Main menu

এডিটোরিয়াল: ইতিহাশের হালখাতা

দেশের আতেলদের লগে শমাজের খাতির কেন হয় না, এই শমাজ আতেলের দুশমন কিনা ইত্যাদি লইয়া ফিরোজ আহমেদ তার এক লেখায় আলাপ করছেন, ফেছবুকে বহু আতেল ঐ লেখা আগাইয়া দিছেন শবাইরে, তারা ভালোই লাইক করছেন মনে হইলো।

কিন্তু ফিরোজের লেখাটা আদতে দেশের আতেলদের লইয়া একটা লেখা ভাবাই মুশকিল আশলে! কারন, ফিরোজ দেশের বেশিরভাগ আতেলকে তার হিশাবেই রাখেন নাই! এবং রাখেন নাই বইলা অনেকগুলা গলদে পড়ছেন ফিরোজ।

আতেলের রকম আছে এবং দেশের শবচে বেশি আতেল আরবি মিডিয়ামে পড়া এবং তারা খুবই কামিয়াব হইছেন, হইতেছেনও শমাজে! তারা কেতাব লেখেন, ঐগুলা বাংলা মিডিয়ামের আতেলদের তুলনায় বহুগুন বেশি বিকায় বাজারে; তবে তারা শবচে বেশি কামিয়াব হইছেন পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল হিশাবে! তাগো বক্তিমা ইউটিউবে কোটি কোটি মানুশ শোনে, ওগুলারে আমরা অডিও-কেতাব হিশাবে ধরতে পারি। দেশের হট আতেলের একটা লিস্টি বানাইলে পয়লা শ’দুয়েক হয়তো আরবি মিডিয়ামের হবেন, তারপর ড. খানেরা ঢোকার মওকা পাইতেও পারেন!

এনাদের হিশাবে না লওয়ায় ফিরোজ মালুমই করতে পারে নাই জে, শুন্দরবন বা রামপাল বা রুপপুর বা গ্যাশ ইত্যাদি লইয়া কোন কথা না কইয়াও খুবই হট আতেল হওয়া জাইতেছে দেশে! কেননা, আরবি মিডিয়ামের আতেলরা ওগুলার ধারেকাছে না জাইয়াই এমন কামিয়াব হইতে পারলো তো!

কিন্তু এইটা একটা দিক, এদিকে ফিরবো আবার। ওনার আলাপের আরেকটা দিকে আছে কলিকাতা লইয়া আলাপ। উনিশ শতে নাকি বিরাট শব আতেল হইছে কলিকাতায়, গরম আছিল বাংলা। কিন্তু খেয়াল করেন, আজকে আমরা জেমন বাকশাল থিকা মুক্তির তরিকা বাতলাইয়া দেবার, আমজনতারে রাস্তায় নামাবার মতো পাওয়ারফুল আতেল পাইতেছি না, ঠিক এমনই ১৮৫৭ শালের ছিপাইরা ইংরাজ খেদাইতে নাইমাও তো কোন আতেল পায় নাই! তাগো জেই দুই চারজন আতেল আছিল, ফিরোজের হিশাবের উনিশ শতের কলিকাতার আতেলের লিস্টিতে কিন্তু নাই তারা! বরং তাগো খুনের জেই এন্তেজাম করলো ইংরাজ, শেই খুনের ছাফাই গাওয়া লোকেরাই ১০০% ভইরা ফেললো ফিরোজের আতেলের লিস্টি!

ওদিকে, জেই আতেলরা পুরা দেশের মানুশের লগে বেইমানি করলো, বাস্তবে জাগো পড়তো হয়তো মোট ৫০০০ নেটিভ কলোনিয়াল দালাল, তারাই জদি আজকেও ফিরোজের লিস্টি পুরা ভরতে পারে, বিরাট ঘটনা হইয়া থাকতে পারলো ফিরোজের ইতিহাশের পাতায়, তাইলে আরো ৪০ বছর বাকশাল গদিতে থাকলে ৫০ বছর পরের কোন ফিরোজ আহমেদ এখনকার মোহাম্মদ আরাফাত বা মুন্নি সাহা বা তেমন কত কত কলামিস্ট বা টকশো’র আতেলরা আছেন, বাকশালি পোপাগান্ডা কেতাব লেখক, বয়াতিরা আছেন, তাগো দিয়া লিস্টি বানাইতে পারেন তো, এনারাই শেই ফিরোজের লেখায় ঢাকার বিরাট ঘটনা হইতে পারবে না কেন! এনারা বাদেও তখনকার তালুকদার ইংরাজের লগে জেমন আছিল আপার কাস্ট হিন্দু আতেলরা, এখনকার তালুকদার বাকশালের লগেও আছে ঐ আরবি মিডিয়ামের বিরাট একদল মোছলমান আতেল! তাই আগামির কোন ফিরোজের লিস্টিও বেশ লম্বাই হবার শম্ভাবনা, লগে মস্ত ঘটনা তো বটেই!

কিন্তু ফিরোজের ধান্দাটা আমরা অনেকেই শেয়ার করি মনে হয়; শেই ধান্দাটা হইলো, দেশের মানুশের হাজারো গোলামি কমাবার ধান্দা, আমজনতার কবুল করা বা না করারেই কেবল শাশনের লেজিটিমেসির হিশাবে ধরা, রাশ্টের কাছে জনতার আমানতের পাই পয়শার হিশাব আদায়, নাগরিকের গোলামি কমাইতে শমাজে ইনছাফ কায়েম করা এবং এইগুলা করার দরকারে দেশের আতেল শমাজের চিন্তা আর মন ঢাইলা দেওয়া, তেমন আতেলের লগে আমজনতার মজবুত রিশতা কেমনে বানানো জায়, এইটাই শেই ধান্দা!

আমাদের এই ধান্দা কালকেই কামিয়াব না হৌক, কিন্তু ভুল রাস্তায় জেন একটা কদমও খরচ না হয়, ধিরে হইলেও, মনজিলের দিকেই জেন আগানো হয়, শেই দরকারেই ফিরোজ বা এমন জে কারো (জেমন আমি) জুক্তিগুলা আরেকটু বাছবিচারের দরকার আছে।

ঐ কিছিমের আতেলদের লগে আমজনতার খাতির হয় না, এইটা জতোটা শত্য তারচে বেশি শত্য হইলো, ঐ কিছিমের আতেলই নাই দেশে। আমাদের শরকার, আমলা এবং রাশ্টের শকল বাহিনি তো বটেই, জারা অপোজিশনের অভিনয় করেন হরদম, তাদের ভিতরও ঐ কিছিমের আতেল নাই। শরকার এবং অপোজিশন এই বেপারে একটা ছিন্ডিকেট, শাচ্চা দরদি আতেল আর তাগো চিন্তা খতম করাই ঐ ছিন্ডিকেটের কাম! তাই তেমন আতেল থাকলেও তা জানতার দরবারে হাজির হইতে পারে না– গুম হয়, খুন হয়, নির্বাশনে জাইতে হয়, বিদেশে জাইয়া লিখলে ছেন্সর হয়, দেশে তাগো ফেমিলির উপর হুমকি হয়, আইপি ব্লক হয়, এমন কত কি!

খেয়াল করেন, ফিরোজ জদি ঐ কিছিমের আতেল হইতেন, তাইলে তার লিস্টি কেমনে ১৯ শতের কলিকাতার এন্টি-পিপল আতেলের নামে ভইরা থাকে?

কিন্তু এইটাই কেবল না; আরো খেয়াল কইরা দেখেন, আরবি মিডিয়ামের জেই আতেলরা দেশে কামিয়াব হইছেন, তারা আরবি মিডিয়াম হবার পরেও তাগো বাংলা ফিরোজের বাংলার তুলনায় আমজনতার বুলির কাছের, তাই কানেরও! বাংলাদেশের ভার্নাকুলার বাংলার বদলে ফিরোজ কলিকাতার কলোনিয়াল কারখানায় বানানো ফরেন বাংলায় লেখে বা ওয়াজ করে! ছেরেফ ইন্টেলেকচুয়ালের বাংলা কেমনে করে ফিরোজ দেখেন, ‘বুদ্ধিজিবি’; এই শব্দটা কবে, কই থিকা ঢুকলো বাংলায়? এইটা ঐ কলোনিয়াল কারখানাতেই বানানো আলবত, ঠিক জানি না, কে কবে পয়লা শুরু করলো (আহা, ড. খানের মতো ইতিহাশের একজন হাফেজ জদি রিছার্স এছিস্ট্যান্ট হিশাবে রাখতে পারতাম আমি !),  তবে ফিরোজের পেয়ারা ১৯ শতের কলিকাতায়ও ততো পাই নাই এইটা (জেমন বঙ্কিমে মনে পড়তেছে না), আরেকটু পরে কখনো ছড়াইছে হয়তো! এতে আপনে কেবল আমজনতার লগে আলাপেই নারাজ হইলেন না, লগে এইটাও কইলেন জে, এই মাল আগে আছিলোই না বাংলার শমাজে! কিন্তু তাই কি? আরবি মিডিয়ামের আতেলরা দেখেন, নিজেদের ফিরোজের ঐ শব্দে পরিচয় করাবার বদলে ‘আলেম’ পরিচয় বানাইছে, এই আলেম আগেও আছিল। আবার ধরেন, লালন নিজেরে ফকির পরিচয় দিলেও শমাজে তার পরিচয় কি আছিল? কয়েকটা থাকতে পারে, শবখানে একই না হইতে পারে, কিন্তু একটা পরিচয় হইলো, ‘বয়াতি’। ঐ কলোনিয়াল কারখানা কি করলো? আলেম, মাওলানা ইত্যাদি শব্দরে পুরা দিয়া দিলো আরবি মিডিয়ামের দখলে, বয়াতিরে বানাইয়া দিলো পুরানা জামানার হাতুড়ে ভাবুক, আর নিজের জন্য শব্দ বানাইয়া লইলো একটা, ‘বুদ্ধিজিবি’ (জনতারে ডিনাই করা এই ছিলছিলা এতোই পাওয়ারফুল হইয়া উঠলো জে, আজকে আমি ‘আলেম’ শব্দে আর ইন্টেলেকচুয়াল বুঝাইতে পারি না, আমার বাইছা লইতে হইলো ‘আতেল’, কখনো কই ভাবুক, আগামিতে ‘বয়াতি’ শব্দটারে কেমনে শামনে আনতে পারি, শেই ধান্দা আছে মনে।)! আরো আফছোসের বেপার হইলো, এইটা কেবল একটা বা দুইটা শব্দের মামলা না, এইটা একটা এটিচুড, একটা নাকউচা বেপার, দেশের আমজনতার লগে আলাপ না করার ডিছিশন। তাই বাংলা মিডিয়ামের আতেলদের তুলনায় আরবি মিডিয়ামের আতেলদের খুব শহজ খাতির হইতে পারলো জনতার লগে! ময়দান ছাইড়া দিলো বাংলা মিডিয়াম, তার লগে জনতার মোলাকাতই তো অশম্ভব হইয়া আছে!

আরো দেখেন, আমাদের আতেল আছিল কারা? ধরেন, আহমদ শরিফ, হু. আজাদ, আ. আ. সাইদ–এমন কতগুলা নাম। এনারা দেশের মানুশকে উঠতে বশতে গালি দিছেন, ধর্মে আন্ধা, আন্ধার, মধ্যজুগের, হুজুগে বাংগালি, এমন কত কত গালি; নিজেরে নাস্তিক কইয়া জনতার থিকা দুরে থাকছেন অনেকে, বামুনদের মতো ‘অচ্ছুত’ টাইপের ঘেন্না দেখাইছেন, টিটকারি দিছেন হরদম; রঠা তো বাংগালিরে মানুশই মানতে নারাজ আছিলেন, বাংগালি হইয়া আছে নাকি এরা, মানুশ হয় নাই! আমাদের এই আতেলরা জেইগুলারে ভালো ‘আর্ট’ হিশাবে উচাইয়া ধরে, তাও আশলে দেশের আমজনতার জন্য বানানো না, নাগাল পায় না জনতা!

এতো এতো ভাবে-ভংগিতে ডিনাই করার পর, ঘেন্না করার পর, মানুশ মনে না করার পর, বেকুব ছোটলোক ভাবার পর আপনের খাতিরের কোন শম্ভাবনা নাই, আশাই বা কেমনে করেন! ফিরোজের আবদার মোতাবেক জারা শুন্দরবন, পরিবেশ, গ্যাশ, নদি লইয়া কথা কয়, তাগো ওয়াজও ২/৪শ লোকের বেশি শোনে না! এবং না শোনার কারন এই না জে, জনতা চিন্তা এবং আতেল খায় না, বরং জনতা জেমন আতেল খায়, জেই জেই ভংগিমায় চিন্তা ডেলিভারি দিলে শেইটা খায়, তার শব ডিনাই করার কারনেই ঐ চিন্তা বা আতেল খায় না! চাইলেও পারে না, ইটার গুড়ার মতো লাগে!

ওদিকে, ফিরোজেরা আশলে কাদের ডাকেন? গনশংহতি শারা দেশে লাইবেরি বানাইতেছে মনে হইলো, নাম রাখছে ভাশানি লাইবেরি। না, পাঠাগার আশলে; বাংলা মিডিয়ামের কিছু লোক পাঠাগার লেগে, কয়ও না এমনকি; খাশ বাংলায় এইটা ছেরেফ লাইবেরি। দলের নাম রাখছে গনশংহতি, আজব একটা শব্দ, কোথাও নাই দেশের, কিছু বোঝেও না লোকে! মোটের উপর কি খাড়াইলো? ওনারা আমজনতারে ডাকতেছেনই না আশলে, কেবল বাংলা মিডিয়ামের কলিকাতার খাদেম আর তাবেদারদের ডাকতেছেন!

এর লগে তাইলে মিলাইয়া ভাবেন, এনারা কি আদৌ ভোটের রাজনিতি করেন? করলেও হয়তো ভুইলা গেছেন জে, অশিক্ষিতের একদম শমান একটাই ভোট ওনাদের বাংলা মিডিয়ামের রঠার গানে ফানা হওয়া তুমুল কোন আতেলেরও! আমি আন্দাজ করি, বাংলা মিডিয়ামের এই লোকেরা দেশের অশিক্ষিত মানুশের ভোট দেবার হকই মানেন না, মানলে ভাবেন জে, অশিক্ষিতের মাথাপিছু ১ ভোট থাকলে ওনাদের থাকা উচিত অন্তত ১০০০, খাছলতে ১০০% বাকশালি!

ছো, দেশের মানুশের জন্য শত্যি কিছু করতে চাইলে জনতার দরবারে হাজির হন, কলোনিয়াল কারখানায় নয়া রিক্রুটমেন্ট তো দুর, বাইরাইয়া জাইতেছে, গেছে জনতা। আপনাদের শাধের বাংলা মিডিয়ামের লোকেরাও নিজেদের বাচ্চাদের এখন ইংরাজি মিডিয়ামে দিয়া দিতেছে রোজ…

২৭/২৮ নভেম্বর ২০২০

 

২.

বিশ্বেন্দু নন্দ নামের এক ইনডিয়ান আতেলের একটা পোস্ট ঢাকাই আতেলদের নজর টানছে মোটামুটি; ঢাকাই মানে বাংলাদেশি আর কি, দেশের বাইরে কেপিটালের নামেই দেশ বুঝায়।

তো নন্দ মশাই নবাব-মোগলদের লগে ইংরাজের তুলনা কইরা শিবশেনা-বিজেপির মোছলমান ঘেন্নার ডিছকোর্সটা মোকাবেলা করতে টেরাই করছেন। ওনার কথা তো ঠিকই আছে, কিন্তু এতে কাফি মোকাবেলা হইতেছে না বিজেপির, এতে কাম হবে না!

এইটারে আমি পড়ি এইভাবে–কংগ্রেস তাইলে এদ্দুর আইতে রাজি হইছে; মানে এখনকার কংগ্রেস শিবশেনা-বিজেপি ডিছকোর্স মোকাবেলায় এই ইশুতে এর বাইরে কিছু পয়দা করতে পারে নাই!

খেয়াল করলে দেখবেন, এই বিজেপি জখন আছিল না, তখন কংগ্রেসই আছিল বিজেপি! ‘vote for cow’ স্লোগানে ক্যাম্পিং কইরা ইন্দিরা ইলেকশন করছেন, ১৯৭০-৮০ ইনডিয়ার ডেমোক্রেটিক শম্ভাবনা খুন করছেন ইন্দিরা, তখন পয়দা হইয়া ওঠা দলগুলারে খতম করছেন উনি, আজকের বাংলাদেশে বাকশাল জা করতেছে, ইন্দিরা এইটাই করছিলেন! তাতেই আজকের বিজেপি হবার মওকা পাইলো ইতিহাশে!

নন্দ মশাই কংগ্রেসের লোকই হয়তো না, ওনার কথাগুলাও কংগ্রেসের অফিশিয়াল কথা না, এগুলা কংগ্রেস আদতে ইনডিয়ার পাবলিকের দরবারে কয়ও না, ভিতরে হয়তো ভাবেও না। তবু শুরুতেই কংগ্রেসের নামে চালাইলাম, তারচে আরো ছহি হয়, ইনডিয়ান লিবারাল হিন্দু কইলে। কংগ্রেস কইবার কারন, বিজেপি-শিবশেনার এই রমরমায় কংগ্রেসে ভরশা রাখতে হইতেছে লিবারালদের, কংগ্রেসকে অন্তত পলিটিকেল দোস্তের লিস্টি থিকা বাদ দেবার উপায় নাই।

আজকে এই লিবারালরা ইতিহাশকে এমনে দেখতে রাজি হইলেন, ৫০ বছর আগে এনারাই নারাজ আছিলেন; ঠিক জে, ৫০ বছর পরের ভাবনা আগে কেমনে ভাববে, কিন্তু তখনো জেইটা করা দরকার আছিলো, শেইটা জাইনাও শেইদিকে হাটে নাই তারা, আজকেও দরকারি জিনিশগুলায় মন না দিয়া এমনশব ফাও আলাপই করতেছেন তারা! কংগ্রেসি দুইটা ছবি দেখেন, তাইলে বুঝবেন, তখনকার জামানায় দরকারি পলিটিক্সের বদলে তারা কি করছিলেন:

 

https://thewire.in/books/cow-religious-symbol-emergency

 

এই দুইটা ছবিতেই কিলিয়ার জে, ওনারা তখন আজকের বিজেপি-শিবশেনার পাটেই অভিনয় করতেছিলেন, আর এখন কি করতেছেন? নন্দ মশাইয়ের এই আলাপটা ইনডিয়ায় ছেরেফ মাইনোরিটি পলিটিক্স, তার বেশি না; এইটার পলিটিকেল গুরুত্ব আদতে বাংলাদেশে বামেনজিও-বাকশালিরা জেই হিন্দু/মাইনোরিটি পলিটিক্স করে, তার শমানই ইনডিয়ায়! আকাম ছেরেফ, দুইটাই। এতে বরং ইশুটা তাজাই থাকতে থাকে, বিজেপি-শিবশেনাও এই ইশুরে এমন তাজাই রাখতে চায়।

কিন্তু তখনো জেমন, এখনো, ইনডিয়ার ১ নাম্বার মুছিবত কি? মোছলমানের উপর জুলুম তো আছেই, কিন্তু মানুশের শুমারি দেখেন, মোছলমান কত আর দলিত-শুদ্র-অচ্ছুত কত। ইনডিয়ায় দেখলাম, আপার কাস্ট মাত্র ২২.৩% ( https://indianexpress.com/…/upper-caste-hindus-richest…/ ); বাকিরা শবাই দলিত/অচ্ছুত না, কিন্তু কেবল হিন্দু অচ্ছুতই (শিডিউল কাস্ট) আছে ২০ কোটি; মোছলমান আর খিরিস্টান অচ্ছুতও আছে কোটি দশেক। ২২.৩%’র বাইরে অচ্ছুত বাদে জারা আছে, তারাও কাস্টের চিপায় জুলুমের শিকার হরদম।

না, কংগ্রেসের কাছে আমি মার্ক্সের তরিকায় হাটার আবদার করি না; কিন্তু ইন্দিরা জখন গরুর পলিটিক্স করতেছেন, তখন মার্ক্সের তরিকার পলিটিক্স ঠেকাবার একটা জরুরত আছিল ওনার এবং শেই দরকারেই উনি গরুর বাছুরের মা হইলেন। আর কোন রাস্তা কি আছিল? আলবত। কেলাশ বনাম গরুর পলিটিক্সের বদলে উনি কেলাশের পলিটিক্স ঠেকাইতে উনি কাস্টের পলিটিক্স করতে পারতেন; এইটাই আছিল তখনকার কেপিটালিস্ট লিবারালদের দায়িত্ত; বেপারটা এমন জে, মার্ক্সের তরিকার লোকেরা কইতেছে, কেলাশের ফয়ছালাতেই জনতার মুক্তি, কংগ্রেস কইবে, না, কাস্টের ফয়ছালাতেই জনতার মুক্তি। কিন্তু না, ইন্দিরা শওয়ার হইলেন গরুতে! গরুতে ইন্দিরার শওয়ার হওয়ার মানে ছেরেফ মোছলমানের পিঠে চাবুক মারা না, তখনকার আন্দাজ ১৫ কোটি দলিতের পিঠেও চাবুক মারলেন ইন্দিরা! কিন্তু ইন্দিরা বা ইনডিয়ান লিবারালরা কেন ঐদিকে গেলেন? কারন, কংগ্রেস দলটা এরিয়ান-দেমাগি আপার কাস্টের দখলে, তাগো শার্ধ লুকাইতেই গরুতে শওয়ার হওয়া!

শেই একই ছিলছিলা চলতেছে কিন্তু আজকেও! এখন ওনারা মাইনোরিটি পলিটিক্স করতেছেন, মোছলমানের কথাই কইতেছেন, কাস্টের ফয়ছালা এখনো পলিটিকেল এজেন্ডা বানাইতেছেন না! কিন্তু ওনারা জদি এরিয়ান-দেমাগি/রেছিস্ট আর আপারকাস্টের শার্ধের দাড়োয়ান না হইতেন, তাইলে কাস্টের পলিটিক্স দিয়া মার্ক্সের তরিকা এবং বিজেপি, দুইটারই মোকাবেলা করতে পারতেন! বিজেপিরে ঠেকাবার উপায় মোছলমানদের ভোট পাওয়ার ভিতরে না, মোছলমানের তো শেই পরিমান ভোটই নাই! বরং আপার কাস্টের বাইরের জেই ৭৭.৭% ইনডিয়ান আছে, তাগো শার্ধের আলাপেই ঐ ভোটের হিশাবে ফায়দা হইতে পারে। ইনডিয়ায় করতে হবে হিন্দু বনাম হিন্দু পলিটিক্স, হিন্দু বনাম মোছলমান পলিটিক্সে ইনডিয়ায় জখম বাড়বে। কাস্টের পলিটিক্স শুরু করলে হিন্দু-মোছলমান ইশুটাই গুরুত্ত হারাইতে থাকবে। জে কোন দেশের বেলাতেই মাইনোরিটি পলিটিক্স করায় আদতে মাইনোরিটির তেমন কোন লাভ হয় না; একদম উপরে কিছু মাইনোরিটি পরিচয়ের লোক গজায় মাত্র, তারা মাইনোরিটির পুরাটা বেইচা নিজের আখের গুছায়, বাংলাদেশে হিন্দু পরিশদ জেমন…

আর লিখতে ইচ্ছা করতেছে না   ! কিন্তু মন চাইলে দলিত বনাম গান্ধি লইয়া আরেকটু তালাশ করতে পারেন, গান্ধির শেই ধান্দায় আপনাদের পেয়ারা রঠা কেমনে মদদ দিছিল, তালাশ কইরেন একটু…পিলিজ…

…………………………………………….

নন্দ মশাইর ফেছবুক পোস্ট:

“নবাব মোগলরা বিন্দুমাত্র ভাল লোক ছিল না, কারন তারা দেশের সম্পদ বিদেশে নিয়ে যায় নি, তারা দেশের শিল্প কাঠামোকে ধ্বংস করে নি, তারা বরঙ নিয়ম করেছিল চাষী এবং কারিগরদের ওপর কোনও আক্রমন হলে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হবে। আওরঙ্গজেবের সব থেকে বড় বিরোধী, ব্রিটিশদের বড় বন্ধু যদুনাথ সরকার দ্য মুঘল এডমিনিস্ট্রেশনে লিখেছেন, আওরঙ্গজেব জানতেন দেশের চাষীদের রাজস্বের বিনিময়ে তার খাওয়া জোটে। এইটুকু সুবুদ্ধি তার ছিল, চাষী উচ্ছেদ[যদিও কম হত কারন তখন জমি বেশি ছিল চাষী কম ছিল] নিয়ম করে বন্ধ করেছন। একটা গ্রামে চর জাগলে সেখান থেকে একটু বেশি কর ওঠায় শাহজাহান রেগে বলেছিলেন এটা গ্রামের সম্পত্তি, তাদের ফিরিয়ে দাও না পারলে প্রশাসককে বরখাস্ত কর। ব্রিটিশ পক্ষীয় ইতিহাসকার তাবাতাবাই বলে গেছেন মুর্শিদাবাদে মুর্শিদকুলিখাঁর দরবারে ঢোকার  জমিদারেরা ঢোকার আগে দেখে নিতেন তার এলাকার চাষী কারিগর অভিযোগ করতে এসেছে কীনা,  অভিযোগ প্রমান হল জমিদারদের বৈকুণ্ঠ দেখানো হত।  এক অমুসলমান জমিদারের তুচ্ছ কারনে কাজি মৃত্যুদন্ড দিলে তিনি কাজির বিরুদ্ধে লড়ে যান, দণ্ড আটকাতে পারেন না, কিন্তু কাজিকে বাংলা ছাড়া করেন। সুশীলবাবু দেখিয়েছেন কোম্পানির বিরুদ্ধে কীভাবে ছোট কারিগর আর ব্যবসায়ীকে দরবার বাঁচাত।কারিগর দাদন চুক্তি থেক বেরিয়ে আসত পারত – রাষ্টের অধিকার ছিল না তাকে জোর করার – এই সব অধিকার পলাশীর পর চলে গেল। উপনিবশপূর্ব শাসকদের আরও বড় দুষ্কর্ম ছিল তারা দেশিয় শিল্পকে ধ্বংস করেন নি, বরং আন্তর্জাতিকস্তরে যাতে বিশাল ব্যবসা যাতে হয় তার কাঠামো তৈরি করে দিয়েছেন।

সমস্যা হল ভারতের প্রগতশীলদের ইতিহাস আদতে উপনিবেশের ইতিহাসের অনুগামী – উভয়ের উদ্দেশ্য লুঠেরা খুনি গণহত্যাকারী ব্রিটিশ শাসনের বৈধতা প্রমান।

শেষে অনুরোধ করব অমিয় বাগচির কলোনিয়ালিজম এন্ড ইন্ডিয়ান ইকনমি পড়তে, যেখানে তিনি উপনিবেশের সময়কে বলছেন বিশ্বের প্রথম ১৯০ বছর ধরে চলা স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট পলিসি – এইটুকু কথায় তিনি উপনিবেশের সঠিক চিত্র এঁকেছেন। মৃদুলা মুখার্জীও লুঠের ব্যাপক অঙ্ক এঁকেছেন।–  https://web.facebook.com/biswendu.nanda/posts/10223516361248040

 

The following two tabs change content below.

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।

Latest posts by রক মনু (see all)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য