Main menu

এডিটোরিয়াল: বাংলাদেশে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’র ধারণা ও রাজনীতি নিয়া কয়েকটা কথা

এক. সেক্যুলারদের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র ধারণা কিভাবে জুলুমের ফেভারে কাজ করে

ব্যাপারটা এইরকম না যে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ আমরা কেউ চাই না; কিন্তু কোন শব্দের মিনিংই যেমন ডিকশনারি মিনিংয়ে কথার ভিতরে থাকে না, একইভাবে টার্মগুলাও একইরকম জিনিস না। হইলে, রাজাকার, ফ্যাসিস্ট… এই জিনিসগুলা আজকের মিনিংয়ে থাকতে পারতো না। মানুশরে যেমনে আমরা তার কথা না, বরং কাজের ভিতর দিয়া চিনি; শব্দের মিনিং-ও তার হিস্ট্রিক্যাল এপিয়েরেন্সগুলার ভিতর দিয়াই আমাদেরকে বুঝতে হবে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড থিকা ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ জিনিসটারে দেখেন।

এর মানে হইতেছে, দেশে যে নানান ধরণের সম্প্রদায় আছে, এদের মধ্যে মিল-মহব্বত নাই বা থাকতে হবে – এইরকম না, বরং সম্প্রদায় বইলা কোনকিছু যে আছে, তার প্রতি এক ধরণের হেইট্রেট বা ঘৃণার জায়গা থিকা এই টার্মটা আসছে। এই হেইট্রেট হইতেছে যে, সব ধর্মের, বিশ্বাসের মানুশ-জন একসাথে মিইলা-মিইশা থাকবে না, বরং মিইলা-মিইশা এক হইতে হবে সবাইরে, ‘ইউরোপিয়ান এনলাইটমেন্ট মানুশ’ হইতে হবে; আলাদা আলাদা ‘সম্প্রদায়’ বা ‘ধর্ম’ থাকলে এইসব ‘অরাজকতা’ থাকবোই – এইরকম একটা অনুমানের ঘটনা আসলে। যেমন, সব ভাষা/ডাইলেক্ট মিইলা ‘প্রমিত ভাষা’ হয়া যাইতে হবে!

এই ধারণাটা বহুজাতির, বহু-ধারণার এগেনেস্টে একটা লিনিয়ার সমাজ গইড়া তুলতে চায়। ধর্ম যার যার বইলা সোশ্যাল স্পেইস থিকা ধর্মের নিশানাগুলারে মুইছা ফেলতে চায়। কারণ ধর্ম’রে এরা রিড করে রিলিজিয়ন হিসাবে, রিচুয়াল হিসাবে। এইখানেও শব্দেরই কারবার। আপনি যদি ধরম, নীতি বা বিশ্বাসের জায়গা থিকা দেখতে রাজি থাকেন, তাইলে বুঝতে পারবেন যে, ধর্ম ছাড়া কোন সমাজই নাই এবং ধর্ম-বিশ্বাসের জায়গাগুলাও সবসময় মাল্টিপল। ধর্ম পারসোনাল তো না-ই, বরং সোশ্যাল প্রাকটিসের জায়গাগুলারে বাদ দিলে কোন ধর্মই টিইকা থাকতে পারার কথা না। (এইখানে আরো অনেক আলাপ তো আছেই…)

তো, এই ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’-অলা’রা দেখবেন ফার্স্টেই এই ধর্মের জায়গাগুলারে বাতিল বা ইনফিরিয়র কইরা দেখাইতে চায়। এবং এই জায়গাটারেও অস্বীকার করতে চায়, অ্যাজ ইফ, এইটা চায় না! এইরকম একটা ভাব নিয়া কথা কয়। এই জায়গা থিকা এইটা খালি ‘ধর্ম-বিরোধী’ কোন ঘটনা না, বরং জুলুমের জন্য একটা বেইজ তৈরি করে যে, মানুশ তো খারাপ! ধর্ম নিয়া মারামারি করে! মানে, এইটারে কেউ ট্রিগার করতেছে, পলিটিক্যালি ইউজ করতেছে না – তা না, ‘মানুশ খারাপ’ বইলা এইটা করতেছে।…

সেকেন্ড হইতেছে, হিস্ট্রিক্যাল এক্সপেরিয়েন্সের জায়গাগুলারে বাতিল করে, গোপন করে। যেন মুসলমানদের ‘মাথা-গরম’ বইলা, ‘বুদ্ধি কম’ বইলা খেইপা যায়, খেপার কিছু নাই! খুবই ন্যাস্টি একটা অনুমান এইটা। বরং মুসলমানদের খেইপা যাওয়ার যে হিস্ট্রিক্যাল কারণগুলা আছে সেইখানে হিট করা হয় যাতে খেইপা যাওয়ার ঘটনাটা ঘটে। প্রত্যেকটা ধর্মের, প্রত্যেকটা বিশ্বাসের এইরকম সেন্সিটিভ জায়গাগুলা আছে (ইনক্লুডিং সেক্যুলার-ধর্ম)। যবন, মালাউন… এই শব্দ দিয়া টের পাইবেন ঘটনাগুলা। এইগুলা ট্রিগার করা হয় পলিটিক্যাল জায়গা থিকাই, কিন্তু তাই বইলা যে নাই – তা তো না!

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র নাম দিয়া এই হিস্ট্রিক্যাল সিগনিফকেন্সগুলারে বাতিল করা হয়, বা যেন খেয়াল করার মতো কিছু এইখানে নাই – এইভাবে পোর্টেট করা হয়। এইটা আরেকটা পিলার, জুলুমের। যে কোন ঘটনারে হিস্ট্রিক্যাল কনটেক্সট থিকা আলাদা কইরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে পোর্টেট করা, দেখানো।

২.
তাইলে আমরা কি করবো – ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র কথা বলবো না? না, বরং যেই জায়গা থিকা এই ধারণাটারে দেখার রীতি চালু আছে, সেইখানে আমরা সাবস্ক্রাইব করবো না।

মানুশের সাথে মানুশের, সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রদায়ের লাগালাগি, বাদাবাদি আছে, থাকবেই; কিন্তু সমাজে যদি আইনের শাসন থাকে, বিচার থাকে, কোনকিছুই একটা লিমিটের বাইরে যাইতে পারে না। আজকে দুইদিন হইতেছে, মন্দিরের সামনে কোন সিসি-টিভি ছিল কিনা, কোন ফুটেজ আছে কিনা, কোন তদন্ত হইতেছে কিনা – এর কোনকিছুই আমরা জানি না।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ হাওয়া থিকা গজায় না। যখন অন্যায়-অবিচার-অনিয়ম সমাজে নিয়ম হয়া উঠে তখন এইটারে ফোকাস পয়েন্ট কইরা তোলাটা জুলুমের বেইজটারে আড়াল করতেই হেল্প করে সবসময়।

 

দুই. ঘটনার কথা

১. ঘটনা’টা কখনোই ঘৃণা বা ভালোবাসার মামলা না। (ইমোশনাল ইস্যু না।) সমাজে চিন্তা ও কথা-বলার জায়গা, আইনের শাসন এবং বিচার না-থাকার ঘটনা।

যেই কারণে এই ইস্যু নিয়া কথা-বলাই রিস্কি! কথা-বলার মতো অবস্থা নাই। পেট্রোল ঢাইলা দিয়া ম্যাচের কাঠি নিয়া বইসা থাকার মতো পরিস্থিতি। এই অস্থিরতার ইমোশনের সময়টারে পার হইতে দিতে হবে।… ইগনোর কইরা বা এড়ায়া যাওয়ার ঘটনা না এইটা। বরং ‘আগুনে ঘি ঢালা’ বন্ধ করতে হবে। সব নিরবতার মিনিং একই না, কোনসময়েই।

২. একইসাথে ভাবতে পারতে হবে যে, দেশের গর্ভমেন্ট এবং সরকারি দলের লোকজনের এক্টিভ সার্পোট ছাড়া বাংলাদেশে ‘দাঙ্গা’ অর্গানাইজ করা পসিবল না। যেই দেশে গত ১০ বছরে সরকার-বিরোধী কোন মিছিল হইতে পারে না, সেইখানে ‘হামলার’ ঘটনা কারা ঘটাইতে পারে, কেমনে ঘটে? হিন্দু-মন্দিরে হামলা হইলে এবং মুসলমানের লাশ পড়লে কার ফায়দা হয় বেশি?

ইমোশনাল ইমব্যালেন্সের সময় এই দরকারি আলাপও ফালতু লাগে। এই কারণে, আগে থামতে হবে। কোন কথা ও কাজরে পলিটিক্যাল একশন বইলা ভাবতেছেন সেইটারে রিভিউ করতে হবে আগে।

৩. টার্মটা ইম্পর্টেন্ট। ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’ বইলা কিছু নাই। ইন্ডিয়াতে মোদি-সরকার এই নাম দিয়া মুসলমান খুন করে, হিন্দু-ভোট কব্জায় রাখে। বাংলাদেশে বাকশালেরও এই ‘ডর’টা নেসেসারি একটা জিনিস, ক্ষমতায় থাকতে হইলে। (সর্প হয়া দংশন করতে হবে এবং ওঝা হয়া ঝাড়তে হয় উনাদেরকে, কতো যে টেনশন…)

এই কারণে টার্মটারে ইনভ্যালিড করতে হবে। এর থিকা বাইর হইতে হবে।

২.
দুনিয়ার কোন দেশে ‘খারাপ-মানুশ’ নাই? তারপরও যেই মানুশ এক দেশে ‘সাম্প্রদায়িক’ আচরণ করে, আরেক দেশে গিয়া করে না কেনো? করতে পারে না কেনো?

যেই দেশে আইন আছে, বিচার আছে, মানুশের বেসিক রাইটস আছে সেই দেশে ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’ হইতে পারে না। এইটা ধর্মের সমস্যা না, যেইরকম সেক্যুলার’রা পোর্টেট করতে চায়। এইটা সামাজিক ন্যায়বিচার না-থাকার সমস্যা। পলিটিক্যাল সমস্যা।

সেক্যুলার’রা এই জুলুমের জায়গাটারে বাদ দিয়া পাবলিকের ঘাড়ে দোষ দিতে পারলে খুশি। ‘সব দোষ পাবলিকের’-মার্কা পাবলিকদের কাছ থিকা সাবধান থাকতে হবে সবচে আগে।

৩.
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা দুইটা পারপাস সার্ভ করে –

১. পলিটিক্যালি হিন্দুদেরকে একটা ডরের মধ্যে রাখে

২. একই সাথে মুসলমানদেরকেও কালচারালি ইনফিরিয়র কইরা রাখে

আর এর ভিতর দিয়া মোস্ট ইম্পর্টেন্টলি যেইটা করে, জালিমরে তার জুলুম কন্টিনিউ করার লাইসেন্সটা রিনিউ করার সুযোগটা দেয়। (জালিম এখনো ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসাবে মাঠে নামে নাই বইলা হামলা এখনো বন্ধ হয় নাই। এই হামলা বন্ধ করার ভিতর দিয়া ফারদার লেজিটিমিসিই ক্লেইম করা হবে।…)

এর বাইরে আর কোন আলাপ যে নাই – তা না, কিন্তু এই পলিটিক্যাল জায়গাটারে ইগনোর কইরা যে কোন আলাপই হইতেছে মোস্টলি নন-পলিটিক্যাল বা খুচরা আলাপ।

মিম

 

তিন. ‘সামাজিক ন্যায়-বিচার’ কেন ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ ধারণার চাইতে বেটার?

ব্যাপারটা এইরকম না যে, সমাজে কোন কালচারাল ডিফরেন্স থাকতে পারবে না, বরং এমন কোন সমাজ দুনিয়াতে আপনি পাইবেন না যেইখানে কনফ্লিক্টিং কালচারাল ইস্যুগুলা নাই। দুনিয়াতে কোন সমাজই লিনিয়ার না। (উপর দিয়া একই দেখা গেলেও কিছু ডিফরেন্স নিয়াই তারে চলতে হয়।) বিভিন্ন সমাজ বিভিন্নভাবে এই কনফ্লিক্টগুলার একটা সুরাহা করে এবং ডিফরেন্সগুলাসহই একটা সমাজ হিসাবে পারফর্ম করে।

কিন্তু সো-কল্ড প্রগতিশীলতা এই ডিফরেন্সগুলার জায়গাগুলারে এক্সপ্লয়েট করে; দাবি করে যে, সোশ্যাল-স্পেইসে এক হইতে হবে। এই ‘এক হওয়ার’ দাবি’টা খালি জবরদস্তিই না, বরং অপমানজনক এবং কনফ্লিক্টগুলারে পলিটিক্যাল পারপাসে ইউজ করার লাইসেন্সটা দেয়। ‘সম্প্রদায়’ হিসাবে পরিচয়গুলারে গোপন (মাইনরিটির ক্ষেত্রে) এবং শো-অফ (মেজরিটির ক্ষেত্রে) লাগে তখন। আইডেন্টিটি হিসাবে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ একটা নয়া আইডেন্টিটিই তৈরি করতে চায় যেইখানে পুরান কালচারাল ডিফরেন্সগুলা থাকবে না, এর এসেন্সগুলারে কবর দেয়া হবে, কিছু মুখোশ এবং মিথ হিসাবে থাইকা যাবে খালি। ধর্ম যেন খালি রিচুয়াল কিছু! আসল ধর্ম হইতেছে – অসাম্প্রদায়িকতা, কোন ধর্ম না থাকা। (যেইটা আসলে প্যাগান ধর্মের ঘটনা একটা।…)

যেমন আপনি পূজা করবেন, কিন্তু গরুর মাংস খাইবেন; আপনি নামাজ পড়বেন কিন্তু মদ খাইবেন। এইগুলা যে করে না লোকজন – তা না, নানান রকমের ডিফরেন্স একজন মানুশ তার চিন্তায়, কাজে এবং লাইফ-জুইড়াই কন্টিনিউ করে। কিন্তু করতেই হবে – এইটারে তো নিয়ম বানানো যায় না। ‘বিজ্ঞান-চর্চা’র নামে মানুশের ‘ধর্ম-চিন্তা’রে বাতিল করার নাম ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ হইতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে কমিউনিজমের নামে, মর্ডানিটির নামে এইরকম ইভিল একটা জিনিস প্রাকটিস হিসাবে চালু আছে।

তার মানে আবার এইটা না যে, ডিফরেন্স মানেই ডমিনেন্স বা ‘বিদ্বেষ’ চালু রাখা। বরং যখন ‘সম্প্রদায়’ জিনিসটারে সেন্টার করা হয় দেখাদেখির, এইটা এইরকমের ‘বিদ্বেষ’ জিনিসটারে সবসময় ফোকাসের জায়গাতে রাখতেই হেল্প করে। ডিফরেন্স যেইরকম ফোকাস পয়েন্ট হইতে পারে না, একইরকমভাবে ‘এক’ হওয়াটাও কখনোই এর সমাধান না; যেইটা ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ নামের ধারণাটা দিয়া প্রপোজ করা হয়।

একটা সমাজ ফাংশন করে তার ভিতরের ডিফরেন্সগুলারে কেমনে নেগোশিয়েট করে তার ভিতর দিয়া। সামাজিক সমতার, ইক্যুয়ালিটির এবং জাস্টিসের ধারণার ভিতর দিয়া। একটু উইয়ার্ড শুনাইলেও কোন না কোন নতুন এবং পুরাতন ক্রাইসিসের ভিতর দিয়াই মানুশ সমাজে থাকতে থাকে। এমন না যে, ১৯৪৭’র আগে বৌদ্ধ-হিন্দু, হিন্দু-মুসলমান মারামারি ছিল না; কিন্তু সেইটা পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ছিল না বইলা আমরা ধারণা।…

সোশ্যাল স্পেইসে এই নেগোশিয়েশনগুলা অনেক সময় কাজ করছে, অনেক সময় করে নাই। আর এর ভিতর দিয়া একটা সোশ্যাল-ফর্মেশন তৈরি হইছে (যেইটা একইসাথে বদলাইতেছেও আবার…)। যার ফলে, পাশাপাশি দুইবাড়িতে দুই ধর্মের লোকজন থাকতে পারতেছে। খেয়াল কইরা দেখবেন, নেইবারহুড-ই হয়া উঠছে আমাদের সামাজিক ঐক্যের জায়গা। পাড়া-মহল্লার লোক হয়া পাড়া-মহল্লার আরেকজনের বাড়িতে আপনি হামলা করতে পারেন না। এইটা আমাদের সোশ্যাল এথিকসের সাথে যায় না।…

তো, এইখানে ডিফরেন্স নাই কইরা দিতে হবে – এইটা একটা চাপায়া দেয়া ঘটনা। যখন ডিফরেন্সগুলারে বাতিল করতে চাওয়া হয় – সেইটা যেমন একটা সমস্যা, এক করতে চাওয়াটাও আরেকটা প্রব্লেমেটিক ঘটনাই, যেইটা ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ ধারণার ভিতরে এক রকমের মাস্ট একটা জিনিস। যেইটা নিয়া আমাদের ভাবতে পারাটা দরকার।…সামাজিক নেগোশিয়েশনের স্পেইসগুলারে আরো স্পষ্ট এবং ভাইব্রেন্ট করা দরকার যেইখানে মানুশ তার সম্প্রদায়ের পরিচয়সহ থাকতে বাঁইচা থাকতে ডরাবে না।

বাংলাদেশে হিন্দু হইলে ডরের ভিতরে থাকতে হয়। মাদরাসার স্টুডেন্টদেরকে সবসময় ইসলামিস্ট হওয়ার ডরের মধ্যে থাকতে হয়। নাস্তিক হইলে হামলার ডরে থাকতে হয়। বিএনপি সার্পোট করলে হামলা-মামলার শিকার হইতে হয়। জামাত করলে তারে খুন করা জায়েজ হয়। ইভেন বাকশাল করলেও তারে খাঁটি বাকশাল হওয়ার প্রমাণ দিতে হয়। একটা ডরের সমাজ তৈরি হইছে বাংলাদেশে এখন। কেউ-ই এই ডরের বাইরে নাই।

‘অসাম্প্রদায়িকতা’ এবং এর গোঁড়া ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ এর সমাধান দিতে পারবে না। বরং এই লিনিয়ার জাতীয়তাবাদী ধারণাগুলা এই নয়া বাকশালের গোড়া। এর গোড়ায় পানি ঢাইলা ডর’টারে আরো বড় করা হবে। এই পুরানা ধারণাগুলার খপ্পর থিকা আমাদেরকে বাইর হইতে হবে। সমাজের মাল্টিপ্লিসিটিরে, বহু-জাতীয়তারে, বহু-সম্প্রদায়রে জায়গা দিতে হবে। আর এইটা করতে হইলে, এই লিনিয়ার ধারণাগুলারে বাতিল করতে হবে, সবচে আগে।

 

চাইর. ইমেজের রাজনীতি

কুমিল্লার চাইতে রংপুরের ছবি’টা বেশি সুন্দর হইছে, শেয়ারও হইতেছে বেশি। ছবি’টা কে তুলছে? কেউ কি সোর্সটা জানেন?

পীরগঞ্জের ছবি

জিজেকের একটা কমন কথা আছে, সেইটা হইতেছে: সোভিয়েত ইউনিয়নের পলিটব্যুরো’র মেম্বার’রাই জোকস বানায়া লোকজনের মুখে মুখে ছড়ায়া দিতো, আর নিজেরা মজাও পাইতো তাদের ক্ষমতা নিয়া লোকজন কথা-বার্তা বলতেছে বইলা। সাইকোলজি হিসাবে উইয়ার্ড মনে হইতে পারে, কিন্তু ব্যাপারটা ঘটতে পারার সম্ভাবনা আছে আসলে।

হিন্দুদের ঘর-বাড়িতে যে আগুন দেয়া হইতেছে, এর কোন ছবি/ফটোগ্রাফ যদি না থাকে, ‘লজ্জা’ কি পাইতে পারবো আমরা, ঠিকঠাকমতো?

কিন্তু প্রায় সবগুলা শেয়ারে, আহাজারিতে একটা জিনিস খুবই কমন। কে আগুন লাগাইলো – এইটা নিয়া কোন প্রশ্ন নাই, কেউ গ্রেফতার হইলো না কেন – এইটা নিয়াও কথা নাই। যেন আমরা জানি, কে করছে এইটা; তার/তাদের ধরা পড়ার কোন দরকারও নাই!

ভিটামাটি’তে আগুন লাগানো মোটামুটি ‘হাজার বছরের ঐতিহ্য’ আমাদের দেশের; কারো ভিটা দখল করতে হইলে আগুন লাগানো হইতো, এখনো শহরে বস্তি দখল করতে গেলে, বস্তিবাসীদেরকে সরাইতে হইলে আগুন লাগায়া দেয়া হয়।

কারা লাগায়? যারা আগুন লাগায় তারা কখনোই ধরা পড়ে না। এমনভাবে বলাবলি হয় যেন একসিডেন্ট! অথচ আমরা জানি বা বুঝতে পারি যে, ক্ষমতাবান কেউই এই কাজ করতেছে এবং যারা তাদেরকে ধরার কথা, তারাও এর সাথে জড়িত।

ক্ষমতার জায়গাটারে আমরা কখনোই প্রশ্ন করতে পারি না খালি, তাদেরকে ‘বিব্রত’ না করাটা একটা নিয়মে পরিণত হইছে এখন।

কিন্তু যতদিন ক্ষমতার জায়গাটারে আমরা প্রশ্ন না করতে পারবো, যতদিন আন-কোশ্চেনড রাখা হবে, এই জুলুম জারি থাকবে। এবং বাড়তেই থাকবে। ধর্মের নামে মাইনরিটির উপর, জাতীয়তাবাদের নামে পাহাড়িদের উপর। দিনের পর দিন। আর এইটা কোন ইমাজিনড মানুশ-জন করে না, এরা বাস্তবে আছে, এরা রিয়েল। কিন্তু এদেরকে আড়াল কইরা রাখা হয়। ফেইসলেস করা হয়।

জুলুম করা ক্ষমতাবানদের কাজ, আর ক্ষমতারে প্রশ্ন করা মজুলমের কাজ। এরে-ওরে দোষ দেয়ার সিউডো-প্রতিবাদ বাদ দিয়া ক্ষমতারে প্রশ্ন করেন! জুলুম দেখলে কষ্ট আমাদের সবারই হয়; কিন্তু যতদিন আমরা জালিমরে প্রশ্ন করতে না পারবো, এই জুলুমের হাত থিকা আমাদের মুক্তি নাই।

 

পাঁচ. ‘সাম্প্রদায়িকতার’ নিউজগুলা নিয়া

বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা’ কেমনে ছড়ায়, এর কিছু প্যাটার্ন তো অবশ্যই আছে। কোথাও একটা ঘটনা ঘটে, এবং সেইটা ‘নিউজ’ হিসাবে ছড়ায়া পড়ে, তারপরে ইমোশনাল প্রতিক্রিয়া দেখা যাইতে থাকে লোকজনের মধ্যে। [এখন ধরেন, পরীমনি কাছা দিয়া লুঙ্গি পিন্দলেও তো লোকজন ‘প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে। অডিয়েন্স হিসাবে এইটা না করলেও মুশকিল দেখবেন যে, পাবলিক চেতে না ক্যান! মানে, এইখানে আরেকটা আলাপ তো আছেই: মিডিয়াম, কনটেন্ট এবং অডিয়েন্স বিষয়ে।…]

আমার একটা দাবি হইতেছে যে, ‘সাম্প্রদায়িক হামলার’ ঘটনার বর্ণনাতে, যেইভাবে নিউজ করা হয় টিভিতে-পত্রিকাতে, সেইখানে একটা চালু ফরম্যাট আছে, যেইখানে এই উসকানি’টা থাকে যে, ‘উত্তেজিত’ হইতে হবে! যদিও এইবার সব দোষ ফেসবুকের কান্ধে চাপানোর চেষ্টা হইছে; কিন্তু সোশ্যাল-মিডিয়া’র আলাদা কোন কারেক্টার এখনো তৈরি হয় নাই এবং যে কোন ইস্যুতে অর্গানাইজড মিডিয়ার ফরম্যাটগুলাই কমবেশি ফলো হয় আসলে।…

মানে, কেমনে বলতে হবে – সেইটা একটা ঘটনা সবসময়। লোকজন যে বলে ‘ভাষায় প্রকাশ করার মতো না’; তার মানে হইতেছে শে ওভার-হুইলমডই না খালি, বরং ফরম্যাট’টা তার জানা নাই। কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের দামটা এই জায়গাটাতেই যে উনারা ‘কেমনে বলতে হবে’ – এই ফরম্যাটটারে বানাইতে পারেন, রিনিউ করতে পারেন, প্যাটার্ন হিসাবে এস্টাবলিশ করতে পারেন। এখন কবি-সাহিত্যিক’রা এই ফরম্যাটগুলা বানাইতে পারলেও নিজে নিজে তো আর ছড়াইতে পারেন না (ট্রেন্ড বা ফ্যাশন হিসাবে ছড়াইতেও পারে না সব ফর‌ম্যাট সবসময়), এখন পর্যন্ত অর্গানাইজড মিডিয়াই এইটা পারে, যেই কারণে এইসব মিডিয়া, পাবলিকেশনের পাছা ফুইলা থাকে বেশিরভাগ সময়। [যা-ই হোক এইটাও আরেকটা আলাপই…]

তো, অর্গানাইজড মিডিয়ার ফরম্যাট’টা কি রকম? এইটা দুইটা পার্টে ঘটে – ফ্যাক্টের জায়গাটারে ব্লার করা হয় এবং সেই জায়গাটারে একটা পারসপেক্টিভের নামে প্রেজুডিস দিয়া ভরাট করা হয়।

কিছু জিনিস ‘গোপন’ করা হয় বা ‘জানি না আমরা’ – এইরকম জায়গাতে পার্ক করা হয়। এইটা খুবই ক্রুশিয়াল পার্ট। এই ‘গোপন’টা না থাকলে ‘সাম্প্রদায়িকতার’ ভূতটা ঢুকতে পারবে না আমাদের রিয়ালিটিতে। এইটা হইতেছে চিপা রাস্তা’টা। যেমন ধরেন, আপনি যদি শুরুতেই বইলা দেন, এক ইয়াবাখোর মসজিদ থিকা কোরান শরীফ চুরি কইরা পূজার মন্ডপে রাইখা গেছে তাইলে কিন্তু এই ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামের পলিটিক্যাল গেইমটা শুরুই হইতে পারবে না।

এখন এইটা খালি জানা বা না-জানার জায়গা থিকা ঘটে না, বরং আপনার জানা এবং না-জানারে আপনি কেমনে বলতেছেন, সেইটার একটা ঘটনা। আপনি যদি গুলশানে থাইকা, আপনার অফিসের বাইরের জানালা দিয়া বৃষ্টি দেইখা বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে গুলশান এলাকায় সন্ধ্যার দিকে মনেহয় বৃষ্টি হইছে’; মানে ফ্যাক্ট’টারে জানাইলেন না, বরং ধোঁয়াশা কইরা দিলেন আসলে, দুইটা জায়গাতে – আপনি শিওর না, যিনি বলছেন তারও সন্দেহ আছে। মানে, জানার পরেও, ফ্যাক্ট’টারে আউলায়া দেয়ার ভঙ্গিমাটা আছে, সন্দেহটারে আরো বাড়ায়া দেয়া।

এমনকি ধরেন হেডিংয়ে দিলেন না, ভিতরে কইলেন। (এই নিউজ লিংকটা দেখেন।) হেডিংটা দেইখাই পাবলিকের বুকে ধক কইরা উঠবো, আরে, আবার কি হইলো! ট্যাবলয়েডের নিউজের মতন। [অবশ্য বাংলাদেশের সবগুলা নিউজ তো এইরকম ট্যাবলয়েড মার্কাই এখন।…] মানে, ফ্যাক্ট হিসাবে একটা না-জানা’রে এস্টাবলিশড করতে হয় – এইটা মাস্ট। জানা থাকলেও জিনিসটারে হাইড করতে হয়, কনফিউজিং করা লাগে।

আর যদি না-জানা থাকে তাইলে তো পুরা ঈদ! পারসপেক্টিভটারে এমনভাবে থ্রো করা লাগে যেইটাতে ফ্যাক্টের চাইতে প্রেজুডিসটা বড় হয়া উঠে। “পূজার মন্ডপ কে ভাঙ্গছে আমরা জানি না, কিন্তু মুসলিম মেজরিটির এই দেশে কে এই কাজ করতে পারে?” কখনোই বলা হবে না “বাকশালি জুলুমের এই দেশে কার এই সাহস আছে?” মানে, না-জানাটারে এমন একটা দিকে ডাইরেক্টেড করা হবে, যেইখানে অনুমান বইলা আর কিছু নাই, অনুমানটাই সত্য না খালি, এবসুলেট ট্রুথ হয়া উঠে।

তো, নিউজের যেমন আল্টিমেট উদ্দেশ্য হইতেছে ‘টক অফ দ্য টাউন’ হয়া উঠা, ফেসবুক বা সোশ্যাল-মিডিয়ারও একটা অবজেক্টিভ তো ‘ভাইরাল’ হইতে পারা। আর এইটা তখনই সম্ভব যখন সমাজের ডরের জায়গাগুলারে, প্রেজুডিসগুলারে আরো উসকায়া দেয়া যাবে। বাকশালি শাসনে এমনিতেই মানুশের বিশ্বাসের ভিতে ঘুণ ধইরা গেছে। এই জায়গাতে আগুনে ঘি ঢালার কাজটা করতেছে এই ‘সাম্প্রদায়িক’ ন্যারেটিভের ফরম্যাট’টা।

মানে, এইখানে একটা ভ্যাকুয়াম বা ডর আছে যে, দেশে ইসলামিস্ট জঙ্গি আছে, আর এই হামলাগুলা অই জঙ্গিরা করতেছে। অথচ যেইখানে ফ্যাক্ট হইতেছে দেশে একটা অবৈধ সরকার আছে এবং তাদের আকাম-কুকাম ঢাকার লাইগা সেন্সশনাল ইস্যু দরকার, যেইটা পাবলিকের চেতটারেও অন্যদিকে ভাইবার্ট করার রাস্তা কইরা দিতে পারবে।

বাংলাদেশে এইভাবে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ক্ষমতায় লোকজনের পারপাস সার্ভ করে একটা পলিটিক্যাল ঘটনারে কালচারাল ইস্যুতে কনভার্ট করার ভিতর দিয়া। আর আমাদের আরো ক্লিয়ার হইতে পারা দরকার, এইটা কোন প্রসেসের ভিতর দিয়া ঘটে।

আমার দাবি হইতেছে, নিউজের বা বয়ানের ধরণটা একটা ক্রুশিয়াল জিনিস – ফ্যাক্ট না-থাকা বা গোপন করা এবং একটা প্রেজুডিস ঢুকায়া দেয়া। এই দুইটা জিনিস বাদ দিলে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ জিনিসটা বাতিল না হয়া গেলেও অনেক বেশি পাতলা হয়া যাওয়ার কথা।

জুলুমের শাসন শেষ করতে হইলে জুলুমের বয়ানগুলারে, যেইগুলা জুলুমের হাতিয়ার, সেইগুলারে ঠেকাইতে হবে আমাদেরকে।

 

ছয়. বিদেশি মিডিয়ার খবর

এইরকম একটা ক্রেইজ আছে দেখবেন, আরে গার্ডিয়ানে পর্যন্ত খবর ছাপা হইছে, আল-জাজিরা’তে নিউজ চইলা আসছে! অরাও দেখেন বলতেছে যে, বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’ হইতেছে, ‘হিন্দু নির্যাতন’ হইতেছে! এইবার তো এইটারে সত্যি বইলা মানবেন!*

অ্যাজ ইফ, ইংলিশে কইলে কথা বেশি সত্যি। বা বিদেশিরা কইলে মোর নিরপেক্ষ। কিন্তু বিদেশি মিডিয়া খবর পায় কই থিকা? এরশাদ আমলে আমরা জানতাম আতাউস সামাদ হইতেছেন পারসন’টা, যিনি বিবিসি’তে খবর পাঠান আর নিজেও এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের লোক। এখন উনি যদি প্রো-এরশাদ লোক হইতেন, কি ধরণের নিউজ পাইতে পারতাম আমরা?

বিদেশি নিউজ পড়ার সময়, গ্লোরিফাই করার সময় এই জিনিসটা মাথায় রাখতে পারেন। আরেকটা পোস্টের লিংক দিতেছি, যেইটার একটা এলাবরেশন আসলে আমার এই কথাটা। অইটাও দেখতে পারেন।

*ঘটনা বা ফ্যাক্ট হিসাবে এইটারে কেউ বাতিল করতেছে না, বাতিল করার জায়গা হইতেছে ন্যারেটিভটা। এই হিন্দু নির্যাতন, মুসলিম হত্যা, একটা ফেসলেস মব তৈরি করার সরকারি এবং সরকারি-মিডিয়ার বয়ানটা।

 

সাত: নিউজ অ্যাজ অ্যা পারফরমেন্স

আমি বলবো না যে, নিউজরে হেইট করেন; বরং এইটা বুঝতে পারাটা দরকার যে, নিউজ জিনিসটা আন-ইম্পর্টেন্ট। নিউজ হইতেছে একটা এন্টারটেইনমেন্ট আইটেম!

সোশ্যাল মিডিয়াও যে এই রাস্তায় হাঁটতেছে, ফেসবুক-টুইটার-ইউটিউব যে আমাদেরকে অনেককিছু জানাইতে চাইতেছে, আর আমরাও যে অনেক কিছু জাইনা ফেলতে পারতেছি – এই জিনিসটা মোটামুটি ভয়াবহ। বরং আমাদের তো আসলে অনেককিছু জানার দরকার নাই! আমাদেরকে বাছাইটা করতে পারতে হবে। ব্যাপারটা এইরকম না যে, দুনিয়াতে নিউজের দরকার নাই। কিন্তু জিনিসগুলা যেইরকম পারফর্মেন্স আর্ট হয়া উঠছে, এইগুলা নিয়া তো আমাদের আসলেই কিছু করার নাই!

কিছু জিনিস খালি অভ্যাসের কারণেই কন্টিনিউ হইতেছে। এর বেশি কিছু মনেহয় না। জিনিসটা এতো শ্যালো যে, দেখলে খারাপই লাগে অনেকসময়!

 

আট. বাংলাদেশের ইসলামি-সাহিত্য একটা একসাইটিং জিনিস মনে হইলেও পলিটিক্যালি কলকাতার হিন্দুত্ববাদী সাহিত্যেরই একটা কন্টিনিউশন

মানে, সাম্প্রদায়িক-সাহিত্য বা ধর্ম-ভিত্তিক কোন লিটারেচার হইতে পারে না বা পারবে না – এইটা না, বরং ঘটনা উল্টাটাই; দুনিয়াতে যত গ্রেট লিটারেচার এখন পর্যন্ত আমরা পাইছি সেইখানে কোন না কোন ধর্মের এসেন্স পাইবেন। এমনকি যেইসব সায়েন্স-ফিকশন বা ডিসটোপিয়ান জিনিসগুলা আমরা দেখি, অইগুলাও কোন না কোন রিলিজিয়াস-এসেন্সরে* প্রমিনেন্ট কইরা তোলে। সাহিত্যে ধর্ম থাকতে পারবে না – এইটা আমার পয়েন্ট না। একইভাবে, ধর্ম ছাড়া সাহিত্য হয় না – এইটাও বাড়ায়া বলা একটা জিনিসই হবে। এইখানে একটা কানেকশন আছে, যতই কাছাকাছি বা দূরের জিনিস হোক।

কিন্তু ঘটনা হইতেছে, এই ধর্ম-চিন্তা বা ধর্মের এসেন্সটা কেমনে রিলিভেন্ট হয়া উঠতেছে সাহিত্যে। তলস্তয়ের রেজারেকশনরে পাপ, কনফেশন আর প্রায়শ্চিত্তের সব এলিমেন্টসহই আপনি ক্রিশ্চানিটির মধ্যে আটকাইতে পারবেন না। আবার রাধা-কৃষ্ণের গান আর হিন্দু-ধর্ম একই জিনিস না; যেইরকমভাবে ইসলামি কাওয়ালিগুলা পছন্দ করতে হইলেও আপনারে ইসলাম-ধর্ম মানা’টা জরুরি না। মানে, ধর্ম একটা সাবজেক্ট বা ফর্মের বেইজ হওয়ার পরেও সেইটা ধর্মের এক্সটেনশন না হয়া বরং আলাদা একটা জিনিসই হয়া উঠতেছে। এইভাবে জিনিসগুলা যেইরকমভাবে ধর্ম-বিরোধী কোন জিনিস না, আবার ধর্ম-পালনের একটা এলিমেন্টও না।

এখন এর বাইরেও তো সাহিত্য আছে। এবং সাহিত্য ও চিন্তারে এর সাহিত্যিক ও ইন্টেলেকচুয়াল বিচারের বাইরেও পলিটিক্যাল জায়গা থিকা তো রিড করতে পারি আমরা! এইরকম একটা জায়গা থিকা কলকাতার কলোনিয়াল বাংলা-সাহিত্য’রে যদি দেখেন, সেইটা হিন্দু-ধর্মের ঘটনা না, বরং হিন্দুত্ববাদী একটা জিনিস। এইটা জায়গাটারে খেয়াল করতে পারাটা দরকার। আর এর প্রতিক্রিয়াতে বাংলাদেশে ‘মুসলিম সাহিত্য’ জাইগা উঠার ঘটনাগুলা যে আমরা দেখতে পাই, সেইটা অই হিন্দুত্ববাদের একটা অপজিশন হিসাবে পলিটিক্যালি এফেক্টিভ থাকে। দুইটা জিনিসই সম্প্রদায়গত কোন ঘটনা না খালি, বরং সাহিত্য হিসাবে এর ভিতরে আটকায়া যাওয়ার ঘটনা।

হিন্দু-জীবন বা মুসলমান-রীতিগুলা নিয়া লেখা যাবে না – এইরকম না, কিন্তু যখন সাহিত্যের লক্ষ্য হয়া উঠে কোন আদর্শরে প্রচার করা, সেইটা সাহিত্যের জায়গাতে কম-বেশি সাফার করার কথা।… একটা কমন টেনডেন্সি (জেনারেল রুল না) হিসাবে বলা যাইতে পারে, যখনই কোন সাহিত্য ‘জীবন-ঘনিষ্ঠ সাহিত্য হইতে হবে’-টাইপ সিউডো দাবির মধ্যে বন্দি হয়া যায়, সেইটা একটা সম্প্রদায়ের জায়গারে অন্য সম্প্রদায়গুলার লগে কানেক্ট করার বদলে একটা অবস্টেকল হয়া উঠতে থাকে। তখন সেইটা সাহিত্য হওয়া বা না-হওয়ার বাইরে অন্য কিছু জিনিসরেও জাগায়া তোলে। ‘জাতীয়তাবাদী-সাহিত্যে’ও এইরকমের টেনডেন্সি পাবো আমরা।

এর মানে এইটা না যে, কলকাতার কলোনিয়াল বাংলা-সাহিত্যে কোন গ্রেট লিটারেচার তৈরি হয় নাই, বা বাংলাদেশের ইসলামি-সাহিত্য কিছু হয় না (এই টেনডেন্সিগুলা সাহিত্য হিসাবেও কিছু বাতিল-মাল তো তৈরি করেই, অই উদাহারণগুলারে বাদ দিয়াই বলতেছি) বরং এইগুলার পলিটিক্যাল সিগনিফিকেন্সগুলারে গোপন করার কিছু নাই। এবং এই জায়গাগুলারে নজরে না নিয়া বাংলা-সাহিত্যের আলাপটাও কোন সেক্যুলার ঘটনা না আসলে।

এখন এইরকমের ‘হিন্দুত্ববাদী’ ও ‘ইসলামি-সাহিত্য’** ‘প্রতিহত করতে হবে’ রুখে দাঁড়াতে হবে’ টাইপ অ-সাহিত্যিক জায়গার কথা আমি বলতেছি না। আমি বলতে চাইতেছি, এই জায়গাগুলা আছে। ক্যাটাগরি হিসাবে আমাদেরকে দেখতে পারতে হবে এবং অই জায়গাগুলাতে ডুইবা যাওয়া থিকা নিজেদেরকে বাঁচাইতে পারতে হবে। যারা এখনকার সময়ে সাহিত্য করতেছেন বাংলা-ভাষায়, উনারা যেন এজরা পাউন্ড, হাইডেগারের মতো পরে রিগ্রেট না করেন, নাৎসি’রা যে এতো দুষ্টু, এইটা তো আমরা বুঝতে পারি নাই!

*অন্য নতুন কোন টার্মের কথা তো ভাবা যাইতেই পারে। দরকারিও মনেহয়। কিন্তু জিনিসগুলা লোকাল-এমপ্যাথি, রীতি ও টোটালিটির বাইরের কোন ঘটনা না আর কি…

**জিনিসগুলারে আরো ডিটেইলে আইডেন্টিফাই করা তো যাইতেই পারে। যখন জিনিসগুলা সারফেইস লেভেলে আরো ভিজিবল হবে, আমার ধারণা সলিমুল্লাহ খান’রা জাতীয়তাবাদী বিজনেস বাদ দিয়া এইখানে শামিল হইতে পারবেন, তখন উনারা যেই থিওরেটিক্যাল পজিশন খাড়া করবেন, অইটার অপজিশন দিয়া জায়গাগুলারে সহজে লোকেট করতে পারবেন। ততদিন ওয়েট করতে না চাইলে, নিজেরা এই চিন্তার জায়গা থিকা খোঁজ-খবর করলে কিছু উদাহারণ পাইতে পারবেন, এই আশা আমার আছে।…

 

নয়. সমস্যাটা যতোটা না ‘নারী-সমস্যা’ বা ‘সাম্প্রদায়িক-সমস্যা’ তার চাইতে বেশি হইতেছে অই লিনিয়ার ন্যারেটিভগুলা

এই জিনিসটা টের পাইবেন নিউজপেপারের বা নিউজপোর্টালগুলার “নারীমঞ্চ” “জয়িতা” এইসব টাইপের পেইজগুলা দেইখা; অইখানে খালি ‘নারী অধিকারের’ পক্ষের কথাই বলা হয় না, বরং এইসব আলাপগুলার ভিতর দিয়া ‘নারী’ ধারণাটারেও একভাবে কন্সট্রাক্টই করা হয়। ‘নারী’ হিসাবে আপনারে কি রকম হইতে হবে – সেইটার সাজেশনই দেয়া হইতে থাকে আসলে সবসময়। (সেইটা পজিটিভ হোক বা নেগেটিভ, এর ভিতর দিয়া) একটা ‘সাবজেক্ট’ হিসাবে রিডিউস করার জায়গাটা তৈরি হয়। (‘পুরুষ’ আইডেন্টিটি নিয়া এইরকমের ভিজিবল কন্সট্রাকশন নাই, যা আছে সেইটা খুবই সাটল…)

একইরকমভাবে, বাংলাদেশে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ ধারণার ভিতর দিয়া ‘মুসলমানদের’কেই ডিফাইন করা হয়, সাজেস্ট করা হয়, কি রকম হইতে হবে, কিভাবে ‘গুড মুসলিম’ হয়া থাকতে হবে। এইটা কম-বেশি ‘নারী’ ধারণার মতোই কন্সট্রাক্ট করার একটা ঘটনা।

মানে, এমন না যে, দুনিয়াতে নারী বা মুসলমান বইলা কোনকিছু এগজিস্ট করে না, কিন্তু এইভাবে ফোকাসড আইডেন্টিটি হিসাবে যে ‘খাঁটি’ ও ‘অরিজিনাল’ বইলা ডিফাইন করার একটা নিড – এইটা যতোটা না একটা ফেভারের ঘটনা তার চাইতে অনেকবেশি অথরিটি হিসাবে কন্ট্রোল পয়েন্ট তৈরি করতে পারার পারপাসই সার্ভ করার কথা।

এখন ব্যাপারটা এইরকম না যে, পত্রিকাতে ‘নারী-পাতা’ রাখা যাবে না! ‘অসাম্প্রদায়িকতা’র কথা বলা যাবে না! বরং এই বলাবলিগুলা পলিটিক্যালি কোন কাজটা করতেছে আসলে? – সেই জায়গাটারে খেয়াল করার কথা বলতে চাইতেছি আমি।

মানুশ হিসাবে অবশ্যই নারী’র সেই অধিকারগুলা নাই, যেইগুলা পুরুষ হিসাবে একজন মানুশের আছে; তাইলে যার নাই, তাঁর চেইঞ্জ হওয়ার চাইতে অই অধিকারগুলারে (যে না, বরং) যেই ন্যারেটিভ/ধারণাগুলা আটকায়া রাখতেছে, সেই জায়গাগুলার চেইঞ্জ হওয়াটা বা তারে চেইঞ্জ করাটা বেশি দরকারি না?

একইরকম ভিজিবল না হইলেও, মুসলমান আইডেন্টিটি বাংলাদেশে হিস্ট্রিক্যালি অপ্রেসড এবং কালচারালি ইনফিরিয়র একটা ঘটনাই এখনো, যার ফলে ‘সংখ্যায় বেশি’ হওয়ার কারণে দাবায়া রাখার ঘটনাগুলাও তীব্র হয়া উঠতেছে আরো। এই জিনিসটারে misogyny’র জায়গা থিকা টের পাইবেন অনেকটা। যে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারতে হবে! নারীর প্রতি যেইরকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য জারি আছে, একইরকম না হইলেও কাছাকাছি রকমের জিনিস ‘শিক্ষিত সমাজে’ মুসলমান আইডেন্টিটির ব্যাপারে কম-বেশি চালু আছে।

মানে, আমি বলতে চাইতেছি, সমস্যাটা যতোটা না ‘নারী-সমস্যা’ বা ‘সাম্প্রদায়িক-সমস্যা’ তার চাইতে বেশি হইতেছে অই লিনিয়ার ন্যারেটিভগুলা যেইখানে ধইরা নিতে হয় – ‘নারীরা তো দুর্বল!’ বা ‘মুসলমানরা তো অশিক্ষিত’!

যখন ‘তর্কগুলা’ এইরকম একটা বেইজে আইসা হাজির হয়, তখন আমাদেরকে বুঝতে পারতে হবে এইগুলা কোন লজিক না, বরং প্রেজুডিসের ঘটনা। যেইটারে তর্ক দিয়া মোকাবেলা করতে পারবো না আমরা। বরং জায়গাগুলারে যতদিন আইডেন্টিফাই করতে রাজি না হবো, ততদিন পর্যন্ত এই ‘তর্কগুলা’ আগুনে ঘি ঢালার কাজই করতে থাকবে।

আমাদের কাজ কোন একটা তর্কের পক্ষ-বিপক্ষ নেয়া না, বরং কোনটা আসলে আজাইরা আলাপ, সেইটারে মার্ক করার ভিতর দিয়া জুলুমের নয়া নয়া ফন্দি-ফিকিরগুলারে আন-মাস্ক করতে পারা। যেইটা বন্ধুত্ব বা শত্রুতা দিয়া এতোটা ধরা যাবে না। আলাপের বেইজটাতে খেয়াল রাখলে বরং খোলাসা হইতে পারবে অনেকটা।

/অক্টোবর ১৪ – ২৭, ২০২১

The following two tabs change content below.
কবি, গল্প-লেখক, ক্রিটিক এবং অনুবাদক। জন্ম, ঊনিশো পচাত্তরে। থাকেন ঢাকায়, বাংলাদেশে।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য