Main menu

পলিটিক্যাল আলাপ (২): বাংলাদেশের পলিটিক্যাল পার্টি (২০২১)

।। পলিটিক্যাল আলাপ (১) ।।

>>>>>>>>>

বাংলাদেশে যারা সেক্যুলার, লিবারাল রাজনীতির সার্পোটার তাদের বুঝতে পারা দরকার যে, আওয়ামী লীগরে দিয়া হবে না। ইন ফ্যাক্ট, রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ বইলা কিছু নাই আর। আমার কথারে লিটারালি নিয়েন না। খুব দাপটের সাথেই আছে, কিন্তু পলিটিক্যালি ডেড একটা ঘটনা। যেমন ধরেন, কয়জন মন্ত্রী-মিনিস্টারের নাম আপনি জানেন বা শুনেন মিডিয়াতে, ঘুইরা-ফিরা দুই-চাইরজনরেই; কিন্তু তাদের চাইতে পাওয়ারফুল হইতেছেন পুলিশের এসপি’রা, উনাদের কথা বেশি শোনার কথা, কারণ দেশ চালাইতেছে পুলিশ-আমলা-মিডিয়া-মিলিটারিদের দেশ-বিরোধী একটা গং, আওয়ামী লীগ হইতেছে জাস্ট ফেইসটা। পাবলিক ইল্যুশনের জায়গাটা। এইটা আছে, কিন্তু নাই। আওয়ামী লীগ গত পার্লামেন্ট ইলেকশনেই মারা গেছে, যখন পুলিশ-মিলিটারি-সরকারি কমর্চারিদেরকে দিয়া ভোট দেয়াইছে। বাংলাদেশের মানুশের উপরে পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে আওয়ামী লীগের কখনোই বিশ্বাস ছিল না। এখন এইরকম নন-ইলেক্টেড, এন্টি-পিপল একটা পলিটিক্যাল পার্টির ইল্যুশনরে সার্পোট দিয়া বাংলাদেশের সেক্যুলার ও লিবারাল’রা নিজেদের পায়ে কুড়ালই মারতেছেন। মানে, একজন ভালো-মানুশ হিসাবে আপনি যদি কোন খারাপ কাজরে সার্পোট করেন, আপনি আর ভালো মানুশ থাকতে পারেন না। এই কারণে বাংলাদেশের সেক্যুলার-লিবারাল’রা এই খারাপ-মানুশদের দলে আছেন এখন।

যদি সত্যিকারভাবে উনারা সেক্যুলার-লিবারাল পজিশন ধইরা রাখতে চান নতুন কোন পলিটিক্যাল পার্টি বানাইতে হবে, যারা নয়া বাকশালের এগেনেস্টে কথা কইতে পারবে, একটা পজিশন নিতে পারবে। এই কাজ যারা করতে চান উনাদেরকে (আমি আশা করি যে, আনু মুহাম্মদ, রেহনুমা আহমেদ, শহীদুল আলমদের ছোট একটা গ্রুপ আছে, যারা সেক্যুলার-লিবারাল পজিশন ধইরা রাখতে চান) অবশ্যই একটা পলিটিক্যাল প্লাটফর্ম তৈরি করতে পারতে হবে, তা নাইলে যট্টুক পলিটিক্যাল রিলিভেন্স আছে উনাদের, ততটুকও থাকবে না। এইরকম ভালো-মানুশ সেক্যুলার, লিবারালদের কবর যদি বাংলাদেশের মাটিতে হয়, সেইটা কোন পজিটিভ ঘটনা হবে বইলা আমার মনে হয় না। কিন্তু “টক্সিক পার্টনারের প্রতি ডিভোটেড লাভারের মতন” উনাদের আওয়ামী-ভালোবাসা উনাদেরকে মাইরাই ফেলবে। কিন্তু এই বুঝ উনাদের নাই – এইটা ভাবতে পারাটা তো মুশকিলই আসলে। বরং উনারা, এই সেক্যুলার-লিবারাল’রা পলিটিক্যাল স্পেইসটার লগে এক ধরণের হেইট্রেটের জায়গা থিকা এটাচড থাকেন, যার ফলে আওয়ামী লীগের লগেই নিজেদের এটাচমেন্ট’টা খুঁইজা পান। এই পজিশন চেইঞ্জ না করতে পারলে, নিজেরাই পলিটিক্যালি ইন-ভ্যালিড হয়া যাবেন, আওয়ামী-লীগ ইনভ্যালিড হওয়ার আগেই। কারণ, আওয়ামী-লীগের যেই আইডিওলজি “বাঙালি জাতীয়তাবাদ” সেইটা তার কোর জায়গা থিকা “বাংলাদেশ-বিরোধী” একটা ঘটনা, এই জায়গাটা কেউ মার্ক করতেছেন বইলা আমার মনে হয় না। যদি আওয়ামী-লীগের রাজনীতি বাঁইচা থাকে, সেইটা বাংলাদেশের সেক্যুলার, লিবারাল রাজনীতির মারা যাওয়ার কারণই হবে।… 

 

…………………..

আহমদ ছফাদের আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ’রে ‘মুক্তিযুদ্ধের’ সার্টিফিকেট দিছেন আহমদ ছফা’র মতন পলিটিক্যাল কমেন্টেটর’রাই। উনার এক আবেগি বাণী আছে, ‘আওয়ামী লীগ যখন হারে তাইলে বাংলাদেশ হাইরা যায় আর আওয়ামী লীগ যখন জিতে তখন খালি আওয়ামী লীগ-ই জিতে’ – এইরকম টাইপের। খুবই বাজে কথা এইটা।

বাজে কথা এই সেন্সে যে, এইখানে ফাঁপা আবেগ ছাড়া আর কিছু নাই। ইন্ডিয়াতে কংগ্রেসের জায়গায় বিজেপি বা রিজিওনাল দলগুলি জিতলে অথবা পাকিস্তানে মুসলিম লীগের জায়গায় পিপলস পার্টি বা তেহরিকে ইনসান জিতলে ইন্ডিয়া বা পাকিস্তান তো হাইরা যায় না। বাংলাদেশে এইরকম ভাবা’র লাইগা কেন বলা হয়? একটা পলিটিক্যাল দল কেমনে একটা রাষ্ট্রের মালিকানা পাইতে পারে?

এইটা আহমদ ছফা’দের কোন পলিটিক্যাল ‘ভুল’ বইলা আমি মানতে রাজি না। বা কোন ‘অতীত অভিজ্ঞতা’র সিনথেসিস বইলা ভাবা’টাও কোন কাজের জিনিস না। বরং এর একটা উদ্দেশ্য আসলে এক ধরণের ‘বাংলাদেশ’রে ডিফাইন করা, যেইটা খুবই মিডল-ক্লাসের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া কালচারাল প্রডাকশনগুলাও দেখবেন, ‘শহরের’ ‘শিক্ষিত’ ‘পোলা’রা’ হইতেছে মেইন ‘মুক্তিযোদ্ধা’; আর এই কারণে ‘গ্রাম্য’ ‘অশিক্ষিত’ ‘মাইয়া’দের’ প্রতি এই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বা ‘বাংলাদেশ’ ধারণার এক ধরণের কালচারাল বিরোধিতা আছে। এই যে, ছফা’দের (প্লুরাল কারণ আরো আছেন উনার মতন) ‘বাংলাদেশ’ ধারণা – সেইটার বেইজটারে কোশ্চেন করা, খোলাসা করাটা জরুরি একটা ইন্টেলেকচুয়াল কাজ যে, এইটার বেচা-বিক্রি কি কি ভাবে চালু থাকতে পারতেছে এখনো?

আওয়ামী লীগ হারলে যেমন বাংলাদেশ হারে না, ‘বাংলাদেশ’ বইলা এক ধরণের ‘শিক্ষিত’ মিডল-ক্লাস সেন্টিমেন্টে দাগা লাগে, একইভাবে জিতলেও খালি আওয়ামী লীগ-ই জিতে – তা না, বরং গ্রসলি বললে আহমদ ছফা’রা আরো বড় ভাগ চান, এই জিতা’র। সেইটা কখনোই সম্ভব হয় না, যার ফলে এক ধরণের ‘অভিমান’ বা ‘প্রবঞ্চণা’র ফিলিংসই হয় উনাদের, এর বেশি কিছু না।

/ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

……………………..

যতদিন খালেদা জিয়া বাঁইচা আছেন, ততদিন বিএনপি’র আশা আছে। উনি হইতেছেন একমাত্র নেতা, যিনি বাংলাদেশের মানুশের রাজনৈতিক অধিকারের জন্য সাফার করছেন, করতেছেন। আমলা-পুলিশ-মিলিটারি-মিডিয়া’র কাছে উনি সারেন্ডার করেন নাই। এরশাদের পতনও সম্ভব হইছিল উনি আপোষ করতে রাজি হন নাই বইলাই। এই জায়গাতেই উনার পলিটিক্যাল সিগনিফিকেন্স। উনি মারা যাওয়ার পরে বিএনপি একটা পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে টিইকা থাকতে পারবে কিনা, এইটা উনার উপরেই ডিপেন্ড করে অনেকটা। এখন বিএনপি যে পলিটিক্যালি কোন রোল প্লে করতে পারতেছে না, এতে বাংলাদেশের মানুশই সাফার করতেছে। দল হিসাবে বাতিল হয়া গেলে সেইটাও বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য খুবই বাজে একটা ঘটনা হবে। এখন দলের বাইরে থিকা কেউ আইসা বিএনপি’রে বাঁচায়া ফেলবে, চাঙ্গা কইরা ফেলবে, এইরকম কোন ম্যাজিক হবে না। বিএনপি অবশ্যই লিবারাল একটা দল, কিন্তু যেমন ঠিক সেক্যুলার না, একইভাবে ইসলামিস্টও না। বরং একটা “বাংলাদেশি” জায়গারে তৈরি না করতে পারার কারণে পলিটিক্যাল আইডিওলজির জায়গাতেও সাফার করতে হইতেছে। আমার এক্সপেক্টশন হইতেছে, উনারা উনাদের এই কোর জায়গাটারে ধইরা রাখবেন, সেক্যুলার ও ইসলামিস্ট গেইমটার বাইরে, আর দলের ভিতরে ডেমোক্রেসির জায়গাটারে যত বেশি ওপেন করতে পারবেন, তত বেশি পাবলিকের কাছে একসেপ্টেবল হইতে পারবেন, পলিটিক্যাল দল হিসাবে নিজেদের ভিত’টারে স্ট্রং করতে পারবেন। এই সুযোগ বিএনপি’র এখনো আছে। আজকে থিকা পাঁচ বছর, দশ বছর পরে হয়তো থাকবে না।

এই নয়া বাকশাল আমলে সবচে বেশি জুলুমের শিকার হইছে জামায়েতে ইসলামি। দল হিসাবে উনাদের আইডিওলজি আপনি সার্পোট না-ই করতে পারেন, কিন্তু তাই বইলা সরকারি খুনগুলারে কোনভাবেই জাস্টিফাই করা যাইতে পারেন না। যেইসব এক্টিভিস্ট জামায়াতে ইসলামি’র নেতা-কর্মীদের খুনের এগেনেস্টে কথা বলতে পারেন নাই, পারতেছেন না, এই নিরবতার জন্য নিজেদের কাছে হইলেও একদিন মাফ চাইতে হবে। এখন আপনারা হেফাজতরে ডরান কারণ আপনারা জানেন আওয়ামী লীগ জামায়েতে ইসলামের সাথে কি করছে। সেইম ঘটনা রিপিট হবে – এই ডর’টা এখন নিজেরা পাইতেছেন। জামায়েতে ইসলামি ছিল পলিটিক্যালি অর্গানাইজড, ইকনোমিক্যালি ওয়েল-অফ একটা দল। এই কারণে ছিল নয়া বাকশালের মেইন টার্গেট। উনারা একটা নতুন ডমিনেন্ট মিডল-ক্লাসের কালচার তৈরি করতে চাইতেছিলেন, যেইটা ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের’ যেই ন্যারেটিভ আছে, তার পুরা অপজিট একটা ঘটনা। কিন্তু এই নেরেটিভ উনাদের স্ট্রং পয়েন্ট না। বরং উনাদের যেই পাবলিক সার্পোটের জায়গা সেইটা উনাদের ‘সৎ ও ভালো মানুশ’ ইমেজের কারণে সম্ভব হইছিল। উনাদের পলিটিক্যাল আইডিওলজি সার্পোট না করলেও উনাদের পলিটিক্যাল কালচার’রে পাবলিক বেটার মনে করতো। (ধর্মীয় জায়গাতে বরং অনেক না-রাজি আছে, উনাদেরকে নিয়া।) এই কারণে দেখবেন, মিডিয়া সবসময় হাইলাইট করছে “জামায়াত নেতাদের দুর্নীতি-কুর্কীতি” এইসব জিনিসরে। জামায়েতে ইসলামী নিজেদের পলিটিক্যাল আইডিওলজির জায়গারে রিভিউ করতে না পারলে নতুন কইরা রিলিভেন্ট হয়া উঠতে পারবেন, এই চান্স মনে হয় কমই। বরং জামায়েতে ইসলামি’র যেই পলিটিক্যাল ড্রিম, সেই ভ্যাকুয়ামটা অন্য পলিটিক্যাল ফোর্সগুলা ফিলাপ করতে থাকবে।

হেফাজতে ইসলাম কম-বেশি এই জায়গাটাতে রিলিভেন্ট হয়া উঠতেছে। কোন সন্দেহ ছাড়াই, আজকে মাদরাসার স্টুডেন্টরা হইতেছে কালচারালি, পলিটিক্যালি, ইকনোমিক্যাল সবচে মজলুম, অপ্রেসড, নিপীড়িত একটা আইডেন্টিটি। আর হিস্ট্রিতে এই মজুলমরাই সবসময় পলিটিক্যাল চেইঞ্জের জায়গাতে মরিয়া হয়া কাজ করছে, করবে। কিন্তু যারা উনাদেরকে দিয়া “বিপ্লব” করাইতে চান, তাদের থিকা সাবধান থাকা দরকার। বাংলাদেশের যেই পলিটিক্যাল সমস্যা, সেইটার সমাধান একটা “রাজনৈতিক বিপ্লব” দিয়া হবে না। বরং চেইঞ্জ’টা আনতে হবে রাজনৈতিক কালচারের জায়গাতে। আর যে কোন কালচারাল চেইঞ্জ হিস্ট্রি’রে কান ধইরা টাইনা হয় না, পাবলিকের কনশাসনেসের ভিতর দিয়া হইতে হয়। এই কাজটা হেফাজত যখন করতে পারবে তখন একটা পলিটিক্যাল ফোর্স হিসাবে আরো এফেক্টিভ হইতে পারবে। একটা বিপ্লবের ইমোশনাল ফোর্স হিসাবে ইউজড হওয়ার বাইরে এই জায়গাগুলারে উনারা লোকেট করতে চাইবেন, পারবেন, এই এক্সপেক্টশনও আমি রাখতে চাই।

কিন্তু বামদলগুলার উপরে আমার কোন এক্সপেক্টশন নাই। সিপিবি, জাসদ, ওয়ার্কাস পার্টি হইতেছে বাংলাদেশের রাজনীতি’তে পরীক্ষিত বাটপার। এরা “বিপ্লব” এর নামে যে কোন এন্টি-পাবলিক ফোর্সরে সার্পোট করে এবং নিজেদের কালচারাল জমিদারির জায়গাটারে ধইরা রাখে। (ব্যক্তি-পর্যায়ে থিকা দেখলে হবে না, বরং পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে উনাদের এই টেনডেন্সিরে রিকগনাইজ না করলে গুনাহ হবে।) গনসংহতি, রাষ্ট্রচিন্তা যদি পলিটক্যাল ফোর্স হইতে চায় এই বাটপারদের চাইতে নিজেদেরকে আলাদা করতে পারার সাহস দেখাইতে পারতে হবে। নয়া বাকশালের নৈতিক সার্পোটারদের সাথে নিয়া এর বিরুদ্ধে ফাইট করা যায় না। ইন্টেলেকচুয়াল আলাপে যতবেশি অপশনরে ওপেন রাখা যায়, তত বেটার; কিন্তু পলিটিক্যাল একশনের জায়গাতে মিনিংফুল হইতে হইলে পলিটিক্যাল শত্রু-মিত্রের জায়গাগুলারে স্পষ্ট করতে পারতে হবে। এই বেসিক জায়গাগুলারে উনারা এখনো উতরাইতে পারতেছেন না। পলিটিক্স অবশ্যই ডেডিকেশনের একটা ঘটনা, কিন্তু পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজি’র জায়গাতে এফেক্টিভ না হইতে পারলে এই ডেডিকেশন একটা ট্রাজিক ঘটনাই, শেষমেশ।…    

 

…………………..

বাংলাদেশে সব কমিউনিস্টই আওয়ামী লীগার

আওয়ামী লীগের কমিউনিস্ট হওয়ার দরকার নাই; কিন্তু কোন কমিউনিস্টের আওয়ামী লীগরে সাপোর্ট না কইরা কমিউনিস্ট থাকতে পারার নজির থাকার কথা না। মানে, কোন কমিউনিস্ট আওয়ামী লীগে জয়েন করার পরেও কমিউনিস্ট থাকতে পারেন; কিন্তু বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা অন্য কোন কমিউনিস্ট পার্টিতে জয়েন করলেও কমিউনিস্ট থাকতে পারেন না আর! (সিপিবি আসলে আওয়ামী লীগের বি-টিম না এতোটা, বরং একটা কালাচারাল উইং হিসাবে ভাবতে পারলে মনে হয় বেটার।)

অনেকের কাছে পাজল লাগতে পারে, জাসদ কেমনে আওয়ামী লীগের লগে মিলে! কিন্তু জাসদ তো কমিউনিস্টই হইতে চায়, কিন্তু কমিউনিস্ট থাইকা তো তেমন কোন বেনিফিট নাই; এই কারণে উনারা আওয়ামী লীগ-ই হইতে পারছেন এখন! কমিউনিস্ট থাকা গেল, বেনিফিটও পাওয়া গেলো! এইরকম। :p

এমনকি বিএনপি’র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে একসময় কমিউনিস্ট ছিলেন, এই কারণে উনারে দেখবেন, আওয়ামী লীগের কাছাকাছি লোক মনে হয়। এই মিল’টা যতোটা না পলিটিক্যাল, তার চাইতে অনেক বেশি কালচারাল (এবং আইডিওলজিক্যালও)। আর এই কালচারাল মিলের জায়গাগুলারে নন-পলিটিক্যাল ঘটনা হিসাবে বাতিল কইরা দিয়েন না!

মে ২, ২০২০

…………………..

ছাত্র অধিকার পরিষদ বরং একটা পলিটিক্যাল ফোর্স হয়া উঠার জায়গাতে নিজেদেরকে স্পষ্ট করতে পারতেছে। কোটা মুভমেন্টের জায়গা থিকা একটা পাবলিক এটাচমেন্ট তৈরি হইছে উনাদের। বাংলাদেশে যে কোন পলিটিক্যাল দলের চাইতে উনারা যে পাবলিক এনগেইজমেন্ট’টারে প্রায়োরিটি দিতেছেন, সেইটা উনাদেরকে একটা পলিটিক্যাল পার্টি ফর্মেশনের দিকে নিয়া যাইতেছে। এখন পর্যন্ত এইটা বাংলাদেশের পলিটিক্যাল পার্টির ভিতরে সবচে পজিটিভ একটা ঘটনা।

‘ভাসানী পরিষদ’ নামেও কিছু একটা তৈরি হইছে মনে হয়, পত্রিকাতে-ফেসবুকে দেখি; কিন্তু অইটার কোন পলিটিক্যাল সিগনিফিকেন্স এখনো তৈরি হয় নাই। কিন্তু নতুন নতুন চেষ্টা তৈরি হইতে পারাটা পজিটিভ ঘটনা সবসময়। তার মানে, মানুশ পলিটিক্যালি এক্টিভ হইতে চাইতেছে, নিজেদের ভয়েস তৈরি করতে চাইতেছে। এইটা সবসময়ই আশার কথা।…

আজকে বাংলাদেশে আমরা করোনার চাইতেও বড় একটা পলিটিক্যাল ক্রাইসিসের ভিতর দিয়া যাইতেছি। আর এর মোকাবেলা পলিটিক্যালিই করতে হবে। পলিটিক্যাল পার্টি দিয়াই করতে হবে। পলিটিক্যাল কালচারের জায়গাটারে চেইঞ্জ করার ভিতর দিয়া করতে হবে। এর কোন বিকল্প নাই। (বিকল্প-ধারা বইলা একটা দল ছিল, সেইটা এখন আর পলিটিক্যাল সিনে নাই।) কারণ পলিটিক্স কোন “বিকল্প” খুঁইজা পাওয়ার ঘটনা না, সবসময়ই মেইনস্ট্রিম একটা ঘটনা। 

[জাতীয় পার্টি এখনো নিজেদেরকে পলিটিক্যাল পার্টি বইলা দাবি করে মনেহয়। না? ভুলেই গেছিলাম আসলে। আর সেইটা মনে করার তেমন কোন কারণও নাই মনেহয়।]

২.
– পলিটিক্যাল পার্টি হিসাবে বিএনপি’র সাথে আওয়ামীলীগের বেসিক ডিফরেন্সের জায়গা কোনটা ছিল? –

এইরকম একটা কথা-বার্তা বাজারে অনেকদিন থিকাই চালু আছে যে, বিএনপি আর আওয়ামীলীগ তো একই রকমের দল – পরিবারতন্ত্র দিয়া চলে, দলের ভিতরে ডেমোক্রেসি নাই, ইকনোমিক পলিসিতে কোন ডিফরেন্স নাই, পুপলিস্ট, এইরকম অনেককিছুই। (স্পেশালি আওয়ামীলীগের কালচারাল উইংয়ের বাম-বাটপারদের ন্যারেটিভ এইটা।) কিন্তু একটা ডিফরেন্সের জায়গা ছিল বিএনপি’র, যখন খালেদা জিয়া দলটারে লিড করতেছিলেন। সেইটা হইতেছে, বিএনপি পলিটিক্যাল দল হিসাবে পিপলস পাওয়ারে বিশ্বাস করতো, ক্ষমতার সাথে ষড়যন্ত্র করার চাইতে। কন্সপিরেসি জিনিসটা পলিটিক্যালি আওয়ামীলীগের যতোটা পছন্দের জিনিস, সেইটা বিএনপি’র ছিল না।

একটা স্পেসিফিক ঘটনার কথা তো বলা-ই যায়। সেইটা হইতেছে, ১৯৮৬ সালে এরশাদের আন্ডারে ইলেকশনের ঘটনা। লাস্ট মোমেন্টে আওয়ামীলীগ এরশাদের প্রেসিডেন্সি মাইনা পার্লামেন্ট ইলেকশনে পার্টিসিপেট করছিল, সিপিবি’রে নিয়া। অবৈধভাবে দখল করা ক্ষমতার লগে আঁতাত করছিল। আর এই ইলেকশনের ভিতর দিয়া এরশাদ কিছুদিনের লাইগা হইলেও লেজিটিমিসি ক্লেইম করতে পারছিল। (এইটাই একমাত্র ঘটনা না। পাকিস্তান আমলের পিপলরে বাইপাস করার আরেকটা ঘটনা আছে আওয়ামীলীগের।* খেয়াল করলে, আরো কিছু পাওয়া যাবে হয়তো।) যদিও মনে হইতে পারে, এইটা ছিল একটা পলিটিক্যাল স্ট্রাডেজি, কিন্তু আদতে এরশাদের লগে একটা কোলাবরেশনই ছিল অইটা।

খালেদা জিয়া সেইটা করেন নাই। অনেকেই ভাবছিল তখন, বিএনপি বিপদে পইড়া গেল। আওয়ামীলীগ ভালো একটা চাল দিছে! কিন্তু সেইটা হয় নাই। যে স্বৈরাচার, সে তো কোনদিনই ডেমোক্রেসিরে নিতে পারবে না, নেয়ার কোন কারণই নাই। যার ফলে অই পার্লামেন্ট (এমনিতেই প্রি-প্ল্যান্ড ইলেকশন ছিল) দুই বছরের বেশি টিকে নাই। আর আওয়ামীলীগের এই ষড়যন্ত্রের স্বভাবের কারণেই, যখন বাংলাদেশে প্রথম ফ্রি-ফেয়ার ইলেকশন হইলো ১৯৯১ সালে, মানুশ-জন আওয়ামীলীগরে ভোট দেয় নাই, জিতায় নাই। (যে আপনারে বিশ্বাস করে না, আপনি কি তারে বিশ্বাস করবেন? কেমনে করবেন?)

এই ডিফরেন্সের জায়গাটা মনে রাখাটা দরকার। এই কারণে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুশের কাছে এখনো পপুলার। কারণ উনি ক্রিটিক্যাল মোমেন্টে পিপলের উপরে ভরসা রাখছেন। খুব কম পলিটিশিয়ানই এই বিশ্বাস রাখতে পারছেন। কিন্তু মুশকিল হইলো, বিএনপি এই জায়গাতে থাকতে পারে নাই। দুইটা জায়গাতে ভাগ হয়া গেছে। বিএনপি’র ক্রিটিকরা বিএনপিরে যেই দোষগুলা দিছে, সেইগুলারেই বেইজ হিসাবে নিয়া আঁকড়াইয়া ধরছে, নাইলে অপোজ করার চেষ্টা করছে।

বিএনপি’র এগেনেস্টে সবচে বড় ক্রিটিক’টা তো হইতেছে যে, বিএনপি হইতেছে মিলিটারি’র দল! জিয়াউর রহমান ক্যান্টমেন্ট থিকা এই দল বানাইছে এবং মিলিটারির একটা বড় অংশের সবসময় বিএনপির প্রতি সফট কর্ণার আছে। এখন জন্ম যেমনই হোক, বা যেইভাবেই হোক, একজন মানুশ বা একটা পলিটিক্যাল দলরে তার কাজকামের ভিতর দিয়াই আইডেন্টিফাই করা বা চিনতে পারা দরকার আমাদের। বিএনপি শুরু থিকাই ছিল ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের’ সার্পোটার। অন্য অনেক দল থাকতে হবে, এইটা তাদের কাজকামের মধ্যে সবসময় ছিল। যেইটা আওয়ামীলীগের মধ্যে নাই, ছিলও না। যখনই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেছে অন্যসব পলিটিক্যাল দলরে বাদ দিয়া একটা দল বানাইছে, না পারলে বি-টিম বানায়া নিছে।

তো, বিএনপি’র একটা অংশ এই ‘মিলিটারির দল’ ক্রিটিকে খুবই বিশ্বাস করে এবং ধারণা করে যে, মিলিটারি আইসা তাদেরকে ক্ষমতায় বসায়া দিবে। ২০০৭ সালের ১/১১’র পরে সেই আশা নাই। আর এইটা কখনোই বিএনপির স্ট্রেংথ ছিল না আসলে। অই ঘটনা নিয়া এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা তো মুশকিলই, কিন্তু আমার একটা অনুমান হইতেছে যে, খালেদা জিয়া তখনো পিপলের উপরেই বিশ্বাস রাখতে চাইছেন, মিলিটারি-আমলাদের বিশ্বাস করেন নাই। কিন্তু বিএনপির অনেকেই যে এই বিশ্বাস নিয়া আছেন, সেইটা বিএনপির সবচে উইক পয়েন্ট।

এই জায়গা থিকাই নিজেরা কন্সপিরেসির ট্রাই করছে ক্ষমতায় থাকার সময়। কিন্তু বিএনপির রাজনীতি যতটুকই ছিল, ছিল আসলে এই কন্সপিরেসির এগেনেস্টেই। যখন অই জায়গাতে গেছে, পিপলের কাছ থিকা দূরে সইরা আসছে আরো। ইন ফ্যাক্ট, খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপির অন্য সব লিডারদের কাছে এই জিনিসটা কখনো স্পষ্ট ছিল কিনা, এইটা নিয়াও আমি কিছুটা ডাউটফুল।…

আরেকটা টেনডেন্সি হইতেছে, যেহেতু ‘ক্যান্টনমেন্টের দল’ বলা হয়, এর এগেনেস্টে বিএনপি দেখাইতে চায় যে, মিলিটারি না, বরং বুদ্ধিজীবী-আমলারাও তো আছে তাদের দলে! জনগণরে বাদ দিয়া যারা “জনগণরে রিপ্রেজেন্ট” করেন বইলা দাবি করেন – মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কালচারাল ও এলিট মিডল-ক্লাস, এইরকম যারা আছে, সেই বাটপারদের লগে তাল মিলানোর একটা চেষ্টার ভিতর ছিলই সবসময়, কিন্তু এইটা টেনডেন্সি হিসাবে এখন স্পষ্ট হইতে পারতেছে। যেইটা আসলে আওয়ামীলীগেরই পলিটিক্স। পিপলরে বাদ দিয়া যেইসব উপায়ের ভিতর দিয়া পিপলরে কন্ট্রোলে রাখা যায়, তাদেরকে ম্যানিপুলেট করা যায় সেই জায়গাগুলারে প্রায়োরিটি দেয়া। এইটা পলিটিক্স না, এইটাই হইতেছে ষড়যন্ত্রের জায়গাটা। পলিটিক্যাল দল হিসাবে যদি কেউ পিপলের কাছে নিজেরা রিচ করতে না পারে, সেইটা অন্য কোন থার্ড-পার্টির ভিতর দিয়া সেইটা করা সম্ভব না। বান্দরের কাছে পিঠা ভাগ করতে দিলে সেইটা বান্দরটাই খাইবো আগে। ‘এক্স-ক্যান্টমেন্ট দল’ না হইতে গিয়া বিএনপি এইরকম বান্দরের খপ্পরে গিয়াও পড়তেছে।… 

বাংলাদেশে এখন একটা বুঝ আছে যে, যেন ষড়যন্ত্র করতে পারাটাই হইতেছে পলিটিকস! অথচ পলিটিকস বলতে যদি এখনো কিছু থাকে, সেইটা হইতেছে যে কোন ষড়যন্ত্রের এগেনেস্টে পিপলের পার্টিসিপেশনের জায়গাগুলারে তৈরি করা। একটা সিস্টেম বানায়া সেইটারেই পিপলস রিপ্রেজেন্টশন দাবি করা না, বরং কোন সিস্টেম যখন কন্সপিরেসিটারেই নিয়ম বানায়া ফেলে সেই সিস্টেমটারে বাতিল করার ঘটনাটা। আনফরচুনেটলি, বিএনপি এই সিস্টেমের বাইরে যাইতে পারে নাই। খালেদা জিয়ার যেই বিএনপি ছিল, এখনকার বিএনপিতে সেই মিনিমাম জায়গাটা নাই। এই মিসিং জিনিসটা কারোরই ফিল না করতে পারার কথা না মনে হয়। খালেদার জিয়ার বিএনপি যেই পিপলের উপর ভরসা রাখতো, সেই জায়গাটারে উনারা হারায়া ফেলছেন, কানেক্ট করতে পারতেছেন না আর। বিএনপির রাজনৈতিকভাবে ফেইলওরটা, আমি মনে করি, স্পেসিফিক্যালি এই জায়গাটায়।  

………………….

*“এই সময় (১৯৫৫ সালে) গর্বনর-জেনারেল একটি গণ-পরিষদের বদলে একটি শাসনতন্ত্র কনভেনশন গঠনের জন্য এক অর্ডিন্যান্স জারি করিলেন। এটা স্পষ্টঃতই অগণতান্ত্রিক হইল।… আমরা (আওয়ামী লীগ) নমিনেশন পেপার দাখিল করিলাম (কনভেনশনের নির্বাচনের)। আর কোন পার্টি নমিনেশন ফাইল করিল না।… ১০ই এপ্রিল ফেডারেল কোর্ট কনভেনশন গঠনে বড়লাটের ক্ষমতা নাই, সাধারণ গণ-পরিষদ গঠন করিতে হইবে, বলিয়া রায় দিলেন।… গণতন্ত্রের নিশ্চিত জয় হইল। কিন্তু এ জয়ে আওয়ামী লীগ শরিক হইতে পারিল না। গণতন্ত্রের জয়ও যে কোনও দিন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পরাজয় ও লজ্জার কারণ হইতে পারে, ঐ দিনই প্রথম আমার সে কথা মনে পড়িল।”

– আবুল মনসুর আহমদ, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (পেইজ ২৭৫-২৭৬)

 

৩.
– পিপলস পলিটিক্স এবং খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের রাজনীতি –

জিয়াউর রহমান’রে যদি পিপলস লিডার বলা হয়, তাইলে ভুল হবে না, বরং একটু বাড়ায়া বলা হবে আসলে। বাংলাদেশে যেই এজেন্সিগুলা পিপলরে ডমিনেন্ট করে, সেই এজেন্সিগুলারে উনি খুব ভালোভাবে মবিলাইজ করতে পারছিলেন। যার ফলে, এইরকমের পলিটিক্সের জায়গা থিকা বাংলাদেশের সমাজে এক ধরণের রিসোর্স মবিলাইজেশন শুরু হইছিল, যেইটা স্বাধীনতার পরে হইতে পারে নাই। অইটা ছিল জিয়াউর রহমানের রাজনীতির মেইন সিগনিফিকেন্স, যেইটা এখনো কম-বেশি কন্টিনিউ আছে (বা ছিল কয়দিন আগে পর্যন্ত)। কিন্তু নয়া বাকশালি রিজিমে আইসা আবার হুমকির মুখে পড়ছে। এই পলিটিক্যাল মবিলাইজেশন বা লাড়া-চাড়া পিপল এনগেইজমেন্টের জায়গা থিকাই শুরু হইছিল, কিন্তু এজেন্সিগুলার খপ্পর থিকা বাইর হইতে পারে নাই। যেইখানে পরে খালেদা জিয়ারেও এই জায়গাতে সাফার করতে হইছিল। কিন্তু এই জায়গাতে খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানের চাইতে গ্রেট রাজনৈতিক নেতা ছিলেন।

মানে, আমি বলতেছি, সেন্টার হিসাবে এই জায়গাটারে ভাবেন যে, বাংলাদেশে পিপলস পলিটিক্স কে করছেন, কেমনে করছেন? শেখ মুজিবুর রহমানরে বলা হয় যে, উনি পিপলস লিডার ছিলেন। কিন্তু উনার পাবলিক এনগেইজমেন্ট কতোটা ডেমোক্রেটিক জায়গা থিকা ছিল, সেইটা ভাবার দরকার আছে। এইটা সত্য যে কোন এজেন্সির থ্রু’তে উনার কানেক্ট করতে হয় নাই পিপলের লগে। কিন্তু পিপলের লগে উনি কানেক্ট করছেন এক ধরণের “অভিভাবক” এর জায়গা থিকা, যার ফলে যখন উনি ক্ষমতার বাইরে ছিলেন, খুবই দরদী ছিলেন, কিন্তু যখনই ক্ষমতায় গেছেন উনার নিজের “দলীয় নেতা-কর্মীদের” দিয়া “জিম্মি” হইছেন, পিপলস কানেকশনে থাকতে পারেন নাই।  উনার এই মেজর পলিটিক্যাল ব্যর্থতাটারে কোন ডেমোক্রেটিক পলিটিক্যাল সিস্টেম তৈরি করতে না পারা বা না চাওয়ার জায়গা থিকাই বেটার লোকেট করা যায়। উনার পিপলস কানেকশন একটা পারসোনাল কারিশমার বাইরে খুববেশি দূর যাইতে পারে নাই। আর উনি খালি “দলীয় নেতা-কর্মী” না, বরং সরকারি আমলা-কর্মচারীদের কাছে সারেন্ডার করছিলেন। (উনার বাকশাল গঠনের ভাষণে এর ইন্ডিকেশন পাইবেন।) কন্সপিরেসি থিওরি’র বাইরেও যেইখান থিকা মিলিটারি ক্যু’গুলা অর্গানাইজড হওয়ার পলিটিক্যাল সিচুয়েশন তৈরি হইছিল। আর আনটিল জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশে কোন রাজনীতি শুরুই হইতে পারে নাই। এইটারে পিপলস পলিটিক্স বলা না গেলেও, এইটা জনগণের রাজনীতির শুরুয়াৎ বইলাই আমাদেরকে মানতে পারতে হবে।

জিয়াউর রহমানরে নিয়া সবচে বড় যেই ভুল ধারণাটা চালু আছে, সেইটা হইতেছে, উনি ক্যান্টনমেন্ট থিকা পলিটিক্স করা শুরু করছিলেন। বরং উনিই একমাত্র লোক যিনি রাজনীতিরে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে নিয়া আসছিলেন। উনার এই পলিটিক্যাল সিগনিফিকেন্স বিএনপির লোকজন বলা তো দূরের কথা, বিশ্বাসই করে কম। যখন “দলীয় নেতা-কর্মী” ও সরকারি আমলা-কর্মচারী-এলিটগোষ্ঠীদের দখলে চইলা গেছিল বাংলাদেশের রাজনীতি, তখন মিলিটারি ক্যু’র মাধ্যমে পলিটিক্স ক্যান্টমেন্টে ঢুকে গেছিল। জিয়াউর রহমান সেইটারে সরায়া নিয়া আসছিলেন। আইনা “দলীয় নেতা-কর্মী” নামে যেই পিপলস এজেন্সিগুলা তৈরি হয়, তাদের হাতে তুইলা দেন নাই; তাদেরকে মবিলাইজ করছিলেন। এই যে, মিলিটারি’র হাত থিকা রাজনৈতিক ক্ষমতার জায়গাটা ধীরে ধীরে সইরা যাওয়াটা, এইটা মিলিটারির লোকজনই পছন্দ করার কথা না। যার ফলে এরশাদের ক্ষমতা দখলের ভিতর দিয়া মিলিটারি এবং সরকারি আমলা-কর্মচারী-এলিটগোষ্ঠীদের একটা আঁতাত তৈরি হয় আবার।

খালেদা জিয়া অই “দলীয় নেতা-কর্মী”, মিলিটারি এবং আমলাদের দল তৈরি করেন নাই, উনি ইনহেরিয়েট করছিলেন জিয়াউর রহমানের কাছ থিকা। কিন্তু যারা এই “পিপলস এজেন্সি” বইলা দাবি করে নিজেদেরকে, উনাদেরকে উনি বিশ্বাস করেন নাই, আর অই এজেন্সিগুলা উনারে গাইড করছে ঠিকই, কিন্তু উনারে কখনোই পুরাপুরি কন্ট্রোল করতে পারে নাই। খালেদা জিয়া যে সারেন্ডার করেন নাই, এর অনেক রাজনৈতিক প্রমাণ আছে। ১৯৮৬ সালের ইলেকশন এর একটা বড় উদাহারণ। এইটা উনার পারসোনাল গোয়ার্তুমি না, বরং পলিটিক্যাল ডিসিশান। এই জায়গা থিকা রিড করতে বলবো আমি।

একজন পলিটিক্যাল লিডারের পক্ষে পুরান সিস্টেম উলট-পালট কইরা ফেলা, নতুন একটা পলিটিক্যাল কালচার তৈরি করা কখনোই সম্ভব না, যদি না এইটা তাঁর চারপাশের লোকজনও এইটারে অউন করে। এইটা খালি একজন পলিটিক্যাল লিডারের কাজ বইলা আমি মনে করি না, এইটা বরং জনগণের পলিটিক্যাল কনশাসনেসরে তৈরি করার ঘটনা। বাংলাদেশে যেইটা সবসময় মিসিং ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতির ব্যর্থতা হইতেছে, পিপলস এজেন্সি তৈরি করতে না পারার ব্যর্থতা। এইটারে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া’র রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসাবে দেখলে ভুল হবে আসলে।

তো, আগের জায়গাতে যদি ফিরা আসি, এই যে পিপলস এজেন্সিগুলারে মবিলাইজ করা, জিয়াউর রহমানের এই পলিটিক্যাল সিগনিফেকেন্স নিয়া আলাপ কম বা নাই বইলা, উনার এই কন্ট্রিবিউশন বাতিল হয়া যায় নাই, বরং যত দিন যাবে জিয়াউর রহমানের এই জায়গাটা আরো স্পষ্ট হইতে থাকবে। ইতিহাস কোনদিন জোর কইরা লেখা যায় না। কিছুদিন লুকায়া রাখা যাবে, চুপ করায়া রাখা যাবে, কিন্তু মুইছা ফেলা যাবে না আসলে।

খালেদা জিয়াও এই হেইট্রেটের শিকার হইছেন। ‘এইট পাশ মহিলা’ বইলা গালি-গালাজ উনার নিজের দলের লোকজনই উনারে গোপনে দিছেন, বা দেন। এরা হইতেছে অই ‘শিক্ষিত বাটপার’, অই বান্দর, যারা লেখা-পড়া দিয়া মানুশের বিদ্যা-বুদ্ধিরে মাপতে চায়। ইন্টেলেকচুয়ালিটি আর পলিটিক্যাল লিডারশিপ যে একই ঘটনা না, এই বাইনচোতদেরকে এইটা কে বুঝাবে! যা-ই হোক… তো, জিয়াউর রহমান যেমন এই পিপলস এজেন্সিগুলারে বিশ্বাস করেন নাই, খালেদা জিয়াও করেন নাই, এমনকি উনি অই জায়গাতে বেটার যে, অদের এগেনেস্টে গিয়াও পিপলের ফর-এ উনি ডিসিশান নিছেন। এইখানে উনি জিয়াউর রহমানের চাইতেও এক কদম আগানো বইলা আমি মনে করি।

এখনকার সময়ে, এই জায়গাগুলারে খেয়াল করতে পারাটা জরুরি। কারণ বাংলাদেশে আমরা এখন বাঁইচা আছি যে কোন ধরণের “পলিটিক্যাল আলাপ নিষেধ”-এর একটা টাইমে। আপনি সবকিছু করতে পারেন, সবকিছু নিয়া কথা বলতে পারেন, একসেপ্ট পলিটিক্স। আর এই কারণেই পিপলস পলিটিক্স নিয়া কথা বলাটা যে কোন সময়ের চাইতে দরকারি একটা জিনিস।

যদি বলতে না পারি, এটলিস্ট সরাসরি ভাবার যেন ট্রাই করি। তা নাইলে, আতারে-ফাতারে বাইড়াইয়া, মানে “বিটিং অ্যারাউন্ড দ্য বুশ” কইরা বড়জোর একটা কিংস পার্টিই বানাইবেন আপনেরা। এর বেশি কিছু হবে না, ওস্তাদ!

 

The following two tabs change content below.
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য