Main menu

ম্যাসোকিস্ট ফরহাদে ক্যাথারসিস পাইবেন, রাস্তা তত না

আশুরার তাজিয়া মিছিল বা চড়ক পূজা খেয়াল করে দেখেন, পেইনের লগে মানুষের রিলেশনের একটা ভার্সন পাইবেন। সাইকিয়াট্রি এগুলিরে বলবে ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার'; কেননা, সাইকিয়াট্রি খুবই ইউরোসেন্ট্রিক, ফলে বোঝে কম। বাট ‘ডিজায়্যারিং পেইন’-এর একটা ভার্সনকে আমেরিকার সাইকিয়াট্রি নর্মাল হিসাবে রিকগনাইজ করলো ১৯৮০’র দশকে; আগে ফ্রয়েড যেইটারে ‘প্যাথলজিক্যাল’, মানে পারভার্সন বলে মত দিছিলেন।

আমেরিকার সাইকিয়াট্রি রিকগনাইজড ঐ ‘ডিজায়্যারিং পেইন’ সেক্সুয়াল ডিজায়্যারের একটা ধরন; নাম হিসাবে বলা যাইতে পারে বিডিএসএম [BDSM: An overlapping abbrevation of Bondage and Discipline (BD), Dominance and Submission (DS), Sadism and Masochism (SM). ] বা স্যাডো-ম্যাসোকিজম [sadomasochism: The obtaining of sexual pleasure from sadism (= hurting other people) and from masochism (= being hurt)]।

দেখা যাইতাছে, একটা নর্মাল সেক্সুয়াল প্রাকটিস হিসাবে স্যাডো-ম্যাসোকিজম বুঝতে পারলো সাইকিয়াট্রি, বাট তাজিয়া মিছিল বা চড়ক পূজারে বলবে ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’/পারভার্সন–কিছু একটা মিস করলো কি সাইকিয়াট্রি? হ, আধ্যাত্মিকতা মিস করছে; তাজিয়া মিছিলে নিজের পিঠে চাবুক মারার পেইন আর রক্ত রিলিজিয়াস, শোককে আধ্যাত্মিক করে তোলা; বা চড়ক পূজায় নিজের পিঠের চামড়ায়  লোহার হুক ঢুকাইয়া নিজেরে ঝুলাইয়া রাখার পেইনের ভিতর দিয়া শিবের কাছে নিজেরে নিবেদন করতাছে ভক্ত; বছরের একটা দিনের ঐ পেইন খুবই আধ্যাত্মিক দরকার তাগো। মে বি, এইগুলি রিলিজিয়াস বলেই ‘পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার’।

ওদিকে, স্যাডো-ম্যাসোকিস্টিক সেক্সের বেলায় সারা বছর নিজের বডিতে নিউমারাস আঘাতের পেইন হতে প্লেজার ডিরাইভ করাটা নর্মাল, পার্টনারকে পেইন দেবার মিউচুয়াল স্যাডিজমও; কেননা, সেটি সেক্স, আধ্যাত্মিক নয়। অথচ ইউরোপে ‘ডিজায়্যারিং পেইন’ মে বি আধ্যাত্মিকতা থেকেই শুরু; বলছি, ক্রুশে পেরেক দিয়া আটকানো জেসাসের কথা; খ্রিস্টান থিওলজি মোতাবেক, ক্রুশের ওই পেইন জেসাসের ডিজায়্যার, এর ভিতর দিয়া নিজের উম্মতের পেইন নিয়া নিতাছে জেসাস। পসিবলি, ইউরোপের মডার্নিটি ‘ডিজায়্যারিং পেইন’-এর লগে জেসাস সেন্ট্রিক ঐ আধ্যাত্মিকতার বিচ্ছেদ ঘটাইয়া দিছে; ফলে, আধ্যাত্মিকতা বুঝতে পারতাছে না সাইকিয়াট্রি।

আধ্যাত্মিকতার এই অভাব যে ইউরোপ-আমেরিকায় কেউ টের পাইতাছে না বলা ঠিক হবে না; হলিউডের ম্যাট্রিক্স সিনামার কথা মনে করতে পারি আমরা; এই সিনামায় ‘বিলিভিং’-কে সবচে দরকারি জিনিস হিসাবে দেখায়, ‘বিলিভিং’-কে বানাইয়া তোলে ফ্রিডমের প্রি-রিক্যুইজিট; হলিউডের বহু সিনামায় গত কয় বছর ধরে দেখতাছি, ‘ল্যাক অব বিলিভ’-কে ওরা দেখাচ্ছে ওদের ক্রাইসিস এবং পরাজয়ের কারণ হিসাবে।

তো, ঐ সাইকিয়াট্রির বোঝাবুঝি দিয়াই যদি বোঝার ডিসিশন নেই তাইলে তাজিয়া মিছিল বা চড়ক পূজারে আমাদের মনে হবে স্রেফ মর্ষকাম; এপিস্টেমোলজিক্যাল এমন অনুবাদ করেই থাকি আমরা, কলোনিয়াল এডুকেশনে থাকি বা আছি বলে; এমন অনুবাদের ভিতর দিয়া আমরা আধ্যাত্মিকতা খোয়াইয়া ফেলি; এমন অনুবাদে হ্যাবিচুয়েটেড বলেই দায়িত্ব বলতে ‘জব রেস্পন্সিবিলিটি’র বাইরে কিছু বোঝা কঠিন হইয়া ওঠে, ‘হক’-এর মিনিং বড়োজোর ইংরাজি ‘right’, তাও কম্যুনাল চুজিং-এর ফলে হক কইতে পারি না, অধিকার কওয়া লাগে; এমন অনুবাদ করতে থাকি বলেই ট্রাক্টরের জমানায় গরু পালা ইর‍্যেশনাল লাগে, গোবর হইয়া পড়ে গরুর গু; ইন্টারেস্টিংলি, জবরদখলদার এরশাদ লাঙল মার্কার পলিটিক্যাল পার্টি বানাইতে বানাইতে ট্রাক্টরের ডেভলাপমেন্ট দিয়া লাঙল বানাবার বিদ্যা অদরকারি কইরা তোলে, রাস্তাঘাটে খেজুরগাছ সহ্য হয় না আমাদের, কাইটা ফেলি–মেহগনি গাছের খাটে শুইয়া কেবল খোয়াবের ভিতর খেজুরের রস খাই।

ঐ কলোনাইজড মনের এখন শেখা দরকার–হাউ টু আনলার্ন, আধ্যাত্মিকতার পিছায় সাফসুতরো হওয়া দরকার আমাদের, র‍্যেশনালিটি আইডিয়াটার ভিতর একটু পীরিত ইনজেক্ট করা দরকার; এইখান থেকেই শুরু হৌক পোস্ট কলোনিয়াল থিঙ্কিং।

বাট কেমনে করবো আমরা, বাছবিচারে ক্যাপাবল একটা সেলফ্ কেমনে বানাবো নিজের ভিতর? সেই কলোনিয়াল মাস্টারমাইন্ড তো সেই একই প্রজেক্টের নতুন ধাপে এখন ডি-কলোনাইজিং শিখাইতাছে! সাবধান থাকা দরকার আমাদের।

সাবধান না হইলে কি হইতে পারে সেইটা বোঝার জন্য কেসস্টাডি হিসাবে ফরহাদ মজহারকে ইউজ করতে পারেন। পোস্ট-কলোনিয়াল থিঙ্কিং-এ আগ্রহ আছে ওনার, উনি ভাবেন–আই অ্যাডমিট।

কয়দিন আগে সিলেটে রাজনরে পিটাইয়া মারলো কয়েকজন ফেলো বাঙালি, ফরহাদ মজহার রিঅ্যাক্ট করলেন ঈদ নাগাদ–কবিতা লিখলেন একটা। কবিতাটা পড়লে ওনার পোস্ট-কলোনিয়াল থিঙ্কিং কসরত বুঝবেন এমনেই। উনি লিবারাল মানবতাবাদী সেক্যুলার রিঅ্যাকশন এড়াইছেন, এই ব্যাপারটাই মে বি বহু রিডার সেলিব্রেট করছেন ফেসবুকে; মোসলমানদের পদ ও রব দিয়াই ওয়াজ করছেন উনি, বানাইছেন ওনার পোয়েট্রির ভাব জাল।

কবিতায় উনি লোহার খুঁটিতে নিজেরে বাইন্ধা শক্ত রড দিয়া পিটাইয়া নিজের হাড় গুঁড়া কইরা ফেলতে চাইছেন, নিজের হার্ট ঝুলাইয়া রাখতে চাইছেন ঈদগাহের ময়দানে, পানি না খাইয়া পিপাসার পেইন পাইতে চাইছেন–রাজন হত্যার রিঅ্যাকশন ওনার এগুলি। পড়েন একটু (পুরা কবিতা: https://web.facebook.com/notes/farhad-mazhar/10153499299120742 ):

 

...যেন আমি নিজেকে বাঁধতে পারি একটি লোহার খুঁটির সঙ্গে

তারপর একটি শক্ত লোহার রড দিয়ে পেটাতে পারি অবিরাম

যতক্ষণ না আমার হাড় পাটকাঠির মতো ভেঙে যায়

আর মাংসগুলো থেঁতলে যায় মসলা ছাড়া কাবাবের মতো।

এসব লিবারাল মানবতাবাদী নয় বটেই; বাট তাই কি? এগুলি সেক্সুয়ালিটি রিলেটেড হইলে লিবারাল মানবতাবাদী হইতেই পারে বটে; তখন এই কবিতারে বলা যায়, ‘ম্যাসোকিস্টিক মাস্টারবেশন’। এইখানে সেক্সের ইনটেনশন হিসাবে অর্গাজমে থাইমা গেলে বুঝতে অসুবিধা হবে আপনাদের; মে বি, স্যাডো-ম্যাসোকিজম আপনার মাঝে অত নাই বলে বুঝতে পারতাছেন না। বিডিএসএম প্রাকটিস/পারফর্ম করে এমন একজন যেমন বলতাছিলেন নিজের এক্সপেরিয়েন্স নিয়া:

A good scene doesn’t end with orgasm—it ends with catharsis.

রাজন হত্যায় আমরা যারা জনাব ফরহাদের মতোই মেজাজ-গরম দশায় আছি, সত্য সত্যই তাগো রিলিজের রাস্তা নাই দেশে; অন্যরে টর্চার করায় এন্টারটেইন্ড হওয়া এই দেশ আর সমাজে আমাদের মন ভরা থাকে ক্ষোভ, উপশমের পথ নাই আসলেই; জনাব ফরহাদ আসলেই আমাদের তাবত রিলিজের এন্তেজাম কইরা দেন, ক্যাথারসিসের দিকে নিয়া যান আমাদের কবিতার ভিতর দিয়া, ওনার ক্যাথারসিস ঘটে নিজের পিটানি খাইয়া–ঈদগাহের ময়দানে, পড়তে পড়তে ক্যাথারসিস ঘটে ভক্ত রিডারের। আরেকটু পড়েন:

ঈদুল ফিতর, আমি কাল আমার হৃদপিণ্ড ঝুলিয়ে রাখব ঈদ্গাহ ময়্দানে

নামাজ শেষে মুসল্লিরা দেখবেন কিভাবে শয়তানের সঙ্গে আমরা হৃদপিণ্ড বদল করেছি

তারা ঝুলে থাকবে কাল এবং পরশু এবং তার পরদিন ও প্রতিদিন…

 

আপনাদের ঐ ক্যাথারসিসের পরে যদি আবার পড়েন–অবসাদ লইয়া, তাইলে টের পাইবেন, রাসুল-কেয়ামত-ফোরাত-ঈদ স্রেফ রব হিসাবেই আছে, ঐ কবিতায় কোন আধ্যাত্মিকতা নাই; আশুরা বা চড়কের নিবেদন নাই এই কবিতায়, সেক্যুলার চিন্তার আর্থলি পোয়েম এইটা, রাজনৈতিক অপারগতা থেকে পয়দা হইছে। সেই কারণেই এরে ম্যাসোকিস্টিক মাস্টারবেশন বলাটা লজিক্যাল হয়।
রাজনের হত্যায় আমাদের গ্লানি হয়, রাজনৈতিক কর্তব্য তৈরি হয়; বাট জালিম থাকতেই থাকে বহাল তবিয়তে; এই স্টেটের সকল টর্চার-মেকানিজম বহাল থাকে, সমাজে নায়ক হইয়াই থাকতে থাকে জালিম; গ্লানি বাড়ে আমাদের। একটু ফুসরত পাই না আমরা, এভারলাস্টিং সাপ্রেশনে থাকতে হয় আমাদের। রেভ্যুলুশন দূরের কথা, আমরা যে সেই রাস্তায় আছি সেইটাও টের পাওয়া যায় না প্রায়!

ইত্যকার গ্লানি আর অপারগ-অসহায় দশায় পোস্ট-কলোনিয়াল থিঙ্কিং করতে চাওয়া আমরা সাবধান না থাকলে ডিপ্রেশড হইয়া পড়তে পারি; বড় একটা পাথর ঠেইলা সারাদিনে যদি একচুলও সরাইতে না পারি তাইলে পদার্থবিদ্যা বলবে কোন কাম হয় নাই; এহেন পদার্থবিদ্যা দিয়া সমাজ-কালচার বুঝতে থাকলে আমাদের চিন্তা আর দাপাদাপিতে সমাজ-কালচারের মাইক্রো সব চেঞ্জ টেরই পাবো না, আমরা ম্যাক্রো সরণের বাইরে কিছুই মালুম করতে পারবো না; ছোট্ট এই জিন্দেগিতে রেভ্যুলুশন নামের ম্যাক্রো সরণ দেইখা মরার লোভ পাইয়া বসবে আমাদের; জনাব ফরহাদের মতো গড় আয়ু পার হইবার পরেও রেভ্যুলুশনের লেজও দেখতে না পাইয়া গ্লানি আরো বাড়বে, ইউরোপের শেখানো ডিপ্রেশন পাইয়া বসবে আমাদের। পোস্ট-কলোনিয়াল থিঙ্কিং-এর ডিজায়্যার লইয়া আপনে তখন ইউরোপের ডিজগাইজড ডেলিগেট জনাব ফরহাদের লগে স্যাডো-ম্যাসোকিজম করা শুরু করতে পারেন, প্রবর্তনার ঠিকানা জানা তক ম্যাসোকিস্টিক মাস্টারবেশন করবেন মে বি।

স্যাডো-ম্যাসোকিজম বা ম্যাসোকিস্টিক মাস্টারবেশন খারাপ, অ্যাবনর্মাল–এমনটা বলার ইনটেনশন নাই আমার; কোন একটা সমাজে/কালচারে থাকা বিভিন্ন জিনিসের রিলেশনটাই স্রেফ বুঝতে চাই আমি; আমি বুঝতে চাই, ইউরোপের কলোনিয়াল টর্চারের লগে এখনকার স্যাডো-ম্যাসোকিজমের কোন রিলেশন আছে কিনা, যেই ভাববিশ্ব কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প বানায় তার লগে ম্যাসোকিস্ট এবং স্যাডিস্ট কালচারের কি রিলেশন। কোনটা চাই আর কোনটা চাই না–সেইটা ডিসাইড করতে যারে চাই না, তারে খারাপ ভাবার, ঘেন্নার দরকার হয় না; আমি জেরিকে লাইক করার পরেও ইন্দুর না খাইয়াই এ জিন্দেগি কাটাইয়া দিতে চাই।
এই সিনামাটা দেখতে পারেন, টর্চার জাস্টিফাই করাটা কেমনে ঘটতাছে হলিউডে–বুঝতে।
বাট এইটা কেবল ম্যাসোকিজম হইলে তত ভাবনার ব্যাপার হইতো না; খেয়াল করেন, এই কবিতা পলিটিক্যাল অপারগতা হতে যেই টর্চারের এসথেটিকস প্রোপোজ করে সেইটা ক্যাপাবল হইয়া উঠতে চাওয়া আসলে, প্রাকটিসের ভিতরে থাকা, যাতে ক্যাপাবল হইয়া ওঠার পরে জালিমরে এফেক্টিভ টর্চার করতে পারেন। বডির কোন জায়গায় মারলে কেমন পেইন হয় সেইটা জানতাছেন আপনে, হোমওয়ার্ক কইরা রাখতাছেন এনাফ। টর্চার আর এন্টারটেইনমেন্টের রিলেশন রপ্ত করতাছেন।

দ্যাখেন, এই এন্টারটেইনমেন্ট, টর্চারের এই এসথেটিক্স রাজনের খুনীদের থেকে কতটা তফাতে থাকতে দেয় আপনারে? পসিবল রেভ্যুলুশন আর টর্চার করতাছেন আসলে জালিমরেই–এই ভাবনা কি জাস্টিফাই করতে পারতাছে আপনারে? প্রেজেন্ট সিস্টেমের কালচারাল সল্যুশন হিসাবে টর্চারকেই যদি ডিসকভার করলেন জনাব ফরহাদের কাছে শিখে শিখে, তাইলে কেমন রেভ্যুলুশন করতে যাইতাছেন আপনে? জালিমরে টর্চারেই ঘটবে নাকি আপনের পোস্ট-কলোনিয়াল থিঙ্কিং-এর কমপ্লিট ক্যাথারসিস?

২৪ জুলাই, ২০১৫
আগের/পরের পর্ব<< ডিলিং উইথ সোসাইটি: কোলকাতা, মুম্বাই আর ঢাকা
শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য