ রেসিজম বিরোধী পলিটিক্স করলে কি কোন হিপোক্রিসি হয়? না।

পার্সোনাল ইজ পলিটিক্যাল, কিন্তু প্রাইভেট আর পাবলিক স্পেসে পলিটিক্সের ডাইমেনশনে বহু তফাত। সমাজ যদি মানুষকে দখল কইরা থাকে, তবু সমাজে থাকা মানে একটা চুক্তির ভিতরে থাকা। প্রাইভেট থিকা আপনে যদি নিজের পজিশন লইয়া পাবলিকে যান তাইলে সেইটা পলিটিক্যাল এজেন্ডা হয়, পাবলিক পজিশন লওয়া মানে আপনে সেই রাজনীতির প্রোপাগান্ডা চালাইতেছেন। পাবলিক পজিশন এবং প্রোপাগান্ডার আরেকটা দিকও আছে, এইটা আপনে মরার পরেও থাইকা যাইতেছে, প্রাইভেট মানে আপনে মরার পরে নাই। সামাজিক বা পাবলিক তাইলে বিয়ন্ড প্রাইভেট, দুই স্পেসের পলিটিক্সেও এই তফাত।

সামাজিক চুক্তিতে আপনারে যা যা মানতে হয় সেইগুলা আপনে প্রাইভেট লাইফে নাও মানতে পারেন। অসুবিধা নাই।

আমাদের দরকার হইলো কতগুলা সামাজিক ছাড় দিয়া একটা পোক্ত চুক্তি করা যাতে আমাদের প্রাইভেট স্পেসে হামলা না হয়।

দেখেন, সিগারেট খাওয়ার প্রোপাগান্ডা চালানো বেআইনী, কিন্তু সিগারেট আপনে খাইতে পারেন। সিগারেট খাইয়া আপনে সিগারেট বিরোধী রাজনীতিও করতে পারেন। আমাদের সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন, বিয়ার প্রাকটিসের সীমা, ড্রাগস, ড্রিংকিং, ড্রেসআপ–এইসব ব্যাপারে কতগুলা পাবলিক পজিশন লইতে পারতেছেন না, কতগুলা বেআইনী, কতগুলা আইনে মানা না করলেও অসামাজিক হিসাবে দেখে লোকে। এখন কোনটা চান আপনে? এইসব লইয়া প্রোপাগান্ডা চালাইতে নাকি প্রাইভেট স্পেসে কে কি করে সেই ব্যাপারে যেন খবরদারি না করে কেউ, উঁকি মারে–নজরদারি করে স্টেট-সমাজ, সেইটা বেশি বন্ধ করা দরকার, নাকি সমাজে ধরেন ড্রাগ আরো ছড়াবার পলিটিক্স কইরা ড্রাগ-মাফিয়ার মার্কেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে বেতন ছাড়া কাম করা?

অরিয়েন্টেশনে যারা স্টেইট না তাগো বিয়ার প্রোপাগান্ডা চালাইতে চান। বিয়া তো স্ট্রেইটদের বানানো একটা ইন্সটিট্যুশন, প্রোপার্টি এবং পোলামাইয়ার হিসাব রাখতে বানাইছে সমাজ, আপনে কেন সেইটারে আরো পাওয়ারফুল করতে চান? বা আরেকভাবে দেখেন, আপনে তো চার্চে বৌদ্ধের একটা মূর্তি রাখার দাবি করেন না! বিয়া তো স্ট্রেইটদের ক্লাব একটা, আপনে কেন সেইখানে ডাকতেছেন!

আপনে কইতে পারেন, সমাজে যা কিছু আছে তাতে সবার ভাগ আছে, তাই বিয়ার ভাগও দিতে হবে। আপনের এই দাবি লজিক্যাল ভাবার মুশকিল হইলো, এইটা সমাজের জন্য সুইসাইডাল! রিপ্রোডাকশন লাগবে সমাজের, নাইলে তো সমাজই থাকতেছে না! আপনে টেস্টটিউব বেবি বানাইবেন খালি? তাইলে কিন্তু আপনে এলিটিস্ট/ধনীদের লোক হইতেছেন তুমুল! গরিবেরা যেইটা খেলতে খেলতেই পারে, খরচ নাই কোন সেইটা করতে আপনে কত কত খরচের আয়োজনের রাস্তা দেখাইতেছেন!

আবার কইতে পারেন, আমি তো স্ট্রেইটদের ঠেকাইতেছি না! সমাজের প্যানিক আর সারভাইভাল ইস্যু এইভাবে কাম করে না। কোন একটা প্রোপাগান্ডা, যেইটা পুরা সমাজে ছড়াইলে সমাজ আর থাকতে পারবে না সেইটা শুরুতেই চিনতে পারে সমাজ, শুরুতেই থামাইতে চায়। অন্যরে জোর করার দরকার নাই আপনার, দুনিয়ায় পিসফুলি ছড়াইছে কত কিছু, জোর কইরা খাওয়াইতে হয় নাই। দেখেন, চা খাওয়াইতেই ব্রিটিশরা সবচে কম জোরাজুরি করছিল, খুবই পিসফুলি এইটা সারা দেশ দখল কইরা নিছে না? আগে যেসব জায়গায় শরবত দেওয়া হইতো তার অনেকগুলাতেই চা দখল করছে, শরবত খেদাইয়া দিছে পিসফুলি! স্টারডমের এই হাই টাইমে পিসফুলি দখল করা আরো সোজা হইয়া উঠছে!

সো, সমাজের কতগুলা লজিক আছে। সমাজ অনেক সময়ই ব্যক্তিরে খুন করে, হামলা করে। হামলার পিছে যদি পপুলার সাপোর্ট থাকে তাইলে হামলা ঠেকাবার রাস্তা প্রায় নাই! আমরা তাইলে কি করবো? আমি কতগুলা ছাড় দিয়া চুক্তি করার পক্ষে। আমি সমাজকে কতগুলা জিনিস দিয়া নিজের জন্য আরামের একটা স্পেস চাই। সমাজের হামলা কমাইতে চাই, এই ব্যাপারে আমি স্ট্রেট আর সমাজের ডায়ালেকটিক রিলেশনকে ম্যানিপুলেট করতে চাই। আমি চাই প্রাইভেট স্পেসে স্টেটের নাক ঠেকাইতে সমাজকে ইউজ করুক লোকে, সমাজের নাক ঠেকাইতে স্টেটকে ইউজ করুক।

সমাজে লেখা বা রিটেন কোন কোড নাই, স্টেটের আছে। স্টেটকে যদি তার কোড অব কনডাক্টের ভিতর আমরা আটকাইতে না পারি তাইলে স্টেটকে দিয়া সমাজের নাক ঠেকানো যাবে না। আমার তাই পয়লা এজেন্ডা স্টেটকে তার কোডের ভিতর আটকানো, সেইজন্য সমাজের লগে দোস্তি করতে হবে।

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
রক মনু

লেটেস্ট ।। রক মনু (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য