Main menu

আমরা আসলে যেখানেই যাইতে চাই, ঘোরের একটা এফেক্টের বাইরে যাইতে পারি না

জঁ বদ্রিয়াঁ (Jean Baudrillard,১৯২৯ – ২০০৭) ১৯৭৭ সালে “ফরগেট ফুকো” নামে একটা লেখা ‘ক্রিটিক’ পত্রিকাতে ছাপানোর লাইগা পাঠান, মিশেল ফুকো তখন ওই পত্রিকার এডিটিং প্যানেলে আছিলেন। সেই লেখা ক্রিটিক-এ ছাপা হয় নাই আর ফুকো লেখাটার কোন রেসপন্সও করেন নাই। পরে বদ্রিয়াঁ ছোট বই বানাইয়া লেখাটা ছাপান। ১৯৮৩ সালে ‘ফরেন এজেন্টস’ সিরিজের আন্ডারে সেমিওটেক্সট পাবলিকেশন এইটা ইংলিশে ট্রান্সলেট কইরা ছাপানোর প্ল্যান করে, কিন্তু ১৯৮৪-তে ফুকো মারা যাওয়ার কারণে একটু লেইট কইরা ১৯৮৭ সালে একটা বই ছাপানো হয়; ‘ফরগেট ফুকো/ফরগেট বদ্রিয়াঁ নামে। বইয়ের একদিক দিয়া বদ্রিয়াঁ’র লেখা আরেকদিক দিয়া  কয়েকটা পার্টে বদ্রিয়াঁ’র একটা বড়সড় ইন্টারভিউ, ৫টা পার্টে। এই ইন্টারভিউ’টা অইগুলার একটা পার্ট।  (আরেকটা পার্ট এইখানে পড়তে পারেন।)

ফরাসি ফিলোসফারদের মধ্যে উনারে নিয়া মাতামাতি’টা একটু কম, একাডেমিক জায়গাগুলাতেও। এর একটা কারণ মেবি উনার থিওরি’র পলিটিক্যাল আসপেক্টটারে আর্টিকুলেট করাটা ঝামেলার, আমাদের দেখাদেখির যেই নজর’টা আছে সেইটারেই বাতিল কইরা দিতে হয়, এই কারণে উনারে মিডিয়া-থিওরিস্ট হিসাবে পরিচয় করানোটা নিয়ম। কিন্তু আমি দেখি যে, উনার খুবই রেডিক্যাল একটা পলিটিক্যাল পজিশন আছে; (আমি যদ্দূর বুঝতে পারছি) উনি বলতেছেন যে, একটা ‘রিয়ালিটির’ জায়গা থিকা ঘটনাগুলারে দেখা যাবে না, দেখতে হবে একটা ‘সিডাকশনের’ বা ছল-চাতুরির জায়গা থিকা। এইটা ফুকোর ক্ষমতা-সম্পর্কের অল্টারনেটিভ কোন প্রপোজাল না, বরং অই গ্রাউন্ডটারেই বাতিল কইরা দেয়। যার ফলে, উনার চিন্তারে অনেক প্যারাডক্সিক্যাল লাগে। কারণ “কি আছে?” – এইটা উনার ফোকাস পয়েন্ট না, বরং “কিভাবে জিনিসগুলা চেইঞ্জ হইতেছে” তারে সেন্টার করতে বলেন। এই কারণে মনে হইতে পারে, বদ্রিয়াঁ যেন বলতেছেন, কিছু নাই, শূণ্যতাই আছে বা অন্য কোন রিয়ালিটি আছে, আর আমরা কিছু করতে পারি না, এই সেই… কিন্তু আমার কাছে উনার পজিশন এইরকম ‘নিহিলিস্ট’ কোন কিছু বইলা মনেহয় না। বরং আমি দেখি যে, উনার থিওরি’রে পলিটিক্যাল স্পেইসে কেমনে ডিল করবো আমরা, সেই আলাপ’টা করা হয় নাই। 

বদ্রিয়াঁ’র বয়ান’টা এইরকম না যে, হিস্ট্রি বইলা কিছু নাই, বরং একটা সিস্টেম যখন এক্টিভ থাকে এইরকম ফুলফিলিং একটা জায়গাতে অপারেট করতে থাকে যে, যেন এর বাইরে আর কিছু নাই! আমার ফেভারিট এক্সাম্পল হইতেছে, আল-কেমি আর কেমেস্ট্রি; হিস্ট্রিক্যালি আল-কেমি থিকাই কেমেস্ট্রি আসছে, কিন্তু যখন কেমেস্ট্রির বেইজটা শুরু হইছে, আল-কেমির জায়গাগুলা পুরাপুরি ইনভ্যালিড হয়া গেছে। রেফারেন্স পয়েন্টগুলা এইভাবে একটা এবসুলেট এবং একটা সময় পরে গিয়া অবসুলেটও হয়া উঠে। এইরকম ক্ষমতা-সম্পর্কের জায়গাগুলা, রেফারেন্স পয়েন্টগুলা, দেখার, বুঝার ও জানার নজরগুলা যখন চেইঞ্জ হয়, আমাদের কাছে মনেহয় হঠাৎ-কইরা-ঘটা একটা ঘটনা, একটা গজব, আন-রিয়েল একটা এক্সপ্লোরেশন এবং এক্সপেক্ট করি যে, একটা ‘স্থিরতা’র জায়গাটাতে গিয়া সেটেল হবো আমরা, আবার। তো, পলিটিক্যালি এই ন্যারেটিভটা ঝামেলার। বদ্রিয়াঁ’র কথা যদি শুনেন, উনার কথা যদি মানেন, এইরকম জায়গা থিকা দেখলে হবে না, বস! দিস থিঙ্কস আর ডেড!

তো, বদ্রিয়াঁ’র এই ইন্টারভিউ’টা উনার চিন্তা-ভাবনার একটা ইন্ট্রো হিসাবে পড়তে পারেন। উনার চিন্তা এন্টারটেইনিং না হইলেও, ইন্টারেস্টিং।

ই. হা.   

…………………………………….

 

সিলভা লট্রিঞ্জার: ‘শেষ’ থেকে শুরু করা যাক, কিংবা আরও ভাল করে বললে, ‘শেষগুলা’ থেকে। প্রোডাকশনের ইন্তেকাল, ইতিহাসের ইন্তেকাল, পলিটিকালের ইন্তেকাল। আপনার এনালাইসিস শুরু হয় এইরকম বহুকিছুর শেষ হয়ে যাওয়া, নাই হয়ে যাওয়া দিয়া। তাহলে কি আমাদের ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশনকে মোমের জাদুঘরে উঠায়ে রাখার সময় আসছে? এখন কি সবকিছুই তাহলে বিক্রি হওয়ার জন্য?

জ্য বদ্রিয়া: আমি জানি না, এই প্রশ্নটা আসলে ‘শেষ’ হওয়ার প্রশ্ন কিনা। এই শব্দ এখন যেকোন কেসেই মিনিংলেস, কারণ আমরা কোনভাবেই শিওর না লিনিয়ারিটি বলে কিছু আছে কিনা। যদিও কথাটা অনেকখানি সায়েন্স ফিকশনের মতো শোনাবে, তাও আমি বরং ইলিয়াস কানেট্টির (Elias Canetti) দ্য হিউম্যান প্রভিন্স বইয়ের একটা কোটেশন দিয়া শুরু করি। খুব রিসেন্ট একটা বই। তিনি বলতেছেন- তার কাছে এমন একটা মুহূর্তের কথা কল্পনা করবার আইডিয়া খুব পেইনফুল লাগে, যেখান থেকে শুরু করা খুব সম্ভব, যেই মুহূর্তে হিউম্যান রেস, ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেল। এমনকি উধাও হওয়ার ফলে যে চেইঞ্জটা ঘটল, তার ব্যাপারে আমরা পুরাপুরি আনকনশাস, এবং আমরা হুট করে এক সময়ে রিয়ালিটি ছেড়ে যাত্রা শুরু করলাম। এখন যেইটা করতে হবে, কানেট্টি বলতেছেন, আমাদের সেই ক্রিটিকাল পয়েন্টটা খুঁজে বাইর করতে হবে, সময়ের সেই ব্লাইন্ড স্পটটা খুঁজতে হবে। তা না হলে, আমরা নিজেদের ধ্বংস করার এই জার্নিগুলোর ভিতরেই থাকব। আমার এই হাইপোথিসিসটা খুব পছন্দ হইছিল, কারণ কানেট্টি কোন ‘শেষ’ এর চিন্তা করতেছেন না, বরং আমি বলব তিনি এক ধরণের সর্বোচ্চ অর্থে ‌’নির্বাণ’ এর কথা চিন্তা করছেন। এমন একটা প্যাসেজে তিনি একই সময়ে একই সাথে আকার ও নিরাকার থাকার কথা ভাবছেন।

লট্রিঞ্জার: ইতিহাস এর ভিতরকার শূন্যতা টাইনা নিয়া চলে। কিন্তু কোথাও যেন এর স্পিরিট কেড়ে নেয়া হইছে।

বদ্রিয়া: ইতিহাসের আসলে ইন্তেকাল ঘটে নাই। ইতিহাস বরং সিমুলেশনের মধ্যে আছে। অনেকটা সবসময় কোমায় থাকা একটা দেহের মতন। এই কোমা থেকে বাইর হওয়া যায় না। এবং এই কোমার ভিতরে বডি আগের মতই ফাংশন করতেছে, সব ঠিক আছে, এবং মাঝে মাঝে তা ‘ইতিহাসের’ মতো সবকিছু জড়োও করতেছে। এবং তারপরেই খুব সন্দেহ জাগে, সবকিছু হয়তো আর রিয়েল (Real) না অথবা সত্য না। এবং তখন কিন্তু কোনোভাবে আমরা এই সত্যিটা ডিসাইড করবার মতো পজিশনে থাকব না। 

লট্রিঞ্জার: আপনি যে ‌‌’শেষ’ নিয়া কথা বলতেছেন তা সম্ভবত সমস্ত ‘শেষ’-এর ‘শেষ’ হইয়া উঠবে। এবং সবকিছু মিলে কোন ‘শেষ’ এর রিসার্জেন্সের সম্ভাবনারে আরও নষ্ট করবে, শেষ কইরা দিবে।

বদ্রিয়া: দেখেন, গড ইজ ডেড কিংবা হিস্টোরি ইজ ডেড কথাতে কিন্তু কোন ‘ইন্তেকাল’ অর্থে শেষ বোঝায় না। আমি কোন হতাশ কিংবা পুরাপুরি ইউজলেস কিসিমের নবীর রোল প্লে করতে চাই না। এই ঘটনা কোন ট্র্যাজিক কিংবা ইমোশনালি চার্জড ঘটনা না যেইটার জন্যে আপনি শোক করতে পারবেন, ভাববেন এইটা এড়ানোর জন্য যদি কিছু করা যাইতো। যা ঘটছে- হঠাৎ করে রাস্তায় একটা কার্ভ তৈরি হইছে, একটা মোড় তৈরি হইছে। কোথাও রিয়েল দৃশ্যটা হারায়ে গেছে, সেই দৃশ্যটার জন্য হয়তো আপনার কাছে গেইমটা খেলার রুলসগুলা থাকত কিংবা কোন সলিড কিছু যার উপর সবাই নির্ভর করতে পারত। এখন আর সেইটা নাই।


Continue reading

পলিটিক্যাল আলাপ (১): সমাজ-সংগঠন কেন জরুরি?

মেহরাব ইফতি দুনিয়াতে একমাত্র লোক না হইলেও মোটামুটি দুয়েকজন লোকের মধ্যে একজন যে মনে করে যে, কবিতা লেখার বাইরেও পলিটিক্স নিয়া কিছু চিন্তা আমার আছে, বা আমি করতে পারি। তো, যখনই অর লগে দেখা হয়, পলিটিক্যাল আলাপ শুরু করে আমার লগে।

ও তো ইন্ডিয়াতে পড়াশোনা করে, ওয়েস্ট বেঙ্গলে; তো, অইখানকার সিচুয়েশন নিয়া সে খুব চিন্তিত; যে ওয়েস্ট বেঙ্গলে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে কি হবে তাইলে? ও শুরু করলো, জিজেকের আলাপের রেফারেন্স দিয়া, যে ট্রাম্প জিতার সময়ে জিজেক কইছিল হিলারি না জিইতা ট্রাম্প জিতলে আসলে ভালো কারণ লিবারাল সিস্টেমটা যে ফাংশন করতেছে না, সেইটা আরো স্পষ্টভাবে বুঝা যাবে, ভালো হবে সেইটা। কিন্তু ইন্ডিয়াতে, রাষ্ট্র-ব্যবস্থার যেই ৩টা ইম্পর্টেন্ট পিলার – আইন-আদালত, ইলেকশন কমিশন, আর ভার্সিটিগুলা ইন্ডিপিন্ডেড ছিল; এখন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে আইন-আদালত’রে কন্ট্রোল করা শুরু করছে, ভার্সিটিগুলাতে নিজেদের লোকজন ঢুকাইতেছে, ইলেকশন কমিশনরে দখল না করলেও ডর-ভয় দেখায়া ফেভারে কাজ করানোর চেষ্টা করতেছে। এখন ওয়েস্ট বেঙ্গলে যদিও জরিপগুলা বলতেছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না, কিন্তু পাবলিকের সাথে কথা বইলা মনে হইছে, চইলা আসবে আসলে। তখন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হবে না? মুসলমানদের পুশ-ব্যাক করবে না? বাংলাদেশেরও তো সাফার করা লাগবে? ওয়েস্ট বেঙ্গলে বিজেপি ক্ষমতায় আসাটা ভালো কেমনে হয়? জিজেক যেইরকম বলছেন। একটা এনার্কি কি এর সমাধান দিতে পারবে?

আমি কইলাম, জিজেক যেই বেইজ থিকা আলাপ’টা করতে চাইছেন, সেই বেইজটারে নিয়েন না। আমি বরং আরেকটা গ্রাউন্ড সাজেস্ট করি আপনারে। আপনি ইর্ম্পটেন্ট একটা ফ্যাক্টররে বাদ দিছেন; সেইটা হইতেছে, মিডিয়া। বিজেপি সবচে আগে মিডিয়া-কালচার, বলিউড… এইসব জায়গারে দখল করছে। উনাদের কেন্ডিডেট দেখবেন বেশিরভাগই সেলিব্রেটি, সিনেমার, সিরিজের নায়ক-নায়িকা, ক্রিকেটার, গায়ক-অভিনেতা, এই-সেই। তো, এইখানে, মিডিয়ার ফাংশন’টা কি? মিডিয়া হইতেছে, আমাদের সামনে পলিটিক্যাল রিয়ালিটি’টারে তৈরি করে, বা ডিসরটেড রিয়ালিটি’টারে বারবার প্রজেক্ট করতে থাকে। এইটা আরো স্ট্রং ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারে কারণ সমাজে কানেক্টিভিটির জায়গাগুলা মিসিং, মিডিয়া অই ভ্যাকুয়ামটারে একতরফাভাবে ম্যানিপুলেট করতে পারে। (ফেসবুকে, টু্ইটারেও মোদির ক্যাম্পেইন দেখবেন।…)

করতে পারে, আরো দুইটা কারণে। এক হইলো, আপনি যেই লিবারাল ইন্সটিটিউশনগুলার কথা কইতেছেন, অইগুলা সমাজের কমন পিপলদের পারপাস সার্ভ করতে পারে নাই, বা পারে না। ইভেন আমার মতো ‘শিক্ষিত’ মানুশও চাইবো যে কোন সিচুয়েশনে আইন-আদালত এড়ায়া চলতে, কারণ খামাখা উকিল ধরো, আদালতে যাও, মামলার ডেইট পড়বে, সিস্টেম-টিস্টেম কিছুই তো জানি না, এর চে ভালো ক্ষতি যদি বেশি না হয়, চাইবো আদালতের বাইরেই জিনিসগুলারে সেটেল কইরা ফেলতে। এইরকম অন্য লিবারাল ইন্সিটিটিউশনগুলার ব্যাপারেও বলা যায়, যতগুলা ক্রিমিনাল আছে সমাজে, মানুশের হক মাইরা খায় এরা তো সব ভার্সিটি পড়া লোকজনই। এইরকম। মানে, পাবলিক সচেতন না, লিবারাল ইন্সটিটিউটের বাইরে রেসিয়াল/সাম্প্রদায়িক শক্তিরে সার্পোট করতেছে – ব্যাপারটা এইরকম না, বরং লিবারাল ইন্সিটিটউটগুলা ফেইল মারছে বইলা এইখানে ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ স্ট্রং হয়া উঠতেছে।

মিডিয়ার একটা হোমোজিনিয়াস অডিয়েন্স দরকার। একই রকম জিনিস পছন্দ করবে, দেখবে, গসিপ করবে, রিসার্চ করবে, ইন্টারেস্টেড হবে। এই সহজ হোমোজিনিয়াস জায়গাটা হইতেছে – ধর্ম। যদি আপনি ‘৮০ দশকের লোক হন, তাইলে জানার কথা বাংলাদেশের অনেক জায়গায় ইন্ডিয়ান যে সরকারি চ্যানেল, ডিডি (দূরদর্শন) চ্যানেল দেখা যাইতো। অইখানে সবচে হিট সিরিয়াল ছিল – রামায়ণ ও মহাভারত। একটা ইউনিটি, একটা অডিয়েন্স আপনি সবসময়ই পাইবেন ধর্মবিশ্বাসীদের, যাদেরকে এনগেইজ রাখতে না পারলে মিডিয়ার বিজনেস হবে না আসলে। (এইটা একটা কারণ, যেইটা নিয়া পরে আবার কথা বলতেছি।)

কিন্তু এইখানে আমি কথা বলতে চাইতেছি সেকেন্ড কারণটা নিয়া। সেইটা হইতেছে, মিডিয়া এতো পাওয়ারফুল হয়া উঠলো কেমনে? টিভি’র কারণে, মোবাইলের কারণে, টেকনোলজি’র কারণে? এইগুলা তো আছেই, কিন্তু এইগুলাসহ বা এইগুলার বাইরে এইখানে একটা ভ্যাকুয়াম আছে, যেই জায়গাতে মিডিয়া খুব ভালোভাবে তার রোল’টা প্লে করতে পারতেছে। ভ্যাকুয়ামটা তৈরি হইছে কারণ মানুশে মানুশে যোগাযোগের যেই সমাজ-সংগঠন ছিল, সেইটা আর নাই; সেইটা আর কাজ করে না এখন। ৩০/৪০ বছর আগের কথাই চিন্তা করেন, ধরেন, পাশাপাশি দুইটা গ্রামের ঘটনা, এক গ্রামের একজন আরেক গ্রামে গিয়া একটা ক্রাইম করছে, ধরেন, চুরি-ডাকাতিই করছে, অই গ্রামের লোকজন কিন্তু তারে পিটানি দিলেও মাইরা ফেলতে পারবে না, কারণ জানে, গ্রামের একটা সমাজ আছে, সে যেই গ্রামের লোক সেইখানের লোকজনরে আগে ডাকাবে, তারপরে তার বিচার করবে; যদি না ডাইকা এইটা করে, গ্রামে-গ্রামে খুনাখুনি লাইগা যাবে; এইটা খালি অন্যায় আর বিচারের ঘটনা না, সে অই গ্রামের লোক, তাদের একটা রেসপন্সিবিলিটি আছে; কেউ যদি খারাপ কাজ করে, তার দোষ তাদের উপ্রেও পড়ে; যে সবাই এইটা খেয়াল করতে পারে নাই। দেখা যাবে, যেই গ্রামের লোক চুরি-ডাকাতি করছিল, তারাই অরে ধইরা শাস্তি দিবে, বিচার করবে। এখন, এই সমাজ-সংগঠন একবারেই নাই হয়া গেছে আমাদের সমাজে। একটা কৃষক-সমাজ, একটা ছাত্র-সমাজ, একটা পাড়া-মহল্লার সমাজও নাই।

একজন ছাত্রের পকেটে ইয়াবা ঢুকায়া পুলিশ থানায় ধইরা নিয়া গেলে এলাকার ছাত্ররা আসবে না তারে বাঁচাইতে। কারণ ধরেন, ডেমরা’তে, যাত্রাবাড়ি’তে ১০০ জনের কোন ছাত্র-সংগঠন নাই, যাদের কেউ একজনরে ধইরা নিয়া গেলে বাকি ৯৯ জন আগায়া আসবে। কোন পলিটিক্যাল মুভমেন্ট, আন্দোলন-সংগ্রাম, (বালের) বিপ্লব, রেভিউশন করার দরকার নাই; জাস্ট এইটুক করবে, সমাজের জায়গা থিকা সার্পোট দিবে, এইটা নাই! আর এইরকমের কোন কিছু যেহেতু নাই, একটা ‘ঐক্য’ তো আমাদের লাগবে, সেই ভ্যাকুয়ামটা মিডিয়া ফিলাপ করে, ‘আমরা হিন্দু’ ‘আমরা মুসলমান’ – এইসব প্রপাগান্ডা দিয়া।

এখন মানুশের মধ্যে, সমাজে যে ধর্ম-ভাব নাই – তা তো না, কিন্তু মিডিয়া যেইটা ইনসার্ট করে, সেইটা যতোটা সোশ্যাল ও রিলিজিয়াস কোন জিনিস, তার চাইতে অনেক বেশি বিজনেসের এবং পলিটিক্যালি ‘সাম্প্রদায়িক’ একটা ঘটনা। আর এইটা না হইলে, অই হোমোজিনিটির জায়গাটাতে বারবার এবং বেশি কইরা সাবস্ক্রাইবার তৈরি করাটা পসিবল না। মানে, মিডিয়া যেই ‘ঐক্য’টা তৈরি করে সেইটা সমাজ-সংগঠনের পারপাসটারে ফুলফিল করে না। অইটারে ইউজ করে বরং।…

তো, সমাজ-সংগঠনের যেই কাজ, সেইটা পলিটিক্যাল সংগঠন দিয়া হবে না। কালচারাল সংগঠন দিয়াও হবে না। সমাজে যদি সমাজ-সংগঠন না থাকে পলিটিক্যাল সংগঠনগুলাও ঠিকমতো ফাংশন করবে না। সমাজ-সংগঠন হইতেছে, পলিটিক্যাল সংগঠনের বেইজটার মতন অনেকটা।

খুলনার পাটকল আন্দোলন কেন সাকসেসফুল হয় নাই? বা যে কোন পলিটিক্যাল মুভমেন্টই কেন বাংলাদেশে সাকসেসফুল হইতে পারবে না, এই সমাজ-সংগঠনের জায়গা থিকা এইটা বুঝতে পারবেন। ধরেন, একটা বিল্ডিংয়ে আগুন লাগছে, এখন দুয়েক বালতি দিয়া পানি ঢাইলা আপনি কি সেই আগুন নিভাইতে পারবেন? বরং আগুনরে আরো তাতায়া দিবেন, সে আরো আগায়া আসবে এইদিকে। তো, সমাজ-সংগঠন ধরেন, বালু’র মতন অনেকটা, আপনি ছোটখাট বালুর ব্যারিকেড যদি দিতে পারেন আগুন’টা আটকায়া যাবে; আগুন’টা থাইমা যাবে না, অন্যদিকে গিয়া পুড়াবে। পলিটিক্যাল সংগঠন আপনার লাগবে (বিশাল হোসপাইপ দিয়া আগুনের মুখে পানি মারতে হবে),  কিন্তু সমাজ-সংগঠনের কোন জায়গা বা স্ট্রং বেইজ যদি না থাকে সেইটা পলিটিক্যাল মুভমেন্টগুলারে সাকসেসের দিকে নিয়া যাইতে পারবে না। সমাজ-সংগঠনগুলা না থাকলে সেই ফোর্সটা সারভাইব করতে পারবে না। Continue reading

ইতিহাস (১) : বিদ্যাসাগর বিচার

২০১২ সালের এই লেখাটা ৯ বছর পরে আবার আমরা ছাপাইতেছি এই কারণে না যে, এখন এই ধরণের আলাপ করাটারে ব্লাসফেমি মনে করা হয় না আর, বা বিদ্যাসাগর’রে অরিয়েন্টালিজম ও কলোনিয়ালিজমের জায়গা থিকা রিভিউ করার কিছু জিনিস শুরু হইছে (একটা বইয়ের লিংক), আর এই লেখাটা তার শুরু’র দিকের একটা লেখা; এই কারণেও না যে, যেইভাবে বিদ্যাসাগর’রে ‘ক্রিটিক’ করার রেওয়াজ চালু হইতেছে, সেইটা কম-ভয়ংকর বইলা ‘বেশি ভালো’ না; বরং যেই গ্রাউন্ডটা থিকা বিদ্যাসাগর’রে ক্রিটিক করার পাঁয়তারা চলতেছে, সেইটা আগের গ্রাউন্ডের চাইতে ডিফরেন্ট কিছু না। 

ব্যাপার’টা এইরকম না যে, বিদ্যাসাগর ইউরোপিয়ান এনলাইটমেন্টের সার্পোটার ছিলেন, ইংরেজ কলোনিয়ালিজমের সহযোগী ছিলেন; (এইগুলাসহ বা এইগুলার বাইরে) উনি ছিলেন ‘শাস্ত্রের দোহাই’ দিয়া চলা একজন লোক, আর এই ‘শাস্ত্র’ বা ‘বই’ বা ‘কিতাব’ সবসময়ই ক্ষমতাবানের পক্ষে জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে কাজ করছে। ‘শাস্ত্র’ বইলা ফিক্সড কোনকিছু ‘প্রাচীন ভারত’তে চালু ছিল না। রমিলা থাপারের বরাতে এই কথা এখন আমরা বুঝতে পারি। অথচ বিদ্যাসাগরেরা এই ‘শাস্ত্র’ বইলা, ‘আর্য’ বইলা একটা ইন্ডিয়ান রেসিজমরে ইউরোপিয়ান রেসিজমের লগে মিলাইছেন। এই কোর জায়গা’টা মিস কইরা গেলে, আমাদের কলোনিয়াল ক্রিটিক ঘুইরা-ফিরা অই পাওয়ারের পা-চাটা’র কাছেই ফেরত নিয়া যাবে।

এই কারণে, আমাদের মনে হইছে, ইতিহাসের নতুন বিচার যখন শুরু করতে রাজি হইতেছি আমরা, কেমনে আর কোন জায়গা থিকা করবো, সেইটা খেয়াল করতে পারাটা দরকার। আর যারা হিস্ট্রিরে নতুন কইরা পড়তে, দেখতে রাজি আছেন, তাদেরকে হেল্প করতে পারবে, এই লেখাটা। তো, পড়েন!

ই.হা.

……………………………………..

ওয়াকিবহাল বাংলাভাষীর কাছে বিদ্যাসাগর শ্রদ্ধেয়। এই শ্রদ্ধার তিনটা দিক পরিষ্কারভাবে বলা যায়: বাংলাভাষী মানুষের শিক্ষা,বাংলা ভাষা এবং সমাজ সংস্কার।  ভারতবর্ষের নারীর জন্য কাজ করা সমাজ সংস্কারের মধ্যেই পড়ে। এছাড়া ওনার মাতৃভক্তি এবং দান-খয়রাত এখনো উদাহরণ হইয়া আছে। মাতৃভক্তি এবং দান-খয়রাত আমার আগ্রহ এবং আলোচনার মধ্যে নাই। আমি শুরুর তিনটা ক্ষেত্র নিয়া বিচার শুরু করলাম।

সত্যজিৎ রায়ের ‘হিরক রাজার দেশে’ সিনেমায় ছিলো মনে হয়— ‘যত বেশি জানে, তত কম মানে।’ বা ‘জানার কোন শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই।’ ইত্যাদি। প্রজাদের শিক্ষার বিপক্ষে ছিলেন হিরক রাজা। এই সিনেমা জনপ্রিয়, সিনেমার মরালটাও। মরালটা হইলো, শাসিতের শিক্ষার বিপক্ষে থাকে শাসক। বাংলাভাষীদের মধ্যে এইটা ডমিন্যান্ট ভাবনা। ডমিন্যান্ট হোক বা না হোক, এই ভাবনার ভিতর থাইকা ‘বাংলাভাষীর শিক্ষায় বিদ্যাসাগরের অবদান’ বিচার করলে গলদের মধ্যে পড়তে হয়। দেখতে পাই, এই গলদের মধ্যে পইড়া থাকছেন অনেকেই। যেমন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাথার বদলে রবীন্দ্রনাথ দিয়া চিন্তা করার লোকের অভাব নাই বাংলায়; অধিকন্তু, মাঝে মাঝে নিজ নিজ মাথা ব্যবহার করেন বা রবীন্দ্র সমালোচকরাও রবীন্দ্রনাথের বিদ্যাসাগর মূল্যায়নটা গ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ কইলেন,

তখন সংস্কৃতকলেজে কেবল ব্রাহ্মণেরই প্রবেশ ছিল, সেখানে শূদ্রেরা সংস্কৃত পড়িতে পাইত না। বিদ্যাসাগর সকল বাধা অতিক্রম করিয়া শূদ্রদিগকে সংস্কৃতকলেজে বিদ্যাশিক্ষার অধিকার দান করেন।

–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্যাসাগরচরিত

তো, বিদ্যাসাগরের সামনে কী কী বাধা আছিলো? আসলে কোন বাধাই আছিলো না। বরং তিনি নিজেই শূদ্রের শিক্ষার বাধা ছিলেন! এইখানেই শাসিতের শিক্ষায় শাসকের অবস্থানের প্রসঙ্গ।  শাসক ইংরেজ শাসিত ভারতীয়দের শিক্ষার বিপক্ষে তো ছিলোই না, বরং শাসিত ভারতীয়দের শিক্ষায় বিশেষ আগ্রহী ছিলো। (আগ্রহের কারণ ছিলো; এই শিক্ষিতরাই তো ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় এবং পরে ভারতে ইংরেজ শাসনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিপন্ন করতে থাকেন।)

বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। এছাড়াও তিনি শাসক ইংরেজের শিক্ষা প্রকল্পে দীর্ঘদিন দক্ষিণ বাংলার স্কুলের সহকারী পরিদর্শক হিসাবে চাকরি করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের কর্ম ঐ চাকরির দায়িত্ব পালন মাত্র।  এবং উভয় ক্ষেত্রেই তিনি ভারতীয়দের শিক্ষার ব্যাপ্তিকে ছোট রাখার পরামর্শ দেন সরকারকে।

ফলে ওইটা রবীন্দ্রনাথের মিথ্যাচার; ঘটনা আসলে উল্টা—বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজে শূদ্র ভর্তি করার বিরোধিতা করেন। শিক্ষা কাউন্সিলের সেক্রেটারি সংস্কৃত কলেজে ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য’র বাইরে অন্যান্য কাস্টকে (মুসলমান নাই এর মধ্যে) ভর্তি করার ব্যাপারে প্রিন্সিপাল বিদ্যাসাগরের মতামত জানতে চাইছিলেন। বিদ্যাসাগর তার জবাব দেন ১৮৫১ সালের ২৮ মার্চ। চিঠিতে বিদ্যাসাগর বেদ, উপনিষদ, মনুসংহিতার শ্লোক বিশ্লেষণ কইরা বিভিন্ন কাস্টের শিক্ষা সম্পর্কে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা দেখান। বিদ্যাসাগর দেখান অন্যান্য কাস্টের শিক্ষার ব্যাপারে মনু’র সরাসরি নিষেধ নাই। কিছু ক্ষেত্রে নিষেধ থাকলেও সেগুলি শূদ্রের জন্য, কায়স্থ’র ব্যাপারে পুরোপুরি খাটে না। যদিও মনু কায়স্থকেও শূদ্র বলছেন, কিন্তু বর্তমানে কায়স্থরা কোলকাতার উচ্চশ্রেণীর বিভিন্ন দায়িত্বশীল কাজ করছে, কেবল তাই না, বিভিন্ন ধর্মীয় সমাজের প্রধানও কায়স্থরা। বিদ্যাসাগর তাই কায়স্থ ছাত্র ভর্তির ব্যাপারে মত দেন। কিন্তু শূদ্র ছাত্র ভর্তির বিরোধিতা করেন। শূদ্রের ব্যাপারে বিদ্যাসাগর বলেন—

‘The reason why I recommend the exclusion  of the other orders of Shudras at present, is that they as a body, are wanting in respectability and stand lower in the scale of social considerations’, their admission, therefore, would I fear, prejudice the interests of the institution.’ (ঈশ্বরচন্দ্র  বিদ্যাসাগর, বিদ্যাসাগর রচনাবলী-২, প্রথম প্রকাশ, কোলকাতা, সাহিত্যম্, এপ্রিল ২০০৬, পৃ. ১৪১৩ )

দেখা গেল, বিদ্যাসাগর আসলে শূদ্র ছাত্র ভর্তি করা হইলে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষূণ্ন হবে বলে ভয় পাইতেছেন। উপরন্তু আলাপটা আদৌ বিদ্যাসাগর তোলেন নাই, তাঁর কাছে মতামত চাওয়া হলে তিনি বরং শূদ্র ভর্তির বিরুদ্ধে মত দেন।

এদিকে, প্রশ্নটার সমাধান বিদ্যাসাগর করছেন শাস্ত্রের মাধ্যমে। দেখা যাইতেছে, শাস্ত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তিনি শূদ্র ছাত্র ভর্তির বিরোধিতা করছেন, তাইলে শাস্ত্রে অব্রাহ্মণের শিক্ষা পুরাই নিষিদ্ধ থাকলে বিদ্যাসাগর কী মত দিতেন? জানি না বটে। কিন্তু আরো একটা গুরু প্রশ্ন আছে এই জায়গায়। বিদ্যাসাগর আগাগোড়াই এই রকম শাস্ত্রগত আছিলেন, কেন? এইটার বিষয়ে কিছু কথা আছে। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের আগে থেকেই ইংরেজ শাসনের মূলনীতির একটা– ভারতের ধর্মীয় নেতাদের সাথে আপোষে চলা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নীতি ছিলো– ধর্মীয় হস্তক্ষেপ না করাই ভারতের ক্ষমতায় টিকে থাকার উপায়; ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ছড়াইয়া পড়ার অনেক কারণের মধ্যে একটা ছিলো ইসলাম ও হিন্দু ধর্মে ইংরেজের নাক গলাবার কিছু গুজব। সতর্ক থাকার জন্য ইংরেজরা ভারতের ধর্ম বোঝার চেষ্টা করতো, ফার্সি, সংস্কৃত, বাংলা ভাষা শিখতো। এর বাইরে গুরুতর বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য ভারতীয় মিত্রদের পরামর্শ নিতো; হিন্দুধর্মের ব্যাপারে বিদ্যাসাগর আগাগোড়াই সবচে বিশ্বস্ত ভারতীয় মিত্র আছিলেন।

বিশ্বস্ততার ভালো প্রমাণ আছে আরেকটা ঘটনায়। এ প্রসঙ্গে ভারতীয়দের শিক্ষার ব্যাপারে ইংরেজ সরকারের আগ্রহ ও প্রণোদনার খোঁজও পাওয়া যাবে।  ঘটনা ১৮৬৫ সালের, ফিমেল নর্মাল স্কুল সম্পর্কে গঠিত কমিটি থেকে বিদ্যাসাগরের পদত্যাগ করার ঘটনা এটি। বিদ্যাসাগর পদত্যাগ পত্র দেন কেশবচন্দ্র সেন, এম. এম. ঘোষ এবং দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর বরাবর। ফিমেল নর্মাল স্কুল মানে ভারতীয় নারী শিক্ষকদের ট্রেনিং স্কুল। এর আগে বেথুন স্কুলের সাথে নারী শিক্ষকদের জন্য এমন একটা ট্রেনিং স্কুল করার প্রস্তাব দেয় ইংরেজ সরকার বেথুন স্কুল কমিটির কাছে। বিদ্যাসাগর তখন এই কমিটির অনারারি সেক্রেটারি। সরকারী এই প্রস্তাবের জবাবে ১৮৬৩ সালের ১৩ জুন কমিটির পক্ষে বিদ্যাসাগর বেঙ্গল সরকারের জুনিয়র সেক্রেটারিকে চিঠি লেখেন। চিঠিতে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। চিঠিতে লেখা হয়—

‘…the formation of such a class is scarcely practicable. In order to get admission into respectable families as teachers, it is necessary that the female Teachers should be respectable by birth as well as character. But unfortunately there is little or no chance of securing such females to enter the proposed Normal class.’ (ঈশ্বরচন্দ্র  বিদ্যাসাগর, বিদ্যাসাগর রচনাবলী-২, প্রথম প্রকাশ, কোলকাতা, সাহিত্যম্, এপ্রিল ২০০৬, পৃ. ১৪৪৩ )

এইটা কমিটির মত; বিদ্যাসাগরের মত কী– আমরা এখনো জানি না। চিঠির বক্তব্য দাঁড়াইয়া আছে বর্ণহিন্দুত্বের (respectable) উপর। শিক্ষা যে বর্ণহিন্দুদের বাইরের বিষয় হইতে পারে—সেই সম্ভাবনা হিসাবে রাখলে এই চিঠি লেখা যায় না। ইংরেজরা নিশ্চই সবচে অগ্রসর এবং প্রগতিশীল নেটিভদের এই দশা নিয়া হাসাহাসি করছিলো!  কমিটির সদস্য হিসাবে এই মত ওউন করতে বিদ্যাসাগরের সমস্যা হয় নাই। তিনি পদত্যাগ করেন নাই তখন। Continue reading

দুনিয়া বদলাইতে যাওয়ার মত পাগলামি যারা করে, শেষমেষ তারাই তা কইরা দেখায় – স্টিভ জবস

১৯৮৫ সালে স্টিভ জবসরে অ্যাপল থিকা ফায়ার করার পর প্রায় ১২ বছর নানান মিসম্যানেজমেন্টের মধ্য দিয়া যায় কোম্পানিটা। পরে ১৯৯৭ তে তারে আবার হায়ার করা হয়। তারপর স্টিভ টানা কয়েক সপ্তাহ ধইরা কোম্পানিটারে আবার ট্র‍্যাকে ফেরানোর জন্য বিভিন্ন আইডিয়া ডেভেলপ করতে থাকেন। কিভাবে অ্যাপলরে আবার গ্রেট বানানো যাইতে পারে সেইটা নিয়া আর অ্যাডভার্টাইজিংয়ের আইডিয়াগুলা নিয়াই স্টিভ জবসের এই স্পিচটা। স্পিচটা দেয়া হয় ইউএসএ’র ক্যালিফোর্নিয়ায়, ১৯৯৭ সালেরই ঘটনা।

 

গুড মনিং! আচ্ছা, আমরা রাত তিনটা পর্যন্ত কাজ করতেছিলাম এই অ্যাডভারটাইজিং এর কাজটা শেষ করার জন্য, আর কয়েক মিনিট পরে আপনাদেরকে এইটা দেখাবো। আট-দশ সপ্তাহ আগে আমি ফিরছি আর আমরা সত্যি সত্যি অনেক মেহনত করতেছি। আর আমরা যেইটা করতে চাইতেছিলাম সেইটা খুব গাল-ভরা জিনিস না। আমরা চাইতেছিলাম বেসিকে ফেরত যাইতে।

আমরা চাইতেছিলাম গ্রেট প্রডাক্টগুলার আর ভালো মার্কেটিং ও ডিস্ট্রিবিউশনের বেসিকে ফিরা যাইতে, আমার মনে হয় অ্যাপেল নিজেও অনেক দিক দিয়াই গ্রেট, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বেসিকগুলা থিকা বেশ দূরে সইরা গেছে।  তো আমরা প্রডাক্ট লাইন দিয়াই শুরু করলাম। আমরা বেশকিছু বছর ধইরা চলতে থাকা রোডম্যাপটার দিকে একটু নজর দিলাম। তো আমরা দেখলাম এর অনেককিছুই ঠিক নাই আর দেখলাম এতে কাজ খুব বেশি অথচ ফোকাস একদমই নাই, তো আসলে আমরা গিয়া প্রডাক্ট রোডম্যাপের প্রায় ৭০ পার্সেন্ট জিনিসই বাতিল করলাম। মানে, আমি তো বালের প্রডাক্ট লাইনটার কিছু বুইঝাই উঠতে পারতেসিলাম না। তার কিছু সপ্তাহ পরে, আমি কেবল ভাবতেসিলাম এই মডেলটা কী আর এইটা ঠিক কেমনে ফিট করে। তো আমি কাস্টমারদের সাথে কথা বলা শুরু করলাম আর দেখলাম তারাও কিছু বুঝতেছে না। তো এখন আপনারা প্রোডাক্ট লাইনটা অনেক বেশি সহজ হইতে দেখবেন এবং আগের চাইতে অনেক ভালোও হইতে দেখবেন। এবং আরো কিছু নতুন জিনিস আসতেছে যা খুবই জোস। তার ওপর, আমরা বাকি ৩০% ভালো অংশের উপর বেশি ফোকাস করার সুযোগ পাইসি এবং এতে এমন নতুনকিছু জিনিস অ্যাড করতে পারতেছি যা আমাদের পুরাপুরি আলাদা পথে নিয়া যাবে। তো আমরা এই প্রডাক্টগুলার ব্যাপারে খুবই এক্সাইটেড। আর আমার মনে হয় এইবার আমরা কিরকম প্রডাক্ট বানাবো তা নিয়া আমরা বেশ ডিফরেন্টলি চিন্তা করতেছি। আর ইঞ্জিনিয়ারিং টিমও খুব এক্সাইটেড। মানে, আমি এমনসব লোকেদের সাথে মিটিং কইরা বের হইছি যারা নিজেদের প্রজেক্ট ক্যান্সেল কইরা ফেলছে, আর তারা এক্সাইটমেন্টের চোটে মাটি থিকা তিন ফিট উপরে উইঠা গেছিলো কারণ তারা ফাইনালি বুঝতে পারতেছিল আমরা ঠিক কোনদিকে যাইতেছি।

আর তারা স্ট্র‍্যাটেজির ব্যাপারে অনেক এক্সাইটেড ছিল। আমার মতে, একইভাবে আমরা ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যাপারে অতটা ইনোভেশনের পরিচয় দিতে পারি নাই। একটা উদাহরণ দেই, আমি শিওর এইটা নিয়া আজকে সকালেও কথা হইছে। কিন্তু, দেখেন, আমাদের প্রডাক্ট ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইনে দুই থেকে তিন মাসের স্টকের মত প্রডাক্ট রাখা আছে এবং প্রায় তার সমান পরিমাণে আছে ডিস্ট্রিবিউশনের পাইপলাইনে। ফলে কাস্টমারদের চাহিদার ব্যাপারে আমাদের পাঁচ-ছয়মাস আগে থিকা আন্দাজ করতে হইতেছে। এখন এতটা বুদ্ধিমান তো আমরা না, আইনস্টাইনের পক্ষেও এইটা সম্ভব না। তো আমরা যা করবো তা হইছে আমরা খুব সিম্পলভাবে কাজ করবো আর পাইপলাইনগুলা থিকা লিস্টের প্রডাক্টগুলা  সরাইয়া ফেলবো যাতে কাস্টমাররা নিজেরাই আমাদের বলতে পারে তারা কী চায় এবং আমরা যাতে খুব তাড়াতাড়ি সেই মতো রেসপন্ড করতে পারি।  এবং আপনারা আমাদের এখন থেকে এরকম অনেককিছুই করতে দেখবেন। আমরা সামনে আপনাদের সাথে যা করতে যাইতেছি আজকে তার কেবলই শুরুয়াত। তো আমার মতে, আগামী কিছু মাসের মধ্যে, ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যাপারে যারা একদম সেরাদেরও সেরা অবস্থানে আছে, আমরা কেবল তাদের টাচই করবো না, বরং আরো নতুনকিছুর জন্য গ্রাউন্ড ক্রিয়েট কইরা ফেলবো। কাজেই এইটা নিয়াও আমি খুব বেশি এক্সাইটেড, প্রডাকশন আর ডিস্ট্রিবিউশনের দিকটা আরকি। 

তো এইবার আসি মার্কেটিং এর দিকে। আমার কাছে মার্কেটিং এর আসল জিনিসটা হইছে একটা মূল বিশ্বাসের জায়গা ঠিক করা। এই দুনিয়াটা অনেক প্যাঁচাইন্যা, এই দুনিয়াটা অনেক কোলাহলে ভরা, এবং আমরা মানুষরে আমাদের ব্যাপারে খুব বেশিকিছু মনে রাখাইতে পারবো না। কোনো কোম্পানিই পারবে না। তো আমরা আমাদের ব্যাপারে ঠিক কী জানাইতে চাই সেই বিষয়ে আমাদের খুব ক্লিয়ার থাকা দরকার।

ভাগ্য ভালো যে, অ্যাপল আপাতত দুনিয়ার সেরা হাফ-ডজন ব্র‍্যান্ডের মধ্যে পড়ে। নাইকি, ডিজনি, কোক, সনি’র সাথে একদম উপরের দিকে। আমরা সেরাদেরও সেরার মধ্যে একটা ব্র‍্যান্ড, শুধু এই দেশেই না, বরং পুরা দুনিয়াতেই। কিন্তু একটা গ্রেট ব্র‍্যান্ডেরও তার প্রাণ আর রেলেভেন্স ধইরা রাখতে হইলে এনাফ ইনভেস্টমেন্ট আর কেয়ারিং এর দরকার হয়। আর গত কয়েকবছরে অ্যাপল ব্র‍্যান্ড এই ক্ষেত্রে খুব বেশি অযত্নের মধ্য দিয়া গেসে, আর এইটা আমাদের ফিরাইয়া আনতে হবে। স্পিড আর ফিডের গপ্পো বইলা এইটা করা যাবে না, এমআইপিএস আর মেগাহার্টজের কথা বইলাও না, আমরা কেন উইন্ডোজের চাইতে বেটার সেইটা বইলাও কাজ হবে না। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রি বিশ বছর ধইরা আপনারে বুঝানোর ট্রাই করতেছে যে দুধ আপনার জন্য ভালো। যদিও এডা একটা মিথ্যা, কিন্তু তারা তবু ট্রাই কইরা গেলো। আর সেলস তখন নিচের দিকেই যাইতেছিল, তারপর তারা ‘গট মিল্ক’ ট্রাই করলো আর সেলস উপরের দিকে যাওয়া শুরু করলো। ‘গট মিল্ক’ এমনকি কোনো প্রডাক্টও না, এইটা বরং প্রডাক্টের না-থাকার উপর ফোকাস করে। কিন্তু কিন্তু কিন্তু সবচাইতে সেরা এক্সাম্পল আর পুরা ইউনিভার্সের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্কেটিং এর কাজের দৃষ্টান্ত হইলো নাইকি। মনে রাখবেন, নাইকি একটা প্রডাক্ট বেচে। তারা জুতা বেচে। কিন্তু তবু যখন আপনি নাইকির কথা ভাববেন, তখন আপনার মনে কেবল একটা জুতার কম্পানির চাইতে বেশি কিছু ভাসবে। আপনারা জানেন, ওরা অদের অ্যাডে কখনোই প্রডাক্টের কথা বলে না। তারা কখনো বলে না তাদের অ্যারোসল কেন রিবকের চাইতে বেটার। তাইলে নাইকি তাদের অ্যাডভার্টাইজিং এ কী করে?  তারা গ্রেট স্পোর্টস আর গ্রেট স্পোর্টসম্যানদেরকে রেসপেক্ট করে।  এইটাই তাদের পরিচয়। এইটাই তাদের জিনিস।

অ্যাডভার্টাইজিং এর উপর অ্যাপল ভালোই খরচা করে। আপনারা তা টের পাবেন না। টের পানও না। তো আমি যখন আসলাম, আমরা এই এজেন্সিটারেই ছাটাই কইরা দিলাম।

আগামী চার বছরের জন্য আমাদের তেইশটা কোম্পানির মধ্যে থেকে একটা চুজ করা লাগবে, তো এইটা নিয়া আমরা বেশ স্ট্রাগল করতেছিলাম। কিন্তু আমরা এই চান্সটাও নষ্ট কইরা ফেলসি। তারপর আমরা হায়ার করলাম শায়াট/ডে (Chiat/Day), এই অ্যাড এজেন্সির সাথে কয়েক বছর আগেও কাজ করার মওকা আমার হইছিলো। আমরা কিছু অ্যাওয়ার্ড-উইনিং কাজ করছিলাম, যার মধ্যে একটা হইলো ১৯৮৪’র কমার্শিয়াল যা কিনা অ্যাডভার্টাইজিংয়ের লোকজন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অ্যাড হিসেবে বাছাই করছিলো, এবং আমরা আট সপ্তাহ আগে কাজ করা শুরু করলাম। আর আমাদের নিজেদের কাছে মূল যেই প্রশ্নটা ছিল তা হইলো, আমাদের কাস্টমাররা জানতে চায় অ্যাপল কে এবং তাদের মূলনীতিটা কী? Continue reading

“রসুন চাষের ঘটনাবলী” নভেলের একটা অংশ

 

প্লাস্টিকের দড়ি কিনে ঘরে ফিরতেছিল মকবুল। সে বুঝেনা নাম্পা জিনিস, এইটা হাত-মাপা না হইয়া ওজন-মাপা হওয়ার কারণ কি। কোন লেখার শুরুতে মধ্যবয়সী কেউ দড়ি কিইনা নিয়ে যাচ্ছে শুইনা আপনেরা ভাবতেছেন সুইসাইডের দিকেই যাবে কাহিনী। আদতে না। মকবুল দড়ি কিনছে ব্যাসিক্যালি বউয়ের সাথে সম্পর্ক স্ট্রং কইরা বান্ধার জন্য। এইটা কেমন কথা! আসলে মকবুলের বউ পুকুর ঘাট নিয়া ঝামেলা করতেছিল তার সাথে, স’মিল থিকা কিছু কাঠের টুকরা আনছে সে, খেজুর গাছের টুকরা একটা আছিল ঘরের পিছে পইড়া, এখন বাইন্ধা দিলে বউয়ের চিল্লাচিল্লি যদি একটু কমে। মকবুলের বউ হইল আবিয়ার মা, আবিয়া মকবুলের মেয়ে। আবিয়ার মার মেনোপজ কাছাইছে, আর মকবুলের মেয়ের কয়দিন আগেই পিরিয়ড শুরু হইছে। মকবুলের বউ নারিকেল কোড়াইতেছিল, মেয়ে আইসা কয়, আম্মা আমি বড় হইছি। বউ বুঝেনা। বলে আরো বড় হও মামনি। পরে খুইলা বলল। আবিয়ার মা শুইনা ঠাস কইরা একটা থাপ্পর মারলো মেয়েরে। এত তাড়াতাড়ি বড় হইলি ক্যান? দূর হ সামনে থেইকা!

দেব হিন্দু। পেশায় নাপিত। দেব হিন্দু হইলেও কাটা। মানে খতনা করানো হইছিল। দেব হওয়ার কয়েকবছর পরে দিন রাত কান্দে। প্রস্রাব করার পর বেশি কান্দে। পরে তারে বাজারের ইসমাইল ডাক্তারের কাছে নেয়া হইল। দেবের পিসি ঘোমটা টাইনা ডাক্তারকে বলে মুতার পরও হাটতে ফিরতে ফোটায় ফোটায় পেশাব পরে। দুধওয়ালী কুত্তার দুধ যেমন টপ টপ কইরা পরে অমন। খায় না, ঘুমায় না। ইসমাইল ডাক্তার স্টেথোস্কোপ দিয়া হার্ট দেখে ফুসফুস দেখে। চোখ দেখে। পেট চিপে দেখে। হা করাইয়া জিব্বা দেখে। পরে কৃমির ঔষধ আর মাল্টিভিটামিন লেইখা দেয় একটা। দেব কান্দা থামায় না। কৃমির ঔষধ খাওয়ার পরদিন লম্বা লম্বা সাদা কৃমি বাইর হয়। দেবের মা দেবের বাপকে ডাইকা দেখায়, বিছনা ঝাড়ার শলা থেইকা একটা শলা ভাইংগা নিয়া আসে, শলা দিয়া নাইড়া চাইড়া দেখায়। দেবের বাপ বলে আমার পোলারে এগুলা এতদিন চুইষা খাইছে। কিন্তু দেব কান্দা থামায় না। পরে আবার ইসমাইল ডাক্তার। উনি বলেন এই রবিবারের পরের রবিবার হাসপাতালের অপোজিটে বিল্লাল মল্লিক গলির পরের গলির মরিয়ম ভাতঘরের ডান পাশে যান। ওখানে গেলে দেবকে খতনা করাই দেয়া হয়। দেবের বাপকে লুংগি কিনে আনতে বলেন ওরা। লুংগি নিয়া আইসা দেখেন ব্যান্ডেজ করা।

দেবের বাপ নারিকেলের ব্যবসা করে। রহল্যাপুর থেইকা নারিকেল আনে। পরে হাটে বেচে। লোকজন নারিকেল কিনার পর বলে ছিলা দাও। দেবের বাপের কাছে ছোরতা টাইপের একটা লোহার জিনিস আছে, এক মিনিটের ভিতর ছিলা দেয়। সিজনে পাকা পেপে আর জাম্বুরাও বেচেন উনি। জিনিস দুইটা উনার কাছে ফানি লাগে। জাম্বুরা বলেন আর পেপে বলেন দুইটাই কমবেশি মেয়েলোকের মাইয়ের মত মনে হয়। উনার মনি সাহার কথা মনে পড়ে। মনি সাহা দেবের বাপের এফেয়ার। দেবের বাপ হিন্দু পাড়ার রাস্তা দিয়া ডেইলি হাইটা যাইতো। রাস্তা লালচে মাটির। মাটিটা বর্ষার সময়ও কাদা হইতো না। তবে পিছলা হইতো। রাস্তার দুপাশে চন্দন গাছ। পিছলা এক বৃষ্টিদিনে চন্দন গাছের মালিকানা কার জানতে দেবের বাপ হিন্দু বাড়িতে ঢুকে। হিন্দু বাড়ির ঘাটায় গোল পুকুরে স্নান করতেছিল সাহা। সাহার পেটিকোট বুকের উপরে বান্ধা, ভিজাটা পায়ের কাছে পড়ে আছে। এমন সময় বাপ গিয়া বলে নমস্কার দিদি। দিদির মাথায় গামছা প্যাচানো। দিদি গামছা খুলে হাতে নিয়া চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বলে চন্দন কাঠ আমাদিগের। পরে দরদাম হইলে বাপ বলে কিস্তি কইরা দিব, রাজি কিনা। সাহা বলে দিয়েন আরকি। কিস্তি দিতে আসতে আসতে সাহার সাথে ভাব হয়। আস্তে আস্তে এফেয়ার হয়। একদিন এফেয়ারজনিত কারণে দেবের বাপ ঘাটে গেলে সাহার বড় ছেলে রাজ ভৌমিক দেখে ফেলে।

মকবুল ডিপ্লোমা মেকানিক। ফ্রিজ টিভি ঠিক করে। বাজারে দোকান আছে: রনি এন্টারপ্রাইজ। রনি মকবুলের পোলা আছিল। ছোট থাকতে মারা গেছে৷ হওয়ার পর থেইকাই পেটে আমাশয়। বুকের দুধ যা খাইতো তা বাইর হইয়া যাইতো। পরে বাজারের কম্পাউন্ডার বলল বুকের দুধ দিয়েন না। পট খাওয়ান। পট মানে ল্যাকটোজেন দুধ পাউডার। দামি হইলেও খাওয়াতে হইতো। কিন্তু যে লাউ সে কদু। পেটের গন্ডগোল লাইগাই থাকলো। পেটে সমস্যার কারণে ভাত দেয়া হইতো না তারে। সে কাউরে ভাত খাইতে দেখলে লোল ফেলতো, হা করতো। কিন্তু দেয়া হইতোনা। খাইলেই তা বাইর হয়া যাবে ভাবতো ঘরের সবাই। পটের দুধ দেয়া হইতো, কিছুক্ষনের মধ্যে সব বাইর হইয়া যাইতো। আবিয়ার মা আবিয়ারে বিছনার নিচে ঢুইকা ভাত খাইতে বলতো যাতে বাচ্চা রনি না দেখে। একদিন খিচানি আইসা মারা গেল। বাচ্চারা মরার পর বেহেশত আর দোযখের মাঝখানে একটা কমন জায়গায় থাকার কথা। আবিয়ার মা ভাবে বাচ্চাটা মরার পিছনে সে দায়ী। সে বাপের বাড়ি গিয়া এক রাতে তাদের ঘরের লজিং মাস্টারের সাথে শুইছিল।

দেবের পিসি ঝিনুক। প্রাইমারি স্কুলের টিচার। লম্বা-টম্বায় পুরুষের মত, আচার-আচরণও । কিন্তু ভয়েস মিষ্টি আর চিকন। মুখে মেছতার দাগ আছে। বিয়ার বছরখানেক পর উনারে ফেলে রাইখা জামাই পালাইলো। বিয়ার পর থেইকাই পিসির জামাই শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। সবাই বলল জামাই পূবকূলে পালাইছে। এরপর উনি আর বিয়া-শাদি করেন নাই। বাপের বাড়িতে ভাইয়ের কাছেই রইয়া গেলেন। পড়ালেখা কিছু করলেন। পরে চাকরি হইল। সকালে স্কুলে গিয়া ছাত্রদের সমানে পিটান। ছাত্ররা ঝিনা আপার নাম শুনলেই ভয় পায়। দেব পিসির হাতেই বড় হয়। বছর কয়েক আগেও পিসির সাথেই রাতে ঘুমাইত। একদিন রাতে পেশাবের চাপে দেবের ঘুম ভেংগে যায়, পাশে দেখে পিসি নাই। সে বিছনা থেইকা নাইমা দরজার কাছে যায়। দরজা জাস্ট টাইনা দেওয়া, বাইরে দিয়ে লাগানো না। দরজা ঠেইলা বাইর হইলো দেব। বাইরে জোসনার আলো। উঠান পার হইয়া দূরে বাশ ঝাড়। ওইখানে পিসিরে আবছা দেখা যায়। দুইটা ধবধবে সাদা ছাগলরে টাইনা নিয়া জোস্নার আলোতে বাধলেন নাকি পিসি!

খুব বৃষ্টি। দেবের বাপ নারিকেল নিয়া নামলো বাস থেইকা। বাস থেইকা তারে এক হিসাবে ধাক্কা দিয়া নামাইলো। বাসের ছাদ থিকা নারিকেলের বস্তা ফেলছে জমিনে। কি একটা অবস্থা! অথচ সেদিনের কথা, তখন প্যাসেঞ্জার টাউনে যাব বললে বাসওয়ালাদের কত খুশি। তারা বলত গোসল সাইড়া জামা পইড়া আসেন ধীরে-সুস্থে, আমরা দাড়াবো। নামার পর আধা ভিজা হয়ে গেছেন উনি। ভোরে যাওয়ার সময় একফোটা মেঘ আছিল না। আর এখন আসমান ভাইংগা পড়ে। এখন উনার সবার আগে যেটা করতে হবে সেইটা হল ধুইতে যাইতে হবে। পেশাবখানায় ধুইতে যাইতে হবে। কিন্তু একটা জিনিস মাথায় ধরে না। বাসের লোকগুলার সবগুলার কপালে একটা কইরা চোখ কেন! সবগুলা যেন একেকটা দজ্জাল। সবার হাতে রুবি পাথরের আংটি। মুঠি ধরলে একেকটা হাতের খোপা যেন একেকটা বড় সাইজের কাতলা মাচের মাথার সমান হয়। সবার চুলের সিতা ডানপাশে। সবাই গোফের ঝাট খাড়া কইরা বলল মাদারচোদরে লাথি দিয়া নামা। কিন্তু এখন এসব ভাবার সময় নাই। তাড়াতাড়ি ধুইতে হবে। বাসের সিটে বসা ওই মহিলার পিঠে হাত দিতেই ধূতি ভিজা গেল। এরকম তো হয় না তার!

নাপিতের সব এংগেল থেইকাই দেখার দরকার পড়ে। এজন্যেই দেখবেন নাপিতের দোকানের চারপাশে আয়না। একটা আয়নার ভিতরে আরেকটা আয়নার কাহিনী দেখা যায়, ওইটার ভিতর আবার আরেকটা। শুরু বা শেষ নাই কোন। দোকানে কেউ একজন ঢুকলে লোকটা আসলে কোন দিক থেইকা আসলো আইডেন্টিফাই করা যায় না। আবার আয়নায় একই লোকরে অনেকগুলা দেখাইলেও সবার চেহারা একরকম হয় না। ব্যাসিক্যালি অপটিক্যাল রোটেশনের কারণেই এইটা হয়, ফিজিকস। ফিজিকস নিয়া বলতেছি বইলা ভাইবেন না মেটাফিজিকস আসবে। এটা দেবের দোকান। দেবীও আছে দেয়ালে। আর আছে ম্যারাডোনা। ম্যারাডোনার পায়ের কাছে ফুটবল, উনারে দুইজনে পা মারতেছে আর একজনে পিছন থেইকা জার্সি ধইরা রইছে। ছবির নিচে লেখা ওরা আমাকে এত মারে কেন! দেবের চুল কাটতে প্রবলেম হচ্ছে। দুই পাছার মাঝখানে চুলকায়। দুয়েকবার থুথু ফালানোর নাম কইরা দোকান থিকা বাইর হইয়া আংগুল ঢুকাইয়া কচলে দিয়া আসে। কাজ হয় না। দ্বিগুণ হইলো যেন। পাছার একদম মুখে এনাল স্ফিংটারের কাছে চুলকায়!

Continue reading

[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য