Main menu

মানুশে কতোটা ভরশা রাখা জায়?

মানুশের ব্যাপারে দুনিয়ায়, কোন কোন চিন্তার ইশকুলে, একটা অতি ভরশা আছে। বেশ দুরের দুরের মনে হয়, তেমন কতগুলা চিন্তার ইশকুলেই এই একই জিনিশ আছে!

বলশেভিক বিপ্লবিদের ব্যাপারে ভাবেন, বা কমুনিস্টদের ব্যাপারেই; একটা কমুনিস্ট বিপ্লবের পরে একটা দেশের বেশির ভাগ মানুশ পাট্টির বাইরে, হয়তো ১% মানুশ পাট্টির মেম্বার, বাকিরা তাইলে শাশিত মানুশ, পাট্টির শাশনে আছেন তারা। শাশন চলতে চলতে হয়তো ১% থিকা ৫% হইলো মেম্বার। এই জে বাড়তি ৪%, এনারা পাট্টিতে কেন গেলেন বিপ্লবের পরে? ধরলাম ২% গেছেন বিপ্লবের চিন্তায় মজে, তারা বুঝতে পারছেন জে, এই শাশন আগের বা আর শব শাশনের চাইতে ভালো; বাকি ২% গেছেন হয়তো ছেরেফ শাশনের শরিক হবার মজায়! তারা দেখলেন জে, শাশকের শরিক হইতে পারলে তাগো মওকা বেশি হয়, পাওয়ার এনজয় করেন তারা। বাংলাদেশে জেমন আরামে রেপ বা পাবলিকের পয়শা ডাকাতি করতে চাইলে লোকে বাকশালে জয়েন করে! তাইলে পাট্টির ৩% ধরলাম খাশ দিলে পাট্টি করতেছেন শুরুর দিকে, তাগো খোয়াব হইলো, একটা ভালো শমাজ বানানো, জেইখানে গোলামি থাকবে না, মানুশ শুখি হবে।

তো, শাশন চলতে চলতে ঐ ৩% মানুশের মনের কেমন বদল হবে, তা জানার উপায় নাই। আমরা জদি ‘পাওয়ার মানেই জুলুমের শম্ভাবনা’ ধরি, তাইলে ঐ ৩%, মানে পাট্টির ৬০% মেম্বারের ভিতর কেউ কেউ জুলুম করবে না, করবার কথা ভাবা শুরু করবে না, তার গেরান্টি কি? নাই আশলে। লগে ঐ ২%, মানে পাট্টির ৪০% ধান্দাবাজ মেম্বার তো আছেই।

ইতিহাশে জতোগুলা কমুনিস্ট বিপ্লব হইছে, তাতে কোথাও পাট্টির কন্টোলের বাইরে কিছু পাই নাই আমরা ঐ ঐ দেশে। পাট্টির লোকেরা, মানে জনতার মাত্র ৫% লোক শব কিছু কন্টোল করে, ৯৫% মানুশের বাস্তব কোন পাওয়ার নাই, কোন ব্যাপারেই তাদের নারাজ হবার কোন রাস্তা নাই; পাট্টির কেউ জুলুম করলে তার বিচার করবে পাট্টি নিজেই, ঐ ৯৫% মানুশের কেউ না; দেশে আর কোন পাট্টি নাই; পোরলেতারিয়েতেরই তো আরেকটা পাট্টি থাকতে পারতো, ইলেকশনের ভিতর দিয়া আরেকটা পাট্টি কমুনিস্ট শাশনই চালাইতে পারতো, কমুনিস্ট রাশ্টের মুছাবিদা বা কন্সটিটুশন মোতাবেক, জেই মুছাবিদা ঐ দুই পাট্টি মিলেই বানাইছে! বা ধরেন, পোরলেতারিয়েতের ভিতর পোরলেতারিয়েত হইলো মাইয়ারা, দেশের মাইয়াদের আরেকটা কমুনিস্ট পাট্টি থাকতে পারতো, কিন্তু তেমন কিছু ইতিহাশে পাই নাই আমরা। দেশের ইনছাফ বা জাস্টিস ছিস্টেম ঐ ১টা পাট্টিরই কন্টোলে, পুলিশ, আর্মি, এন্টি-করাপশন–শবই ঐ ১টা পাট্টিরই কন্টোলে, ১০০%; আবারো মনে করাইয়া দেই, এই পাট্টিটা কিন্তু জনতার মাত্র ৫%, জাদের ভিতর আবার ৪০%+ হইলো ধান্দাবাজ, পাট্টি খমতা দখলের পরে এই ৪০% জোগ দিছে পাট্টিতে!

তাইলে, এই কমুনিজমের হিশাবটা কি খাড়াইলো? ছিম্পল; পাট্টির উপরে নজর রাখার কোন দরকার নাই, পাট্টি অটোমেটিক ভালো, এই মানুশগুলার কোন একাউন্টেবিলিটি দরকার নাই, এরে দেখভালের জন্ন পাট্টির আওতার বাইরের কোন ছিস্টেম দরকার নাই। পাট্টির থিংকার/ভাবুক/বয়াতিরা ধইরাই লইলেন জে, খোদ পাট্টি জুলুম করবে না কখনো! তেমন জদি না ধরতো তাইলে তো পাট্টি দেখভালের একটা টেকশই ছিস্টেম বানাইতো, পাট্টির কন্টোলের বাইরে, রাশ্টের মুছবিদায় জেইটা মজবুত পাটাতনে খাড়াইয়া থাকবে। কোন ভরশায় এমন করলো তারা? মানুশের উপর এতো ভরশা কেমনে গজাইলো তাগো ভিতর? ইতিহাশে কমুনিস্টদের ভিতর এই এক মজার ব্যাপার; কেপিটাল শমাজে হারমোনির গান গায়, আর মার্ক্স গাইছেন ডায়ালেক্টিক্সের গান; কিন্তু আজব ব্যাপার হইলো, কেপিটালিস্ট বইলা জেই রাশ্টোগুলারে কমুনিস্টরা গালি দেয়, শেইগুলায় শাশনের তরিকার ভিতর হরেক ডায়ালেক্টিক্স পাইতেছি আমরা–পেছিডেন, পার্লামেন্ট, লোকাল গভমেন্ট, জাস্টিস ছিস্টেম, ইলেকশন কমিশন, এন্টি-করাপশন ইত্তাদির কতগুলা কন্ট্রাডিকশনের ভিতর দিয়া এই ছিস্টেমগুলা কাম করে, এর অনেকখানি লোকদেখানো হইলেও কতক ডায়ালেক্টিক্স আছে, আর কিছু না থাকলেও পোস্টে পোস্টে থাকা লোকগুলার ইগো আছে, তাগো জেলাসি বা হিংশা আছে অন্তত! কিন্তু ডায়ালেক্টিক্সের গান শোনানো কমুনিস্টরা বিপ্লবের পরে শকল ডায়ালেক্টিক্স খতম করতে থাকলো, দরকারে পাইকারি খুন করলো, টর্চার চেম্বারে ঢুকাইলো শকল ডায়ালেক্টিক্স!

জাই হোক, এইটারেই কইলাম, মানুশের উপর অতি ভরশা, পাট্টির মানুশ মেম্বারদের উপর ১০০% ভালোতার ভরশা করলো কমুনিজম! বাস্তবে জদি দেখেন, তাবত মাকলুকাতের ভিতর মানুশের মাঝে বদলের শম্ভাবনা শবচে বেশি! মানুশ শবচে বড়ো শয়তান জেমন হইতে পারে, শবচে ভালোও হইতে পারে; আর শব মাকলুকাত ভালো-খারাপের ‘জিরো’ ভেলুর খুব কাছাকাছি থাকে, কিন্তু মানুশ মাইনাস ইনফিনিটি বা শবচে খারাপ থিকা পেলাস ইনফিনিটি বা শবচে ভালো হইতে পারে; টর্চার কইরা মজা পাইতে পারে মানুশ, ছ্যাডিজম একান্তই মানুশের ফিচার, আর কোন মাকলুকাতের নাই; আবার আর কোন মাকলুকাত আরেক মাকলুকাতের ভাংগা পা জোড়া লাগাইয়া দেয় না (বিলাই বা কুত্তার জেমন শেবা করে মানুশ), এমনকি নিজের অক্ষম বাছুরকেও ফালাইয়া পালের লগে চইলা জায় মা গরু! কলোনিয়াল কলিকাতার ইয়ং বেংগলদের দেখেন, তুমুল নাস্তিকেরা পরে হইলেন তুমুল গোড়া ধার্মিক, বিবেকানন্দের জিন্দেগির বদলগুলা খেয়াল করেন। বা ধরেন তলস্তয়, তুমুল বদমাইশ থিকা পাক্কা খিরিস্টান, জিনি এমনকি নিজের আন্না কারেনিনা নভেলটারেই কইছেন পরে ‘পাপ’! বা ধরেন রোমান্টিক পেইন্টার/আর্টিশ হিটলার পরে কি হইলেন? অথচ মানুশের এই বেশুমার শম্ভাবনা হিশাবেই রাখলো না কমুনিস্ট বিপ্লবিরা!

মানুশের উপর এই অতি ভরশাই আবার আপনে পাইবেন ছুফিজমে! কেমনে? পড়েন।

ধর্মগুলায় গড়পরতা হিশাবে খোদার লগে মানুশের রিশতা কেমন? মানুশ হইলো খোদার বান্দা আর বান্দি, গোলাম, খোদা হইলেন মালিক; আর কারো গোলাম হইতেই পারবেন না আপনে, কেননা, খোদা ছাড়া কোন শাচ্চা মালিক নাই! খোদা মানুশকে তারে ডরাইতে কইতেছেন, কাউকে শরিক করতে মানা করতেছেন, এবাদত-বন্দেগি করতে কইতেছেন, নাইলে শাজা দেবেন। ছুফিজম এইখানে খোদার লগে মানুশের পিরিতের কথা কইতেছে। খোদার লগে পিরিত করবে মানুশ, এই রিশতায় ডরের কোন মামলা নাই।

গত কয়দিনে বয়াতি ফরহাদ মজহার কোরবানি লইয়া কিছু কথা তুলছেন, কিছু পুরান কথা, কতক নয়া বয়ানও থাকা শম্ভব। উনি নিজেরে ঠিক ছুফি বইলা পরিচয় দেন না তেমন, কিন্তু কোরবানি লইয়া ওনার বয়ানটা খেয়াল করলে দেখবেন, উনি খোদারে ঠিক হজরত ইব্রাহিমের মালিক হিশাবে দেখতে নারাজ, খোদার অডার পালন করতেছেন উনি, শেই অডার মোতাবেক নিজের পোলারে কোরবানি দিতে নিছেন, এইটা মজহার বয়াতির নজরে বেখাপ্পা ঠেকতেছে, খোদারে অমন ডরাবার মতো নিঠুরিয়া কোন বস হিশাবে দেখতে মানা করতেছেন। এইটারই উল্টা পিঠ হইলো, হজরত ইব্রাহিমের ফিরি উইল, শাধিন চিন্তা এবং জারে কোরবানি দেবেন শেই ইসমাইলের লগে কোরবানির ব্যাপারে আলোচনা কইরা ডিছিশন লওয়া।

মজহার বয়াতির বয়ানের ছেন্টার হইলো ঐটা, কিন্তু শেইটা খাড়াইতেছে ওনার করা কোরানের তাফছিরের ভিতর দিয়া। আরেকটা তাফছির পয়দা করার হিম্মত নাই আমার, বরং ওনার এবং আরো জেই কয়টা তাফছির চোখে পড়লো এই উছিলায়, শেই তাফছিরগুলার একটা দিকে নজর দিবো একটু।

মজহার বয়াতির তাফছিরের শুরু হইতেছে হজরত ইব্রাহিমের খোয়াবের ঘটনা দিয়া। খোয়াবের ব্যাপারে পচ্চিমা চিন্তা জদি খেয়াল করেন, দেখবেন জে, ঘুম হইলো দুনিয়ার লগে আপনের শুতা বা বন্ডগুলা মুলতবি হইয়া পড়া; অন্নের লগে আপনের ‘ছাসপেনশন অব কমুনিকেশন’ হইলো ঘুম, আপনের আনকনশাসে ডুব দিলেন আপনে, তারপর আপনের ঘুমের ভিতর আপনার শেই আনকনশাসের কায়কারবার হইলো আপনের খোয়াব! ঘুম ভাংলে, দুনিয়ার লগে আপনের কানেকশন আবার তাজা হবার পরে আপনের শেই খোয়াব বা আনকনশাসের কায়কারবার মনে থাকতেও পারে, নাও পারে!

ওদিকে, ওহি হইলো একটা কমুনিকেশন, শেই হিশাবে জাগনা থাকার ঘটনা হবার কথা, অন্তত ঐ পচ্চিমা চিন্তা মোতাবেক! এইখানে খেয়াল করেন, মজহার বয়াতি হজরত ইব্রাহিমের খোয়াবকে দেখতেছেন তার নিজের আনকনশাসের কায়কারবার হিশাবে, জেইটা কিনা ঐ ‘ছাসপেনশন অব কমুনিকেশন’-এর লগে খাপ খাইতেছে! মানুশের শিমানা খোদায় দেখতেছেন জেন উনি! অথচ খোয়াবকে ওহি হিশাবে দেখা তাফছিরকে উনি কইতেছেন বাইবেল এবং পচ্চিমের আছরের ফল! জেইখানে কিনা পচ্চিমা চিন্তায় আমরা দেখতেছি, খোয়াব হইলো বেক্তির নিজেরই আনকনশাসের কায়কারবার! এদিকে, খোয়াব বা শপ্নের ভিতরে অন্নের লগে কমুনিকেশনের দাবি/ভাবনা পুবেই বেশি পাইতেছেন; মধুমালা-মদনকুমারের একটা গানও মনে পড়তেছে এই উছিলায়, ‘আমি শপ্নে দেখলাম মধুমালার মুখ, শপ্ন জদি মিত্থা হইবো, হাতের আংটি কেন বদল হইবো…’! মানে হইলো, হজরত ইব্রাহিমের খোয়াবকে ওহি হিশাবে পড়া শম্ভব কেবল পচ্চিম এড়াইয়া থাকতে পারলেই, জেইটা মজহার বয়াতি পারলেন না, বরং পারলেন আর শব তাফছিরকার! তবে পচ্চিমে মনে পড়তেছে, কয় বছর আগে নোলানের ‘ইনছেপশন’ ছিনামার কথা, জেইখানে খোয়াবের ভিতর কমুনিকেশনের একটা ফিকশনাল রিয়ালিটির দেখা পাইতেছি!

তবে, খোয়াবের ব্যাপারে ঐ পচ্চিমা চিন্তা তো খুবই হাল জামানার, মজহার বয়াতি নিজের লেখায় বাইবেলের নকল করা তাফছিরের কথাই বেশি কইছেন। কিন্তু বাইবেলের আছরের বদলে মজহার বয়াতি বা হালের পচ্চিমা চিন্তার আদলে খোয়াবকে না দেখলেই ঐ শব তাফছির পাওয়া শম্ভব! আর শব তাফছিরকার তাই করছেন আশলে; ঐ ঘটনার পরে হজরত ইব্রাহিমের লগে খোদার কমুনিকেশন এবং খোদা জেইভাবে শাড়া দিলেন তাতে আর শব তাফছিরকার ইব্রাহিমের খোয়াবকে খোদার ওহি হিশাবে পড়তেছেন! তারা এমনে পড়তে পারতেছেন কারন তারা মজহার বয়াতির মতো খোদারে মানুশের পারা না পারার শিমায় আটকাইয়া ফেলেন নাই; খোদা তাগো কাছে চোখের পলকে শব কিছু পারা এক কনশাছনেস, মানুশের আন্দাজেরও বাইরে!

তবে, এই ব্যাপারটা মজহার বয়াতির বয়ানের ডাল-পাতা মাত্র, এইটা লইয়া হালকা মশকরা করতেই পারি আমরা, কিন্তু তাতে মজহারের বয়ানের জবাব দেওয়া হয় না আদৌ! বা শেখ সাদ্দাম হোসেন নামে আরেক বয়াতি জেমন কইলেন জে, মজহার নাকি ইসমাইলের লগে ইব্রাহিমের আলোচনা এবং ইসমাইলের কবুলিয়তকে উপ্রে তুইলা ধরতেছেন–এইটাও মজহারের বয়ানের ছেন্টার না। এগুলা ভনিতা, এগুলা শুরুতে বিছাইয়া মজহার তার বয়ানের বিছানা বানাইতেছেন, তার আশল বয়ান হইলো, খোদার লগে মানুশের রিশতা। অন্ন তাফছিরগুলায় জেমন মালিক-বান্দা রিশতা হাজির করতেছে, হজরত ইব্রাহিমকে খোদার গোলাম হিশাবে দেখতেছে, মজহার বয়াতি তার বদলে ইব্রাহিমকে দেখতেছেন ফিরি উইল থাকা একটা কনশাছনেস হিশাবে জিনি কিনা খোদার পেমে পড়ছেন, খোদার পেমেই উনি নিজের খোয়াবকে খোদার ইচ্ছা হিশাবে পড়তেছেন! খোদা আশলে অডার দেন নাই, শেইটা ইব্রাহিমের খোয়াবে খোদার ঢোকার শম্ভাবনা নাই বইলা না, বরং খোদা তো অমন নিঠুরিয়া হইতেই পারেন না, তাই পোলা কোরবানির কোন অডার দেন নাই খোদা!

তো, ঐ পেম নিয়া পরের আলাপে জাবার আগে ইব্রাহিমের ঐ কাহিনির বোঝাপড়ায় একটু জোগ করি আমিও, একটু নাহক হিম্মত দেখাই, শকলের কাছে আগেই মাফও চাইয়া লইতেছি! মানে কইতেছিলাম কি, ইব্রাহিমের আগে পরে মানুশ কোরবানি দেবার ব্যাপারটা বহুত ধর্মেই দেখা গেছে। ঐ কাহিনিতে আশলে হজরত ইব্রাহিমের ভিতর দিয়া ঐ মানুশ বলি দেবার ব্যাপারটা রদ হইলো! শেই শব ধর্মের খোদার মতো না ইব্রাহিমের খোদা, শেইটাই ইব্রাহিম/মানুশকে দেখাইলেন ইব্রাহিমের খোদা!

ধর্ম এবং ধর্মের ভিতর দিয়া খোদা কি করতে চাইতেছেন তা খোদাই ভালো জানেন, কিন্তু দুনিয়ায়, মানুশের জিন্দেগিতে, শমাজে ধর্মের পাট কি, কি কি কাম করে, শেইটা কিছু হিশাব করতে পারি আমরা। শমাজে, মানুশের মাঝে শাশনের একটা ছিস্টেম বা তরিকা হিশাবে কাম করতেছে ধর্ম; কেরাইম এবং পানিশমেন্ট/শাজার একটা বয়ান হাজির করতেছে, ইনছাফের খেলাপ করা মানুশকে ডর দেখাইতেছে, ইনছাফ কায়েমে গররাজি মানুশকে বাদ্ধ করার চেশ্টা চালায় ধর্ম; এই ছিস্টেমটা বহাল রাখতে খোদার মালিক হইতে হয়, মানুশেরা বান্দা বা গোলাম। এই ছিস্টেমের বদলেই মজহার বয়াতি পেমের বয়ান দিতেছেন। মজহার বয়াতি নিজেরে ছুফি হিশাবে পরিচয় না দিলেও এই পেম ছুফিবাদের একটা মোদ্দা কথাই!

কিন্তু আলাপটা ওনার ছুফি হওয়া বা না হওয়া লইয়া না, খোদ ছুফিবাদ লইয়াও না, আমাদের ভাবতে হবে, একটা ভায়াবল ছিস্টেম হিশাবে পেম কেমন, পেম দিয়া শমাজ, মানুশের জিন্দেগি চলতে পারে কিনা। এইখানে মনে পড়লো একটা ছেমিনারের কথা, ২০১০ শালের মনে হয়; তখন ঢাকা ভার্ছিটিতে একটা ছেমিনার ( https://cutt.ly/FQuGXSA )হইলো, ছুফিবাদ লইয়া। মজার ব্যাপার হইলো, ঐ ছেমিনারটা হইছিলো ফেরান্স এম্বেসির পয়শায়! মোছলমানদের ভিতর ছুফিবাদি নরোম মন, একটু বেভুলা, একটু বেখেয়াল পেমের আন্দাজ কইরা মোছলমানদের ভিতর ছুফিবাদের পশার ঘটাইতে চাইতেছিলো পচ্চিম। শেই পোজেক্ট এখনো আছে কিনা, জানি না। হজরত ইব্রাহিমের ভিতর মজহার বয়াতির ফিরি উইল আর খোদায় পেম দেখা, ছেরেফ গোলাম না দেখার তাফছিরে পচ্চিমের ঐ এজেন্ডা একটু হাওয়া পাইতে পারে বটে!

এখন, খোদার লগে বান্দার পেম হবার পরেও, খোদা জদি কেবলই দরদি পেরমিক হয়, তারপরও খোদা মালিকই থাকতেছেন, আর মানুশও গোলামই থাকতেছে! এইটা না দেইখা থাকতে চাইতেই পারে কেউ কেউ, কিন্তু আশল পোবলেম হইলো, এই নকশাটা জখন মানুশের শমাজে এস্তেমাল করবেন! মালিকের পোরতি পেম লেবারকে কি দিতে পারে? মালিক খোদার লগে মানুশের রিশতা পেম দিয়া দেখতে থাকার পরে দুনিয়াবি মালিক মানুশের লগে রিশতাটা লেবার আরেক তরিকায় দেখবে, শেইটা কি আশা করা ঠিক হবে? তার তুলনায় কেবল খোদার গোলাম হবার ভিতর দিয়াই আর কাউকে মালিক না ভাবার হিম্মত বেশি পাইতে পারে মানুশ!

ওদিকে, পেমও কি একটা শাশনের তরিকা? নাকি শাশনকে বেদরকার বইলা ফালাইয়া দিতে চাইবার নাম পেম? পেম জদি শাশনেরই আরেকটা তরিকা, তাইলে তো পেম জিনিশটাই কতক ভুয়া হইলো, নিজেরে ভুল বুঝাইয়া একটা হাওয়াই পেমের ভিতর থাকতে থাকা!

আবার, কেরাইম এবং শাজার ছিস্টেমকে বেদরকার ভাইবা পেমের দুনিয়া বানানো কতটা শম্ভব? এই পোশ্নের জবাব দেবার শুরুতেই আমাদের ভাবা দরকার, পেমের খাছলত কেমন দেখতেছি দুনিয়ায়, মানুশের ভিতর? বাস্তবে পেম আপনারে নিজ এবং অন্ন চেনায়; দুনিয়ায় খেয়াল করলে দেখবেন, শকল নেশনালিস্ট গান এক টাইপের পেমের গান! আমাদের নেশনাল গানটাই খেয়াল করেন। ওদিকে, ইনডিয়ায় দেখেন, বিজেপির বয়ানের ছেন্টারে পাইবেন পেম; তাদের ভারত মাতা, গরু মাতায় পেমই তাগো খুনি বানাইতে থাকে! তবে পেম তাগো বুঝায় জে, ঐগুলা আদৌ খুন না, ঐগুলা মায়ের পোরতি পেম, মায়ের ইজ্জত শামলাইয়া রাখা, মায়ের দুশমনদের শায়েস্তা করা! তাইলে দেখা জাইতেছে, পেম আপনারে বেশ আন্ধা বানাইয়া তুলতে পারে, পেম আপনারে ইনছাফের খেলাপের দিকে লইয়া জাইতে পারে পেরায়ই, বন্দে মাতরম কইয়া আপনে কোপ দিতে পারেন অন্নের গলায়! বাংলাদেশে শোনার বাংলায় পিরিতি জেমন আপনারে খুনি বানাইতে পারে!

এখন মজহার বয়াতি কইতে পারেন জে, এগুলা পেম না, ভেজাল, এরা কেউ পেম-পিরিতি বোঝেই না আদৌ, আশল পেম আরেক কিছিমের!

মজহার বয়াতি জদি পেম জিনিশটা এমনভাবে বুঝাইতে চান জাতে পেম কাউকে এস্পেশাল বানাবে না, পেম হবে শকলের তরে, তাইলে শেইটা বাস্তব না আদৌ! বাস্তব না কারন, কাউকে এস্পেশাল বানাবে না জেই পেম, শেইটা পেমের কারনে না আদৌ, তেমন পেম আপনে তখনই পাইবেন জখন খোদ ঐ পেরমিক একজন এস্পেশাল মানুশ! শমাজে জেনারেল পেমকেই জদি অমন পেম হইতে হয়, তাইলে মানুশ আর মানুশ থাকে না আদৌ! তখন জিরো ভেলুর নিচে মাইনাস ইনফিনিটির শম্ভাবনা মানুশের মাঝে নাই ধরতে হবে আপনার! এবং এইটাই হইলো ছুফিবাদে মানুশের উপর অতি ভরশা! মজহারের পেমের বয়ানকে ঐ ছুফিবাদের পেম হিশাবেই পড়তে হবে আমাদের; কেননা, ছুফিবাদের বাইরে পেমের কোন নয়া বয়ান এখনো হাজির করতে পারেন নাই উনি! ইব্রাহিমের কোরবানির কাহিনির তাফছির দিয়া উনি ছুফিবাদের পেমেই আরেকবার হাজির হইছেন মজহার বয়াতি! এইখানে আরেকটা মজার ব্যাপার কইতে পারি, মজহার বয়াতি অন্ন তাফছিকারদের ব্যাপারে খিরিস্টান/বাইবেলের আছরের কথা কইতেছেন, শেই খিরিস্টানদের ধর্মরে এখন জদি খেয়াল করেন, তার ১ নাম্বার ফিচার হইলো পেম 🙂 ! এমনকি জেছাস তার পেম দিয়া তাবত মানুশের পাপ লইছেন নিজের কান্ধে, তাবত মানুশের পাপেই জেছাস কুরুশে চড়লেন! আবার এই জামানায় হোয়াইট খিরিস্টানদের ভিতর জেই এক্সটিরিমিজম দেখা জাইতেছে, জেছাসে পেম শেইটা ঠেকাইতে পারতেছে না, বরং জেছাসে পেম তাদের পাইকারি খুনের দিকে লইয়া জাইতেছে! বৃটেনে মানুশের উপর টেরাক তুইলা দিয়া মোছলমান ফেমিলির ৪ জন খুনের ব্যাপারটা মনে কইরা দেখতে পারেন!

ছুফিবাদ ঐ কমুনিজমের মতোই, বা কমুনিজম ঐ ছুফিবাদের মতোই মানুশের উপর অতি ভরশা করে, মানুশকে মানুশের চাইতে বড়ো কইরা দেখে। এই অতি ভরশার আশল গোড়া ছাফ ছাফ কইতে পারা মুশকিল; জরথুস্ট্রের ইউনিটি থিকা ইহুদিদের তৌরাত, হিন্দু ধর্মের অভেদ, খিরিস্টান মিস্টিছিজম, ইছলামের ছুফিবাদে ইউনিটি অব বিইং–এমন অনেকগুলা আইডিয়ার লগেই এর জোগ থাকা শম্ভব, এদের একটা আরেকটার থিকা দেওয়া নেওয়া থাকা শম্ভব!

বাস্তবে মানুশের উপর অতো ভরশা করার উপায় নাই, ওনাদের ছহি মানুশের চাইতে মানুশ ছোট, এমনকি ওনারাও তাই! এই অতি ভরশার বয়ান বরং একটা মায়া তৈরি করে, তাতে কতগুলা মানুশ ইমিউনিটি পাইয়া জায়, তারপর আরামে আকাম করতে পারে! বিজেপি বা তাবত নেশনালিস্টের পেম ভেজাল না, বরং ঐগুলা মানুশের পেম বইলাই ঐ পেম মানুশের ভিতরের শয়তানটারে তার তাবত শয়তানি করার এথিকেল এস্পেস বানাইয়া দেয়!

মানুশের ভিতরের এই শয়তানকে ঠেকানোটাই দুনিয়ায় শাশনের তরিকার মনজিল! ডর দেখাবার ধর্ম শেই কামটাই করে। এই ধর্ম মানুশের উপর ছুফিবাদের মতো অতি ভরশা করে না, কমুনিজমের মতোও না, এইটা মানুশকে মানুশ হিশাবে দেখে, মানুশের ভিতর খারাপের দিকে মাইনাস ইনফিনিটি হবার শম্ভাবনা আমলে নেয় এবং শেইটা ঠেকাবার ফিকির করতে থাকে। তবু কতো কতো শয়তান পার পাইয়া জায়, মানুশের নাগালের পেরায়ই বাইরে থাকে ইনছাফ, নজর এড়ায়! কত কি করতে চাইয়াও পারে না মানুশ, কতো কতো উচিত মানুশের পারার শিমার বাইরে থাকে! আখেরি ইনছাফের একজন মালিক থাকায় আরাম আছে, শেইখানে ছোপর্দ কইরা আমরা নিজ নিজ কামে মন দিতে পারি কতক! একজন খোদা আমাদের না পারাগুলার ফয়ছালা দেবেন একদিন, এই একিন মানুশকে বেশুমার মনমরা ছুইসাইড থিকা বাচায়!

আমি কি তাইলে শাশন ব্যাপারটাকে একটা পজিটিভ জিনিশ হিশাবে দেখাইতে চাইলাম? নাহ। শাশন মানেই খমতার একটা হেরফের এবং খমতার হেরফের মানেই জুলুমের শম্ভাবনা। তাই শাশনকে পজিটিভ দাবি করার কারন নাই; কিন্তু আমাদের ভাবা দরকার উল্টা দিক দিয়া–শাশনের বাইরে কতোটা আদৌ জাইতে পারি আমরা? মানুশের জিন্দেগি খেয়াল কইরা দেখেন, দুনিয়ায় এইটা শুরু হয় ভাশা শেখার ভিতর দিয়া এবং ভাশা নিজেই শাশনের একটা তরিকা, ভাশা মানুশের একটা বাচ্চার চাইতে ছোট না, বরং মানুশের বাচ্চাটারে বানায় ভাশা, ভাশা হইলো মানুশকে পোশ মানাবার একটা হাতিয়ার! এইটা এড়াইতে চাইলে মানুশের একটা বাচ্চারে আপনের রাখতে হবে ভাশা ছাড়া একটা এস্পেসে, মা-বাপও তার লগে কোন কথা কইবে না! ১৮ বছরের একটা মানুশের বাচ্চারে কোন ভাশা শিখান নাই, পড়তে পারে না শে, শব্দ চেনে না, কাউরে কিছু কইতেও পারে না, একটা এক্সপেরিমেন্ট হিশাবে কেমন লাগতেছে! এইভাবে শারা দুনিয়া এক দিন ভাশার বাইরে চইলা গেল, কেমন হবে ব্যাপারটা? তেমন একটা দুনিয়া চাইতেছি কি আমরা? তাতে কি আমরা মানুশের ভিতরের শয়তানটারে মারতে পারবো আখেরে? তারপর শেই মানুশ কি একটা নয়া ভাশা বানাবে? জানি না আমি 🙁 !

এইগুলা আইডিয়ালিস্ট চিন্তা, শাশনের বাইরে জাওয়া থিকা মানুশে অতি ভরশা, দুইটাই। বাস্তবে এগুলা নাই, ইতিহাশে তেমন বাস্তব কোন নজির পাইতেছি না আমরা! শেই কারনেই ডায়ালেক্টিক্স একটা দরকারি জিনিশ, শমাজে কন্ট্রাডিকশন বহাল রাখতে হবে, শাশন এবং খমতার হেরফের মিনিমাম রাইখা জুলুম কেমনে মিনিমাম রাখা শম্ভব শেই ফিকির করতে হবে, শেই ফিকিরের নামই পলিটিক্স করা! পলিটিক্স একটা জটিল জিনিশ; আমি এইটারে দেখি থিয়োরি বা চিন্তার ইশকুলগুলার ভিতর শালিশি হিশাবে; আমি এনার্কিজম থিকা মার্ক্সিজম বা ফেমিনিজম বা এনভায়রনমেন্টালিজম, এগুলা দরকারি ভাবি, কিন্তু এর কোন একটারে শাশক বানাইতে নারাজ! এগুলা দরকারি কারন, জে কোন একটা এংগেল থিকা দুনিয়াটারে না দেখলে কিছু জিনিশ মিস করতে পারি আমরা; শুরুতেই জেনারেল নজরের বদলে একটা এংগেল থিকা নজর দিলে ভালো, শবগুলা এংগেল থিকা নজর দিয়া কতগুলা এক্সট্রিম বোঝাবুঝি হবে আমাদের, তারপর পলিটিক্স ঐ বোঝাবুঝির ভিতর শালিশি কইরা ইকুইলিব্রিয়ামে পৌছাবে! মানুশের জিবন খেয়াল করলে দেখবেন, বহু বহু দুশমন চিন্তার ইশকুল মানুশের মনে ঢুইকা কোন একটা ফয়ছালা ঠিকই ঘটে, তারপর মানুশ ডিছিশন লয়; শবগুলা চিন্তারই কিছু কিছু থাকে, কিন্তু কোনটাই পুরা থাকে না! এই জে আইডিয়াল থিকা একটু দুরে, কখনোই পুরা ছহি না হওয়া, এইটারই নাম বাস্তব মানুশ! পলিটিক্সের কাম হইলো, এক্সট্রিম না হওয়া, ছহির বদলে বাস্তব হওয়া, আইডিয়াল থিকা একটু দুরে!

ইছলাম লইয়া মজহার বয়াতি ভাবেন, এইটা একটা ভালো ব্যাপার। জে কেউ মোছলমান হৌক বা না হৌক, ইছলাম লইয়া ভাবা দরকার আছে, মোছলমানদের লগে অন্নের রিশতা কেমন হবে, তার লগে ইছলামের ব্যাপারে বোঝাবুঝির বিরাট শম্পর্ক আছে। কেবল ইছলাম না তো, দুনিয়ার শকল ধর্মেই জেমনে অন্নের উপর হামলা জায়েজ হিশাবে দেখাদেখির কিছু ইশকুল দেখা জাইতেছে, তাতে শকল ধর্ম লইয়াই ভাবার দরকার আছে। মজহার বয়াতি তার কমুনিটির মানুশ, মানে মোছলমানদের লইয়া একটা শান্তি আর অন্নের লগে আরামের একটা রিশতা বানাইতে চাইতেছেন, এইটা খুবই ভালো ব্যাপার। আন্দাজ করি, এই মনজিল শামনে রাইখাই উনি এই তাফছিরে মন দিছেন; এবং এই কামে উনি ইছলামের উপর পচ্চিমের আছর থিকা বাইরাইতে চাইতেছেন, পোস্ট-কলোনিয়াল একটা মর্ম আছে ওনার কামের। কিন্তু এই কামে উনি জেইটারে পচ্চিমের আছর হিশাবে চিনাইতেছেন, তা মনে হয় ভুল এবং জেই রাস্তায় উনি মোছলমানদের নিতে চাইতেছেন, শেইটাও আখেরে আমাদের শান্তির কাছাকাছি নেবে না বইলাই আন্দাজ করি! এই জামানার মোছলমানদের উপর পচ্চিমের আছর আছে, শেই ব্যাপারে লিখবো আগামিতে। তবে মজহার বয়াতির রাস্তার ব্যাপারে কইতে হয় জে, দুনিয়ার বেশিরভাগ মোছলমান ঐ রাস্তায় জাইতে ইছলামের বহু বহু কেতাব আর তাফছির দুনিয়া থিকা ছেরেফ হারাইয়া জাইতে হবে! কেবল কোরবানি বোঝাবুঝি বদলাইলেই হবে না, ইছলামের অনেকগুলা আইডিয়াই বাতিল করা লাগতে পারে! তাতে মোছলমানদের জেনারেল কবুলিয়ত পাবার শম্ভাবনা দেখতেছি না। তার উপর আমার হিশাবে মনে হয়, ঐ রাস্তা আমাদের পোবলেমের আখেরি ফয়ছালাও দেবে না! কেবল ইছলামই না, আর শব ধর্মের (এর ভিতর ছেকুলারিজম আর কমুনিজমও ধরতেছি আমি) মানুশদের ভিতর কেমন চুক্তি হইতে পারে, শকল মানুশের কোন বটমলাইন পাওয়া শম্ভব কিনা, শেই ব্যাপারে আরো কিছু লেখার পেলান আছে, লিখবো। এলাহি ভরশা।

আমার এই বয়ানের আখেরি পাটে আরো দুয়েকটা কথা কই। মানুশে অতি ভরশা না করলে, মানুশকে মানুশের চাইতে বড়ো কইরা না তুললে আমাদের আরো কিছু ডিলেমাও কাটবে! জেমন ধরেন, ধর্মে আন্ধা-একিন লইয়া লইয়া কেউ কেউ বড়ো চিন্তিত, আমাদের নাকি জুক্তি এবং এলেমের রাস্তায় হাটতে হাটতে খোদারে পাইতে হবে! মানুশকে আগাগোড়াই আন্দাজি একটা মাকলুকাত ভাবতে রাজি হইলে আন্ধা-একিনে শরমিন্দা হবার কারন থাকে না। এমন চিন্তাও তো দুনিয়ায় আছে জেইখানে এই দুনিয়া ছেরেফ মায়া, বাস্তবে কিছুই নাই, মানুশ বা মানুশের শমাজ, ঐ জে বকুল ফুলের গাছটা দেখা জায়, এর শবই একটা ছিমুলেশন! ইস্ট্রিং থিয়োরির লইয়া ভাবেন, একতারার শুরের মতো এই দুনিয়া, আমি বা আপনি বা আপনার পেম, এগুলা শবই কোন একটা ইস্ট্রিং টুং টাং বাজতে থাকা, কোন একটা চলতে থাকা গানের এক টুকরা বাজনা আমরা! তবু আমরা একিন করতেছি, আমরা বাস্তব, আমরা আছি, আমি চিমটি কাটলে আপনে ব্যথা পাইলেন, আপনার পেরমিক ছ্যাকা দেবার পরে আপনের ছুইসাইডের কোন একটা অর্থ আছে, আমাদের বেদনা বাস্তব, আপনের বুড়া মায়ের মরনে আপনে কানতেছেন, এই কান্দন কেবল ছিমুলেশন না, আপনের বাছুর আপনারে জড়াইয়া ধরলে আপনে জেই শুখ হয়, শেই শুখ বেহেশতি জেন! এমন কতো কতো আন্ধা-একিন আমাদের, এই আন্ধা-একিনে কতো আরাম, শরমের কি আছে!

The following two tabs change content below.

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
[facebook url="https://www.facebook.com/WordPresscom/posts/10154113693553980"]
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য