Main menu

সেন্সরশিপ আর সাইলেন্স – উমবের্তো একো

[ইতালিয়ান ভাষায় লেখাটা ছাপা হইছিল ২০১১ সালে। ইংলিশে ট্রান্সলেট হইছিল ২০১২ সালে। ইতালিয়ান থিকা ইংলিশে ট্রান্সলেট করছেন Richard Dixon.]

আজকে আপনার যারা বয়সে ইয়াং, ভাবতে পারেন যে, veline হইতেছে সুন্দরী মেয়ে যারা টেলিভশন শো’গুলাতে নাচে, আর যে casino হইতেছে একটা হাউকাউের জায়গা।* i আমার জেনারেশনের যে কেউই জানে যে, ক্যাসিনো শব্দ দিয়া বুঝাইতো ‘মাগিপাড়া’ আর এর পরেই, কনোটেশন দিয়া, এইটার মানে আইসা দাঁড়াইছে ‘কেওটিক কোন জায়গা’, এখন যেহেতু এইটা তার আদি মানে হারায়া ফেলছে, আর আজকে যে কেউ, ইভেন একজ বিশপও, বিশৃঙ্খলা বুঝাইতে এইটা ইউজ করেন। একইরকমভাবে, bordello ছিল একটা বেশ্যাপাড়া, কিন্তু আমার গ্রান্ডমা, যিনি খুবই কঠিন মোরালিটি মহিলা ছিলেন, প্রায়ই বলতেন যে, ‘একটা bordello বানাইও না’; মানে হইতেছে, বেশি হৈ চৈ করবা না’; এই শব্দটা তার অরিজিনাল মিনিং পুরাপুরি হারায়া ফেলছে। আপনাদের মধ্যে যারা ইয়াং এইটা নাও জানতে পারেন যে, ফ্যাসিস্ট আমলে, veline ছিল হইতেছে কয়েকটা কাগজের শিট যেইটা দিয়া গর্ভমেন্টের যেই ডিপার্টমেন্ট (বলা হইতো মিনিস্ট্রি অফ পপুলার কালচার, শর্ট ফর্মে মিনিকালপপ – এইরকমের একটা রহস্যময় আওয়াজের নাম এভয়েড করার মতো হিউমার অদের ছিল না) কালচার কন্ট্রোল করতো, নিউজপেপারে পাঠাইতো। অই পাতলা কাগজের শিটগুলাতে লেখা থাকতো নিউজপেপারগুলার কোন কোন জিনিস নিয়া চুপ কইরা থাকতে হবে আর কোন কোন জিনিস অরা ছাপাইতে পারবে। এইভাবে, velina’টা, জার্নালিস্টিক জার্গনে, আসছে সেন্সরশিপ’রে সিম্বল হিসাবে দেখাইতে, কি গোপন করতে হবে, কোন ইনফরমেশন গায়েব কইরা দিতে হবে, সেইটা বুঝাইতে। ii

আজকে আমরা যেইটারে veline হিসাবে জানি – টেলিভিশনের শো-গার্লরা – হইতেছে, হাউএভার, পুরা অপজিট: অরা হইতেছে, যেইরকম আমরা জানি, বাহ্যিক দেখনদারির, ভিজিবিলিটির সেলিব্রেশন, আসলে খাঁটি ভিজিবিলিটির ভিতর দিয়া ফেইম এচিভ করার জিনিস, যেইখানে এপিয়েরেন্সটাই এক্সিলেন্সটারে ফুটায়া তোলে – এমনকি এইরকমের এপিয়েরেন্সরে একটা সময়ে কুরুচির ব্যাপার বইলাই ভাবা হইতো।

আমরা দুই ধরণের velina এইখানে পাইতেছি, যেইটারে আমি দুই ধরণের সেন্সরশিপের ফর্মের লগে তুলনা করতে চাই। পয়লা সেন্সরশিপ’টা হইতেছে সাইলেন্সের ভিতর দিয়া, সেকেন্ড সেন্সরশিপ হইতেছে হাউকাউয়ের ভিতর দিয়া; আমি এই কারণে velina শব্দটারে ইউজ করতেছি টেলিভিশনের ঘটনাটার একটা সিম্বল হিসাবে, শো’টা, এন্টারটেইনমেন্ট, নিউজ কাভারেজ, আর এইরকম কিছু দিয়া।

ফ্যাসিজম এইটা বুঝছে (যেইরকম ডিক্টেটর’রা জেনারেলি করে) যে, মিডিয়া যত কাভারেজ দেয় পথভ্রষ্ট ব্যবহার তত বাড়ে। যেমন ধরেন, velina কইলো, “সুইসাইড নিয়া লেখবা না’ কারণ সুইসাইড নিয়া কোন কথা কইলেই কয়দিন পরে এইটা দেইখা কারো সুইসাইড করার কথা মনে হইতে পারে। এইটা পুরাপুরি ঠিক – আমাদের এইটা ধইরা নেয়া ঠিক হবে না যে, ফ্যাসিস্ট হায়ার্কির মনে যা আসে তার সবকিছুই ভুল – আর এইটা খুবই সত্যি যে যেইসব ঘটনারে আমরা ন্যাশনাল সিগনিফিকেন্স ভাবি ঘটছে খালি মিডিয়াতে এইগুলা নিয়া কথা-বার্তা হইছে বইলা। যেমন ধরেন, ১৮৭৭ আর ১৯৮৯ সালের স্টুডেন্ট প্রটেস্ট; অইগুলা ছিল অল্প-সময়ের ঘটনা যেইগুলারে ভাবা হইছিল ১৯৬৮’র প্রটেস্টের আবার ঘটা, কারণ নিউজপেপারগুলা বলা শুরু করছিল ‘১৯৬৮ ফিরা আসতেছে।’ অইসব ঘটনাগুলাতে যারা জড়িত ছিল তারা ভালো কইরাই জানেন প্রেস অই ঘটনাগুলারে তৈরি করছিল, একইরকমভাবে প্রেস জেনারেট করে রিভেঞ্জ এটাকস, সুইসাইড, ক্লাসরুম শুটিং – একটা স্কুলে শুটিংয়ের নিউজ আরেকটা স্কুলের শুটিং’রে প্রভোক করে, আর অনেক রোমানিয়ানরা বুড়া মহিলাদেরকে রেইপ করার ব্যাপারে এনকারেজড হয় কারণ নিউজপেপারগুলা অদেরকে বলে যে, এইটা ইমিগ্রেন্টদের স্পেশালিটি আর এইটা করাটা সহজ: আপনারে যেইটা করা লাগবে কোন হাঁটা-চলার পথের ধারে, কোন রেলস্টেশনের কাছে বা এইরকম কোন জায়গা খালি একটু ঘুর ঘুর করা লাগবে।

পুরান-স্টাইলের velina বলবে যে, ‘যেইসব জিনিস বাজে হইতে পারে, সেইসব জিনিস এভেয়ড করার লাইগা, অইগুলা নিয়া কথা বলবা না’, আজকের দিনের velina কালচার বলবে যে, ‘বাজে জিনিসগুলা নিয়া কথা বলা এভেয় করার লাইগা অনেক বেশি অন্য জিনিস নিয়া কথা বলবা।’ আমি সবসময় এই ভিউ’টা নিছি যে, যদি কোন চান্স থাকে, আমি টের পাই যে আমার কোন আকামের কথা নিউজপেপার জাইনা গেছে আর আগামীকালকে ছাপা হইতে পারে, যেইটা নিয়া কঠিন বিপদে পড়তে পারি আমি তাইলে ফার্স্ট কাজ আমি যেইটা করবো, লোকাল পুলিশ হেডকোয়ার্টার বা রেলওয়ে স্টেশনের সামনে গিয়া একটা বোমা পুঁইতা আসবো। তাইলে পরের দিনের নিউজপেপারের ফন্টপেইজ ভরা থাকবে অইটা দিয়া আর আমার পারসোনাল আকাম’টা ভিতরের একটা ছোট স্টোরি হয়া থাকবে। আর কে জানে কতগুলা সত্যিকারের বোমা পুঁইতা রাখা হয় অন্য ফ্রন্ট-পেইজ স্টোরিগুলারে মুইছা দেয়ার জন্য। এই বোমাটার উদাহারণটা আওয়াজের দিক দিয়াও ঠিকঠাক, যেহেতু এইটা এমন একটা বিশাল নয়েজের উদাহারণ যা অন্য সবকিছুরে চুপ করায়া ফেলে।

হাউকাউ হয়া উঠে একটা কাভার। আমি মনে করি যে, এই হাউকাউয়ের সেন্সরশিপের আইডিওলজিটারে ভিনগেনস্টাইনের কাছে মাফ চাইয়া এইভাবে বলা যাইতে পারে, ‘যেইখানে কেউ কথা বলতে পারে না, সেইখানে তার ব্যাপক হাউকাউ করা দরকার।’ যেমন ধরেন, ইতালিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফ্ল্যাগশিপ TG1 নিউজ প্রোগামের কথা, এইটা হইতেছে এই টেকনিকের মাস্টার, কোন ছাগলের বাচ্চা দুই মাথা নিয়া জন্মাইছে আর ছিঁচকে চোর’রা ব্যাগ ছিনতাই কইরা নিয়া যাইতেছে, এইসব নিউজে ভরপুর, যেই ছোটখাট স্টোরিগুলা ভিতরের পেইজের নিচের দিকে থাকতো – সেইগুলা এখন এক ঘণ্টার ইনফরমেশনের চাইরভাগের তিনভাগ জুইড়া থাকে, এইটা নিশ্চিত করার জন্য যাতে আমরা খেয়াল না করি যেই নিউজগুলা কাভার করা দরকার সেইগুলা যে কাভার করা হইতেছে না এখন। কয়েক মাস আগে, বার্লাসকোনি যেই প্রেস কন্ট্রোল করেন, অইখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট যে প্রাইমমিনিস্টারের সমালোচনা করছিল তার অথরিটিরে ছোট করার জন্য, তারে দিনের পর দিন ফলো কইরা রিপোর্ট করা হইছিল যে, বেঞ্চের উপরে সিগ্রেট ফেলছিল, নাপিতের কাছে গেছিল, আর ফিরোজা রংয়ের মোজা পরে। একটা হাউকাউ করার লাইগা আপনার গল্প বানানির দরকার নাই। আপনার যা করতে হবে তা হইতেছে একটা গল্প বানাইতে হবে যেইটা সত্যি কিন্তু অদরকারি, একটা ছোট্ট সন্দেহ রাখতে হবে এই সিম্পল ফ্যাক্টটা দিয়া যে, এইটা রিপোর্ট করা হইতেছে। এইটা সত্যি আর অদরকারি যে ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজা রংয়ের মোজা পিন্দে, কিন্তু এইটা যে রিপোর্ট করা হইলো এই জিনিসটা অই সাজেশনটা ক্রিয়েট করে যা ঠিক কনফিউজড না, একটা মার্ক, একটা ইম্প্রেশন। একটা অদরকারি কিন্তু সত্যি জিনিসের মীমাংসা করার চাইতে কঠিন আর কিছু নাই।

La Repubblica’তে বার্লাসকোনি’র এগেনেস্টে ক্যাম্পেইনটাতে যেই ভুলটা করা হইছিল সেইটা হইতেছে একটা অদরকারি স্টোরিতে (নওমি’র বাড়িতে পার্টিতে) বেশি কাভারেজ দেয়া হইছিল। iii তার চাইতে, যদি, এইভাবে রিপোর্ট’টা করা হইতো – ‘বার্লাসকোনি গতকালকে সকালে পিয়াজা নাভোনো’তে গেছিলেন, উনার কাজিনের লগে দেখা করতে, আর উনারা একলগে বিয়ার খাইছিলেন… কি অদ্ভুত’ – এই জিনিসটা ঠেস মারার, সন্দেহ করার আর অস্বস্তির এমন একটা সিরিজরে ট্রিগার করতো যে এই আলাপ’টা অনেক আগেই বাতিল হয়া যাইতো। অল্প কথায় কইতে গেলে, একটা ফ্যাক্ট যেইটা অনেকবেশি রিলিভেন্ট তারে চ্যালেঞ্জ করা যায়, কিন্তু একটা অভিযোগ যেইটা আসলে কোন অভিযোগ না তারে তো চ্যালেঞ্জ করা যায় না।

দশ বছর বয়সে, একটা বারের দরজায় একজন মহিলা আমারে আটকাইছিলো, কইলো, ‘আমি তোমারে এক লিরা দিবো যদি তুমি আমার লাইগা একটা চিঠি লেইখা দেও – আমার হাতে তো ব্যথা।’ আমি তো খুবই ভদ্র বাচ্চা ছিলাম, রিপ্লাই দিলাম যে, আমার টাকা লাগবে না, একটা ফেভার হিসাবেই আমি এইটা কইরা দিবো, কিন্তু অই মহিলা আমারে একটা আইসক্রিম কিইনা দিতে চাইলো। আমি তারে চিঠি’টা লেইখা দিলাম আর বাড়িতে আইসা কইলাম কি হইছিল। ‘হায় খোদা,’ আমার আম্মা কইলো, ‘অরা তোরে দিয়া একটা বেনামী চিঠি লেখাইছে। আল্লা জানে, অরা যদি এইটা বুঝতে পারে কি কেলেংকারিই না হইবো!’ ‘দেখো,’ আমি কইলাম, ‘অই চিঠিতে তো খারাপ কিছু নাই।’ ইন ফ্যাক্ট, এইটা লেখা হইছিল টাকা-পয়সাঅলা বিজনেসম্যানরে, উনারে চিনতাম আমি (সিটি সেন্টারে উনার একটা দোকান আছিল) আর এইটাতে লেখা ছিল, ‘এইটা আমাদের নজরে আসছে যে আপনি জনাবা এক্স’রে বিয়ার জন্য উনার হাত চাইছেন। আমরা আপনারে জানাইতে চাই যে জনাবা এক্স একটি সম্মানিত ও ধনী পরিবারের একজন আর সারা শহরে খুবই ভালো বইলা পরিচিত।’ এখন, একটা বেনামী চিঠিতে তো যারে নিয়া লেখতেছেন তারে দোষ না দিয়া তাঁর প্রশংসা তো করবেন না আপনি। কিন্তু এই বেনামী চিঠি’টার পারপাস কি ছিল? যেহেতু যেই মহিলা আমারে রিক্রুট করছিলেন চিঠি’টা লেখার লাইগা উনার কোনকিছু বলার ছিল না, উনি এটলিস্ট একটা অস্বস্তি তৈরি করতে চাইছিলেন। চিঠি’টা যে পাইছিল সে অবাক হয়া যাওয়ার কথা, ‘অরা কেন আমারে এইরকম একটা চিঠি পাঠাইলো? এই “সারা শহরে খুবই ভালো বইলা পরিচিত” আসলে কি মিন করে?’ আমার বিশ্বাস টাকা-পয়সাঅলা বিজনেসম্যানটা শেষমেশ বিয়াটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা অই ভয়ে যে যারে নিয়া ঘর করবে, তারে নিয়া তো লোকজন গুজব ছড়াবে।

এই হাউকাউয়ের ফর্মটাতে যেই মেসেজগুলা বলা হইতেছে অইগুলা কোন পার্টিকুলার ইন্টারেস্টের ব্যাপার হওয়ারও দরকার নাই, যেহেতু একটা মেসেজ আরেকটা মেসেজের সাথে অ্যাড হয়, আর একসাথে হাউকাউটারে তৈরি করে। হাউকাউ অনেক সময় বিশাল বাড়তি’র ফর্মও নিতে পারে। কয়েক মাস আগে L’Espresso ম্যাগাজিনে সুন্দর একটা লেখাতে Berselli বলতেছিলেন, আপনারা কি বুঝতে পারেন যে এডভারটাইজমেন্টের আমাদের উপরে তেমন কোন এফেক্ট আর নাই? কেউ প্রমাণ করতে পারে না যে একটা সাবানের পাউডার আরেকটার চেয়ে বেটার (ইন ফ্যাক্ট অরা সব একই), তো, গত পঞ্চাশ বছর ধইরা কেউ একজন একমাত্র মেথড নিয়া আসছে, আমাদেরকে দেখায় যে, হাউজওয়াইভরা দুই প্যাকেটের বদলেও তাদের ব্রান্ড ছাড়তে রাজি না, অথবা গ্রান্ডমা’রা আমাদেরকে বলে যে এই বেয়াড়া দাগটাও চইলা যাবে যদি আমরা ঠিক পাউডার ইউজ করি। সাবান কোম্পানিগুলা এই কারণে ঘুরায়া-ফিরায়া বারবার এই ক্যাম্পেইনগুলা চালাইতে থাকে, একই মেসেজ দিয়া, যেইটা সবাই মন থিকা জানে, যেই কারণে এইটা প্রবাদমূলক একটা ব্যাপার হয়া উঠছে: “ওমো শাদার চে শাদা ধোলাই করে”, আর এইরকম। এইটা পারপাস হইতেছে দুইটা: আংশিকভাবে ব্রান্ডের নামটা রিপিট করা (অনেক ক্ষেত্রে এইটা একটা সাকসেসফুল স্ট্রাটেজি হয়া উঠে: যদি আমি সুপারমার্কেটে যাই আর সাবানের গুড়া চাই, আমি টাইড বা ওমো’র কথাই বলবো, কারণ গত পঞ্চাশ বছর ধইরা এই নামগুলাই জানি), আর আংশিকভাবে যে কাউরে বুইঝা ফেলা থিকা আটকানো যে সাবানের গুড়া নিয়া কোন জটিল আলাপ সম্ভব না – এর পক্ষেই হোক বা এর এগেনেস্টে। আর একই ঘটনা ঘটে অন্য এডভারটাইজিংয়ের ফর্মগুলাতেও: Berselli দেখাইতেছেন যে প্রতিটা মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপণে, আমরা কেউই আসলে বুঝি না কারেক্টারগুলা কি বলতেছে। কিন্তু এইখানে অরা কি বলতেছে সেইটা বুঝারও দরকার নাই – মোবাইল ফোন নিয়া হাউকাউ’টা হয় অইটা দিয়াই সেল ফোনগুলা বেচা হয়। আমার মনেহয় এইটা হওয়া খুবই সম্ভব যে কোম্পানিগুলা জয়েন্টলি রাজি হইছে অদের নিজেদের ব্যান্ডরে প্রমোট না কইরা জেনারেল পাবলিসিটি করতে, যাতে কইরা মোবাইল টেলিফোন কালচার’টা ছড়াইতে পারে। যদি আপনি স্যামসাং না কিইনা নকিয়া কিনেন, আপনি অন্য সব ফ্যাক্টরগুলা দিয়া বিবেচনা করবেন, অ্যাডভারটাইজিং দিয়া না। ইন ফ্যাক্ট পাবলিসিটি নয়েজের কাজ হইতেছে আপনারে অ্যাডভারটাইজিংয়ের স্কেচটারে মনে করায়া দেয়া, প্রডাক্টটারে না। সবচে প্লিজেন্ট, সবচে ভাল্লাগছিল এইরকম কোন এডভারটাইজিংয়ের কথা ভাবার ট্রাই করেন – এর মধ্যে অনেকগুলা পাইবেন ফানি – আর মনে করা লাগবে কোন প্রডাক্টের লগে ছিল সেইটা। কোন এডভারটাইজমেন্টের লগে যে কোন প্রডাক্টটা ছিল, সেইটা খুব কম সময়েই মনে করতে পারবেন আপনি: একটা বাচ্চা যে “Simmenthal” শব্দটা ভুল উচ্চারণ করে, বা মনে করেন ‘নো মার্টিনি, নো পার্টি’ বা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য Ramazzotti ভালো।’ এইসব কিছুতে হাউকাউ’টা অই জিনিসটারেই পূরণ করে যে প্রডাক্টের এক্সিলেন্স দেখানোর মতো এইখানে কিছু নাই।

ইন্টারনেট, অবশ্যই, যেইখানে সেন্সরের কোন ইনটেনশন নাই, তৈরি করে সবচে বড় হাউকাউটা, যেইখানে কোন ইনফরমেশন নাই। অথবা হয়তো: ফার্স্টে, আপনি ইনফরমেশন পান, কিন্তু জানেন না এইটা বিশ্বাস করার মতো কিনা; সেকেন্ড, আপনি ইনফরমেশন খুঁইজা পাওয়ার চেষ্টা করেন ইন্টারনেটে: খালি আমাদের মতন একাডেমিক আর রিসার্চারেরা, দশ মিনিট কাজ করার পরে, যেই ইনফরমেশনগুলা দরকার সেইগুলা সিলেক্ট করতে পারি। এর বাইরে বেশিরভাগ ইউজারেরাই ব্লগগুলাতে, বা একটা পর্ণ সাইটে, আর এইরকমকিছুতে, খুব বেশি দূর পর্যন্ত যাইতে না পাইরা আটকায়া যান, কারণ খুঁঁজাখুঁজি কইরা বিশ্বাসযোগ্য ইনফরমেশন উনারা পাইতে পারেন না।

হাউকাউয়ের কেইসগুলার দিকে আরো তাকাইলে দেখা যাবে যে, এইটা সেন্সর করার কোন ইচ্ছা থিকা শুরু হয় না, কিন্তু সেইটা না হইলেও একটা সেন্সরশিপের দিকে যাইতে থাকে, আমাদের চৌষট্টি পেইজের নিউজপেপারের কথাটাও বলা দরকার। সবচে দরকারি ইনফরমেশনগুলা দেয়ার লাইগা চৌষট্টি পেইজের মধ্যে তো অনেককিছুই চাইলে দেয়া যায়। এইখানে আবার, আপনাদের অনেকে বলবেন যে, “আমি তো নিউজপেপার কিনি অইটা খুঁইজা পাওয়ার জন্য যেইটা আমার ভালোলাগবো।’ অবশ্যই, কিন্তু যারা এইটা করতে পারেন তারা হইতেছেন একজন এলিট যিনি জানেন ইনফরমেশন নিয়া কি করতে হবে – আর এইখানে নিশ্চয় কোন ব্যাখ্যা আছে কেন নিউজপেপার বিক্রি হওয়া আর পড়ার সংখ্যা এতো ভয়াবহভাবে কমে যাইতেছে। ইয়াং লোকজন তো নিউজপেপার পড়ে না। La Repubblica বা Corrierre della’র সাইটগুলা তো ইন্টারনেটেই পাওয়া যায় – অইখানে, এটলিস্ট, সবকিছু এক স্ক্রীণে দেখা যায় – বা ফ্রি শিটগুলা ট্রেন স্টেশনে পড়া যায় যেইখানে দুই পেইজেই সব নিউজগুলা থাকে।

তো, এইভাবে, হাউকাউয়ের কারণে, আমরা একটা ইচ্ছাকৃত সেন্সরশিপ পাই – এইটা হইতেছে ঘটনা’টা যা টেলিভিশনের দুনিয়াতে ঘটতেছে, পলিটিক্যাল স্ক্যান্ডাল তৈরি হইতেছে, আর এইরকম কিছু – আর এইভাবে আমরা পাইতেছি একটা অনিচ্ছুক কিন্তু সর্বনাশা সেন্সরশিপ, যেইটা যুক্তির দিক দিয়া নিজেরা খুবই বৈধ (যেমন ধরেন, এডভারটাইজিং রেভিনিউ, প্রডাক্ট সেল, আর এইরকম জিনিসগুলা), বাড়তি ইনফরমেশন ট্রান্সফর্ম হইতেছে হাউকাউয়ে। এইটা (আর এইখানে আমি কমিউনিকেশন থিকা এথিক্সের দিকে যাইতেছি) হাউকাউয়ের একটা সাইকোলজি আর নৈতিকতাও তৈরি করছে। রাস্তাটা দিয়া যে বেকুবটা হাঁইটা যাইতেছে তার দিকে দেখেন, তার আইপডের হেডফোন লাগানো; সে একটা ঘন্টা ট্রেনে একটা নিউজপেপার পড়তে পারে না বা গ্রামদেশের দিকে তাকায়া থাকতে পারে না, তার জার্নির ফার্স্ট পার্টেই তারে তার মোবাইল ফোনে চইলা যাইতে হয়, বলা লাগে, “আমি বাইর হইলাম” আর জার্নির সেকেন্ড পার্টে বলা লাগে “আমি আসছি।” এইখানে লোকজন আছে যারা হাউকাউয়ের বাইরে থাকতে পারে না। আর এই কারণে রেস্টুরেন্টগুলা অলরেডি একটা হাউকাউয়ের জায়গা, একটা টেলিভিশন স্ক্রীণ দিয়া একস্ট্রা নয়েজ অফার করে – অনেক সময় দুইটা নয়েজ – আর মিউজিক বাজায়, আর আপনি যদি বন্ধ করতে বলেন, লোকজন এমনভাবে আপনার দিকে তাকাইবো যেন আপনি পাগল। এই যে হাউকাউয়ের লাইগা বিশাল একটা নিড এইটা একটা ড্রাগের মতন; কোন জিনিসটা সত্যিকারের ইম্পর্টেন্ট সেইটারে এভয়েড করার একটা রাস্তা হইতেছে এইটা। Redi in interiorem hominem (মানুশ সত্যের ভিতরই বাস করে) iv: হ্যাঁ, শেষমেশ, পলিটিক্সের আর টেলিভিশনের দুনিয়া নিয়া সেন্ট অগাস্টিনের এক্সাম্পলই আমাদের একটা ভালো আদর্শ দিতে পারে।

নিরবতার ভিতরে যেই ইনফরমেশনের সত্যিকারের পাওয়ারফুল উপায়টা এফেক্টিভ হয়া উঠে সেইটা হইতেছে – মুখের কথা। সব মানুশ, যখন তারা সবচে সেন্সর-করা জালিম দিয়া নির্যাতিত হয়, তারা দুনিয়ার সবকিছু জানতে পারে মানুশের পপুলার মুখের কথার ভিতর দিয়া। পাবলিশার’রা জানে যে, পাবলিসিট বা রিভিউ’র ভিতর দিয়া বই বেস্টসেলার হয় না, এইটা হয় ফ্রেঞ্চরা যারে বলে bounche a oreille ইতালিয়ানরা বলে passaparola – বই সাকসেসের জায়গায় পৌঁছায় ওয়ার্ড অফ মাউথ দিয়া। নিরবতা হারানোর ভিতর দিয়া আমরা অন্য লোকজন কি বলতেছে সেইটা শোনার সম্ভাবনাটা হারায়া ফেলি, যেইটা হইতেছে ঠিকঠাক যোগাযোগের সবচে বেসিক আর ভরসার জায়গা।

আর এই কারণে, শেষে, আমি বলতে চাই যে, আজকের দিনে যেই একটা এথিক্যাল প্রব্লেমের সামনাসামনি আমরা হইছি সেইটা হইতেছে কিভাবে আমরা নিরবতায় ফিরা যাইতে পারি। আর বিভিন্ন ধরণের যোগাযোগের মধ্যে নিরবতার ফাংশনটা কি সেইটা বুঝার জন্য সেমিওটিক্সের একটা সমস্যা হিসাবে নিরবতারে আরো ক্লোজলি স্টাডি করা দরকার আমাদের। একটা সেমিওটেক্সের নিরবতারে পরীক্ষা করার জন্য: এইটা হইতে পারে অল্প-কথা-বলার একটা সেমিওটিক্স, থিয়েটারে নিরবতার একটা সেমিওটিক্স, পলিটিক্সে নিরবতার একটা সেমিওটিক্স, পলিটিক্যাল বির্তকে নিরবতার একটা সেমিওটিক্স – অন্য কথায় বলতে গেলে, লম্বা বিরতি, সাসপেন্স তৈরি করার একটা নিরবতা, থ্রেট হিসাবে নিরবতা, রাজি হওয়ার নিরবতা, না-মানার নিরবতা, মিউজিকের নিরবতা। দেখেন কতোগুলা সাবজেক্ট আছে নিরবতার সেমিওটিক্স নিয়া স্টাডি করার। আমি এই কারণে আপনাদেরকে দাওয়াত দিতে চাই, শব্দ না, বরং নিরবতারে খেয়াল করেন।

 

The following two tabs change content below.
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য