Main menu

গণ-ফ্যাসিজম (Ur-Fascism) – উমবের্তো একো [লাস্ট পার্ট]

ফার্স্ট পার্ট

………..

এইখানে আমরা আমার কথার সেকেন্ড পার্টে আসি। এইখানে একটামাত্র নাজীজম আছে, ফ্রাঙ্কো’র আলট্রা-ক্যাথলিক ফ্যালগানিজমরে আমরা নাজীজম বলতে পারি না, এইটা ধইরা নিয়া যে নাজীজম হইতেছে ফান্ডামেন্টালি প্যাগান, বহুইশ্বরবাদী, আর এন্টি-ক্রিশ্চিয়ান, আর তা নাইলে এইটা নাজীজম না। অন্য দিক দিয়া, আপনি নানানভাবে ফ্যাসিজমের গেইমটা খেলতে পারেন, গেইমের নাম এতে কইরা চেইঞ্জ হয় না। ভিনগেনস্টাইনের মতে, ‘ফ্যাসিজম’র নোটেশন নিয়া যা ঘটে ‘খেলা’র নোটেশন নিয়াও একই ঘটনাই ঘটে। একটা গেইম কম্পিটিটিভ হইতে হবে বা তার বাইরে কিছু, এইখানে একজন বা তার বেশি লোক থাকতে হবে, এইটাতে কিছু পার্টিকুলার স্কিল লাগতে পারে অথবা কিছুই না, এইখানে টাকা-পয়সা জড়িত থাকতে পারে অথবা না। গেইম হইতেছে নানান ধরণের কাজের একটা সিরিজ যেইটা কিছু একটা ‘পারিবারিক মিলের’ জায়গারে ফুটায়া তোলে।

আসেন ধইরা নেই যে এইখানে অনেকগুলা পলিটিক্যাল গ্রুপ আছে। গ্রুপ ১’র হইতেছে কখগ  জিনিসগুলা আছে, গ্রুপ ২ এর খগঘ, আর এইরকম। ২ এর লগে ১ এর দুইটা জায়গাতে মিল আছে। ৩-ও ২’র মতো আর ৪-ও ৩’র মতো একইভাবে দুইটা জায়গাতে। দেখেন ৩-ও ১’র মতন (অদের একটা জায়গাতে মিল আছে গ)। সবচে অদ্ভুত কেইসটা হইলো ৪ এর, অবশ্যই ৩ আর ২ এর লগে মিল আছে কিন্তু ১ এর লগে কোন কারেক্টারে মিল নাই। তারপরেও, মিল কমতে থাকা একটা চলতে-থাকা সিরিজের কারণে ১ আর ৪ এর মাঝখানে একটা ইল্যুশনারি রূপান্তরের কারণে, ৪ আর ১ এর মধ্যে একটা আত্মীয়তা আছে বইলা মনেহয়।


কখগ


খগঘ


গঘঙ


ঘঙচ

‘ফ্যাসিজম’ টার্মটা সবগুলার সাথে ফিট করে কারণ একটা ফ্যাসিস্ট শাসন থিকা একটা বা দুইটা জিনিস বাদ দেয়া যায় আর তারপরেও এইটারে ফ্যাসিস্ট বইলা চিনা যায়। ফ্যাসিজম থিকা সাম্রাজ্যবাদী ডাইমেনশনটা বাদ দেন আপনি পাইবেন ফ্রাঙ্কো বা সালজার’রে; কলোনিয়াল ডাইমেনশনটারে বাদ দেন, আর আপনি পাইবেন বলকান ফ্যাসিজম। ইতালিয়ান ফ্যাসিজমের লগে একটা ড্যাশ দিয়া রেডিক্যাল এন্টি-ক্যাপিটালিজম নেন (যেইটা কখনোই মুসোলিনির ভাল্লাগে নাই), আর আপনি পাইবেন এজরা পাউন্ডরে। কেলটিক মিথোলজি’র কাল্ট আর গ্রেইলের মিস্টিটিজমরে যোগ করেন (যেইটা অফিসিয়াল ফ্যাসিজমের বাইরের ব্যাপার), আর আপনি পাইবেন ফ্যাসিজমের সবচে রেসপেক্টেড গুরু, Julius Evola’ রে।

এইসব কনফিউশনের পরেও, আমি মনে করি একটা লিস্ট করা সম্ভব সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলার যেইগুলারে আমি বলতে চাইতেছি ‘গণ-ফ্যাসিজম’ (Ur-Fascism) বা ‘অমর ফ্যাসিজম’ (eternal Fascism)। এই বৈশিষ্ট্যগুলারে একটা সিস্টেমের মধ্যে রেজিমেন্টেড অবস্থায় পাবো না আমরা; অনেকগুলা পারস্পরিক একচেটিয়াভাবে থাকতে পারে স্বৈরাচারীতা এবং ধর্মান্ধতার মধ্যে। কিন্তু আপনার যা দরকার যখন এইগুলার কোন একটা উপস্থিত থাকবে, তখন বুঝতে পারা যে একটা ফ্যাসিস্ট নীহারিকা জমাট বাঁধতে শুরু করবে।

১. গণ-ফ্যাসিজমের পয়লা বৈশিষ্ট্য হইতেছে ঐহিত্য পূজা। ট্রাডশনালিজম হইতেছে ফ্যাসিজমের চাইতেও পুরানা। এইটা খালি সনাতন ক্যাথলিক কাউন্টার রেভিউলেশনারি চিন্তা না যেইটা ফরাসি বিপ্লবের পরে আসছিল, বরং এইটা হেলেনিক পিরিয়ডের শেষের দিকের কথা গ্রীক ক্ল্যাসিক্যাল রেশনালিজমের রি-অ্যাকশনে জন্মাইছিল।

ভূমধ্যসাগরের অববাহিকায়, নানান ধর্মের লোকজন (সবাইরে রোমান প্যানথনে তেমন খেয়াল না কইরাই নেয়া হইছিল) হিউম্যান হিস্ট্রির যেন একটা মুক্তির দিশা পাইতেছে, এইরকম একটা স্বপ্নের মধ্যে ছিল। এই মুক্তির দিশা অনেক দিন ধইরা লুকায়া রাখা ছিল একটা ভাষার পর্দার আড়ালে, যা এখন আমরা ভুলে গেছি। এইটা পাহারা দেয়া ছিল মিশরিয়ান হায়রোগ্লাফিকস, কেলটিক রানস, আর ধার্মিক লেখালেখিগুলা দিয়া, যেইটা এখনো অজানা, এশিয়াটিক ধর্মগুলা নিয়া।

এই নতুন কালচারটা ছিল সিনক্রেটিক । ‘সিনক্রেটিসিজম’ মানে অইটা না, যেইটা ডিকশনারিগুলা বলে যে, নানান ধরণের বিশ্বাস বা প্রাকটিসের কম্বিনেশন। এইরকমের একটা কম্বিনেশনরে অবশ্যই সব ধরণের কন্ট্রাডিকশনরে সহ্য করতে হবে। সব অরিজিনাল মেসেজেই উইজডমের একটা দানা থাকে, আর যখন মনেহয় অরা নানান ধরণের বেখাপ্পা জিনিস নিয়া কথা কইতেছে মনেহয় অরা সবকিছুতেই ইঙ্গিত দিতেছে, রূপকের ভিতর দিয়া, কোন একটা অরিজিনাল সত্যের।

এর ফলশ্রুতিতে, এইখানে জানা-বোঝার কোন অগ্রগতি হইতে পারে না। সত্য’টা একবার এবং সবসময়ের জন্য ঘোষণা করা হয়া গেছে, আর এখন যেইটা করতে পারি আমরা এর অস্পষ্ট মেসেজটারে ব্যাখ্যা কইরা যাইতে পারি। সবগুলা ফ্যাসিস্ট মুভমেন্টের সিলেবাসের দিকে যদি তাকান, আপনি প্রধান ট্রাডিশন্যালিস্ট থিঙ্কারদেরকে পাইবেন।  নাজী জ্ঞানকান্ড ভরা ছিল ঐতিহ্যপূর্ণ, সিনক্রিয়েটিক, আর অকাল্ট জিনিসপত্র দিয়া। নতুন ইতালিয়ান ডানপন্থীদের সবচে ইম্পর্টেন্ট থিওরিস্ট, Julius Evola, গ্রেইলের (Grail) লগে জীয়নের প্রবীণদের আদিলেখাগুলারে, আর এলকেমির লগে হোলি রোমান এম্পায়াররে মিলাইছেন। আসল কথা হইতেছে, এর মুক্তমণা অবস্থাটা দেখানোর লাইগা, ইতালিয়ান ডানপন্থীদের একটা অংশ এর সিলেবাসরে চওড়া করছে  De Maistre, Guenon আর Gramsci’রে একসাথে রাখার ভিতর দিয়া, সিনক্রোটিসজমের চটকদার প্রমাণ হিসাবে।

আপনি যদি আম্রিকান বইয়ের দোকানগুলাতে নিউ এইজ সেকশনে ব্রাউজ করেন, আপনি সেইখানে সেন্ট অগাস্টিনরে পাইবেন, যিনি, আমার জানামতে, একজন ফ্যাসিস্ট ছিলেন না। কিন্তু Saint Augustine Stonehenge’রে অই একলগে রাখাটা হইতেছে গণ-ফ্যাসিজমের (Ur-Fascism) এখনকার একটা লক্ষণ।

২. ট্রাডিশন্যালিজম দিয়াই শুরু হয় মর্ডানিজমরে বাতিল করা। ফ্যাসিস্টরা আর নাজীরা, দুইদলই টেকনোলজি’রে পূজা করতো, যেইখানে ঐতিহ্যবিদ থিঙ্কার’রা সাধারণত ট্রাডিশনাল আত্মিক ভ্যালুর অস্বীকৃতির জায়গা থিকা টেকনোলজিরে বাতিল করেন। তারপরও, যদিও নাজীজম তার ইন্ড্রাস্টিয়ালিস্ট সাফল্যের কারণ গর্বিত ছিল, মর্ডানিটির প্রতি এর প্রশংসা ছিল ‘ব্ল্যাড অ্যন্ড সয়েল’র (Blut und Boden) একটা আইডিওলজির উপর বেইজ করা মেকি জিনিস। মর্ডান ওয়ার্ল্ডরে বাতিল করাটা হইতেছে পুঁজিবাদী জীবন-যাপনরে নিন্দা করার একটা ভান, কিন্তু মেইনলি এইটা হইতেছে ১৭৮৯ (অথবা ১৭৭৬ অবশ্যই) সালের স্পিরিটের একটা রিজেকশনের ব্যাপার। এনলাইটমেন্ট’টা আর এইজ অফ রিজন’রে দেখা হয় মর্ডান শয়তানির শুরুয়াত হিসাবে। এই জায়গা থিকা, গণ-ফ্যাসিজমরে সংজ্ঞায়িত করা যাইতে পারে ইর-রেশনালিজম হিসাবে।

৩. ইর-রেশনালিজম আরো নির্ভর করে “কাজের জন্য কাজ করা”র কাল্টের উপরেও। কাজ করা তো নিজেই সুন্দর জিনিস, আর এই কারণে কোন ধরণের রিফ্লেকশনের আগে এইটা কইরা ফেলাটা দরকার। চিন্তা করাটা হইতেছে দুর্বলতার (emasculation) একটা ফর্ম। এই কারণে কালচার হইতেছে সন্দেহজনক জিনিস যতক্ষণ পর্যন্ত এইটা ক্রিটিক্যাল এটিটুড দিয়া আইডেন্টিফাই করা হইতেছে।  গোয়েবলসের স্টেটম্যানগুলার বৈশিষ্ট্য হিসাবে (‘যখন আমি কালচার নিয়া কথা শুনি, আমি আমার পিস্তল বাইর করি’)  ‘বালের ইন্টেলেকচুয়াল’ ‘বেকুব’ ‘রেডিকেল স্নব’ ‘ইউনিভার্সিটিগুলা হইতেছে কমিউনিস্টদের আখড়া’ এইরকমের কথাগুলা পাইবেন, ইন্টেলেকচুয়াল লাইফরে সন্দেহ করাটা সবসময় গণ-ফ্যাসিজমের একটা লক্ষণ। অফিসিয়াল ফ্যাসিস্ট ইন্টেলেকচুয়ালরা সবসময় মর্ডান কালচার এবং লিবারাল বুদ্ধিজীবীদেরকে দোষ দিয়া আসছে যে অরা ট্রাডিশনাল ভ্যালুগুলারে পরিত্যাগ করছে।

৪. সিনক্রেটিসজমের কোন ফর্মই সমালোচনা নিতে পারে না। সমালোচনার ধারা পাথর্ক্যগুলা তৈরি করে, আর পাথর্ক্য তৈরি করতে পারাটা হইতেছে মর্ডানিটির একটা সাইন। মর্ডান কালচারে, সাইন্টিফিক কমিউনিটি ভিন্নমত’টারে দেখে সামনে আগায়া যাওয়ার একটা টুল হিসাবে। গণ-ফ্যাসিজমে ভিন্নমত হইতেছে বেইমানি করা।

৫. ভিন্নমত অনেকবেশি একটা বৈচিত্রের লক্ষণ। ফ্যাসিজম ন্যাচারাল ডিফারেন্সের ডর’টারে কাজে লাগায়া আর চেতায়া দিয়া একটা কনসেনশাসরে (সর্বসম্মতিরে)  বাড়াইতে থাকে আর তৈরি করতে থাকে। একটা ফ্যাসিস্ট বা প্রি-ম্যাচিউর ফ্যাসিস্ট মুভমেন্টের পয়লা আহ্বান থাকে হইতেছে একটা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাইতে হবে – এই পয়েন্টটাতে। গণ-ফ্যাসিজম এই কারণে সংজ্ঞার ভিতর দিয়াই রেসিস্ট একটা জিনিস।

৬. গণ-ফ্যাসিজম ছড়ায় ব্যক্তিগত আর সামাজিক ফ্রাস্টেশনের ভিতর দিয়া, যেইটা দিয়া বুঝা যায় কেন ঐতিহাসিক ফ্যাসিস্ট মুভমেন্টগুলার সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল হতাশ মিডল ক্লাসের কাছে আর্জি জানানো, কোন ইকনোমিক ক্রাইসিস বা পলিটিক্যাল বেইজ্জতির কারণে যারা অশান্তিতে আছে, আর নিচের দিক থিকা কোন সোশ্যাল প্রেশারের কারণে ডরের ভিতরে আছে। আমাদের আজকে দিনে, যেইখানে পুরান ‘প্রলেতারিয়েত’রা হয়া উঠতেছে পেটি বুর্জোয়া (আর লুম্পেন প্রলেতারিয়েতরা নিজেরাই পলিটিক্যাল জায়গা থিকা বাদ হয়া গেছে), ফ্যাসিজম নতুন মেজরিটির ভিতরে তার অডিয়েন্স খুঁইজা পাবে।

৭. যাদের কোন সামাজিক পরিচয়ই নাই, গণ-ফ্যাসিজম বলে যে, অদের একমাত্র সুবিধা হইতেছে সবার জন্য সবচে কমন যেই সুবিধাটা আছে, যে একই দেশে জন্মাইছে। এইটা হইতেছে জাতীয়তাবাদের গোড়াটা। আর তার উপরে, একমাত্র যেই জিনিসটা একটা জাতিরে একটা পরিচয় দিতে পারে সেইটা হইতেছে একটা দুশমন থাকা লাগবে। এইভাবে, গণ-ফ্যাসিজমের গোড়ার সাইকোলজি হইতেছে ষড়যন্ত্র নিয়া অবসেসড হয়া থাকা, ভালো হইতেছে, ইন্টারন্যাশনাল কোন ষড়যন্ত্র। ভক্তদের ফিল করতে হবে যে অরা অবরোধের ভিতরে আছে। একটা কন্সপিরেসি তৈরি করার সবচে সহজ রাস্তা হইতেছে জেনোফোবিয়া (বিদেশিদের নিয়া ডর দেখানো)। কিন্তু ষড়যন্ত্রগুলা ভিতর থিকা আসতে হবে: ইহুদিরা হইতেছে সাধারণত সবচে ভালো টার্গেট, কারণ অদের এই সুবিধাটা আছে একইসাথে ভিতরের এবং বাইরের লোক হওয়ার। আম্রিকাতে, কন্সপিরেসি নিয়া এই অবসেশনের সবচে নতুন উদাহারণ হইলো Pat Robertson’র দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার বইটা।

৮. ভক্তদের অবশ্যই দুশমনদের বড়াই করা সম্পত্তি আর ক্ষমতা দিয়া অপমানিত বোধ করতে হবে। যখন আমি ছোট বাচ্চা ছিলাম, অরা আমারে শিখাইছিল যে ইংলিশরা হইতেছে ‘দিনে পাঁচবার খাওয়া লোক’, খালি গরিব না বা ভদ্র ইতালিয়ানদের থিকাও বেশি খায় অরা। ইহুদিরা হইতেছে ধনী আর মিচুয়াল অ্যাসিসটেন্সের গোপন একটা নেটওয়ার্ক দিয়া অরা একজন আরেকজনরে হেল্প করে। কিন্তু এইসব কিছুর পরেও ভক্তদের ফিল করতে হবে যে অরা দুশমনরে পরাজিত করতে পারে। এইভাবে, রেটরিকের রেজিস্টারের একটা ক্রমাগত শিফটের ভিতর দিয়া, দুশমন হইতেছে একইসাথে অনেক শক্তিশালী এবং অনেক দুর্বল। ফ্যাসিস্ট শাসনের নিয়তিই হইতেছে অদের যুদ্ধগুলা হারা, কারণ অরা শাসনতান্ত্রিকভাবেই দুশমনের শক্তির ব্যাপারে অবজেক্টিভাবে যাচাই করতে পারে না।

৯. গণ-ফ্যাসিজমের কাছে, এইখানে জীবনের জন্য কোন সংগ্রাম নাই, বরং ‘সংগ্রামই জীবন’। শান্তিবাদ (pacifism) এই কারণে হইতেছে দুশমনের সাথে অশুভ আঁতাত; শান্তিবাদ খারাপ জিনিস, কারণ জীবন হইতেছে একটা পারমানানেন্ট যুদ্ধ। এইটা, যা-ই হোক, তারে একটা শেষযুদ্ধের (Armageddon) কমপ্লেক্সের ভিতরে নিয়া আসে: যেহেতু দুশমনরে পরাজিত করতে পারা যায় আর অবশ্যই করতে হবে, এইখানে একটা শেষ লড়াই থাকার কথা, যেইটার পরে মুভমেন্টটা দুনিয়ারে শাসন করবে। এইরকম ফাইনাল সমাধান একটা এরপরের শান্তির যুগের কথা বলে, একটা সোনালি সময় যা পারমানেন্ট যুদ্ধের মূলনীতির সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে। কোন ফ্যাসিস্ট নেতা কোনদিনই এই কন্ট্রাডিকশন মিটাইতে পারেন নাই।

১০. সব রক্ষণশীল আইডিওলজির একটা সাধারণত দিক হইতেছে, এলিটিজম, যেহেতু এইটা মূলতঃ খানদানিপণার ব্যাপার। হিস্ট্রিতে সবসময়, খানদানিপণা আর মিলিটারি এলিটিজমের সব ফর্মগুলা ছিল দুর্বলের জন্য ঘৃণা। গণ-ফ্যাসিজম একটা ‘জনপ্রিয় এলিটিজমের’ প্রচার না কইরা থাকতে পারে না। প্রতিটা মানুশ দুনিয়া সবচে ভালো মানুশের দলে থাকে, পার্টির মেম্বাররা হইতেছে সবচে বেস্ট নাগরিক, আর প্রতিটা নাগরিকই হইতে পারে (হওয়া উচিত) একজন পার্টি মেম্বার। কিন্তু ছোটলোক না থাকলে আপনি তো খানদানি হইতে পারবেন না। নেতা, যে কিনা খুব কইরাই জানে যে তার ক্ষমতা কোন ডেলিগেশনের ভিতর দিয়া আসে নাই বরং জোর কইরা নেয়া হইছে, আরো জানে যে তার ক্ষমতা টিইকা আছে ম্যাস পিপলের দুর্বলতার কারণে, যারা এতোটাই দুর্বল যে তাদের দরকার এবং তারা ডিজার্ভ করে একটা ‘আধিপত্য’। যেহেতু এই গ্রুপটা সংগঠিত শ্রেণীবদ্ধভাবে (মিলিটারি লাইনসহ), প্রতিটা অধীনস্থ লিডার তার অধস্তন লোকজনদের নিচা চোখে দেখে, আর তার অধীনের সবাই একইভাবে তার নিচের লোকজনদেরকে দেখে। এইসব নিচা চোখে দেখার জিনিস একটা ম্যাস এলিটের সেন্সরে চাঙ্গা রাখে।

১১. এই পয়েন্ট অফ ভিউ থিকা, সবাই নায়ক হওয়ার ট্রেনিং পাওয়া। প্রতিটা মিথোলজিতে নায়ক হইতেছেন একজন আলাদা কেউ, কিন্তু গণ-ফ্যাসিজমের আইডিওলজিতে নায়কগিরি হইতেছে নিয়ম। এই নায়কগিরি’র কাল্ট’টা মরণের কাল্টের লগে ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কিত: এইখানে দুর্ঘটনার কিছু নাই যে ফ্ল্যানাগানিস্টদের মটো ছিল ‘Viva la muerte!‘ (মরণ দীর্ঘজীবী হোক!) নরমাল মানুশদেরকে বলা হয় যে, মরণ নিরানন্দের জিনিস কিন্তু ডিগনিটি নিয়া এর সামনে দাঁড়াইতে হবে; বিশ্বাসীদেরকে বলা হয় যে, একটা অতিপ্রাকৃতিক সুখ পাইতে হবে একটা কষ্টের ভিতর দিয়া। কিন্তু গণ-ফ্যাসিজমের নায়ক মরণরে চায়, একটা হিরোইক লাইফের সবচে সুন্দর পুরষ্কার হিসাবে কামনা করতে থাকে। গণ-ফ্যাসিজমের নায়ক মরণের জন্য তড়পায়। তার এই তপড়ানোর ভিতরে, এইটা নোট করা দরকার, সে সাধারণত তার জায়গাতে অন্য কাউরে মরার দিকে ঠেইলা দেয়।

১২. যেহেতু পারমানেন্ট যুদ্ধ আর হিরোইজম বেশিদিন ধইরা চালানো কঠিন, গণ-ফ্যাসিজম তার ‘উইল টু পাওয়ার’রে সেক্সুয়াল কোশ্চেনগুলার জায়গাতে নিয়া যায়। এইটা হইতেছে বেটাগিরির (machismo) গোড়া (যেইটা বুঝায় মহিলাদের প্রতি অবজ্ঞা আর সতীত্ব থিকা শুরু কইরা হোমোসেক্সুয়ালিটি পর্যন্ত অপ্রচলিত সেক্সুয়াল অভ্যাসগুলার প্রতি নিন্দা)। যেহেতু সেক্স নিয়া খেলাটাও কঠিন, গণ-ফ্যাসিস্ট নায়ক খেলে তার অস্ত্রগুলা নিয়া, যেইটা হইতেছে তার বদলি পেনিস: তার যুদ্ধের খেলাটা আসে হইতেছে একটা পারমানেন্ট পেনিস এনভি’র অবস্থা থিকা।

১৩. গণ-ফ্যাসিজমের ভিত্তি হইতেছে ‘গুণগত জনপ্রিয়তা’ (Qualitative populism)। একটা ডেমোক্রেসিতে নাগরিকরা ব্যক্তিগত অধিকার এনজয় করে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে নাগরিক’রা একটা পলিটিক্যাল ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারে খালি একটা কোয়ান্টেটিভ পয়েন্ট অফ ভিউ থিকা (বেশিরভাগ মানুশের মতামতরে ফলো করতে হবে)। গণ-ফ্যাসিজমে ব্যক্তির কোন অধিকার নাই, আর ‘পিপল’রে দেখা হয় একটা একতরফা সত্তা হিসাবে যারা ‘কমন ইচ্ছা’রে প্রকাশ করে। যত বেশি মানুশই হোক, যেহেতু একটা কমন ইচ্ছা তৈরি করতে পারে না, নেতা হইতেছে অদের ইন্টারপ্রেটার হিসাবে দাবি করেন: নিজেদের ক্ষমতা ডেলিগেট করার ক্ষমতা হারায়া ফেলার কারণে, নাগরিকরা অ্যাক্ট করতে পারেন না, তাদেরকে খালি ফলো করতে বলা হয়, pars pro toto (অংশই হইতেছে পুরাটা), জনগণ হিসাবে তাদের রোল প্লে করতে বলা হয়। জনগণ এই কারণে হইতেছে খালি একটা থিয়োরেটিক্যাল ভানের জিনিস। গুণগত জনপ্রিয়তার একটা ভালো উদাহারণ হইতেছে, আমাদের একটা Piazza Venezia অথবা Nuremberg-এ একটা স্টেডিয়ামের দরকার নাই।  ফিউচারে আমরা পাবো গুণগত টিভি বা ইন্টারনেট পপুলিজম, যেইখানে নাগরিকদের একটা সিলেক্টেড গ্রুপের ইমোশনাল রেসপন্সরে আমরা দেখতে পাবো আর গ্রহণ করবো ‘জনগণের ভয়েস’ হিসাবে। এর গুণগত পপুলিজমের কারণে, গণ-ফ্যাসিজম ‘পচা’ পার্লামেন্টারি গর্ভমেন্টগুলার বিরোধিতা করবে। ইতালিয়ান পার্লামেন্টে মুসোলিনী শুরুর দিকে যেই কথাগুলা বলছিল তার একটা ছিল, ‘এই ধূসর আর নোংরা চেম্বারটারে যদি আমার সৈনিকদের ছাউনি বানায়া ফেলতে পারতাম।’ ফ্যাক্ট হিসাবে বইলা রাখা যায়, সে খুব তাড়াতাড়িই তার সৈনিকদের জন্য একটা ভালো বিশ্রামাগার বানাইতে পারছিল, কিন্তু সেইটা হইছিল পার্লামেন্ট ভাইঙ্গা দেয়ার ঠিক পরে। প্রতিটা বার যখন একজন পলিটিশিয়ান একটা পার্লামেন্টের বৈধতা নিয়া প্রশ্ন তোলে যে এই ‘জনগণের ভয়েস’ হইতে পারতেছে না, সন্দেহ করবেন গণ-ফ্যাসিজম আসতেছে তখন।

১৪. গণ-ফ্যাসিজম নিউজপিক (newspeak) ইউজ করে। ‘নিউজপিক’ জিনিসটা আবিষ্কার করছিলেন অরওয়েল ১৯৮৪’তে, Ingsoc’র অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে, ইংলিশ সোশ্যালিস্ট মুভমেন্টের, কিন্তু গণ-ফ্যাসিজমের উপাদানগুলা নানান রকমের স্বৈরাচারের ফর্মগুলার মধ্যে কমন হিসাবে থাকে। সব নাজী এবং ফ্যাসিস্ট পন্ডিতি লেখাগুলা দুর্বল ভোকাবুলারি আর প্রাথমিক সিনটেক্স দিয়া তৈরি, উদ্দেশ্য হইতেছে জটিল এবং ক্রিটিক্যাল যুক্তির জায়গাগুলারে সীমিত কইরা রাখা। কিন্তু আমাদের দরকার অন্য রকমের নিউজপিক’গুলারে আইডেন্টিফাই করতে পারা, এমনকি খুব শাদামাটা একটা পপুলার টকশো’র ফর্মটারেও নজরে রাখা দরকার।

এখন যেহেতু আমি গণ-ফ্যাসিজমের সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলার লিস্ট করছি, আমারে একটা কনক্লোশনে আসতে দেন। ১৯৪৩ সালের ২৭ শে জুলাই সকালবেলায় একটা রেডিও থিকা আমি জানলাম যে, ফ্যাসিজম কল্পাস করছে আর মুসোলিনীরে এরেস্ট করা হইছে। আমার আম্মা আমারে একটা পত্রিকা কিনতে পাঠাইলো। আমি সবচে কাছে নিউজস্ট্যান্ডটাতে গেলাম আর দেখলাম যে অইখানে নিউজপেপারগুলা আছে, কিন্তু নামগুলা আলাদা। আরো ঘটনা হইলো, হেডলাইনগুলার দিকে তাকায়া আমি বুঝতে পারলাম যে সবগুলা নিউজপেপারই আলাদা কিছু বলতেছে।  আমি রেন্ডমলি একটা কিনলাম আর মেসেজটা পড়লাম যেইটা ফ্রন্ট পেইজে ছাপা হইছিল, পাঁচ বা ছয়টা পলিটিক্যাল পার্টির সাইন করা, যেমন Democrazia Cristiana, Partito Comunista, Par tito Socialista, Partito d’Azione, and Partito Liberale. অই সময়ের আগ পর্যন্ত আমি বিশ্বাস করতাম যে সব দেশে একটামাত্র পার্টিই আছে, আর ইতালিতে একটামাত্র পার্টি হইতেছে ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি। আমি আবিষ্কার করলাম যে, এইখানে, আমার দেশে একই সময়ে অনেকগুলা আলাদা পার্টি থাকতে থাকে। আরো যেইটা হইলো, যেহেতু আমি চালাক বাচ্চা ছিলাম আমি সাথে সাথেই বুঝতে পারলাম যে এই পার্টিগুলা এক রাতের ভিতরে জন্মায় নাই।  এইভাবে  আমি বুঝতে পারলাম যে, অরা অলরেডি গোপন সংগঠন হিসাবে ছিল।

মেসেজটা দিয়া ডিক্টেটরশিপের শেষ আর ফ্রিডমের ফিরা আসাটা উদযাপন করা হইতেছিল: কথা বলার, প্রেসের আর পলিটিক্যাল মিলমিশের ফ্রিডম। আমার খোদা, আমি কোনদিনই আমার লাইফে ‘ফ্রিডম’ বা ‘ডিক্টেটরশিপ’র মতো শব্দগুলা পড়ি নাই। এই শব্দগুলার গুণের ভিতর দিয়া আমি একজন স্বাধীন ওয়েস্টার্ন মানুশ হিসাবে আবার জন্মাইলাম।

আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এইসব শব্দের মানেগুলা যেন আমরা আবার ভুইলা না যাই। গণ-ফ্যাসিজম এখনো আমাদের চারপাশে আছে, অনেকসময় সিভিলিয়ান পোশাকে। এইটা আমাদের জন্য সহজ হবে খেয়াল করাটা যদি কেউ দুনিয়ার মঞ্চে দাঁড়ায়া বলে: ‘আমি আইৎসোভিশ আবার খুইলা দিতে চাই, আমি চাই ব্ল্যাকশার্টরা আবার মার্চ কইরা যাক ইতালির রাস্তায় রাস্তায়!’

হায়, জীবন তো এতো সহজ না। গণ-ফ্যাসিজম এখনো ফিরা আসতে পারে সবচে ইনোসেন্ট পোশাকগুলার ভিতর দিয়া। আমাদের ডিউটি হইতেছে তার মুখোশ খুইলা দেয়া আর এর নতুন ফর্মগুলার দিকে আঙুল তুইলা দেখায়া দেয়া – প্রতিটা দিন, দুনিয়ার প্রতিটা প্রান্তে। আরো একবার আমি এইখানে চিল্লায়া বলতে চাই যেইটা রুজভেল্ট বলছিলেন: ‘আমি এই কথা বলতে চাই যে আম্রিকান ডেমোক্রেসি একটা লিভিং ফোর্স হিসাবে আগাইতে পারবে না, আমাদের নাগরিকদের অবস্থার শান্তিপূর্ণ উপায়ে উন্নতি করার জন্য দিন আর রাতে পথ খুঁজতে পারবে না যদি আমাদের দেশে ফ্যাসিজম তার ক্ষমতা বাড়াইতে থাকে।’ (৪ নভেম্বর ১৯৩৮)। স্বাধীনতা আর মুক্তি হইতেছে কোনদিনই শেষ-না-হওয়া কাজ। আমাদের মটো যেন এইটা হয়: ‘আমরা ভুইলা যাবো না।’

আর এখন Franco Fortini‘র একটা কবিতা দিয়া আমি কথা শেষ করতে চাই:

ব্রিজের প্রাচীরটার উপরে
ফাঁসি দেয়া মানুশগুলার মাথা
ঝর্ণার পানিতে দেখো
ফাঁসি দেয়া মানুশগুলার আবোল-তাবোল কথা

বাজারের পাথর বাঁধানো রাস্তায়
গুলি কইরা মারা মানুশের নখগুলা
তৃণভূমির শুকনা ঘাসগুলাতে দেখো
গুলি কইরা মারা মানুশের দাঁতগুলা

বাতাসে কামড় দাও পাথরে কামড় দাও
আমাদের মাংসগুলা আর মানুশের মাংস না
বাতাসে কামড় দাও পাথরে কামড় দাও
আমাদের হৃদয়গুলা আর মানুশের হৃদয় না

কিন্তু আমরা মরা মানুশগুলা চোখে দেখছি
আর দুনিয়ার স্বাধীনতা আমরা পাইছি, যা হইতেছে উপহারটা
যখন ন্যায়বিচারের দিন আগায়া আসতেছে
মৃতদের হাতগুলা আরো জোরে আঁকড়ায়া ধরতেছি আমরা।

 

The following two tabs change content below.
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য