Main menu

ন্যারেটিভের ভায়োলেন্ট উইং

ন্যারেটিভের একটা ভায়োলেন্ট দিক থাকে। এইটার গোড়া মনে হয় ‘ডর’।

নতুন একটা ন্যারেটিভ পয়দা হবার কালে আগের ন্যারেটিভগুলার মুরিদ ভাগাইয়া নিতে থাকে। তখন আগের ন্যারেটিভগুলা তার তার ভায়োলেন্ট দিকগুলারে এক্টিভেট করে এবং নয়া ন্যারেটিভের উপর হামলা করে। নয়া ন্যারেটিভ মরণের ডরে নিজের ভায়োলেন্ট উইং বানায়, যুদ্ধ কইরা নিজের মরণ ঠেকাইতে চায়। আগের ন্যারেটিভগুলাও পয়দা হবার কালে এমনই হামলা হইছিল, তখন মরণের ডরেই তাগো ভায়োলেন্ট উইং বানাইছিল। আমার এই থিয়োরি বেনজির না, তাই দুই চারটা নজির দেখাইয়া বুঝাইতেছি। [pullquote][AWD_comments][/pullquote]

তবে এই দিকটা মনে হয় আদিতে গৌতম বুদ্ধ ভাবছিলেন; উনি তাই ভায়োলেন্ট উইং না বানাইয়া ইউনিক কামটা করছেন। সেই অভাব অবশ্য পরে পূরণ কইরা লইছেন অনেকে; এখনকার মায়ানমারে যেমন ঐ উইং বানাইয়া লইছেন ভিক্ষুরা। যাই হৌক আগাই।

১. গীতা হইলো হিন্দুধর্মের ভায়োলেন্ট উইং। শ্রীকৃষ্ণ এইটা বানাইয়া এক্টিভেট করতেছেন অর্জুনের ভিতর। নাইলে ন্যারেটিভটা মরণের ডরাইতেছে। ন্যারেটিভটা যখন ক্রাইসিসে পড়ে তখন এক্টিভেট করে আবার, আরামে থাকলে উইংটারে ঘুম পাড়াইয়া রাখে। ইংরাজ আমলে বঙ্কিম এইটারে আবার এক্টিভেট করেন। তার আগে চৈতন্য গীতা অল্প লইয়া বুদ্ধ এবং সুফিজম দিয়া হিন্দু ধর্মের ন্যারেটিভ বাঁচাইতে চাইয়া আসলে নতুন একটা ন্যারেটিভ বানাইয়া ফেলেন! বঙ্কিম চৈতন্যের মুরিদ কতকটা, কিন্তু গীতাই বঙ্কিমের আসল পাটাতন। আরো আগে সেই অশোকের বানাইয়া তোলা বৌদ্ধদের খুন করতে, খেদাইতে আরো একবার গীতাকে এক্টিভেট করছিলেন ব্রাহ্মণরা।

তবে সবসময় যে ক্রাইসিসে পড়লেই ভায়োলেন্ট উইং এক্টিভেট করা হয়, তা না, মডার্ন এরায় এইটা ইম্পেরিয়ালিস্ট দরকারেও করা হয়। এখনকার ভারতে যেমন এই উইংটা এক্সট্রিমলি ভায়োলেন্ট দশায় এক্টিভেটেড। আবার ইসরায়েলে মনে হয় ডরের কাভার লইয়া ইম্পেরিয়ালিস্ট দরকারেই এখনকার জায়োনিজম চলতেছে। ইহুদীদের এই উইংটা বোঝার জন্য তালাল আসাদের স্যামসন লইয়া আলাপটা পড়তে পারেন। আসাদের টীকা লেখক ড. সলিমের আদমবোমাও কামে দিতে পারে।

২. ক্রুসেডের টাইমে মনে হয় খৃস্টানদের ভায়োলেন্ট উইংটার পয়দা হয়। ক্রুসেডের টাইম বোঝা মুশকিল একটু, এই সেদিনও বুশ ক্রুসেড চালাইছেন। তবে আদি ক্রুসেডের টাইমে পয়দা হবার কালে এই উইংটা এতোই কামিয়াব হয় যে, ‘চিলড্রেন ক্রুসেড’ হয় একটা। ইউরোপের একটা জেনারেশন পুরাই মরে ঐ ক্রুসেডে; লজিকটা মজার আছিল: বড়রা যেহেতু পাপী তাই ক্রুসেডে জেতা যাইতেছে না; তাই ইনোসেন্ট বাচ্চাদের দিয়া ক্রুসেড হইলে জেতা যাবে। কিন্তু একটা জেনারেশন মরার ফল এমনই যে, যুদ্ধের কানুন হিসাবে ইউরোপ যুদ্ধে বাচ্চাদের এস্তেমাল না করার আইন বানাইছে, দুশমনের বাচ্চা খুন না করারও! মাইয়াদেরো। রিপ্রোডাকশনের গুরুত্ব বুঝতে বাচ্চাদের সেই ক্রুসেড মহা ছবক দিয়া গেছে ইউরোপকে।

বাচ্চাদের ক্রুসেড, ১৫২২-১৫৩২

বাচ্চাদের ক্রুসেড, ১৫২২-১৫৩২

খৃস্টের ধর্ম এখন সাদাদের দখলে। রেসিয়াল রিস্কে আছে এই সাদারা, ডরাইতেছে খুব। গ্রোথ রেট মাইনাস হইয়া যাইতেছে, চিলড্রেন ক্রুসেড ছাড়াই! রিপ্রোডাকশনকে সমাজের সবচে বড়ো কাম না ভাবায় এবং বাচ্চাদের পুরাই পোলারা দখল কইরা রাখায় হাজার হাজার বছর পর মাইয়ারা রিভল্ট করতেছে। ক্যাপিটালিস্ট টেকনোলজির মদদ পাইতেছে মাইয়ারা–নিজেদের বডি মাইয়াদের কন্ট্রোলে নেওয়া যাইতেছে। সেক্সুয়াল ওভার এক্সপোজার এবং কনজ্যুমারিজমের কারণে রিপ্রোডাকশনে পোলাদেরো মন নাই আর।

ডরাইতেছে সাদারা। একদিকে ঘুষ দিয়া রিপ্রোডাকশনে মাইয়াদের রাজি করাইতে ট্রাই করতেছে, আরেকদিকে খৃস্টের ধর্মের ভায়োলেন্ট দিকটারে এক্টিভেট কইরা অন্য সব রেসের সংখ্যা কমাইয়া রাখতে খুন করতেছে। লগে যোগ হইছে ইম্পেরিয়ালিস্ট দরকার, বাজার দখলের তাগাদা।

এইটার ক্রিয়েটিভ এক্সটেনশনে এনভায়রনমেন্টালিজমও পাইবেন। কিংসম্যান: সিক্রেট সার্ভিস বা রেসিডেন্ট এভিল: ফাইনাল চ্যাপ্টারে দেখবেন বাইবেলের নূহের কাহিনির রেফারেন্স। তবে রেসিজমের নালিশ ঠেকাইতে একটা কাভারও বানাইছেন ওনারা, সরাসরি সাদা না কইয়া ‘ধনী’ ক্যাটেগরি ইউজ করতেছেন; কিংসম্যানে যেমন কালা স্যামুয়েল এল জ্যাকসন প্লানেট আর্থ সাফাই করতেছেন যেইখানে ধনীরা ‘নেচারালি’ সিলেক্টেড হইতেছে, কিন্তু কলোনিয়াল আর স্লেভারির ডাকাতির হিস্ট্রিক্যল কারণেই এরা হবেন সাদা।

৩. ভাসা ভাসা নজরে মনে হইতে পারে লিবারালিজমের কোন ভায়োলেন্ট উইং নাই। নজর চিকন করলে দেখবেন, ভায়োলেন্ট উইংকে ফর্মাল করা হইছে মাত্র; মডার্ন স্টেটের সিকিউরিটি এজেন্সিগুলা ঐ ফর্মাল উইং। লিবারালিজম সিভিলাইজিং প্রজেক্ট হিসাবে ডেমোক্রেসি রপ্তানি করতেছে আফগানিস্তান, ইরাক বা সিরিয়ায়–খুবই ভায়োলেন্ট। নিজ নিজ দেশে ক্রসফায়ার টাইপের খুন চলতেছে। বিচার করলে দেখবেন, হিটলারও লিবারালিজমেরই একটা এক্সপ্রেশন, হিটলার বা ট্রাম্প লিবারালিজমের বেআব্রু ভার্সন। ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক লাখ মার্ক্সবাদী খুন করছে লিবারালিজম, নয়া ভাবনা ঠেকাইতে এক্টিভেট করা হইছে তখন। ইতিহাসে দেখেন, খোদ ফ্রেঞ্চ রেভল্যুশনই খুব ভায়োলেন্ট!

ইন্দোনেশিয়ার ম্যাসাকার নিয়া ডকুমেন্টারি, the act of killing

জাতীয়তাবাদের ভায়োলেন্ট উইং থাকে, সূর্যসেন যেমন, বা বঙ্কিমের আনন্দমঠের ‘সন্তান’। মার্ক্সিজমের ভায়োলেন্ট উইং আছে। নকশাল বা জাসদের শ্রেণীদুশমন খতম করার কথা ভাবতে পারেন। বিপ্লবের পরেও এইটা এক্টিভেটেড রাখা হয়। স্ট্যালিনের প্রতিবিপ্লবী খুন যেমন। সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারে হিটলারের ডরে এইটা এক্টিভেট করা হইছে। পরে ঘুম পাড়ানো হয় নাই আর।

সব নয়া ভাবনারই এমন থাকে প্রায়। খেয়াল করার ব্যাপার হইলো, কোন একটা ভাবনার লায়ন/বড়ো শরিকের হাতে যতখন থাকে ততক্ষণ হয়তো এক ধরনের অর্ডার থাকে। কিন্তু সমাজের বেশিরভাগ সম্পদের মালিকের যখন নিজের সরাইয়া নেয়, জনতারে রাইখা, ঘেন্না জানাইয়া নিজেরা নিজেরা নয়া কোন ভাবনার দিকে চইলা যায় তখন একটা ব্লাঙ্ক স্পেস তৈরি হয়, সেই খালি জায়গা তখন জনতারে ম্যানিপুলেট করার কামে ইউজ করে কিছু ধুরন্ধর। তখন ভায়োলেন্সই আসল হইয়া ওঠে, গোড়ার ভাবনা বা ন্যারেটিভ ততো থাকে না আর। মডার্ন দুনিয়ায় সবচে ভায়োলেন্টই যেহেতু সবচে সম্মান পাইতেছে হিরোশিমা-নাগাসাকির পরে, তখন ভায়োলেন্সের নয়া গ্লামার পয়দা হইছে। নয়া এক এমুইজমেন্ট/প্লেজার হইয়া উঠছে ভায়োলেন্স।

এমন দশায় জনতার থিকা নিজেদের দূরে লইয়া যাওয়া সমাজের মালিকরা যদি জনতার লগে আবার কানেক্টেড না হয়, জনতারে অনার না দেয়, ঘেন্না বহাল রাখতে থাকে, গালাগালি করতে থাকে, জনতার ভাষায় কথা না কয় তাইলে ঐ ধুরন্ধররা ন্যারেটিভের কোটিং দিয়া আরো বেশি ম্যানিপুলেট করতে পারবে।
২৭-৩০ মার্চ ২০১৭

The following two tabs change content below.

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।

Latest posts by রক মনু (see all)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য