Main menu

জিজেকের জোকস

[ অনুবাদকের নোটঃ

প্রিয় রিডার, ভূমিকা সাধারণত বোরিং হয়। বোরড হওয়ার ভয়ে থাকলে এইটা স্কিপ করে সরাসরি জোকে চলে যান। 

জিজেকের চিন্তার সাথে একমত না এমন লোক পাওয়া যাবে প্রচুর। অথচ জিজেকের আলাপ বোরিং এমন দাবী করার লোক  খুঁজে পাওয়াই কঠিন। কারণ জিজেক আইডিওলজি, লাকার সাইকোএনালিসিস, হেগেলিয়ান ডায়লেক্টিক্স থেকে শুরু করে যাবতীয় দুর্বোধ্য জিনিস ইলাস্ট্রেইট করে হয় পপ কালচারের অনুসঙ্গ নাহয় জোকের  সাহায্যে।  ফলে জিজেক কমেডিয়ান না হইলেও  চিন্তক হিসাবে তার কথাবার্তা ইন্ট্রেস্টিং। 


 
এমআইটি প্রেস জিজেকের রচনায় প্রাপ্ত সমস্ত জোক একত্রে ‘জিজেক’স জোকস: ডিড ইউ হিয়ার দি ওয়ান এবাউট হেগেল এন্ড নেগেশন?’  নামে বই প্রকাশ করে। রাজনৈতিক, দার্শনিক দিক ইলাস্ট্রেইট করে এমন জোকের একটা সংকলন। জোকগুলার বেশিরভাগই স্বভাবে ভালগার আর অফেন্সিভ। 

এইখানে বইটা থেকে ২০ টা জোক বাছাই করে অনুবাদ করা হইছে। বাছাই করছেন ইমরুল হাসান।

(যদি এই জোকগুলার কোনোটার কারণে অফেন্ডেড হন, অফেন্সিভ ও ভালগার জোক এইখানে আছে,  ইমরুল হাসানকে ধরেন! অবশ্য তারেও দোষ  পুরাপুরি দেওয়া যায় না। নাটের গুরু জিজেক।  আর অফেন্ডেড হওয়ার আগে মনে করায়ে দিতে চাই দুনিয়ার বেশির ভাগ জোকই ভালগার ও ট্যাবুকেদ্রিক। স্পেশালী মজার জোকসকল।)  

উনি অনুবাদক খুঁজতেছিলেন। বইটা আমার আগেই পড়া ছিলো। তাছাড়া হিউমার জিনিসটায় আমার আগ্রহের মাত্রাটা অবসেশন পর্যায়ের। অরাজি হওয়ার কিছু নাই।  

এই জোকগুলির অনুবাদ বিষয়ে কয়েকটা কথা  বলে মুখবন্ধ করি।  

হিউমার বা হাসি-তামাশা ব্যাপারটা এতই কালচার ওরিয়েন্টেড ও সাবজেক্টিভ জিনিস যে একদেশে যা ফানি লাগে অন্য দেশে তা বিরক্তিকর লাগা  স্বাভাবিক ব্যাপার। এর ফলে সবচেয়ে কঠিন  হয় জোক বা যেকোনো হিউমারাস লেখার অনুবাদের কাজ।  

ধরেন, ‘অরণ্যে রোদন’ বাগধারাটা কোন বাক্যের মধ্যে ‘অরণ্যে চোদন’ বলে ইশারা করে গেলাম। এইটা হয়তো হালকা হিউমারাস লাগবে অনেকের কাছে। তো, কেউ যদি সেই বাংলা বাক্যটার ইংরেজি করতে চায়, ‘অরণ্যে চোদন’ এক্সপ্রেশনটার ভাষান্তর কঠিন কর্ম হবে।  কারণ, বাংলাভাষীদের মতো ইংরেজিভাষীদের ‘অরণ্য রোদন’ কথাটার সাথে পরিচয় নাই, অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ড নলেজ নাই। অথচ যেকোনো হিউমারাস বা ফানি এক্সপ্রেশন অডিয়েন্স দ্বারা এক্সেপ্টেড হইতে ব্যাকগ্রাউন্ড নলেজ বা সেই জোকের শেয়ারড এ্যাজাম্পশন সম্পর্কে ধারণা না থাকলে জোকের মজা পাওয়া সম্ভব না।

এইকারণে আনিসুল হক বা কেকা ফেরদৌসীর নুডলস নিয়া   জোকগুলা বিদেশীরা শ্রেফ মজাই পাবে না,  যত ভালো অনুবাদক তার তর্জমা করুক না কেন।  হুমায়ূন আহমেদের নাটক বা উপন্যাসের অনুবাদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটবে। কাজের লোকের ‘আফা আমি বিবাহ করবো মনস্থ করেছি। ইজাজত দেন’। ধরণের বাক্যের অন্যভাষায় অনুবাদে কমিক ইফেক্ট হারায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

তবে সব জোকের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা একরকম না। যেগুলায় ভাষাগত সূক্ষ্মতা, কারিকুরি বেশি, যা পান (pun)-নির্ভর তার অনুবাদ প্রায় অসম্ভব। বাকিগুলা যা মূলত ক্ষুদ্র গল্প, যাদের কাঠামোগত কন্ট্রাডিকশন স্পষ্ট,  সেইগুলার চলনসই অনুবাদ সম্ভব এবং অনূদিত জোকে মজা পাওয়াও সম্ভব।

কে এম রাকিব ]
………………………………………………

জিজেকেরই এক ওয়াজে এইরকমের একটা ঘটনা আছিলো যে, উনার যেই ক্রিটিক সে ফ্রাঞ্জ ফাঁনোরে মেনশন কইরা জিজেকের সমালোচনা করছে, তো, জিজেক চেইতা গিয়া কইতেছে, আরে ফাঁনো তো আমার হিরো, তুই ফাঁনোরে নিয়া কথা কওয়ার কেডা! তো, জোকসের ক্ষেত্রেও এইটা হয়, যেই জোক আপনি কইলেন, আপনিই সেইটার মালিক হইতে পারলেন! কিন্তু এইরকম না যে, জোকগুলির কোন মিনিং নাই, কিন্তু মিনিংগুলিরে ইউজ করা যায়, মোল্ড করা যায়, এক একটা কনটেক্সটে এক একরকমভাবে। তো, জিজেক যেই কনটেক্সটে ইউজ করছেন, সেইগুলি মোস্টলি মিসিংই, এইখানে। বরং উল্টাভাবে, উনার জোকস কম্পাইল করলে কোনকিছু স্পষ্ট হয় কিনা উনার টেক্সটের বা টেস্টের সেইটার একটা বিচার হইতে পারে হয়তো। কিন্তু এমনিতে জোকস হিসাবে পড়াটাই মেবি বেটার।

জোকস বাছাই করার সময় তেমন কোন প্রায়োরিটি ছিলো না, সাইজে ছোট হইলে ভালো, এইরকমটাই ভাবছি। রাকিব তার অনুবাদে যেহেতু এডিট করার পারমিশন দিছেন আমি এই সুযোগটা এনাফ নেয়ার ট্রাই করছি। মানে, এই অনুবাদ রাকিবই করছেন, আমি কিছু শব্দের জায়গায় উনারে আরো ফ্রিডম নেয়ার লাইগা ফুঁসলাইছি আর কিছু জায়গায় নিজেই করে দিছি। আর বইয়ে  জোকগুলির আলাদা আলাদা কোন হেডলাইন নাই, এই নাম দেয়ার মাতবরিটাও আমি করছি। তো, অনুবাদ অনুবাদ-ই, এইখানে কোন অরজিনিলাটি খুঁজতে যাওয়াটা একটা আজাইরা জিনিস বইলাই মনেহয়, মোস্টলি।

ও, জিজেক বা যে কেউই যে খালি ইন্টারেস্টিং হইতে চান, এইটা একটা একস্ট্রিম মনোটনিই মনেহয় আমার কাছে। বি বোরিং অ্যান্ড রিড সাম জোকস! :) 

ই.হা.
………………………………………………

মুর্গিটা কি জানে

এক লোক ভাবতো সে একটা দানার ভিত্রের শাঁস। তো,  মানসিক হাসপাতালে নিয়া গেলে  ডাক্তার তারে বুঝাইলো যে,  সে শস্যদানার শাঁস না, মানুষ।  যা-ই হোক, সে ভালো হয়া গেলে (যখন  বুঝলো সে শস্যদানার ভিত্রের শাঁস না, একজন মানুষ) তারে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হইলো।  কিন্তু বাইর হওয়ার সাথে সাথে ডরে সে কাঁপতে কাঁপতে ফিরা আইলো, দরজার বাইরে একটা মুর্গি খাড়ায়ে ছিলো, তার ভয় অইটা তারে খায়া ফেলবে। ডাক্তার কইলো, ‘দেখেন, আপনি ভালো কইরাই জানেন যে আপনি দানার ভিত্রের কোনো শাঁস না। আপনি তো একজন মানুষ’।  লোকটা কইলো, ‘অবশ্যই আমি জানি।  কিন্তু মুর্গিটা কি জানে?’

 

লাল কালি 

আগের দিনের পূর্ব জার্মানিতে এই জোকটা চালু ছিলো। এক জার্মান সাইবেরিয়াতে একটা চাকরি পাইছে।  সে জানতো তার সব চিঠি সেন্সরের  লোকজন দেখবো। সে তার দোস্তরে কইলো, আসো  আমরা একটা কোড ঠিক করি, যদি নীল কালিতে লেখি তাইলে সত্যি, আর যদি লাল  কালিতে লেখি তাইলে বুঝবি মিথ্যা। ‘ এক মাস পরে  তার দোস্ত চিঠি পাইলো, নীল কালিতে লেখা: এইখানে সবকিছু খুবই ভালো, দোকান সবসময় জিনিসপত্রে ভরা থাকে, অনেক খাবার-দাবার আছে, বিশাল বড় এপার্টমেন্ট আর হিটিং-এর ব্যবস্থা আছে, মুভি-থিয়েটারে ওয়েস্টার্ন সিনেমা দেখায়, অনেক সুন্দরী মেয়ে বইসা রইছে প্রেম করার লাইগা, খালি একটাই সমস্যা, লাল কালি কিনতে পাওয়া যায় না।

 

কথা ঘুরাইয়ো না

পুরানা একটা জোক আছে যেইখানে এক লোক নরমাল টাইমের একটু আগে বাসায় ফিরা দেখে তার ওয়াইফ অন্য এক লোকের সাথে ন্যাংটা হয়া শুইয়া আছে। ওয়াইফ তো পুরাই অবাক। সে হাসবেন্ডরে কইলো,  ‘তুমি এতো আগে ফিরা আসছো ক্যান?’

লোকটা ক্ষেইপা গেলো, ‘তুমি আরেক ব্যাটার লগে বিছনায় করতেছোটা কী?’

‘আমি তোমারে আগে জিগাইছি, কথা অন্যদিকে ঘুরানের চেষ্টা কইরো না’।

 

আই অ্যাম নাথিং

পুরানা একটা ইহুদি জোক আছে, দেরিদার পছন্দের, যেইটায় সিনাগগে  খোদার কাছে কয়েকজন ইহুদি নিজেদের তুচ্ছতা  প্রকাশ্যে স্বীকার করতেছিলো।

প্রথমে একজন র‍্যাবাই দাড়ায়ে কইলো, ‘হে খোদা,  জানি আমি অধমের অধম। আই এ্যাম নাথিং।’
র‍্যাবাইয়ের বলা শেষ হইলে একজন পয়সাওয়ালা ব্যবসায়ী  দাঁড়ায়ে,  বুক চাপড়ায়ে কাইন্দা কাইন্দা কইলো, হে খোদা আমি অপদার্থ, দুনিয়াবি ধনসম্পদের মোহে কাতর, আই এ্যাম নাথিং’।

সবশেষে একজন বেচারা সাধারণ ইহুদি খাড়ায়ে বললো, ‘আই এ্যাম নাথিং’।

তখন ব্যবসায়ীটা র‍্যাবাইরে ঠোনা মাইরা কইলো: মালটা  কে যে বলে সেও  নাথিং!

 

জখম 

যিশু খ্রিস্টরে নিয়া পুরানা জাউরা একটা জোক আছে: যেইদিন উনি গ্রেফতার আর ক্রুশবিদ্ধ হইবেন, তার আগের রাতে তার শিষ্যরা দুঃচিন্তা করতেছিলো যে- যিশু তখনও ভার্জিন, মইরা যাওয়ার আগে তার একটু আনন্দের অভিজ্ঞতা লাভ কি ভালো হইবো না?

যিশু যেই তাঁবুতে রেস্ট নিতেছিলেন তারা মেরি ম্যাগদালেনরে সেইখানে গিয়া সিডিউস করতে রিকোয়েস্ট করলো। শে খুশিমনে রাজি হইলো আর যিশুর তাঁবুতে গেলো। পাঁচ মিনিট পরে চেইতা-টেইতা, ডরায়া ম্যাগদালেন বাইর হয়া আসলো। ‘ কী হইছে?’ শিষ্যরা জানতে চাইলো। শে কইলো, আমি ধীরে ধীরে কাপড় খুলছি, পা মেলছি শেষে যিশুরে আমার পুসি দেখাইছি।  উনি একবার দেইখা কইলেন, ‘ কি ভয়াবহ জখম! এই জখম অবশ্যই সারানো উচিত।’ বইলা আমার পুসিতে হাত রাখলেন।

তো, যারা অন্যের জখম সারাইতে খুবই আনচান করেন তাদের থিকা সাবধান। কেউ তার জখমে মজাও তো পাইতে পারে।

 

ভাঙ্গা ডিম আর অমলেট

তুর্কি কমিউনিস্ট লেখক পানাইট ইস্ত্রাতি ১৯৩০-এর দিকে সোভিয়েতে বেড়াইতে যান। তখন অনেক খুনোখুনি আর ট্রায়াল শো চলতেছিলো। সোভিয়েতের পক্ষের একজন লোক  তারে বোঝানোর চেষ্টা করতেছিলো যে, শত্রুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দরকার আছে, ‘ ডিম না ভাইঙ্গা তো আপনি অমলেট বানাইতে পারবেন না’।

ইস্ত্রাতির ছোট্ট জবাব দিলেন: আচ্ছা, অনেক ভাঙ্গা ডিম তো দেখতেছি। তোমাদের অমলেটগুলা কই?’

 

ভালো আঙ্কেল  

এইকালের একটা চাইনিজ জোক। দুইটা ফিটাস  মায়ের জরায়ুতে বইসা আলাপ করতেছে। একটা বলতেছে,  ‘আব্বায় আমাদের কাছে আসলে ভালই লাগে। কিন্তু শেষ দিকে সে এতো চেইতা যায় কেন, থুতু দিয়া আমাদের একদম ভিজায়ে  যায়?’

অন্য ফিটাস কইলো, ‘আসলেই। আমাদের আঙ্কেল অনেক ভালো। সে সবসময় মাথায় রাবারের বানানো একটা সুন্দর হ্যাট পইড়া আসে যাতে থুতু না ছেটে।’

 

সেক্স ও মাইগ্রেইন

সেক্স ও মাইগ্রেনের  সম্পর্কের তিনটা ভার্শন দিয়া হেগেলিয়ান লজিকের ত্রয়ী সুন্দরভাবে বুঝানো যায়। আমরা ক্লাসিক দৃশ্য দিয়া শুরু করতে পারি: একটা লোক ওয়াইফের সাথে সেক্স করতে চায়। ওয়াইফ বলে,’ সরি,  ডারলিং, আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা করতেছে। এখন ওইটা করতে পারবো না।’ এই সূচনা অবস্থাটারে নেগেইট বা উল্টাইয়া দেওয়া হয় নারীবাদী মুক্তির উত্থানের মাধ্যমে: ওয়াইফই এখন সেক্স ডিম্যান্ড করে আর  বেচারা ক্লান্ত লোকটা জবাব দেয়: ‘সরি, ডার্লিং, আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা করতেছে…’ শেষ মুহূর্তের নেগেশনের নেগেট কইরা পুরা লজিকটারেই উল্টায়ে দেওয়া হয়: ওয়াইফ বলতেছে, ‘ডারলিং, প্রচন্ড মাথাব্যথা করতেছে। আমার রিফ্রেশমেন্টের জন্যে  চলো সেক্স করি’।   কেউ চাইলে এমনকি ২য় ও ৩য় ভার্শনের র‍্যাডিকেল  নেগেটিভিটির করুণ মুহূর্তও কল্পনা করতে পারে:  হাসবেন্ড ও ওয়াইফ দুইজনেরই প্রচন্ড মাথাব্যথা আর দুইজনেই চুপচাপ  বইসা চা খাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়।

 

ইহুদিরা

দুই ইহুদি দোস্ত একটা ক্যাথলিক চার্চের সামনে দিয়া যাইতেছিলো, সেইখানে নন-ক্যাথলিকদের উদ্দেশ্যে সাটানো একটা পোস্টারে লেখা: আমাদের কাছে আসেন, ক্যাথলিসিজম গ্রহণ করে নগদে নিয়া নেন ৩০০০০ ডলার’।  হাঁইটা যাইতে যাইতে অফারটা সত্যি সত্যি দেওয়া হইছে কিনা সেইটা দুই দোস্ত তর্ক করতে ছিলো।

এক সপ্তা পর একই চার্চের সামনে দুই দোস্তের আবার দেখা। একজন আরেকজনরে ফিসফিস কইরা কইলো, ‘আমি এখনও ভাবি, অফারটা আসলেই সত্যি কিনা।’

আরেকজন কইলো, ‘আহা তোমরা ইহুদিরা টেকাপয়সা নিয়াই  খালি চিন্তা করলা!’

 

ঢুকাবো নাকি বাইর করবো?

একটা অশ্লীল জোকে এক বেকুব প্রথমবারের মতো সেক্স করতেছে,   তারে কি করতে হবে মেয়েটার তা বুঝায়ে দেওয়া লাগতেছে: ‘আমার দুই পায়ের মাঝখানে গর্ত দেখতেছ? ওইটা এইখানে রাখবা। তারপর ভেতরে ঢুকাবা। তারপর বাইর কইরা আনবা। ঢুকাবা,  বাইর করবা, ঢুকাবা, বাইর করবা, ঢুকাবা, বাইর করবা…’

বেকুব লোকটা কথার মাঝখানে মেয়েটারে থামায়, ‘এক মিনিট দাঁড়াও। আগে তুমি ভালো কইরা চিন্তা কইরা নাও। ঢুকাবো নাকি বাইর করবো?’

 

পুলিশ

পুলিশের দুর্নীতি নিয়া মকারি করা ইউগোস্লাভিয়ার একটা জোকে, একজন পুলিশম্যান অসময়ে বাসায় ফিরা দেখে তার বউ বিছানায় ন্যাংটা হয়া শুইয়া আছে,  অবশ্যই হট আর এক্সাইটেড। ওয়াইফের অন্য লাভার থাকতে পারে এমন সন্দেহে,  লোকটা ঘরে লুকানো কোনো বেটা মানুষের খোঁজ করতে থাকে। ওয়াইফের মুখটা শুকায়া যায় যখন সে খাটের নিচে উঁকি মারে। কিছুক্ষণ ফিসফিসানির পর, তৃপ্তির হাসি দিয়া পুলিশ বলে, ‘সরি জান, ফলস অ্যালার্ম! খাটের নিচে কেউ নাই।’ তার হাতে তখন শক্ত কইরা ধরা একতাড়া বড় অঙ্কের নোট।

 

মরতে থাকা মানুষদের রুম

হাসপাতালের অনেক বিছনাওয়ালা বড় একটা রুমে এক রোগী ডাক্তারের কাছে অভিযোগ করলো,  অন্য রোগীরা সারাক্ষণ চেঁচামেচি করে, তার মেজাজ খারাপ হয়ে যাইতেছে।

ডাক্তার জানাইলো, তার কিছু করার নাই। ওই রোগীরা জানে তারা মারা যাইতেছে, তাদের হতাশা প্রকাশে তো আর নিষেধ করা যায় না।

সেই রোগী ডাক্তাররে বললো,  যারা  মারা যাইতেছে তাদের আলাদা রুমে রাখেন না ক্যান?

ডাক্তার সাথে সাথে জবাব দিলো, যারা মারা যাইতেছে তাদের জন্যেই এই রুম।

 

দেয়ার ইজ অনলি ওয়ান, মাদার 

স্লোভেনীয় একটা জোকে, এক স্কুলবয়রে একটা সংক্ষিপ্ত রচনা লিখতে হবে, বিষয়:  There is only one mother’. যেইখানে এক্সপেক্টেড যে, স্কুলবয় এইটা নিয়া অনন্য অভিজ্ঞতা, ভালবাসা নিয়া লেখবে যা তার সাথে তার মা’রে রিলেট করে।  ছেলেটা যা লেখছে মোটামুটি এমন: একদিন আমি একটু আগেই বাড়ি ফিরছিলাম, কারণ টিচার সিক আছিলো। আমি বাড়িতে মায়েরে খুজতে গিয়া দেখলাম, সে ল্যাংটা হয়া শুয়ে খাটে আছে এক ব্যাটার সাথে, ব্যাটা আমার বাপ না। আমার মা রাগে চিল্লায়ে কইলো, ‘বলদের মতোন খাড়ায়া খাড়ায়া কী দেখতেছোস?দৌড়ায়া গিয়া ফ্রিজ থিকা দুইটা ঠান্ডা বিয়ার আনতেছোস না ক্যান আমাদের জন্যে?’

আমি দৌড়ায়ে কিচেনে গিয়া ফ্রিজ খুলে  দেখলাম, তারপর বেডরুমের দিকে চিল্লায়ে কইলাম, There is only one, mother!

 

তিন দোস্ত

বারে তিন দোস্ত ড্রিংক করতেছিলো।

পয়লাজন কইলো,  একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটছে আমার সাথে। ট্রাভেল এজেন্সিতে আমি বলবো, ‘পিটসবার্গের একটা টিকিট’ আর বইলা ফেলছি, টিটসবার্গের একটা পিকিট।’

দুসরা জন কইলো, এইটা আর এমন কি! সকালের নাস্তার টেবিলে,  আমার ওয়াইফরে বলতে চাইছিলাম, ‘জান, চিনিটা একটু দিতে পারো?’ অথচ বলে ফেলছি, কুত্তীর বাচ্চা, তুই আমার পুরা জীবনটা নষ্ট কইরা দিলি!’

তেসরা জন কইলো, ‘আগে শোনো আমার সাথে কি হইছে। সারারাত ধইরা সাহস কইরা ডিসিশান নিলাম, তুমি যা বলছো ঠিক ওইটাই সকালের নাস্তার টেবিলে আমার ওয়াইফরে বলবো। আর শেষ পর্যন্ত বললাম, ‘চিনিটা একটু দিতে পারবা, জান?’

 

ফাতিমারে চোদা 

একজন জিপসীরে একজন সাইকিয়াট্রিস্টের পরীক্ষার করা নিয়া একটা পুরান রেস্টিট জোক আছে যা আগেরদিনের যুগোস্লাভিয়ায় পপুলার আছিলো। সাইকিয়াট্রিস্ট প্রথমে ফ্রি এসোসিয়েশন কী তা জিপসিরে বুঝায়ে দিলেন: সাইকিয়াট্রিস্ট কোনো শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথে আপনার মনে যা আসে তা বলবেন।

সাইকিয়াট্রিস্ট এবার শুরু করলেন। বললেন, ‘টেবিল’ জিপসির  উত্তর, ‘ফাতিমারে চুততেছি’। কইলেন, ‘আকাশ’, জিপসির উত্তর, ‘ফাতিমারে চুদতেছি’ ইত্যাদি চলতে থাকলো, যতক্ষণ না  সাইকিয়াট্রিস্ট চেইতা গেলেন: আপনি বুঝতেছেন না! আমি কোনো শব্দ উচ্চারণ করলে আপনার মনে যে চিন্তাটা আসে সেইটা আমারে বলতে হবে!’।

জিপসির জবাব, ‘ হ, আমি আপনার কথা বুঝছি,  আমি বেকুব না, কিন্তু আমি সারাটাক্ষণ ফাতিমারে চোদার কথাই ভাবি।’

 

এ্যাবস্ট্রাক্ট ইউনিভার্সালিটি

বিভিন্ন প্রাণীর বিষয়ে বায়োলজির মাস্টার  পরীক্ষা  নিতেছিলেন এক ছাত্রের যে সবকিছুর উত্তর ঘোড়ার সংজ্ঞার দিকে নিয়া যাইতো: ‘হাতি কী?’ ‘একটা প্রাণী যা জঙ্গলে বাস করে, যেইখানে কোনো ঘোড়া নাই। ঘোড়া গৃহপালিত চতুষ্পদ স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা যাতায়াত, মাঠের কাজ বা গাড়িটানার কাজে ব্যবহৃত হয়।’ ‘মাছ কী?’ ‘একটা প্রাণী যার কোনো  ঠ্যাং নাই, যেইটা আবার ঘোড়ার আছে। ঘোড়া একটি গৃহপালিত,  চতুষ্পদ স্তন্যপায়ী প্রাণী…’ ‘কুকুর কী?’ ‘কুকুর একটি প্রাণী, যে ঘেউ ঘেউ করে, যা ঘোড়া থেকে আলাদা। ঘোড়া একটি গৃহপালিত, চতুষ্পদ, স্তন্যপায়ী প্রাণী…..’ ইত্যাদি শেষপর্যন্ত ত্যাক্ত মাস্টার জিগাইলো, ‘ আচ্ছা, ঘোড়া কী?’

এইবার বেকায়দায় পইড়া তব্দা খায়া গেলো ছাত্রটা। কোন উত্তর না দিতে পাইরা, প্রথমে মিন মিনি করে কিছু বলার ট্রাই কইরা হঠাৎ  কান্দা শুরু কইরা দিলো।

 

মার্ক্সএঙ্গেলস ও লেনিন 

মার্ক্স, এঙ্গেলস ও লেনিনরে জিগান হইলো তারা কোনটা বাইছা নিবেন,  ওয়াইফ নাকি মিস্ট্রেস? ইন্টিমেট ব্যাপারগুলিতে মার্ক্স সবসময় রক্ষণশীল বইলাই অতিপরিচিত, মার্ক্সের উত্তর: ওয়াইফ।

এঙ্গেলস, যিনি জানতেন কীভাবে জীবন উপভোগ করতে হয়, স্বভাবতই, উত্তর দিলেন ‘মিসট্রেস’।

চমকটা আসলো লেনিনের কাছ থিকা, যিনি উত্তর দিলেন: ‘ওয়াইফ ও মিস্ট্রেস, দুইজনই’। লেনিন কি এক্সেসিভ সেক্সুয়াল প্লেজার চাইতেছিলেন? না, যেহেতু তিনি দ্রুত ব্যাখ্যা করলেন: এইভাবে আপনি আপনার ওয়াইফরে বলতে পারবেন যে মিস্ট্রেসের সাথে আছেন আর মিস্ট্রেসরে বলতে পারবেন যে আপনি ওয়াইফের সাথে….’ ‘কিন্তু আসলে আপনি কী করবেন?’ ‘আমি একটা নির্জন জায়গায় যাবো, আর জ্ঞান অর্জন করতেই থাকবো, করতেই থাকবো!

 

লেনিন ওয়ারস-এ

মস্কোয় একটা আর্ট এক্সিবিশনে, একটা ছবিতে দেখানো হইতেছিলো লেনিনের ওয়াইফ নাদেজদা ক্রুপস্কায়ারে ,কমসোমলের একজন মেম্বারের সাথে বিছনায়। ছবির শিরোনাম: লেনিন ওয়ারস-এ।  অবাক হইয়া গাইডরে জিগাইলো,’ আচ্ছা, লেনিন কই?’

গাইড কইলো,  লেনিন ওয়ারস-এ।

 

রিভেঞ্জ

মোঙ্গলদের দখল করা ১৪ শতকের রাশিয়া। এক চাষা তার ওয়াইফের সাথে ধূলা ওড়া রাস্তায় হাঁটতেছিলো। ঘোড়ায় চইড়া এক  মোঙ্গল সেনা আইসা থামলো  তাদের পাশে।  চাষীরে জানাইলো, সে এইবার তার ওয়াইফরে রেপ করবে। তারপর বললো, যেহেতু এইখানে অনেক ধূলা, তুমি এক কাজ করো, তোমার ওয়াফরে রেপ করার সময় আমার বিচি ধইরা রাখো যাতে ময়লা না হয়। কাজকাম সারার পরে মোঙ্গল সেনা চইলা গেলে, চাষী আনন্দের চোটে লাফাইতে ছিলো, হাসতেছিলো।

চাষীর ওয়াইফ অবাক হইয়া জিগাইলো,  তোমার চোখের সামনে আমারে এমন নিষ্ঠুরভাবে রেপ করলো, আর তুমি এইভাবে আনন্দে লাফাও কেমনে?

চাষী জবাব দিলো, কিন্তু হেয় তো ধরা। ওর বিচি তো ধূলায় মাখামাখি হইয়া গেছে!

 

কুমির

এক রোগী ডাক্তারের কাছে অভিযোগ করলো যে তার বিছনার নিচে একটা কুমির আছে। ডাক্তার তারে বুঝায়ে কইলো যে এইটা, প্যারানোয়িক হ্যালুসিনেশন যা ধীরে ধীরে সাইরা যাবে। এতে রোগীর কুমির দেখা বন্ধ হইলো। কয়েক মাস পরে  কুমির দেখা সেই রোগীর এক বন্ধুর সাথে রাস্তায়  ডাক্তারের দেখা। ডাক্তার জিগাইলো তার রোগীর এখন কী অবস্থা?

বন্ধু বললো, ‘কোন জনের কথা বলতেছেন?  মরা লোকটা  যারে তার বিছনায় নিচে লুকানো কুমিরে খাইয়া ফেলছিলো?’

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
কে এম রাকিব

কে এম রাকিব

গল্পকার। অনুবাদক।আপাতত অর্থনীতির ছাত্র। ঢাবিতে। টিউশনি কইরা খাই।
কে এম রাকিব

লেটেস্ট ।। কে এম রাকিব (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.