Main menu

আইডিয়ালিজমের লিলাখেলা

১.
ফেছবুকে ইমরুল হাসান তার এক পোস্টে ‘একাডেমিক শিট’ বইলা দুইটা টার্ম ইউজ করছেন, তাতে ফাহমিদুল কইতেছেন, এইটা ‘স্ট্রং ওয়ার্ড’, জিগাইতেছেন, এইভাবে কওয়ার মানে কি?

এই কাহিনি আমার নজরে আইলো হিমেলের পোস্ট দেইখা। ইমরুলের পোস্টে কমেন্ট দিছিলেন হিমেল, পরে ওনাদের ঝামেলা হয়, নিজের কমেন্ট শুদ্ধা ঘটনাটা জানাইছেন হিমেল; আমার এই আলাপটার গোদা বা মেইন কারন হিমেলের কমেন্ট।

হিমেলের আর্গুমেন্টের গোড়ার কথা হইলো, বাংলাদেশে একাডেমি নাই। তাই একাডেমিতে ভালো কাম না থাকাটা নরমাল।

ফাহমিদুল হক মনে হইতেছে হিমেলের লগে একমত না, নিজে একাডেমির লোক বইলা একটু বাড়তি গায়ে লাগলো ওনার, তাই ‘একাডেমিক শিটে’ আপত্তি জানাইলেন উনি; এমনকি ইমরুল জে ওনার নামও লইলেন, তাতেও উনি জানাইলেন না জে, ‘আমি তো একাডেমির লোকই না, ভুল হইছে আপনের।’!

হিমেলের জুক্তির ঐ গোড়াটা মোহাম্মদ আজমে, এই লোকও ঢাকা ভার্ছিটি নামে এক একাডেমির মাইনা খাওয়া মাশটার; এবং ইনিই কইতেছেন বাংলাদেশে ভার্ছিটি নাই আদৌ।

এই বেপারে পুরানা একটা ফেছবুক পোস্ট দিতেছি নিচে। তাতে কইতেছিলাম, এগুলা আইডিয়ালিস্ট কথা।

এগুলা কইবার শুবিধা হইলো, খারাপের দায় এড়ানো জায়; একাডেমি জদি না থাকে, তাইলে তো আপনে একাডেমির কাম তার কাছে চাইতে পারেন না, একাডেমির কাম হিশাবে কারো কাম জে খারাপ শেইটাও কইতে পারতেছেন না; জে একাডেমি না, শে কেন একাডেমির কাম করবে!?

হিমেল এই দায়মুক্তির কামটাই কইরা দিছেন, ফাহমিদুল বা আজমদের পোটেকশন দিলেন এইভাবে! লগে হিমেল আরো কইতেছেন, একাডেমি নাই বইলা কামের কোন চেশ্টাও নাই, জারা কাম করেন তারা নিজের বাশনা মোতাবেক নিজের খাইয়া কাম করতেছেন, তার কাছে ভালোর আশা করা জায় না!

বাস্তবে বেপারটা কি হিমেলের দাবির মতো? একদমই না! ঘটনা মোটামুটি উল্টা, অন্তত ফাহমিদুল বা আজমের মতো একাডেমির লোকদের জন্য! কেমন?

লেখাজোখা, চিন্তা বা রিছার্চের জন্য ফাহমিদুলরা পয়শা পান, একাডেমিই দেয়, অনেকগুলা ফর্মে দেয়; ডাইরেক রিছার্চ ডোনেশন তো আছেই, আরো আছে পোরমোশন, ইনক্রিমেন্ট; এনারা রিটায়ার করলে কোটি টাকা পাইবেন; একাডেমির এই পরিচয় দিয়া মিডিয়ায় লেইখা, টকশো কইরা পয়শা পান; পেরাইভেট ভার্ছিটিতে কামাই করেন।

এই জে এতো এতো পয়শা/মজুরি পাইলেন, তারপরও জদি কাম/চিন্তা খারাপ করেন, শেই দায় কি বেক্তি লইবেন না? লইতে হয় না জদি মানি/কই জে, দেশে একাডেমিই নাই!

ইমরুলের পরিচয় হিশাবে হিমেল একটা বাড়তি কথা লিখছেন জে, ইমরুল একজন ব্যাংকার। কথা শত্য। কিন্তু এইটা বাড়তি, কিন্তু কইবার পিছে আবার একটা ধান্দা আছে! মাশরুর জে ব্যাংকার, তাতে তার কবি-লেখক হবার ঘটনায় একটা টিটকারি পেরায়ই দেখা জায় দেশের আর্ট-কালচারের লোকজনের ভিতর, হইতে জেন পারবেন না, তার শেই হক তো নাই-ই, এখতিয়ারও তো থাকার কথা না! ইমরুলের ঐ পরিচয় দিয়া হিমেল আশলে ঘটনাটারে ঐ কালেকটিভ মেমোরিতে কানেক্ট করছেন, মাশরুরের দুশমনদের লেলাইয়া দেবার একটা ধান্দা!

কিন্তু এই পরিচয়ের আরেকটা অর্থ আছে শত্যই! বাস্তবে ইমরুল বা মাশরুরই বরং নিজের খাইয়া চিন্তা/লেখা/রিছার্চ করতেছেন, মজুরি ছাড়াই, নট ফাহমিদুলস্! এতে বরং ব্যাংক বা আর শব পেশার লোকের লোকশান উল্টা, এই টাইমটা নিজেদের পেশায় দিলে আরো দুই পয়শা কামাই করতে পারতেন! একই কাম এই আমিও করতেছি, লাখ লাখ শব্দ লেইখাও এই বছর নিজের বা বাচ্চাদের জন্য লিচুও কিনতে পারি নাই ১/২ দিনের বেশি। অন্য জেই কাম পারি টুকটাক তাতেও এক্সপার্ট লেভেলে জাইতে পারি নাই। আমার মতো এমন হাজারো লোক কোরবানি দিতেছে হরদম, নট ফাহমিদুলস্!

দায় এড়াবার দাবি আমরা করতে পারি হিমেলের চিন্তা মোতাবেক; কিন্তু আমার মতে পারি না; কেননা, আমরা একটা দায়িত্ব নিছি শমাজে, মজুরি ছাড়া হইলেও দায়িত্বটা নিছি, এমনকি নিজের মনে হইলেও, খারাপের দায় আমরা এড়াইতে পারি না; দেশে ভাবার পরিবেশ নাই কইয়াও দায় এড়াইতে পারি না, হিমেল আমারে রাস্তা বাতলাইয়া দিলেও এড়াবার খায়েশ নাই কোন!

ওদিকে, ফাহমিদুলদের পয়শা দিয়া পোশে জনতা, তারা কেমনে পারবে? একাডেমি নাই কইয়া আকাইমা হইয়া থাকা ফৌজদারি মামলা একদম, আজম বা হিমেলের কথা মানার উপায় নাই।
Continue reading

“ভাব ও কাজ” এবং “স্বাধীন চিত্ততা” – কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬) প্রবন্ধ বা নন-ফিকশন লেখাগুলা উনার গান, কবিতা ও গল্পের মতন এতোটা সেলিব্রেটেড জিনিস না। কিন্তু একজন রাইটার-এক্টিভিস্ট হিসাবে উনার আর্টের এবং ইন্টেলেকচুয়াল পজিশনটারে বুঝার জন্য এই লেখাগুলা দরকারি ডকুমেন্ট। 

“ভাব ও কাজ” লেখাটা ১৯২২ সালে উনার “যুগবাণী” বইয়ে এবং “স্বাধীন-চিত্ততা” ১৯২৭ সালে “রুদ্র-মঙ্গল” বইয়ে ছাপা হইছিল। বই দুইটা ছাপা হওয়ার পরেই অই সময়ের গর্ভমেন্ট “বাজেয়াপ্ত” করছিল।

নানান লেখা-পত্রে যা জানা যায়, কাজী নজরুল ইসলামের লেখালেখি’র শুরুই হইছিল নন-ফিকশন বা গদ্য দিয়া। “বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী” ছিল উনার ফার্স্ট পাবলিশ হওয়া লেখা। তখন উনি মিলিটারিতে চাকরি করতেন। (মাসিক সওগাত পত্রিকায়, ১৯১৯ সালের মে মাসে।) তারপরে লেখালেখিতে উনি যতদিনই এক্টিভ ছিলেন (১৯২২ – ১৯৪২) অন্য লেখালেখির পাশে কলকাতার পত্রিকাগুলাতে কলাম লিখছেন, স্পেশালি শুরুর দিকে অনেক বেশি এনগেইজ ছিলেন। আর ইংরেজ সরকার যে উনারে জেলে নিছিল, তার একটা বড় কারণ ছিল উনার এই এক্টিভিজম। এখন উনি মারা যাওয়ার পরে এই জায়গাটা যে ইগনোর করা হয় তার একটা বড় কারণ মেবি এইটাও যে, উনার এই লেখালেখি যে কোন অথরিটির জন্যই থ্রেট হিসাবে কাজ করে। আর এইটাই উনার লেখাগুলার সিগনিফিকেন্স হিসাবে আমরা হাইলাইট করতে চাই, যেইটা এখনো রিলিভেন্ট। 

আর যে কোন লেখা পড়ার সময়ই, পড়ার সময়ের পাশাপাশি লেখার সময়টারেও মাথায় রাখা ভালো। মানে, যখন ২০২১ সালে এই লেখাগুলা আমরা পড়তেছি, তখন মনে রাখতে পারাটা বেটার যে,  এই লেখাগুলা আজকে থিকা একশ বছর আগে, কলকাতা শহরে বইসা লেখা। এই কারণে না যে, পুরান লেখা বইলা “অনেক কিছু বুঝে নাই” বা “মাফ কইরা দিতে হবে”; বরং অই সময়ের চিন্তা এবং ঘটনাগুলাও এই লেখাগুলার লগে রিলিভেন্ট। আর আজকে আমরা যখন এই লেখাগুলা পড়তেছি, তখন আমাদের সময়ের চিন্তা এবং ঘটনাগুলা দিয়া কানেক্ট করতেছি। এই কনটেক্সট’টা আলাদা হওয়ার ফলে লেখার মানে’গুলা উল্টা-পাল্টা হয়া যাইতেছে না, বরং নতুনভাবে রি-ক্রিয়েট হওয়ার বা পড়তে পারার পসিবিলিটির মধ্যে চইলা আসতেছে আসলে। 

তো, আসেন, কাজী নজরুল ইসলামের লেখাগুলা আমাদের সময়ের কনটেক্সটে আবার পড়ার চেষ্টা করি আমরা। খোশ আমদেদ!

এডিটর, বাছবিচার

……………….

ভাব ও কাজ

ভাবে আর কাজে সম্বন্ধটা খুব নিকট বোধ হইলেও আদতে এ-জিনিস দুইটায় কিন্তু আসমান-জমিন তফাৎ।

ভাব জিনিসটা হইতেছে পুষ্পবিহীন সৌরভের মত, একটা অবাস্তব উচ্ছ্বাস মাত্র। তাই বলিয়া কাজ মানে যে সৌরভবিহীন পুষ্প, ইহা যেন কেহ মনে করিয়া না বসেন। কাজ জিনিসটাই ভাবকে রূপ দেয়, ইহা সম্পূর্ণভাবে বস্তুজগতের।

তাই বলিয়া ভাবকে যে আমরা মন্দ বলিতেছি বা নিন্দা করিতেছি, তাহা নহে; ভাব জিনিসটা খুবই ভাল। মানুষকে কব্জায় আনিবার জন্য তাহার সর্বাপেক্ষা কোমল জায়গায় ছোঁওয়া দিয়া তাহাকে মাতাইয়া না তুলিতে পারিলে তাহার দ্বারা কোন কাজ করানো যায় না, বিশেষ করিয়া আমাদের এই ভাব-পাগল দেশে। কিন্তু শুধু ভাব লইয়াই থাকিব, লোককে শুধু কথায় মাতাইয়া মশগুল করিয়াই রাখিব, এও একটা মস্ত বদ-খেয়াল ৷ এই ‘ভাব’কে কার্যের দাসরূপে নিয়োগ করিতে না পারিলে ভাবের কোন সার্থকতাই থাকে না। তাহা ছাড়া ভাব দিয়া লোককে মাতাইয়া তুলিয়া যদি সেই সময় গরমা গরম কার্যসিদ্ধি করাইয়া লওয়া না হয়, তাহা হইলে পরে সে ভাবাবেশ কর্পূরের মত উড়িয়া যায়। অবশ্য এখানে কার্যসিদ্ধি মানে স্বার্থসিদ্ধি নয়। যিনি ভাবের বাঁশি বাজাইয়া জনসাধারণকে নাচাইবেন, তাঁহাকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হইতে হইবে। তিনি লোকদিগের সূক্ষ্ম অনুভূতি ব্য ভাবকে জাগাইয়া তুলিবেন মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। তাঁহাকে একটা খুব মহত্তম উদ্দেশ্য ও কল্যাণ কামনা লইয়া ভাবের বন্যা বহাইতে হইবে, নতুবা বানভাসির পর পলিপড়ার মত সাধারণের সমস্ত উৎসাহ ও প্রাণ একেবারে কাদা ঢাকা পড়িয়া যাইবে। এই জন্য কেহ কেহ বলেন যে, লোকের কোমল অনুভূতিতে ঘা দেওয়া পাপ। কেননা অনেক সময় অনুপযুক্ততা প্রযুক্ত ইহা হইতে সুফল না ফলিয়া কুফলই ফলে। আগে হইতে সমস্ত কার্যের বন্দোবস্ত করিয়া বা কার্যক্ষেত্র তৈয়ার রাখিয়া তবে লোকদিগকে সোনার কাঠির ছোঁওয়া দিয়া জাগাইয়া তুলিতে হইবে। নতুবা তাহারা যখন জাগিয়া দেখিবে যে, তাহারা অনর্থক জাগিয়াছে, কোন কার্য করিবার নাই, তখন মহা বিরক্ত হইয়া আবার ঘুমাইয়া পড়িবে এবং তখন আর জাগাইলেও জাগিবে না। কেননা, তখন যে তাহারা জাগিয়া ঘুমাইবে এবং জাগিয়া ঘুমাইলে তাহাকে কেহই তুলিতে পারে না। তাহা অপেক্ষা বরং কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভালো, সে-ঘুম ঢোল কাঁসি বাজাইয়া ভাঙানো বিচিত্র নয়। Continue reading

জোসেফের পোলা – সুধীর নাউরোইবম

মূল মণিপুরি গল্প: জোসেফকী মচা
লেখক: সুধীর নাউরোইবম
তরজমা: চিংখৈ অঙোম

 

ড্রাইভিং সিটে জোসেফ একলা বইসা আছে। গাড়ি চলতেছে খুব ধীরে। খুব যত্ন কইরা সাজগোজ কইরা বের হইছে সে আজ। একদম ফিটফাট। এর আগে এমনটা আর কখনও হয় নাই। মানে ওর সাজগোজের ব্যাপারটা। অনেক দিনের শেইভ না করা দাঁড়িগুলি কামাইতে দরকারের চাইতে অনেক বেশি টাইম লাগাইছে সে আজ। মাথায় আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা পানি ঢাইলা ঢাইলা গোসলও করছে অনেক টাইম নিয়া। একই কাহিনি করছে কাপড় পাল্টানোর বেলায়ও। তবে সবচাইতে ফানি ব্যাপার হইলো চুল আঁচড়ানোর টাইমেও যে-সময়টুকু নিছে সে আজ। প্রত্যেকটা চুল একটা একটা আলাদা কইরা আঁচড়াইলেও হয়ত এতো টাইম লাগতো না যতটুকু সে আজ লাগাইছে। এইভাবে আলসেমী কইরা ঢিমেতালে কাজ করার ব্যাপারে আজ কোনো অনীহা নাই জোসেফের। অথচ একটা সময় সেও কিপটামি করত সময়ের ব্যাপারে। মাইপা মাইপা খরচ করত প্রতিটা মুহূর্ত।

আজ এইসবের কোনো কিছুতেই নাই মেরী। অথচ জোসেফের খাওয়া-দাওয়া পোশাক-আশাক সমস্ত কিছুর খুঁটিনাটি এর আগ পর্যন্ত মেরীই সামলাইত। যেদিন থিকা ওরা একসাথে আছে, জোসেফ এমন কি শার্টের বোতামটা পর্যন্ত নিজ হাতে লাগাবার সুযোগ পায় নাই কোনোদিন। আর আজ মেরী জোসেফের ধারেকাছেও নাই। এমন কি, চইলা যাওয়ার আগে ‘কিছু ফেইলা গেছ?’ পর্যন্ত জিগায় নাই আজ মেরী। মেরী বইসা আছে চুপচাপ, কোনো এক দিকে নিষ্পলক তাকায়া। মুখে কথা নাই। যেন একটা লাশ সে। যেন একটা লাশ তাকায়া আছে চোখ মেইলা। ব্যাপারটা নতুন জোসেফের কাছে। তাই মানতে পারতেছে না। কিন্তু ঠিক রাগও করতে পারতেছে না। কারণ এমন মৌন উদাসীনতা গত বেশ কিছুদিন ধইরা খুব সম্ভবত সেও দেখায়া যাইতেছে মেরীর প্রতি।

‘বাইরে কোথাও যদি যাইতেই হয়’, যাওয়ার আগে জোসেফ বলে মেরীরে, ‘এইভাবে রেডি হয়া যাইতে হয়, বুঝলা? একদম ফিটফাট। তুমিও একটু সাজগোজ কইরা নাও, যাও। একটু ফিটফাট থাকো, মেরী। সবসময় একটু ফিটফাট থাকা ভালো। আমি গেলাম।’

দুই ঠোঁটের ফাঁকে একটা সিগ্যারেট পুইরা নেয় জোসেফ। সিগ্যারেট জ্বালাইতে গিয়া কিছুক্ষণ স্টিয়্যারিংটা ছাইড়া দেয় সে। ব্যাপারটা এমন না যে ড্রাইভিং-এর ব্যাপারে জোসেফ খুব উদাসীন। স্টিয়্যারিঙে হাত রাইখা রাইখাই সিগ্যারেট জ্বালাইতে পারে না সে, এমনও না। কিন্তু আজ ওর স্টিয়্যারিংটারে ছাইড়া দিতে ইচ্ছে করে কিছুক্ষণ। কিছুক্ষণ স্টিয়্যারিংটা ছাইড়া দিলে কী আর এমন হয়।

গাড়ির গতি বাড়ে না। একই রকম ধীর। রাস্তাঘাট অনেকটাই বদলায়া গেছে। অনেক সুন্দর হয়া গেছে। কলেজ শেষ করার পর এইদিকটায় বলা যায় সে আর আসেই নাই কোনোদিন। অনেক ফ্রেন্ডের সাথে দেখা নাই বহুদিন। নিশ্চয় অনেকেই বাঁইচাও নাই। অনেকেই হয়ত বাঁইচাও আছে। বাঁইচা থাকা আর মৃত্যু ছাড়া আজকে আর কোনো ভাবনা এখন পর্যন্ত আসে নাই জোসেফের মাথায়।

কবরস্থানের সামনে গাড়ি থামায় জোসেফ। আধপোড়া সিগ্যারেটটা ছুঁইড়া ফেলায়। গাড়ি থিকা নাইমা কবরস্থানের সিঁড়ি দিয়া হাঁইটা চলে অভিজাত ভঙ্গীমায়। মৃত্যু সম্পর্কিত দুইটা জায়গার সাথে পরিচয় আছে জোসেফের। একটা হইলো মর্গ। আরেকটা কবরস্থান। কবরস্থানে আছে ভালোবাসা আর নস্টালজিয়া। মর্গে আছে ভয় আর শোক। মর্গে কখনই যায় নাই জোসেফ। কখনও যাইতে চায়ও না।

ঘণ্টাটা ঠিক আগের জায়গায় আছে আগের মতোই। জোসেফ প্রায়ই বাজাইত এই ঘণ্টা। হুদাই বাজাইত না সে; জোসেফ এই ঘণ্টা বাজাইত সবচাইতে আনন্দের অথবা সবচাইতে কষ্টের সময়গুলাতে। জোসেফ জানে ঘণ্টার এই আওয়াজ তার খুশি বা মন খারাপগুলিরে পিঠে কইরা নিয়া চইলা যায়। ঘণ্টার আওয়াজ যতদূরে যায়, তার অনুভূতিগুলাও ছড়ায়া পড়ে তত দূরে। পৃথিবীর সমস্ত হৃদয় ছুঁয়া যায় সেটা। এবং ঘণ্টার আওয়াজে প্রথম সাড়া দেয় কাছের পাখিগুলি, ঘণ্টার আওয়াজে ওরা এক ঝাঁক উইড়া যায় দূরে। তার অনুভূতিগুলি সবার আগে টাচ করে পাখিগুলিরেই।

জোসেফ ঘণ্টার কাছে আগায়া যায়। ঘণ্টায় বাঁধা সুতা ধইরা টান দেয়। পাখিগুলি উইড়া চইলা যায় এক ঝাঁক। এতদিন পরও পাখিগুলি ওরে মনে রাখছে, এইটা ভাবতেই চোখে পানি চইলা আসে জোসেফের। উড়তে থাকা পাখিগুলির দিকে তাকায়া তাকায়া জোসেফ ঘণ্টা বাজাইতে থাকে। বাজাইতে থাকে একটানা। পাগলের মতো বাজাইতে থাকে জোরে জোরে। একটানা। খুব জোরে। তারপর হঠাৎ হাইসা ওঠে। উন্মাদের মতো হাইসা ওঠে। জোরে জোরে শব্দ কইরা হাইসা ওঠে।

দূরে এক বুড়া কাজ করতেছিল। মাটিগুলি আলগা কইরা দিতেছিল ফুলগাছের শিকড়ের। থাপা। এই কবরস্থানের দারোয়ান। মালিও। ওর কাছে আগায়া যায় জোসেফ।

‘দাজু থাপা।‌’ Continue reading

গান-ভাঙ্গা গান, লিরিক মারা লিরিক, সুর মারা সুর

#
‘এমন একদল চোর বানাইছো
এমন অনেক চোর বানাইছো
এমন একজন চোর বানাইছো
লজ্জা-শরম নাই;
কার কাছে চুরির বিচার চাই?
ও দয়ালরে/…’
#

৮০’র দশকের শেষ দুই বছরের দিকে হবে। এরশাদ-সরকারশাসিতশোষিত দেশে আমরা পোলাপাইনের বয়স পার হইতেছি হাফপ্যান্ট [তখন ইংলিশপ্যান্ট] ছাইড়া টেট্রনের একটামাত্র ঘিয়া কালারের ফুলপ্যান্টের সাথে শিল্পাঞ্চল খুলনার নিক্সন মার্কেটের পুরানা জিন্স প্যান্ট স্বল্পমূল্যয় কিনা পরা শিখা। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক/ গণতন্ত্র মুক্তি পাক’, ‘কেউ খাবে,কেউ খাবে না’, ‘মাঝরাতে চাঁদ যদি আলো না বিলায়’, ‘আমায় একজন শাদা মানুষ দাও’, ‘ দেরে দে গেলাশ ভরে দে’, ‘ তুমি রোজ বিকেলে আমার বাগানে’,‘একদিন পাখি উড়ে যাবে’,‘রসিক আমার মন বান্ধিয়া’র সাথে ‘মিলন হবে কত দিনে’র গোলকধাঁধায় মনখারাপরে ভালো লাগাইয়া সাজুর (Saz Khan) [আমাদের গায়ক, গিটারিস্ট বন্ধু] সাথে বিএল কলেজের (Govt. B.L University College, Khulna) আর্টস বিল্ডিঙের নিচ তলার সিঁড়িতে বিকাল-সন্ধ্যার চোখ লাল করি। ও[সাজু] গান গায় আমরা শুনি,আর সিগারেট ভাগ কইরা খাই।… এইসব সময়ে ‘এমন একখান ঘর বানাইছো’ গানটা লেখা। সাজু একটা সুর কইরা গায়,আমরা মাঝে মাঝে গলা হান্দাই।… ‘দিন যায়রে বিষাদে’…

… চাকরি থিকা বাপের অবসর। বাপ-মায়ের বাড়ি গোপালগঞ্জে ফেরা। সেইখানে অনেক সমবয়সী-অসমবয়সী বন্ধু মিলা যাওয়া; যাঁদের ভিতর গান নিয়া সময় কাটানো মানুষও পাওয়া ; আরিফ,আলিম,সিরাজ ( Shirazul Hoque) … গোপালদা। … ‘এমন একখান ঘর বানাইছো’ এঁদের সাথেও শেয়ার কইরা আড্ডায় আড্ডায় অসুরা-গলায় আমিও গাই সাজুর করা সুরের সাথে আমার করা অসুর মিলাইয়া। গোপালগঞ্জের আনাচেকানাচে, বঙ্গবন্ধু কলেজের (Govt. Bangabandhu College, Gopalganj ) নানান জায়গায়, স্পেশালি কমনরুমের পাশের ক্লাসরুমে আড্ডা আর বেঞ্চ বাজাইয়া অনেকে মিলা গান গাওয়ার দুপুরগুলা এহনওতো তরতাজা।… তারপর কত ‘চড়াই-উতরাই’―

চড়াইতে প্রথমে কবিতা পরে গান,তারও সাড়ে পাঁচ বছর বাদে কৌতূহলের প্রেমে পইড়া ভিজুয়াল-মিডিয়ামে নিবেদিত হওয়ার ভিতরে একদিন, ২০০৪/৫-এর মধ্যে দুপুরবেলায় আজিজ সুপার মার্কেটের অডিও সপ ‘সুরের মেলা’ থিকা কানে আইসা ঢুকল ― ‘এমন একখান ঘর বানাইলা/দরোজা-জানালা নাই/কেমনে তোমার দেখা পাই?/…’। মুহূর্তে আউলাইয়া গেলাম;পুরা খুলনা-গোপালগঞ্জের সেইসব দিন ভর করল মাথায়। ‘সুরের মেলা’য় ঢুইকা ক্যাসেটটা হাতে নিয়া খুইলাখাইলা দেখলাম অ্যালবামের নাম ‘হীরা চুনি পান্না’, শিল্পী : Asif, Sumon, Tito। অডিও-লেবেল : Soundtek।

সাউন্ডটেকের ইউটিউব লিঙ্ক-এর টাইটেল-সিরিয়াল মোতাবেক গানটা নাই,আছে ইউটিউব-ভিডিওর টাইম কোড ২৭:৭ থিকা। গানটার নাম ‘কবর’, গীতিকারের নামে গোপালদা ও আমি।
Continue reading

পলিটিক্যাল আলাপ (২): বাংলাদেশের পলিটিক্যাল পার্টি (২০২১)

।। পলিটিক্যাল আলাপ (১) ।।

>>>>>>>>>

বাংলাদেশে যারা সেক্যুলার, লিবারাল রাজনীতির সার্পোটার তাদের বুঝতে পারা দরকার যে, আওয়ামী লীগরে দিয়া হবে না। ইন ফ্যাক্ট, রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ বইলা কিছু নাই আর। আমার কথারে লিটারালি নিয়েন না। খুব দাপটের সাথেই আছে, কিন্তু পলিটিক্যালি ডেড একটা ঘটনা। যেমন ধরেন, কয়জন মন্ত্রী-মিনিস্টারের নাম আপনি জানেন বা শুনেন মিডিয়াতে, ঘুইরা-ফিরা দুই-চাইরজনরেই; কিন্তু তাদের চাইতে পাওয়ারফুল হইতেছেন পুলিশের এসপি’রা, উনাদের কথা বেশি শোনার কথা, কারণ দেশ চালাইতেছে পুলিশ-আমলা-মিডিয়া-মিলিটারিদের দেশ-বিরোধী একটা গং, আওয়ামী লীগ হইতেছে জাস্ট ফেইসটা। পাবলিক ইল্যুশনের জায়গাটা। এইটা আছে, কিন্তু নাই। আওয়ামী লীগ গত পার্লামেন্ট ইলেকশনেই মারা গেছে, যখন পুলিশ-মিলিটারি-সরকারি কমর্চারিদেরকে দিয়া ভোট দেয়াইছে। বাংলাদেশের মানুশের উপরে পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে আওয়ামী লীগের কখনোই বিশ্বাস ছিল না। এখন এইরকম নন-ইলেক্টেড, এন্টি-পিপল একটা পলিটিক্যাল পার্টির ইল্যুশনরে সার্পোট দিয়া বাংলাদেশের সেক্যুলার ও লিবারাল’রা নিজেদের পায়ে কুড়ালই মারতেছেন। মানে, একজন ভালো-মানুশ হিসাবে আপনি যদি কোন খারাপ কাজরে সার্পোট করেন, আপনি আর ভালো মানুশ থাকতে পারেন না। এই কারণে বাংলাদেশের সেক্যুলার-লিবারাল’রা এই খারাপ-মানুশদের দলে আছেন এখন।

যদি সত্যিকারভাবে উনারা সেক্যুলার-লিবারাল পজিশন ধইরা রাখতে চান নতুন কোন পলিটিক্যাল পার্টি বানাইতে হবে, যারা নয়া বাকশালের এগেনেস্টে কথা কইতে পারবে, একটা পজিশন নিতে পারবে। এই কাজ যারা করতে চান উনাদেরকে (আমি আশা করি যে, আনু মুহাম্মদ, রেহনুমা আহমেদ, শহীদুল আলমদের ছোট একটা গ্রুপ আছে, যারা সেক্যুলার-লিবারাল পজিশন ধইরা রাখতে চান) অবশ্যই একটা পলিটিক্যাল প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারতে হবে, তা নাইলে যট্টুক পলিটিক্যাল রিলিভেন্স আছে উনাদের, ততটুকও থাকবে না। এইরকম ভালো-মানুশ সেক্যুলার, লিবারালদের কবর যদি বাংলাদেশের মাটিতে হয়, সেইটা কোন পজিটিভ ঘটনা হবে বইলা আমার মনে হয় না। কিন্তু “টক্সিক পার্টনারের প্রতি ডিভোটেড লাভারের মতন” উনাদের আওয়ামী-ভালোবাসা উনাদেরকে মাইরাই ফেলবে। কিন্তু এই বুঝ উনাদের নাই – এইটা ভাবতে পারাটা তো মুশকিলই আসলে। বরং উনারা, এই সেক্যুলার-লিবারাল’রা পলিটিক্যাল স্পেইসটার লগে এক ধরণের হেইট্রেটের জায়গা থিকা এটাচড থাকেন, যার ফলে আওয়ামী লীগের লগেই নিজেদের এটাচমেন্ট’টা খুঁইজা পান। এই পজিশন চেইঞ্জ না করতে পারলে, নিজেরাই পলিটিক্যালি ইন-ভ্যালিড হয়া যাবেন, আওয়ামী-লীগ ইনভ্যালিড হওয়ার আগেই। কারণ, আওয়ামী-লীগের যেই আইডিওলজি “বাঙালি জাতীয়তাবাদ” সেইটা তার কোর জায়গা থিকা “বাংলাদেশ-বিরোধী” একটা ঘটনা, এই জায়গাটা কেউ মার্ক করতেছেন বইলা আমার মনে হয় না। যদি আওয়ামী-লীগের রাজনীতি বাঁইচা থাকে, সেইটা বাংলাদেশের সেক্যুলার, লিবারাল রাজনীতির মারা যাওয়ার কারণই হবে।… 

 

…………………..

আহমদ ছফাদের আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ’রে ‘মুক্তিযুদ্ধের’ সার্টিফিকেট দিছেন আহমদ ছফা’র মতন পলিটিক্যাল কমেন্টেটর’রাই। উনার এক আবেগি বাণী আছে, ‘আওয়ামী লীগ যখন হারে তাইলে বাংলাদেশ হাইরা যায় আর আওয়ামী লীগ যখন জিতে তখন খালি আওয়ামী লীগ-ই জিতে’ – এইরকম টাইপের। খুবই বাজে কথা এইটা।

বাজে কথা এই সেন্সে যে, এইখানে ফাঁপা আবেগ ছাড়া আর কিছু নাই। ইন্ডিয়াতে কংগ্রেসের জায়গায় বিজেপি বা রিজিওনাল দলগুলি জিতলে অথবা পাকিস্তানে মুসলিম লীগের জায়গায় পিপলস পার্টি বা তেহরিকে ইনসান জিতলে ইন্ডিয়া বা পাকিস্তান তো হাইরা যায় না। বাংলাদেশে এইরকম ভাবা’র লাইগা কেন বলা হয়? একটা পলিটিক্যাল দল কেমনে একটা রাষ্ট্রের মালিকানা পাইতে পারে?

এইটা আহমদ ছফা’দের কোন পলিটিক্যাল ‘ভুল’ বইলা আমি মানতে রাজি না। বা কোন ‘অতীত অভিজ্ঞতা’র সিনথেসিস বইলা ভাবা’টাও কোন কাজের জিনিস না। বরং এর একটা উদ্দেশ্য আসলে এক ধরণের ‘বাংলাদেশ’রে ডিফাইন করা, যেইটা খুবই মিডল-ক্লাসের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া কালচারাল প্রডাকশনগুলাও দেখবেন, ‘শহরের’ ‘শিক্ষিত’ ‘পোলা’রা’ হইতেছে মেইন ‘মুক্তিযোদ্ধা’; আর এই কারণে ‘গ্রাম্য’ ‘অশিক্ষিত’ ‘মাইয়া’দের’ প্রতি এই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বা ‘বাংলাদেশ’ ধারণার এক ধরণের কালচারাল বিরোধিতা আছে। এই যে, ছফা’দের (প্লুরাল কারণ আরো আছেন উনার মতন) ‘বাংলাদেশ’ ধারণা – সেইটার বেইজটারে কোশ্চেন করা, খোলাসা করাটা জরুরি একটা ইন্টেলেকচুয়াল কাজ যে, এইটার বেচা-বিক্রি কি কি ভাবে চালু থাকতে পারতেছে এখনো?

আওয়ামী লীগ হারলে যেমন বাংলাদেশ হারে না, ‘বাংলাদেশ’ বইলা এক ধরণের ‘শিক্ষিত’ মিডল-ক্লাস সেন্টিমেন্টে দাগা লাগে, একইভাবে জিতলেও খালি আওয়ামী লীগ-ই জিতে – তা না, বরং গ্রসলি বললে আহমদ ছফা’রা আরো বড় ভাগ চান, এই জিতা’র। সেইটা কখনোই সম্ভব হয় না, যার ফলে এক ধরণের ‘অভিমান’ বা ‘প্রবঞ্চণা’র ফিলিংসই হয় উনাদের, এর বেশি কিছু না।

/ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

……………………..

যতদিন খালেদা জিয়া বাঁইচা আছেন, ততদিন বিএনপি’র আশা আছে। উনি হইতেছেন একমাত্র নেতা, যিনি বাংলাদেশের মানুশের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সাফার করছেন, করতেছেন। আমলা-পুলিশ-মিলিটারি-মিডিয়া’র কাছে উনি সারেন্ডার করেন নাই। এরশাদের পতনও সম্ভব হইছিল উনি আপোষ করতে রাজি হন নাই বইলাই। এই জায়গাতেই উনার পলিটিক্যাল সিগনিফিকেন্স। উনি মারা যাওয়ার পরে বিএনপি একটা পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে টিইকা থাকতে পারবে কিনা, এইটা উনার উপরেই ডিপেন্ড করে অনেকটা। এখন বিএনপি যে পলিটিক্যালি কোন রোল প্লে করতে পারতেছে না, এতে বাংলাদেশের মানুশই সাফার করতেছে। দল হিসাবে বাতিল হয়া গেলে সেইটাও বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য খুবই বাজে একটা ঘটনা হবে। এখন দলের বাইরে থিকা কেউ আইসা বিএনপি’রে বাঁচায়া ফেলবে, চাঙ্গা কইরা ফেলবে, এইরকম কোন ম্যাজিক হবে না। বিএনপি অবশ্যই লিবারাল একটা দল, কিন্তু যেমন ঠিক সেক্যুলার না, একইভাবে ইসলামিস্টও না। বরং একটা “বাংলাদেশি” জায়গারে তৈরি না করতে পারার কারণে পলিটিক্যাল আইডিওলজির জায়গাতেও সাফার করতে হইতেছে। আমার এক্সপেক্টশন হইতেছে, উনারা উনাদের এই কোর জায়গাটারে ধইরা রাখবেন, সেক্যুলার ও ইসলামিস্ট গেইমটার বাইরে, আর দলের ভিতরে ডেমোক্রেসির জায়গাটারে যত বেশি ওপেন করতে পারবেন, তত বেশি পাবলিকের কাছে একসেপ্টেবল হইতে পারবেন, পলিটিক্যাল দল হিসাবে নিজেদের ভিত’টারে স্ট্রং করতে পারবেন। এই সুযোগ বিএনপি’র এখনো আছে। আজকে থিকা পাঁচ বছর, দশ বছর পরে হয়তো থাকবে না। Continue reading

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য