Main menu

ডিলিং উইথ সোসাইটি: কোলকাতা, মুম্বাই আর ঢাকা

সমাজকে ডিল করায় কোলকাতার ক্লাসিক মডেল হইলো আক্রমণ করা; এইটা শুরু হইছে ইয়ং বেঙ্গলের হাতে। শাসক ইংরাজের কালচারাল রিপ্রেজেন্টিটিভ ডিরোজিও’র শিষ্যরা এই মডেলের পাইওনিয়ার।

এই মডেলের গোড়ার কথা হইলো সমাজকে চাবুকপেটা করতে হবে। ইয়ং বেঙ্গলের কয়েকটা চাবুক আছিলো: মদের চাবুক, গরুর গোস্তের চাবুক, আর ছোট জাতের চাবুক। সমাজরে চাবকাইয়া সোজা কইরা ফেলা হবে এই মডেলে। এর ভিতর একটা মজার আয়রনি আছে; যেই সমাজরে চাবকাইয়া সোজা করা হবে মাইরের এসথেটিক্সও সেই সমাজেই পয়দা হইছে। মাইরের উপর ওষুধ নাই–এই এসথেটিক্স চর্চাকারী সমাজকে মাইর দিয়াই, মানে চাবকাইয়া সোজা করা হবে। এই মডেল তাইলে সমাজরে কতটা পাল্টাইতে পারে? আক্রমণের এসথেটিক্সকে হামলা করার দরকার দেখলো না এই মডেল; অথচ এই সমাজে ব্যক্তির বন্দিদশার শুরু এবং শেষ এই আক্রমণের এসথেটিক্স!

এই সমাজ ব্যক্তিরে আক্রমণ করে–ব্যক্তির যাবতীয় চয়েস-এ নাক গলায় সমাজ; তাইলে আক্রমণের এসথেটিক্স চর্চা কইরা কতটা সোজা করা যাবে এই সমাজ? সেই সওয়াল-জবাব দেখা যায় নাই ইয়ং বেঙ্গলের মাঝে। ইয়ং বেঙ্গলের এই ১৫০/২০০ বছর পরেও কোলকাতা সেই ক্লাসিক মডেলই অ্যাপ্লাই করতাছে দেখা যায়। সেইটা ক্লিয়ার হইলো চুমাচুমির আন্দোলনে।

তবে এই মডেল নিয়া কনসার্নড হবার আরো বড়ো কারণ আছে; ইয়ং বেঙ্গল বা এখনকার কোলকাতার চুমাপিপল–কোনটাই স্টেটের লগে কাইজ্জায় যায় না। অথচ দুইটার বেলাতেই স্টেটের লগে কাইজ্জা করার বিরাট কারণ ছিলো। ইয়ং বেঙ্গল কলোনাইজার ইংরাজের বিরুদ্ধে খাড়ায় নাই, বরং ইংরাজ আর ইউরোপের হামলায় তছনছ হইয়া যাওয়া সমাজরেই চাবকানো শুরু করে।

আর এখনকার ভারতে ব্যক্তি ও সমাজের উপর স্টেটের এমন একটা হামলার ঘটনা ঘটলো যেইটা সমাজের দুর্বলকে কন্সট্যান্ট হামলার নিচে রাখতে পারে। বলছি ভারতের আদালতের এক যুগান্তকারী রায়ের কথা। ওই আদালত বলছে, লাইফ সাইকেল-এ মেনোপজের পরে বা মাসিকপর্ব শেষ হবার পরে মহিলারা আর রেপড/ধর্ষিত হইতে পারে না। এর অর্থ হইলো বেশিরভাগের বেলায় ৫০ বছরের বেশি বয়েসের মহিলাদের জোর করে যৌনমিলনে বাধ্য করা হলে সেইটা কোন ক্রাইম হবে না।

ফলে, সমাজের মহিলাদের ব্যাপারে খবর রাখা হবে এখন, বাজারে মেনোপজ হওয়া মহিলাদের লিস্ট কিনতে পাওয়া যাবে; পরে সেই লিস্ট ধইরা ধইরা রেপ করা যাবে আরামসে, আইন/স্টেট আপনারে প্রোটেকশান দেবে। গাইনী ডাক্তাররা মেনোপজ হওয়া মহিলাদের নাম-ঠিকানা বেচবে বাজারে, মেনোপজ হওয়া ক্লায়েন্ট/পেশেন্টকে নিজেও রেপ করতে পারে, জোর কইরা ভাড়া দিতে পারবে; এতে কোন ক্রাইম হবে না, কেননা ওইটা লিগ্যালি রেপ হবে না। যেকোন রেপ কেসের বেলায় এখন থেকে রেপড মহিলার ‘মেনোপজ হয় নাই’ বলে একটা মেডিক্যল সার্টিফিকেট দরকার হবে, আদালতে দিতে হবে।

কোলকাতার চুমাপিপল স্টেটের এই বিপুল হামলায় কোন রিঅ্যাকশন দেখায় নাই; তাঁরা রিঅ্যাকশন দেখাইলো চুমাচুমির জন্য নির্যাতনের একটা ঘটনায়। তাদের এই রিঅ্যাকশন কার বিরুদ্ধে? সমাজের বিরুদ্ধে; নির্যাতন কি সমাজ করছিলো ওই ঘটনায়? ওই রকম পাবলিক চুমাচুমি ভারতের সমাজ পছন্দ করে না, বাট সেই সমাজ কি নির্যাতন করলো ওই ঘটনায়? খবরে দেখা যায়, নির্যাতনকারীরা একটা পলিটিক্যল পার্টির নেতা; তাইলে দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনায় নির্যাতনের সাহস সমাজ যোগায় নাই, বরং পলিটিক্যল পার্টি সূত্রে স্টেট যোগাইছে। অথচ কোলকাতার এই চুমাপিপলের হামলার শিকার হইলো সমাজ। কেন?

কারণ, এই বিষয়ে নচিকেতার একটা ভুল গান আছে; গানের বিষয়– চুমা ক্রাইম বাট ঘুষ ক্রাইম নয়; এইটা ভুল গান কারণ, ভারতের আইনে ঘুষ-ই ক্রাইম, চুমা ক্রাইম নয়। মেনোপজ নিয়া নচিকেতা বা সুমনের কোন গান থাকলে ওই ইস্যুতেও একটা মুভমেন্ট হইতে পারতো মনে হয়।

কোলকাতার ওই ক্লাসিক মডেল নিয়া বাংলাদেশের চিন্তিত হবার কারণ আছে; কেননা, স্টেটের বদলে সোসাইটিকে হামলা করার রেওয়াজই পাওয়া যায় বাংলাদেশে। লালসালু’র শিক্ষিত/মডার্ন পোলা দিয়া ওই মডেল অ্যাপ্লাই করার শুরু; পরে আমরা তসলিমা নাসরিন এবং হুমায়ুন আজাদরে পাইছি ওই মডেলের ভক্ত হিসাবে। এমনকি আরজ আলী মাতুব্বরও ওই মডেলের ভক্ত আছিলেন। বাংলাদেশের সিনেমায়ও ওই মডেলের ভক্ত পাইছি আমরা; এমনকি ফারুকীও টেলিভিশন দিয়া সমাজমুরুব্বীদের ভণ্ড বানাইছেন। আর ইদানিং কালে শাহবাগে ব্লগারদেরো পাইছি ওই মডেলের ভক্ত হিসাবে। কী ফল হইছে তাতে? লালসালু’র মডার্ন পোলা শহরে ফিরা গেছে, আরজ আলী মাতুব্বর একঘরে হইছেন, হুমায়ুন আজাদ খুন হইছেন, তসলিমা নাসরিন হইছেন দেশছাড়া এবং বাংলাদেশে ব্লগার পরিচয় দেওয়া শেষ হইয়া গেছে। ফারুকী একটু ভালো আছেন–মুম্বাইয়ের রাগিনী এমএমএস আর গায়ের রং বেচতে পারতেছেন এখনো। কিন্তু এদের চাবুকে সমাজ কি সোজা হইছে? না। সমাজের পরিবর্তনের ক্রেডিট এদের চাইতে বরং মীনারেই বেশি দিতে হবে।

ভারতীয় আদালতের ওই রায়, কোলকাতার চুমাপিপল আর সমাজকে ডিল করার ওই ক্লাসিক মডেল নিয়া বাংলাদেশের চিন্তা করার আরো কারণ আছে। মে বি, স্টেট ইন্ডিয়ার যেই আইন মোতাবেক ওই রায় হইলো সেইটা বাংলাদেশেও আছে; এর কারণ হইলো দুই দেশের আইনের গোড়াই কলোনিয়াল ইংরাজের লিগ্যাল সিস্টেম। ভারতের এখনকার আইন বিষয়ে আমি সিওর না, তবে সেই কলোনিয়াল আইন এখনো চালু থাকলে ওই আদালত লিগ্যাল অর্থে ঠিক রায়ই দিছে।

কারণ, ভারত বা বাংলাদেশে রেপ আসলে মেয়েদের প্রতি ঘটা কোন ক্রাইম নয় আদৌ; রেপ হইলো অন্য পুরুষের প্রতি ক্রাইম। ১৮৬০ সালে কলোনিয়াল ইংরাজের জারি করা পেনাল কোডের ৪৯৭ ধারাটা পড়েন,

497. Whoever has sexual intercourse with a person who is and whom he knows or has reason to believe to be the wife of anther man, without the consent or connivance of that man, such sexual intercourse not amounting to the offence of rape, is guilty of the offence of adultery, and shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both. In such case the wife shall not be punished as an abettor.

বাংলাদেশে এখনো চলমান পেনাল কোডের এই ধারা মোতাবেক কোন স্বামী যদি তাঁর বউ’র লগে অন্য কোন পোলার যৌনমিলন অনুমোদন করে বা স্বামী যদি বউরে ভাড়া দেয় (স্বামীর যোগসাজসে) তাইলে কোন ক্রাইম হয় না; এইখানে বউ’র কনসেন্ট কোন ইস্যু নয়। এই ধারা মোতাবেক বউ’র কনসেন্ট না থাকলেও সেইটা রেপও হবে না, ব্যাভিচারও হবে না।

মেয়েদের কনসেন্ট যে বিশেষ কোন ইস্যু না সেইটা পেনাল কোডের ৩৭৫ ধারায় রেপের ডেফিনিশনেও ক্লিয়ার করা হইছে; ৩৭৫ ধারার ব্যাখ্যায় বলা আছে: ১৩ বছরের উপরে বউয়ের সাথে যৌনমিলন রেপ নয় (Sexual intercourse by a man with his own wife, the wife not being under thirteen years of age, is not rape.)। মেনোপজ নিয়া ওই রায়ে মেয়েদের কনসেন্টের এই গুরুত্বহীনতার লগে রিপ্রোডাকশনে মেয়েদের রোল বা বাচ্চার বাপ ঠিকঠাক রাখার কিছু ব্যাপার যুক্ত হইছে মাত্র।

যৌনমিলনে মেয়েদের কনসেন্টকে এইভাবে পাত্তা না দেবার পরেও এই স্টেটের বিরুদ্ধে খাড়াইবেন না আপনে, বরং পাবলিক চুমাচুমি দিয়া সমাজরে চাবকাবেন? আর বলবেন, পাবলিক চুমাচুমি আপনের পলিটিক্যল অ্যাকশন? এইটুক বোঝাবুঝি নিয়া বুদ্ধিজীবী হইবেন? পলিটিক্স করতে চাইতাছেন?

বরং দ্যাখেন, স্টেটে ওই রকম আইন চালু থাকলেও বউ ভাড়া দেওয়া বিশেষ ঘটতাছে না সমাজে/দেশে; যৌনতায় মেয়েদের বা বউদের কনসেন্ট নেওয়াই সামাজিক রেওয়াজ। তাইলে সোসাইটির এই ভ্যালুজ আরো নাজুক দশায় যাওয়া থেকে মেয়েদের প্রোটেক্ট করে; সামাজিক/কালচারাল ভ্যালুজ পাত্তা না দিয়া এই সমাজের স্বামীরা যদি স্টেট অনুমোদিত আইনী লিমিট প্রাকটিস করা শুরু করে তাইলে মেয়েদের কী দশা হবে?

তবু সোসাইটিকে ডিল করতে পারতে হবে আমাদের; যেমনটা আমরা চাই তেমন মুক্ত সমাজ তৈরি করতে হলে, সমাজের হামলাকারী ভ্যালুজ ইন-অ্যাক্টিভ করতে সোসাইটি ডিল করার দরকার হবে আমাদের।

এজন্য শুরুতেই আমাদের দরকার হবে জনপ্রিয়তারে পাত্তা দেওয়া; পুরাপুরি এক্সটার্নাল/উল্টা জিনিস বা চিন্তা নিয়া সোসাইটি ডিল করা ঠিক হবে না। ধরেন, বাংলাদেশে আপনে একটা শুকরের মাংসের চেইনশপ দিলেন, সাইনবোর্ড টানাইয়া লিখলেন, ‘এইখানে কেবল মোসলমানদের কাছে শুকরের মাংস বেচা হয়'; দেশে শুকরের মাংসের বাজার বাড়াতেই এমন একটা মার্কেটিং করতে চাইলেন, বাট আপনে এতে কামিয়াব হবেন না; ২/৩ দিন ডিপ থিঙ্কিং-এর পরে এইটা আপনেও বুঝবেন। কামিয়াব হবেন না কারণ, এইটা পুরাই এক্সটার্নাল এবং সোসাইটির প্রতি এক্সট্রিম হামলাকারী এবং জনপ্রিয় হবার সম্ভাবনা নিয়া আপনে একদমই মাথা ঘামান নাই; আপনে হয়তো মনে মনে একটা স্যাডিস্ট প্লেজারের মধ্যে থাকতে পারেন যে, সোসাইটিরে আচ্ছা মতো চাবকানো গেল, সোসাইটি এইবার সোজা হইয়া যাবে; বাট এর ফল এই হইতে পারে যে, দেশের অমুসলিমদেরো শুকর খাওয়া বন্ধ করে দিতে হইলো!

ফলে, কোলকাতার ক্লাসিক মডেল বা নচিকেতা নামের এক ‘সান অব এ গান’ ফালাইয়া দেন আপনে; বরং বলিউড মডেল নেন; বলিউড মডেল নেন কারণ, আমাদের আশপাশে সবচে সফল সোসাইটির সাথে ডিলিং বলিউডে পাইবেন। এখনকার একটা খারাপ এক্সাম্পল দিয়াই শুরু করি। মাধুরীরে দিয়া একটা শর্টফিল্ম/অ্যাড বানাইছে ভারতে; ইস্যু হইলো মেয়েদের উপর নির্যাতন; মরদের কানতে হয় না বলে শিখানো হয় সমাজে; না কান্দার এসথেটিক্স চর্চা করতে করতে মরদ এতোই শক্ত হইয়া উঠতাছে যে পরিবারের মাইয়ারা কানলে ওই মরদের কিছুই আসে যায় না। শেষে মাধুরী পর্দায় আইসা বলে মরদের কানতে হয় না–এইটা না শিখাইয়া শিখান আসল মরদেরা অন্যরে কান্দায় না।

এই অ্যাডও সেক্সিস্ট; কিন্তু এর টেকনিক হইলো মরদরে আরো বড়ো বানাইয়া মেয়েদের নির্যাতনের মর্দানি কমানো; মর্দানির ডেফিনিশন পাল্টাবার চেষ্টা করা, এমন একটা ডেফিনিশনের দিকে নিয়া যাবার চেষ্টা করা যেইটা এই সোসাইটির মরদের/মর্দানির জন্য অপমানজননী বলে ভাবা না যায়; মরদের কনসেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করা; একই সাথে যেইটা মেয়েদের জন্য কম্পারেটিভলি মোর ফ্রেন্ডলি। থিওরেটিক্যলি প্রোবলেমেটিক একটা ক্যাম্পেইন এইটা; বাট এই মরদেরা আপনার সোসাইটিতে কোটি কোটি আছে এবং থাকবে–এইটা যদি মানেন তাইলে অপমান না করা এবং কনসেন্ট তৈরির চেষ্টার এই ভঙ্গি ছাড়া উপায় নাই প্রায়; একই সাথে এই ক্যাম্পেইনের মাঝে জনপ্রিয় হবার পোটেনশিয়ালও আছে বেশ। মোর ক্রিয়েটিভ কেউ হয়তো এই ভঙ্গি দিয়াই আরো যুৎসই কোন ক্যাম্পেইনের আইডিয়া দিতে পারবে। কোলকাতার ক্লাসিক মডেল দিয়া এই উদ্দেশ্যের একটা ক্যাম্পেইন হবে এই রকম–বউরে যারা পিটায় তারা কুত্তার বাচ্চা, হেট দেম।

বলিউডের আরেকটা এক্সাম্পল নিয়া ভাবেন– দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে। প্রেমিকের চ্যালেঞ্জ আছে নামেই; কার প্রতি চ্যালেঞ্জ? সমাজের প্রতি, সমাজের মুরুব্বীদের প্রতি–প্রেমিকার বাপের প্রতি। প্রেমিকই জিতলো শেষে; কিন্তু কিভাবে? বাই রেসপেক্টিং মুরুব্বী; ওরা দুইজন কি পালাইয়া যাইতে পারতো না? প্রেমিকের বাপ তাতে পুরাই রাজি; বাট প্রেমিক চ্যালেঞ্জ নেয়–প্রেমিকার বাপের কনসেন্ট পাবার চ্যালেঞ্জ। এই কাপল বিভিন্ন পরীক্ষা দিতাছে সিনেমায়, বাট প্রেমিকের রেসপেক্ট এবং সেই সব পরীক্ষায় আস্তে আস্তে দুর্বল হইতে থাকে প্রেমিকার বাপ, শেষে কনসেন্ট দেয়। এই রেসপেক্ট এমন বিপুল জিনিস যে এই সিনেমা ভারতের এক হলে ২০ বছর যাবৎ চলতে পারে বিরতি ছাড়া। মুরুব্বীদের এই যে রেসপেক্ট করতে থাকা বাট প্রেমে কোন ছাড় দিতে রাজি না হওয়া, এর ফল কি ভারতে? অনুমান করি, বলিউডে সমাজ এবং সমাজের মুরুব্বীদের রেসপেক্ট করার এই রেওয়াজের কারণে ভারতে ছেলে-মেয়েদের প্রেম মেনে নেবার একটা কালচার তৈরি হইতে পারছে।

বলিউডে এই রেসপেক্টের সবচে টাচি এক্সাম্পল পাইবেন শোলে সিনেমায়; শোলে একটা নকল সিনেমা–কুরোসাওয়া বা হলিউডি এক ওয়েস্টার্ন সিনেমার। বাট এই সিনেমায় জয়া ভাদুরী’র চরিত্রটা ইউনিক; শোলের ঠাকুর বা জয়-বীরুর দোস্তি বা গাব্বার সিং বা বাসন্তি’র ভঙ্গি/ডায়লগ এখনো বলে বলিউডের দর্শকরা। বাট জয়ার চরিত্রটা মুভি থেকে ইরেজ করা হলে শোলে অ্যাপিল হারাইয়া ফেলবে অনেকখানি। এইটা এতো পাওয়ারফুল একটা চরিত্র যে বিধবা মেয়েদের প্রতি নির্মম হিন্দু সমাজকে বিধবার ডিজায়্যার বিষয়ে খুবই পজিটিভ অর্থে সচেতন করে তুলতে পারছে। শোলে হিন্দু বিধবার ডিজায়্যার এবং সে সম্পর্কে সমাজের করণীয় দেখাইয়া দিতে থাকে; বাট উইথ হিউজ রেসপেক্ট।

প্রেমে পড়া হিন্দু বিধবা জয়া প্রেমিক অমিতাভের দিকে ছুইটা যাবার সময় শ্বশুরের সামনে পড়ে; শ্বশুর ঠাকুরের হাত নাই একটাও; অমন অক্ষম শ্বশুরের সামনেও নিভে যায় বিধবার প্রেম, থেমে যায়, সামলে নেয়, পিছাইয়া যায় দুঃখ মনে চাপা দিয়া, হাতহীন শ্বশুরের প্রতি রেসপেক্ট থামাইয়া দেয় তারে; প্রেমিক অমিতাভও কখনো ওই রেসপেক্ট ছাড়াইতে উসকাবার চেষ্টা করে না। শ্বশুর দেখলো তাকাইয়া– দেখলো পোলাবউ’র ওই উতলা দশা, দৌঁড়, ডিজায়্যার, থেমে যাওয়া; কিছুই বলে নাই শ্বশুর। ঠাকুর পরে জয়ার বাপের সাথে কথা বলে পোলাবউ’র আবার বিয়ের ব্যাপারে, অমিতাভ-জয়ার বিয়ার প্লান করতে থাকে।

কিন্তু এই ব্যাপারে শোলের স্ক্রিপ্টরাইটার সেলিম-জাভেদ আর পরিচালক এস্টোনিশিং সংযম দেখাইছেন; বিধবার বিয়াটা ঘটান নাই ওনারা সিনেমায়; বরং প্রেমিক অমিতাভকে মাইরা ফেললেন তাঁরা; অমিতাভের মরার ভিতর দিয়া জয়ার পেইন দর্শকের ভিতর ঢুইকা গেলো, ঢুইকা গেলো সমাজের ভিতর। সমাজের প্রতি এই যে রেসপেক্ট বলিউডের ফিল্মমেকারদের, তার সুফল পাইছে ভারতের সমাজ বা মেয়েরা; বলিউডের হিন্দু দর্শক সমাজে বিধবার বিয়া মেয়েদের বিরুদ্ধে একটা ইস্যু হইয়া থাকা বা ইস্যু হইয়া ওঠা ঠেকাইয়া দিছে ওই রেসপেক্ট।

সোসাইটিকে ডিল করায় কোলকাতার ক্লাসিক মডেল নেয় নাই বলে এবং জনপ্রিয় হবার দিকে পুরা মনযোগ দিছে বলেই বলিউড এতো পাওয়ারফুল হইয়া উঠতে পারলো; আর কোলকাতা বা ঢাকা নিলো/নিতাছে বলেই ওরা বা আমরা পুসকে আর খুচরা সব নার্সিসিস্ট বিপ্লবী হইয়া থাকলাম বা স্যাটিসফাইড মরনের দিকে যাইতাছি।

৯ নভেম্বর ২০১৪

 

আগের/পরের পর্ব<< আপনার চাইতে আর্ট বেশি বোঝে ওরাম্যাসোকিস্ট ফরহাদে ক্যাথারসিস পাইবেন, রাস্তা তত না >>
শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য