Main menu

রুমি’র কাহিনি

চিটাগাং গেছিলাম ঘুরতে, ফয়েস লেকের রিসোর্টে থাকছিলাম দুইদিন। সেকেন্ড দিনে ওইখান থিকা জিইসি মোড়ে আইসা ব্যাংকের পুরান অ্যাকাউন্ট ক্লোজ কইরা জামালখানে বইয়ের দোকানে গিয়া বই কিনছিলাম কয়েকটা। রুমির কবিতা এর মধ্যে একটা, পেঙ্গুইন থিকা ছাপানো। কক্সবাজার যাওয়ার পথে পড়লাম, ঢাকায় ফিরার পথে আর ঢাকায় ফিরার পরে। পড়তে পড়তে মনে হইলো, কাহিনিগুলি বাংলায় লিখি। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

অনেকগুলি লিখলাম। অনেকগুলি পরে লিখবো বইলা দাগাইয়া রাইখা দিলাম।

কাহিনিগুলি খুব নতুন কিছু না। অন্য কোথাও হয়তো শুনছি বা পড়ছি। তবে কাহিনির ফ্যাক্টগুলি উইকিপিডিয়ার মতো অথেনটিক না। নিজের মতো কইরাই বলছেন। একটাকিছু বলতে চাইছেন উনি কাহিনি দিয়া, ঠিক যুক্তি দিয়া না। যে, দেখেন এইরকম কিন্তু ঘটে আর এইটার মানে কিন্তু এইটা। আমাদের এখনকার সিচুয়েশনটারে যখন যুক্তি দিয়া ব্যাখ্যা করতে পারতেছি না আমরা তখন এইভাবে কেউ যখন একটা কাহিনি দিয়া ডিফাইনড কইরা দিতেছেন, সেইটা তো ভালো লাগে। মনেহয় দুনিয়াটা খালি ইউরোপিয়ান এনলাইটমেন্টের কলোনি না, আরো আরো টেরিটরি আছে। যারা যারা এইরকম ভাবেন না উনারাও এইরকম কেউ কেউ ভাবে বইলা আনন্দ পান মে বি। এইসবকিছু নিয়া এখন কথা আর না বলি।

‘অন্ধকারের হাতি’ নামে একটা কাহিনি উনি লিখছেন (মানে, কাহিনিটা আরো অন্যান্য সোর্স থিকাও আমরা জানি), এইরকম: কিছু হিন্দু লোক একটা হাতি দেখানোর লাইগা নিয়া আসলো একটা জায়গায় যেইখানে কেউ কোনদিন হাতি দেখে নাই। অন্ধকার একটা ঘরে যখন হাতিটারে দেখতে গেলো এক একজন, শুঁড় ধইরা কয়, এইটা তো পানির পাইপের মতোন; ঠ্যাং ধইরা কয়, এইটা তো মন্দিরের থামের মতোন, দাঁত ধইরা কয়, এইটা তো পোরসালিন দিয়া বানানো তলোয়ার (সে আবার খুশি হয়, এইরকম সুন্দর কথা কইতে পাইরা)… মানে, আমরা যট্টুক দেখি সেইটা দিয়াই পুরাটারে বুঝতে পারতেছি তো! যদি সবার হাতে একটা কইরা মোমবাতি থাকতো, যদি সবাই একসাথে অন্ধকার ঘরটাতে ঢুকতো, তাইলে আসল হাতিটারে দেখতে পাইতো।

তো, রুমি হইতেছেন একটা মোমবাতি। আশা করি তার হাতিটারে দেখতে পারবো আমরা একদিন।

———————————————————————————-

রাতের বাতাস ।। সহবত ।। লম্বা দড়ি ।। বন্ধুর পিরীতি ।। ইমরাউল কায়েস ।। চাইনিজ আর্ট আর গ্রীক আর্ট ।। ঋণী দরবেশ।। দৌড়ানোর দু্‌ইটা পথ ।। জমি বানানি’র ইর্ম্পটেন্স ।। তিনটা মাছ ।। বাগদাদে থাইকা কায়রো’র স্বপ্ন দেখি, কায়রো’তে থাইকা বাগদাদের ।। শেখ খুররানি আর তার ঝগড়াইট্টা ওয়াইফ ।। সাপুড়ে আর জইমা-থাকা সাপ ।। আয়না পলিশ করা ।। তিন ভাই আর চাইনিজ রাজকুমার ।। গাধারে নিয়া একটা গান ।। ভালো-বিচার ।।

————————————————————————————

 

রাতের বাতাস

একজন মানুষ মরার টাইমে তার ধন-সম্পত্তি তার তিন পোলার মধ্যে ভাগ করার ইন্সট্রাকশন দিয়া গেছিলেন। উনি তার পোলাদের খুবই আপন আছিলেন। অরা তার সাইডে দেবদারু’র গাছের মতো দাঁড়ায়া ছিল, শান্ত আর শক্ত। উনি শহরের হাকিমরে কইলেন, “আমার পোলাদের মধ্যে যে সবচে আইলসা তারে আমার সব সম্পত্তি দিবেন।” তারপর তিনি মারা গেলেন।

হাকিম তখন তিন পোলার দিকে ঘুইরা কইলো, “তোমরা তিনজনেই আমারে তোমরার আইলসামির কথা কও যাতে কইরা আমি বুঝতে পারি তোমরা কি রকমের আইলসা।” সুফিরা আইলসামির ওস্তাদ। উনারা এইটার উপর ভরসা করেন, কারণ উনারা সবসময় দেখেন খোদা সারাক্ষণ উনাদের চারপাশে কাজ করতেছেন। ফসল উনাদের কাছে আসতেই থাকে, যদিও উনারা কোন সময় লাঙলটাও ধরেন না!

“আসো, আমারে কও কেমনে তুমি আইলসামি করো।”

প্রতিটা বলা কথা হইলো আমাদের ভিতরের আত্মা’র একটা ঢাকনা। একটা ছোট পর্দার কাপড় যা একটা রোস্টের মাংসের স্লাইসের চাইতেও পাতলা, শত শত জ্বইলা যাওয়া সূর্যরে দেখাইতে পারে। যা কিছু বলা হইতেছে সেইটা যতোই মামুলি আর ভুল হোক যে শুনে সে ঠিকই বুঝে কই থিকা আসছে এইটা। একটা বাতাস আসে বাগানের দিক থিকা। আরেকটা বাতাস আসে ছাইয়ের গাদা থিকা। চিন্তা করেন একটা শিয়াল আর সিংহের আওয়াজ কি রকম ডিফরেন্ট, আর কি কথা অরা কয় আপনারে!

কেউ একজন রান্নার ডেকচির ঢাকনা খুলতেছে শুইনা আপনি বুঝতে পারেন রাতের খাবারের লাইগা কি রান্ধা হইতেছে। যদিও অনেক মানুষ খালি গন্ধ শুঁইকাই বুঝতে পারে ভিনেগার দিয়া একটা টক স্যুপ থিকা একটা মিষ্টি স্টু রান্ধা হইতেছে। একজন মানুষ একটা মাটির পট কিনার আগে টুকা দিয়া সাউন্ড শুইনা দেখে কোন ফাটা আছে কিনা।

সবচে বড়ভাইটা হাকিমরে কইলো, “আমি কোন মানুষরে তার গলার স্বর শুইনাই বুইঝা ফেলতে পারি। আর সে যদি কথা না কয়, আমি তিনদিন ওয়েট করি, আর তখন ইনটিউশন দিয়া তারে বুঝতে পারি।

সেকেন্ড ভাইটা কইলো, “কেউ কথা কইলেই আমি তারে বুঝতে পারি, আর যদি সে কথা না কয়, তাইলে আমি জানি কেমনে আলাপটা শুরু করা লাগবো।” তখন হাকিম কইলেন, “সেও যদি ট্রিকটা জানে তাইলে কি হইবো?” এই কথা শুইনা আমার সেই মা’র কথা মনে হইলো যে তার বাচ্চারে কইছিল, “যখন রাতে গোরস্তানের ভিতর দিয়া হাঁইটা যাস আর যদি ভূত দেখিস, তাইলে ওইটার দিকে দৌড় লাগাইবি। ওইটা তখন পালাইয়া যাইবো।” বাচ্চাটা কইলো, “ভূতের আম্মা যদি ভূতরে এই কথাটা কইয়া দেয় তাইলে কি হইবো? ভূতেরও তো মা আছে।” সেকেন্ড ভাইটা কোন উত্তর দিতে পারলো না।

হাকিম তখন সবচে ছোটভাইটারে জিগাইলো। “যদি কোন মানুষরে দিয়া কোন কথা না কওয়ানো যায়, তুমি কেমনে তার গোপন আত্মারে বুঝতে পারবা?” “আমি তার সামনে নিরব হইয়া বইসা থাকবো, আর একটা ধৈর্য্যের মই রাখবো সাইডে, আর যদি তার থাকাতে এমন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ আসে আমার মনে যেইটা আনন্দের বাইরে, দুঃখেরও বাইরে আমি তখন বুঝতে পারবো যে অর আত্মা হইতেছে ইয়েমেনের আকাশে ক্যানোপাস তারা’র মতোন গভীর আর উজ্জ্বল। আর এইজন্য আমি যখন কথা কইতে শুরু করবো শব্দগুলির শক্তিশালী একটা ডানহাত নিচের দিকে ঝুঁইকা পড়বে, আমি যা বলতেছি আর যেমনে বলতেছি তা থিকা আমি অরে জানতে থাকবো, কারণ আমাদের মাঝখানে তখন একটা জানালা খুইলা যাবে, আমাদের অস্তিত্বের রাতের বাতাস তাতে মিইশা থাকবে।”

ছোট পোলাটাই আছিলো আসলে সবচে আইলসা। সে জিতছিলো।

 

চাইনিজ আর্ট আর গ্রীক আর্ট

নবীজি বলছিলেন, “অনেকেই আছে, অদেরকে আমি যেমনে দেখি অরা আমারে একইভাবে দেখতে পারে।  আমার দেখা একইরকম। বংশ বা সূত্রের কোন রেফারেন্স ছাড়া, কোন কিতাবের কথা বা পরম্পরা ছাড়া আমরা জীবনের পানি পান করি একসাথে।” একটা গল্প আছে এইরকম গোপন রহস্যের:

চাইনিজরা আর গ্রীকরা কথা কাটাকাটি করতেছিল কে বেটার আর্টিস্ট – এইটা নিয়া। তখন রাজা কইলেন, “ঠিকাছে, একটা বাহাসের ভিতর দিয়া আমরা এর সমাধান করবো।” চাইনিজরা কথা কইতে শুরু করলো, কিন্তু গ্রীকরা কিছুই কইলো না। অরা চইলা গেলো। তখন চাইনিজরা কইলো, ঠিকাছে, আমাদেরকে ছবি আঁকার লাইগা একটা রুম দেন, দুইটা রুম যাতে মুখামুখি থাকে আর একটা পর্দা দিয়া রুম দুইটা আলাদা কইরা দেন।

চাইনিজরা রাজার কাছে একশ রকমের রঙ চাইলো, সব রকমের। আর প্রতিদিন সকালে যেইখানে রঙগুলি রাখা আছে সেইখানে আসতো আর সবগুলি নিয়া যাইতো। গ্রীকরা কোন রঙ-ই নিতো না। “এইগুলা আমাদের কোন কামে লাগবো না।” অরা অদের রুমে চইলা যাইতো আর ওয়ালগুলি সাফ-সুতরা করতো আর পলিস করতো। প্রত্যেকদিন অরা সবগুলি ওয়ালরে খোলা আকাশের মতো পিওর আর ক্লিয়ার বানায়া রাখতো। একটা পথ আছে যেইখানে সব রঙ রঙহীনতার দিকে যায়। জাইনা রাখো, মেঘের এই যে মহৎ বৈচিত্র আর আবহাওয়া এরা তো আসে সূর্য আর চাঁদের সিম্পলিসিটি থিকা।

চাইনিজরা যখন আঁকা শেষ করলো, অরা খুবই খুশি হইলো। এই আনন্দে অরা ড্রাম বাজাইতে লাগলো। রাজা অদের রুমে ঢুকলো আর এইরকম গর্জিয়াস কালার আর ডিটেইল কাজ দেইখা পুরা টাস্কি খাইয়া গেল। তারপর গ্রীকরা সেই পর্দাটা সরায়া দিলো যেইটা দিয়া রুম দুইটা আলাদা করা ছিল। চাইনিজদের ফিগার আর ইমেজগুলি ধিকিধিকি কইরা জ্বলতে লাগলো গ্রীকদের ক্লিয়ার দেয়ালগুলিতে। ওইখানে ওই ছবিগুলারে আরো বেশি সুন্দর লাগতেছিল, মনে হইতেছিল ওরা আরো বেশি জ্যান্ত, আর সারাক্ষণ আলো চেইঞ্জ হইতেছিল। গ্রীকদের আর্ট হইতেছে সুফিদের ঘরানার। অরা ফিলোসফিক্যাল চিন্তার বই-টই পড়ে না। অরা অদের প্রেমরে খালি স্পষ্ট কইরা তোলে। কোন চাওয়া নাই, কোন চেত নাই। আর এই পবিত্রতার মধ্যে অরা প্রতিটা মুর্হূতের ইমেজগুলিরে নিজেদের ভিতরে নেয় আর রিফ্লেক্ট করে। এইখান থিকা, নক্ষত্রের কাছ থিকা আর ভয়েডের ভিতর থিকা। যা কিছু অরা দেখে সবকিছুরেই অরা নেয় আলোর স্বচ্ছতা দিয়া, যারা দেখে অদেরকে, তাদের কাছ থিকা।

 

সহবত

একটা ইঁদুর আর একটা ব্যাঙের প্রতিদিন নদীর ধারে দেখা হইতো। তীরের কাছে ওরা দুইজন বসতো আর কথা কইতো। প্রতিদিন সকালে যখনই দেখা হইতো ওরা সাথে সাথে ওপেন-আপ করতো, নিজেদের গল্প, স্বপ্ন, গোপন কথাগুলি, কোন ডরের কারণে এম্পটি হয়া যাওয়া অথবা সন্দেহ যা তারা ধইরা রাখছিল নিজের মনে, সবকিছু নিয়াই কথা কইতো। এই দুইজনরে দেখলে বইয়ের সেই লেখার কথা মনে হইতো যে, অনেকসময় দুইটা অস্তিত্ব যখন কাছাকাছি আসে খোদার নূর তখন দেখা যায়।

ইঁদুরটা একটা গল্প বলে যেইটা সে গত পাঁচ বছরে একবারও ভাবে নাই, আর তার কইতেও হয়তো আরো পাঁচ বছর লাগতো। নদী যেমন সবকিছু নিয়া যাইতে থাকে, থামে না কখনোই, সত্যিকারের ভাব-হওয়াটা এইরকমই একটা জিনিস। তাদের মধ্যে কখনোই কোন ঝামেলা হয় নাই।

একজন ফ্রেন্ড যখন আরেকজন ফ্রেন্ডের পাশে বসে, একটা টেবিল এমনেই চইলা আসে। তারা একজন আরেকজনের কপালের দিকে তাকায়া যার যার রহস্য পড়তে থাকে। কিন্তু একদিন ইঁদুরটা কমপ্লেইন করলো, “এমন অনেক টাইম আছে যখন আমি তোমার সহবত চাই, বাট তুমি তো পানিতে থাকো, ওইখানে ঘুরতে থাকো, আমার কথা তো তুমি শোনো না! একটা টাইম ঠিক কইরা আমরা দেখা করি, কিন্তু বইয়ে তো বলে যে, লাভার’রা সারাক্ষণই প্রেম করে। দিনের মধ্যে একবার, সপ্তাহে একদিন, ঘণ্টার মধ্যে পাঁচবার – কোনটাই এনাফ না। আমাদের মতো মাছেদের তো পুরা সাগর দরকার! উটের ঘণ্টাগুলি কি বলে যে, “আমরা থার্সডে নাইটে দেখা করবো নে? হাস্যকর ব্যাপার-স্যাপার। তারা একলগে বাজে, কথা কয় যখন উট’টা হাঁটতে থাকে।”

তুমি কি নিজের লগে নিজে প্রত্যেকদিন দেখা করো? আর্গু কইরো না, ভাইবা-চিন্তা জবাব দিও। আসো আমরা মইরা যাই, আর মইরা যাওয়াটাই হইলো এর জবাব।

 

লম্বা দড়ি

ইঁদুরটা তার পিয়ারা ব্যাঙ’রে কইলো, “তুমি কি জানো তুমি আমার কাছে কি? দিনের বেলা তুমি আমার কাম করার এনার্জি। আর রাতে তুমি হইলা আমার গভীর ঘুম। কিন্তু আমরা কি টাইমের বাইরেও থাকতে পারি না টাইমের ভিতরে থাইকা?

ফিজিক্যালি আমরা খালি নাশতার সময় দেখা করি। আর দিনের বাকিটা সময় আমার মন তোমার লাইগা আনচান করে। পাঁচশবারের বেশি আমি পানি খাই; এমনভাবে খাওয়া-দাওয়া করি যাতে আমি মইরা যাইতে পারি। আমারে বাঁচাও!

আমি জানি আমি তোমার যোগ্য না, কিন্তু তোমার দিল তো বড়!

তোমার সূর্যের আলো এই গোবরের দলার উপরে রাখো, আর শুকায়া ফেলো, যাতে আমি ফুয়েল হিসাবে ইউজড হইতে পারি একটা গোসলের ঘরে, বাতি জ্বালাইতে পারি আর পারি প্লেইসটারে ওর্য়াম কইরা তুলতে। দেখো, কি আজাইরা আর বাজে কাজ আমি করছি, ঔষুধি-জিনিস আর গোলাপরে বাইর কইরা আনছি তাদের ভিতর থিকা। সূর্যটা মাটির লগে এই কাম করে। দেখো, আল্লার কি কুদরত, ফার্টিলাইজারের পাপ থিকা উনি কি কি বানায়া ফেলেন।”

ইঁদুরটা মিনতি করতেই থাকতেছিল, “বন্ধু রে, আমি জানি আমি দেখতে ভালো না তোমার কাছে। আমার কাছেও আমারে দেখতে ভাল্লাগে না। আমি তো দেখতে পচা-ই। কিন্তু দেখো, যদি আমি মইরা যাই, তোমার তো খারাপ লাগবো, লাগবো না? এরপরেও তো তুমি আমার কবরের পাশে বসবা, কানবা না একটু? আমি খালি আরেকটু বেশি টাইম ধইরা চাইতেছি তোমারে যতক্ষণ আমি বাঁইচা আছি! এখনই চাই আমি তোমারে, তুমি এখনই আসো!”

একবার এক ধনীলোক একজন সুফিরে একটা রূপার কয়েন দেয়ার সময় কইলো, আপনি কি এখন একটা কয়েন নিবেন? নাকি কালকা সকালের নাশতার সময় তিনটা কয়েন নিবেন? সুফি কইলেন, আমার হাতে যে গতকালকার আধাটা কয়েন আছে সেইটারে আমি আজকের পুরা কয়েন আর আগাকীকালকার একশটা কয়েনের চাইতে বেশি ভালোবাসি। একজন সুফি হইলো একটা মোমেন্টের শিশু।

‘চেহারা দেখলেই সব বোঝা যায়, বুঝছো?’ অর্কিডের গাছটার দিকে তুমি তাকাও আর বুঝতে পারবা গতকাল রাতে বৃষ্টি হইছিল কিনা। ওইটার ফ্রেশনেস দেখলেই তুমি বুঝতে পারবা।

আবারো, ইঁদুরটা কইতেছিল, “বন্ধু রে, এই মাটি থিকা আমি জন্মাইছি আর এই মাটির লাইগাই জন্মাইছি। তুমি হইলা পানি। নদীর কিনারে দাঁড়ায়া আমি সারাক্ষণ তোমারে ডাকি। দয়া করো আমারে। আমি তো তোমার লগে পানিতে যাইতে পারি না। তোমার লগে টাচে থাকার কোন উপায় কি নাই? ধরো, কোন দূতয়ালি? কোন রিমাইন্ডার সিস্টেম?”

দুই বন্ধু মিইলা ঠিক করলো জবাবটা হইবো অনেক লম্বা, একটা ঝুইলা থাকা! দড়ির একটা মাথা ইঁদুরের ঠ্যাংয়ে বান্ধা থাকবো, আরেকটা পা ব্যাঙের ঠ্যাংয়ে; দড়িতে টান পড়ইলেই ওরা বুঝতে পারবো যে, একজনের আরেকজনরে মনে পড়ছে; যেমনে শরীর আর আত্মা বান্ধা থাকে।

ব্যাঙের মতোন আত্মা শরীর থিকা বাইর হয়া যায় আর খুশির পানিতে খেলতে থাকে। তখন ইঁদুরের শরীর দড়িতে টান দেয় আর আত্মাটার মনে পড়ে, হায় হায়, আমার তো নদীর তীরে যাওয়া লাগবো আর কথা কইতে হইবো পাগলা ইঁদুরের লগে। যখন আপনি জাইগা উঠবেন তখন এইরকম আরো কথা শুনতে পাইবেন হাশরের দিনে। তো, ব্যাঙ আর ইন্দুর এইরকম দড়ি বাইন্ধা রাখলো যদিও ব্যাঙটার মনে হইতেছিল যে, সামনে কোন ঝামেলা আইতেছে।

কিন্তু সে তার ইনটেশনরে পাত্তা দেয় নাই। যখন আপনার কোনকিছু নিয়া মন থিকা না, না শুনবেন সেই কাজ কইরেন না। মনের কথা শুইনেন। এই সিগন্যালগুলি আল্লার কাছ থিকা আসে। যখন ইউসুফরে তার ভাইয়েরা দুইদিনের লাইগা দেশের বাইরে নিয়া যাইতে নিছিলো তখন নবী ইয়াকুবেরও এইরকম মনে হইছিলো। কানা মানুষেই খালি উস্টা খাইয়া গর্তে পড়ে না, যারা দেখে, তারাও পড়ে অনেকসময়। ভালা মানুষরাও ভুল করে অনেকসময়; কিন্তু এই দুর্দশা সে কাটায়া উঠে, ইল্যুশনগুলি পার হইয়া, ট্রাডিশন্যাল ধর্ম পার হইয়া, সে নিজেই একটা ঘটনা হইয়া উঠে। ভাবেন, কেমনে একটা না-থাকা জিনিস একটা জিনিস হয়া উঠে! সকাল আর রাত একজন আরেকজনের কাছ থিকা একজন আরেকজনরে নিয়া নেয়; কয়, “এখন আমার টাইম। তুমি বাইর হও।” যখন পোলার টাইম আসে তখন বাপে তার সবকিছু গোছাইয়া নেয়। যখন মনেহয় আমরা বইসা আছি, আমরা আসলে চলতেছি। ঘটনার ফ্যাণ্টাসিগুলি আমাদের সামনে দিয়া যাইতে থাকে, যেমন পর্দার ভিতর দিয়া চিন্তাগুলি সইরা যায়। আমাদের মনের ভিতরে গভীর প্রেমের তারা থাকে। আমাদের পাত্রগুলি ফিল-আপ করে আর চইলা যায়। একটা সোর্স থিকা তারা আসে আর একটা ঝর্ণার মতো বইতে থাকে আমাদের ভিতরে।

উদার হইয়েন। শোকর মাইনেন আল্লার কাছে। আপনি যা না সেইটা স্বীকার কইরেন।

আমরা তো জানি না মহামহিমের মনের ভিতরে কি আছে!

আর আমি-ই বা কেডা, এই চিন্তার ট্রাফিক-জ্যামে দাঁড়ায়া আছি?

 

বন্ধুর পিরীতি

নদীর পাড়ের ওই ইন্দুরটার কথা মনে আছে? যে পানিতে তার প্রেমের দড়ি ছাড়ছিলো, ব্যাঙটার লাইগা। হঠাৎ কইরা একদিন এক দাঁড়কাক আইসা ইন্দুরটারে তুইলা নিয়া গেলো। দড়িটা যেহেতু বান্ধা ছিল ব্যাঙের ঠ্যাঙে। ব্যাঙটাও তখন নদীর তলা থিকা উইঠা উড়তে লাগলো। তার ঠ্যাংয়ের মধ্যে যে সুতা বান্ধা আছে সেইটা তো ইনভিজিবল, দেখা যায় না। লোকজন অবাক হইয়া জিগায়, আরে একটা দাঁড়কাক কেমনে পানির নিচে গেলো আর একটা ব্যাঙরে ধইরা নিয়া আসলো?

ব্যাঙটা জবাব দেয়, এইটাই হইলো বন্ধুর পিরীতের কেরামতি। দুই বন্ধু যে এক হয়, সেইটা জগতের নিয়মের মতে হয় না। স্পিরিচুয়াল ক্লোজনেস তোমাদেরকে বুঝানো যাইবো না। একটা গমের দানা আরেকটা গমের দানার দিকে যায় না, একটা পিঁপড়াই তারে নিয়া যায়। একটা কালা জমিনে কালা পিঁপড়া নিয়া যায়। আপনি এইটা দেখত পাইবেন না, কিন্তু যখন একটা দানা যায় আপনি জানবেন যে, এইটা আছে।

একটা হাত পাখির খাঁচাগুলিরে দোলায়। কেউ কাছে আসে। কেউ দূরে সইরা যায়। এইটা যুক্তি দিয়া বোঝার ট্রাই কইরেন না। খালি কনশাস থাকেন কে আপনারে টানে আর কে আপনারে টানে না। জিবারাইল সবসময়ই ছিল যিশুর সাথে। কালা-নীল খিলানের উপর দিয়া, দুনিয়ার রাইতের-দুর্গের উপর দিয়া সে তারে নিয়া গেছিলো; যেইভাবে দাঁড়কাকটা নিয়া যায় উড়ন্ত ব্যাঙটারে।

 

ইলাসট্রেশন: jelauddinrumi.tumblr.com থিকা নেয়া।

ইলাসট্রেশন: jelauddinrumi.tumblr.com থিকা নেয়া।

 

ইমরাউলকায়েস

ইমরাউল-কায়েস আছিলেন আরবের রাজা, খুবই হ্যান্ডসাম, কবি আর লিখতেন খালি প্রেমের গান। মাইয়ারা ছিল উনার প্রেমে পুরা ফিদা আর সবাই উনারে খুবই ভালোবাসতো। এক রাতে একটা ঘটনা ঘটলো যা সবকিছু চেইঞ্জ কইরা দিলো। রাজ্য আর ফ্যামিলি ছাইড়া দিয়া দরবেশের পোশাক পইড়া এক জায়গা থিকা আরেক জায়গায় ঘুরতে লাগলেন ইমরাউল-কায়েস।

এইরকম ঘুরতে ঘুরতে তাবুকে আসলেন। ইট বানানোর কাজ করতেন সারাদিন। কেউ একজন উনারে চিনার পরে তাবুকের রাজারে  উনার কথা কইলো; রাজা রাতের বেলা দেখা করতে গেলেন ইমারউল-কায়েসের লগে। কইলেন, “আরবের রাজা আপনে, আমারার সময়ের ইউসুফ, দুইটা রাজ্যের রাজা, কত শত টেরিটোরি আপনার আন্ডারে, এইগুলা বাদ দেন মাইয়ারা তো তাদের বিউটি নিয়া আপনার লাইগাই ওয়েট করে, আপনি যদি আমার লগে থাকেন, আমি খুবই অর্নাড হবো।” রাজা আরো প্রেইজ করতে লাগলো ইমরাউল-কায়েস’রে ধর্মের কথা, দর্শনের কথা কইয়া। ইমরাউল-কায়েস চুপ কইরা শুনতেছিলেন। একটা সময় হঠাৎ উনি রাজার কানে কানে কিছু কইলেন। রাজা পুরা চমকাইয়া উঠলেন।

রাজ তরবারি, রাজার পোশাক সব ফালায় দিয়া উনারা পথে পথে হাঁটতে লাগলেন। প্রেম হইলে এইরকমই হয়। এইটা বড়দের কাছে মধু’র মতো লাগে আর বাচ্চাদের কাছে দুধের মতো। প্রেম হইলো সেই ত্রিশ কেজির বস্তা যেইটা রাখলে নাওটা ভাইসা উঠে পানির উপরে, আর ডুবতে পারে না।

উনারা পাখির মতো চীনদেশে ঘুইরা বেড়াইলেন, অল্প অল্প দানা খাইলেন। কিন্তু কখনোই খুবএকটা কথা কইতেন না নিজেদের মধ্যে; কারণ ভয়াবহ সিক্রেটটা খালি উনারাই জানেন। প্রেম যখন কথা কয় তখন একটা সুঁইয়ের টান দিয়া একশো হাজার মাথা গাঁইথা ফেলা যায়। হৃদয়ের তৃণভূমিতে যখন প্রেমের-সিংহ তাকায়, যখন সেই গোপনের তরবারি আগাইতে থাকে তখন মনেহয় মইরা যাওয়া ভালো, বাঁইচা থাকার চাইতে। দুনিয়ার সমস্ত ক্ষমতা এই দুর্বলতারে পাইতে চায়। সো, এই দুইজন রাজা খুব লো টোনে কথা কইতেন নিজেদের লগে, কি যে কইতেন, এক আল্লাই জানে!

উনারা কিচিরমিচির করতেন, কথা কইতেন পাখির ভাষায়। কিছু লোক উনাদের কথা শুইনা শুইনা কিছু শিখছিলো। ওরা তখন সোসাইটিতে জ্ঞানী লোকের মর্যাদা পাইছিলো।

 

ঋণী শেখ

শেখ আহমেদ সবসময় ঋণে পইড়া থাকতেন। ধনী মানুষদের কাছ থিকা বহুত টাকা নিয়া উনি দুনিয়ার গরিব দরবেশদেরকে দিয়া দিতেন। ধারের টাকা দিয়াই উনি একটা সুফি আশ্রম বানাইছিলেন আর খোদা সবসময় তার ঋণ শোধ কইরা দিতেন, তার উদার ফ্রেন্ডের লাইগা উনি বালিরে আটা বানায়া দিতেন। নবীজি কইছেন, মার্কেটে দুইজন ফেরেশতা সবসময় দোয়া করতেছে। একজন কয়, “খোদা, গরিব পাগলরে আপনে হেল্প করেন।” আর আরেকজন কয়, “কঞ্জুসরে আপনি বিষ খাওয়াইয়া দেন।” যখন একজন মুসাফির শেখ আহমেদের মতোন, ঋণী শেখের মতোন উল্টা-পাল্টা খরচ করতে শুরু করে তখন পয়লা ফেরশেতা আরো জোরে জোরে উনার দোয়া পড়তে থাকেন।

মরার আগ পর্যন্ত, অনেক বছর ধইরা উনি বীজ নানানদিকে ছড়াইয়া রাখছিলেন। যখন মরণ তার কাছাকাছি চইলা আসলো, লক্ষণগুলি দেখা যাইতেছিল, পাওনাদারেররা তারে ঘিইরা ধরলো। গোল কইরা চারপাশে পাওনাদারেররা রইছে আর মাঝখানে শেখ বইসা একটা মোমবাতির মতোন গইলা যাইতেছিলেন। টাকা পাইবো কিনা এই চিন্তায় পাওনাদারদের চোখ-মুখ পুরা ঝুইলা গেছিল, ওরা শ্বাসও নিতে পারতেছিল না। শেখ ভাবলেন, “এদের দিকে তাকাইতেই তো খারাপ লাগতেছে, এরা কি ভাবে যে খোদার কাছে চারশ দিনার স্বর্ণমুদ্রা নাই?” এই সময় একটা বাচ্চা পোলা বাইরে কইতেছিল, “হালুয়া, ছয় আনায়া এক পিস হালুয়া! গরম হালুয়া!” শেখ আহমেদ তার এক চাকর’রে মাথা দিয়া ইশারা কইরা ওই পোলার কাছ থিকা হালুয়ার পুরা পাতিলটা কিনার লাইগা কইলেন। “যদি পাওনাদারেরা একটু মিষ্টি হালুয়া খাইতে পারে তাইলে হয়তো আমার দিকে এইরকম চেইতা তাকাইবো না আর।” লোকটা গিয়া পোলাটারে কইলো, “পুরা হালুয়াটা কত হইলে দিবি?” “আধা দিনার, আর লগে খুচরা কিছু দিয়েন।” “সুফিদের কাছে বেশি কিছু চাইস না, বেটা। হাফ দিনারই ঠিকাছে।”

পোলাটা হালুয়ার পাতিলটা লোকটার কাছে দিয়া দিলো, তখন সে ওইটা শেখের কাছে নিয়া দিলো। শেখ এক টুকরা এক টুকরা কইরা উনার পাওনাদারদেরকে দিলেন, “প্লিজ খান একটু, আর খুশি হন।” অল্প একটু টাইমের মধ্যেই পাতিলটা পুরা খালি হইয়া গেলো, পোলাটা শেখের কাছে আধা স্বর্ণমুদ্রা চাইলো। “আমি টাকা কই পামু? এইখানে এই যে লোকজন আছে অরা কইতে পারবো কি রকমের ঋণ আমার আছে, আর আমি তো খুব তাড়াতাড়ি আমার না-থাকার ভিতর চলে যাইতেছি।” পোলাটা এই কথা শুইনা পাতিলটা ফ্লোরের দিকে ছুঁইড়া মারলো আর চিল্লাইয়া, চেঁচাইয়া কান্দতে লাগলো, “এইখানে আসার আগে আমার ঠ্যাং ভাইঙ্গা গেলে ভালো আছিলো! সারাদিন গোসলখানায় পইড়া থাকলে ভালো হইতো। ওরে লোভী খাওয়ার দল, প্লেইট চাইট্টা খাওয়া সুফিরা, এখন তোরা বিলাইয়ের মতোন মুখ মুইছা ফেলতেছিস!” লোকজনও অর কথায় সায় দিলো। পোলাটা কইতেছিল, “ও শেখ, আমি যদি কোন টাকা ছাড়া মালিকের কাছে যাই সে তো আমারে মাইরা ফেলবে।”

পাওনাদারেরাও অর সাথে যোগ দিল। “আপনি এই কাজ কেমনে করলেন? আপনি আমাদের সম্পত্তি খাইয়া ফেলছেন, আর এখন মরার আগে আপনি আরেকটা শেষ দেনা যোগাড় করলেন। ক্যান?” শেখ তার চোখ বন্ধ করলেন আর কোন উত্তর দিলেন না। আছরের নামাজের আগ পর্যন্ত পোলাটা কান্দা-কাটি করলো। তার চাদরের নিচে শেখ বেহুঁশের মতো পইড়া রইলেন, সবকিছু নিয়া উনি খুশি আছিলেন – পরকাল নিয়া, মরা নিয়া, আর উনার চারপাশের কথা-বার্তা উনি শুনতেই ছিলেন না। একটা চাঁদনি রাইতে, আপনার কি মনেহয়, চাঁন যখন দশটা ঘরের ভিতর দিয়া আলো দিতেছে, কুত্তার ঘেউ ঘেউ সে শুনতে পায়? কিন্তু কুত্তার যা করার তা তো সে করবোই। একটু গাঁজা ভাসলেই পানি তো ময়লা হইয়া যায় না। নদীর পাড়ে বইসা যেই রাজা ভোর পর্যন্ত ওয়াইন খায়, সে তো পানির মিউজিক শুনে, ব্যাঙের ডাক শুনে না। বাচ্চা পোলাটার যেই টাকা পাওনা সেইটা সব পাওনাদারেরা এক পয়সা কইরা দিলেই হইয়া যাইতো, কিন্তু শেখের স্পিরিচুয়াল পাওয়ারের কারণে এইটা পসিবল হইতেছিল না। কেউ পোলাটারে কোন পয়সা দিলো না।

আছরের নামাজের সময় হাতিম তাইয়ের কাছ থিকা এক চাকর একটা ট্রে নিয়া হাজির হইলো। হাতিম তাই, যিনি বিরাট ধনী মানুষ, ছিলেন শেখের ফ্রেন্ড। ট্রে’টা ঢাকা আছিলো। শেখ সেই ঢাকনাটা খুললেন, আর দেখা গেলো যে ওইখানে চারশ স্বর্ণমুদ্রা আছে আর একটা কর্ণারে আরেকটা আধা দিনার একটা কাগজ দিয়া মুড়ানো। এইরকম লজ্জা পাইয়া পাওনাদারেরা কানতে লাগলো, “ও শেখের রাজা, ও যাদুকরদের যাদুকর! আমরারে আপনে মাফ কইরা দেন। আমরা আনাড়ি আর চেতের মধ্যে আন্ধা আছিলাম। আমরা বাতিগুলিরে ফালাইয়া দিতে চাইছি। আমরা…”  “ঠিকাছে, ঠিকাছে। তোমরা যেইটা করছো বা কইছো, তার লাইগা তোমাদেরকে দোষী করা হইবো না। জিনিসটা গোপন রাখার লাইগাই আমি খোদারে কইছি, পোলাটা না কান্দা পর্যন্ত এইটা দেথা যায় নাই, দয়াময় খোদার রহমত শেষ হয় নাই। এই পোলাটারে তোমাদের চোখে তোমরা পুতলি হিসাবে দেখো। যদি পরমের পোশাক পড়তে চাও তোমার শরীরে, চাইতে চাইতে তোমার চোখ দিয়া কান্দার পানি বাইর হইতে দাও।”

 

দৌড়ানির দুইটা পথ

একটা লোকের বদরাগী বউ আর খুবই অ্যাপিলিং এক দাসী ছিল। বউটা খুবই সাবধানে থাকতো যাতে এই দুইজন একসাথে কখনো না থাকে। ছয় বছরে একবারও অদেরকে এক ঘরে থাকতে দেয় নাই শে। কিন্তু একদিন পাবলিক গোসলখানায় গিয়া বউটার মনে হইলো তার ওয়াশবেসিনটা বাড়িতে ফালায়া আসছে। শে তার দাসীরে কইলো, “তাড়াতাড়ি যা তো, আমার বেসিনটা নিয়া আয়।” দাসী তো তার হাতের কামটা ফালায়া দৌড় দিলো, কারণ শে জানতো তার মনিবরে শে একলা পাইবো এখন। শে খুশি মনে দৌড়াইতেছিল। শে উইড়া উইড়া যাইতেছিল। ডিজায়ারে তারা এতোটাই পাগল ছিল যে দরজার ছিটকানি লাগাইতে ভুইলা গেছিল। বাতাসের মতো তারা একজন আরেকজনরে জড়ায়া ধরলো। যখন বডি রতিতে মিলে, আত্মাও মিইশা যায় দু্ইজনের।

এর মধ্যে, বাথ-হাউসে চুল ধুইতে ধুইতে বউটার মনে হইলো, “এইটা আমি কি করলাম! তুলারে আমি আগুনের কাছে রাখলাম! ভেড়ারে আমি ভেড়ীর সাথে থাকতে দিলাম!” শে তার চুল থিকা কাদার সাবান মুইছা দৌড় দিল। যাইতে যাইতে কোনরকম তার শরীরে চাদর ঠিকঠাক করলো। দাসীটা প্রেমের লাইগা দৌড়াইছিল। বউটা দৌড়াইতেছিল ভয়ে আর ঈর্ষায়। দুইটা মধ্যে বিরাট ডিফরেন্স। একজন সুফি মুর্হূত থিকা মুর্হূতের মধ্যে উইড়া যায়। আর একজন ডরাইন্না সাধু একমাস থিকা আরেকমাসে টানতে টানতে যায়। কিন্তু পিরীতের একটা ‘দিন’ লাভারদের কাছে পঞ্চাশ হাজার বছরের মতোন! আপনার নিজের মন দিয়া আপনি এইটা বুঝবেন না। আপনি নিজেরে খুইলা বাইর না হইলে এইটা বুঝবেন না। লাভারদের কাছে ভয় কোন জিনিসই না, সুতার একটা ছোট গিট্টু। প্রেম হইলো খোদার জিনিস। ডর হইলো এমন জিনিস যারা মনে করে যে তারা খোদারে সার্ভ করতেছে, কিন্তু যে আসলে পেনিস আর ভ্যাজাইনা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারে না। আপনি তো পড়ছেন কিতাবে যে বলা আছে অরা উনারে ভালোবাসে  আর উনি ভালোবাসেন অদেরকে। এই মিইশা যাওয়াটা হইতেছে খোদার মহব্বত। ডর’টা সেইটা না।

খোদা আর ইনসানের মধ্যে মিলের জিনিসগুলা কি? যে সময়ের মধ্যে বাঁচে আর যে অনন্তকালে আছে তাদের মধ্যে কিসের কানেকশন? যদি আমি মহব্বতের কথা কইতে থাকি তাইলে একশো’টা নতুন জোড়া তৈরি হইবো আর তারপরও আমি এই মিস্ট্রি’র কিছুই কইতে পারবো না। ডরাইন্না সাধু জমির উপ্রে পা দিয়া দৌড়ায়। আর লাভার’রা চলে বাতাসে বাজের মতো। কোন তুলনাই এইখানে নাই। মওলানারা/প্রফেসার’রা জগায় খালি, জগায় আর প্যাঁচায়, নেসেসিটি আর ফ্রি উইলের কথা কয়, যখন প্রেম আর প্রেমময় একজন আরেকজনরে নিজেদের দিকে টাইনা নেয়।

বউটা হাঁপাই্তে হাঁপাইতে বাড়ির কাছে পৌঁছায় আর দরজাটা খুলে। দাসীটা তো আলুখালু, কনফিউজড, পুরা লাল, কথাই কইতে পরে না। আর জামাইটা তার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে বইসা যায়। এইরকম উত্তেজনার মোমেন্টে বউটা আসে। জামাইটা কোনরকম তার জামা-কাপড় দিয়া শরীর ঢাকা দেয়। বউটা দেখে যে তার বিচি আর ধোন পুরা ভিজা, মাল বাইয়া বাইয়া পড়তেছে; দাসীটার উরাতে তার ভ্যাজাইনার রস গড়াইয়া পড়তেছে। বউটা জামাইয়ের মাথার একপাশে একটা থাপ্পড় লাগাইলো, “এইরকম বিচি লইয়া, একটা পুরুষ মানুষ নামাজ পড়ে? তোর ধোন কি এর লাইগাই এদ্দিন খাড়া হইয়া ছিল? এর লাইগা মাগীটার ঠ্যাং এতোকিছু দিয়া ঢাকা লাগতেছে?”

এইগুলা খুবই ভালো কোশ্চেন যা শে তার “সাধু” জামাইরে জিগাইতেছিল। যেইসব মানুষ তাদের ডিজায়াররে বাদ দেন হঠাৎ কইরাই অনেক সময় অদেরকে হিপোক্রেট মনেহয়।

 

 জমি বানানি ইর্ম্পটেন্স

একবার এক দাসী একটা গাধারে বেটাদের কাম কইরা দেয়ার লাইগা ট্রেইন করছিলো। মাটি থিকা একটু উঁচাতে শে ঘুরতে পারার মতো একটা ডিভাইস বানাইছিলো যাতে কইরা গাধার ধোনটা তার ভিতরে পুরাপুরি ঢুকতে না পারে। শে ওইটুক পর্যন্ত রাখছিলো যট্টুক পর্যন্ত গেলে শে আরামটা পাইবো। আর এই অ্যারেঞ্জমেন্টটাতে শে খুবই মজা পাইতো। প্রায়ই এই কামটা করতো শে। তার তো মজাই ছিলো, কিন্তু গাধাটা একটু শুকাইয়া যাইতেছিল আর তারে সবসময় ক্লান্ত লাগতো।

দাসী’র মালকিন খোঁজ নিতে লাগলো, কি ঘটনা? একদিন শে দরোজার চিপা দিয়া উঁকি দিলো আর দেখলো জন্তুর জিনিসটা। মাইয়াটা খুশি হইয়া গাধাটার নিচে শুইয়া রইছে। শে তখন কিছুই কইলো না। পরে, শে দরজায় নক করলো। আর দাসীটারে ডাইকা খুব লম্বা আর জটিল একটা কাজ দিলো। পুরাটা আর বলতেছি না আমি। যদিও দাসীটা বুঝতেছিল, কি ঘটতে যাইতেছে। “হায় মালকিন আমার,” শে ভাবতেছিল নিজে নিজে, “এক্সপার্ট লোকরে আপনি দূরে ঠেইলা দিয়েন না। যখন পুরা অভিজ্ঞতা ছাড়া আপনি কাজ করতে যান তখন আপনার লাইফ আপনি রিস্কে ফেলেন। আপনে খোদারে নিয়া কিছু জিগাইতে শরম পান, অথচ এই গাধার সাথে আপনারে তো কামটা করাই লাগবো। কিন্তু এই ট্রিক’টা তো আপনি জানেন না!” এই মহিলা এতোটাই ফ্যাসিনেটেট ছিল যে বিপদের কথা শে ভাবেই নাই। শে গাধাটারে ভিতরে নিয়া গিয়া দরজাটা বন্ধ কইরা দিল, ভাবলো, “যখন কেউ থাকবো না তখন আমি মজাটা নিতে পারবো।” এইটা ভাইবা তার নেশার মতো লাগতেছিল, তার ভ্যাজাইনা কাঁপতেছিল আর নাইটিঙ্গেলের মতো গান গাইতেছিল। শে গাধাটার নিচে একটা চেয়ার রাখলো। মাইয়াটারে যেইরকম দেখছিল শে। শে তার ঠ্যাং উঁচা করলো আর গাধাটারে তার দিকে টানলো। আগুনটা আরো জ্বইলা উঠলো। গাধাটা আস্তে কইরা ধাক্কা দিল যখন শে তারে টানলো, জোরে ধাক্কা দিলো আর তার উত্তেজনা বাইড়া গেলো, আর, একটা কথাও না বইলা, শে মারা গেল। চেয়ারটা একদিকে গেল আর শে ছিটকাইয়া পড়লো আরেকদিকে। পুরাটা ঘর রক্তে ভাইসা গেল।

রিডার, আপনি কি কোনদিন দেখছেন গাধার লাইগা কাউরে শহীদ হইতে? মনে রাইখেন নিজেরে নিচে নামানোর যন্ত্রণা নিয়া কোরান কি বলছে। আপনার জীবনরে আপনার পশু-আত্মার কাছে স্যাক্রিফাইস কইরেন না। আপনি যদি এইরকম করেন তাইলে আপনার অবস্থাটা হইবো ফ্লোরে পইড়া থাকা এই মহিলার মতো। শে হইলো অসংযমের ইমেজ। তার কথা মনে রাইখেন আর নিজের ব্যালেন্স রাইখেন।

দাসীটা ফিরা আসলো আর কইলো, “হ, আপনি আপনার মজাটা দেখছিলেন, কিন্তু আপনি সেই খোদারে দেখেন নাই যে এর মধ্যে একটা লিমিট বাইন্ধা দিছিল। আপনি আপনার দোকান খুইলা ফেলছিলেন একজন জ্ঞানীলোক আপনারে কৌশল শিখানোর আগেই।”

 

তিনটা মাছ

এইটা একটা লেকের গল্প যেইখানে তিনটা বড় মাছ থাকতো। একজন খুবই বুদ্ধিমান, সেকেন্ডজন আধা-বুদ্ধিমান আর থার্ডজন পুরাই বেকুব। কিছু জেলে আসলো লেকের পাড়ে জাল নিয়া আর অরা তিনজনেই সেইটা দেখলো। বুদ্ধিমান মাছটা তখনই ডিসিশান নিয়া নিলো যে সে এই জায়গা ছাইড়া চইলা যাবে অনেক দূরের সাগরে; যদিও অনেক লম্বা আর কঠিন জার্নি সেইটা। সে ভাবলো, “বাকি দুইজনের সাথে আমি এইটা নিয়া কথা বলবো না। অরা এই জায়গাটারে খুব পছন্দ করে। এইটারে অরা বলে, হোম। এই বেকুবির কারণে অরা এইখানেই থাইকা যাবে।” যখন তুমি ট্রাভেল করতে বাইর হইছো, একজন ট্রাভেলারের কাছ থিকা উপদেশ চাইও, এমন কারো কাছ থিকা চাইও না যে তার আইলসামির কারণে এক জায়গাতেই পইড়া রইছে।

মুহাম্মদ বলছেন, “নিজের দেশরে ভালোবাসা তোমার ফেইথেরই অংশ।” কিন্তু এই কথাটারে লিটারালি নিও না! তোমার আসল “দেশ” হইলো যেইখানে তুমি যাইতেছো, সেইটা না যেইখানে তুমি আছো। এই হাদিসটারে ভুলভাবে পইড়ো না।

ট্রাডিশান অনুযায়ী, ডুব দেয়ার রীতির মধ্যে, প্রতিটা বডি পার্টসের লাইগা আলাদা আলাদা দোয়া আছে। যখন পানি তোমার নাকের মধ্যে আসে নাক পরিষ্কার কইরো, আত্মার সুগন্ধি চাইও। ঠিক দোয়াটা হইলো, “খোদা, আমারে ধুইয়া দেন। আমার হাত দিয়া আমি তো এই পার্টটা ধুইছি, কিন্তু আমার আত্মারে তো আমি ধুইতে পারি না। এই চামড়া আমি ধুইতে পারি, কিন্তু আপনি আমি’রে ধুইয়া দেন।” একটা মানুষ ভুল জায়গায় ভুল দোয়াগুলি পড়তো। যখন সে তার পিছনে পানি দিতো তখন নাকের দোয়া পড়তো। আমাদের পাছার ভিতর দিয়া কি বেহেশতের সুবাস বাইর হইতে পারে? বেকুবদের সাথে বিনয়ী হইও না। একজন জ্ঞানীলোকের সামনে গর্ব কইরো না। তোমার হোম’রে ভালোবাসা সবসময়ই ঠিক কাজ, কিন্তু তার আগে জিগাও, “এইটা আসলে কই?” জ্ঞানী মাছটা লোকগুলিরে আর তাদের জালগুলি দেখছিল আর কইছিলো, “আমি যাই গা।”

মুহাম্মদ একবার আলী’রে একটা গোপন উপদেশ দিছিলেন আর কইছিলেন এইটা কাউরে না বলার লাইগা। তো, আলী তখন একটা কুয়ার মুখে গিয়া ফিসফিস কইরা কইলো। অনেকসময় কেউ থাকে না কথা বলার লাইগা। তখন তোমার নিজের সাথে নিজেরেই চলতে হইবো। তো বুদ্ধিমান মাছটা সাঁতরাইতে লাগলো, একটা হরিণের মতো যার পিছে কুত্তা লাগছে, তড়তড়াইয়া তার পথে যাইতে লাগলো, আর শেষমেশ সে পৌঁছাইতে পারলো সীমাহীন নিরাপদ জায়গায়, সাগরের।

আধা-বুদ্ধিমান মাছটা ভাবতেছিল, “আমার গুরু তো চইলা গেল। আমারও তার লগে যাওয়া দরকার ছিল, কিন্তু আমি যাই নাই, আর এখন আমি আমার পালানোর সুযোগ হারাইছি। আমি যদি অর লগে যাইতে পারতাম।” যা হইছে সেইটার লাইগা মন-খারাপ কইরো না। যদি সেইটা পার হইয়া যায়, তারে যাইতে দাও। এমনকি তারে মনেও রাইখো না!

একবার একটা মানুষ একটা পাখিরে ধরলো ফাঁদ পাইতা। পাখিটা কইলো, “স্যার, আপনি তো আপনার লাইফে কত শত গরু আর ভেড়া খাইছেন, আর এখনো আপনার খিদা আছে। আমার হাড়ের এইটুক মাংস তো আপনারে স্যাটিসফাই করতে পারবো না। আপনি বরং আমারে যাইতে দেন, আমি আপনারে তিনটা জ্ঞান দিবো। একটা আমি আপনার হাতে থাইকা বলবো। একটা আমি ছাদে গিয়া বলবো। আর আরেকটা আমি ওই গাছের ডালটাতে গিয়া বলবো।” লোকটা ইন্টারেস্টেড হইলো। পাখিটারে ছাইড়া দিলো আর তার হাতে বসতে দিলো। “এক নাম্বার হইলো: আজাইরা কথায় বিশ্বাস কইরেন না, এইটা যে-ই বলুক।” পাখিটা উইড়া গেলো আর তাউরাইয়া গিয়া লোকটার বাড়ির ছাদের উপ্রে বসলো। “দুই নাম্বার হইলো: যা কিছু পার হইয়া গেছে তার লাইগা কষ্ট পাইয়েন না। এইটা শেষ। যা কিছু ঘইটা গেছে তার লাইগা কান্দা-কাটি কইরেন না।” একটু থাইমা পাখিটা আবার কইলো, “ও, ভালো কথা, আমার বডির ভিতরে কিন্তু একটা বড় মুক্তা ছিল, দশ কপার ওজনের। এইটা আপনার পাওনা ছিল আর আপনার পোলাপানরা এইটার মালিক হইতো। দুনিয়ার সবচে বড় মুক্তাটার মালিক আপনি হইতে পারতেন। কিন্তু এখন তো সেই সুযোগ হারায়া ফেললেন।” এইটা শুইনা লোকটা পুরা পোয়াতি মাইয়াদের মতোন চেঁচাইতে লাগলো। পাখিটা কইলো, “আমি কি আপনারে বলি নাই যে, যা চইলা গেছে তার লাইগা কাইন্দেন না? আর বলি নাই, আজাইরা কথা বিশ্বাস কইরেন না? আমার পুরা বডির ওজনই তো দশটা কপার কয়েনের সমান হইবো না। কেমনে এতো বড় একটা মুক্তা আমার ভিতরে থাকবো?” লোকটার তখন হুঁশ ফিরলো। “ঠিকাছে, আমারে তিন নাম্বারটা কও এখন।” পাখিটা কইলো, “হ। আমার আগের দুইটা উপদেশের তো আপনি ভালোই তালিম করছেন!” এমন কাউরেই উপদেশ দিও না যে টাল আর ঘুমায়া পড়তেছে। বালির মধ্যে বীজ ছিটাইয়া দিও না। কিছু টুটা-ফুটা জায়গা আছে যা তালি দিয়া ঢাকা যায় না।

মাছের ব্যাপারে ফিরা আসি, সেই আধা-বুদ্ধিমান মাছটা যে তার গুরু’র লাইগা কিছু সময় হা-হুতাশ করতেছিল, পরে ভাবলো, “এইসব মানুষ আর তাদের জালের কাছ থিকা বাঁচতে হইলে আমারে কি করা লাগবে? যদি আমি ভাব নেই যে আমি অলরেডি মারা গেছি! পেট ভাসায়া দিয়া কাঠের মতোন পানির উপ্রে নিজেরে তুইলা দিলাম। মুহাম্মদ যেমন কইছিলেন, মরা’র আগে মইরা যাওয়ার মতো।” তো, সে ওইরকমই করলো। সে উপর-নিচে ভাইসা উঠলো, মরার মতো; জেলেদের হাতের কাছে। “আরে দেখো! সবচে ভালো আর বড় মাছটা মইরা গেছে।” একজন তারে লেজটা ধইরা তুললো, চাপড় দিলো আর তারে মাটির উপ্রে ছুঁইড়া দিলো। মাছটা তখন আস্তে আস্তে চাট্টাইতে চাট্টাইতে পানির কাছে চইলা আসলো, আর তারপর, পানিতে চইলা আসলো।

এর মধ্যে তিন নাম্বার মাছটা, বেকুবটা, ফাল পাড়তে লাগলো, তার নিজের উত্তেজনা আর চালাকি থিকা পালাইতে চাইতেছিল সে। আর এই কারণেই তার চারপাশে জাল চইলা আসলো, আর যখন সে ভয়াবহ কড়াইয়ের মধ্যে পইড়া ছিল, সে ভাবতেছিল, “যদি আমি এর থিকা বাইর হইতে পারি তাইলে আর জীবনেও এক লেকের ধারে-কাছে আসবো না। পরেরবার, আমি সাগরে চইলা যাবো! অসীম অশেষরে আমি আমার ঘর বানামু।”

 

বাগদাদে থাইকা কায়রো স্বপ্ন দেখি
কায়রোতে থাইকা বাগদাদের

এক লোক তার বাপের কাছ থিকা প্রচুর টাকা আর জমি পাইছিলো, কিন্তু মাগনা পাইলে যা হয় যা হয় দুইদিনেই সে সবকিছু উড়ায়া দিলো; যেমন, আমরা আত্মা পাইছি কোনকিছু ছাড়াই, বুঝতে পরি না এইটা নিয়া কি করবো। তো, সে মরুভূমিতে গিয়া আল্লারে ডাকতে লাগলো। নবী কইছিলেন, যে কোনকিছু চায়, পাইতে হইলে তারে পুরা এম্পটি হইতে হয় বাঁশির মতো; বাতাস তার ভিতরে গিয়া আল্লাহু আল্লাহু জপতে পারে তখন। লোকটা ওইরকম এম্পটি হইছিলো। কিন্তু আল্লা তার কথা শুনলো না।

ফেরেশতারা কইলো, যে আপনারে এমনে ডাকতেছে, তার কথার জবাব আপনি দিলেন না! অথচ যারা আপনারে খুববেশি ডাকে না, তাদের আশা আপনে পূরণ কইরা দেন; এইটা কি রকম ফয়সালা? আল্লা কইলো, শোনো, কোন সরাইখানায় যদি একজন বুড়া লোক আর ইয়াং সুন্দর একজন পোলা আসে, দুইজনেই যদি রুটি চায়, সরাইখানার মালিক তো সাথে সাথে বুড়াটারে যা আছে তা দিয়া দিবো। আর ইয়াং পোলাটারে কইবো, তুমি বসো একটু, গরম গরম রুটি ভাজতেছি, হয়াই গেছে, আরেকটু টাইম লাগবো। আর যখন রুটি হইয়া যাবো তখন কইবো, এখনই চইলা যাইও না, হালুয়া আসতেছে! আর হালুয়া চইলা আসলেও সে বলবো, এখনই যাইও না, তোমার লগে আমার ইর্ম্পটেন্ট কথা আছে, অনেক ইর্ম্পটেন্ট, তুমি যাই না কিন্তু! এইরকম সে তারে ধইরা রাখতে চাইবো।

তোমরা কি কখনো শুনছো যে কাউয়ারে কেউ আটকাইয়া রাখছে খাঁচায়; অথচ নাইটিঙ্গেলরে কেন আটকাইয়া রাখে?

তো শেষে একদিন ওই লোকের কাছে স্বপ্নে বাণী আসলো যে, কায়রোতে তোমার সম্পত্তি আছে। এইরকম, এইরকম জায়গায় যাও, গিয়া মাটি খুঁড়লে যা তুমি চাইতেছ সেইটা পাইবা।

অনেক দূরের জার্নি ছিল সেইটা। যখন সে কায়রো শহরের দালানগুলি দেখতে পাইলো তার সাহস বাড়লো, ধীরে ধীরে সে পৌঁছাইলো। কিন্তু কায়রো তো বিরাট সিটি। তার তো থাকা-খাওয়ার কোন উপায় নাই; সো সে ভিক্ষা করতে শুরু করলো। এইটা করতে তার লজ্জাও লাগতেছিল। একদিকে খিদা, আরেকদিকে মান-সম্মান। তো, সে ভাবলো যে রাতের বেলা গিয়া লোকজনের দরজায় গিয়া নক কইরা ভিক্ষা চাইবে। কিন্তু যখন সে এই কাজ করতে গেলো, পুলিশ আইসা তারে ধরলো। কারণ ওই সময় কায়রোতে চুরির ঘটনা বাইড়া গেছিলো আর খলিফা আদেশ দিছিলো চোর দেখলেই ধইরা হাত কাইটা দিতে। তখন লোকটা পুলিশরে কইলো, ভাই, আমার কথাটা আগে শুনেন! আমি চোর না। আমি কায়রোতে নতুন। বাগদাদ থিকা আইছি।

সে তখন তার সম্পত্তির কাহিনি কইলো তখন পুলিশটাও কান্দতে লাগলো। সত্যি’র মধ্যে এই জিনিসটা আছে, যা বুঝতে পারলে আমাদের কান্দা আসে। পুলিশটা কইলো, আমি জানি তুমি চোর না! তুমি ভালা মানুষ। তুমি খালি বেকুব। এইরকম একটা স্বপ্ন আমিও দেখছিলাম; যে, বাগদাদে ওই রাস্তার ওই বাড়িটাতে বিরাট ধন-সম্পত্তি লুকানো আছে। সে যেই বাড়ির কথা কইলো সেইটা হইতেছে এই লোকের বাড়ি আর আর যেই নামটা কইলো সেইটা হইলো এই লোকের নাম। কিন্তু পুলিশটা এইটা জানতো না। সে কইতেছিল, স্বপ্নের কথা আমি তো বিশ্বাস করি নাই, তুমি করছো, আর দেখো কায়রোতে আইসা ভিক্ষা করতেছো!

লোকটা যা বোঝার সেইটা সে বুইঝা ফেললো। জীবনের পানি এইখানেই। কতদিন ধইরা সে তেষ্টা মিটাইয়া যাইতেছে। বুঝতে পারে নাই। এই এট্টুক জিনিস জানার লাইগা তারে কতদূরই না আসা লাগলো।

 

শেখ খুররানি আর তার ঝগড়াইট্টা ওয়াইফ

এইটা হইলো এমন একজনের কাহিনি যে শেখ খুররানি’রে খুঁজতেছিল। তালাকান শহর থিকা বাইর হইয়া পাহাড় ডিঙাইয়া লম্বা এক উপত্যকা পার হইয়া আসছিলো এক ইয়াং দরবেশ। সে যেই কষ্ট করছিল তার কথা আর কইলাম না। ইয়াং দরবেশ শেখের বাড়ির দরজায় আইসা নক করলো। শেখের বউ তার গলা বাইর কইরা জিগাইলো, “কি চাই আপনের?” “আমি শেখের লগে দেখা করতে আসছি।” “ওহহো,” শেখের বউ হাইসা দিলো, “বাপরে, কি শ্রদ্ধা আপনের! যেইখানে থাকেন আপনে সেইখানে কি আর কিছু করার নাই? যার লাইগা এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার অভিযানে আপনারে আসা লাগলো? আপনে কি আপনার নিজের শহর’রে ঘৃণা করেন? নাকি শয়তানে নাকে দড়ি দিয়া আপনারে এইখানে নিয়া আসছে?” শে আরো যা যা কিছু কইলো, তার সবকিছু আর না কই। “এরপরেও আমি শেখের লগে দেখা করতে চাই।” ইয়াং দরবেশ কইলো। “বেটার আপনে নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা দেন। আপনের মতো শত শত ইহুদিরা এই অহংকারী সোনালি বাছুরটারে হাতাইতে আসে, বাদাইম্মা লোকজন, মাটিতে পইড়া থাকা খাওন চাটা লোক, ঘোরের মধ্যে পইড়া থাকা আকাইম্মা লোক, ওরা কয়, ওহ, এইটাই হইতেছে পরমানন্দ, ওহ। নামাজ-কালাম পড়ে না, ধর্ম মানে না, যতসব আজাইরা।”

ইযাং দরবেশ আর সহ্য করতে পারলো না, কইলো, “এইটা কি? পুরা দিনের বেলা রাতের টহল পুলিশের খপ্পরে পড়লাম! আপনের আবোল-তাবোল কথা আমারে একজন সুফি মানুষরে দেখতে দিতেছে না, কিন্তু আমি জানি কোন আলো আমারে এইখানে নিয়া আসছে। এইটা সেই আলো যা সোনালি বাছুরটারে পবিত্র গল্পের শব্দ বানায়া ফেলে। একজন সাধু হইলেন সেই থিয়েটার যেইখানে খোদার নূর দেখা যায়। আমারে দূরে সরানোর ট্রাই কইরেন না। বরং আপনার মোমবাতিটা নিভান, তা নাইলে আপনার মুখটাই পুইড়া যাইবো গা। নাইলে সুর্য়টারেই নিভায়া দেন, বা সাগরের মুখটা কোন ছিপি দিয়া আটকাইয়া দেন! আপনের মতো বুইড়া বাদুর স্বপ্ন দেখে যে, তার গুহার আন্ধারই আছে সারা দুনিয়ায়, কিন্তু এইটা তো সত্যি না। আমি উনার লগে দেখা করবোই। আপনে আমারে থামাইতে পারবেন না। যে রহস্য প্রকাশ করে আর রহস্য থিকা যেইটা বাইর হয় – দুইটা একই জিনিস। বীজ, হাল দেয়া, ফসলের বড় হওয়া আর ফসল কাটা – একই ঘটনা। হায় রে তুষ, খুঁতখুতা দুনিয়ার বুড়ি ডাইনি এইটারে সিজদা কর! হাল্লাজ কইছিলো, আমি হইলাম খোদা আর সে এমনেই বাঁইচা ছিল। যখন এই ‘আমি’ নাই হইয়া যায় তখন কি ঘটে? ‘না-থাকা’র পরে আর কি থাকে? এইসব কোশ্চেন নিয়া যারা হাসাহাসি করে অরা এমন একটা জায়গাতে আছে যেইখানে অদের নিজের থুতু নিজের মুখেই আইসা পড়ে। আমরা যেই রাস্তায় আছি সেইখানে থুতু দেয়ার কিছু নাই। বৃষ্টিও অদের মুখে থুতু দেয় যারা ভ্যাঙ্গায় আর সাধুদেরকে অসম্মান করে।”

এই কথা কইয়া ইয়াং দরবেশ দরজা ছাইড়া শহরের দিকে চইলা আসলো। শেষমেশ কেউ একজন তারে কইলো, খতিব তো বনে গেছেন কাঠ নিয়া আসতে। ইয়াং দরবেশ তখন বনের দিকে দৌড় লাগাইলো। কিন্তু তার মনে একটা সন্দেহ রইয়াই গেলো, উনার মতো এইরকম শেখের এইরকমের বউ ক্যান, এইরকম পুরা আলাদা, পুরাই মান্ধাতার! খোদা আমার না-জানারে মাফ করুক, আমি বিচার করার কেডা?” কিন্তু কোশ্চেন তো থাকেই। উনার মতো একজন টিচার এইরকম মহিলার সাথে কেমনে শোয়? একজন গাইড কেমনে একজন চোরের লগে এগ্রি করতে পারে?

তখন হঠাৎ কইরা সিংহের পিঠে চইড়া শেখ দুররানি হাজির হইলেন। জ্বালানির কাঠগুলি তার পিছনে রাখা ছিল। তার চাবুক ছিল একটা জ্যান্ত সাপ। প্রত্যেক শেখই একটা হিংস্র সিংহ চড়েন, আপনে এইটা দেখেন আর দেখেন না। আপনার অন্য চোখ দিয়া এইটা জানেন: আপনার মওলানার ঠ্যাংয়ের নিচে হাজারটা সিংহ আছে আর তারা কাঠের বস্তা নিয়া আসতেছে। খুররানি তার কোশ্চেনটা জানতেন আর সাথে সাথেই উত্তর দেয়া শুরু করলেন, “ডিজায়ারের কারণে আমি তার লগে পইড়া নাই! এইটা ভাইবো না। তার সুবাস বা তার ব্রাইট কালারের পোশাকের লাইগা না। পাবলিকলি শে যে আমারে পাত্তা দেয় না এইটা আমার ধৈর্য্য বাড়ায় আর শক্ত করে। শে হইলো আমার প্রাকটিস। অপজিটের কোন ডান্ডা না থাকলে তো কোনকিছু ক্লিয়ার হয় না। দুইটা ব্যানার, একটা কালা, একটা শাদা, আর তাদের মাঝখানে কোনকিছু সেটেল হয়। ফারাও আর মুসার মাঝখানে থাকে রেড সি।

তুমি জিনিসগুলি নিয়া ভাবছো, কিন্তু ডিপলি ভাবো নাই। তোমার বসন্ত জইমা আছে। বিশ্বাস গড়াইয়া পড়তেছে। ঠান্ডা লোহা দিয়া যন্ত্র বানানোর ট্রাই কইরো না। দাউদ নবীর কথা ভাবো, যে কামার আছিলো, ড্যান্সার আর মিউজিশিয়ান। সূর্যের দিকে আসো। ফ্যাণ্টাসি আর নিজের ভিতরের গড়গড়ানির ভিতর তুমি আটকা পইড়া আছো। যখন স্পিরিট তার ভিতরে আসে তখন সে ফ্রিলি ঘুরতে পারে। বাগানের গাছগাছালির ভিতর দিয়া পালায় আর দৌড়াইতে থাকে। সহজ হইতে থাকে আর ভিজতে থাকে।”

 

সাপুড়ে আর জইমাথাকা সাপ

এক সাপুড়ে একবার একটা সাপ ধরার লাইগা পাহাড়ে গেল। সে পোষা মানা একটা সাপ চাইতেছিল যেইটা দেইখা পাবলিক খুশি হইবো। কিন্তু সাপে তো দোস্তি বুঝে না আসলে। তখন ছিল শীতকাল। সে দেখলো যে বরফের মধ্যে বিশাল একটা সাপ মইরা পইড়া আছে। সে ভয়ে ভয়ে এইটারে টাচ করলো। পরে এইটারে টাইনা বাগদাদে নিয়া আসলো। সে ভাবছিলো, লোকজন এইটা দেইখা পয়সা দিবো। এইরকম বোকামিই আসলে আমরা করি! মানুষ হইলো পাহাড়ের মতো! সাপগুলি আমরারে দেখলে ডরায়! আর আমরা একটা মরা সাপরে দেখার লাইগা নিজেদেরকে বেইচা দেই। আমরা হইলাম সেই মিহি সাটিন যা দিয়া মোটা কাপড়ে তালি দেই।

“আসেন, দেখেন আমি একটা ড্রাগন মারছি আর আমার শিকারের কাহিনি শুনেন।” এইভাবে সাপুড়েটা চিল্লাইতেছিল। আর বহুত মানুষ জড়ো হইলো তখন। কিন্তু ড্রাগনটা আসলে মরে নাই, জাস্ট ডরমেন্ট হইয়া ছিল। সাপুড়েটা রাস্তার মোড়ে বসছিল। মানুষের ভীড় বাড়তেছিল, সবাই সামনের পায়ে ভর দিয়া দেখতে চাইতেছিল, কি ঘটতেছে সামনে। ছেলে, মেয়ে, ছোট, বড় সবাই নিজেদের ডিফরেন্স ভুইলা প্যাক্ট হইয়া দাঁড়ায়া ছিল। মনে হইতেছিল পুরা হাশরের দিন!

যেই সাপুড়েটা মোটা দড়ি আর কাপড় খুলতে লাগলো যেইটা দিয়া সে সাপটারে প্যাঁচাইয়া রাখছিল, সাপটা তখন আস্তে আস্তে নড়তে লাগলো। ইরাকের গরম সূর্য এই ভয়ংকর প্রাণীটারে জাগাইয়া তুললো। আশেপাশের লোকগুলি চিল্লায়া উঠলো। পুরা প্যানিক একটা অবস্থা। ড্রাগনটা কাপড়গুলি ছিঁইড়া বাইর হইয়া আসলো আর অনেক মানুষ মাইরা ফেললো। সাপুড়েটা ডরে একটা কোণায় দাঁড়াইয়াছিল। “পাহাড় থিকা এইটা আমি কি নিয়া আসলাম?” সাপটা সাপুড়েটারে ধইরা একটা পোস্টে বাড়ি মারলো তারপরে মুখের ভিতরে দিয়া খাইয়া ফেললো।

এই সাপটা হইলো আপনার পশু-আত্মা। যখন এইটারে আপনি আপনার ডিজায়ারের গরম বাতাসের কাছে নিয়া আসেন, এইটা ওয়ার্ম হইয়া উঠে আর পাওয়ার আর ধন-সম্পদের লাইগা এইটা অনেক ক্ষতি করে। এইটারে বরফের পাহাড়েই থাকতে দেন। চুপচাপ থাইকা, মধুর কথা কইয়া আর ইচ্ছা দিয়া আপনি এইটারে মোকাবেলা করতে পারবেন না। এইসবে নফস কোন রেসপন্স করে না আর অদেরকে মারাও যায় না। এইরকম পশুরে মোকাবেলা করতে, তারে ফিরায়া নিয়া যাইতে আর বরফে ঘুম পাড়ায়া রাখতে মুসা নবীর মতো পরহেজগার মানুষ দরকার। কিন্তু তখন তো কোন মুসা নবী ছিলেন না। হাজার হাজার মানুষ মারা গেলো।

 

আয়না পলিশ করা

নবী মুহাম্মদ একবার সর্দার আর প্রিন্সদের সাথে খুব জরুরি কথা বলতেছিলেন তখন একজন গরিব কানা লোক আইসা উনার লগে কথা কইতে চাইলো। নবীজি একটু চেইতা গিয়া লোকটারে কইলেন, “আগে আমারে উনাদের লগে কথা কইতে দেও। উনাদেরকে তো সবসময় একসাথে পাওয়া যায় না। আর তুমি তো আমার বন্ধু-মানুষ, আমাদের তো আরো অনেক টাইম আছে, কথা কওয়ার।”

তখন নবীজির সাথের একজন উনারে কইলো, “এই কানা লোকটা হয়তো একশজন রাজার চাইতে বেশি দরকারি। ওই কথাটা কি আপনার মনে নাই, সব মানুষ হইলো আমার

দুনিয়ার ক্ষমতা তো কিছু না। জীবনের না-বলা ভিতরের মনিমুক্তাগুলাই হইলো আসল।

একটা গু’য়ের পোকা যদি গোলাপের পানির দিকে যায়, বুঝতে হবে যে পানির মধ্যে কোন ঝামেলা আছে। কারণ গু’য়ের পোকা গোবর পছন্দ করে, গোলাপের সুগদ্ধি না। যদি একটা কয়েন পরশপাথর দিয়া যাচাই হইতে চায়, হইতে পারে যে এই কয়েনটাই একটা পরশপাথর। একটা চোর রাতের দিওয়ানা। কিন্তু আমি হইলাম দিন। আমি জিনিসের এসেন্সরে সামনে নিয়া আসি।  একটা বাছুরের কাছে একটা গরুই হইলো খোদা। একটা গাধার ধর্মচিন্তা পাল্টায় যখন নতুন কেউ তারে পালতে নেয় আর সে যা চায় তারে সেইটাই দেয়।

আমি কোন গরু না, উটের কাছে কোন কাঁটার গাছও না যা সে দেইখা শুইনা চইলা যাইবো। যেইসব লোকজন আমারে অপমান করে তারা খালি নিজেদের আয়না-ই পালিশ করতেছে। আর একটা পালিশ করা আয়নায় কিছুই দেখা যায় না।

 

তিন ভাই আর চাইনিজ রাজকুমারী

এক রাজার তিন ছেলে আছিলো। তিনজনেই খুব বিনয়ী, জ্ঞানী আর যখন দরকার পড়ে তিনজনেই হইতে পারতো সমান ভয়ংকর। তাদের বাপের সামনে তারা তিনটা মোমবাতির মতো জ্বলতেছিল। রাজ্যের নিয়ম কানুন ঠিকমতো চলতেছে কিনা দেখা লাইগা ওরা রাজ্যের অনেক জায়গা ভিজিট করার লাইগা রেডি হইতেছিল। তিনজনেই রাজার হাতে ধইরা বিদায় আর আনুগত্যের চুমা খাইলো।

রাজা কইলেন, “যেই জায়গায় যাইতে তোমরার ভাল্লাগে, সেই জায়গাতেই যাইও। আর আনন্দ করতে করতে যাইবা। চিন্তা করবা না, তোমাদের প্রটেকশন আমি দিয়া রাখছি। খালি একটা জায়গাতে যাইবা না, একটা দুর্গে, যার নাম : দুর্গ, যা স্পষ্টতারে মুইছা দেয়। ওই দুর্গের ভিতরে অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি আছে যা আমাদের রাজবংশের খুবই ক্ষতি করছে। এইটা জুলেখার ঘরের মতোন, যেই ট্রাপ সে বানাইছিলো ইউসুফের লাইগা। সারা ঘরে খালি জুলেখার ছবি আছিলো। ইউসুফ তার দিকে না তাকায়া থাকতে পারতো না। ওই জায়গা থিকা দূরে থাইকো।”

তো যা হয়, তিন রাজকুমারই ওই দুর্গ দেখার লাইগা অবসেডেড হয়া পড়লো। তাদের বাপে না করার পরেও ওরা ওই দুর্গে গেল। ওইখানে পাঁচটা দরজার জমির দিকে, পাঁচটা সাগরের দিকে, যেমন বাইরের পাঁচটা রিপু ঘটনার কালার আর পারফিউমরে নিয়া নেয় আর পাঁচটা ভিতরের অনভূতি যেইরকম রহস্যের দিকে খুলে যায়।

দুর্গের ভিতরে হাজার হাজার ছবি দেইখা রাজকুমারদের পুরা পাগল হওয়ার অবস্থা। মাতালের মতো তাউরাইতে তাউরাইতে তারা দরবার ঘরের দিকে আসলো। তিনজন একলগে একই টাইমে আইসা পৌঁছাইলো একটা মাইয়ার ছবি’র সামনে আর অবাক হইয়া তাকাইয়া থাকলো। বেশুমার প্রেম আইসা ভর করলো তাদের মনে। “আমাদের বাপ এইজন্যই না করছিল আমাদেরকে। আমরা ভাবছিলাম আমরা অনেক স্ট্রং, যেকোন কিছুই কন্ট্রোল করতে পারি; একটা যক্ষারোগীও সুস্থ হইয়া উঠতে পারে, কিন্তু আমাদের কোন চান্স নাই আর! কে এই মাইয়া?” এক জ্ঞানী শেখ তাদেরকে কইলো, “উনি হইলেন চীন দেশের রাজকুমারী, গোপন একজন। তার বাপ তার আত্মারে একটা ভ্রূণের ভিতর লুকাইয়া রাখছেন। পাখিরাও তার ছাদের উপর দিয়া উইড়া যাইতে পারে না। কোন মানুষ কোনদিন ওই জায়গায় যাইতে পারে নাই। খালি কল্পনা কইরা কেউ তারে জিততে পারবো না। এই আশা ছাইড়া দেন আপনারা।”

তিন রাজকুমারই একলগে মাথা নাড়াইলো যে, ওরা এতো সহজে ছাইড়া দিবে না। সবচে বড়জন কইলো, “যখন আমরা অন্যদেরকে পরামর্শ দিতাম কতো বোল্ড থাকতাম আমরা! আমরা কইতাম, ধৈর্য্যই হইলো আসল, কিন্তু অন্যদের লাইগা যেই নিয়ম বানাইছিলাম, সেইটা আর আমাদেরকে হেল্প করতেছে না। আমরা উপদেশ দিতাম, হাসো! অথচ আমরা চুপচাপ আছি কেন? আমাদের শক্তি সব কই গেলো?”

পালাইয়া ওরা চীনে চইলা গেলো। এমন না যে ওরা রাজকন্যারে পাইবো বইলা ভাবছিল, ভাবলো যে, কিছুটা কাছাকাছি তো থাকা যাবে। সবকিছু ছাইড়া দিলো তারা আর তাদের গোপন প্রেমের দিকে ছুইটা গেল। ছদ্মবেশে তারা রাজধানীতে ঘুরতে লাগলো আর ফন্দি আঁটাইতে থাকলো কেমনে রাজপ্রাসাদে ঢোকা যায়। শেষমেশ বড়জন কইলো, “এমনে আর ওয়েট করতে পারবো না আমি। এমনে আমি আর বাঁইচা থাকতে চাই না আমার জান’রে ছাড়া। ওর লাইগা আমার সারাজীবনের শ্বাসের ড্রাম বাজতেছে। একটা জাহাজ ডুইবা গেলে হাঁসের কি? হাঁসের ত পা ভিজলেই হইছে সাগরের পানিতে। আমার দেহমন এই দেমাগের সাথে মিইশা গেছে। আমি স্বপ্ন দেখি কিন্তু ঘুমাইতে পারি না। আমি বড়াই করতে পারি, কিন্তু আমি মিছা কথা কইতেছি না। আমি একটা মোমবাতি। একটা ছুরি দিয়া হাজারবার আমার গলা কাটো, একইরকমভাবে আমি জ্বলতে থাকবো। আমার অস্তিত্বের খড়ের গাদার দুইদিক দিয়াই আগুন লাগছে। আমারে সারারাত ধইরা আজাইরাই জ্বলতে দাও। চান্দের আলোতে আমি রাস্তায় হাঁইটা যাই। আমার এই ডিজায়ার নিয়াই আমি রাজার সামনে দাঁড়াইতে চাই।”

ওর ভাইয়েরা ওরে বুঝাইতে লাগলো এইটা না করার লাইগা, কিন্তু কেউ তারে মানাইতে পারলো না। সে লাফাইয়া উঠলো আর দৌড়াইতে দৌড়াইতে চীনা রাজার দরবারে আইসা হাজির হইলো। চীনা রাজা সবকিছুই জানতো, কিন্তু চুপ কইরা থাকলো। সেই তিন ভাইয়ের মনের ভিতরেই চীনা রাজা ছিলেন, কিন্তু উনি তাদেরকে না চিনার ভান করতেছিলেন। কেটলির নিচের আগুনটা হইলো যা দেখা যায়, কিন্তু রিয়ালিটি হইলো গড়গড় করা পানিটা। তোমার বন্ধু হইলো যে তোমার শিরা-উপশিরা ভিতরে থাকে, যদিও মনে হবে সে বা শে হইলো তোমার বাইরের কেউ।

রাজকুমার হাঁটু গাইড়া বইসা রাজার পায়ে চুমা খাইলো আর তারে কুর্নিশ করলো। “এই পোলা যা চাইতেছে তা সে পাইবো, আর যা সে হারাইছে তার চাইতে কুড়ি গুণ বেশি পাইবো। সে জুয়া খেলছে আর প্রেমের কারণে সে তার রাজপোশাক ছাইড়া চইলা আসছে। এইরকম প্রেম তো হাজার রাজপোশাকের চাইতে দামি। সে হইলো প্রেমের দূত, আর তার কাজ সে ভালো মতোই করছে।” রাজকুমার এই কথা শুনলো আর কিছুই কইতে পারলো না। কিন্তু তার আত্মা ওই আত্মার সাথে সবসময়ই কথা কইতেছিল। রাজকুমার ভাবতেছিল, “এইটাই হইলো রিয়ালিটি, এইটাই হইলো জাইগা উঠা, এইটাই হইলো মিইশা যাওয়া।” সে অনেকক্ষণ কুর্ণিশ কইরা থাকলো, ভাবতেছিল। “একবার মইরা যাওয়া এক ব্যাপার, কিন্তু আমি বারবার মারা যাইতেছি, প্রতিটা মোমেন্টে! আমার কোন ধন-সম্পত্তিই নাই, কিন্তু আমি যে কোন কিছুই দান কইরা দিতে পারি। একটা মাথা নিয়া কারো পক্ষে প্রেমের খেলা খেলা সম্ভব না।” এই আনন্দের ওয়েট করাটা তার পুরাটা দখল কইরা নিছিলো। তার বন্ধুর রূপ তার মন থিকা সইরা গেছিল, সে মিলন খুঁইজা পাইছিল। “তার শরীরের পোশাক ছিল সিল্কের, কিন্তু তার শরীরে যখন কিছুই ছিলো সেইটা ছিল আরো মধুর।” এইটা নিয়া আর কথা বলা যাইবো না। এরপরে যা আসবো সেইটা গোপন থাকা দরকার। একজন মানুষ ঘোড়ার পিঠে কইরা সাগরে যাইতে পারে, কিন্তু তারপরে রহস্যময় নিরবতার কাঠের ঘোড়া তারে নিয়া যাবে। যখন নৌকাটা ডুইবা যায়, তুমি হইলা মাছ, চুপও থাকবা না, কথাও কইতে পারবা না। নাম ছাড়া একটা বিস্ময়। এইভাবে বড়ভাইটা মারা গেল তখন।

মেঝ ভাইটা জানাজা’তে আসলো। “এইটা কি জিনিস? একই সাগরের মাছ!” রাজা গভীরভাবে ভাবতেছিলেন। তখন উনার এক উজির কইলো, “একই বাপের পুত, মরা ছেলেটারই ভাই।” রাজা কইলেন, “আচ্ছা, তার দিক থিকা আমার জন্য একটা স্মৃতির উপহার সে।” সো সেই মহান দয়া আবার নাইমা আসলো, আর উঠানটা মনে হইতেছিল ডালিমের মতো ফেটে যাইতেছে হাসতে হাসতে, দুনিয়ার সবকিছু তাদের তাঁবু খুলে দিতেছিল, প্রতিটা সেকেন্ডে নতুন দুনিয়া তৈরি হইতেছিল। এইরকম জিনিসের কথা সে বইয়ে পড়ছিলো। আর এখন এইটা তার ভিতরে ঘটতেছে। সে পাগলের মতো কইতে থাকলো, “আরো আছে? আরো আছ এইরকম?” রাজার দুনিয়ার ভিতরে ঢুইকা তার এমন ফিলিংস হইলো যা তার জীবনে কখনো হয় নাই। আর তারপরেই তার মনের মধ্যে গর্ব ঢুইকা পড়লো।

“আমি নিজেই কি রাজা না? আমিও তো এক রাজারই পোলা? এইটা ক্যান আমারে কন্ট্রোল করবো? আমি নিজেই আমার নিজের দোকান খুলবো, তার থিকা আলাদা হইয়া।” সে ভাবলো। রাজা তো চেইতা গেলো। ভাবলো, “আমি তোরে দ্বীনের আলো দিলাম আর তুই আমার মুখে ময়লা ছুঁইড়া মারলি!” মাইঝা ভাই সাথে সাথে বুঝতে পারলো নিজের মনে কি ভুল সে করছে, কিন্তু ততক্ষণে তো দেরি হইয়া গেছে। তার সেই মহত্ত্ব চইলা গেছে। সে আর বাগানের ময়ূর নাই, একটা একলা পেঁচা হইয়া জঙ্গলে উইড়া গেছে। যেইভাবে আদম একটা কুঠারের মতোন বেহেশত থিকা বাইর হইয়া গেছিল। সে তার নিজের কাছে ফিরা আসলো, মাফ চাইলো। তার এই অনুশোচনা তার কাছে অন্য আরেকটা জিনিস নিয়া আসলো। একটা গভীর বেদনা যা মিলনের থিকা বিচ্ছেদ হইলেই ফিল করা যায়। গল্পটা ছোট কইরাই বলি। এক বছর পরে রাজা তার নিজের স্বেচ্ছা-বন্দি থিকা বাইর হইয়া দেখলেন যে, আর তূণীরের মধ্যে একটা তীর নাই আর মেঝ ভাইটা মইরা পইড়া আছে, তীরটা তার গলার ভিতরে ঢুকানো। রাজা তখন কানলেন। যিনি মারলেন তিনিই সবচে কষ্ট পাইলেন। মেঝ ভাইটাও মইরা গিয়া, তার বন্ধুর সাথে গিয়া মিললো।

থার্ড ভাইটা ততদিন পর্যন্ত অসুখে পইড়া ছিল। শেষমেশ সে রাজকন্যারে পাইলো। দেহ আর মনের মিলনের যেই জিনিস সেইটা সে পাইলো। আর এইটা পাওয়ার লাইগা তারে কিছুই করা লাগলো না।

 

গাধারে নিয়া একটা গান

এই কাহিনিটা স্পিরিচুয়াল লাইফে অন্যদেরকে নকল করার বিপদ নিয়া বলা। আপনার ফ্রেন্ডদের লগে আপনি নিজেই দেখা করেন। এমন একটা স্বরের মধ্যে মিইশা যান যেইখানে স্বার্থপরতা নাই, এই লিমিটগুলিই নাই।

ঘুরতে থাকা একজন সুফি তার গাধারে নিয়া একটা সুফি কমিউনিটির মধ্যে আসলেন যারা অনেক গরিব আছিলো। উনি তার গাধারে খাওয়াইলেন আর পানি দিলেন, তার চাকরের কাছে রাইখা তারপরে ভিতরে গেলেন। সাথে সাথে ওইখানের কয়েকজন সুফি গাধাটারে বেইচা দিয়া খাবার আর মোমবাতি কিইনা নিয়া আসলেন মজমার লাইগা। ওই আখড়ায় তো পুরা আনন্দের চিল্লা-ফাল্লা শুরু হইয়া গেলো। আর কোন ধ্যান নাই, তিনদিনের উপাস নাই!

আপনি যদি ধনী হন আর পেট ভরা থাকে তাইলে এই গরিবদের আনন্দ দেইখা হাইসেন না। উনারা উনাদের আত্মা থিকা এই কাজ করতেছেন না, উনারা করতেছেন উনাদের দরকারের জায়গা থিকা। ঘুরতে আসা সুফিও মজমাতে জয়েন করলেন। অন্যরা উনারে সবসময় মনোযোগ দিলো, জড়াইয়া ধরলো, মর্যাদা দিলো। সেমা শুরু হইলো। রান্নাঘর থিকা ধোঁয়া আসতেছিল, ফ্লোরে যখন ঠ্যাংগুলি পড়তেছিল তখন ধূলা উড়তেছিল, আর ভাব জাইগা উঠতেছিল নাচের ভিতর থিকা। উনারা হাত নাড়াইতেছিলেন। কপাল মাটিতে ছুঁয়াইয়া সিজদা করতেছিলেন। এইরকম একটা মজমার লাইগা উনারা অনেকদিন ধইরা ওয়েট করতেছিলেন। সুফিদের সবসময় অনেকদিন ধইরাই ওয়েট করতে হয় উনাদের ডিজায়ারের লাইগা। আর এই কারণেই উনারা এতো ভালো খাইতে পারেন। যেই সুফি খালি আলো খাইয়াই বাঁইচা থাকেন, তার কথা আলাদা, হাজারে এইরকম একজন সুফি পাওয়া যায়। আর বাকি সবাই উনার প্রটেকশন নিয়াই বাঁইচা থাকেন।

 

3-sama-sufism

 

সেমা পুরা হইয়া শেষ হইলো। তখন কবি খুব গভীর দুঃখের একটা গান গাইতে শুরু করলেন, “আমার পোলার মতোন পিয়ারা গাধাটা চইলা গেছে। তোমার গাধা চইলা গেছে।” সবাই গাইতে লাগলো, হাতে তালি দিয়া বারবার গাইতে থাকলো, “আমার গাধাটা চইলা গেছে, আমার পোলা। তোমার গাধা চইলা গেছে।” আর ঘুরতে আসা সুফি সবার চাইতে বেশি প্যাশোনেটলি গাইতে থাকলেন এইটা। সবশেষে, যখন ভোর হইলো, সবাই সবার সাথে কোলাকুলি কইরা বিদায় নিলো। খাবারের রুমটা খালি পইড়া রইলো। সুফি মানুষটা উনার ব্যাগ-ট্যাগ বাইর করলেন আর চাকররে কইলেন, “আমার গাধাটা কই?” “আরে, পাগল নাকি! এইটা কি কন আপনে? উনারা তো আপনার গাধা বেইচা দিছে! আর এই কারণেই না আমরা মজমাটা করতে পারলাম।” “তুমি আমারে আইসা এইটা কইলা না ক্যান?” “অনেকবার ট্রাই করছি আমি। কিন্তু আমি যখনই আপনার কাছে গেছি, আপনি আরো জোরে জোরে গাইছেন, ‘গাধাটা গেছে গা, গাধাটা গেছে গা’; তো আমি ভাবছি আপনি এইটা জানেন। আমি ভাবছি আপনি গোপন কোন কানেকশনে এইটা জাইনা ফেলছেন।” “হ, আমি তো অন্যদের আনন্দরে নকল করতে গেছিলাম, যেই কারণে এইটা ঘটছে।”

এমনকি ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা হওয়ার আনন্দটাও ফার্স্টে আপনার নিজের ভিতরেরই রিফ্লেকশন। উনাদের সাথে থাকেন যতক্ষণ না আপনি এইটা বুঝতে পারতেছেন। এইখানে সুফি নকল করতে চাইছেন কারণ উনি অনার চাইছিলেন। এইটা উনারে সবসময় ঠেকাইয়া রাখছে, কি বলা হইতেছে, সেইটা বুঝার জায়গা থিকা। মনে রাইখেন কোন কিছু করার একটাই কারণ আছে: ফ্রেন্ডের লগে দেখা করাটাই হইলো আসল ইনাম।

 

ভালো-বিচার

এক পরিচিত আইসা নবীজিরে কইলো, “কেন যে এইরকম হয়, কোন বিজনেস ডিল করতে গেলেই আমি কেন ধরা খাই? পুরা যাদুর মতো ঘটনা ঘটে। ব্যবসার কথা কইতে কইতে আমি আউলাইয়া যাই আর ভুল ডিসিশানগুলি নিয়া নেই।” মুহাম্মদ উত্তর দিলেন, “প্রত্যেকটা ডিলিংয়ের সময় তুমি ডিসিশান নিতে তিনদিনের সময় নাও।” ধীরতা হইলো খোদাতালার একটা গুণ। একটা কুত্তার দিকে একটাকিছু ছুঁইড়া মারো, দেখবা সে আগে শুঁইকা দেখবো, এইটা সে চায় কিনা। এইরকম সাবধানী হও। তোমার জ্ঞানের নাক দিয়া শুঁইকা নাও আগে। ব্যাপারটা বুঝো। তারপরে ডিসাইড করো। এই দুনিয়া পয়দা হইছে ছয়দিন ধইরা। খোদাতালা জাস্ট বইলা দিতে পারতো যে, হও!

ধীরে ধীরে একটা মানুষ চল্লিশে পৌঁছায়, চল্লিশ থিকা পঞ্চাশ, পঞ্চাশ থিকা ষাইটে যায়, আর সে কমপ্লিট ফিল করতে থাকে। খোদাতালা চাইলে নবুওয়ত পাওয়া নবীদেরকে এক মুর্হূতে সাত আসমান থিকা উড়ায়া পাঠাইয়া দিতে পারতেন দুনিয়ায়। যিশু একটা কথা কইছিলেন, আর তাতেই একটা মরা মানুষ উইঠা বসছিলো, কিন্তু ক্রিয়েশন ধীরে ধীরে আনফোল্ড করে, যেমনে ঝিনুক নিজেরে ভাঙে।

স্থির থাকা, আস্তে আস্তে চলা আমাদেরকে ছোট্ট একটা খাড়িতে কাজ করা শিখায় যার পানি টলটলা, যেইটা কখনো আটকাইয়া থাকে না, যেইটা ইচ্ছাকৃতভাবেই নানান দিকে চলে। ভালো বিচার আসে একটা আনন্দ থিকা, যেইভাবে একটা ডিম থিকা একটা পাখি বাইর হয়। পাখিগুলা দেখতে ডিমের মতোন না! ভাইবা দেখো, ডিম ফাটার পরের ঘটনাটা কি রকম আলাদা। একটা সাদা চামড়ার সাপের ডিম, একটা চড়ুইয়ের ডিম; একটা নাশপাতির বীজ, একটা আপেলের বীজ: কতো আলাদা জিনিস অথচ একটা স্টেইজে একইরকম দেখায়। এই পাতাগুলি, আমাদের শরীরের পার্সোনালিটিগুলি একইরকম মনেহয়, কিন্তু আত্মার দুনিয়ায় যেই ফল আমরা বানাই, প্রতিটাই অসাধারণ এক একটা জিনিস।

 

 

The following two tabs change content below.
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য