Main menu

দুনিয়া বদলাইতে যাওয়ার মত পাগলামি যারা করে, শেষমেষ তারাই তা কইরা দেখায় – স্টিভ জবস

১৯৮৫ সালে স্টিভ জবসরে অ্যাপল থিকা ফায়ার করার পর প্রায় ১২ বছর নানান মিসম্যানেজমেন্টের মধ্য দিয়া যায় কোম্পানিটা। পরে ১৯৯৭ তে তারে আবার হায়ার করা হয়। তারপর স্টিভ টানা কয়েক সপ্তাহ ধইরা কোম্পানিটারে আবার ট্র‍্যাকে ফেরানোর জন্য বিভিন্ন আইডিয়া ডেভেলপ করতে থাকেন। কিভাবে অ্যাপলরে আবার গ্রেট বানানো যাইতে পারে সেইটা নিয়া আর অ্যাডভার্টাইজিংয়ের আইডিয়াগুলা নিয়াই স্টিভ জবসের এই স্পিচটা। স্পিচটা দেয়া হয় ইউএসএ’র ক্যালিফোর্নিয়ায়, ১৯৯৭ সালেরই ঘটনা।

 

গুড মনিং! আচ্ছা, আমরা রাত তিনটা পর্যন্ত কাজ করতেছিলাম এই অ্যাডভারটাইজিং এর কাজটা শেষ করার জন্য, আর কয়েক মিনিট পরে আপনাদেরকে এইটা দেখাবো। আট-দশ সপ্তাহ আগে আমি ফিরছি আর আমরা সত্যি সত্যি অনেক মেহনত করতেছি। আর আমরা যেইটা করতে চাইতেছিলাম সেইটা খুব গাল-ভরা জিনিস না। আমরা চাইতেছিলাম বেসিকে ফেরত যাইতে।

আমরা চাইতেছিলাম গ্রেট প্রডাক্টগুলার আর ভালো মার্কেটিং ও ডিস্ট্রিবিউশনের বেসিকে ফিরা যাইতে, আমার মনে হয় অ্যাপেল নিজেও অনেক দিক দিয়াই গ্রেট, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বেসিকগুলা থিকা বেশ দূরে সইরা গেছে।  তো আমরা প্রডাক্ট লাইন দিয়াই শুরু করলাম। আমরা বেশকিছু বছর ধইরা চলতে থাকা রোডম্যাপটার দিকে একটু নজর দিলাম। তো আমরা দেখলাম এর অনেককিছুই ঠিক নাই আর দেখলাম এতে কাজ খুব বেশি অথচ ফোকাস একদমই নাই, তো আসলে আমরা গিয়া প্রডাক্ট রোডম্যাপের প্রায় ৭০ পার্সেন্ট জিনিসই বাতিল করলাম। মানে, আমি তো বালের প্রডাক্ট লাইনটার কিছু বুইঝাই উঠতে পারতেসিলাম না। তার কিছু সপ্তাহ পরে, আমি কেবল ভাবতেসিলাম এই মডেলটা কী আর এইটা ঠিক কেমনে ফিট করে। তো আমি কাস্টমারদের সাথে কথা বলা শুরু করলাম আর দেখলাম তারাও কিছু বুঝতেছে না। তো এখন আপনারা প্রোডাক্ট লাইনটা অনেক বেশি সহজ হইতে দেখবেন এবং আগের চাইতে অনেক ভালোও হইতে দেখবেন। এবং আরো কিছু নতুন জিনিস আসতেছে যা খুবই জোস। তার ওপর, আমরা বাকি ৩০% ভালো অংশের উপর বেশি ফোকাস করার সুযোগ পাইসি এবং এতে এমন নতুনকিছু জিনিস অ্যাড করতে পারতেছি যা আমাদের পুরাপুরি আলাদা পথে নিয়া যাবে। তো আমরা এই প্রডাক্টগুলার ব্যাপারে খুবই এক্সাইটেড। আর আমার মনে হয় এইবার আমরা কিরকম প্রডাক্ট বানাবো তা নিয়া আমরা বেশ ডিফরেন্টলি চিন্তা করতেছি। আর ইঞ্জিনিয়ারিং টিমও খুব এক্সাইটেড। মানে, আমি এমনসব লোকেদের সাথে মিটিং কইরা বের হইছি যারা নিজেদের প্রজেক্ট ক্যান্সেল কইরা ফেলছে, আর তারা এক্সাইটমেন্টের চোটে মাটি থিকা তিন ফিট উপরে উইঠা গেছিলো কারণ তারা ফাইনালি বুঝতে পারতেছিল আমরা ঠিক কোনদিকে যাইতেছি।

আর তারা স্ট্র‍্যাটেজির ব্যাপারে অনেক এক্সাইটেড ছিল। আমার মতে, একইভাবে আমরা ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যাপারে অতটা ইনোভেশনের পরিচয় দিতে পারি নাই। একটা উদাহরণ দেই, আমি শিওর এইটা নিয়া আজকে সকালেও কথা হইছে। কিন্তু, দেখেন, আমাদের প্রডাক্ট ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইনে দুই থেকে তিন মাসের স্টকের মত প্রডাক্ট রাখা আছে এবং প্রায় তার সমান পরিমাণে আছে ডিস্ট্রিবিউশনের পাইপলাইনে। ফলে কাস্টমারদের চাহিদার ব্যাপারে আমাদের পাঁচ-ছয়মাস আগে থিকা আন্দাজ করতে হইতেছে। এখন এতটা বুদ্ধিমান তো আমরা না, আইনস্টাইনের পক্ষেও এইটা সম্ভব না। তো আমরা যা করবো তা হইছে আমরা খুব সিম্পলভাবে কাজ করবো আর পাইপলাইনগুলা থিকা লিস্টের প্রডাক্টগুলা  সরাইয়া ফেলবো যাতে কাস্টমাররা নিজেরাই আমাদের বলতে পারে তারা কী চায় এবং আমরা যাতে খুব তাড়াতাড়ি সেই মতো রেসপন্ড করতে পারি।  এবং আপনারা আমাদের এখন থেকে এরকম অনেককিছুই করতে দেখবেন। আমরা সামনে আপনাদের সাথে যা করতে যাইতেছি আজকে তার কেবলই শুরুয়াত। তো আমার মতে, আগামী কিছু মাসের মধ্যে, ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যাপারে যারা একদম সেরাদেরও সেরা অবস্থানে আছে, আমরা কেবল তাদের টাচই করবো না, বরং আরো নতুনকিছুর জন্য গ্রাউন্ড ক্রিয়েট কইরা ফেলবো। কাজেই এইটা নিয়াও আমি খুব বেশি এক্সাইটেড, প্রডাকশন আর ডিস্ট্রিবিউশনের দিকটা আরকি। 

তো এইবার আসি মার্কেটিং এর দিকে। আমার কাছে মার্কেটিং এর আসল জিনিসটা হইছে একটা মূল বিশ্বাসের জায়গা ঠিক করা। এই দুনিয়াটা অনেক প্যাঁচাইন্যা, এই দুনিয়াটা অনেক কোলাহলে ভরা, এবং আমরা মানুষরে আমাদের ব্যাপারে খুব বেশিকিছু মনে রাখাইতে পারবো না। কোনো কোম্পানিই পারবে না। তো আমরা আমাদের ব্যাপারে ঠিক কী জানাইতে চাই সেই বিষয়ে আমাদের খুব ক্লিয়ার থাকা দরকার।

ভাগ্য ভালো যে, অ্যাপল আপাতত দুনিয়ার সেরা হাফ-ডজন ব্র‍্যান্ডের মধ্যে পড়ে। নাইকি, ডিজনি, কোক, সনি’র সাথে একদম উপরের দিকে। আমরা সেরাদেরও সেরার মধ্যে একটা ব্র‍্যান্ড, শুধু এই দেশেই না, বরং পুরা দুনিয়াতেই। কিন্তু একটা গ্রেট ব্র‍্যান্ডেরও তার প্রাণ আর রেলেভেন্স ধইরা রাখতে হইলে এনাফ ইনভেস্টমেন্ট আর কেয়ারিং এর দরকার হয়। আর গত কয়েকবছরে অ্যাপল ব্র‍্যান্ড এই ক্ষেত্রে খুব বেশি অযত্নের মধ্য দিয়া গেসে, আর এইটা আমাদের ফিরাইয়া আনতে হবে। স্পিড আর ফিডের গপ্পো বইলা এইটা করা যাবে না, এমআইপিএস আর মেগাহার্টজের কথা বইলাও না, আমরা কেন উইন্ডোজের চাইতে বেটার সেইটা বইলাও কাজ হবে না। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রি বিশ বছর ধইরা আপনারে বুঝানোর ট্রাই করতেছে যে দুধ আপনার জন্য ভালো। যদিও এডা একটা মিথ্যা, কিন্তু তারা তবু ট্রাই কইরা গেলো। আর সেলস তখন নিচের দিকেই যাইতেছিল, তারপর তারা ‘গট মিল্ক’ ট্রাই করলো আর সেলস উপরের দিকে যাওয়া শুরু করলো। ‘গট মিল্ক’ এমনকি কোনো প্রডাক্টও না, এইটা বরং প্রডাক্টের না-থাকার উপর ফোকাস করে। কিন্তু কিন্তু কিন্তু সবচাইতে সেরা এক্সাম্পল আর পুরা ইউনিভার্সের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্কেটিং এর কাজের দৃষ্টান্ত হইলো নাইকি। মনে রাখবেন, নাইকি একটা প্রডাক্ট বেচে। তারা জুতা বেচে। কিন্তু তবু যখন আপনি নাইকির কথা ভাববেন, তখন আপনার মনে কেবল একটা জুতার কম্পানির চাইতে বেশি কিছু ভাসবে। আপনারা জানেন, ওরা অদের অ্যাডে কখনোই প্রডাক্টের কথা বলে না। তারা কখনো বলে না তাদের অ্যারোসল কেন রিবকের চাইতে বেটার। তাইলে নাইকি তাদের অ্যাডভার্টাইজিং এ কী করে?  তারা গ্রেট স্পোর্টস আর গ্রেট স্পোর্টসম্যানদেরকে রেসপেক্ট করে।  এইটাই তাদের পরিচয়। এইটাই তাদের জিনিস।

অ্যাডভার্টাইজিং এর উপর অ্যাপল ভালোই খরচা করে। আপনারা তা টের পাবেন না। টের পানও না। তো আমি যখন আসলাম, আমরা এই এজেন্সিটারেই ছাটাই কইরা দিলাম।

আগামী চার বছরের জন্য আমাদের তেইশটা কোম্পানির মধ্যে থেকে একটা চুজ করা লাগবে, তো এইটা নিয়া আমরা বেশ স্ট্রাগল করতেছিলাম। কিন্তু আমরা এই চান্সটাও নষ্ট কইরা ফেলসি। তারপর আমরা হায়ার করলাম শায়াট/ডে (Chiat/Day), এই অ্যাড এজেন্সির সাথে কয়েক বছর আগেও কাজ করার মওকা আমার হইছিলো। আমরা কিছু অ্যাওয়ার্ড-উইনিং কাজ করছিলাম, যার মধ্যে একটা হইলো ১৯৮৪’র কমার্শিয়াল যা কিনা অ্যাডভার্টাইজিংয়ের লোকজন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অ্যাড হিসেবে বাছাই করছিলো, এবং আমরা আট সপ্তাহ আগে কাজ করা শুরু করলাম। আর আমাদের নিজেদের কাছে মূল যেই প্রশ্নটা ছিল তা হইলো, আমাদের কাস্টমাররা জানতে চায় অ্যাপল কে এবং তাদের মূলনীতিটা কী?

আর এই দুনিয়ায় আমাদের জায়গাটা ঠিক কই? আমরা কেবলই লোকের কাজ সহজ করার জন্য ছোট ছোট বক্স বানাই না, যদিও তা আমরা ভালোমতই করি। কিছুক্ষেত্রে ওইটা আমরা আর যে কারো চাইতে বেটার করি।

কিন্তু অ্যাপলের মেইন জিনিস এর চাইতে বেশিকিছু। একদম, একদম গোড়ায়, অ্যাপলের মূল বিশ্বাস হইছে যাদের প্যাশন আছে তারা চাইলে পৃথিবীটারে বেটারের দিকে চেঞ্জ করতে পারে। আমরা এইটাই বিশ্বাস করি। আর এমন মানুষদের সাথে কাজ করার সুযোগও আমাদের হইছে, আমাদের সুযোগ হইছে আপনাদের মত মানুষের সাথে কাজ করার, সফটওয়্যার ডেভেলপারদের সাথে, কাস্টমারদের সাথে, যারা তা কইরা দেখাইছেন বিভিন্ন বড় বা ছোট উপায়ে। আর আমরা বিশ্বাস করি পৃথিবীর এই মানুষেরা দুনিয়াটারে একটু বেটার বানাইতে পারে। আর যেই পাগল লোকগুলা দুনিয়া বদলাইয়া ফেলবে বইলা ঠিক করে, শেষমেষ আসলে তারাই তা কইরা দেখায়। তো বেশ কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের প্রথম ব্র‍্যান্ড মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের জন্য আমরা যা করবো তা হইছে আমাদের এই মূলনীতিটার কাছে ফিরা যাবো। অনেককিছুই বদলাইয়া গেছে। দশ বছর আগে মার্কেট যেমন ছিল এখন আর মোটেই তেমন নাই। আর অ্যাপলও তার মত কইরা বদলাইছে। আর মার্কেটেও অ্যাপলের জায়গাটা বদলাইছে। আর বিশ্বাস করেন, প্রডাক্ট আর ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্র‍্যাটেজি আর প্রডাকশন সবই এখন আলাদা। আমরাও তা বুঝি।

কিন্তু একদম মূল বিশ্বাসের জায়গাগুলা বদলানো উচিৎ না। একদম গোড়ায় যেইসব মূল্যবোধের উপর অ্যাপল আস্থা রাখছিলো, এখনো আসলে সেগুলার পক্ষেই দাঁড়াইয়া আছে। তো আমরা এই জিনিসটা জানান দেয়ার চেষ্টা করতেছিলাম। এবং আমাদের হাতে যা আছে সেইটা আমারে অনেক মুভ করছে। এইটা সেইসব মানুষদের সম্মান জানায় যারা দুনিয়াটারে একটু হইলেও বদলাইছেন। তাদের কেউ কেউ বাঁইচা আছেন, কেউ কেউ নাই। আর যারা বাঁইচা নাই, আপনারা দেখবেন, আপনারা জানেনও, তারা যদি কখনো কোনো কম্পিউটার ইউজ করতে পারতেন, তাইলে তারা ম্যাকই ইউজ করতেন।

এই ক্যাম্পেইনের থিম হইছে: থিঙ্ক ডিফারেন্ট। এইটা হইছে সেইসব মানুষের প্রতি শুকরিয়া আদায় করা, যারা অন্যভাবে চিন্তা করছেন আর দুনিয়াটারে আগাইয়া নিয়া গেছেন।  এবং এইটাই হইছে আমাদের মূল বিষয়, এইটা এই কম্পানির আত্মারে স্পর্শ করে। তো আমি আর কথা না বাড়াইয়া এইটা চালু করতেছি। আশা করি এইটার প্রতি আপনাদেরও এইটা ততটাই ভাল্লাগবে যতটা আমার লাগছে।

 

 

 

এইটা হচ্ছে সেই পাগলগুলার জন্য। বৃত্তের বাইরের লোকদের, বিদ্রোহীদের, আর তাদের স্বপ্নের প্রতি। আর, যারা সবকিছু অন্যভাবে দেখে, পুরষ্কারের প্রতি উনাদের কোনো পিরিত নাই আর দুনিয়ার চলতি ব্যবস্থার প্রতি নাই কোনো সম্মান।

আপনি উনাদের কোটেশন দিতে পারেন, দ্বিমত করতে পারেন। তাদের হিরো কিংবা ভিলেনও বানাইতে পারেন।

কিন্তু, যা আপনি করতে পারবেন না তা হইলো উনাদেরকে ইগ্নোর করা, কারণ উনারা সবকিছু বদলাইয়া ফেলছেন। উনারা আমাদের ঠেইলা সামনে নিয়া যান। আর যেইখানে লোকজন পাগলামি দেখে, সেইখানে আমরা জিনিয়াস খুঁইজা পাই।

কারণ দুনিয়া বদলাইতে যাওয়ার মত পাগলামি যারা করে, শেষমেষ তারাই তা কইরা দেখায়।

তো এইটাই আমাদের সামনে আগায়া নিয়া আসে আর এইটাই জানান দেয় আমরা কারা এবং আমরা কীসের জন্য স্ট্যান্ড করি। আপনাদের এইটা ভাল্লাগে নাই?

(হ্যাঁ, হ্যাঁ, লাগছে)

আমাদের কোম্পানির অমুক-তমুক অন্যদেরটার চাইতে ভালো, এইসব না বলার কারণে কেউ কেউ আমাদের ক্রিটিসাইজ করবে, আমি জানি। কিন্তু মানুষরে তো জানাইতে হবে অ্যাপল কী এবং এইটা এখনো কেন রেলেভেন্ট। আর আমার মনে হয় এতে বেশ ভালোই কাজ হবে। এই ক্যাম্পেইন আমরা শেষ করবো রোববারে, একটু পোয়েটিকভাবেই। এবিসি চ্যানেলে দ্য ওয়ান্ডারফুল ওয়ার্ল্ড অফ ডিজনি আবার শুরু হইতেছে। আর রোববার রাতে তারা প্রথম যেইটা দেখাবে, আমি যদ্দুর জানি তা হইলো টয় স্টোরি’র নেটওয়ার্ক প্রিমিয়ার। আর আমরা ষাইট সেকেন্ড কইরা দুইটা স্পট পাইতেছি। কমার্শিয়ালটা দুইবার চালানো হবে, একবার প্রথম ঘণ্টায় আর দ্বিতীয় ঘণ্টায় আরেকবার। তারপর আমরা বিভিন্ন নিউজপেপারে অ্যাড দেয়া শুরু করবো। দ্য টাইমস, দ্য মার্কিউরি, দ্য এক্সামিনার, ইউএসএ টুডে ইত্যাদি। মানে আমাদের ম্যানিফেস্টোটা ছড়াইয়া দিব আরকি।  আর তারপর আমি আপনাদের দেখাব আগামী দুই সপ্তাহে কী কী হইতেছে। আমাদের হাতে কিছু অসাধারণ প্রিন্ট আছে। অক্টোবরের অনেকটা সময় জুইড়া এই অ্যাডটা টেলিভিশনে যাবে আর আমরা আগামী কয়েক সপ্তাহে বেশকিছু চমৎকার প্রিন্ট আনবো, মোস্টলি ম্যাগাজিনের ব্যাক কভারে, আর কিছু কিছু ম্যাগাজিনের ভিতরে। আমাদের কিছু জোস জোস বিলবোর্ড আছে আর আমরা এমনকি পাঁচ-ছয়টা মেজর শহরে বেশকিছু বড়সড় ওয়ালও পেইন্ট করাইতেছি। আপনাদের জিনিসগুলা দেখানোর আগে একটু বইলা রাখি, আজকের এই যুগে, এইসব লোকেদের ইউজ করতে গেলে, উনারা জীবিত হোক বা মৃত, তার জন্য ভালোরকমের পার্মিশন নেয়া লাগে। হয় উনাদের নিজেদের কাছ থেইকা, যদি উনারা বাঁইচা থাকেন, আর নাইলে তাদের বিষয়-আশয়ের রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাছ থেইকা, যদি উনারা মইরা গিয়া থাকেন। উনাদের মধ্যে অলমোস্ট কাউরেই এর আগে কখনো কোনো অ্যাডে দেখা যায় নাই, এবং কখনো যাইতোও না যদি না আমরা উনাদেরকে জিগাইতাম। মানে, আমি কিছুদিন আগেই ইয়োকো ওনো’র কাছ দিয়া জন’রে ইউজ করার পার্মিশন চাইয়া নিছি। আর আমার জন্যও এইটা ভীষণ মুভিং একটা এক্সপেরিয়েন্স হইছে যে এইসব লোকেরা, জীবিত আর মৃত, উনাদের রিপ্রেজেন্টেটিভরা অ্যাপলের ব্যাপারে এতটাই স্ট্রংলি ফিল করেন যে উনারা আমাদের এইটা করতে দিছেন। আমার মনে হয় না দুনিয়ায় আর একটা কোম্পানিও আছে যারা এই ক্যাম্পেইনটা এমনে করতে পারতো।

তো আমার জন্য এইটা খুবই স্পেশাল একটা ব্যাপার। তো আমার কাছে বাইরের জিনিসপাতির প্রিন্টের একটা ভিডিও-টেপ আছে। তো ওইটা যদি একটু চালানো যাইতো, আমি চাইতেছি আপনারা একটু এইটা ফিল করেন। (ছবিগুলা দেখাইতেছেন…) এইটা হইতেছে আপনারা কোনো ম্যাগাজিনের পিছনে যা দেখতে পাইতে পারেন তার একটা এক্স্যাম্পল। এই ছবিটার মালিক ছিলেন টাইম ওয়ার্নার,  কিন্তু উনারা কখনো এর আগে এইটা রিলিজ করেন নাই।

মার্থা গ্র‍্যাহাম।

অ্যাপলের ক্যাম্পেইনের মার্থা গ্রাহামের পোস্টার। ছবি: গুগুল সার্চ থিকা নেয়া।

 

থমাস এডিসন।

থমাস এডিসনের পোস্টার। ছবি: গুগুল সার্চ থিকা নেয়া।

 

আলফ্রেড হিচকক।

হিচককের পোস্টার। ছবি: গুগুল সার্চ থিকা নেয়া।

 

 

ভিডিওতে মেবি বুঝা যাইতেছে না, কিন্তু এই ছবিগুলা খুবই মারাত্মক। এই দ্যাখেন এই বাইরে টাঙানো মুহাম্মদ আলী। এইসবকিছু আগামী দুই সপ্তার মধ্যে রিলিজ দেয়া হবে।

 

মোহাম্মদ আলী’র পোস্টার। ছবি: গুগুল সার্চ থিকা নেয়া।

 

 

এইটা হইছে রোজা পার্কস। পাঁচটা মেজর সিটিতে এরকম পাঁচটা বাস ঘোরাঘুরি করবে। তো হ্যাঁ, এইসব করতেছি আমরা।

রোজা পার্কসের ছবি দিয়া করা অ্যাপলের ক্যাম্পেইন বাস। ছবি: গুগুল সার্চ থিকা নেয়া।

 

আর গত কয়েক দিন-রাত ধইরা আমরা কাজটা শেষ করার জন্য প্রচণ্ড মেহনত করছি, কিন্তু এইরকম ভালো কাজ এর আগে আমি খুবই কম দেখছি। আমার মতে এইটা আজ পর্যন্ত অ্যাপলের বেস্ট কাজ। এখন, অ্যাডভার্টাইজিংই তো আর সব না। এবং আমাদের তরফ থিকা শিগগিরই কিছু প্রচণ্ড এক্সাইটিং প্রোডাক্ট অ্যানাউন্সমেন্ট আসতেছে। আর আগামী ৯০-১২০ দিনের মধ্যে এমনিতেই বেশকিছু এক্সাইটিং ব্যাপারস্যাপার ঘটবে। এবং আমি এই রুমে আপনাদের এত কমিটমেন্টরে মন থিকাই অ্যাপ্রিশিয়েট করি। এবং যারা আজকে এই রুমে নাই কিন্তু আমাদের কোম্পানির মোড় ঘুরাইয়া দিতেছে, এবং এইটা নিশ্চিত যে এই কোম্পানির মোড় পুরাপুরি ঘুইরা যাইতেছে। এমনকি, আমার মতে এখন মেইন প্রশ্ন এইটা না যে আমরা অ্যাপলরে ঘুরাইতে পারবো কিনা। আমার মতে, ওইটা হইতেছে ছোট্ট একটা প্রাইজ। আমার মনে হয় এখন আসল প্রশ্নটা হইলো অ্যাপলরে কি আমরা আবার গ্রেট বানাইতে পারবো?

তো আপনাদের ধন্যবাদ আমারে টাইম দেয়ার জন্য।

 

The following two tabs change content below.

মাহীন হক

হাই স্কুলের ছাত্র। মিরপুরে বসবাস। লেখালেখি নিয়া আগ্রহী। টুকটাক অনুবাদ করেন।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য