Main menu

অডাসিটি অব বাকুরাউ

বাকুরাউ হইল একটা সিভিল গ্রাম। সেই গ্রামে ইশকুল আছে, লাইব্রেরী আছে, ইন্টারনেট আছে, ছোট্ট একখানি মিউজিয়ামও আছে। মানুষ আছে ভালো-মন্দ মিলায়া। কিন্তু পানি নাই এক ফোটাও। পানি নিয়া গভীর পলিটিক্স আছে। পানি নিয়া আসতে হয় ট্রাকে ভইরা। কেন্দ্র হইতে বহু দূরে এই গ্রামীণ পৌর এলাকা চরম প্রাতিষ্ঠানিক কুটচালের শিকার। তথাপিও এর বাসিন্দারা নিজেদের মতন থাকতে পারে, থাকতে থাকে।

কিন্তু এই সর্বপ্রতিষ্ঠানবাদী রিয়েলিটিতে, বড় প্রতিষ্ঠান ছোট প্রতিষ্ঠানগুলিকে খেয়ে ফেলতে পারে। ছোট এই গ্রাম- দূরবর্তী লোকালয় তাই সহজেই নাই হইয়া যাইতে পারে। আমেরিকার গেমার মার্ডারারদের জন্য এহেন গ্রাম সহজ টার্গেট। এরা তাই প্রথমেই এই রোউগ গ্রামটিকে মুইছা দেয় গুগলের ম্যাপ হইতে। ব্যস হইয়া গেল! তারপর দূর থেইকা গুলি কইরা মারা। সেই মারায় এথিকসও আছে। বাচ্চাদের মারে না অরা। কেউ মারলে দুঃখ পায়, এইরকম।

কিন্তু এই গ্রামের আছে রেজিস্টেন্সের হিস্ট্রি, আছে পেশাদার খুনি রেসিডেন্স। সর্বশেষ কনফ্রন্টেশনে দেখা যায়, বাসিন্দারা একদম তুলাধোনা কইরা ফালায় এমেরিকানগুলিরে। প্রত্যেকটার কল্লা কাইটা গলার উপর বসায় রাখে ঘরের সিড়িতে। খালি পান্ডাটারে মাটির নিচের গারদে জ্যান্ত চালান কইরা দেয়। পান্ডাটা কল্লাগুলি দেখতে দেখতে ঢুকতে থাকে গারদে আর কয়, হাউ ক্রুয়েল!

প্রান্তের খুনাখুনিগুলি সব সময়ই ক্রুয়েল কলোনাইজড চোখে। আর কলোনাইজারদের খুনাখুনি এত এত এথিকাল সাইকোলজিকাল ওভারটোন দিয়া ঘিরা থাকে যে ওগুলি খুনই মনে হয় না!

ব্যাপারটা কখনোই এমন না যে প্রান্তের মানুষগুলি ভালো, আর কেন্দ্রেরগুলি খারাপ। মানে আমরা তো দেখিই বাকুরাউতে ভাড়াটে কিলারও আছে। সো ইস্যু সেইটা না। জেমস বল্ডউইন এমেরিকান কালোদের কথা কইতে গিয়া বলছিলেন যে, কালোদের মইধ্যে মিসোজিনিস্ট, মার্ডারার, রেপিস্টরা আছে। সমস্যা হইতেছে, যখন মার্ডারার ব্ল্যাক হয়, তখন যেন এইটা তার ব্ল্যাকনেসের সমস্যা হইয়া দাঁড়ায়, আ নিগ্রো প্রবলেম। মানে প্রান্তের খারাপগুলিই অরিজিনাল খারাপ, যেনবা খারাপের ডেফিনিশনটাই পয়দা হয় প্রান্ত হইতে। ফলে বাকুরাউয়ের লোকেরা যখন খুন করে তখন সেইটা ‘হাউ ক্রুয়েল’ হইতে পারে! কারণ অরা তো কল্লা কাটছে! আর হোয়াইট আমেরিকানদের খুন করার মইধ্যেও আছে পোয়েটিক ফিলোসফিক সায়েন্টিফিক এপ্রোচ! আইডিয়ার স্ফুরণ! কিলিং এজ আ গেইম, ফাংকি তো ব্যাপারটা! Continue reading

ইন্টারভিউ: অক্টাভিও পাজ

লাতিন আমেরিকান লেখক হইলেও পাজ নিজেরে সরাসরি রাজনীতির থেকে দূরে রাখতেন। নিজেরে পাবলো নেরুদাদের মতো স্টেটসম্যান টাইপের কবি মনে করতেন না। নিজেরে কইতেন প্রান্তে দাড়ায়ে থাকা একজন সোশ্যাল আর পলিটিক্যাল ক্রিটিক। এইটা খুব মজার যে, পলিটিক্সে একজন লেখক কেমনে জড়াবে সেটা নিয়া বলতে গিয়া পাজ এলিয়টের কথা তুলছিলেন। যদিও এলিয়টের বিশ্বাসের লগে তার তেমন মিল নাই। তবে পাজ তার নিজেরে সেই অর্থে রাজনীতির থেকে দূরে রাখতে পারেন নাই। ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে লড়তে হইছিল তারে। মেক্সিকান ছাত্র আন্দোলনে সরকারের জালিমের মতো আচরণ করলে,  প্রতিবাদে দূতাবাসের চাকরি ছাইড়া দিছিলেন। আমাদের এখানে রাজনীতি,সাহিত্য,মোরাল পজিশন, লেখকের অবস্থান- এই জিনিসগুলা খুব ক্লিয়ারভাবে আলোচিত হয় না। অনেকসময় এই ক্যাটাগরিগুলারে খুব রিজিডভাবে আলাদা কইরা ধইরা নেয়। পাজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে দেখলে, এটারে নতুনভাবে বিবেচনা করা যায়।

অভিজ্ঞতার কথা যখন কইতেছি , তখন এইটাও কইতে হয় যে- পাজের সাহিত্য বুঝতে হইলে তার অভিজ্ঞতার জায়গাটা বুঝা জরুরি।অভিজ্ঞতা ইটসেল্ফ একটা টুল। একজন লেখক কি লেখবে না লেখবে,কেমনে লেখবে- এইসব নির্ধারনে অভিজ্ঞতা একটা গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে। এমন এক সময়ে জন্মাইছিল পাজ, যখন তারে দুইটা বিশ্বযুদ্ধ আর স্পেনের গৃহযুদ্ধ দেখতে হইছে। তবে অন্যান্য অনেক ইউরোপীয় লেখকগো উপ্রে যুদ্ধের যে প্রভাব আছিল, সেটা পাজের ক্ষেত্রে ওইরকম ছিল না। তিনি কইছিলেন, ‘মানুষ একইলগে হিস্টরির বাইরে আর ভিতরেও।’  মানুষ হিস্টরির যেকোন পিরিয়ডেও বাইচ্যা থাকা, কাজ করা, প্রেম করা’র মতো নর্মাল কাজগুলা কইরা যায়। পাজের কথা থেকে এইখানে বুঝা যায় , হিস্টরি না, মানুষের লাইফই পাজের সাহিত্যে জরুরি বিষয়।

  পাজ দশ বছরেরও বেশি সময় দেশের বাইরে কাটায়ছিলেন। আম্রিকার ভ্রমণ তার কবিতার সামনে নয়া দুয়ার খুইল্যা দিছিল। আর ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞতার জোর কত বেশি আছিল, ওইটা ওর পরের দিকের বইগুলা পড়লেই বুঝা যাইবো।  কোন রাইটারের লেখা পড়া মানে ব্যক্তিমানুষ হিসেবে লেখকের অভিজ্ঞতার লগে একধরণের ডিল করাও। পাজের অভিজ্ঞতার একটা বড় জায়গা জুইড়া লাতিন দেশগুলা, ইউরোপ, আম্রিকা আর এশিয়ার অভিজ্ঞতা জায়গা কইরা নিছে। ওর সাহিত্যের সবজায়গায়ই এটার প্রমাণ আছে।

কবিতার ক্ষেত্রে খুব কৌশলীই আছিলেন পাজ। ফর্ম নিয়া কাজ করছেন, কাজ করছেন বড় কবিতা নিয়া। কবিতা নিয়াও বিস্তর লেখালেখি করছেন। তার কাজগুলার উপ্রে সুররিয়ালিজমের প্রভাব ছিল। প্রথম যখন কোন একটা এক্সিবিশনে সুররিয়ালিস্ট পেইন্টিং দেখছিলেন, ওইটারে রিয়েলিজম হিসেবেই নিছিলেন। পাজের মনে হইছে আসলে রিয়েলিটির ব্যাপারটাও তো অনেকটা এমন। লাতিন আমেরিকার অনেক লেখকগো ক্ষেত্রেই দেখছি রিয়েলিটিরে এমনে দেখতে পাওয়ার ব্যাপারটা।

কবিতা ছাড়াও অন্যান্য অনেক বই লেখছেন। মেক্সিকোর ইতিহাস আর এর  ট্র্যাডিশনের পুরনো শিকড়গুলা নিয়া পাজ সবসময় আগ্রহী ছিলেন। তবে নিজেরে শেষ পর্যন্ত একজন কবি হিসেবেই পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন। মনে করতেন, তার লেখা দুই তিনটা কবিতার জন্যই মানুষ তারে মনে রাখবেন। এও বলছেন, কবিতা ছাড়া কোন সোসাইটি টিইক্যা থাকতে পারে না। কারণ, কবিতা হইলো মানুষের লগে মানুষের সম্পর্কের ব্রিজ, একের লগে অপরের কম্যুনিকেশনের মাধ্যম।

তাসনিম রিফাত

যাত্রাবাড়ি    

………………………….

 

উচ্চতায় খাটো আর বয়স সত্তরের কাছাকাছি হইলেও, অক্তাভিও পাজের শার্প চোখ তার চেহারায় একটা জোয়ান মানুষের ছাপ দিছে। উনার পাণ্ডিত্যপূর্ণ,পলিটিক্যাল কবিতা আর গদ্যগুলাতে উইঠা আসছে মেক্সিকান ইতিহাস, বিশেষ কইরা ইন্ডিয়ান অতীতের মধ্য দিয়া এরে দেখার  ব্যাপারটা। একইসাথে ইরোটিক প্রেম দিয়া কেমনে মানুষের গভীর নিঃসঙ্গতাগুলারে ওভারকাম  করা যায়, সেইসব জিনিসও উইঠা আসছে পাজের সাহিত্যে। সিজার ভায়েহো আর পাবলো নেরুদার পাশাপাশি পাজরেও বিশ শতকের দক্ষিন আমেরিকার সেরা কয়েকজন কবির মধ্যে একজন হিসেবে ধরা হয়। এই ইন্টারভিউ নেওয়া হইছিল ১৯৯০ এর কলম্বাস দিবসে। এর তিনদিন পরেই পাজ নেরুদার লগে নোবেল লরিয়েটগো কাতারে নাম লেখান।

পাজ জন্মাইছিলেন ১৯১৪ সালে, মেক্সিকোতে। উনার বাপ ছিল উকিল, আর দাদা উপন্যাসিক। পাজের জুয়ান বয়সে কবি হইয়া উঠার পিছনে দুইজনেরই প্রভাব ছিল। পাজের বাপ ছিলেন মেক্সিকান বিপ্লবী এমিলিয়ানো জাপাতার (মেক্সিকান বিপ্লবী নেতা,দরিদ্র কৃষক জাপাতা ধনীগো জমি দখল নিয়া আন্দোলন কইরা জনপ্রিয় হইছিলেন)  উপদেষ্টা। বাপের কাছ থেকে তিনি সোসাইটির বিভিন্ন জিনিসের ভ্যালুগুলা নিয়া জানতে পারছিলেন আর উপন্যাসিক দাদার কাছ থেকে খোঁজ পাইছিলেন শব্দের দুনিয়ার। ছোট থাকার সময়ই পাজ তার দাদার বিশাল লাইব্রেরিতে ফ্রিলি ঘুইরা বেড়াইতে পারতেন। এর ভিতর দিয়াই তার সাথে স্পেনিশ আর লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের বিশাল জগতের মোলাকাত হইছিল। মেক্সিকো ইউনিভার্সিটিতে লিটারেচার পড়তে গেছিলেন উনি, তবে ডিগ্রি না নিয়াই ভার্সিটি ছাইড়া দেন।

স্পেনে যখন গৃহযুদ্ধ ছড়াইয়া পড়তেছিল, পাজ তখন রিপাবলিকানদের সাপোর্ট দেন।  ১৯৩৭ সালের দিকে উনি স্পেন ছাইড়া চইলা যান। মেক্সিকোতে ফিরার পরে উনি  টলার ( ওয়ার্কশপ) আর এল হিখো প্রডিগো (‘দ্যা চাইল্ড প্রডিজি) নামে দুইটা সাহিত্য সাময়িকী বাইর করেন, যেগুলারে কেন্দ্র কইরা সেসময় নয়া প্রজন্মের অনেক মেক্সিকান লেখক বাইড়া উঠছিলেন। ৪৫ সালে মেক্সিকান ডিপ্লোমেটিক সার্ভিসে ঢুকেন। এর আগে  ৪৩ সালে উনি গাগেনহেইম স্কলার্শিপের আন্ডারে আমেরিকা ঘুইরা আসেন। ৪৭ থেকে ৫১ সাল পর্যন্ত পাজ প্যারিসে ছিলেন। প্যারিসে থাকার সময় উনি সার্ত্রে, ব্রেতো, কাম্যুসহ অনেক বুদ্ধিজীবীর লগে দেখা করেন। একইসময় এদের লেখা পাজের সাহিত্যে বড় প্রভাব রাখছিল। ৫০ এর দশকের প্রথমদিকে পাজরে ডিপ্লেমেটিক কাজে জাপান আর ইন্ডিয়ায় যাইতে হইছিল। সেখানেই উনি বুদ্ধিস্ট আর তাওয়িস্ট ক্লাসিকের লগে পরিচিত হইছিলেন। উনার মতে , বুদ্ধিস্টরা যে  সেল্ফরে একটা ইল্যুশন, বোধ, চিন্তা আর ডিজায়ারের  একটা যোগফল হিসেবে দেখছে – দুই হাজারে বছর পার হইয়া গেলেও, এটা ওয়েস্টার্ন কবিতার জন্য জরুরি। ১৯৬৮ সালের অক্টোবরের মেক্সিকো সিটির ছাত্র আন্দোলনের উপরে সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে উনি ডিপ্লোমেসির জব ছাইড়া দেন।

১৯ বছর বয়সে পাজের প্রথম কবিতার বই ‘স্যাভেজ মুন’ বাইর হইছিল। এরপর মেক্সকোর জাতীয় চরিত্র নিয়া উনার সবচেয়ে প্রশংসিত বই ‘দ্যা ল্যাবিরিন্থ অফ সলিচ্যুড’ বাইর হয়। ১৯৫৭ সালে বাইর হয় বড় কবিতার বই ‘সান স্টোন’। জে এম কোহেন এই কবিতারে ‘পশ্চিমি দুনিয়ায়  ছাপা হওয়া শেষ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ কবিতার একটা’ কইছিলেন। এই কবিতার ৫৮৪ টা লাইন ভেনাস গ্রহের ৫৮৪ দিনের চক্ররে রিপ্রেজেন্ট করছে। পাজের অন্যান্য কাজের মধ্যে আছে ইগল অর সান? (১৯৬৭), অলটারনেটিং কারেন্ট (১৯৫৬), দ্যা বো এন্ড দ্যা লাইয়ার (১৯৫৬), ব্ল্যাংকো (১৯৬৭), দ্যা মাংকি গ্রামারিয়ান (১৯৭১), আ ড্রাফ্ট অফ শ্যাডোজ (১৮৭৫), এ ট্রি উইত্থিন (১৯৫৭।পাজ উনার বউ মারিও-হোসের সাথে মেক্সিকো সিটিতে থাকেন। উনার বউ একজন আর্টিস্ট। অক্টাভিউ পাজ কবিতার জন্য ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যান্ড পিক্স,জেরুজালেম প্রাইজ, সেরভার্ন্তেস প্রাইজসহ অনেক পুরষ্কার পাইছেন।    Continue reading

ফিকশন: যেই গল্পের নাম নাই (৪)

কিস্তি ১।। কিস্তি ২ ।। কিস্তি ৩ ।।


৫.০ সোহানার সানি লিওন সিনড্রোম

‘না পারলে তো হইবো না, পয়দা করো।’ বুইড়া রমজান খেইপা যান প্রডাকশন ম্যানেজার বোমকেশ বক্সী’র উপ্রে। ‘আরে ভাই, একটা সেট রেডি করতে দুইদিন লাগলে কেমনে? কলকাতা থিকা আপনারে আনছি বলিউডের লেভেলে যাওয়ার লাইগা; এখন এই এতগুলা আর্টিস্টরে আইনা আমি বসাইয়া রাখবো নাকি!’ এইরকম ঝাড়ি শুইনা বোম্বের বাঙালি অভিনেতা অমিত আর লাবণ্য দুইজনেই থতমত খায়া যান। সেটের মধ্যে এইরকম চিল্লা-পাল্লা করলে শ্যুটিংয়ের অ্যাম্বিয়েন্সটাই তো নষ্ট হয়া যাবে। তখন শেষের কবিতা বাদ দিয়া নষ্টনীড় না বানানো লাগে!

এইসব কিছু যে হবে না, এইটা রমজানও জানেন। কিন্তু মেজাজ কন্ট্রোল করতে পারেন না টাইমলি সবকিছু না হইলে। এই একটা দোষ উনার। এইদিকে আবার মরার উপর খাড়া ঘাঁ হইলো সোহানা। রাহাত খানের স্পেশাল রিকোয়েস্টে মেয়েটারে নিতে হইছে। পুরা একটা ফৃক। মাথার কোন ঠিক নাই। তারপরও এই মেয়েটাই একটু কাজের। চন্দ্রমুখীর মতোই একটু পাগলা। এইজন্য মায়া লাগে উনার। ক্যামেরার সামনে গেলে পুরা অন্যরকম। আর বাকিগুলা একটার চাইতে আরেকটা বড় বলদ। ডাইনে কইলে বামে যায় আর বাম কইলে যাইতেই থাকে; ঠিকমতো কাজই করতে জানে না, ক্রিয়েটিভিটি চুদাইতে আসছে। মনে করে অফ-ট্র্যাক একটাকিছু করতে পারলেই আর্ট হইছে আর কি। আরে ভাই, আর্ট এত শস্তা জিনিস নাকি! আবার সবগুলা হইতেছে ফকিন্নি’র পোলা, এখন এইগুলা তো মুখে বলাও যায় না। ঝাড়ি-টাড়ি দিয়া রমজান দেখেন যে, সোহানা বেতের চেয়ারে দুই পা তুইলা বইসা আছে, একটা কোণায়।

মেয়েটা সারাক্ষণ একলা একলাই বইসা থাকে। তেমন একটা কথা-বার্তা বলে না। অবশ্য কথা কইলে খুবই ফানি, সবাই কথা কইতে চায় ওর সাথে, কিন্তু মুড অফ থাকলে কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পায় না। কোন একটা সদমা পার হয়া আসছে হয়তো সে, রমজান ভাবেন। মানে কোন সদমা পার না হইলে মানুষ কি আর  মানুষ হইতে পারে!

রমজান জানেন যে, সোহানা টিভি নাটকে অভিনয় করতো। মাঝখানে কিছু ঝামেলা হইছিল এখন একটা ব্রেক কাটাইয়া আবার অভিনয়ে ফিরতে চাইতেছে। মাসুদ রানা আইনা দিয়া গেছে। এই ছেলেটারেও পছন্দ করেন তিনি। এই বয়সের ছেলেদের মধ্যে এইরকম ম্যাচুরিটি দেখা যায় না। সিনেমার লাইনে এইরকম ট্যালেন্টেড পুলাপাইন যে ক্যান আসে না!

সোহানারে একদিন উনি জিগাইলেন, সমস্যা’টা কি হইছিলো? সোহানাও যে খুব ক্লিয়ারলি বলতে পারছিলো সেইটা না। বা হয়তো বলাও যায় না আসলে পুরাটা। ভাষায় আসতে গিয়া কতকিছুই তো হারাইয়া যায়। মানে, আমরা তো নিজেদেরকে বলতে পারি না, ভাষাটা আইসা আমাদের মধ্যে দিয়া তার কথাটাই বইলা যায়।

সোহানাও বলতেছিল যে শে জানে না। শে বুঝতে পারতেছিলো না কি ঘটতেছে। এইটুক শে ফিল করতেছিলো যে শি কুডন্ট মেইক ইট। এই সেলিব্রেটি হওয়াটা। তারপরও জান-প্রাণ দিয়া ট্রাই কইরা যাইতেছিলো। শে ভাবছিলো যে, টিভি-ক্যামেরা’র সামনে যেমনে হাসতো শে মেক-আপ রুমে ফোরপ্লে করার সময়ও একইভাবে হাসতে হবে। কিন্তু চুন্নিলাল আঙ্কেল তারে কইলো যে, ‘সানি লিওনের মতো সাক করো! আমি গোসলের সাবান হইয়া তোমার সারা শরীরের গ্লানি মুইছা দিবো!’ শি ওয়াজ কমপ্লিটলি পাজলড – সাবানের রোমাণ্টিকতা কেন! আর তাইলে ক্যামেরার সামনে কেন শে ইনোসেন্টলি হাসবে সুচিত্রা সেনের মতো? ফেইসবুকের ওয়ালে একরকমের ডিসট্যান্ট আর ইনবক্সে আরেক রকমের ক্লোজ? যতই পাবলিক দূরত্ব বাড়বে, ততই গভীর হবে সেক্স? নাকি যতই পুরান হবে ততই মধু? সুচিত্রা সেনের মতো হাসতে পারলে সে সানি লিওন হিসাবে আরো ডিজায়ারেবল হইতে পারবে? ইজ সেক্স অ্যা টাইম ট্রাভেলিং অফ পাবলিক ইমেজেস অ্যান্ড ফ্যাণ্টাসিস? এইটা শে নিতেই পারতেছিলো না।

শ্যুটিংয়ের সময় একদিন শে সবার সামনে চুন্নিলালরে সে বইলা বসে, আংকেল, সানি লিওনের মতো পোজ দেই। আঙ্কেল কয়, এই মাইয়া তো ক্রাক। কি না কি কয়, ইয়াবা খাইয়া আইছে শ্যুটিং করতে!

আসলেই তো, যে পাবলিক প্রাইভেট বুঝে না, ক্যামেরার পিছনের কথা যে ক্যামেরার সামনে কইতে চায় সে ইয়াবা খাইবো না তো কে খাইবো? বাংলাদেশের তরুণ ফিল্মমেকার’রা? কলকাতার সিনেমার সেক্স সিন দেখতে দেখতেই যাদের মাল আউট হয়া যায় আর যখনই খাড়ায় লাগাইবার লাইগা খালি রবীন্দ্রনাথের পুটকিই খুঁইজা বেড়ায়? নাউ শি ইজ বিকামিং ট্রু সানি লিওন ইন হার অউন টেক্সট।

এইসব সিমটম দেইখা বাড়ির লোকজন তারে গাজীপুর একটা রিহ্যাব সেন্টারে পাঠাইয়া দিছে। যে কিছুদিন এইসব থিকা বাইরে থাকুক, একটু ঠিক হইবো নে। ওইটা আরেকটা আজিব জায়গা। দুনিয়া ভরা শালা গে আর লেসবিয়ানে। এইগুলার ভিত্রে আর কয়দিন থাকা যায়। পাগল ঠিকাছে, কিন্তু শে তো আর এতো বড় পাগল না। ওয়ান উইক পরেই শে অইখান থিকা মাসুদ রানারে ফোন দেয়। বুড়া গার্ডরে একটা লিপকিসের বিনিময়ে এই ফোন কল শে অ্যাচিভ করছিলো। দুনিয়াতে সবকিছুই কতো চিপ! তাই না? তারপরও টাকা কামানোর ধান্দাতেই মানুষ তার লাইফের পুরা সময়টা শেষ করে। মাসুদ রানা তখন রাহাত খানরে দিয়া তারে এই শ্যুটিং স্পটে অ্যাসালাইম দিছে। ছোটখাট পার্ট তার এই সিনেমায়। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার আছে। আর মাসুদ রানা তো আজাইরা তারে এইখানে আইনা ফালায় নাই। কি কারণ? – সেইটা সোহানারে বলেই নাই, আর রমজানের তো কোন ধারণাই নাই। শালা মাসুদ রানা হইতেছে একটা ভিলেন! সোহানা ভাবে মাসুদ রানা’র কথা বলতে বলতেই।

এইদিকে, এইসব শুইনা রমজান দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। নিমফোম্যানিয়াক সিনেমার বুইড়াটার কথা ভাবেন। কেন তারে নায়িকাটা খুন করে, শেষে! সেই পাজলসহ-ই উনি সোহানারে বলেন, “আমরা তো আসলে একটা পর্ণগ্রাফিক রিয়ালিতেই বাঁইচা থাকি। এইটা নিয়া বেশি টেনশন নিও না!” সোহানাও হাসে শুইনা, বলে, “ঠিক আছে, সমস্ত সম্পর্ক-ই যৌন, তাই বইলা শারীরিক হইতে হইবো, এইরকম তো কোন কথা নাই, কি বলেন?” বইলা একটা চোখ টিপ দেয়। ফাজিল মেয়ে কোথাকার! এরে সিম্প্যাথি দেখানোও আরেকটা পেইন! Continue reading

এডিটোরিয়াল: ইতিহাশের হালখাতা

দেশের আতেলদের লগে শমাজের খাতির কেন হয় না, এই শমাজ আতেলের দুশমন কিনা ইত্যাদি লইয়া ফিরোজ আহমেদ তার এক লেখায় আলাপ করছেন, ফেছবুকে বহু আতেল ঐ লেখা আগাইয়া দিছেন শবাইরে, তারা ভালোই লাইক করছেন মনে হইলো।

কিন্তু ফিরোজের লেখাটা আদতে দেশের আতেলদের লইয়া একটা লেখা ভাবাই মুশকিল আশলে! কারন, ফিরোজ দেশের বেশিরভাগ আতেলকে তার হিশাবেই রাখেন নাই! এবং রাখেন নাই বইলা অনেকগুলা গলদে পড়ছেন ফিরোজ।

আতেলের রকম আছে এবং দেশের শবচে বেশি আতেল আরবি মিডিয়ামে পড়া এবং তারা খুবই কামিয়াব হইছেন, হইতেছেনও শমাজে! তারা কেতাব লেখেন, ঐগুলা বাংলা মিডিয়ামের আতেলদের তুলনায় বহুগুন বেশি বিকায় বাজারে; তবে তারা শবচে বেশি কামিয়াব হইছেন পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল হিশাবে! তাগো বক্তিমা ইউটিউবে কোটি কোটি মানুশ শোনে, ওগুলারে আমরা অডিও-কেতাব হিশাবে ধরতে পারি। দেশের হট আতেলের একটা লিস্টি বানাইলে পয়লা শ’দুয়েক হয়তো আরবি মিডিয়ামের হবেন, তারপর ড. খানেরা ঢোকার মওকা পাইতেও পারেন!

এনাদের হিশাবে না লওয়ায় ফিরোজ মালুমই করতে পারে নাই জে, শুন্দরবন বা রামপাল বা রুপপুর বা গ্যাশ ইত্যাদি লইয়া কোন কথা না কইয়াও খুবই হট আতেল হওয়া জাইতেছে দেশে! কেননা, আরবি মিডিয়ামের আতেলরা ওগুলার ধারেকাছে না জাইয়াই এমন কামিয়াব হইতে পারলো তো!

কিন্তু এইটা একটা দিক, এদিকে ফিরবো আবার। ওনার আলাপের আরেকটা দিকে আছে কলিকাতা লইয়া আলাপ। উনিশ শতে নাকি বিরাট শব আতেল হইছে কলিকাতায়, গরম আছিল বাংলা। কিন্তু খেয়াল করেন, আজকে আমরা জেমন বাকশাল থিকা মুক্তির তরিকা বাতলাইয়া দেবার, আমজনতারে রাস্তায় নামাবার মতো পাওয়ারফুল আতেল পাইতেছি না, ঠিক এমনই ১৮৫৭ শালের ছিপাইরা ইংরাজ খেদাইতে নাইমাও তো কোন আতেল পায় নাই! তাগো জেই দুই চারজন আতেল আছিল, ফিরোজের হিশাবের উনিশ শতের কলিকাতার আতেলের লিস্টিতে কিন্তু নাই তারা! বরং তাগো খুনের জেই এন্তেজাম করলো ইংরাজ, শেই খুনের ছাফাই গাওয়া লোকেরাই ১০০% ভইরা ফেললো ফিরোজের আতেলের লিস্টি!

ওদিকে, জেই আতেলরা পুরা দেশের মানুশের লগে বেইমানি করলো, বাস্তবে জাগো পড়তো হয়তো মোট ৫০০০ নেটিভ কলোনিয়াল দালাল, তারাই জদি আজকেও ফিরোজের লিস্টি পুরা ভরতে পারে, বিরাট ঘটনা হইয়া থাকতে পারলো ফিরোজের ইতিহাশের পাতায়, তাইলে আরো ৪০ বছর বাকশাল গদিতে থাকলে ৫০ বছর পরের কোন ফিরোজ আহমেদ এখনকার মোহাম্মদ আরাফাত বা মুন্নি সাহা বা তেমন কত কত কলামিস্ট বা টকশো’র আতেলরা আছেন, বাকশালি পোপাগান্ডা কেতাব লেখক, বয়াতিরা আছেন, তাগো দিয়া লিস্টি বানাইতে পারেন তো, এনারাই শেই ফিরোজের লেখায় ঢাকার বিরাট ঘটনা হইতে পারবে না কেন! এনারা বাদেও তখনকার তালুকদার ইংরাজের লগে জেমন আছিল আপার কাস্ট হিন্দু আতেলরা, এখনকার তালুকদার বাকশালের লগেও আছে ঐ আরবি মিডিয়ামের বিরাট একদল মোছলমান আতেল! তাই আগামির কোন ফিরোজের লিস্টিও বেশ লম্বাই হবার শম্ভাবনা, লগে মস্ত ঘটনা তো বটেই!

কিন্তু ফিরোজের ধান্দাটা আমরা অনেকেই শেয়ার করি মনে হয়; শেই ধান্দাটা হইলো, দেশের মানুশের হাজারো গোলামি কমাবার ধান্দা, আমজনতার কবুল করা বা না করারেই কেবল শাশনের লেজিটিমেসির হিশাবে ধরা, রাশ্টের কাছে জনতার আমানতের পাই পয়শার হিশাব আদায়, নাগরিকের গোলামি কমাইতে শমাজে ইনছাফ কায়েম করা এবং এইগুলা করার দরকারে দেশের আতেল শমাজের চিন্তা আর মন ঢাইলা দেওয়া, তেমন আতেলের লগে আমজনতার মজবুত রিশতা কেমনে বানানো জায়, এইটাই শেই ধান্দা!

আমাদের এই ধান্দা কালকেই কামিয়াব না হৌক, কিন্তু ভুল রাস্তায় জেন একটা কদমও খরচ না হয়, ধিরে হইলেও, মনজিলের দিকেই জেন আগানো হয়, শেই দরকারেই ফিরোজ বা এমন জে কারো (জেমন আমি) জুক্তিগুলা আরেকটু বাছবিচারের দরকার আছে। Continue reading

বাংলাদেশের ছায়াছবি: আলো, অন্ধকার এবং আলো! – সালাহউদ্দিন

সালাউদ্দিন সাহেব’রে নাম বললে তেমন কেউ চিনার কথা না, কিন্তু বাংলা সিনেমা নিয়া যারা টুকটাক জানেন, তারাও উনার কাজের কথা বললে, উনারে চিনতে পারার কথা। উনি হইতেছেন ‘রূপবান’ সিনেমার ডিরেক্টর। ‘রূপবান’ বানানোর আগে বানাইছিলেন ‘যে নদী মরুপথে’ (১৯৬১) ‘সূর্যস্নান’ (১৯৬২), ‘ধারাপাত’ (১৯৬৩); রূপবানের পরে বানাইছেন ‘আলোমতি’ (১৯৬৯), ‘মেঘের অনেক রঙ’ (১৯৭৬)। (মেঘের অনেক রঙ হইতেছে বাংলাদেশের একমাত্র সিনেমা যেইখানে নায়িকা হইতেছেন একজন ‘পাহাড়ি’, বাঙালি বা বিহারি না।) ‘১৩ নাম্বার ফেকু ওস্তাগার লেনে’র কাহিনিও উনার লেখা। মানে, বাংলাদেশে সিনেমা বানানি’রে যারা প্যাশন হিসাবে নিছিলেন, তাদের শুরুর দিকের একজন হইতেছেন সালাহউদ্দিন।  

বাংলাদেশের সিনেমা খালি জহির রায়হান, আলমগীর কবির আর ঋতিক ঘটকের বানানো একটা সিনেমা না, বরং (মিডল-ক্লাসের রুচির জায়গা থিকাও) ‘বাংলাদেশি সিনেমা’ বইলা যদি কোন জায়গারে ধরতে চান সেইটা হইতেছে, সালাউদ্দিন, খান আতা, আমজাদ হোসেন – এনারা। মুশকিল হইলো উনাদের কাজকামরে তো আমরা ইগনোর করছিই, উনাদের কথা-বার্তারেও কখনো আমলে নেয়া হয় নাই বা কন্সিডার করা হয় নাই। চিপাচাপায় যেই কয়টা লেখা পইড়া আছে সেইগুলা দেখলেও আমার ধারণা, উনাদের কাজের জায়গাগুলা সম্পর্কে কিছু আন্দাজ করা যাবে ।

উনার এই লেখার এটলিস্ট তিনটা সিগনিকেন্সরে খেয়াল করার জন্য বলবো আমরা।

এক হইলো, ১৯৮৬ সালে এইটা লিখছিলেন উনি তখনকার অবস্থা আর এখনকার অবস্থা একই না। তখন বাংলা সিনেমা পুরাপুরি ইন্ড্রাষ্ট্রি না হইলেও বিজনেস ছিল, কালচার হিসাবে মিডল-ক্লাস সোসাইিতেও ‘গ্রহণযোগ্য’ ছিল। ১৯৮০ সালে ছুটির ঘন্টা ছিল হিউজ সাকসেস। লোকজন সিনেমাহলে গিয়া সিনেমা দেখতো – এই সুখস্মৃতির বাইরেও বাংলা সিনেমার নায়ক-নায়িকারাই ছিলেন স্টার: কবরী, ববিতা, শাবানা’র টিভি নাটকে অভিনয় কইরা ‘কালচারাল রেসপেক্ট’ কামাই করতে হয় নাই, সুবর্ণা মুস্তফা, শম্পা রেজাদের মতন।…

মানে, টিভি তো তখন ছিল, কিন্তু সিনেমায় খালি টাকা ছিল, স্টারডম ছিল না – এইটা ভাবলে ভুল হবে। সালাহউদ্দিন বলতেছিলেন এই স্টারডম এমনে এমনে টিইকা থাকবে না, যদি কালচারাল এসেট তৈরি করা না যায়।

সিনেমা বানায়া বিজনেস করা লাগবে, কিন্তু কালচারাল এসেটও বানাইতে হবে – এইটা হইতেছে উনার সেকেন্ড পয়েন্টটা। ভালো সিনেমা এবং ব্যবসা-সফল সিনেমা দুইটাই কন্টিনিউ করার ভিতর দিয়া এই কাজ করতে হবে – এইটা উনার কথা:

তবে কোন ব্যবসা সফল ছবিতে কিছু সগুণ থাকলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। বা কোন ভাল ছবি কিছু দর্শক সমাদৃত হলে চমকাবার কিছু নেই।”

“…যে ব্যক্তি বলেন, ‘আমাকে টাকা দিন। আমি একটি ভাল ছবি তৈরী করে দিই।’ তিনি চলচ্চিত্রকার নন। ভাল ছবি তৈরী করা ফরমায়েশী ব্যাপার নয়, ঠিকাদারীও নয়। ভাল ছবির ফর্মুলা বা সূত্র নেই।

ভাল ছবিকে চিহ্নিতকরণ, সাহ যোগান এবং সহযোগিতা প্রদান হচ্ছে ভাল ছবি তৈরীর ক্ষেত্র প্রস্তুতের একমাত্র উপায়।” 

‘ভালো ছবি’ আর ‘বাণিজ্যিক ছবি’ – দুইটা দুই দুনিয়ার ঘটনা না! এইটা নতুন কোন আর্গুমেন্টও না, কিন্তু এই জায়গাটারে সেন্টার ধইরা কেমনে আগানো যায়, সেইটা নিয়া উনার ভাবছেন, কাজও করছেন। এই জায়গাটা দরকারি।

তো, এইটা কেমনে হবে? উনি অন্য অনেক কিছুর লগে ‘চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন’, ‘শিক্ষিত লোকজনরে’ গুরুত্ব দিতে চাইছেন। এইটা উনার লেখাটার থার্ড আর ক্রশিয়াল সিগনিফেকন্স। এইখানেই উনি মেইন ভুলটা করছেন।

উনি ভাবছেন, এই ‘চলচ্চিত্র সংসদ’অলারা আসছে এফডিসি’র হাত থিকা বাংলা সিনেমারে বাঁচাইতে। অথচ কালচারাল একটা হেইট্রেটের জায়গা থিকা তারা সবসময় অপারেট করছেন (এবং করতেছেন)। ব্যাপারটা এইরকম না যে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন ‘ভালো’ বাংলা সিনেমা বানানো হয় নাই (এইটা তো আছেই), বরং যা কিছু পাবলিক ‘খায়’ সেইটা তো কোনভাবেই ‘ভালো’ সিনেমা হইতে পারে না! (এইরকম একটা জায়গা থিকা অপারেট করে।) যেইখানে পাবলিক সবসময় ফিক্সড এবং সিঙ্গুলার একটা আইডেন্টিটি এবং ‘ভালো’ সিনেমারও যেন স্ট্যান্ডার্ড একটাই!

তো, ব্যাপারটা এইটা না যে,  উনারা ‘ভুল’ বুঝছেন; বরং ‘ভুল-বোঝার’ জায়গাগুলা থিকাই এর শুরু। সালাহ্উদ্দিন সাহেব বাঁইচা থাকতে বাংলা-সিনেমার এই দুশমনদেরকে দোস্ত বইলা ভাবছেন। উনি নিজেও ‘ভালো’ সিনেমাই বানাইতে চাইছেন। কিন্তু উনি যে ‘ভুল’ কইরা একটা ‘জনপ্রিয়’ সিনেমা বানাইছিলেন সেইটারে যে বেশিদূর পর্যন্ত ভুল উনি ভাবতে পারেন নাই এবং এর-ও দরকার আছে, এইটা উনি যেমন ভাবছেন; ভাবছেন ‘শিক্ষিত’ লোকজন তো তার সমাজের মানুশের কথা আরো বেশি কইরা ভাববেন! কিন্তু উনারা যে তা করেন নাই – সেইটা সময়ের সাথে সাথে আরো স্পষ্ট হইতে পারতেছে বইলা আমরা মনে করি।… 

তো, বাংলা সিনেমা যারা বানাইতেছেন, ইন ফিউচারে বানাইবেন, আমাদের মনে হইছে সালাউদ্দিন সাহেবদের মতো যারা ট্রাই করছিলেন, আর পারেন নাই, ফেইলওর বইলা তাদেরকে ইগনোর না কইরা কেন আর কিভাবে উনারা পারেন নাই, সেই জায়গাগুলারে খেয়াল করতে পারেন। 

 

/এডিটর, বাছবিচার।

……………………………..

 

এ বছর ১৯৮৬।

তিরিশ বছর আগে আমরা প্রথম সবাক ছায়াছবি নির্মান করি।

আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প অনেক বিস্তৃতি লাভ করেছে। এ বিস্তৃতি ছায়াছবির উৎপাদনে, শিল্পী ও কুশলীর সংখ্যায়, মূলধন বিনিয়োগের পরিমাণে। প্রযোজকের ঘরে যথেষ্ট মুনাফা আসছে। শিল্পীদের অনেকে তারকা হয়েছেন। চলচ্চিত্র-নির্ভর অনেক পত্র-পত্রিকা ছাপা হচ্ছে।

তাই বলতে হবে, আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের অনেক উন্নতি হয়েছে । কিন্তু কিছ সমালোচক বলেন, বিদেশী ছবি আমদানী বন্ধ করে এ সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে । আসলে আমাদের ছবি চলার মত নয় ।

প্রযোজকরা বলেন, ভিডিও ক্যাসেট যখন সারা দুনিয়ায় চলচ্চিত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আমাদের এখানে যখন বিনা বাধায় ভিডিও চলছে তখনও আমাদের ছবির অগ্রগতি থেমে নেই। সুতরাং বলতেই হবে, আমাদের চিত্রশিল্প এগিয়ে চলছে।

আবার অনেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, ‘এর নাম কি এগিয়ে চলা? বস্তাপচা কাহিনী, স্হূল ভাঁড়ামো, অশ্লীল নাচ-গান – এ সকল উপাদানে তৈরী নিম্নমানের ছায়াছবি নিয়ে গর্ব করার। কিছু নেই। বরং লজ্জা পাওয়ার আছে।’

চলচ্চিত্র শিল্পের কর্ণধারগণ বলবেন, আপনারা লজ্জা পেতে থাকুন। আমাদের বাংলাদেশে তৈরী ছবি চলছে এবং দর্শক উৎসাহের সঙ্গে তা দেখছেন।

প্রযোজক পয়সা পাচ্ছেন। তাদের নাম ইনকাম ট্যাক্সের খাতায় উঠছে।

শিল্পীরাও পয়সা পাচ্ছেন। তারকারাও যথেষ্ট সম্মান ও সম্মানী পাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাদের নিমন্ত্রণ হচ্ছে। সে নিমন্ত্রণে তারা নিজেদের গাড়ী চড়ে যেতে পারছেন। রাজনীতিতে তাদের ডাক পড়ছে, কারণ তারা জনপ্রিয়।

প্রচুর শিল্পী-কুশলী তৈরী হচ্ছে।

সরকার প্রচুর প্রমোদকর পাচ্ছেন।

উন্নতির এতকিছু ঘটছে, তবুও আপনাদের চোখ টাটাচ্ছে কেন বুঝি না। Continue reading

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য