Main menu

আমাদের আর্ট-কালচারে বরকত নাই কেন

পোস্ট-কলোনিয়াল রিয়েলিটিতে কালচারাল ওয়ার এবং রেজিস্ট্যান্স অনেকগুলা ফ্রন্টে এক লগে চলতে থাকে। ঠিকঠাক হিসাব করতে না পারলে দোস্ত-দুশমন চেনায় মুশকিলে পড়তে হয়। আজকে একটা ব্যাপারে কয়টা কথা কইতেছি। 

কোলকাতায় বাংলা ভাষা কোণঠাসা, হিন্দি এবং ইংরাজি বাংলারে খাইয়া ফেলছে বইলা শোনা যায়। কোলকাতার ইন্টেলেকচুয়ালরা ফাইট করতেছেন বাংলার পক্ষে। একজন যেমন উঁচা বর্ণের বাঙালি, ব্রাহ্মণ গর্গ চ্যাটার্জি আছেন। ওনার হিন্দি খেদানো মুভমেন্ট মাঝে মাঝেই দেখা যায় ফেসবুকে। বাংলাদেশেরও অনেকেই আপসেট এই ব্যাপারে। বাংলাদেশে হিন্দি চ্যানেল ব্যান করার দাবিও দেখা যায়। জেনারেল হিসাবে এনারা বাংলার কালচারাল দোস্ত এবং লাঠিয়াল মানেন অনেকেই। চলেন, আরেকটু চোখা নজরে চাইয়া দেখি আমরা।
Kya Hua Tera Wada (Hum Kisise kum nahi)–গানটা শুনছেন কেউ?

 

 

ইউটিউব লিংকে যাইয়া শুনতে পারেন একবার। ১৯৭৭ সালের হিন্দি সিনেমার গান, তখন এবং এখনো হিট গানের খাতায় আছে। লিরিকস্ পড়েন নিচে।

এই গানটা যদি কোলকাতা বা বাংলাদেশে হিট হয়, কেমনে দেখবো ঘটনাটারে আমরা? মুম্বাই’র কালচারাল ইন্ডাস্ট্রি পোক্ত হইতেছে, আমাদের পয়সা চইলা যাবে তাতে, এইখানের আর্টিস্টরা আমাদের পয়সার ভাগ পাইবে না, আমাদের সিনেমা বা গানে ঐ পয়সা ইনভেস্ট হবে না–খুবই খারাপ ব্যাপার। লস। এইটা একটা ফ্রন্টে ফাইটের ঘটনা।

এদিকে দেখেন, গানটা বাংলা ভাষার ইন্টার্নাল রাজনীতিতে কিছু ওলটপালট ঘটাইতেছে! কিছু শব্দ খেয়াল করেন গানটার কথায়। লগে খেয়াল করেন বাংলায় এই শব্দগুলার অল্টারনেটিভগুলা কেমন। একটা চার্ট বানাই আমরা; চার্টে অনুমানে একটা পার্সেন্টেজ বসাইয়া দেখি বাংলা ভাষায় যারা কথা কন তাদের কত পার্সেন্ট গানের শব্দগুলা বোঝে-কয়,আর কত পার্সেন্ট বাংলা অল্টারনেটিভ বোঝে। অনুমানটা আন্দাজি খুবই, সমাজে আমি যে থাকি, সেই অবজার্ভেশনে ভর কইরা!

 

ওয়াদা: ১০০% বোঝে, গরিব/অশিক্ষিতরা ১০০% কয়, লেবারের লগে আলাপে প্রমীত শিক্ষিত মিডল ক্লাসও কয়। প্রতিশ্রুতি: ৩০-৪০% বোঝে, গরিব-অশিক্ষিতরা কয় না, কেবল ফর্মাল স্পেসে প্রমীতরা কয়, নিজেদের আড্ডায়ও কয় না তেমন।
কসম: ১০০% বোঝে, গরিব/অশিক্ষিতরা ১০০% কয়, লেবারের লগে আলাপে প্রমীত শিক্ষিত মিডল ক্লাসও কয়। প্রতিজ্ঞা: ৩০-৪০% বোঝে, গরিব-অশিক্ষিতরা কয় না, কেবল ফর্মাল স্পেসে প্রমীতরা কয়, নিজেদের আড্ডায়ও কয় না তেমন।
ভুলেগা=ভুইলা যামু/যাওয়া: ১০০% বোঝে, গরিব/অশিক্ষিতরা ১০০% কয়, লেবারের লগে আলাপে প্রমীত শিক্ষিত মিডল ক্লাসও কয়। বিস্মৃত হওয়া/বিস্মরণ: ২০-৩০% বোঝে, গরিব-অশিক্ষিতরা কয় না, কেবল ফর্মাল স্পেসে প্রমীতরা মাঝে মাঝে কয়, নিজেদের আড্ডায়ও কইতে শুনি না।
জিন্দেগি+আখেরি: ১০০% বোঝে, গরিব/অশিক্ষিতরা ৬০-১০০% কয়, লেবারের লগে আলাপে প্রমীত শিক্ষিত মিডল ক্লাসও কয়। জীবন/সর্বশেষ: ৬০-১০০% বোঝে, গরিব-অশিক্ষিতরা ‘জীবন’ কয় হামেশা, সর্বশেষ কয় না, প্রমীতরা ‘জীবন’ কয়, ফর্মাল প্রমীত স্পেসে সর্বশেষ আছে ৭০-৮০%, মিডল ক্লাস আড্ডায় দুইটারেই (আখেরি+সর্বশেষ) প্রায় খেদাইয়া দিছে ইংরাজি ‘লাস্ট’।
পেয়ার/খাতির: ১০০% বোঝে, গরিব/অশিক্ষিতরা ৬০-১০০% কয়, লেবারের লগে আলাপে প্রমীত শিক্ষিত মিডল ক্লাসও কয়। প্রেম/পিরিত/সমাদর: প্রেম-এর ইজ্জত সবচে বেশি, পিরিত ছোটলোকের বাংলা। প্রেম এবং পিরিত ১০০% বেঝে, সব ক্লাস/শিক্ষার লোকে ৫০% কথায় ইউজ করে। ইন্ট্রা-ক্লাস টেনশন-ক্রাইসিস-ডিলেমার সুযোগে ইংরাজি ‘লাভ’ ১০০% বাঙালির ভোকাবুলারিতে ঢুইকা পড়ছে। সমাদর প্রমীত লেখায় আছে কতক, কথায় ১০-২৫% ইউজ করে শিক্ষিতরা। গরিব/অশিক্ষিতরা করে না।
বেচা: ১০০% বোঝে, গরিব/অশিক্ষিতরা ১০০% কয়, লেবারের লগে আলাপে প্রমীত শিক্ষিত মিডল ক্লাসও কয়। বিক্রি: ৭০-১০০% বোঝে, গরিব-অশিক্ষিতরা কয় না তেমন, কেবল ফর্মাল স্পেসে প্রমীতরা কয়, নিজেদের আড্ডায়ও কয় না তেমন। ইংরাজি ‘সেল’ ঢুকতেছে শিক্ষিতদের ভিতর।
দৌলত/ইয়াদ/ইরাদা/ডিল: দৌলত এবং ডিল বোঝে ১০০%। ইরাদা গরিব/অশিক্ষিতদের মাঝে কমন, ইয়াদ ঢুকতেছে। সম্পদ/স্মরণ/লক্ষ্য/হৃদয়/মন: স্মরণ কথায় বিশেষ পাই না, প্রমীত লেখায় আছে, সম্পদ বোঝে সবাই, ৫০% আলাপে ইউজ করে, লক্ষ্য ‘টার্গেট’ রিপ্লেস করছে প্রায়, হৃদয় প্রমীত লেখাতেই প্রায়, কথায় ততো নাই। গরিব/অশিক্ষিতরা কয় না, বোঝে মোটামুটি। মন ১০০% প্রায়, কিন্তু মনের তুলনায় হৃদয়ের ইজ্জত অনেক বেশি, প্রমীত কবিরা হৃদয়ের ফ্যান মোটামুটি। কবিতায় বোঝা যাবে ভালো।তবে ছন্দে দুর্বলেরা দরকারে মন টানে হামেশা, মিলানোর দরকারে।

 

গানটা তাইলে বাংলার ভিত্রে চলতে থাকা রাজনীতিতে কেমন রোল প্লে করলো, কোন পক্ষরে আগাইয়া দিলো? কপালে ভাজ পড়লো কোন পক্ষের?

সেজান মাহমুদ নামে প্রমীত বাংলা লেখা, কানাডায় থাকা বাংলাদেশি গোড়ার এক বাঙালি বিয়াতো পোলা ডাক্তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিছেন,
“নাছিমন নাহার নামের এক ডাক্তার বিশাল স্ট্যাটাস লিখেছেন কোন বাবা-মা কী নাম রাখেন এই নিয়ে। তেনার ভাষ্যমতে “প্রাচুর্য” একটি নিকৃষ্ট নাম।…আমার তো নাছিমন শুনেই বিবমিষা হচ্ছে, তার আবার নাম নিয়ে বড়াই।”

কমন একটা অনুমানে কই, ডাক্তারদের বমি পাবার সম্ভাবনা কম; তেনারা গু-মুত-রক্ত-টিউমার লইয়া কাম করেন চুইংগাম চাবাইতে চাবাইতে। এই ব্যাপারে তাগো টলারেন্স দেইখা আমি তো হিংসায় জ্বলি। সেই ডাক্তারদের একজনের বমি পায় ‘নাছিমন’ নামে! কোন বাংলা আরামে খান উনি? ‘প্রাচুর্য’। আমাদের চার্টে বসাইলে ‘প্রাচুর্য’ বোঝাবুঝি এবং ইউজ/এস্তেমাল করার হিসাবে হয়তো ১০-৩০% শিক্ষিত বাঙালি পাবো। ‘নাছিমন’-এ বমি পাবার ঘটনা বোঝার জন্য আমি একটা প্যাটার্ন প্রোপোজ করি; আমার অনুমান, ঐ রুচি/টেস্টের লোকদের বমি পাবার মতো শব্দ/নামগুলার কিছু এমন: দুলাল, রমজান, মফিজ, আলাল, রহিম, জব্বার, রাজা, হানিফ, জরিনা, করিমন, আছিয়া, জসিম, কালু।

এই দলে আরো আরো নাম ঢুকতে পারতো; যেমন ধরেন, আমীর, সালমান, সাইফ, মনসুর, মাহবুব, নওয়াজউদ্দিন, নার্গিস, জাভেদ, এমরান, নাসিরউদ্দিন। এইসব নাম প্রমীতরা রাখেন না, কিন্তু বলিউডের কারণে এখনো বমি পায় না এই নামগুলায়!

এখন আমাদের বিচার করা দরকার, এই গানের শব্দগুলা যে গরিব এবং অশিক্ষিতদের মাঝে কমন পাইতেছি সেইটা কি বলিউড/হিন্দি আরো আগেই আসছে বইলা? বলিউডে আমরা টকি-মুভি পাইতেছি ১৯৩৩ সাল থিকা, গরিব/অশিক্ষিতরা কি এতো এতো হিন্দি সিনেমা/গান দেখলো যে শব্দগুলা এমনে ঢুকলো? না। জীবনে হিন্দি গান শোনে নাই, সিনেমা দেখে নাই তাগো মাঝেও কসম পাইবেন আপনে, পাইবেন আখেরি, ওয়াদা। আরোবহু গানের বহু নজির পাইবেন যেইগুলা বাঙালিরা হিন্দির লগে খাতির ছাড়াই বোঝে, কয়। ওদিকে প্রমীতে আমরা যেইসব অল্টারনেটিভ দেখতেছি সেইগুলা বোঝেও না, কয়ও না! কেমনে এমন হইলো?

এইটা বুঝতে আপনে নিজের নামে বিদ্যাসাগরের লেখার লগে তাঁরই বেনামী লেখার তুলনা করতে পারেন! ওনার বেনামী লেখা ‘অতি অল্প হইল’ আর ‘আবার অতি অল্প হইলো’ বইতে দেখবেন এমনসব শব্দ পাইতেছেন, যেইগুলা নিজের নামে লেখা বইতে/লেখায় নাই! নিজের নামের লেখায় অল্টারনেটিভ শব্দ আমদানি করছেন। যেন শব্দের খনি পাইছেন একটা, সেই খনিটার নাম ‘সংস্কৃত’! কেউ কয় না, কেউ বোঝে না বাংলার–তবু নাকি ঐগুলা বাংলা! গরিব/অশিক্ষিতের বাংলা শব্দ উনি খেদাইয়া দিছেন! কেন? আরবী/ফারসি নাকি ঐগুলা। এখন গানের ঐ শব্দগুলা দেখেন। প্রায় সবগুলাই ফারসি গোড়ার শব্দ, যেইগুলারে আপনেরা বলিউডের কারণে এখন হিন্দি হিসাবে চেনেন! তাইলে গর্গ-সেজানদের হাতে কোন পিছা, কোন পিছা দিয়া খেদাইতে চাইতেছেন হিন্দিরে? বিদ্যাসাগরের সেই পিছা!

তো, বিদ্যাসাগরের পিছাটা কেমন? বাংলা গ্রামারে একটা ‘তাঁর/তিনি’ আছে–’তৎসম’ এবং ‘তদ্ভব’র ‘তৎ’ হইলো সেই ‘তাঁর/তিনি’। দেবতা হিসাবে ভাতারের নাম না নেবার পুরানা কানুন আছে না একটা? সেই কানুন নকল কইরা বাংলা গ্রামারে এই ‘তাঁর/তিনি’ বানাইছেন বিদ্যাসাগরেরা। এই তিনি হইলেন বেহেশতি মাল, সংস্কৃত! সংস্কৃত হইলো ‘আর্য’ ভাষা, তাই বেহেশতি, তার ইজ্জত বেশি। এই ইজ্জত তাইলে রেসিজম থিকা পয়দা হইতেছে। খেয়াল করেন, বিদ্যাসাগর এবং গর্গ দুইজনেই ব্রাহ্মণ, যাগো আছে ‘আর্য’ দেমাগ। আর বাংলার আম-জনতা কারা? শূদ্র অথবা মোসলমান! এই ব্রাহ্মণেরা তাইলে সংস্কৃত ঢুকাইয়া কি করতেছেন? বাংলারে শূদ্রেবং মোসলমানের হাত থিকা দখলে নিতেছেন! তাইলে সেজান কে, তার হাতে কেন বিদ্যাসাগরের পিছা? :)। এমন থাকে। আমরা কি ইংরাজের সময়ে ঐ বিদ্যাসাগরকেই দেখি নাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শোকর-গুজরান করতে? ইংরাজের এজেন্ডার পিছে শাস্ত্রের তক্তার বেড়া দিতে! ওদিকে এই ইংরাজরা তো আর্যই। বাংলার মোসলমানেরো দুইটা পয়সা হইলে ইরান-তুরানের গপ্পো মারে তো, তারাও তো আর্য!

এই যে রেসিজম সেইটা আবার একই লগে কম্যুনালও কিন্তু! সংস্কৃত হইলো হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রের ভাষা; বিদ্যা-গর্গ হিন্দু পুরোহিত/ব্রাহ্মণ। হিন্দুধর্ম ছড়ানো তাগো এজেন্ডা। এইটা সাফ সাফ বুঝতে বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় পড়েন। কেবল বর্ণ দিয়া হরফ খেদাইছে তাই না কিন্তু! এই বইতে কিছু চরিত্র আছে, গল্প আছে,ঐভাবে নীতিকথা শিখাইছেন বিদ্যাসাগর। তো, বামুন করলেন কি? গল্প এবং নীতিকথা হিন্দু শাস্ত্রের, সবগুলা চরিত্র হিন্দু! রাম, যাদব, গোপাল, সুরেন্দ্র, সুরবালা। উনি বহুবিয়া বন্ধে ইংরাজের কাছে যেই দেনদরবার করেন সেইটাও কেবল হিন্দুদের জন্যই, বা হইতে পারে যে, হিন্দু শাস্ত্রে নিষিদ্ধ দেখাইতে পারলেই মোসলমানের জন্যও নিষিদ্ধ করা যায় ভাবছিলেন! ইংরাজরা অবশ্য ওনার বুদ্ধি লন নাই এই ব্যাপারে। ইংরাজরা ওনার বুদ্ধি লইলেন আরেক ব্যাপারে; ওনার বুদ্ধি লইয়া সংস্কৃত কলেজে শূদ্র ভর্তির পারমিশন দেওয়া হইলো না আর।

গানটা তাইলে কি করতেছে? হিন্দির/বলিউডকে আরো পাওয়ারফুল কইরা তোলার লগে লগে বাংলা ভাষাটারেও গণতান্ত্রিক কইরা তুলতেছে, ফর্মাল/প্রমীত বাংলার ভিতর আরামে থাকা রেসিজম আর কম্যুনালিজমকে দুর্বল কইরা দিতেছে, বাংলা ভাষারে জনতার কাছে ফিরাইয়া নিতেছে, বাংলায় ইজ্জতের ক্যাটেগরিগুলা মেসমার কইরা দিতেছে!

ঐ রেসিজম আর কম্যুনালিজম বাংলা ভাষা এবং সমাজকে পিটাইতেছে সেই কবে থিকা! বাংলারে সংস্কৃত পিছা দিয়া সাফাই করার রিঅ্যাকশনে কি কি পাইছি আমরা? গোড়ায় যাবার ঐ ভাবনার রিঅ্যাকশনে বহু মোসলমান লেখক আবার আরেক গোড়ায় গেছে, বাংলার জনতার মাঝে না থাকা ফারসি-আরবী দিয়া সেই গরিব/অশিক্ষিত/শূদ্রের বাংলার উপর আরেক দফা হামলা চালাইছে! এখন আরেক দল যেমন ফারসির বদলে আরো গোড়া পাইয়া আরবীতে যাইতেছে! এই মারামারির সুযোগে দখল বাড়াইতেছে ইংরাজি! ঐ দুল বাংলারে সাফাই করতেছিল, ইংরাজিঅলারা পুরা ফালাইয়া দিছে বাংলা!

এদিকে, জনতার বাংলা না নিয়া আমরা রেসিস্ট/কম্যুনাল বাংলায় আর্ট-কালচার করছি বইলা আমাদের আর্ট-কালচার জনতার মাঝে ঢুকতেই পারে নাই! জনতার নামে আমাদের বমি আসাটা জনতা জানে ভালোই। জনতারে আমরা ডিনাই করছি বইলা জনতা আমাদের ফালাইয়া দিছে আমাদের আর্ট-কালচারে বরকত নাই। হিন্দি আসছে সেই চিপা দিয়াই! নাইলে বাংলার আর্ট-কালচার ইন্ডাস্ট্রি দুনিয়ার পয়লা দশটার একটা হবার কথা!

বাংলার ব্যাপারে গণতান্ত্রিক হইয়া ওঠা ছাড়া, এমন রেসিস্ট আর কম্যুনাল দেমাগী থাইকা কাউকে ঠেকাইতে পারবো না আমরা, কিছু হইতেও পারবো না, ফেরত পাবো না এক ইঞ্চিও।

———————————————————————

গানের কথা (ইউটিউব থিকা রোমান হরফে কপি করা):

–MALE–
(Kya hua tera waada
Woh kasam, woh iraada) – 2
Bhoolega dil jis din tumhe
Woh din zindagi ka aakhri din hoga
Kya hua tera waada
Woh kasam, woh iraada

–FEMALE–
Bhoolega dil jis din tumhe
Woh din zindagi ka aakhri din hoga
Kya hua tera waada

–MALE–
Yaad hai mujhko, tune kaha tha
Tumse nahin roothenge kabhi
Dil ki tarah se haath mile hain
Kaise bhala chhootenge kabhi
Teri baahon mein beeti har shyaam
Bewafa yeh bhi kya yaad nahin
Kya hua tera waada
Woh kasam, woh iraada
Bhoolega dil jis din tumhe
Woh din zindagi ka aakhri din hoga
Kya hua tera waada
Woh kasam, woh iraada
Oh kehne waale mujhko farebi
Kaun farebi hai yeh bata
Woh jisne gham liya pyaar ki khaatir
Ya jisne pyaar ko bech diya
Nasha daulat ka aisa bhi kya
Ke tujhe kuch bhi yaad nahin
Kya hua tera waada
Woh kasam, woh iraada
Bhoolega dil jis din tumhe
Woh din zindagi ka aakhri din hoga
Kya hua tera waada
Woh kasam woh irada

নোট: বাংলায় এই গান পপুলার হইলে কোলকাতার ঠাকুর বাড়ির গান বা কোলকাতা-ঢাকার ‘আধুনিক’ গান চাপে পড়ে, এই গানগুলা শোনার অযোগ্য হইয়া উঠতে থাকে। কিন্তু শাহ আবদুল করিমের এই গানটা (বন্দে মায়া লাগাইছে…কি যাদু করিয়া বন্দে দেওয়ানা বানাইছে…” শোনেন:

শাহের ‘দেওয়ানা’রে ছোটলোকি বা ভালগার বানাইয়া রাখা জেলখানাটা চুরমার হইয়া যাইতে থাকে, বাড়তে থাকে বরকত! মিডল ক্লাসের মাঝে করিম শাহের গানটা শোনার সম্ভাবনা বাইড়া যায়। কেবল শব্দ না, প্রমীত বাংলার রুচিটাও করিম শাহের গানে ডুইবা মরতে থাকে, ডেমোক্রেটিক হইয়া উঠতে থাকে বাংলা :)।

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
রক মনু

লেটেস্ট ।। রক মনু (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.