Main menu

দখলের লিস্টে ফেমিনিজমও দরকার না পোলাদের!

‘তোমার স্তন তারা মাপছে ফিতে দিয়ে’

‘color’ এবং ‘colour’ কইলে যদি সিধা বোঝেন যে ‘color’ আমেরিকান ইংরাজি, আর ‘colour’ হইলো বৃটিশ ইংরাজির কেতা, তাইলে সিধাই বোঝার কথা ‘ফিতে’ কোলকাতার বাংলা, আর বাংলাদেশে এইটা ‘ফিতা’! কিন্তু আপনে তো যে কোন একটা লিখতেই পারেন, কইতেও পারেন, সওয়ালটা হইলো–আপনে ডেমোক্রেটিক কিনা। বাংলাদেশের লেখক হিসাবে আপনে যদি দেশের বেশির ভাগ বাঙালির শব্দ লইতে রাজি না হন, বদলে বিদেশী কেতা আর শব্দে লেখেন তাইলে হয় আপনে এই জনতার জন্য লেখেন না, বা আপনে হইলেন বিদেশী ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর। ফিতার ব্যাপারে কেবল কেতার মামলা, আর ‘স্তন’ কইয়া আপনে জনতার আরো দূরে থাকলেন। দেশের বেশিরভাগের কাছে শব্দটা ‘মাই’, এই বাক্যটায় মনে হয় ‘বুক’ কইলেই চলে, কারণ এইটা বুকের মাপই। মাইয়াদের এই অঙ্গটা পাবলিক বলাবলিতে কম দেশে, ইজ্জতে হামলা (ভার্বাল অফেন্স–যেভাবে  ‘হাতটা একটু সরাবেন?’–কওয়া যায়, তেমনি ‘আপনের মাইটা একটু সরাবেন?’ কওয়া যায় না। বুকও কওয়া যায় না আসলে!) হিসাবে দেখার একটা ব্যাপারও আছে, তাই ‘বুক’ দিয়াই কথা চালায় খুব দরকারে। কখনো বা ব্রেস্ট ক্যান্সার কইয়া দুইটাই এড়ায়। কিন্তু আবারো, আপনে গণতান্ত্রিক কিনা, গণতন্ত্রে যাগো মন সেইসব লেখক আপনারে নিতে পারে কিনা, মামলা কিন্তু সেইটাই, আপনে যেইটা খুশি করতেই পারেন।

এ তো গেল শব্দ আর কেতার মামলা, এখন লাইনটা আবার পড়েন। এই লেখকের আপত্তিটা কোনখানে, ‘মাই’ মাপায়, নাকি ‘ফিতা’ দিয়া মাপায়? ঐটার লগে আরেকটা লাইন দিতেছি আমি, এক লগে পড়েন:

“তোমার স্তন তারা মাপছে ফিতে দিয়ে,
অথচ মাপা উচিত ছিল হাতে!”

বাক্য দুইটা যদি মেলে তাইলে বোঝেন, কারো মনে হইতেই পারে, লেখকের আপত্তি আসলে ‘ফিতা’ দিয়া মাপায়!

কিন্তু না, এই ঢঙে আলাপটা চালানো ফোড়ন কাটার বেশি কিছু হয় না, রসের আলাপ করলাম একটু, আপনাদের একটু সিডিউস বা যাদু কইরা পড়াইতে চাইলাম। মুচকি একটা লাজুক হাসি নেন :)!

এই লাইনটা এক কবিতার, নাম ‘কর্তৃত্ব গ্রহণ কর, নারী’, ‘এবাদতনামা’ নামে সেই কবির একটা কবিতার বই আছে, কবির নাম ফরহাদ মজহার; কোলকাতার বইমেলায় রঠার ভক্তদের এবাদতনামার কবিতা পইড়া শুনাইছেন তিনি। রঠার আছে ‘গীতাঞ্জলি’, ইংরাজিতে নাম রাখছিলেন ‘সং অফারিংস’। কিন্তু ফার্সি নামটা কেমন হইতে পারে? আমার হিসাবে ফার্সিতে গীতাঞ্জলির পারফেক্ট তরজমা হইতে পারে ‘এবাদতনামা’।

গীতাঞ্জলির গানগুলা চার্চের গান হিসাবে ভালো, রঠার ধর্মের খবর লইলে দেখবেন, ব্রাহ্ম আছিলেন উনি, গীতাঞ্জলি ওনার সেই ধর্মেরই আর্টি রোশনাই। ধর্ম বিচারে এইটাতে পাইবেন উপনিষদের ফ্লেভারে বাইবেল। এখন তাইলে এই কবিতার আর কয়েকটা লাইন পড়েন:

“তোমার দয়া দিয়ে আমার হৃদয় ধুয়ে দেবার প্রার্থনায়
আমার ভেতর যে পুরুষ তাকে আমি চাবুক মেরে শাসন করেছি
তাকে হাঁটু মুড়ে বসতে বলেছি তোমার সামনে
আমি ক্ষমা চাই, ক্ষমা করে দাও
শুধু আমাকে নয়
সমস্ত পুরুষকে তুমি ক্ষমা কর
আমি আজ সমস্ত পুরুষের হয়ে তোমার ক্ষমাপ্রার্থী
পুরুষ তোমার সামনে আবার
নতজানু হয়েছে নারী,
তাকে ক্ষমা করে দাও।”

একলাই সবার হইয়া মাফ চাইবার এই ঘটনার লগে মিলাইয়া দেখেন ক্রুশে ঝুইলা থাকা যিশুর ব্যথা, তাবত ইনসানের পাপের বোঝা লইয়া ক্রুশে চইড়া ব্যথা লইলেন যিশু, তাতে খোদা মাফ কইরা দিলেন সারা ইনসানের পাপ, সেই ‘অরিজিনাল সিন/আদি পাপ’ হইলো এইসব পাপের গোড়া, সেই পাপেই যিশু ক্রুশে চড়লেন। এই ঘটনার মাঝে একটু যে ম্যাসোকিজমের রেশ আছে সেইটাও কবিতার এই পার্টে পাইতেছেন ‘চাবুক মেরে শাসন’ করার মাঝে। এইভাবে কবিতাটা গোপনে উপনিষদ, বাইবেল, ব্রাহ্মধর্ম, গীতাঞ্জলি আর এবাদতনামার গানটাই আবার গাইলো। কিন্তু এই কবিতা দুনিয়াবি পোলা-মাইয়ার সম্পর্কের ইতিহাস লইয়া যেন, অনেকেই এইটারে ফেমিনিস্ট কবিতা হিসাবেও চিনাইতে চায়। আমাদের বিচার কইরা দেখতে হবে এই কবিতায় কেমন ফেমিনিজম আছে, সম্পর্কের ইতিহাস দেখাইয়া আমাদের ইতিহাসের কোন রাস্তায় নিতে চায় এই কবিতা, কি হইতে কয় মাইয়াদের।

১৭৩১। যোধপুরের মহারাজা অভয় সিং'রে  ঠেকাইতেছেন অমৃতা দেবী।

১৭৩১। যোধপুরের মহারাজা অভয় সিং’রে ঠেকাইতেছেন অমৃতা দেবী।

‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ নামে ভ্যাম্পায়্যার সিনেমার সিরিজ আছে একটা। এই সিরিজে ভ্যাম্পায়ার নেতারা অমর, তারা বাই রোটেশন, মানে পালা কইরা রাজা হয়। এই রাজার শাসন চলবে ১০০০ বছর, এই ১০০০ বছর আর সবাই ঘুমাইয়া থাকবে। ১০০০ বছর খতম হইলে পালা মোতাবেক ঘুম ভাঙাইয়া আরেকজনকে মসনদে বসানো হবে, তার শাসন চলবে পরের ১০০০ বছর। এখন কবিতায় পড়েন:

“আজ আমি তোমাকে বলতে এসেছি
পুরুষ শব্দের অর্থ হচ্ছে কর্তৃত্ব
এবং তোমার কর্তৃত্ব গ্রহণ করার সময় হয়েছে, নারী
পুরুষকে গ্রহণ কর।”

‘কর্তৃত্ব’র মসনদে এইবার মাইয়াদের বইতে কইতেছেন কবি। পোলাদের পালা শেষ, এইবার পুরুষ হইবেন মাইয়ারা। তাতেই খুশি কবি, সেইটাই এই ফেমিনিজমের এজেন্ডা; মানে হইলো, মালিক এবং বান্দার এই সম্পর্কে কবির সমস্যা নাই কোন, গদিটায় স্রেফ মাইয়াদের বইতে হবে এবার। নয়া ভ্যাম্পায়ার রাজার ঘুম ভাঙাইতেছেন যেন কবি।

এই সম্পর্ক বা সিস্টেমটা কেমন, ভাবেন এইবার। দুনিয়ায় পোলা এবং মাইয়াই কেবল নাই, আরো লিঙ্গ আছে। এই সিস্টেম হিজড়াদের ইনসানের খাতায় নাম লেখাইতে দেয় নাই, সেই খাতাটা ধইরাই দুনিয়ার সিটিজেন হিসাবে কেবল পোলা আর মাইয়াদেরই দেখতেছেন তিনি। বাচ্চা পয়দা করার কারখানা হিসাবে দেখার যেই ইতিহাস দেখাইতেছেন (তুমি প্রজননযন্ত্র তাই তোমার নাম জননী) কবি, তাতে আন্দাজ করি, বাজা মাইয়াদেরো বাদ রাখছেন তার খাতায়।

তারপর দেখেন, ‘কর্তৃত্ব’র এই সিস্টেম মানুষকে দুনিয়ার বা নেচারের মালিক হিসাবে দেখে, দুনিয়ায় আরো কত কত পরান আছে, দুনিয়ার বাতাস বা পানি বা মাটিতে হক আছে সেইসব পরানেরও। মাছ বা গাছ বা হরিণ বা সাপও দুনিয়ার মাকলুকাত, মানুষ আরেকটা স্পেসিস বা মাকলুকাত, মানুষ এর কোনটারই মালিক না। কিন্তু আমাদের এই সিস্টেম এই সবকিছুর মালিক হিসাবে মানুষকে দাবি করে। দুনিয়ায় সকল মাকলুকাতের হকের আলাপ বাদ দিলেও এমনকি মানুষের জন্যও এই সিস্টেমটা সুইসাইডের মতো। নেচার এবং নেচারের সারা মাকলুকাতের মালিক ভাবায় এবং এই মালিকানার মাঝে আবার কোন মমতা না থাকায় দুনিয়া বিষে ভরাইয়া ফেলছে মানুষ। বাতাসে বিষ, পানিতে বিষ, মাটিতে বিষ। দুনিয়ার বরফ গলাইয়া তলাইয়া ফেলতেছে দুনিয়া। মাছ, গাছ, পশু তো মরতেছেই, মানুষের বিষে মরতেছে মানুষ। সারা দুনিয়ারে ৫০ বার খুন করার মতো অস্ত্র আছে মানুষের হাতে। এই সিস্টেমেই মালিক পোলারা, মাইয়ারা স্রেফ এই সব সম্পত্তির একটা পার্ট, তাই সমান ভাবেই ভোগ করার মতো। এই সিস্টেমটারে রাইখা আমরা যদি পোলাদের সিটে মাইয়াদের বসাইয়া দেই, পোলাদের এইবার সম্পত্তি বানাইয়া দেই তাতে ভ্যাম্পায়ারের শাসনের ইতিহাস বদলায় না, কেবল খুন কইরা কইরা সুইসাইডের দিকেই কদমে কদমে আগাইতে থাকি আমরা! কেউ কেউ ভাবতে পারেন, এই সিস্টেমেই মাইয়ারা যদি পুরুষ হয়, কর্তৃত্ব’র গদিতে বসে তাইলে বুঝি টর্চার কম হবে: আজকের দুনিয়ায় রেপের ইতিহাস বিচার কইরা তেমন মনে হয় অনেকের, মাইয়াদের শরীল তাগো কাছে খুবই নাজুক মনে হয় পুরুষের তুলনায়। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন, মানুষের শরীলে সবচে নাজুক অঙ্গ হইলো পোলাদের ‘আইড়া’; আমার হিসাবটা হইলো, সবচে কম শক্তি খরচ কইরা সবচে বেশি ব্যথা দেবার অঙ্গ হইলো ‘আইড়া’।

ওদিকে ‘পুরুষ’, ‘কর্তৃত্ব’ বা ‘মালিকানা’র ডিসকোর্স রেপ কালচারের প্রি-কন্ডিশন যোগান দেয়। ‘পুরুষ/কর্তৃত্ব’ এবং ‘প্রকৃতি/নেচার’ ভাগাভাগি এবং এই চিন্তায় মাইয়ারা ‘প্রকৃতি/নেচার’ হওয়ায় রেপ হইলো কাদায় গর্ত কইরা পোলাদের ঠাপানোর মতোই নিরীহ ব্যাপার একটা! এই সিস্টেমে পোলা-মাইয়া উল্টাইয়া দিলে কি হবে, যখন পোলা হইলো নেচার আর মাইয়ারা পুরুষ? ভাবেন, হেল্প করি একটু আমি: পোলারে ভায়াগ্রা খাওয়াইয়া খাড়া ধোনের গোড়ায় রাবার ব্যান্ডে বাইন্ধা দিল, রক্ত নামতে পারবে না তাতে, খাড়াইয়া থাকবে ধোন; তারপর পোলারে চিৎ কইরা বাইন্ধা ঘোড়া চালাবে বা হর্স রাইড করবে মাইয়া, রিভার্স মিশনারি পজিশনের মতো! দুনিয়ার কর্তৃত্ব লইতে দাওয়াত দিয়া কই লইয়া যাইতেছেন এই বাঁশিঅলা? টর্চারের জবাব দেবেন টর্চারে?

তাইলে এই কবিতার এই ফেমিনিজম কতটা লইতে পারি আমরা? কিন্তু বাংলাদেশে, ঢাকায় এই কবিতা বুঝতে ঢাকার আতেলদের ইতিহাস একটু জানতে হবে আপনার। একটা ঘটনা এবং তার কতগুলা কন্সিকোয়েন্স বা পাটকেল হিসাবে ঢাকার দুইজন আতেলের ফ্যাসাদ লইয়া ভাবতে পারেন। আতেল দুইজন হইলেন, আহমদ ছফা এবং রেহনুমা আহমেদ। রেহনুমার জবানে ঘটনাটা এমন,

“আহমদ ছফা’র সঙ্গে সেই একবারই দেখা। বছর ৯-১০এক আগে। একটি সেমিনারে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি-রত একজন বাঙালি শিক্ষার্থী, নৃবৈজ্ঞানিক ফিল্ডওয়ার্ক শেষে, তাঁর গবেষণা উপস্থাপন করেছিলেন। হাতে গোণা কয়েকজনকে ডাকা হয়েছিল। আমার প্রশ্ন ও মন্তব্য, ছফা ভাইকে ক্ষুব্ধ করে। সম্ভবত আমাকে সাইজ করার জন্য, আমার কথা-শেষে, তিনি একটি কৌতুক বলে বসেন। কোনো-এক কারণে তাঁর মনে হয়েছিল, আমি একজন পোস্টমডার্নিস্ট। উত্তর-আধুনিকতাবাদী হিসেবে জ্ঞান ফলাচ্ছি। শব্দের মার-প্যাঁচ কষছি।

নতুন নতুন বিষয় নিয়ে, বুঝে না-বুঝে বলতে গেলে (এ কথাগুলো আমাকে কটাক্ষ করে), তাহলে অবস্থা দাঁড়ায় সেই ছেলেটার মতো যে কি-না প্রথমবারের মতো ‘কতিপয়’ শব্দটা শিখেছে। বাবাকে চিঠি লিখতে বসে, শব্দটা মনে পড়ে। চিঠি শুরু করে এভাবে, ‘কতিপয় আব্বাজান, আমার সালাম নেবেন…’।

হাসির রোল শুরু হওয়ার আগেই আমি চট করে বলে ফেলি, ‘এটা যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের জোক, তা আপনি নিশ্চই বোঝেন? পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে এই জোকের যে কোনো অর্থ দাঁড়ায় না, তা নিশ্চই জানেন?’ (‘কতিপয় আব্বাজান’। পিতৃতন্ত্রের অবিভাজ্য সত্য/রেহনুমা আহমেদ)”

আহমদ ছফা হইলেন প্রফেসর আবদুর রাজ্জাকের চিন্তার স্কুলের লোক; জাসদ করার সূতায় মার্ক্সের তরিকার পলিটিক্স করছেন। পরে আমরা দুইটা ঘটনা পাবো যেইখানে প্রফেসর রাজ্জাক এবং মার্ক্সের টান থাকা দুইজন আতেল রেহনুমার ফেমিনিস্ট চিন্তার স্কুলের উপর গোপন হামলা চালাইছেন। এই কবিতা তার একটা। আরেকটা হইলো ড. সলিমুল্লাহ খানের লেখা, বেগম রোকেয়া লইয়া।

বাংলাদেশে অন্তত কয়েক কিসিমের ফেমিনিজম আছে। এর মাঝে ‘উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট’ লইয়া এনজিও স্কুলটা বেগম রোকেয়ার লিগেসি, আরো পিছে যাইয়া পাইবেন বিদ্যাসাগরের নাম। রোকেয়ার চিন্তায় বঙ্কিমচন্দ্র আছেন, কিন্তু এক্টিভিজমে বিদ্যাসাগর, গোড়াটা জন স্টুয়ার্ট মিলে। তসলিমা নাসরিন এবং হুমায়ুন আজাদদেরটা আমার হিসাবে বুর্জোয়া ফেমিনিজম কইতে পারি। রেহনুমার স্কুলটারে মনে হয় থার্ডওয়ার্ল্ড মার্ক্সিস্ট ফেমিনিজম কইতে পারেন। এইগুলার মাঝে চিন্তার ধার বেশি রেহনুমার স্কুলের; কারণ, জেন্ডার, রেস, ধর্ম, ক্লাস, কলোনাইজেশন এবং এনভায়রনমেন্ট–সবগুলা ইস্যুই ধরার রাডার আছে থার্ডওয়ার্ল্ড মার্ক্সিস্ট ফেমিনিজমে। রেহনুমা নিজে এনথ্রোপলজিস্ট, তাতে বাংলাদেশের সোশিও-কালচারাল ইস্যুগুলা বুঝতেও সুবিধা হইছে তার। বাংলায় চিন্তা এবং লেখায় একটিভ বহু ফেমিনিস্ট রেহনুমার স্কুলের।

প্রফেসর রাজ্জাকের চিন্তার স্কুলের খতিব হিসাবে ড. খান এবং ফরহাদ মজহার নিজেদের দায়িত্ব হিসাবেই রেহনুমার উপর প্রতিশোধ লইতে চাইতে পারেন। এই স্কুলের দুই খাদেম যেমন রেহনুমার উপরে ভার্চুয়াল হামলা চালাইছেন নাসরিন খন্দকারের ফেসবুক নোটে, ২০০৯ সালে রেহনুমার ঐ লেখাটা ফেসবুক নোট হিসাবে দিছিলেন নাসরিন খন্দকার। কিন্তু প্রতিশোধের বাইরেও কিছু ব্যাপার ভাবা যাইতে পারে। বহু পোলা ফেমিনিজমকে মাইয়াদের প্রতি ফ্লার্টিং টুল হিসাবে ইউজ করে, মাইয়াদের কাছে যাবার ব্রিজ হইতে পারে ফেমিনিজম।

বেগম রোকেয়া লইয়া ড. সলিমুল্লাহ খানের লেখাটার কিছুদিন আগেই রোকেয়ারে লইয়া ৩/৪ পার্টে বড় একটা লেখা ছাপছেন রেহনুমা। ড. খান পরে লিখলেন, দাবি করলেন, ভারতবর্ষের কলোনাইজেশনের কারণও পাওয়া যায় রোকেয়ার লেখায়। রোকেয়া নাকি কইছেন, পোলাদের শাসনের কারণেই ভারতবর্ষ পরাধীন। রোকেয়া এমন কিছু কন নাই আদৌ, এমন ভাবনা খুব পাতলাও আসলে, ভুল। কারণ, এই পোলাদের শাসনই তো আছিল ইউরোপে, তারা তো স্বাধীন থাকলোই, এই পোলাদের শাসন দিয়াই তো সারা জাহান কলোনি বানাইলো ইউরোপ!

কিন্তু যারা ড. খানের লেখা পছন্দ করেন তারা কি দেখলেন? ড. খানই রোকেয়ার সবচে ভালো রিডার, রেহনুমা রোকেয়ারে চিনতে পারেন নাই, রেহনুমার বিচারে রোকেয়া যা, রোকেয়া আসলে তার চাইতেও বড়ো! রেহনুমার স্কুলের অনেকের মুখ ড. খানের দিকে ঘোরার সম্ভাবনা দেখা গেল। তাইলে রেহনুমার চিন্তার দোস্ত বা সাবস্ক্রাইবার ভাগাইয়া লওয়াও হইলো, আবার আহমদ ছফার হইয়া প্রতিশোধটাও লওয়া হইলো :)!

ফরহাদ মজহারের এই কবিতা তেমনই আরেকটা চাল। কারণ, রেহনুমার স্কুল কর্তৃত্ব’র গান গাইতে পারে না, দুনিয়ার পোলাবাদী সিস্টেমটার গলদটা বোঝার কথা এই স্কুলের, তারা যেমনি পোলামাইয়ার বাইরের লিঙ্গের ব্যাপারে ভাববে, লগে এনভায়রনমেন্টালিজমের প্রতিও তো তারা সেনসিটিভ! ক্লাস আর রেস বা ধর্মের হিসাবে দুনিয়ার পোলা আর মাইয়ারে যে সিধা দুইটা ভাগ কইরা ফালানো যায় না সেইটাও বোঝার কথা এই স্কুলের। কিন্তু এই কবিতা এনজিও ফেমিনিজমের কেতায় ‘উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট’ ঘটাইতে চায় মাইয়াদের পুরুষ বানাইয়া। এনজিও ডিসকোর্স খুবই একটিভ থাকায়, এর পক্ষে দেশি ব্র্যাক বা গ্রামীণের লগে জাতিসংঘও আছে, এই স্কুলটার ওয়াজ করতেছে রাষ্ট্র; ফরহাদ সেই সব মনেই দোলা দেয়। ওদিকে বুর্জোয়া সিস্টেমে মালিক হবার লোভ পয়দা হয় মানুষের মনে, সেই লোভ ফরহাদের ‘বিবেক তাড়িত বুর্জোয়া ফেমিনিজম’ সাবস্ক্রাইবার বাড়াইতে থাকে। রেহনুমার স্কুলের চাইতে বেশি ক্রেডিবল হইয়া উঠতে থাকে কতক মানুষের মনে। দুনিয়ার কর্তৃত্ব লইতে মাইয়াদের দাওয়াত দেবার ছলে ফেমিনিজমেরও দখল লইতে ফরহাদের কদমে কদমে আগাইতেছে পোলা।

 

৩-১০ আগস্ট ২০১৭

রিলিভেন্ট লিংকস:

কর্তৃত্ব গ্রহণ কর, নারী: ফরহাদ মজহার:

https://goo.gl/Fn1T2f

কতিপয় আব্বাজান’। পিতৃতন্ত্রের অবিভাজ্য সত্য/রেহনুমা আহমেদ:

https://goo.gl/HNGMPd

বেগম রোকেয়ার এয়ুটোপিয়া/সলিমুল্লাহ খান:

https://goo.gl/fcMS21

 

আগের/পরের পর্ব<< পয়েন্টস অফ ভিউ
শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য