Main menu

রঠার ফিকশনের ট্রান্স-কনটেক্সুয়ালাইজেশন

একটা কাহিনি ভাবেন। কাহিনি মানে নভেল আর কি। ভাবেন, রামপালে কয়লা-বিজলি কারখানা হইতে যাইতেছে। সেইখানে একটা আন্দোলন গজাইতেছে। লোকাল লোকেরাই আন্দোলনটা করবে। লোকাল লোকজনের মাঝে কাম করতেছেন সৈয়দ ফিরোজ আহমেদ নামে মার্ক্সের তরিকার একজন পলিটিশিয়ান–তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির লিডার। উনি লোকালদের উস্কাইতেছেন, দরকারি সব কথা লোকজনরে জানাইতেছেন, কয়লা-বিজলীর লাভ-লোকসান বুঝাইতেছেন, লোকালদের জীবনের জন্য খুবই দরকারি সুন্দরবনের কেমন ক্ষতি হইতে পারে সেই খবরাদি দিয়া আন্দোলনের দরকারি রসদ যোগাইতেছেন।

এই ফিরোজ আহমেদ হইলেন রামপালের দুলাল চৌধুরীর দোস্ত। দুলাল চৌধুরী রামপাল আওয়ামী লীগের (সরকারি দল) বড় নেতা, লিবারাল, মহৎ, জনদরদী, সুফি টাইপের মানুষ। তার বউ হইলেন বিলকিছ। বিলকিছের কথায় দুলাল চৌধুরীর চরিত্র এমন:
“আমার মনে হত ভালো হবার একটা সীমা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে কেমন যেন তাতে পৌরুষের ব্যাঘাত হয়।”

আর দুলাল চৌধুরী কইতেছেন,
“যদি দেখি এই বিশাল জীবন ব্যবস্থার মধ্যে আর কোথাও আমি খাপ খাইনে তা হলে বুঝব এতদিন যা নিয়ে ছিলাম সে কেবল ফাকি। সেই ফাকিতে কোনো দরকার নাই। সেদিন আসে ত ঝগড়া করব না, আস্তে আস্তে বিদায় হয়ে যাব। জোর – জবরদস্তি? কিসের জন্য! সত্যের সাথে কি জোর খাটে?”

এই দুলাল চৌধুরীই ফিরোজ আহমেদকে লইয়া যান রামপালে; তাতেই মওকা পাইয়া যান ফিরোজ। উনি বিলকিছরে সিডিউস কইরা পয়সাকড়ি হাতাইয়া লন, আন্দোলন জমাইতে সেই পয়সা ঢালেন। সিডিউস করতে পারলেন কেমনে?  বিলকিছ জানাইতেছেন,
“আমার নারীর হৃদয়, তার ভালোবাসা আপনিই পূজা করতে চায়।”

আর ফিরোজ জানাইতেছেন,
“পুরুষেরা ভালোবাসে ধোয়াকে আর মেয়েরা ভালোবাসে বস্তুকে। সেই জন্যেই পুরুষ পূজা করতে ছুটে তার নিজের আইডিয়ার অবতারকে। আর মেয়েরা তাদের সমস্ত অর্ঘ্য এনে হাজির করে প্রবলের পায়ের তলায়।”

তো আন্দোলনটা জইমা ওঠে, পরে খুবই ভায়োলেন্ট টার্ন লয়। মার্ক্সের তরিকার পলিটিশিয়ান ফিরোজ তখন পালাইয়া যায়, দুলাল চৌধুরী ভায়োলেন্স ঠেকাইতে যাইয়া মাথায় বাড়ি খাইয়া জিন্দামরা দশায় চইলা যায়। বিলকিছ তখন বুঝতে পারে নিজের ভুল: আসল ‘প্রবল’ তো দুলালই, ফিরোজ তো না–আসল ক্রাইসিসে ফিরোজরা পালাইয়া যায়, আর দুলালরা মোকাবিলা করতে যায়। বিলকিছ আর ফিরোজের থিওরি মোতাবেক বিলকিছের ভক্তি তখন দুলালের পা দুইটাতেই।

বিলকিছ এখন ভাবতেছে, দুলাল যদি মইরাই যায় তাইলে দুলালের পা দুইটা কাইটা রাইখা দেবে কিনা–পা ছাড়া কবরে গেলে এমন কি আর সমস্যা!

রঠার ঘরে বাইরে নভেল/কাহিনিরে ট্রান্স-কনটেক্সুয়ালাইজেশন করলাম রামপালে। ডায়লগগুলা ঘরে বাইরের পাটগুলার জবানেই কইলাম। ঘরে বাইরের জমিদার নিখিলেশ রামপালের দুলাল চৌধুরী, সন্দ্বীপ ফিরোজ আহমেদ, বিমলা হইছেন বিলকিছ। ঘরে বাইরের মাইয়া বিমলার যেমন পদবী নাই, বিলকিছেরও পদবী নাই তাই। সন্দ্বীপ আছিলেন ব্রাহ্মণ/বামুন, তাই ফিরোজ হইলেন সৈয়দ।

রঠার ঘরে বাইরে কাহিনিতে যারা কোন প্রোবলেম দ্যাখেন না, তারা আমার এই কাহিনিতেও আপত্তি করবেন না মনে হয়। আমার কাহিনিতে সন্দ্বীপকে সৈয়দ ফিরোজ নামে রাখার কারণ হইলো, আমাদের চেনা লেখক ফিরোজ আহমেদের কয়েকটা লেখা, রঠারে লইয়া–রঠা কতটা ‘সুদূরের পিয়াসী’, সেই ব্যাপারে উনি বেশ ওয়াজ-মাহফিল কইরা বেড়াইতেছেন। ওনার পদবী কি তা জানি না, আশরাফ মোসলমানের একটা পদবী লাগাইয়া দিলাম আমিই, ব্রাহ্মণ বা বামুনের বরাবর করতে।

তো, আমার এই কাহিনিতে ফিরোজ আহমেদ নিজেও আপত্তি করবেন না হয়তো, কিন্তু আমি নিজেই আপত্তি করি। কোন একজন জমিদার বা সরকারি দলের নেতা, মার্ক্সের তরিকার কোন একজন পলিটিশিয়ান বা কোন একজন ধনীর বউ অমন যে হইতেই পারে না তেমন কিছু কইতেছি না আমি। কেননা, কাহিনি তো কেবল তার পাটগুলার ছবিই আঁকে না, কাহিনির কোন একটা পাট কোন একটা গুষ্টির ডেলিগেট হিসাবে হাজির হয়, সেই গুষ্টির ব্যাপারে একটা কমন ধারনা বানাইয়া তোলে, জেনারালাইজ করে। পাটের পরিচয় সেই কামটা করে, সেই জন্যই নিখিলেশের জমিদার পরিচয়, নিখিলেশ দিয়া পুরা জমিদারদের আঁকা গেল, দুলাল চৌধুরীরে দিয়া যেমন আওয়ামী লীগ, সন্দ্বীপ বা ফিরোজকে দিয়া আঁকা গেল ঐ সব পলিটিশিয়ানদের–ফিরোজ যেন আনু মুহাম্মদও, বিমলা বা বিলকিছ দিয়া পরিচয় করাইয়া দেওয়া গেল দুনিয়ার সব মাইয়ারে। হলিউড-বলিউডে যেমন মাথায় একখান টুপি পরাইয়াই মোসলমানদের পরিচয় করাইয়া দেওয়া যায়, কাহিনির একেকটা পাটও তেমনি টুপি হিসাবে কাম করে, পুরা গুষ্টি সেই টুপির তলে ঢুইকা পড়ে। রঠা বা আমার কাহিনিতে যেই টুপিগুলা পাইতেছেন তাতে দেখা যাইতেছে, জমিদার/সরকারি দলের নেতা ভালো, মানুষের লগে আন্দোলন করা পলিটিশিয়ানরা খারাপ, পূজা এবং ভক্তি ছাড়া মাইয়াদের আর কোন কাম নাই–শক্ত গাছপোলা লাগে মাইয়াদের, কেননা মাইয়ারা তো সোনালতা। এবিউজড না হবার মতো বুদ্ধি মাইয়াগো হয় না। জনতার এমন দুশমন, সেক্সিস্ট ফিকশন, যেইখানে জনতার পয়সা মারা আকাইমা জমিদার মহান, জনতার পলিটিক্স করা লোকেরা ভন্ড-শয়তান, মাইয়ারা মানে সোশিও-পলিটিক্যাল ইস্যুর বাইরে থাকা শক্ত গাছপোলার তালাশে থাকা সোনালতা, এমন ফিকশনে আমার আপত্তি হয়, আছে।

আমার আপত্তি থাকলেও ফিরোজ আহমেদের আপত্তি না থাকারই কথা। এমনটা মনে হইতেছিল, আজকেই ফিরোজ আহমেদের একটা লেখা পইড়া। বাংলা ট্রিবিউনে ছাপা হইছে এইটা, পড়েন: রবীন্দ্রজীবীদের মানুষ কেন ভালোবাসে না? এইখানে ‘রবীন্দ্রজীবী’দের পরিচয় করাইয়া দিছেন ফিরোজ এইভাবে:

“রবীন্দ্রজীবীরা বরাবরই প্রকৃতিপ্রেমী। একজনের কথা স্মরণ করতে পারি, যিনি ঢাকার সড়কে সড়কে কেন বুনো আমগাছ রোপন করা হয় না, সেই নিয়ে দুঃখ করে লিখেছিলেন নব্বই দশকের শেষ দিকে। এই দেশীয় বুনো প্রজাতিগুলো তবে টিকে যেতে পারতো, পথচারী আর দরিদ্র শিশুরাও আম খেতে পেতো। চিন্তাটি বর্তমান লেখকের ভাবনাকেও আজ পর্যন্ত ব্যাকুল করে, এটা সত্যি।”

ফিরোজ আবার রঠার ‘মুক্তধারা’ নাটক মারফতে দেখাইতেছেন, রঠা কতটা ইনসাফের পক্ষে, নদীর উজানে বান মারা, ভাটিতে পানি না দেওয়ার কেমন নিন্দা করছেন রঠা। ফিরোজ তাই জবাব খুঁজতেছেন, ঐ দরদী ‘রবীন্দ্রজীবী’রা ফারাক্কায় কেন কোন বেদনা পান না, কষ্ট জাগায় না তাগো মনে!

ফিরোজের মতে, এই ‘রবীন্দ্রজীবী’রা রঠার যেই ইমেজ/ভাবমূর্তি বানাইছেন আসল রঠা সেই ইমেজ ছাড়াইয়া বহু ‘সুদূরের পিয়াসী’। রঠার নিন্দুকরা নাকি ঐ ‘রবীন্দ্রজীবী’দের বানানো রঠামূর্তিরেই আসল রঠা ধইরা নিন্দা কইরা থাকেন।

হুম, রঠারে লইয়া কত নিন্দুকই তো কত কথা কয়। muldharabd.com নামে একটা ওয়েবজার্নালে ‘জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ নামের লেখায় যেমন অন্যদের মেমোরি, রঠার জমিদারির ইতিহাস–এইসব দিয়া সমালোচনা সাজানো হইছে। রঠার সমালোচনায় এসবে আমারও আগ্রহ কম, আমিও রঠার লেখা ধইরাই কথা পাড়লাম ফিরোজের মতোই। সমালোচনা করার বেলায় মানুষ রঠার চরিত্র আমারে তেমন টানে না কারণ, সমাজে একজন লেখক কাম করতে থাকে তার লেখার ভিতর দিয়াই, মানুষটা মইরা যায়–সমাজে তার হাজিরা আসলে তার লেখাই। তাই এই লাইনেই আগাই আমি, সেইটা ফিরোজের বেলায়ও।

তো, ফিরোজ আহমেদের কাছে রহস্য, যেই ‘রবীন্দ্রজীবী’রা ঢাকার রাস্তায় আম গাছ লাগাইতে চাইবার মতো টোকাই দরদী মন পোষেন, ‘প্রকৃতিপ্রেমী’, সেই তাগো মনেই কেন ফারাক্কা লইয়া কষ্ট-বেদনা জাগে না! আমার কাছে এইটা কোন রহস্যই না। ‘প্রকৃতিপ্রেম’ বহু কিসিমের। পশুপ্রেম বা প্রাণীপ্রেমও বহু কিসিমের। ভারতে শিবসেনা যখন গরু রক্ষা করতে যাইয়া খুব আলতো কইরা পিটাইয়া মাইরা ফালায় গরুখোর শূদ্র হিন্দু বা মোসলমানরে, রেপ করে–সেইটারেও আপনে পশুপ্রেম হিসাবেই দেখতে পারেন। সেই লোকগুলাই যখন মাইয়া বাচ্চা হইলে জিন্দা পুইতা ফেলে মাটিতে তখন কোন রহস্য পাই না আমি। কারণ, আমি তো শিবসেনার কাছে গরুর ইজ্জত জানি। ফিরোজ যদি রঠার কাছে উপনিষদ আর ব্রাহ্মধর্মের ইজ্জত জানতে রাজি হইতেন, রঠার লেখায় উপনিষদ কেমনে মুক্তধারার মতো, বান না মারা ঝর্নার মতো বইতেছে সেইটা স্বীকারে রাজি হইতেন তাইলে তার কাছেও ঐ আজব ‘প্রকৃতিপ্রেম’ রহস্য মনে হইতো না।

এদিকে খেয়াল করেন, ঢাকার রাস্তায় আমগাছ লাগাবার যেই দরদী মন দেখতেছেন আর পুষতেছেন ফিরোজ আহমেদ সেইটা দয়া-করুণার আলাপ, এর মাঝে হকের আলাপ আর লড়াই নাই, আগের জবরদখলের ইতিহাসও নাই। এই দয়া-করুণা উপনিষদেরই ছবক। ফারাক্কা লইয়া ওনাদের মনে কোন কষ্ট-বেদনা যদি জাগেও তাইলে কি করতে পারেন ‘রবীন্দ্রজীবীরা’? রঠার উপনিষদের ছবক মোতাবেক তারা গীতাঞ্জলি’র ‘ব্রাহ্মসংগীত’ গাইয়া ব্রহ্মের কাছে ‘প্রার্থনা’ করবেন যাতে উজানের রাজার মনে দরদ গজায়। আরো এফেক্টিভ করতে তারা শান্তিনিকেতনে যাইয়া ‘প্রার্থনা’ করতে পারে।

ফিরোজ আহমেদের বরাতেই মুক্তধারার কোটেশন দিতেছি যেইখানে দেখবেন, আলাপটা কেমন কেবল ‘নীতিবিদ্যার’, উজানের রাজার দয়া-মায়া দরদের:

“দূত: ক্ষুধিতের কান্না তোমার সে ভাবনা ভাঙাতে পারবে না?

বিভূতি: না। জলের বেগে আমার বাঁধ ভাঙে না, কান্নার জোরে আমার যন্ত্র টলে না।

দূত: অভিশাপের ভয় নেই তোমার?”

এই মুক্তধারার ভিতরেই দ্যাখেন রঠা কইয়া দিতেছেন, ফারাক্কার দশায় কি করতে হবে ভাটির লোকদের। কান্নাকাটি করতে হবে, কান্দনের এথিক্যাল প্রেশার যদি ‘বাঁধ’ ভাঙতে না পারে তাইলে অভিশাপ দিতে হবে। ভাটির ‘রবীন্দ্রজীবী’রা গীতাঞ্জলি দিতে দিতে ‘প্রার্থনা’য় কানতেছে, কাইন্দা ‘বাঁধ’ ভাঙার চেষ্টা করতেছে, কাম না হইলে ‘অভিশাপ’ দেবে। কোন কোন ‘রবীন্দ্রজীবী’ শান্তিনিকেতনে গাছের তলায় ধ্যানে বইসা অভিশাপ দিতেছেনও আলবত। আরেক দিক দিয়াও একটু ভাবতে পারেন। মুক্তধারা বা ঘরে বাইরে, দুইটা ফিকশনেই দ্যাখেন রঠার কাছে ক্রাইসিসটা স্রেফ শাসকের এথিক্সের, শাসনের এক শরিক আরেক শরিকের লগে নিজেদের ডিলেমা লইয়া আলাপ করতেছে, একই জায়গায় শাসক এবং শাসিত যেন থাকে না, দুইটা পক্ষের রিলেশনশিপের ছবি নাই, শাসিত আছে আলাপের বিষয় হইয়া, তাগো কায়-কারবারের ভাপ আর ঢেউ কখনো হয়তো শাসনের সেন্টারে দোলা দেয়, কিন্তু তারা যেন দুইটা পক্ষ হইয়া ডাইরেক্ট জড়াইতেছে না ঘটনায়! শাসকের কোন কামের ফল শাসকের জন্য কেমন হবে সেই আলাপটাই করতেছেন রঠা। বোঝার জন্য আরেকটা ঘটনা ভাবতে পারেন: বৃটিশ ইন্ডিয়ায় গভর্নরের শাসন থাকবে, নাকি গণতন্ত্র দেওয়া হবে–গভর্নরের শাসন বহাল রাখায় এথিক্যাল ডিলেমা আছে কিনা কোন, নেটিভরা এনাফ ‘ইন্ডিভিজ্যুয়াল’ হইতে পারছে কি যাতে তাগো আর বর্বর না ভাইবা সিভিল ভাবা যায় এইবার, তার ফল বৃটেনের জন্য কেমন হইতে পারে–বৃটিশ ইন্ডিয়ার কোটি কোটি নেটিভ লইয়া এমন জটিল ইস্যুতে জন স্টুয়ার্ট মিল বৃটিশ সরকারের লগে আলাপ করতেছেন তখনকার লন্ডনে।

রঠার আরো দুয়েকটা ফিকশন লইয়া ছোট্ট আলাপে যাবার আগে উপনিষদের ব্যাপারে আরো দুয়েকটা কথা কইতে চাই, ব্রাহ্মধর্মের ব্যাপারটা আরো ক্লিয়ার করা দরকার মনে হয়।

ব্রাহ্ম ধর্ম ঢাকার কমন রঠানাগরদের কাছে একটু অচেনা লাগতে পারে; ১৯ শতের কলোনিয়াল কোলকাতার মতো ব্রাহ্মধর্ম এখন আর গরম পিঠা নাই। কিন্তু ব্রাহ্মরা আপনাদের অতো অচেনা না! জীবনানন্দ দাশ ব্রাহ্ম আছিলেন, তার বিয়াও হইছে ব্রাহ্ম মতে, বাংলাদেশে এখনো ব্রাহ্মসমাজ আছে। আলাদা বর্ণের মাঝে বিয়ার জন্য ১৮৭২ সালে যেই আইনটা হয় সেইটা আসলে আছিল ব্রাহ্মদের জন্যই, আইনটা এখনো চালু আছে বাংলাদেশে। আজকাল ব্রাহ্মধর্ম অচেনা লাগার আরেকটা কারণ, রঠা নিজেই নামটা লুকাইয়া রাখছেন বেশ, রঠার আর্ট-দর্শন-সংস্কৃতি মিলেই ব্রাহ্মধর্ম, নামে ব্রহ্ম বা ব্রাহ্মধর্ম ততো পাইবেন না। ওনার বাপ দেবেন্দ্রনাথ বীরভূমের ভুবনডাঙায় জমি কিনে ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ বানাইছিলেন, রঠা সেই নামটাও চেঞ্জ কইরা ‘(ওম!)শান্তিনিকেতন’ বানাইছেন; তাতে ব্রহ্ম আর উপনিষদ গোপন কইরা সংস্কৃতির নামে উপনিষদ চর্চায় সুবিধা হইছে। দুর্গাসহ ‘মূর্তিপূজা’ না করার চিন্তা থিকা দেবেন্দ্রনাথ তার ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’-এ কতগুলা নয়া দিন পালন করা শুরু করেন, যেমন: মাঘোৎসব, নববর্ষ। পূজার বদলে এইগুলাই ব্রাহ্মধর্মের উৎসব-অনুষ্ঠান। পরে রঠা এই লিস্টে ‘বসন্ত উৎসব’ যোগ করেন। আরো বহু বছর পর সেই ধারাতেই জাহাঙ্গীরনগরে সেলিম আল দীন শুরু করলেন ‘মহুয়া উৎসব’। রঠার ‘সংস্কৃতি’ এবং ‘ব্রাহ্মধর্ম’ এইভাবে একই জিনিস হইয়া উঠতে থাকে।

ব্রহ্ম বা ব্রাহ্মধর্ম সামনে রাখার আরেকটা মুশকিল আছিল। কোলকাতার হিন্দুসমাজ ব্রাহ্মধর্ম পছন্দ করে নাই। এইটা মনোথেইজম, কিন্তু দুর্গা বা শিব বা স্বরস্বতি-লক্ষ্মীর শিকড় আছে হিন্দু সমাজে, এগুলা সব বাদ দিয়া নিরাকার ‘(সিঙ্গুলার) এক’ ব্রহ্মের এবাদতকে হিন্দুসমাজ বিলাতি ছাচের মাল ভাইবা সন্দেহ করছে। এইখানে মনে করাইয়া দেওয়া যায়, ভারতীয় হিন্দুরা ইংরাজের বা ইউরোপের কাছে ছবক পাইয়া পলিথেইজম থিকা মনোথেইজমে যাইতে পারছে খুব অল্পদিনে, সেইটাই ক্লিয়ার হয় গীতাঞ্জলিতে, গীতাঞ্জলির ভগবান ‘সিঙ্গুলার/এক’। ব্রহ্মকে দেওয়া গান ভরা এই অঞ্জলি, সেই কারণেই হয়তো রঠা নিজেই এইটা ইংরাজিতে তরজমা করছিলেন, অল্প সময়ে মনোথেইজমের ছবক হজম করতে পারার এই ঘটনারে ইউরোপ নোবেল দিয়া স্বীকৃতি দিয়া দেয়। ইউরোপ থিকা ধর্ম শেখার এই সন্দেহ আছিল ব্রাহ্মধর্মের বেলায়; নিজের লেখায় ব্রাহ্মধর্ম ডাইরেক্ট রাখাটা তাই রিস্কি, ব্রাহ্মধর্মের ব্যাপারে মানুষের নেগেটিভ ভাবনার ভাগ লইতে হয় তাইলে লেখাগুলার! রঠার লেখা ডিনাই কইরা ফেলতে পারতো কোলকাতার হিন্দুসমাজ।

এই গোপন করাটা আবার হয়তো গোপন করতে চাওয়ার মাঝে পুরা পাবো না আমরা; স্বামী বা পতির লগে মাইয়াদের যেমন রিলেশন রঠা আইডিয়াল হিসাবে দেখাইছেন তাতে পতি বা স্বামীর নাম মুখে না লইবার ব্যাপার আছে একটা, ভক্তিতে মুখে আসে না যেন নাম; রঠাভক্তরাও যেমন নাম ততো না লইয়া ‘গুরুদেব’ ডাকতেন। একবার ভাইবা দেখেন–আপনে শান্তিনিকেতন যাইয়া হাক ছাড়লেন একটা, “রবি চাচা আছেন নাকি চেম্বারে?”–রঠার ভক্তমুরিদরা এতে ভক্তিশ্রদ্ধার কমতি পাইবে আলবত। এই যে ভক্তিতে নামটা মুখে লইতে না পারা, ভক্তিকে তেমনই হইতে হওয়া–এইটাও একটা কারণ হইতে পারে! এই কারণেও হয়তো ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ পাল্টাইতে হইছে; ‘ব্রহ্ম’ হইলেন ‘পতি’ বা ‘নাথ’, তার নাম না লইয়া ‘(ওম)শান্তিনিকেতন’ বানাইলেন। সেইখানে ধ্যান করবেন, ‘উপাসনা’ বা ‘প্রার্থনা’ করবেন। নাম না লইয়াই যাতে ‘উপাসনা’ করতে পারেন সেজন্য রঠা গীতাঞ্জলি লেইখা গেছেন। গীতাঞ্জলির গানগুলাই উপাসনার শ্লোক/বুলি, মোসলমানরা এবাদতে যেমন সুরা-কেরাত পড়ে–আরো ঠিক কইতে চাইলে গীতাঞ্জলির গানগুলারে ব্রাহ্ম ‘হামদ’ কইতে পারেন। শেষের নোটে রঠার লেখায় কয়েকটা ব্রাহ্ম ‘হামদ’ পড়েন, লগে মিলাইয়া পড়েন উপনিষদের কিছু বাণী।

গীতাঞ্জলির ব্রাহ্ম হামদ আর উপনিষদ মিলাইয়া পড়লে রঠার ‘সত্য’, ‘সুন্দর’, ‘শান্তি’, ‘প্রেম’ (প্রকৃতিপ্রেম) বুঝতে সুবিধা হবে আপনার। আবার ‘সুন্দর’-ই তো রঠার আর্টের ধারনার গোড়া, তাইলে রঠার সংস্কৃতির অর্থ কি খাড়াইতেছে?

ওদিকে, ‘সত্য’ নামের সেই ‘সুদূর’-এর দিকে  ‘পিয়াসী’র যেই সফর সেইটা খুবই ব্যক্তিগত/পার্সোনাল; প্রথম আলো’র সেই শ্লোগানটা ভাবেন, “বদলে যাও, বদলে দাও”। আপনি ভালো হইলেই জগত ভালো হইতে থাকবে, কেননা, আপনিই তো জগত–মামলাটা ব্যক্তির ইমানদারি বা এথিক্সের। জগতে কতগুলা ব্যক্তিই মাত্র আছে, ব্যক্তি ছাড়াইয়া যাওয়া মানুষেরই বানানো কোন সিস্টেম নজরে পড়ে না রঠার।

উপনিষদেই পাইবেন ‘কর্মফল’ আর ‘নিয়তি’র ধারনা। ব্যক্তির ভালো হইতে হবে, ভালো কাম করতে হবে, এলেম/জ্ঞান কামাইয়া এনলাইটেন্ড (আলোকিত মানুষ চাই–বিসাকে) হইতে হবে, তখন ভালো ‘কর্মফল’ পাবে। খারাপ কামে খারাপ ফল। তাইলে এখন যে খারাপ আছে, এই জীবনের ফল যার পচা, সে তো আগের আকামেরই ফল পাইতেছে এখন! এই হিসাব মাথায় রাইখা নদীর উজানে বান মারা আর সেই বানে ভাটির দুর্ভোগের অর্থ করেন। এই দুর্ভোগটা তাইলে ভাটির ‘কর্মফল’। আবার, উজানের লোক এখন বান মাইরা আকাম করতেছে, রঠা তাই তাগো সাবধান করতেছেন আগামীর ‘কর্মফল’ মনে করাইয়া। সেই কারণেই উজান-ভাটির লড়াইটা পাইতেছি না রঠায়, কেননা, তাইলে ব্যাপারটা দুনিয়াবি মামলা হইয়া যায়–ডিভাইন জাস্টিস থাকতেছে না আর!

তাইলে ভাটির সহি ‘রবীন্দ্রজীবী’রা কি করবেন? পানি না পাইয়া নিজেদের ‘কর্মফল’ ভাইবা হা-হুতাশ করবেন, পরে অভিশাপ দেবেন। আর উজানের ‘রবীন্দ্রজীবী’রা? তারা সাবধান করবেন আগামীর সাজার বা ‘কর্মফল’-এর কথা মনে করাইয়া দিয়া। ফিরোজ আহমেদরে জিগাই [আজফার হোসেনকেও জিগাইতে মন চায় :)], মানুষের জিন্দেগীর এমন ‘ব্যক্তিগততা’র আইডিয়া মার্ক্সের তরিকারে কতটা আগাইয়া দেয়? আবার মার্ক্সের তরিকার পলিটিশিয়ানদের কেমনে দেখবেন তাইলে ফিরোজের ‘রবীন্দ্রজীবী’রা? এক কথায় কইলে–ঘরে বাইরের ‘সন্দ্বীপ’!

ব্রাহ্মধর্মের এই যে চর্চা, এতে তো কোনই অসুবিধা নাই; কোন একটা ধর্ম চর্চা করতে থাকা মোটেই কম্যুনাল ব্যাপার না, মোসলমান বা জৈন বা খৃস্টান বা বৌদ্ধ-ইহুদীও আছে জগতে। কিন্তু ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’কে ‘শান্তিনিকেতন’ সাজাইয়া মানুষ ডাকাডাকি, সংস্কৃতির নামে ডাইকা উপাসনায় বসাইয়া দেওয়া–এইটা কম্যুনাল ব্যাপার, পাঠার গোশত কইয়া হিন্দুরে গরু খাওয়াইয়া দেবার মতোই কম্যুনাল হামলা। এই কিসিমের কম্যুনাল হামলা ফিরোজ আহমেদের বুঝতে প্রোবলেম হইতেই পারে। কারণ, ওনার মতো রঠানাগর এবং রঠার আরো বহু নিন্দুকের ‘সাম্প্রদায়িকতা’ মানে হইলো–কোথায় কোথায় রঠা হিন্দু হইয়া মোসলমানদের কি কি কইলেন সেই হিসাব! তাছাড়া কম্যুনাল ব্যাপারে ওনাদের যতো আগ্রহ, ক্লাস বা রেস বা জেন্ডারের ব্যাপারে ততো নাই!

যদি থাকতো তাইলে রঠারে বিরাট এনভায়রনমেন্টালিস্ট বানাবার তালে তালে হইলেও কিছু ব্যাপার দেখা যাইতো। ফিরোজের দেওয়া মুক্তধারা নাটকের ডায়লগে দেখা যাইতেছে খাড়া নাক-বোঁচা নাকের আলাপ, মানে হইলো উজানের লোকেরা আর্য, ভাটির লোকেরা অনার্য। ভাটির লোকেরা বিধর্মীও। রঠা মুক্তধারা লিখতেছেন উজানের লোকদের জন্যই, উজানের ভূগোলের মাঝেই নাটকটা ঘটতেছে মনে হয়, নাকি? এতে হয়তো রঠার খাড়া নাকের খবরটা পোক্ত হয়।

জেন্ডার ইস্যুতে রঠার পজিশন ঘরে বাইরের বিমলাতেই বেশ পাওয়া যাইতেছে। কিন্তু আরো প্রাকটিক্যালি দেখাইছেন সমাপ্তি আর হৈমন্তি গল্পে। সমাপ্তির অপূর্বর মাঝে পেডোফিলিয়া দেখা যাইতেছে সাফ সাফ। না, জাতিসংঘের ‘শিশু’র হিসাবে কই নাই; সমাপ্তির মৃম্ময়ী বাচ্চা, বয়সে তো বটেই, চেতনায়ও সে মাইয়া হইয়া ওঠে নাই– নিজের শরীর এখনো যে চেনে না সে, সেই খবরটা রঠাই দিতেছেন আমাদের। নামের মাঝেও সেইটা আছে, মৃম্ময়ী–কাদা একদলা, অপূর্ব তারে গইড়া নেবে, কুমারের মতো কাদা মলেস্টেশন করতে করতে।

হৈমন্তির লগে মিলাইয়া পড়লে বুঝবেন, রঠা দেখাইতেছেন, মাইয়াদের বিয়া বাচ্চাকালেই হওয়া উচিত। তা হয় নাই বইলা, হৈমন্তির উদাসী বাপের বেখেয়ালে বিয়ার আগেই হৈমন্তির যৌবন আইসা পড়ছে বলে স্বামীর বাড়িতে সে আর মানাইতে পারে নাই, মরতে হইলো তার। মৃম্ময়ীর মতো একদলা কাদা নাই আর হৈমন্তি, বাপের ছবকে বেশি হুশ হইয়া গেছে তার। সমাপ্তির অপূর্বর মতো ‘সাচ্চা পুরুষ’ আছিল না হৈমন্তির স্বামী–এইটাও একটা সমস্যা! এ ব্যাপারে আরো পড়তে পারেন আমার এই লেখাটা: হৈমন্তি অপুরুষ বনাম সমাপ্তি পুরুষ, লিংক ১/ লিংক ২

মোটের উপর তাইলে আমি ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের কারণে রঠার উপর নাখোশ না, আমার ভাবনা বা টেনশনটা হইলো, আমার পলিটিক্যাল কায়কারবারের মাঝে রঠা ফিট করে না, উনি বরং আমার এজেন্ডাগুলারে ঠেকাইয়া দিতে থাকেন, আর্ট- কালচার(সংস্কৃতি)-জিন্দেগির ব্যাপারে এমন একটা এসথেটিক দশা বানাইয়া দেন ওনার রিডারের মনে যেইটা পলিটিক্যালি লওয়া যায় না আর।

রঠার বানানো ঘরে বাইরের সোনালতা বিমলারে লইয়া কই রাখবো আমার ইউটোপিয়ায়? জেন্ডারের রাজনীতিতে আমি যদি ইনসাফ কায়েম করতে চাই সেইখানে বিমলারা কইতে থাকে–সুখেরা থাকে গাছপোলার ডালে, সোনালতা হও! পেডোফাইল অপূর্বকৃষ্ণরে লইয়া কি করবো আমি, আমি কি অলরেডি হাজার হাজার বাচ্চার রেপের খবর পড়ি নাই? পেডোফিলিয়ার ইস্যুর বাইরেও ইচ্ছা-স্বাধীন মৃম্ময়ীরে অপূর্বর হাতে রঠা যা বানাইলেন সে তো আরেক বিমলাই! রঠার বানাইয়া দেওয়া মনগুলা হৈমন্তিদের তো বাঁচতেই দেবে না! অথচ রঠার বাড়ির যেই মাইয়াদের রঠা ছোট্টকালে দেখছেন তারা তো কেউ বিমলা আছিলেন না; রঠার ভাবী জ্ঞানদানন্দিনী দেবেন্দ্রনাথের অমতে চলছেন, ৩ বাচ্চা লইয়া একলা জাহাজে চইড়া লন্ডন গেছেন। রঠার বইন স্বর্ণকুমারী একটিভ পলিটিক্স করছেন, বড় লিডার আছিলেন!

আমি ঐ ‘প্রকৃতিপ্রেম’ লইয়া কি করবো? রঠার বানাইয়া দেওয়া এই প্রকৃতিপ্রেমিকরা খালি অভিশাপ দেবেন, গরিবেরে দান-খয়রাত দেবেন দুই পয়সা, মানুষের হকের পক্ষে রাজনীতি করবেন না তারা, ডিভাইন জাস্টিসের উপর ছাইড়া দিয়া ‘উপাসনা’ কইরা কেবল নিজে ‘ভাল’ হবার ‘সাধনা’ করবেন! সো স্যাড!

ওনার পোয়েট্রি লইয়া আলাপে না যাই এইখানে, তবে বঙ্কিমের গদ্য কবিতা লইয়া একটা আলাপ পাইবেন বাছবিচারের ওয়েবসাইটে, পড়েন প্লিজ। আর সোনার তরী কবিতাটারে একটু ট্রান্স-কনটেক্সুয়ালাইজ করলাম: একটা শর্টফিল্মের কেচ্ছা ভাবছি। এনিমেশন হইলে ভালো হয় মনে হইতেছে। নাম ‘সোনার নাও’। গল্পটা এই রকম:

এক লোক নাও চইড়া খালের ঐ পাড়ে গেল। নাওটা খালি। ঐ পাড়ে ধানখেত। লোকটা যাইয়া ধান কাইটা নাও ভরলো। এতো ভরলো, এতো ভরলো যে, পরে দ্যাখে নিজেই উঠতে পারে না। উঠলে নাও ডুইবা যাইতে পারে। ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকবে সৌমিত্রের নাটুকে গলায় ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, ছোট সে নাও (তরী)…।

লোকটা তখন নাও’র এক মাথা থিকা কিছু ধান নামাইয়া রাখলো। তারপর নাও চইড়া বৈঠা বাইয়া খাল পার হইতেছে। আস্তে কইরা বৈঠা বায় আর গান গায়–আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার বারিস্টার…

 

 

রঠার কবিতার আলোচনা ছাড়াও ওনার বাংলা লইয়াও আলাপে গেলাম না আর এইখানে। আমি কেবল সিপিবি বা ছাত্র ইউনিয়নের শ্লোগানগুলার বাংলার দিকে নজর দিতে কইবো। ‘বিপ্লব স্পন্দিত’, ‘দ্রোহী’, ‘চিত্তশুদ্ধি’–এই কিসিমের সংস্কৃত দুধে বানানো পিষ্টক (পিঠা) দেশের জনতার বাংলা বোঝাবুঝি থিকা কত দূরে, ভাবেন। এবং এগুলার মাঝেই শুইয়া আছে রঠার বাংলার মর্ম। আমাদের রাজনীতির ভাষা বানাইতে আমরা যদি গণতান্ত্রিক হইতে না পারি, আমাদের ওয়াজে কেন কান দেবে মানুষ, দিতে চাইলেও কি পারবে আদৌ!

——————————————————-

নোট-১: রঠা কইতেছি বলে কিছু লোকের মনে লাগতেছে মনে হয়। নামের দুইটা পার্টের পয়লা অক্ষর লইয়া ছোট নাম বানাইছি। যাগো মনে লাগতেছে তারাও নামটা ছোট কইরাই ডাকেন প্রায়ই: রবিঠাকুর, রবীন্দ্র, রবি। তারা বরং নামটার অর্থ পাল্টাইয়া দিতেছেন, আমি যেইটা করি নাই। খেয়াল করেন, ওনারা যখন রবিঠাকুর ডাকেন তখন ইন্দ্রনাথ বাদ যাইতেছে, ইন্দ্র দেবরাজ, নাথ মানে প্রভু, পতি, এইগুলা বাদ দিয়া সূর্যের পতিরে ওনারা সূর্য নামে ডাকতেছেন, আজব না–ডিসটর্শন (বিকৃতি কইতে ভালো লাগে ওনাদের।)! নামের পয়লা অক্ষর দিয়া নাম ছোট করা কমন ঘটনাই, আমিও যেমন রেজাউল করিম থিকা ‘রক’ হইছি!

 

নোট: ব্রাহ্ম হামদএবং উপনিষদের বাণী

 

অন্তর মম বিকশিত করো
অন্তরতর হে ।
নির্মল করো উজ্জ্বল করো ,
সুন্দর করো হে ।…

১২০

সীমার মাঝে , অসীম , তুমি
বাজাও আপন সুর ।
আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ
তাই এত মধুর । …

১৩০

আমার মাঝে তোমার লীলা হবে ,
তাই তো আমি এসেছি এই ভবে ।
এই ঘরে সব খুলে যাবে দ্বার ,
ঘুচে যাবে সকল অহংকার ,
আনন্দময় তোমার এ সংসারে
আমার কিছু আর বাকি না রবে । …

৪৬

আসনতলের মাটির ‘পরে লুটিয়ে রব ।
তোমার চরণ-ধুলায় ধুলায় ধূসর হব ।
কেন আমায় মান দিয়ে আর দূরে রাখ ,
চিরজনম এমন করে ভুলিয়ো নাকো ,
অসম্মানে আনো টেনে পায়ে তব ।
তোমার চরণ-ধুলায় ধুলায় ধূসর হব ।…

 

এইগুলার লগে লগে উপনিষদ থিকা পড়েন:

১. Universal Prayer for Enlightenment

Aum.

Asato ma sad-gamaya;
tamaso ma jyotir-gamaya;
mrtyor-ma amrutam gamaya.
Aum. Shanti, shanti shanti.

[ Aum. Lead me from unreal to real; lead me from darkness to light; lead me from death to immortality. Aum… peace, peace, peace.] — Brihadaranyaka Upanishad 1.3.28

 

২. “He who sees all beings in his Self and his Self in all beings, he never suffers; because when he sees all creatures within his true Self, then jealousy, grief and hatred vanish.”

Paramananda, The Upanishads

৩. “Who is better able to know God than I myself, since He resides in my heart and is the very essence of my being? Such should be the attitude of one who is seeking.”

Paramananda, The Upanishads

৪. “God is, in truth, the whole universe: what was, what is and what beyond shall ever be. He is the God of life immortal and of all life that lives by food. His hands and feet are everywhere. He has heads and mouths everywhere. He sees all, He hears all. He is in all, and He Is.”

Anonymous, The Upanishads: Translations from the Sanskrit

৫. “You are what your deep, driving desire is. As your desire is, so is your will. As your will is, so is your deed. As your deed is, so is your destiny.”

The Upanishads

৬. “materialism leads us to lose awareness of our inner life, which is bad enough; but to be hypnotized by our own feelings and sensations and forget about others and the world around us is worse.”

The Upanishads

৭. “He who perceives the Self everywhere never shrinks from anything, because through his higher consciousness he feels united with all life. When a man sees God in all beings and all beings in God, and also God dwelling in his own Soul, how can he hate any living thing? Grief and delusion rest upon a belief in diversity, which leads to competition and all forms of selfishness. With the realization of oneness, the sense of diversity vanishes and the cause of misery is removed.”

Paramananda, The Upanishads: Isha, Katha and Kena Upanishads

৮. “There is enough in the world for everyone’s need; there is not enough for everyone’s greed.”

Anonymous, The Upanishads

৯. “The little space within the heart is as great as the vast universe.

The heavens and the earth are there, and the sun and the moon and the stars. Fire and lightening and winds are there, and all that now is and all that is not.”

Prabhavananda, The Upanishads: Breath from the Eternal

 

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য