Main menu

খুচরা আলাপ

১.

“আমার অস্ট্রেলিয়ান তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘… তোমার ফাইন্ডিংসে একটা বিষয় স্পষ্ট যে অস্ট্রেলিয়ায় ইমিগ্রেন্ট বাংলাদেশি মায়েরা কিশোরী মেয়েদের প্রিম্যারিটাল সেক্সুয়্যাল এক্সপোজার নিয়ে ভীষণ চিন্তিত থাকে। তোমার দেশে কি প্রিম্যারিটাল সেক্সুয়্যালিটি নাই?’
আমি জবাব দিলাম আছে কিন্তু এটা একটা ট্যাবু এবং নারী ও তার পরিবারের সামাজিক সম্মান এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে একে সবসময় বাধা দেয়া হয়।
তত্ত্বাবধায়ক বললেন, ‘এটা তোমরা কিভাবে আটকাও?’
আমিঃ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনের মাধ্যমে।
তত্ত্বাবধায়কঃ কিভাবে?
আমিঃ একটা উদাহরণ দিতে পারি যে আমরা সাধারণত সেক্সুয়াল ইস্যু নিয়ে অবিবাহিতদের সামনে আলোচনা করিনা এবং বাচ্চা কিভাবে হয় জানতে চাইলে শিশুদের বলি তাদেরকে হাসপাতাল অথবা ফুলের বাগান থেকে আনা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়কঃ ওয়াও! তোমরা কি এটা বন্ধ রাখতে পারছো সমাজে?
আমিঃ না”

এইটা আমার এক ফেছবুক ফেরেন্ডের স্ট্যাটাছ, উনি এইটা কতটা পাবলিক করতে চান, জানি না, তাই নামধাম দিলাম না এইখানে, ততো দরকারও নাই এই বেপারে আমার আলাপে।

বাংলাদেশের মানুশের ছেক্স-লাইফ লইয়া এইখানে একটা আইডিয়া আছে; বিদেশিরা এমনে একটা আইডিয়া পায়, তারা ধইরাই নেয় জে, নিজের কালচারের বেপারে তো বাংলাদেশিদের জানারই কথা! ওদিকে, এই শব বেপারে আমাদের কির্টিকেল চিন্তাভাবনার শুরুটাই হয় আশলে কতক বিদেশি চিন্তার ছোবল খাবার পরে! মানে হইলো, আমরা পেরায়ই জেই নজর দিয়া দেশটারে দেখি, শেই নজরটা পয়দাই হইতে পারে লোকাল নজর মেছমার হইয়া জাবার পরে! এবং ঐ বিদেশি চিন্তার ছোবলে পয়দা হওয়া নজরটাই বিদেশি লোকের কাছে লোকাল নজর হিশাবে ধরা দেয়! এমনে চিন্তার একটা ছাইকেল ঘুরতেই থাকে।

কিন্তু আমরা শবগুলা পক্ষ হুশিয়ার হইলে আমাদের নজর জেমন আরেকটু ছাফ হইতে পারে, অমন ধইরা নেবার গলদেও হয়তো পড়তে হয় না!

অমন নজর এবং ধইরা নেবার ঘটনারেই বরং কির্টিকেলি দেখা দরকার আমাদের! কেন দরকার শেইটা বাংলাদেশের মানুশের ছেক্সলাইফ আরেকটু খেয়াল করলে খোলাশা হইতে পারে।

দেশের মা-বাপেরা নিজেদের পোলামাইয়ার ইয়ারদোস্তদের কেমনে দেখে? অনেক শময়ই পছন্দ করে না; কিন্তু পোলাদের পোলা ফেরেন্ড আর মাইয়াদের মাইয়া ফেরেন্ড থাকারে খুবই নরমাল ভাবে শমাজ; মা-বাপ-ফেমিলির চাওয়া ছেরেফ এই জে, পোলামাইয়ার ইয়ারদোস্তরা জেন নেশাখোর না হয়, লেখাপড়ায় ভালোর দিকে থাকে, মোটামুটি ভালো ফেমিলির ভালো ভালো পোলামাইয়া হয় জেন। এবং পোলাদের পোলা দোস্ত এবং মাইয়াদের মাইয়া দোস্তরা একজন আরেকজনের বাশায় জায়, রাইতে থাকে, মা-বাপ আপত্তি করে না। কখনো এমনকি তারা চায়ও এদের, তাদের দরকারি নজরদারিটা পোলামাইয়ার দোস্তদের জেরা কইরা অনেকখানি বোঝার চেশ্টা করে, কাদের লগে মেশে শেই খবরটা রাখতে চায় মা-বাপ।

এরা ঘুমায় কই? এক লগে, এক বিছানায়, এক খেতার তলে। দুয়ার আটকাইয়া দিতে পারে তারা, শারা রাইত তো বটেই, তার বাইরেও ঘন্টার পর ঘন্টা এক লগে থাকতে পারে তারা। এই শময়টা কি জৌনশম্ভব? আলবত। কে করে, কে করে না, শেইটা বেপার না, কিন্তু করতে চাইলে বাপ-মা-ফেমিলি-শমাজ কেউই আটকায় না, একই লিংগের ইয়ারদোস্তদের হোমোছেক্সুয়ালিটি কি তাইলে পারমিট করে শমাজ? বেপারটা পারমিশনের না, ঠেকাবারও না, শমাজ ছেরেফ মাথাই ঘামায় না ঐটা লইয়া! এমনকি রাস্তায় হাত ধইরা হাটা, কান্ধে-কোমরে হাত দিয়া হাটা একই লিংগের মানুশের জন্য নরমাল বাংলাদেশে। এমনকি ভাতার-বউরাও পার্টনারদের ইয়ারদোস্তদের লগে এমনে থাকায় আপত্তি করে না বেশিরভাগ শময়, করলেও শেই অন্য ইশু–পয়শাপাতি উড়ানো বা নেশা ইত্যাদি, ছেক্স পেরায় নাই। আগে বা এখনো গেরামের দিকে একই নামের পোলা-পোলা বা মাইয়া-মাইয়া ‘মিতা’ পাতাইতো, তারা অমনে এক লগে ঘুমানো থিকা হেটারোছেক্সুয়াল পিরিতি বা বিয়ায় হেল্প করতো, বউ’র লগে ঝগড়া কইরা মিতার লগে জাইয়া ঘুমাইতো, থাকতো দিনের পর দিন! এর লগে তুলনা করেন তো ছো কল্ড জৌন-লিবারাল দেশগুলার! পোলামাইয়ারা নিজের নিজের মিতা-দোস্ত লইয়া অমনে থাকতে থাকলে, একজন আরেকজনের কোমরে হাত দিয়া দুই পোলা ঘুরতে থাকলে কি ধইরাই নেবে না জে তারা হোমোছেক্সুয়াল? এমন একটা ছবি হেটারোছেক্সুয়াল কোন মহাপিরিত ভাইংগা চুরমার কইরা দিতে পারে তাদের!

এইখান থিকা তাইলে বাংলাদেশের এই মানুশের ছেক্সলাইফের বেপারে কি ডিছিশন লইবেন আপনে? দেশে বাইছেক্সুয়ালিটি কমন, নরমাল এবং শমাজ এইটা লইয়া মাথাই ঘামায় না! এখন এই হক জদি দেশের মানুশের অলরেডি থাকে কাফি, তাইলে দেশে ছো কল্ড ‘এলজিবিটিকিউ’ মুভমেন্টের মানে কি, এমন মুভমেন্টের উপর শমাজ কেন হামলা করে আবার!

কিন্তু ঐদিকে জাবার আগে দুয়েকটা কথা কইবার আছে; উপরের আলাপে ছেক্সের জেই মস্ত ভুবন দেখাইলাম, শেইটা তাইলে ‘বিয়ার আগে বা বিয়ার বাইরে বা এক্সট্রা-ম্যারিটাল’ ছেক্স হইতেছে কিনা? এবং এইটাই না কেবল, বুড়া মহিলাদের কাছে পোলাদের জাতায়াত লইয়াও মাথা ঘামায় না শমাজ; বুড়া মানে কি? খেয়াল করলে দেখবেন, এই বুড়া মানে মেনোপজ হইয়া জাওয়া মহিলারা! তাইলে বরং পোশ্নটা উল্টা কইরা জিগাইতে পারি আমরা–বিয়ার বাইরের কেমন কিছিমের ছেক্স লইয়া মাথা ঘামায় শমাজ? এর জবাব হইলো, মাশিক জামানায় আছে এমন মাইয়াদের হেটারো-ছেক্সুয়াল ছেক্স লইয়া মাথা ঘামায়, এইটা ঠেকাইতে চায় এবং বাংলাদেশে জৌন-লিমিটেশন মানে এইটাই, এর বাইরে খুব নাই।

তাইলে হোমো-ছেক্সুয়ালিটির উপর শমাজের হামলাটা আশলে কি? পয়লা ঘটনা হইলো, এইটা হোমোছেক্সুয়ালির উপর হামলা না, কেননা ঐটা কমন এবং নরমাল, হামলাটা হইলো হোমোছেক্সুয়ালিটির নিশানের উপর। এইটা শমাজে চলতে থাকবে, নরমালই, কিন্তু এইটা জে নরমাল শেইটা চিল্লাইয়া কইতে দেবে না আপনারে! শমাজের দাবি হইলো, আপনে হোমো-ছেক্সুয়ালিটি পেরাকটিছ করেন ঠিকাছে, কিন্তু আপনের অন্তত বাই-ছেক্সুয়াল হইতে হবে, রিপোডাকশনের দায়িত্ব লইতে হবে আপনার এবং হোমোছেক্সুয়ালিটির দাওয়াতি পোজেক্ট চালাইতে পারবেন না শমাজে, নিশান উড়াইতে পারবেন না।

দেশের মানুশের ছেক্স-লাইফের এই জে হালত, এইটারেই কি তাইলে আমি আইডিয়াল কইতেছি, বেক্তির মনখুশি মতো চলার হক তাইলে থাকলো কি শমাজে? না, তেমন কিছু কইতেছি না আমি। আমি কইতেছি এলেমদারি ডিছিশন লইতে! কেমন?

শুরুতেই আমাদের মানা দরকার, শমাজ মানেই শাশনের একটা ছিস্টেম, রাশ্টোও তাই। শুরুতেই আমাদের দেশ-শমাজ-রাশ্টোটারে চেনা দরকার, তারপর কে কি চাই, শেইটা কেমনে কতটা আদায় করতে পারি শেই মর্মে এলেমদারি পলিটিক্স করা দরকার। আমদানি করা চিন্তার নজর দিয়া এই শমাজকে অন্য কোন মাপে দেইখা শেই অন্য শমাজের ফন্দি-ফিকির দিয়া এই শমাজে পলিটিক্স করায় খতি বেশি, আপনে জা চান, শেইটা তো পাইবেনই না, উল্টা আরো হারাইতে হবে, শমাজে হামলা-মারামারি বাড়বে, ঘেন্নার ফলন বাড়তে থাকবে আরো!

দুয়েকটা ভাবনার ছবি দিয়া বুঝাবার টেরাই করি বরং! ধরেন, এই বাকশালি হুকুমতের খুন-রেপ-গুম-ডাকাতি-কথাই কইতে না পারা থিকা মুক্তি চান আপনে, লগে এলজিবিটিকিউ নিশানটাও উড়াইতে চান; দেশের আমজনতা কেবল বাকশালি হুকুমত থিকা মুক্তি চায় এবং আপনের ঐ নিশান চুরমার কইরা ফেলতে চায়। এখন আপনে দেখলেন, দেশে হোমো-ছেক্সুয়ালিটি পেরাকটিছ আরামেই করতে পারতেছে লোকে, আপনে চাইলে আপনেও পারতেছেন, ছেরেফ নিশানটাই উড়াইতে পারতেছেন না। আপনের জন্য এলেমদারি ডিছিশন তাইলে কোনটা হবে–ঐ নিশান উড়াবার খায়েশ মুলতবি রাইখা জনতারে লগে লইয়া বাকশালি হুকুমত থিকা মুক্তির লড়াইটা শুরু করা, নাকি জনতার লগে নিশান উড়ানির মারামারিটা চালাইতে থাকা? কয়েক লাখ বিদেশি ডলারের শম্ভাবনা জদি না থাকে বা বিদেশে এছাইলামের খায়েশ জদি না থাকে আপনার, তাইলে নিশান উড়ানিটা মুলতবি রাখাটারেই এলেমদারি ডিছিশন হিশাবে চিনতে পারবেন; তার বাইরে ফরেন মালে আপনের নজরে ধান্ধা লইগা থাকলেও অবশ্য জনতার লগে মারামারিটা করতে পারেন!

এমন শব ইশুতে জনতার লগে জারা মারামারি করে তাদের অনেকেই ফলিছি এডভোকেছি করে, শরকারি মদদে ধান্দা হাছিল করতে চায়। একবার ছিনতাইকারি ধরলো কয়জন হিজড়া, বাকশাল কইলো, ওনাদের পুলিশ বাহিনিতে ঢুকাইবে; মহিলা এমপি’র কোটায় এক হিজড়ারে এমপি বানাইলো বাকশাল, ঐ লোকজন অনেকে খুব বাহবা দিলেন, ওনারা ভাবে শরকার ওনাদের লগে আছে, শরকারের লাঠি দিয়া শমাজ পিটাইয়া শোজা কইরা ফেলবেন! পুলিশে কি নিছিল হিজড়াদের, আপডেট কি? বা একজন হিজড়াকে মহিলা কোটায় এমপি বানাইলে কি হিজড়া এমপি হইলো শে, আইডি পাইছেন হিজড়া হিশাবে?

আপনারে বরং ইউজ করলো বাকশাল, আপনে হইলেন বাকশালের ডুশেব্যাগ! আপনারে এইগুলা দিয়া ঠান্ডা রাইখা বাকশালি জুলুম আরামে চলতে পারলো! তার আশল পরিচয় আপনে বরং অন্য কতক ঘটনায় পাইবেন! নিচের দুইটা নিউজ হেডিং দেখেন:

ক. বরিশালে সমকামীতার সময় হাতেনাতে ৩ শিক্ষক আটক!
খ. পার্কে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে শতাধিক যুবক-যুবতী আটক

দেখেন, আপনের ভাবনায় শবচে কনজার্ভেটিভ জাগায় হোমো-ছেক্সুয়ালিটি চলতেছে, তাদের উপর হামলা করতেছে আপনের পেয়ারা রাশ্টো! পোলামাইয়ারা এমনকি হেটারোছেক্সুয়াল পেমপিরিতি করতেছিল, তাগো জেলে ঢুকায় মেজিস্টেট। আপনে জেহেতু শমাজের লগে মারামারি করায় বিজি, শেই মওকায় শরকারি হামলা চলতে পারে আরামে।

 

২.

হোসনি মোবারক বাংলাদেশের কচুরি ফুল দেইখা ফানা হইয়া গেলেন, মিশরের তাবত মরু আর বালিয়ারি কচুরি ফুলে ছয়লাপ কইরা ফেলার পেলান করলেন একটা; রাইতে মরুর নরোম ঠান্ডা ভাব, চান্দের রোশনাইর ফোয়ারা, চারপাশে কচুরি ফুল, মধ্যিখানে একটা বিছানা, বিটিশ রাজা এডোয়ার্ডের ছেক্স-চেয়ারের একটা মজবুত কপিও করাইছেন, শেইটাও থাকবে বিছানার লগে; একটা ১৩ বছরের মাইয়ার গায়ের নিখাদ ঘেরান চাইতেছেন মোবারক; কচুরি ফুলের ঐ রোমান্টিক বাগানে, এই ফুলে ঘেরান নাই বলে ১৩ বছরের মাইয়ার গায়ের নিখাদ ঘেরান পাইতে পাইতে রেপ করার মজার লগে কিছুর তুলনাই পাইতেছেন না মোবারক!

কিন্তু আফছোছ, মিশরের মরুতে জমলো না কচুরি ফুলের বাগান, এই ইশুতে ফেল করায় কয়েকজন উজির-আতেল-ছায়েন্টিস্ট খুনও করতে হইলো মোবারকের, কিন্তু কচুরিগুলার জানের ডর নাই, তারা মইরা গেল শব!

তবে মিশরের মরুতে কচুরি বা শুন্দরবনে ক্যাকটাছ আমদানির তুলনায় চিন্তা আমদানি অনেক শোজা, শেই চিন্তা জিন্দা থাকলো কিনা, কোন কাম করতেছে না আমদানি করা শমাজে, নাকি আকাম করতেছে, কিছুই বোঝার শোজা উপায় নাই, কচুরির মতো শবুজ না তো চিন্তা, বা হলুদও তো না, কোন রঙই নাই জে, রঙের বদল দেইখা বুইঝা ফেলবেন, মরছে বুঝিবা! বা চিন্তার ফুলও তো চেনা শোজা না!

তবে চিন্তার বেপারে ঐ কচুরি ফুলের তুলা জিনিশ হইলো ‘টার্ম/টার্মিনোলজি’। দেশে এমন কতগুলা টার্ম পাইবেন কতগুলা লোকের আলাপে। এমনই দুয়েকটা টার্ম হইলো ‘এলজিবিটিকিউ’ বা ‘নেপোটিজম’।

হালে বাংলাদেশে নেপোটিজম লইয়া আলাপটা আশলে ইনডিয়ার বলিউডে এই বেপারে আলাপের ইকো, বলিউড আবার হলিউডের ইকো। বলিউডে কংগনা রনৌত এই বেপারে মাঝে মাঝেই আলাপ তোলেন। কংগনার বেপারে খুব খেয়াল করার বেপার হইলো, উনি নেপোটিজম লইয়া আলাপে আছেন, কিন্তু কাস্ট-ছিস্টেমের আলাপে নাই, মোছলমানের উপর বিজেপি জুলুমের বেপারে আলাপে তো নাই-ই, কখনো বা পক্ষই লইয়া থাকেন বিজেপির! এখন একজনের কাছে কি শব বেপারেই কথা কইবার আবদার করতেছি আমি? না। শবাই শব বেপারে কইতে পারবেন না, এইটাই নরমাল। কিন্তু বলিউডে জদি জুলুমের একটা লিস্টি বানান তাইলে দেখবেন, নেপোটিজম ঠিক জুলুম না, বরং কারো কারো জন্য বাড়তি শুবিধা; এইটায় আপত্তি করার কারন আছে, কিন্তু বাড়তি শুবিধার আপত্তি তাইলে আরো গোড়াতেই করতে হয়, গোড়াটা হইলো–ধনি লোকের ওয়ারিশ তার জিন্দেগি শুরুই করে বাড়তি শুবিধায়, শেই শুবিধা আদৌ আমলে না লইয়া, শেইটারে ঠিকাছে ধইরা কেবল নেপোটিজমের আলাপটা কেবল একটা কেলাশের ইন্টার্নাল ফ্যাছাদের মামলা এবং শেই কেলাশটা বড়জোর ৫% লোকের, ৯৫% লোকের শমাজ আগেই বাদ পইড়া জাইতেছে!

আরো বড়ো বেপার হইলো, এইটারেই বড়ো কইরা দেখাবার ঘটনা আশলে আরো বড়ো বড়ো জুলুমকে পাশ কাটাবার রাস্তা বানাইয়া দেয়! বলিউডে ধরেন, গায়ের রঙের মামলার লগে নেপোটিজমের তুলনা কইরা দেখেন, ধনির বাড়তি শুবিধারে জদি জুলুম না ধরেন, তাইলে নেপোটিজমও জুলুম হয় না, বা হইলেও পুচকে জুলুম, তুলনায় গায়ের রঙের বেপারটা অনেক বড়ো জুলুম। লগে কাস্ট-রেছ-ধর্মের জুলুম তুলনা করেন, কেবল বলিউডে না, পুরা ইনডিয়াতেই নেপোটিজমের লগে কাস্ট-ধর্ম-রেছের জুলুমের তুলনা কইরা দেখেন তো, নেপোটিজম লইয়া আলাপটা আপনের লিস্টির কয় নাম্বারে থাকে? বা হিজড়া এবং মাইয়াদের উপর শমাজের টর্চার তুলনা করেন। কয় দিন আগেও একটা খবর দেখলাম এমন: বাজারে এক দলিত গাভিন মাইয়ার হাত লাইগা গেছে এক আপার কাস্টের মহিলার বালতির লগে, তাতে ঐ দলিত গাভিন মাইয়ারে পিটাইয়া মাইরা ফেলছে। এই মহিলার পেটের ভিতরের ঐ বাচ্চার কানে কানে আপনে শুনাইলেন জে, আমিও তো নেপোটিজমের ভিকটিম, কেমন হয়? বা ২ দিনের জেই মাইয়া বাচ্চাটারে জিন্দা কবর দিলো মাইয়া হবার দোশে, তার কানে জাইয়া কইবেন, নেপোটিজম, নেপোটিজম! বা কাম্মিরের কথা ভাবেন, গরু খাবার শন্দেহে দলিত বা মোছলমান পিটাইয়া মারা ভাবেন বা দিল্লিতে জেই মোছলমান গাভিন মাইয়ারে জেলে ঢুকাইলো, শেই টর্চারের লগে তুলনা করেন নেপোটিজম। আপনে হয়তো একটা আইডিয়াল শমাজের বাশনায় নেপোটিজম লইয়া বাংলাদেশেও মুভমেন্ট করতেছেন, কিন্তু জেইখানের ইকো হিশাবে এইটা পাইলেন তারা আশলে শাচ্চা জুলুমগুলা লুকাইতেই এইশব ফেনা বানাইতে থাকে, আরামে চলতে পারে তাইলে শাচ্চা জুলুমেরা!

আরো খেয়াল করেন, এই আলাপটা জেই হলিউড থিকা আছে শেইখানে এইটা কয়েক বছর আগের আলাপ, পরে বরং রেছের আলাপের অনেক পিছে পইড়া গেছে এইটা; কিছু দিনেই তারা বুঝতে পারছে ইন জেনারেল জে, শাচ্চা জুলুম এড়াইয়া থাকার রাস্তা বানায় এই আলাপ, পুরা আমেরিকাই এই করোনা মড়কের ভিতর রাস্তায় নামছে রেছের মামলায়।

এই শব চিন্তা বা টার্ম লইয়া নামার আগে আমাদের বিচার করা দরকার; নিজের শমাজ বোঝা দরকার। আপনার মতো আমি শমাজের শকল জুলুম মিনিমামে নামাইয়া আনতে চাই; কিন্তু ছোট ছোট জুলুম, ৫% মানুশের মামলা লইয়া বিজি থাকলে আখেরে কোন জুলুমই কমাইতে পারবো না, আমজনতার লগে দুশমনির রিশতা পয়দা কইরা এইটা আরো অশম্ভব! এবং আমজনতার লগে ঝগড়ার খেশারত কেবল ঐশবখানেই খতম হয় না। খেশারতটা আরো অনেক বড়ো! খেয়াল করেন, বাংলাদেশে বাকশালি হুকুমতের জুলুম, ইনডিয়ায় বিজেপি, আমেরিকায় টেরাম্প, ইউরোপেও হোয়াইট ছুপ্রিমেছি আরো বড়ো হইতেছে, মানুশের হক লইয়া জারা কথা কই, দিনে দিনে তারা জনতার থিকা আরো দুরে জাইতেছি, শারা দুনিয়াতেই, আমরা আর ভোটে জিতি না! কেন? দেখেন, ফজলুল হক ভোটে জিতছেন দেশে, তার তুলনায় দেশে আমাদের কথার কোন দাম নাই আমজনতার মাঝে! তার উপর ভরশা করছে এই শমাজ, আমাদের উপর ভরশা করে না, কেন? বা ধরেন পুরা ইনডিয়ায় লিবারালরা কোনঠাশা, আমেরিকায়, ইউরোপে, কেন? লিবারালদের উপর আমজনতার শেই ভরশা আর থাকতেছে না কেন?

আমার হিশাবে কারনটা হইলো, আমরা খুব এলিটিস্ট হইয়া উঠছি, আমজনতারে আর পাত্তা দেই না, ঘেন্না করি, বেকুব-আন্ধা কইয়া গালাগালি করি; শমাজের বড়ো বড়ো জুলুম এড়াইয়া এই শব পুচকে টার্ম লইয়া লাফাই, জেগুলার বেশিরভাগ আবার ঐ জনতার মনে হামলা চালায়।

আপনে জা কিছুই করতে চান, ভোটে জিততে না পারলে তার কিছুই করতে পারবেন না; ভোট এড়াইয়া কিছু করতে চাইয়া দেশে বাকশাল পাইছেন, মিশরে পাইছেন ছিছি। আর ভোটেও নামবেন, জনতার মনেও হামলা চালাইবেন, তাইলে পাইবেন বিজেপি বা টেরাম্প।

মনে মনে আপনে জা কিছুই চান, জতো আইডিয়াল শমাজই চান না কেন, জনতার কোলে উইঠাই কেবল ধিরে ধিরে তা করতে পারবেন, জনতারে কনভিন্স করতে হবে। আপনের এজেন্ডা ভুইলা পপুলিস্ট হইয়া জাইয়েন না, কিন্তু আপনের এজেন্ডারে জনতার শহ্যখমতার এতো বাইরের কিছু বানাইয়া তুইলেন না জাতে আপনের উপর জনতার কোন ভরশাই না থাকে, তাতে আপনার এবং জনতার দুশমন বাকশালিদেরই লাভ, জেই ৫% লোকের উপকার করতে চাইছেন তাগো উপর হামলা তাতে আরো বাড়বে! ছেরেফ এইটা ভাবেন, হোমোছেক্সুয়ালির নিশান উড়াইতে গেলে দেখবেন, জারা এতো দিন আরামেই হোমোছেক্সুয়ালিটি পেরাকটিছ করতেছিল, খেয়ালই করে নাই শমাজ বা মাথা ঘামায় নাই, তাগো লইয়া মাথা ঘামানো শুরু করছে, আপনে মনে করাইয়া দিছেন, তাই মনে পইড়া গেছে, এদের উপর হামলা করায় তেমন ঝামেলায় পড়তে হবে না ভাইবা হামলা করতেছে! এমনশব হালতে পেরায়ই দেখবেন, এগুলারে উছিলা বানাইয়া জমি দখল, রেপ ঘটার মওকা বাড়তে থাকবে; জারা এইটা না, তাগো উপর হামলা করার টুলও হইয়া উঠবে, টেরোরিস্ট বা ইয়াবা মামলায় ফাশানোর ঘটনা জেমন দেখছেন, তেমনি আরেকটা রাস্তা বানাইতেছেন ছেরেফ…!

 

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
রক মনু

লেটেস্ট ।। রক মনু (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য