Main menu

আমি সবসময় লিখতে লিখতে অনুবাদ করতে থাকি – অরুন্ধতী রায়

[ প্যারিস রিভিউ পত্রিকার সামার, ২০২১ সংখ্যায়, এই ইন্টারভিউটা ছাপা হইছে। ইন্টারভিউ নিছেন হাসান আলতাফ। এইখানে ইন্টারভিউটার কিছু অংশ পাবলিশ করা হইলো। ]

ইন্টারভিউয়ার: আপনি কি আমারে আপনার রিডিং হ্যাবিট নিয়া একটু বলতে পারেন?

অরুন্ধতী রায়: যখন কেরালায় বড় হইতেছিলাম, ব্রেইনে মালয়াম পার্ট যেমন ছিল, ইংলিশ পার্টও ছিল – এই ইংলিশ পার্টটুক নারিশ করার জন্য অনেক শেক্সপিয়ার, অনেক কিপলিং পড়ছিলাম। ওইগুলা সবচেয়ে সুন্দর, লিরিকাল ভাষার আর আনলিরিক্যাল পলিটিক্সের একটা কম্বিনেশন, যদিও তখন ব্যাপারটারে ওইভাবে দেখি নাই। উনারা আমারে অবশ্যই ইনফ্লুয়েন্স করছেন, যেমনটা পরে করছেন জেমস বাল্ডউইন, টনি মরিসন, মায়া অ্যাঞ্জেলো, জন বার্জার, জয়েস, নাবোকভ। প্রিয় লেখকদের লিস্ট বানানোটা যে কী প্যারা। গ্রেট লেখকদের থেকে শিক্ষা নিয়া আমি গ্রেটফুল, এর সাথে ইম্পেরিয়ালিস্ট, সেক্সিস্ট, বন্ধু, লাভার, অপ্রেসর, রেভলুশনারি – সবার প্রতিই গ্রেটফুল। সবারই একজন লেখকরে কোন কিছু শিখানোর আছে। মিসেস ডালোওয়ে থেকে আমি অদ্ভুতভাবে সিটিজেনদের ন্যাশনাল রিপোর্ট পড়তে শিফট করতে পারব, যেইটা থেকে দুই মিলিয়ন আসামের লোকজনরে বাদ দেয়া হইছে, যাদের ইন্ডিয়ান সিটিজেনশিপ বাতিল কইরা দিছে। যেকোন অধিকার পাওয়া থেকে বাতিল কইরা দিছে।

রিসেন্টলি যেই নভেল আমার ভালো লাগছে ওইটা হইলো ভাসিলি গ্রসম্যানের লাইফ অ্যান্ড ফেইট। চরিত্রগুলার রেইঞ্জ, সাহস, সিচুয়েশনগুলা একদম সেরা। ভলগা পুড়ার একটা সাররিয়েল বর্ণনা দিয়া নভেলটার শুরু হইছে, পানির উপরে ভাসতে থাকা গ্যাসোলিনে আগুন ধরতেছে, যেন একটা নদী পুইড়া যাওয়ার ইল্যুশন – এদিকে স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ চলতেছে। সোভিয়েত অথরিটি এই ম্যানুস্ক্রিপ্টটারে একজন মানুষের মতই গ্রেফতার করছিল। আরেকটা রিসেন্ট পড়া হইলো জর্জিও বাসানির দা গার্ডেন অফ দা ফিনজি-কনতিনিজ। এইটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগের সময় নিয়া লিখা, যখন ইটালির অনেক ইহুদি ফ্যাসিস্ট পার্টির মেম্বার ছিল। ফিনজি-কনতিনিরা হইলো একটা এলিট ইহুদি পরিবার, যারা বিশাল বিশাল মাঠ আর টেনিস কোর্টওয়ালা একটা ম্যানশনে থাকত। বইটা হলোকাস্টের সময় ফিনজি-কনতিনি পরিবারের মেয়ে আর ওই দুনিয়ার একজন আউটসাইডারের প্রেম নিয়া লিখা। ওই জায়গার আনচেঞ্জিং, থমথমে ভাবের মধ্যে কিছু একটা আছে, চারপাশ আরো আন্ধার হওয়ার মধ্যেও যা যা হইতেছে এইগুলারে অস্বীকার করা। এইটা একটু ভয়ানক আবার অদ্ভুতভাবে কন্টেম্পোরারি। সব ফিনজি-কনতিনিরা মইরা যায়। স্তালিনিস্ট রাশিয়াতে যা হইছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে যা হইছে, কেউ পড়তেছে আর বর্তমানরে বোঝার তরিকা খুঁজতেছে। আমারে যেই জিনিসটা ফ্যাসিনেট করে তা হইল স্তালিনের ফায়ারিং স্কোয়াড যাদের গুলি কইরা মাইরা ফেলছে, তারা মরতে মরতেও কইতেছিল, “লং লিভ স্তালিন!” স্তালিন মরার সময় গুলাগ খাটা মানুষও কান্নাকাটি করছিল। সাধারণ জার্মানরাও কখনো হিটলারের বিরুদ্ধে জাইগা উঠে নাই, যদিও সে এমন যুদ্ধ চালাইছে যেইটা তাদের শহরগুলারে একদম শেষ কইরা দিছিল। আমি ইয়ান কেরশ এর হিটলারের বায়োগ্রাফি, নাদেজদা মান্দেলস্তামের আত্মজীবনীতে (যার হাজব্যান্ড ওসিপ মান্দেলস্তামরে স্তালিন বেসিকালি মাইরা ফেলছিল), অ্যানা আখমাতোভার কবিতায়, ভারলাম শালামভের কোলিমা টেইলে আমি হিউম্যান সাইকোলজির ক্লু খুঁইজা বেড়াই।

ইন্টারভিউয়ার: অনেক রাশিয়ান দেখি।

রায়: হ্যাঁ, এখন অনেক রাশিয়ান। উনারা যেমনে একটা বড় ন্যারেটিভরে ধরেন, এইটা খুবই ইন্টারেস্টিং। আর অবশ্যই চেকভ, যে মাইক্রোস্কোপিক ভাবেও এই কাজটা করতে পারেন। উনারা যে রাস্তার লেনের ভিতর থাকতে চান না এই জিনিসটা আমি এনজয় করি। বিশেষ কইরা এখন যখন ট্রাফিকের নিয়মকানুন আরো শক্ত হইতেছে, রাস্তাগুলা আরো চিকন হইতেছে। লেখক, পাঠক, পাবলিক কনভারসেশন, সবাইরে একটা দড়ি দিয়া বাইন্ধা রাখা হইতেছে। উপর, নিচ, পাশ সবদিক থেকে কন্ট্রোল করা হইতেছে। ভারতে লিটারেলি রাস্তাঘাটে একদল মানুষ কালচারাল সেন্সরশিপ বাঁচানোর ঠেকা নিয়া রাখছে, বেশিরভাগ সময় সরকারের ছুপা ব্লেসিংও থাকে। আমরা এক ধরণের ইন্টেলেকচুয়াল গিট্টুর দিকে আগাইতেছি।

ইন্টারভিউয়ার: আপনার লেখা তো মনে হয় না কখনো মাইক্রোস্কোপিক, ছোট গল্পের ছাঁচে গেছে – নভেল ফরমাটই বাইছা নেন।

রায়: আমি বছরের পর বছর একটা নভেলের ইউনিভার্সে ডুব দিতে ভালোবাসি। ওইসময়ে নিজেরে সবচেয়ে বেশি জ্যান্ত লাগে। কিছু লেখক ওই প্রসেসে সাফার করে, কিন্তু আমি এনজয় করি। ওই ইমপারফেক্ট ইউনিভার্সে থাকা প্রেয়ারে থাকার মত – প্রোডাক্টটা, বা তার শেষটা, বা তার সাকসেস, বা তার ননসাকসেস থেকে এইটা আলাদা। নভেলের কী একটা বাজে নাম দিলাম – প্রোডাক্ট। সরি।

ইন্টারভিউয়ার: ওই প্রোডাক্টটা কী? একটা নভেল কীরকম হওয়ার কথা?

রায়: আমার মনে হয় দিনদিন নভেলগুলা বেশি সহজ, স্মুথ হয়ে যাইতেছে। যখন আপনি ভাসিলি গ্রসম্যান বা বড় রাশিয়ান নভেলগুলা পড়বেন, ওইগুলা ওয়াইল্ড আর অস্থির, কিন্তু এখন একটা উপায় আছে যেখানে লিটারেচাররে বাজারজাত করা হইতেছে, প্যাকেজ করা হইতেছে – এইটা কি রোমান্স? এইটা কি একটা থ্রিলার? কমার্শিয়াল? সাহিত্যিক? এইটারে কোন শেলফে রাখব? আর এখন আমাদের তো আবার এম.এফ.এ নভেল আছে (নভেল লেখা শেখার জন্য মাস্টার্সের কোর্স থাকে, এই কোর্সে যে নভেল লিখা হয়), যেইটা প্রায়ই সুন্দর কইরা বানানো হয়। কোন ছোটখাট ভুলটুল থাকে না। চরিত্রের সংখ্যা, চ্যাপ্টারের লেংথ, সবই খুবই স্কিলফুলি সাজানো – আর আমি বলব ওইখানে পুরুষ নভেলিস্টদের ফ্রি হ্যান্ডে লিখতে দেয়। ওদের আরো সহজেই বড় ক্যানভাস দেয়া হয়। কিন্তু নারী হইলে কয়, বইয়ে কয়টা চরিত্র? একটু বেশিই পলিটিকাল হয়া গেল না? আমি তাদের জিগাইতাম, ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিট্যুড বা ওয়ার অ্যান্ড পিস এ কয়টা চরিত্র আছে? আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে সেটেল্ড হ‌ও‌য়া ক্লাসগুলা, কনটেম্পোরারি কালচারাল রাজারা যারা শিল্প-সাহিত্যের টেস্ট ঠিক ক‌ইরা দেয়, তারা প্রায়ই রিয়েল, ডিপ, আনসেটেলিং পলিটিক্স – যেইটা ইউজুয়ালি শেখানো হয় না- এইগুলা নিয়া দুশ্চিন্তা করে। এক্সপেক্ট করা হয় যে আমরা একটা নির্দিষ্ট ভিউ থেকে লিখব, যেখানে প্রগ্রেস, এনলাইটমেন্ট, সিভিলাইজেশনের একটাই কমন আইডিয়া সবাই মাইনা নিছে। কিন্তু আমার মনে হয় এই জিনিসটা এখন বদলাইতেছে। সারা দুনিয়ার ইয়াং লেখক আর কবিরা নানা দিক দিয়া এইটারে চ্যালেঞ্জ করতেছে।

ইন্টারভিউয়ার: একটা সাজানো প্রোডাক্টের আইডিয়াটা ইন্টারেস্টিং, এখানে লেখকরা যেসব বিষয় নিয়া বলতে “পারমিশন” পায়, বা একটা বইতে যা যা আনতে পারে, এই সাবজেক্টগুলারে লিমিট কইরা দেয়- যেন একটা ফ্যামিলি স্টোরিতে পলিটিকাল ব্যাপারস্যাপার আনা যাবে না, বা ভাইস ভার্সা। মিনিস্ট্রিতে আপনি তিলোর ব্যাপারে বলেন যে সে তার “আলাদা-আলাদা দুনিয়ারে আলাদা কইরা রাখার ক্ষমতা হারায়া ফেলছিল”, যেইটা আপনার কাজের তরিকা নিয়াও বলা যায় – নভেলগুলাতেও দেখা যায়, আপনি যেমনে জনরা থেকে জনরাতে শিফট করেন ওইখানেও দেখা যায়।

রায়: একজন নভেলিস্ট আলাদা দুনিয়া রাখতে পারবে না। আপনার কাজই হইলো এই দুনিয়াগুলারে একটার সাথে একটা বা একটার পিঠে আরেকটারে স্ম্যাশ করা। একাডেমিক দুনিয়া, জার্নালিস্টিক দুনিয়া, এনজিও দুনিয়া, তারা জিনিসপাতি আলাদা রাখতে পছন্দ করে- এইটা একটা ক্লাইমেট চেঞ্জ রিপোর্ট, এই রুমে আমরা হিন্দু ন্যাশনালিজম নিয়া ডিল করি, ওই রুমে যুদ্ধ আর শান্তি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাডমিন এরিয়া, এইটা ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স, এই ডিপার্টমেন্ট পরিবেশ ইস্যু ফান্ডিং নিয়া কাজ করে, এই রুমে আমরা জাত-পাত-বর্ণ আর অন্য আইডেন্টিটিওয়ালা ইস্যু নিয়া চিন্তাভাবনা করি। মাঝে মাঝে আমি যখন খারাপ মুডে থাকি, আমার মনে হয় এইটা অনেকটা ফান্ডিং অ্যাপ্লিকেশনের ক্যাটেগরি করার মত। কিন্তু এইগুলারে আসলেই, র‍্যাডিকালি বুঝতে গেলে, আপনারে জিনিসগুলার সম্পর্করে দেখতে হবে। কাশ্মিরের ঝামেলা আসলেই বুঝতে চাইলে আপনারে শুধু মিলিটারি দখলের বিষয়ই না, ঐ অঞ্চলের জিওগ্রাফি, প্রাকৃতিক সম্পদের দখল, নদীর গুরুত্বও বুঝতে হবে। যখন উড়িষ্যার দুইটা কমিউনিটিতে ভায়োলেন্স ছড়ায়া পরে, এই কমিউনিটিগুলার কনফ্লিক্টের ইতিহাস ছাড়াও আপনারে অবশ্যই এরিয়ার বক্সাইট পাহাড় আর মাইনিং কম্পানিগুলা দেখতে হবে। ইন্ডিয়ান ইকোনমি কেমনে কাজ করে বুঝতে হইলে শুধু ফিনান্স বুঝলেই হবে না। আপনারে কাস্ট বা জাত নামের কাঁচের ভিতর দিয়া ব্যাপারটারে দেখতে হবে। আপনার অনেকগুলা চোখ লাগবে যেইগুলা আপনার মাথার সবদিক কভার করবে, ফ্লেক্সিবল একটা চামড়া লাগবে। অন্তত আমি এইরকম নভেলিস্ট হইতে চাই। এইটা আমার জন্য ট্র্যাজেডি আবার পরশপাথরের মতও। এইটা আমার জীবন বরবাদ করে দিছে আবার জোড়াও লাগাইছে। মাঝে মাঝে ভাবি আমি যদি অন্যরকম হইতে পারতাম, অন্যধরণের মানুষ হইতে পারতাম। Continue reading

এডিটোরিয়াল: বাংলাদেশে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’র ধারণা ও রাজনীতি নিয়া কয়েকটা কথা

এক. সেক্যুলারদের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র ধারণা কিভাবে জুলুমের ফেভারে কাজ করে

ব্যাপারটা এইরকম না যে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ আমরা কেউ চাই না; কিন্তু কোন শব্দের মিনিংই যেমন ডিকশনারি মিনিংয়ে কথার ভিতরে থাকে না, একইভাবে টার্মগুলাও একইরকম জিনিস না। হইলে, রাজাকার, ফ্যাসিস্ট… এই জিনিসগুলা আজকের মিনিংয়ে থাকতে পারতো না। মানুশরে যেমনে আমরা তার কথা না, বরং কাজের ভিতর দিয়া চিনি; শব্দের মিনিং-ও তার হিস্ট্রিক্যাল এপিয়েরেন্সগুলার ভিতর দিয়াই আমাদেরকে বুঝতে হবে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড থিকা ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ জিনিসটারে দেখেন।

এর মানে হইতেছে, দেশে যে নানান ধরণের সম্প্রদায় আছে, এদের মধ্যে মিল-মহব্বত নাই বা থাকতে হবে – এইরকম না, বরং সম্প্রদায় বইলা কোনকিছু যে আছে, তার প্রতি এক ধরণের হেইট্রেট বা ঘৃণার জায়গা থিকা এই টার্মটা আসছে। এই হেইট্রেট হইতেছে যে, সব ধর্মের, বিশ্বাসের মানুশ-জন একসাথে মিইলা-মিইশা থাকবে না, বরং মিইলা-মিইশা এক হইতে হবে সবাইরে, ‘ইউরোপিয়ান এনলাইটমেন্ট মানুশ’ হইতে হবে; আলাদা আলাদা ‘সম্প্রদায়’ বা ‘ধর্ম’ থাকলে এইসব ‘অরাজকতা’ থাকবোই – এইরকম একটা অনুমানের ঘটনা আসলে। যেমন, সব ভাষা/ডাইলেক্ট মিইলা ‘প্রমিত ভাষা’ হয়া যাইতে হবে!

এই ধারণাটা বহুজাতির, বহু-ধারণার এগেনেস্টে একটা লিনিয়ার সমাজ গইড়া তুলতে চায়। ধর্ম যার যার বইলা সোশ্যাল স্পেইস থিকা ধর্মের নিশানাগুলারে মুইছা ফেলতে চায়। কারণ ধর্ম’রে এরা রিড করে রিলিজিয়ন হিসাবে, রিচুয়াল হিসাবে। এইখানেও শব্দেরই কারবার। আপনি যদি ধরম, নীতি বা বিশ্বাসের জায়গা থিকা দেখতে রাজি থাকেন, তাইলে বুঝতে পারবেন যে, ধর্ম ছাড়া কোন সমাজই নাই এবং ধর্ম-বিশ্বাসের জায়গাগুলাও সবসময় মাল্টিপল। ধর্ম পারসোনাল তো না-ই, বরং সোশ্যাল প্রাকটিসের জায়গাগুলারে বাদ দিলে কোন ধর্মই টিইকা থাকতে পারার কথা না। (এইখানে আরো অনেক আলাপ তো আছেই…)

তো, এই ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’-অলা’রা দেখবেন ফার্স্টেই এই ধর্মের জায়গাগুলারে বাতিল বা ইনফিরিয়র কইরা দেখাইতে চায়। এবং এই জায়গাটারেও অস্বীকার করতে চায়, অ্যাজ ইফ, এইটা চায় না! এইরকম একটা ভাব নিয়া কথা কয়। এই জায়গা থিকা এইটা খালি ‘ধর্ম-বিরোধী’ কোন ঘটনা না, বরং জুলুমের জন্য একটা বেইজ তৈরি করে যে, মানুশ তো খারাপ! ধর্ম নিয়া মারামারি করে! মানে, এইটারে কেউ ট্রিগার করতেছে, পলিটিক্যালি ইউজ করতেছে না – তা না, ‘মানুশ খারাপ’ বইলা এইটা করতেছে।…

সেকেন্ড হইতেছে, হিস্ট্রিক্যাল এক্সপেরিয়েন্সের জায়গাগুলারে বাতিল করে, গোপন করে। যেন মুসলমানদের ‘মাথা-গরম’ বইলা, ‘বুদ্ধি কম’ বইলা খেইপা যায়, খেপার কিছু নাই! খুবই ন্যাস্টি একটা অনুমান এইটা। বরং মুসলমানদের খেইপা যাওয়ার যে হিস্ট্রিক্যাল কারণগুলা আছে সেইখানে হিট করা হয় যাতে খেইপা যাওয়ার ঘটনাটা ঘটে। প্রত্যেকটা ধর্মের, প্রত্যেকটা বিশ্বাসের এইরকম সেন্সিটিভ জায়গাগুলা আছে (ইনক্লুডিং সেক্যুলার-ধর্ম)। যবন, মালাউন… এই শব্দ দিয়া টের পাইবেন ঘটনাগুলা। এইগুলা ট্রিগার করা হয় পলিটিক্যাল জায়গা থিকাই, কিন্তু তাই বইলা যে নাই – তা তো না!

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র নাম দিয়া এই হিস্ট্রিক্যাল সিগনিফকেন্সগুলারে বাতিল করা হয়, বা যেন খেয়াল করার মতো কিছু এইখানে নাই – এইভাবে পোর্টেট করা হয়। এইটা আরেকটা পিলার, জুলুমের। যে কোন ঘটনারে হিস্ট্রিক্যাল কনটেক্সট থিকা আলাদা কইরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে পোর্টেট করা, দেখানো।

২.
তাইলে আমরা কি করবো – ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র কথা বলবো না? না, বরং যেই জায়গা থিকা এই ধারণাটারে দেখার রীতি চালু আছে, সেইখানে আমরা সাবস্ক্রাইব করবো না।

মানুশের সাথে মানুশের, সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রদায়ের লাগালাগি, বাদাবাদি আছে, থাকবেই; কিন্তু সমাজে যদি আইনের শাসন থাকে, বিচার থাকে, কোনকিছুই একটা লিমিটের বাইরে যাইতে পারে না। আজকে দুইদিন হইতেছে, মন্দিরের সামনে কোন সিসি-টিভি ছিল কিনা, কোন ফুটেজ আছে কিনা, কোন তদন্ত হইতেছে কিনা – এর কোনকিছুই আমরা জানি না।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ হাওয়া থিকা গজায় না। যখন অন্যায়-অবিচার-অনিয়ম সমাজে নিয়ম হয়া উঠে তখন এইটারে ফোকাস পয়েন্ট কইরা তোলাটা জুলুমের বেইজটারে আড়াল করতেই হেল্প করে সবসময়।

 

দুই. ঘটনার কথা

১. ঘটনা’টা কখনোই ঘৃণা বা ভালোবাসার মামলা না। (ইমোশনাল ইস্যু না।) সমাজে চিন্তা ও কথা-বলার জায়গা, আইনের শাসন এবং বিচার না-থাকার ঘটনা।

যেই কারণে এই ইস্যু নিয়া কথা-বলাই রিস্কি! কথা-বলার মতো অবস্থা নাই। পেট্রোল ঢাইলা দিয়া ম্যাচের কাঠি নিয়া বইসা থাকার মতো পরিস্থিতি। এই অস্থিরতার ইমোশনের সময়টারে পার হইতে দিতে হবে।… ইগনোর কইরা বা এড়ায়া যাওয়ার ঘটনা না এইটা। বরং ‘আগুনে ঘি ঢালা’ বন্ধ করতে হবে। সব নিরবতার মিনিং একই না, কোনসময়েই।

২. একইসাথে ভাবতে পারতে হবে যে, দেশের গর্ভমেন্ট এবং সরকারি দলের লোকজনের এক্টিভ সার্পোট ছাড়া বাংলাদেশে ‘দাঙ্গা’ অর্গানাইজ করা পসিবল না। যেই দেশে গত ১০ বছরে সরকার-বিরোধী কোন মিছিল হইতে পারে না, সেইখানে ‘হামলার’ ঘটনা কারা ঘটাইতে পারে, কেমনে ঘটে? হিন্দু-মন্দিরে হামলা হইলে এবং মুসলমানের লাশ পড়লে কার ফায়দা হয় বেশি?

ইমোশনাল ইমব্যালেন্সের সময় এই দরকারি আলাপও ফালতু লাগে। এই কারণে, আগে থামতে হবে। কোন কথা ও কাজরে পলিটিক্যাল একশন বইলা ভাবতেছেন সেইটারে রিভিউ করতে হবে আগে।

৩. টার্মটা ইম্পর্টেন্ট। ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’ বইলা কিছু নাই। ইন্ডিয়াতে মোদি-সরকার এই নাম দিয়া মুসলমান খুন করে, হিন্দু-ভোট কব্জায় রাখে। বাংলাদেশে বাকশালেরও এই ‘ডর’টা নেসেসারি একটা জিনিস, ক্ষমতায় থাকতে হইলে। (সর্প হয়া দংশন করতে হবে এবং ওঝা হয়া ঝাড়তে হয় উনাদেরকে, কতো যে টেনশন…)

এই কারণে টার্মটারে ইনভ্যালিড করতে হবে। এর থিকা বাইর হইতে হবে। Continue reading

রাবেয়া বসরী ও বায়েজিদ বোস্তামী বই দুইটা নিয়া হাসসান আতিকের আলাপ

গত বছর (২০২০ সালের) নভেম্বর মাসে আমরা ফরিদউদ্দিন আত্তারের তেজকেরাতুল আউলিয়া থিকা রাবেয়া বসরী ও বায়েজিদ বোস্তামী’রে নিয়া উনার লেখা দুইটা বই হিসাবে ছাপাইছিলাম আমরা। বই দুইটা ফার্সি থিকা তরজমা করছিলেন হাসসান আতিক।

বইটা নিয়া হাসসান আতিক উনার কিছু কথা শেয়ার করছিলেন। পরে আরো কয়েকটা বইয়ের সাথে এই বই দুইটা নিয়াও আমরা কিছু কথা-বার্তা বলছিলাম, একটা প্রোগ্রামে, ২০২০ সালেই। খুব অর্গানাইজডভাবে জিনিসগুলা করতে পারি নাই আমরা। কিন্তু আমাদের ধারণা, এই কথা-বার্তাগুলা খালি বই দুইটার ব্যাপারে কিছু জিনিস ক্লিয়ার করতে পারবে – তা না, বরং এই বই দুইটারে সেন্টার কইরা কিছু আলাপ-সালাপ যে হইলো, সেইটা আরো কিছু জিনিসরে রিলিভেন্ট কইরা তুলতে পারবে হয়তো, ইন ফিউচার।

কিন্তু প্রচার করা হবে ভাইবা এই ভিডিওগুলা করা হয় নাই, অই টেকনিক্যাল প্রিপারেশন এবং সামর্থ্যও আমাদের নাই। তো, ভিডিওগুলা দেখা ও শোনার সময় কোয়ালিটির জায়গাতে এই ব্যাপারটা কন্সিডার করতে পারলে ডিস্টার্ব একটু কম হইতে পারবেন বইলা আশা করা যায়। মানে, এইখানে যে কনটেন্ট বা আলাপগুলা আছে, এর কিছু ইন্টেলেকচুয়াল ভ্যালু যে আছে, অই জায়গাটারেই হাইলাইট করতে চাইতেছি আমরা।

এইখানে দুইটা আলাপের তিনটা ভিডিও আছে। ফার্স্ট ভিডিও’টা হইতেছে বই দুইটা নিয়া হাসসান আতিকের কথা। সেকেন্ড আর থার্ড ভিডিওটা হইতেছে প্রোগ্রামে বই দুইটা নিয়া আলাপ। হাসসান আতিকের সাথে অই আলাপে ছিলেন মীর হাবীব আল মানজুর, রক মনু, ইমরুল হাসান, ইব্রাকর ঝিল্লী ও সালমান সাদ।

তো, শোনেন, দেখেন! Continue reading

কবিতা আর বিশ্বাস নিয়া একটা নোট – টি. এস. এলিয়ট

দ্য ক্রাইটেরিয়ন পত্রিকার ১৯২৫ এর জুলাইয়ের সংখ্যায় আইভোর আর্মস্ট্রং রিচার্ডসের একটা জোস এসে বাইর হইসিলো। আমার কিসমত, উনি ওই এসেতে যেই থিওরি নিয়া কাজ করতেসিলেন ওইটা ব্যাখ্যা করতে আমার একটা কবিতা কাজে লাগাইসিলেন। ওইখানে ফুটনোটে তিনি একটা অবজারভেশন দিসিলেন যে, “এই অথর নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস আর তার কবিতারে পুরাপুরি আলাদা করতে পারসেন, তাও আবার কবিতাটারে দুর্বল না কইরা। ফলে এতদিন যা স্রেফ একটা দূরবর্তী সম্ভাবনা ছিল, উনি ওইটারে বাস্তবে করতে পারসেন।” এই ফুটনোটটা উনি নিচের এই বাক্যটা বুঝাইতে গিয়া লিখসেনঃ

“একটা বিচ্ছিন্নতাবোধ, অনিশ্চয়তা, মিনিংলেসনেস, সব ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষারে ভিত্তিহীন মনে হওয়া, যেকোনো উদ্যোগ বা প্রচেষ্টারে ফালতু লাগা, আর জীবনদেনেওয়ালা পানির প্রতি তৃষ্ণা যা হুট কইরাই ব্যর্থ হয়, এইসবই হইলো আমাদের জীবনটারে রিঅর্গানাইজ করার তাগিদ।”

আমি একদমই এইটা মনে করি না যে একজন অথর তার নিজের লেখার গভীর অর্থ ব্যাখ্যা করতে কোনো ট্রেনিংপ্রাপ্ত, বোধসম্পন্ন, আর অন্তত সমান ইন্টেলিজেন্সওয়ালা কোনো লোকের চাইতে বেশি কোয়ালিফাইড। যেই কবিতা নিয়া আলাপ করা হইসে, ওইটা আমার লেখা বইলা তার ব্যাখ্যার বেলায় আমি রিচার্ডস সাবের উপরে কোনো জোর খাটাইতেসি না। তার মতামত আমার কাছে খুবই ইন্টেরেস্টিং লাগসে, তা কেবল আমার কবিতার উপর প্রয়োগ করা হইসে বইলাই না; আর আমার মনে হইতেসে সে আমার কবিতার বদলে অন্য কোনো ব্যাটার কবিতা ইউজ করলেই ভালো হইতো, কারণ তাইলে আমি আরেকটু ফ্রিলি ব্যাপারটা নিয়া আলাপ করতে পারতাম। কারণ এই প্রশ্নটা নতুন আর ইম্পর্ট্যান্ট আর খুউউউবই ইন্টেরেস্টিং।

কিন্তু, কবিতায় কবির ব্যক্তিগত বিশ্বাস ক্লিয়ারলি বোঝা না গেলেও, কবির নিজের বিশ্বাস হইতে কবিতা কদ্দূর আর আলাদা হইতে পারে? পরে মিস্টার রিচার্ডসের সাথে আলাপ কইরা জানতে পারসি যে উনি হিউম্যান মাইন্ডের এমন উন্নতি কল্পনা করেন যেইখানে সেন্সিবিলিটি আর ইন্টেলেক্ট আলাদা হইয়া থাকবে, আর ওইখানে ‘বিশ্বাস’ মানে হবে কেবল সমর্থনযোগ্য সাইন্টিফিক হাইপোথিসিসের প্রতি শর্তাধীন সম্মতি, আর যেইখানে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যেইটারে সত্য বইলা মনে হয় সেইটা দিয়া আমাদের সেন্স প্রভাবিত হবে না। তবে একটা পয়েন্টে আমরা দুইজনই এগ্রি করসিলাম, সেইটা হইলো এইঃ সাহিত্যের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে যা কিছুরে সত্য বা বাস্তব মাইনা নিতে হইতো সেইটা দিয়া সেইসময়কার মানুষের ফিলিংস আর ইমোশন সবসময়ই প্রভাবিত, আর এমনকি নষ্টও হইয়া আসছে। মিস্টার রিচার্ডসের ভিউ হইসে, যার কিছুটা উপরের ওই প্রবন্ধেও উনি বলসেন, যে এখন সাইন্সের একটা জামানা ধীরে ধীরে আগাইয়া আসতেসে। এবং এর ফলে পোয়েট্রির নারিশমেন্টের জায়গা খুম কইমা যাবে। তো এই জামানায় কাব্যবোধ যদি টিক্যা থাকতে চায় (তা সম্ভব কিনা সেই বিষয়ে উনি ডাউটফুল) তাইলে তারে নিজেরে টিকাইয়া রাখতে হবে কোনো বিশ্বাস না, বরং নাথিং-এর মধ্য দিয়া।
Continue reading

যুবা রহমানের কবিতা

চায়ের দাওয়াত

আমি এদিকেই থাকি
মোড়ের দোকানে চা খাই

তুমি চাইলে আসা যাওয়ার মাঝে
আমাকে ইউজ করতে পারো

এই ধরো একটা চা খাইলাম
খুব বেশি হইলে, কোনোদিন
একসাথে সূর্যডুবা দেখলাম।

তারপর আর কিছু না

দুইজনে নিজ নিজ অন্ধকারের
দিকে যাইতে থাকলাম

 

সকালে ওঠে আমি

সকালে ওঠে আমি
জীবনের মানে পাল্টে দিতে থাকি

প্রথমেই দুই গ্লাস পানি, এরপর কিছুটা টাইম দিয়ে
ধনেপাতা, পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ভাজা জিরার গুঁড়া,
বাদাম, আদা দিয়ে
মুড়ি মাখি। বাটিতে মুড়ি নিয়ে রোদে বসামাত্রই
লাইফ চেইঞ্জ হইতে শুরু করে
মনেহয়, সাকসেসের কাছাকাছি চইলা আসছি।
এরপর চিনিছাড়া কড়া দুধ চা নিয়া
বড় চেয়ারে হেলান দেয়া মাত্রই লাইফ বিন্দাস!

দুপুর নাগাদ মানেটা ঠিকঠাক থাকে
বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ মানেটা কিছুটা খুন-খারাবির দিকে
চইলা যায়, তারে ফিরানি যায় না। ফিরতে ফিরতে রাত।

তারপর সকালে আবার মানে বদলানির কাজটা করা লাগে

 

কিচেনের লাইট

কিচেনের লাইটটা
সুইচ দিলে সাথেই সাথেই
জ্বলে না।
৫/১০ মিনিট সময় নেয়।
কয়েক দিন আগে আধাঘণ্টা
পরও জ্বলছে।
তিন-চারমাস থেইকাই এই অবস্থা!
এর মধ্যে
একজন মেকানিক
আইসাও ঘুইরা গেছেন
উনি বলছেন ‘ঠিকাছে তো’
আমি কথা বাড়াই নাই।
আস্তে আস্তে এতে
মজা পাইতে শুরু করছি
সুইচ দিলেই লাইট জ্বলা লাগবো
এমন তো কথা নাই
বাসায় ফিরাই
সুইচটা দিয়া রাখি
পরে কোনো এক সময় জ্বলেন উনি
কিন্তু কোনো দিনও মিস হয় নাই
উনি আসেনই।
এই কয় মাসে
এই লাইট দিয়া আমি জীবনের
গভীর ব্যাখ্যা করা শিখছি!
খেলাও খেলি।
মানে এই লাইটরে আর দশটা
লাইটের মতো মনে হইতেছে না
‘ওস্তাদ’ বইলা মনে হইতেছে।
কত যে শিক্ষা!
এর প্রভাবে নিজেও
পাল্টাইতে শুরু করছি।
আগের থেইকা ধৈর্য্য বাড়ছে,
কি এক দরজা খুইলা গেছে নিজের ভিতর!
কিন্তু এইভাবে আর কত দিন
একটা লাইট কি সারা জীবন এমন থাকবো?
থাকব না তো।
এই ডরেই আছি
কোনদিন, কখন যে
উনি সব লাইটের মতো
সুইচ দিলেই জ্বলা শুরু করে!
সমাজের একটা চাপ থাকে তো
এই চাপের সামনে
কিচেনের একটা
লাইট কতোদিন আর
‘জ্বলে তো জ্বলে না’ হয়া থাকত পারবো।

Continue reading

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য