Main menu

খাশ বাংলার ছিলছিলা

পরস্তাব

‘বাংলাদেশের মানুশ’ বা ‘পুবের বাংলার মানুশ’ নামে একটা বই ছাপাইলেন, ধরেন ১০০ ফটোর একটা বই, নিজেরই তোলা বা অন্যদের, সেই বইতে সবগুলা ছবি বাংগালিদের, কেমন হয় বেপারটা? মানে চেহারা সুরতে বাংগালি হিসাবে কাউকে চেনা কতটা যায়, তেমন চিনতে চাওয়া হয়তো জাতের আলাপ, রেছিজমের চর্চা ভাবারও কারণ আছে, তবু চাকমা-মান্দি-রাখাইন-শাওতাল তো জুদা হিসাবেই দেশে আছে, নিজেরা বা অন্যরা জুদা করতে পারেও কেমনে জেন! একদিকে রেছিজম আরেকদিকে আইডির রাজনীতি, দুইটাই এড়াইয়াও এগুলা জুদা করার দরকার আছে; কারণ রেছ বা আইডির চিপায় চিপায় জুলুমও হয়, জালেমও আছে!

তো, তেমন একটা বই কেমন লাগবে আপনার? আপনে যদি শাওতাল বা মান্দি বা তিরিপুরা হন, তাইলে কেমন লাগবে? এইটারে কইতে হয়–বাংগালির দখলের দলিল, বাংগালি বাদে কাউকে বাংলাদেশের মানুশ বইলা শিকার না করার আলামত, লগে সেইসব মানুষের কালচারও অশিকার করা হইলো আসলে! খেয়াল কইরা দেখেন, এথনিং কিলিনজিং’র লগে আপনের একটা ভার্চুয়াল বা গায়েবানা মোলাকাত হইলো জেন!

এমন যদি হয় ঐ বইয়ের বেলায়, তাইলে ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা’ নামের একটা বইতে যদি কেবল বাংলায় লেখা থাকে, কেবল বাংলা ভাশা লইয়াই হয় লেখাগুলা, এই বইরে কেমনে দেখবেন? এই বইতে ভাশা কইয়া আপনে যদি আসলে ‘বাংলা’রেই বুঝান তাইলে ‘পূর্ব বাঙলার বাংলা/বাঙলা’ নামটাই তো জুৎসই, নাকি না!

কিন্তু এবাদুর রহমান বইটার নাম রাখলেন ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা'; যেনবা এইখানে ভাশা মানে তো বাংলাই, আর কোন ভাশা নাই! ওদিকে ‘পূর্ব বাঙলা’ কইলেও বাংলাদেশ নামে ইতিহাসের আমলনামারেও কিছুটা অশীকার করা হইতেছে! কিন্তু ওদিকে না যাই, ভাশায় থাকি এইখানে; কারণ, এই লেখায় এবাদুর বা ঐ বইয়ের জন্য অত বরাদ্দ নাই, ছোট্ট ইশু মাত্র! তবু দরকারি, আমার কতগুলা পয়েন্ট কিলিয়ার করতে এইসব নজির খুবই দরকারি।

এবাদুর বা এমন আরো অনেকেই আছেন, তাদের যতোটা চিনি, তারা দেশের পুরাটারে বাংগালির দখলে নেবার পায়তারা করেন না হরদম, বিদেশে কখনো হইলেও দেশে অন্তত বাংগালির ছেপাই হইতে দেখি না তাগো। তবু এনারাই দেখা জাইতেছে, কখনো কখনো এমন কইরা ফেললেন, বেহুশে কি?

হুশ আর বেহুশের খবর লইলে আজব কিছু চিজ পাইতে পারেন। এবাদুরের বইটা খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলার লগে বাংলার ফারাক লইয়া হুশিয়ার হবার তাগিদ আছে বইটায়, নিজেরাও শেই হুশের তাবেদারি করতেই বইটা ছাপাইছেন; ইনডিয়ার রাজ্য ‘পশ্চিমবংগ’র উল্টাদিকে বর্তমান বাংলাদেশকে শাবেক ‘পূর্ব বাঙলা’ হিশাবে ধইরা এইখানকার বাংলার নিশানা হাজির করছেন বইতে। তাইলে এই ব্যাপারে হুশ রাখতে জাইয়াই আরেকদিকে হুশ হারাইছেন জেন! একটু দূরের কারো ব্যাপারে রিএকশন দিতে জাইয়া আমরা এমন হই হয়তো, নিজেদের একাট্টা একটা দলা হিশাবে দেখতে থাকি বুঝি, নিজেদের মাঝে ফারাকগুলা মুলতবি রাখি!

এইটারে ধরতে পারেন জাতিবাদের ভুতের আছর, এই জাতিবাদের ভুত আমাদের দাবড়াইয়া পেরায়ই গণতন্ত্র থিকা দূরে লইয়া জাইতে থাকে। এই এবাদুরের দলে পাইবেন আরো দুই জন, ড. সলিমুল্লাহ খান আর মোহাম্মদ আজম। জাতিবাদে মাতাল রইছেন বইলা ওনারা গণতন্ত্রের রাস্তায় উইঠা আমজনতার কাছে জাইতে পারেন না।

কলিকাতার কলোনিয়াল কারখানায় পয়দা হওয়া বাংলার বেপারে ড. খান এবং ম. আজমের কতগুলা শাচ্চা পয়েন্ট আছে; ঐগুলা আদিতে কে বা কারা তুলছে শেই আলাপ বকেয়া রাখলে খতি নাই তেমন, ওনারা দুইজন এই জামানায় ঐ পয়েন্টগুলা জিকির করতেছেন, তাই ওনাদের লইয়া আলাপ করলেই চলবে। গোপনে কইয়া রাখি, শাচ্চা গোড়ার তত্ত্বতালাশের মুরোদই নাই আমার, দরকারি টাইম-পয়শা-মেজাজের অভাব আমার!

এই দুইজনের বরাতে পাইতেছেন জে, ‘মর্ডান বাংলা’ পয়দা হবার কালে ফার্ছি-আরবি শব্দ গায়ের জোরে বাদ দিছেন কলিকাতার বাংগালি আতেলরা। ম. আজম জানাইতেছেন জে, পূবের বাংলার ভংগিটাও বাদ দিছে এবং শেইটার জবাবেই ড. খান ‘শাধু বাংলা’য় লেখেন। দেখা জাইতেছে, ওনারা পূব বনাম পচ্চিম ধইরা কথা কইতেছেন; ‘বাংগালি মোছলমান’ নামে বঙ্কিমের একটা টার্ম ধইরা জাতিবাদি হইতেছেন, পূবের বাংলার হিশ্যা বুইঝা নিতে চাইতেছেন। ওনাদের তফাতটা তাই হইয়া উঠলো মুল্লুকের, শেই মুল্লুক আবার ধর্মের কওমের উছিলা মাত্র!

কিন্তু দুই মু্ল্লুকে ওনারা মানুশের জেই দুইটা দলা ধইরা লইলেন, তেমন দলা তো নাই! জাতিবাদ এমন দলা বানায়, কখনো ধর্মে, কখনো বা ভাশায় এমন দলা দিয়া মুল্লুকের হিশাব মিলায়। এতে দুই মুল্লুকেই মানুশের বেলায় এথনিক হিশাবে ছোটরা বাদ পড়ে শুরুতেই, তার পরে আছে কেলাশ আর জাতের মুশকিল; এই শব মুশকিলের আছান ঘটাইয়া ফেলেন জাতির দেমাগে! এই আলাপটা জেহেতু বাংলা ভাশা লইয়া, তাই দুই মুল্লুকেরই কেবল বাংগালি লইয়া মাথা ঘামাইলে ইনছাফের খেলাপ হয় না, শাওতাল থিকা রাখাইন এই আলাপের বাইরে রাখলাম তাই!

আজকের বাংলাদেশ আর ইনডিয়ান বাংলা বা পুরানা বাংলার দুই মুল্লুকে হিন্দু আর মোছলমান কইলে কোন একটা দলা পাইবেন না। হিন্দুদের মাঝে ৭০/৮০% শুদ্র, মোছলমানের ভিতর পেরায় অমন একটা শতকরা হিশাবেই আতরাফ পাইবেন। বাকিদের এথনিক দেমাগে ১ নম্বর গরজ দেখবেন নিজেদের এরিয়ান হিশাবে পোরমান করা, বামুন হিন্দু বা আশরাফ/খান্দানি মোছলমান–দুই দিকেই। এবং এইটা কলোনিয়াল ইংরাজের আগে থিকাই; ইংরাজের আগের ৩০০/৪০০ বছরের জেই বাংলা লিটারেচার পাইতেছেন তাতে তালাশ করলে ঐ বামুন আর আশরাফের দেমাগ মালুম হইতে পারে।

ঐ জামানার বাংলা কবিতা-গানে দেখেন পেরায় শবাই হয় শূদরো হিন্দু বা আতরাফ মোছলমান; মোমেনশাহি বা ময়মনশিংহ গিতে কত কত দাশ নজরে পড়বে আপনার, এমনকি ইংরাজের ঠিক আগে আগে বা শুরুতেও দেখেন রায় বা গুপ্ত, কিন্তু আরেকটু পরে দেখেন বামুনে ছয়লাপ! এই কোনা দিয়া চাইলে আপনের মনে হইতে পারে জে, ১৯৩০ আশলে বামুনের হাত থিকা বাংলা লিটারেচার আবার দখলে নিলো জেন শুদ্র-আতরাফ (দাশ, বসু, দে, দত্ত, নজরুল)! কিন্তু এইগুলা ছুরতের চেইন্জ, আরেকটু তলে গেলে ভাবের দুনিয়ায় জাইতে পারবো আমরা, ছুরত জেই ভাবের মুরতি।

বাংলার পয়দা

হিমালয়ের দখিনের ইতিহাশ জতোটা জানতে পারি আমরা তাতে ধর্ম আর ভাশার ফ্যাছাদ পেরায় একাকার হইয়া আছে। পুরান আর বেদের জামানার আগে এই ভুবনের আর শব ভাশা আর ধর্মের নিশানা অনেক ঝাপশা হইয়া গেছে; আমরা জানতে পাই বুদ্ধের ধর্ম আর ভাশার লড়াই: বর্ন আর জাত উতরাইয়া বুদ্ধ ধর্মরে গণতান্ত্রিক বানাইতেছেন, বুদ্ধে মানুশেরা বর্ন আর জাতের বাইরেই মানুশ ছেরেফ। এর লগে লগেই আমরা দেখি বুদ্ধ এবং তার পরের বৌদ্ধরা ‘দেব-ভাশা’ শংস্কৃত বাদ দিয়া তখনকার আমজনতার ভাশায় কইতেছেন, ওয়াজ-বয়ান করতেছেন, লিখতেছেন; অশোকের খাম্বাগুলার ভাশা খেয়াল কইরা দেখতে পারেন এই মর্মে। বাদশা অশোকের খাম্বায় পেরাকৃত-গিরিক-আরামায়িক ভাশা পাইতেছেন, কিন্তু শংস্কৃতে কোন খাম্বা লেখেন নাই। তিরিপিটক থিকা চর্জা, বৌদ্ধরা বেদ-পুরানের শংস্কৃত এড়াইয়া কেতাব লিখতেছেন। পরে শশাংক আর শেনেরা বঙ্গ-গৌড়ে শংস্কৃত এবং বর্ন-জাত আবার খাড়া করাইছেন; তার আগেই গুপ্তরাও বৌদ্ধ খেদাইয়া বর্ন-জাত আর শংস্কৃতে ছয়লাব করছেন হিমালয়ের দখিনের ভুবন। দরকারে পাইকারি খুন করছেন বামুনের শাঙ্গাত শশাংক, বংগ-গৌড়ের জারা পারছেন পালাইছেন, বাকিরা শুদ্র হইয়া, শমাজে নিচা জাত হইয়া রইছেন। এই জুলুম তারা ঠেকাইতে পারেন নাই, পারার ভিতর কেবল নিজেদের ভাশাটাই বহাল রাখা, শংস্কৃত অবশ্য শবাইরে শিখাইতেও চায় নাই ঐ বামুনেরা, ‘দেব-ভাশা’ বইলা কথা! কয়েকশো বছর এমন থাকতে থাকতে চৈতন্যের জামানা আইলো, ঐ শুদ্ররা তখন নয়া তাকত পাইলো গতরে, নিজেদের জবানে কাহিনি আর গানে গানে শংস্কৃতের জুলুমের আছান ঘটাইতে পারলো কতক!

কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন, চৈতন্যের জনম ঘটতে হিন্দু শমাজে জেই ময়দান দরকার আছিলো, শেইটা শেন-রাজারা থাকতে থাকতে গজাইতে পারে নাই, শেই ময়দান জোগান দিতে বর্ন-জাতের শিকল আলগা হবার দরকার আছিল এবং তখনকার বর্ন-জাত ততটা আলগা হইতে পারলো ছুলতানি আমলে! ঐ ছুলতানি আমলেই ইতিহাশে পয়লা ‘বাংলা’ শব্দটা পাইতেছি আমরা, তার আগে নাই! ঐ ছুলতানেরা ফার্ছি কায়দায় কইতো ‘বাংগালাহ্’, পরে দিল্লির মোগলরা কইতো ‘ছুবে বাংগালাহ্’। বাঙ্গালাহ্’র ভিতর ‘বংগ’ আছে হাচাই, কিন্তু ‘বংগ’ থিকা ‘বাংগালাহ্’ হইতে পারে নাই ফার্ছি কায়দা ছাড়া! তবু ফার্ছি কায়দাটা ঠিক বাংলা কায়দা না, বাংলার ফোনেটিক ছিস্টেম মোতাবেক ঐ ‘হ্ বা আহ্’ বাদ পড়ে; শেই কারণেই ‘মোল্লাহ্’ না পাইয়া বাংলায় আমরা পাইতেছি ছেরেফ ‘মোল্লা’। পাইতেছি কেল্লা, উল্লা–এমন শব শব্দ। এই ছিলছিলার ভিতর দিয়াই ‘বাংলা’ পাইছি আমরা। ঐ ফার্ছিঅলা ডাইরেক বিদেশি আর শংস্কৃতঅলা বামুনের লগে ফাইট করতে করতে বাংলার পয়দা, ঐ ফাইটের ভিতর দিয়াই চৈতন্য হইলেন, কতক বোস্টম হইলেন, কতক দেশি মোছলমান। ফার্ছিঅলাদের অনেকে বাংগালি হইতে পারলেন বিয়াশাদি কইরা, হইতে পারলেন কারণ, তাগো ধর্মে খান্দানের দেমাগ নাই; কিন্তু বামুনেরা জাত-বর্ন উতরাইয়া বাংগালি হইতে পারলেন না ততো বরং তাগো জাত-বর্নের আছরেই জেন মোছলমানের ভিতরেও আশরাফ গজাইলো, বামুনের এরিয়ান দেমাগ নকল কইরা হইয়া থাকলো খান্দানি মোছলমান!

বেপারটা ঠিক এমন না জে, বর্ন-জাতের শিকলে বান্ধা বাংলার আমজনতারে আজাদ করলো তুরান-ইরানের লোকেরা, বরং দুশমনের ভিতর দুইটা ভাগ হইলো; তাই আমজনতার দর কশাকশির জমিন বাড়লো, মর্ডান গণতন্ত্রে জেমন বড়ো অন্তত দুই দল থাকায় জনতার জবাব চাইবার খমতা বাড়ে। শেই বুদ্ধের ফাইটের মতোই এই জামানার দুশমনের দুই দলের লগেই জনতার ফাইটের নিশানা বাংলা ভাশায় রইয়া গেছে বেশুমার।

বাংগালি ফার্ছি আর শংস্কৃত, দুই ভাশা থিকাই বহু শব্দ নিছে, কিন্তু অবিকল লয় নাই, উচ্ছারন করতে জাইয়া ফার্ছি বা শংস্কৃত হইয়া ওঠে নাই, বরং শেই শব্দগুলারে বাংলার কানুনে ছাটাই কইরা লইছে দরকার মতো। শেই ছাটাইয়ের ঘটনাই এখনো আমরা দেখতেছি ইংরাজি শব্দ নেবার বেলায়–ডাইরেক, কিলিয়ার, পেছিডেন, ডাইভার! খোদ ‘বাংলা’ শব্দটাই ঐ ছাটাইয়ের নিশানা ধরে, শংস্কৃত বংগ বা ফার্ছি বাংগালাহ্–দুইটাতেই নারাজ হইয়া হইছে ‘বাংলা’! কলোনিয়াল ইংরাজের কারখানায় পয়দাকালে বামুনেরা জেই শব্দগুলার নাম দিছে ‘তদ্ভব’, শেই শব্দেরাও ঐ টক্করের নিশানা। ‘মনুষ্য’ না লইয়া ‘মানুশ’ বানাইছে ফাইটার বাংলা। ঐ হিশাবে ফার্ছি-ইংরাজি-শংস্কৃত, পোরতিটা থিকা আশা শব্দরাই ‘তদ্ভব’!

তাইলে বাংলার মামলা বোঝার শুরুতেই আপনের বোঝা দরকার–বাংলা কইতে কি বুঝবেন আপনে বা বাংলার ডেফিনিশন বা তারিফ কেমন। বাংলার তারিফ ঠিক করতে জাইয়া এ জাবত আতেল-ভাবুকরা ধইরা লইছেন জে, বাংলা হইলো শংস্কৃতের মাইয়া। এইটা ডাইরেক কইবারও দরকার নাই, ডাইরেক কোটেশন হয়তো বেশির ভাগ ভাবুক-আতেলরই নাই। কিন্তু ঐ ‘তদ্ভব’ জারা বোঝেন, কন তারা জখন ঐটার অর্থ করতে জাইয়া ‘তৎ’ মানে বোঝেন-কন ‘শংস্কৃত’ তারাই বাংলার তারিফ করেন ‘শংস্কৃত’র মাইয়া মর্মে। আরো কিছু চিনা আছে: তরজমা করতে বইশা জারা শংস্কৃতের ভান্ডারে হাতাইতে থাকেন (রঠা জেমন হাতাইতেন হরদম) তারাও ‘শংস্কৃত’র মাইয়া ঠাওরান বাংলারে। বায়োলজির জেনেওলজি বা ছিলছিলার আদলে ভাশারে বুঝতে জাবার মুশকিল তো আছেই, তা বাদেও বাংলারে পাইলা-পুইশা বড়ো করে নাই শংস্কৃত, বরং বাংলার আমজনতা শংস্কৃতের লগে ফাইট করতে করতে পয়দা করছে বাংলা; আগের বৌদ্ধদের ফাইটের ছিলছিলা এইটা, ছুলতানি আমলের নয়া হাওয়ায় বর্ন-জাত উতরাইয়া শেই ছিলছিলার ইতিহাশ বাংলারে পয়দা করছে!

কলোনিয়াল জুলুম

ইউরোপে পয়লা হাজার বছর বাইবেল আছিল লেটিনে, ১২০০ শালের পরে, ছাপাখানার পশারের কিছু দিন আগে ফেরেঞ্চ, ইংরাজি, স্পেনিশ এবং আর শব লোকাল ভাশায় তরজমা হইলো বাইবেল। ছাপাখানার পশারের লগে লগে লোকাল ভাশায় বাইবেল পোরচারের মচ্ছব শুরু হয়। লোকাল ভাশার গুরুত্বের এই পয়গাম ইংরাজ-পর্তুগিজরা লইয়া আশে হিমালয়ের দখিনের এই ভুবনে। তারা বাংলা-হিন্দি-তামিল শিখতে চায়, তামিল-হিন্দির গেরামার আছিল আগেই, তামিলেরটা বহু আগের, হিন্দির গেরামার পাওয়া জাইতেছে ১৬৭৫ শালের (তোফাতুল হিন্দ), মির্জা খান ইবনে ফখরুদ্দিন মোহাম্মদের, আর বাংলারটা নিজেরাই বানাইয়া লয় ইউরোপের লোকেরা। নিজেদের শেখার দরকারে ইউরোপের লোকেরা লেটিন বা নিজেদের ভাশায় তরজমা কইরা লয়।

হিমালয়ের দখিনের এই ভুবন বোঝার দরকারে কলোনিয়াল ইংরাজ দেশি পন্ডিতদের জোগাড় করে; ইংরাজের লগে খাতির কেবল বামুনের হয় নাই, ঐটা হিন্দুদের উপর মিছা দোশ দেওয়া, শংস্কৃত আর ফার্ছি পন্ডিতদের কাছে টানে ইংরাজ, শে হিন্দুও হইতে পারে, মোছলমানও হইতে পারে। ঐ মিছা দোশের গোড়া ইংরাজদের ধর্মভাবনা, তারা ধইরা নিছে জে, মোছলমান মোগলের শাশনে হিন্দুরা জুলুমের ভিতর আছিল, ইংরাজে তাদের আজাদি ঘটলো! কিন্তু আওরঙ্গজেবের দরবারেও হিন্দুই বেশি আছিল, আগেও; আওরঙ্গজেব বরং শিয়াদের শায়েস্তা করতে হিন্দুদের আরো কাছে টানছে, আওরঙ্গজেবের ঐ পলিটিক্সের জবাবেই মোগল এম্পায়ার দুর্বল হইছে, বাংলায় জেমন শিয়ারা মোগল কব্জার বাইরে জাইতে চাইছে। তাই আমরা বাংলার নবাবি আমল পাইলাম, এই নবাবেরা খান্দানি শিয়া এবং এই দরবারেও বহু হিন্দু এলিট বহাল তবিয়ত আছিল, মুর্শিদাবাদের শবচে ধনীরা তাই হিন্দু। তাইলে ঘটনাটা কেমন?

ধর্মের গোড়া দিয়া কওম জারা বুঝছেন তারা ঐ নেশনালিস্ট বা জাতিবাদিদের মতোই কেলাশ আর খান্দানে জাইতে পারেন নাই বা চান নাই। হিন্দু বা মোছলমান না, জেকোন দরবারেই খমতার ভাগ আছিলো না শুদ্র বা আতরাফ মোছলমানের এবং তারা গড়পরতা গরিব। ইংরাজের লগেও তাই খাতির হইতেছে বামুন আর আশরাফ মোছলমানের। কতকটা আগের মোগল এবং ইংরাজের মদদে কতক শুদ্র হিন্দু পয়শাপাতি কামাইয়া কায়স্থ হইছেন, কিছু আতরাফ মোছলমান পয়শার জোরে, বিয়াশাদি কইরা কেলাশের শিমা ডিংগাইতে পারছেন কখনো কখনো। মোগল এম্পায়ারের একদম কিনারায় হবার কারণে বাংলায় আশরাফ মোছলমান ততো আছিল না, এইখানে জেই ছুফিরা ইছলাম ছড়াইছেন তারাও ভাবনার দিক দিয়া খান্দানি দেমাগের তাবেদার আছিল না। তাই বাংলায় বামুন আর কায়স্থরাই আছিল শমাজের গোদা, ইংরাজ ছেরেফ গোদাদের লগেই খাতির করছে। বাংলার শমাজের গোদাদের ভিতর আতরাফ মোছলমান বা শুদ্র আছিল না বইলাই ফার্ছি পন্ডিত হিশাবেও আমরা পাইতেছি কেবলি হিন্দু আপার কাস্ট।

আজকে পন্ডিত শব্দে ধর্ম ঠিক বোঝা না গেলেও মুন্সি শব্দে কেবলি মোছলমানি। কিন্তু ইংরাজের কাছে শংস্কৃতের পন্ডিতেরা পন্ডিত আর ফার্ছির পন্ডিতেরা মুন্সি। তাই রামমোহন রায় একজন মুন্সি, গিরিশ রায় মুন্সি; কোন মোছলমান শংস্কৃত জাইনা তেমনই পন্ডিত হইতে বাধা আছিল না (বাস্তবে তেমন দেখা না গেলেও)। কায়স্থ হিন্দুরা শংস্কৃতে বামুনের লগে পাল্লা দিয়া ঠিক জুৎ করতে পারে নাই, তারা তাই মুন্সি হইছে, মাইকেল মধুসূদনও তাই যশোরে তার বাড়ির কাছের মশজিদের মক্তবে মৌলবির কাছে ফার্ছি শিখছেন।

হিমালয়ের দখিনের এই ভুবন একটা নামেই চেনে ইউরোপ–ইনডিয়া, দুনিয়া গোল বইলা আটলান্টিকে পচ্চিমে জাইতে থাকলে হিমালয়ের দখিনের এই ভুবনে আইশা পড়ার কথা–এমনটা ধইরা নেবার কারণেই আমেরিকারে ইনডিয়া ভাবছিলেন কলম্বাছ। এই ইনডিয়া আর শংস্কৃত একাকার কইরা দেখে ইউরোপ, শেই গিরিক ছেকান্দারের (আলেকজান্ডার) আমল থিকাই। হিমালয়ের দখিনের এই মহাভুবনে বহু জাতি-ধর্ম-ভাশার টেনশন বোঝার রাস্তা পায় নাই ইউরোপের একচোখা নজর। তামিল বা ফার্ছি তাগো নজরে ছেরেফ বিদেশি, মুন্ডা-শাওতাল হয়তো নজরেই পড়ে নাই! শংস্কৃতের মাইয়া হিশাবে বাংলারে বোঝার গোড়া ইউরোপের এই একচোখা নজর!

বাংলা শেখার দরকারে তারা তাই শংস্কৃত পন্ডিত ভাড়া করছে। ওদিকে এই পন্ডিতরা তো বাংলা জানে না, জানার দরকারও মালুম হয় নাই এতকাল; কিন্তু লোকাল/ভার্নাকুলারে ইংরাজের গুরুত্বের কারণে হঠাৎ বাংলা দামি হইয়া উঠছে তাগো কাছে।

শেই জামানা হইলো ইউরোপে রেছিজমের শোনাকাল এবং এই বামুন, আশরাফ মোছলমান আর ইংরাজ–এরা শবাই এরিয়ান দেমাগ শেয়ার করে; এই এরিয়ান দেমাগের শাখ্য-ছাবুদ হইলো বামুনের শংস্কৃত, আশরাফের ফার্ছি, ইংরাজের গায়ের রঙ (ইংরাজি তো আছেই); রেশিয়াল কাজিনেরা একাট্টা হইলো তাই। শংস্কৃত আর লেটিনের মিলের তুলনা কইরা জার্মান ম্যাক্সমুলার বামুনের দাবিরে আরো মজবুত হবার মদদ দিলো। শেই জামানার রেছিজম বাংলার কলোনিয়াল ইতিহাশ বোঝার খুবই ছেন্টারে রাখা দরকার তাই; কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন, রেছিজম বাংলার ইতিহাশ চর্চায় ‘শংকর জাতি’র বেশি অর্থে পাইবেন না! ভাশার বিদ্দায় এখনো জেই ভাশা-ফেমিলি পাইতেছেন, শেইটা ঐ জামানার রেছিজমের ডাইরেক আদলে বানানো, ম্যাক্সমুলারের তালাশ আশলে জার্মান জাতির রেশিয়াল তালাশ, শেই তালাশের ছিলছিলাতেই হিটলার আর আজকের ইনডিয়ার বিজেপির নিশানে একই চিনা পাইতেছেন!

শংস্কৃতঅলা এরিয়ান-দেমাগি ঐ বামুন-কায়স্থরা তাই বাংলারে মেকাপ কইরা ছুরতে শংস্কৃতের মাইয়া বানাইতে থাকলেন। শংস্কৃত ভাশার ছেক্সলাইফ পাকছাফ থাকলে, শংস্কৃত সতি হইলে তো তার মাইয়া চন্ডাল হইতে পারে না, ঐ শংস্কৃতঅলারা বর্ন-জাতে কুলিন রাখতে চাইছেন বাংলারে। বর্ন-জাত এমনই মজবুত জে, রঠাদের ‘বেরাম্ম ধর্ম’ এইটা থিকা বাইরাবার কছম খাবার পরেও ঠাকুরবাড়ির রান্নাঘরে বামুন না হইলে ঢোকার উপায় নাই, বিয়াশাদি বেরাম্মরা জাত মিলাইয়াই করতো; এমনকি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় পিরিতিও দেখাইতেছেন কাস্ট/জাত মিলাইয়া (দাশগুপ্ত-শেন), জেইখানে মেলে নাই, পদবিই রাখেন নাই (সুরন্জনা)! রেছিজম আর শংস্কৃতের জাত রাখার দায়ে কলোনিয়াল জামানার শবচে গণতান্ত্রিক দুই আতেল, দুই ভাই বঙ্কিম আর শন্জিব আমের কোলে উঠতে চাইয়াও পারেন নাই, জনতার ঢঙ-ভংগিমা বঙ্কিমের কাছে ভালগার, আলালের ঘরের দুলালের বাংলা লইয়াও লইতে পারেন নাই বঙ্কিম। নিজের বাংলারে বানাইছেন শংস্কৃতের লিলার ময়দান!

বাংলার ছুরতের মেকাপ তাইলে কেমন হইয়া উঠলো? শুদ্র-আতরাফের বাংলা ছাটলেন ওনারা, ভালগার, ফার্ছি-আরবি হইয়া পড়লো বিদেশি; এরিয়ানরা বাইরে থিকা হিমালয়ের দখিনের ভুবনে আইয়া থাকলেও শে বিদেশি না, বরং শে-ই আদি! বিদেশি বা ভালগার, দুইটাই তাগো জাতের হিশাবে বাংলারে চন্ডাল বানাইয়া ফেলে! বাংলায় তখন তারা শব্দ লাগাইতে থাকলেন শংস্কৃত ভান্ডার থিকা লইয়া, শুদ্র-আতরাফের শব্দ-ভংগি খেদাইয়া দিতে থাকলেন! এমন কলোনিয়াল বাগানেই তাই পাইতেছেন কামাই খেদাইয়া উপার্জন, ধোনের বদলে শিশ্ন, ভোদার বদলে স্ত্রীজননাংগ, ছাফের বদলে পরিশ্কার, আছমানের বদলে অন্তরীক্ষ, চানের বদলে চন্দ্র/চাঁদ, বয়ানের বদলে বক্তৃতা, নজরের বদলে দৃশ্টি, হরফের বদলে বর্ণ, গাভিন হয় জেন গরু-ছাগল আর ছোটলোক, খান্দানি হিন্দু-মোছলমান হয় গর্ভবতি–বাংলার আমজনতার উপর এমন হাজারো জুলুম। শেই কারণেই এদের বাংলা ইংরাজ ফোর্ট উইলিয়ামের বাংলার চাইতে কম বোঝে আমজনতা!

জাতিবাদ বনাম গণতন্ত্র

শমাজের ইভলুশন লইয়া ইউরোপের রেছিজম জেই চিন্তা খাড়া করাইছে, ১৮০০-১৯০০ শতে, তাতে ধলা ইউরোপ বাদে বাকি দুনিয়া অশভ্য, ইভলুশনের খাম্বার মাথায় ইউরোপ, তার নিচে অন্যরা; হিমালয়ের দখিনের এই ভুবনের মানুশ অশভ্য। এই ভাবনা অবিকল মানতে নারাজ আছিল কলোনিয়াল কলিকাতা; কিন্তু ইউরোপের নজরের ঐ পেরেশার কলিকাতায় ‘ইয়ং বেংগল’ বানাইছে, এরা অশভ্য ইনডিয়া উতরাইয়া ইভলুশনের খাম্বা বাইতে শুরু করছেন বেদম। এদের উল্টাদিকে আছিলেন বিদ্যাশাগর এবং বঙ্কিম।

কিন্তু ইউরোপের ঐ টিটকারি, মশকরা আর হিউমিলিয়েশনের জবাব আরেকটু আগেও দিতে চাইছে কলিকাতা। শেই জবাবের একটা নাম ‘বেরাম্ম ধর্ম'; রামমোহন রায় এইটা দিয়া কয়েকটা খায়েশ পুরা করছেন: নিজে বামুন না হবার কমতি উতরাইছেন কতকটা, লগে হিন্দু ধর্মরে খিরিস্টের ধর্মের মতো ‘মনোথেইজম’র ধর্ম বা একবাদি বানাইয়া এলিট হিন্দুদের খিরিস্টান হওয়া ঠেকাইছেন। পরে এইটার হাল ধরছে ঠাকুর ফেমিলি; একবার খিরিস্টান হইলে তো আর নিজেরে হিন্দু দাবি করা মুশকিল! তাই শেই দাবি মাইকেল করতে পারেন নাই, রঠা পারতেছেন আলবত। তারো আগে ইংরাজ জখন শতিদাহ ব্যান (১৮১৩) করে, তখন শহমরন অনেক বাইড়া জায়, পেপারে নিউজ হইতে থাকে শেই শব শহমরনের, হিরোইক নিউজ, কতটা আগরোহ লইয়া ভাতারের চিতায় উঠলো কোন মরা বামুনের বউ, কত বড়ো শতি শেই শব বউয়েরা–এমন শব নিউজ!

দেখা জাইতেছে, ইংরাজের রেছিজম, ইভলুশনের টিটকারির জবাব দেবার টেরাই করতেছে নেটিভ হিন্দু এলিট– মাইয়াদের ছুইছাইডে ফুশলানো থিকা হিন্দু ধর্মের ঘশামাজা করেতছে। পরে ম্যাক্সমুলার ইত্যাদি ওরিয়েন্টালিস্টদের কাম নেটিভদের এজেন্ডায় মস্ত মদদ দিছে।

এই জবাবগুলারে জাতিবাদি দেমাগের নিশানা হিশাবে ধরি আমি। কিন্তু খেয়াল করেন, জবাব দিতে জাইয়া কলোনিয়াল কলিকাতার এক নাম্বার দাবিটাই হইলো, আমরাও এরিয়ান! এখন হয়তো খমতা নাই আমাদের, আগে আছিল, আমরা এপিক লিখছি, বাৎশায়ন-কৌটিল্য আছিল আমাদের, ছেকান্দার বাদশা আমাদের হারাইতে পারে নাই; এত কিছু আমাদের আছিল, কেননা, আমরা এরিয়ান! তারা ইউরোপের রেছিজমরে বেইনছাফি হিশাবে দেখে নাই, বরং ৮০/৯০% নেটিভের লগে রিশতা অশীকার কইরা ইংরাজের রেশিয়াল কাজিন দাবি করলো নিজেদের। আজকেও বাংলাদেশে শেরা বাংগালি দাবি করা ফেমিলিরে দেখেন, তাদের খান্দানি দেমাগ হইলো–তারা আরব-ইরান থিকা আশছিল, তারা আশলে নেটিভ না!

তাইলে দেখা গেল, জাতিবাদি দেমাগের দরকারে গণতান্ত্রিক থাকা জাইতেছে না; কখনো রেছ, কখনো কেলাশ, খান্দান, বর্ন বা জাত–এই শব আইডি বা পরিচয় গণতান্ত্রিক হওয়ারে ঠেকাইয়া দিতেছে। ‘ভারত’ জাতিবাদের গোড়া এই রেছিজমেই; এই রেছের মারফতেই বামুন বঙ্কিম নিজেরে বাংগালি হিশাবে দেইখাও আখেরে ‘ভারত’ জাতিবাদে চইলা গেলেন। ভারত জাতিবাদ তাই হিমালয়ের দখিনা ভুবনের পুরাটায় এরিয়ান শাশন কায়েমের খোয়াব।

কলোনিয়াল কারখানায় পাওয়া বাংলার ছুরত বুঝতে হবে রেছের গতে বান্ধা এই জাতিবাদি খোয়াব তালাশি কইরাই। এই খোয়াব লইয়া কলিকাতার এরিয়ানমনা বাংগালি বামুন জখন ইংরাজের ফুশলানিতে শুদ্র-আতরাফের বাংলা দখল করে, বাংলারে তখন শংস্কৃতের মাইয়া হইয়া উঠতেই হয়, কেননা এইটাই ঘটনা হৌক বা না হৌক, এইটা দরকার। তাই বাংলার রেছের হানি ঘটায় জা কিছু, তাই ভেজাল ভালগার, চাড়াল হইয়া পড়া, শতি না থাকা, এরিয়ান দাবির খেলাপ। ‘গুরু-চন্ডালি’ নামের গোড়াটা এইখানে। বাংলা ভাশার কলোনাইজেশন লইয়া ভাবতে জাইয়া এইটা খেয়াল না করায় গাড্ডায় পড়ছেন কেউ কেউ; তারা কলোনাইজেশন মানে ধইরা লইছেন ইংরাজির আছর, আর শেইটা ঠেকাইয়া দিতে পারাই ইংরাজের লগে টক্কর দেওয়া। কিন্তু বাংলা ভাশার বেলায় ঘটনাটা তেমন না; কলোনিয়াল আছরে, জাতিবাদি রেছিজমের ছবক পাইয়া কলিকাতার বামুনেরা বাংলারে শংস্কৃতের মাইয়া বানাইলো, ভাবে জদিও পেরায়ই খুব ইউরোপিয়ান; বরং ইংরাজির লগে টক্কর দিলো আমজনতা, তারা ইংরাজি শব্দ লইলো বেলুন হিশাবে, তার ভিতর ঢুকাইয়া দিলো নিজের ভাবের হাওয়া! তাই রঠার গানে ইংরাজি শব্দ নাই, কিন্তু ভাবে চার্চের তাবেদারি, আর উল্টাদিকে পাইবেন–…হেডলাইট করছো ইউজ, কবে জে হইবে ফিউজ, রাখছনি তাহার নিউজ…!

জাতিবাদ মানে হইলো গণতন্ত্র মুলতবি রাখা; যুদ্ধে জাতিবাদ কিছু মদদ দেয়, ১৯৭১ শালে বাংলাদেশে জেমন দিছে, কিন্তু রাশ্টো বানাবার পরে এই নয়া এলিটের খমতা কামাইয়ের লাঠিয়াল হইয়া ওঠে, জনতার কবুলিয়তের বদলে গায়ের জোরের বাকশাল কায়েম করে। তাই ‘জয় বাংলা’ যুদ্ধের জিকির হিশাবে কামে দিলেও আজকে এইটা মান্দি-তিরিপুরার উপর হামলা, তাই দেশের শরদার বাংগালিতে ‘পোরমোশন’ দেবার কথা কইতে পারেন; এইটা জে খয়রাত না, বরং হামলা, শেইটা বোঝার হুশ বা এলেমও মুলতবি কইরা রাখে জাতিবাদ!

কিন্তু গণতন্ত্রের তারিফ আরেকটু খোলাশা করা দরকার। ম. আজম বাংলার বেপারে রঠার ভাবনায়ও গণতন্ত্র পাইছেন। আইউব খানও তার পলিটিক্সের নাম দিছিলেন গণতন্ত্র, গিরিছে জখন গোলামি আছিল, এমনকি মাইয়ারা আছিল পোলাদের শম্পত্তি, শেইটাও গণতন্ত্র। ফেরেঞ্চ হুলের (১৭৮৯) পেরায় ২০০ বছর পরে মাইয়ারা ভোট দিতে পারলো পর্তুগালে (১৯৭৫)! আজকে তাইলে গনতন্ত্রের তারিফ কি খাড়াইলো?

আমার হিশাবে গনতন্ত্র মানে কবুলিয়তের শাশন। মানুশ জেইখানে ছেরেফ মানুশ, বর্ন-জাত-লিংগ উতরাইয়া মানুশ হিশাবেই মানুশের হক জেই পলিটিক্যাল ছিস্টেমে রক্ষার ইনছাফ থাকে, জনতার কবুল করা বা না করার উপর খাড়াইয়া আছে জেই শাশন। এইখানে তাইলে গোলাম নাই, ছিস্টেমের কাছে মানুশের গোলামি মিনিমাম, গায়ের জোরের বদলে আইনের শমান নজর, জবরদস্তির বালাই নাই। কবুল না করার খমতা থাকতে হবে জনতার এবং শেই মর্মে শাশক বদলাইতে জনতার মাঝে তাবলিগ করতে পারতে হবে জে কারো। গনতান্ত্রিক রাশ্টোগুলার কবুলিয়তের উপর খাড়াইয়া থাকা একটা কনভেনশন আছে এই বেপারে, জাতিশংঘের ‘হিউম্যান রাইটস্’ কনভেনশনটা তাফছির করলে গনতন্ত্রের ঐ তারিফ পাইবেন মোটামুটি।

তাইলে আমাদের বিচার করা দরকার, ম. আজম মারফতে জানা রঠার গনতন্ত্রটা কেমন? রঠার বাংলার গনতন্ত্রে বাংগালি মাতরোই ভোটার না, অশিক্ষিত বাংগালির কবুলিয়তের বালাই নাই এইখানে; মানে তখনকার ৯০-৯৫% বাংগালির বাংলার হক নাই বাংলা হবার, ঐ কলোনিয়াল কারখানায় আগেই শিক্ষিত বাংগালিরা তখন কলিকাতা বা আর শব শহরে জেই বাংলা এস্তেমাল করে তার ভিতর থিকাই উনি তার বাংলা পাইতেছেন, কেবল ৫-১০% বাংগালিই ওনার গনতন্ত্রে ভোট দিয়া বাংলা বানাইতে শরিক হইতে পারতেছে। এবং এই ৫-১০% বাংগালি কলোনিয়াল কারখানায় পয়দা হওয়া, মানে হইলো, তারা আগেই রেছিজমে ঈমান আনছে, এরিয়ান হিশাবে নিজেদের দেখতেছে, বাংলা তাগো কাছে অলরেডি শংস্কৃতের মাইয়া; তারা অলরেডি খাশ বাংলার শব্দ এবং ঢঙ-ভংগিরে ভালগার হিশাবে মাইনা লইছে, তারা অলরেডি খাশ বাংলারে খেদাইয়া দেবার এলিট লাঠিয়াল!

আরেক ঢঙে কই একটু; ধরেন, একটা পোলাদের গ্যাঙ খুব ভোটাভুটিতে চলে, খুব শান্তি তাদের। একদিন একটা মাইয়া ধইরা নিলো নিজেদের আখড়ায়; তারপর লাগলো ঝামেলা–কে পয়লা রেপ করবে? শরদার তখন একটা উপায় বাতলাইলো, টছ কইরা ঠিক করা হবে ছিরিয়াল। ৫-২ ভোটে পাশ হইল শরদারের পরস্তাব; শান্তি আইলো গ্যাঙে, তারপর তারা টছের ছিরিয়াল ধইরা রেপ করতে থাকলো মাইয়ারে।

এইটারে কি গণতন্ত্র এবং শান্তি কইতে পারতেছেন? পারেন বা না পারেন, দেশে কেমন আছেন এবং আপনে ঐ গ্যাঙের মেম্বার নাকি ঐ মাইয়া, হিশাব করেন। আপনের পাপ এবং আমলনামা আলগোছে দেখতে পাইবেন।

রঠার বাংলা কতটা শংস্কৃতের কুলিন মাইয়া শেইটা বুঝতে ওনার দেওয়া নাম আর তরজমা খেয়াল করেন; ওনার শকল তরজমায় উনি শংস্কৃতের গুদামে হাতাইয়া শব্দ বাইর করছেন, তার বাইরে একটাও পাইছি বইলা মনে পড়ে না, ওনার কাছে কালচার মানেই ‘শংস্কৃতি’! রঠার গনতন্ত্রের ছুরতেরই নাম পোরমথ চৌধুরি, এইটা এমনকি কলোনিয়াল কলিকাতার ‘চলতি’ বাংলা লইতে জাইয়াও ‘চলতি’রে বানাইয়া লয় ‘চলিত’!

এই এলিট বাংলার বেপারে পরে মোছলমান এলিট অবজেকশন দিছে, নিজের শেয়ার চাইছে। রেছিজমের ঐ লিগেছির জবাব তারা রেছিজম দিয়াই দিছে এবং তাই তারা এলিট হিশাবে নিজেরাও শরিক হইতে পারছেন ঐ বাংলায়, কিন্তু রেছের বাইরে জাইতে না পারায় বা না চাওয়ায় তারাও গনতন্ত্রে জাইতে পারেন নাই! তারা দাবি করলেন, আমরাও এরিয়ান, ফার্ছি এরিয়ান ভাশা, ফার্ছি দিয়া তারা শংস্কৃতরে টক্কর দিলেন। এই টক্করেরই শেরা ছুরত পাইবেন ফররুখে।

আগে মোছলমান এলিটের ভাগ চাওয়াটাই পাকিস্তান হইলে পরে পুবের বাংলা’য় থিতু হয়। কিন্তু পাকিস্তানের পচ্চিম জখন পুবের মোছলমানদের ভেজাল (হিন্দু বামুনদের চাড়াল ভাবনার কপি জেন!) ভাবা শুরু করে, খোদ বাংলারেই হিন্দুয়ানি কইতে শুরু করে তখন ‘পুবের বাংলা’ আইডিয়াটা মুলতবি হইয়া পড়ে, পুবের পাকিস্তানে কলোনিয়াল এলিট বাংলা মজবুত হইয়া ওঠে! ঢাকা ইছলামাবাদরে হরদম কইতে থাকে, বাংলাও এরিয়ান ভাশা, আমরাও এরিয়ান; পাকিস্তানে বাংলার আমজনতা আরেকবার এলিট বাংগালির দখলে জায়। ১৯৬০-৭০ দশে রঠার গানে বাংগালি জাতিবাদের জিকির-মফেল হইতে থাকে দেদার, আইউবের জবাব দিতে দিতে পুবের পাকিস্তানে বাংগালি জাতিবাদ পোক্ত হইতে থাকে! ফেক নিউজ ছড়াইতে থাকে এই শব জাতিবাদিরা, আইউব ‘রঠা’রে ব্যান করছে বইলা চাউর হইতে থাকে, জদিও এইটা মিছা কথা*!

বাংলাদেশ হবার পরে ‘পূবের বাংলা’র আইডিয়া আবার নাক জাগাইতে পারে, দুশমন পাকিস্তান আর হাজির না থাকায় কলিকাতার লগে ফাইটে নামে। কিন্তু এই ফাইটটা খুবই পাতায় পাতায়, দুই এলিটের ভাগাভাগির মামলার বেশি কিছু না; কেননা, তারা দুই পক্ষই শংস্কৃতের লগে বাংলার রিশতায় মোটামুটি একমত, মোছলমান হিশাবে ছেরেফ আরেকটু ফার্ছি চাইতেছে। শীর্শেন্দুর বাংলার লগে মজহার বা ড. খান বা ম. আজমের বাংলাটাও জে বাংলা, এইটা কলিকাতারে মানাইতে তদবির আর ফন্দি-ফিকির করে। এই ফয়ছালা এখন, এতদিনে মোটামুটি হইয়া গেছে, এই ফয়ছালারই নাম ‘পরথম আলো’!

এই ফয়ছালা হইছে, হইতে পারলো কারণ পলিটিক্সের এই ময়দানে মদদ লইয়া শালিশ হিশাবে হাজির হইছে হিন্দি! পাকিস্তানে জেইটা উর্দু মনে হইতো, শেইটাই আজকে হিন্দির ছুরতে ময়দানে নামার কারণে তারে আর উর্দু মনে হয় না! তাই কলিকাতা বা ঢাকার এই এলিট বাংলা আরামেই ‘তরফ, ছাফ, হাজির, দফা, চিজ, মস্ত, ইশক…’–এমন শব শব্দ ইউজ করতে পারতেছে! দুই এলিট এখন এক লগে খোয়াব দেখে, তারা এক লগে ছিনেমা বানাইয়া বলিউড-হলিউডরে টক্কর দেবার খায়েশ দেখায়।

কিন্তু আবারো মুলতবি থাকে আমজনতার বাংলা! ওনারা মানতে নারাজ জে, কলোনিয়াল বাংলার আদলে হিন্দি বানাইলে, হিন্দি একজন বিদ্যাশাগর পাইলে হিন্দির ‘আদমি’ পুরাই ‘মনুশ্য’ হইয়া জাইতো! দোয়া হইতো আশীর্বাদ, নেমকহারাম বা বেঈমান থাকতো না, এই বলিউড হইতেই পারতো না; এই হিন্দিটা খাশ হিন্দি, কলিকাতা আর বিদ্যাশাগরের অভাবে খাশ হিন্দি ছাপাইয়া উঠতে পারে নাই ‘পোরমিত/শংস্কৃত হিন্দি’, আজকে বিজেপি টেরাই করলেও শুবিধা করতে পারতেছে না, রাজনীতিতে নাইমা মোদিরেও ‘ছালাম’ দিতে হইছে আমজনতারে!

খাশ বাংলা: ইতিহাশের জবাব

২০০ বছরের জুলুমের পরে খাশ বাংলা কি গজাইতে পারবে আবার? না, গজাবার দরকার নাই, কেননা খাশ বাংলা মরে নাই, ঘুমায়ও নাই ইতিহাশের এক লহমা; খাশ বাংলা বহাল তবিয়ত, জিন্দা এবং ফলনশিল! কখনোই না মরলেও ইতিহাশের এই জামানা হইলো ভাশার গদি খাশ বাংলার দখলে নেবার জামানা; ইতিহাশের দরকারি শর্তগুলা এতদিনে পুরন হইছে। এই জামানারে বোঝা দরকার আমাদের। তার আগে খাশ বাংলা লইয়া দুইটা কথা কইতে হয়।

এমন শুইনা থাকতে পারেন, ‘খাশ বাংলায় বুঝাইয়া কও!’। কি মানে এই কথার? খাশের কাছে আরেকটা শব্দ হইলো ‘খাছ’, ‘খাছ দিলে দোয়া করা’ শুনবেন। খাছ শব্দের অর্থ অনেকটা শাচ্চা টাইপের, পাক-ছাফ। আর খাশ হইলো জেই অর্থে পাইতেছেন ‘খাশ জমিন’। আবার খাছ এবং খাশ, দুই শব্দের মাঝেই ‘খাটি’ অর্থ আছে একটু জেন! কিন্তু খেয়াল করেন, ‘খাশ জমি’র ভিতর খাশ মানে ‘পাবলিক’, কেউই জার মালিক না, তাই শবার। তাইলে খাশের ‘খাটি’ মানে ভেজাল ঠেকানো না, বরং দাবি করা জাইতেছে জে, জা পাবলিক, শবার, কেউই জার মালিক না, দখলে থাকার কথা না জার, তার নামই খাটি। দখল মানে ভেজাল, আজাদ মানেই খাশ। তাইলে খাশ মানে গনতান্ত্রিক, পাবলিকের শবাই এইখানে শমান শরিক, আমজনতার লগে লগে শে হাটে, কোথাও খাড়াইয়া থাকতে পারে না, তাই জাতিবাদিও হইতে পারে না খাশ! খাশের মাঝেই পাইবেন হরদম ইনছাফের বাশনা, পিরিত অথবা ঘেন্না উতরাইয়া শকলের কবুলের ইশারা, কছম আর খোয়াব!

ইতিহাশে দেখেন, খাশ বাংলার মানুশ গরিব, অন্যের দখলে, বারে বারে বন্দির মালিক বদলায় জেন! কিন্তু ইতিহাশের এমন এক জামানায় আশছি আমরা জে, দখলটা কঠিন হইয়া উঠছে, অনেক অনেক ফুটা ছিস্টেমে, খাশ বাংলার নাকেরা জাগাইতেছে নিজেদের। মিডিয়া প্লুরাল হইয়া ওঠায় এইটা ঘটতে পারতেছে বেশুমার। ফেছবুক, ইউটিউব আর টিকটকের কনটেন্ট দেখেন খাশ বাংলায় ছয়লাব। গরিব খাশ বাংলার নাগালে এখন অডিও-ভিডিও-হরফ; বই মানে আর এখন কেবল ছাপা মাল না, অডিও বই পাইতেছি আমরা। আগে একজন গরিব বয়াতি তার লোকেশন উতরাইয়া জাইতে পারতো না, মিডিয়া আছিল না তার। এখন ইউটিউব-ফেছবুকে বয়াতিদের গাহেক শবচে বেশি, টিভি অতি পুচকে মিডিয়া হইয়া পড়ছে! গান গাইতেছে খাশ বাংলা, টিভি-ছিনেমার মতো নাগালের বাইরের মাল এখন নিজেরা বানাইয়া দিতে পারতেছে খাশ বাংলার মানুশ। কলোনিয়াল বাংলার কোন বই ২০০ কপি বেচা জাইতেছে না, পুরা ফেবরুয়ারি বইয়ের হাট বশাইয়াও শুবিধা করা জাইতেছে না, কিন্তু ইউটিউবে একজন বয়াতির ওয়াজ দেখা হইতেছে ২ কোটি বার! কলোনিয়াল বাংলার তাবেদাররা দেশে আর শবচে বড়ো আতেল নাই; আগেও আছিল না, কিন্তু শেইটা পোরমান করার উপায় আছিল না। পেপারের একটা কলাম জেন বা ৫০ লাখ লোকে পড়ছে, এমনই ধইরা নেবার চান্স আছিল, এখন হয়তো ফেছবুকে দেখবেন, কোন কলামের ২০০/৩০০ লাইক-শেয়ার।

এই শব আজকে ফকফকা হইলেও আগে আছিলো না; তবু আগেও খাশ বাংলার ফলন চালু আছিলো। কলোনিয়াল কলিকাতার পাশেই বটতলায় আছিল, পুথি আর কবিয়ালের গলায় আছিল, গানে আছিল, পরে ছিনেমায়-ঢালিউডে। পেরাইভেট টিভি হবার পরে আরেক দফা আলগা হয় কলোনিয়াল ফাশ; আমজনতার কাছে আর্ট বেইচা খাইতে হয় এত এত টিভি নাটকে; কিন্তু কলোনিয়াল মনে শেই রশদ নাই, এলিট বাংলার খাওয়া নাই, কেনে না লোকে, বাধ্য হইয়া খাশ বাংলার দিকে জাইতে হইছে। পাড় কলনিয়াল আনিসুল হকও তাই ফারুকিরে লইয়া নাটক বানাইছে তার এছথেটিক এজেন্ডার বাইরে। আজকে ৯০-৯৫% টিভি নাটক হইতেছে খাশ বাংলার কাছেই। আজকের বাংলাদেশের নায়ক-নায়িকার ছুরত (নায়িকা এখনো ধলার দিকেই) থিকা ভাশা, আমজনতার কাছে চইলা গেছে, কলিকাতার ঠেশ দিয়াও খাড়াইয়া থাকতে পারতেছে না এলিট বাংলা আর বাংগালি।

ইতিহাশের এই জামানায় তাই খাশ বাংলায় জাইতে চাই, জাইতে কই অন্যরে। ভাশার বদল ঘটে, একটিভ এজেন্ট থাকে বেশুমার, খমতার আছরে এই বদল নেচারাল থাকতে পারে না। কিন্তু একবার বদলাইয়া গেলে, আমজনতা কইতে শুরু করলে তারে গায়ের জোরে ঠেকানো বা অশিকার করার উপায় নাই। তাই কলোনিয়াল বাংলা জদি ৬০-৭০% বাংগালির মুখ-মনও দখল করতে পারতো, তখন ঐ এলিট বাংলারেই বহাল রাইখা আরেকটু গনতান্ত্রিক কেমনে বানানো জায়, ভাবার মওকা আছিল। কিন্তু ২০০ বছরের খমতা দিয়াও আমজনতার ২০% মুখেও উঠতে পারে নাই ঐ বাংলা। এখন আরো কমতেছে! ঐ বাংলার শরদার-মোড়লদের মাইয়াপোলাই এখন পড়তেছে ইংরাজি মিডিয়ামে, দেশের আরেক শরিক আছে আরবি মিডিয়াম। এখন দেশে একটা ফর্মাল মিটিং হয় না এলিট বাংলায়, হয় খাশ বাংলার কাছের কোন বাংলা বা ইংরাজিতে, দুই দিন পরে হিন্দিতেও হইতে পারে, কলিকাতায় তো হইতেছেই হরদম। হিন্দি-ইংরাজি-আরবি-এলিট বাংলার এতো এতো দাবড়ানির পরেও খাশ বাংলার নিশান উড়াইতেছে অশিক্ষিত আমজনতা, লগে শিক্ষিতরাও জয়েন করতেছে; কয়দিন আগের এক নিউজে দেখলাম, পরীক্ষার খাতায় মাইয়াপোলারা খাশ বাংলায় পোশ্নের জবাব দিতেছে!

খাশ বাংলার ছুরত

হিন্দি/উর্দুর লগে বাংলার খুবই ঘন রিশতা আছে, দুইটার ভিতরেই ছুলতান-মোগলের তরফে ফার্ছি-আরবির ছিলছিলা আছে। পরে দুইটাতেই পড়ছে আবার ইংরাজির আছর। মিডিয়াম হিশাবে এলিট বাংলার মরণে এই শব ছিলছিলা আর আছর আমজনতার খাশ বাংলার ভিতর খাপে খাপে মিলতেছে। এলিট বাংলা জাদের খেদাইয়া দিছিলো তারা ফিরা আশছে।

১৯৫২’র আছরে আমরা উর্দুরে দুশমন হিশাবে দেখা শুরু করছিলাম; তাতে ছুলতান-মোগল ছিলছিলারে খেদাইয়া দেবার মওকা মজবুত হইছিল এলিট বাংলার জন্য। কিন্তু বলিউডের উছিলায় শেই উর্দু-বাংলার ভিতর কমন শেই ছুলতান-মোগল ছিলছিলা নিজের জমিন ফিরা পাইতেছে; এইটারে এখন আমরা হিন্দি হিশাবে চিনি বইলা আমাদের উর্দু-দুশমনি এইটারে ঠেকাইতে পারতেছে না! কতগুলা শব্দ খেয়াল করলে বুঝবেন ভালো: চিজ, মস্ত, ছেপাই, জোয়ান, বরদাস্ত, খবরদার, পানি, আছমান, খাজনা, বিজলি। পানি ৬০-৭০% বাংগালির মাঝে থাকলেও এরে আমরা উর্দু ভাবতাম, এখন হিন্দির উছিলায় ততো উর্দু লাগতে পারে না। কিন্তু এর পুরাটাই গলদ, কেননা, পানি শব্দটা পাওয়া জাইতেছে চর্জাপদে! তাইলে ঘটনাটা কেমন? ঘটনা হইলো, বাংলা আর উর্দু/হিন্দির রিশতা পুরানা! এই রিশতা এই জামানায় আবার পাইতেছি আমরা। দেখেন, বাংলাদেশের ইংরাজি মিডিয়াম ইছকুলে ইংরাজি পড়ে আর শমাজে থাকে, ইউটিউব ফেছবুকে ঘোরে, উর্দু/হিন্দি গান শোনে, বলিউডের গাহেকও; তাদের আওতার বাইরে তাই এলিট বাংলা। তাই দেশের অশিক্ষিত আমজনতার মাঝে আগের শেই ছুলতান-মোগল ছিলছিলার লগে এই ইংরাজি মিডিয়ামের মোলাকাত হইতেছে হরদম–রিকশাঅলার ভিতর দিয়া, চায়ের দোকানদার, বাদামের ফেরিওয়ালা, ফেছবুক-ইউটিউবের খাশ বাংলা, উর্দু-হিন্দি গান। তারা তাই দুইটা ভাশা শিখছে–খাশ বাংলা আর ইংরাজি। আরবি মিডিয়ামও খাশ বাংলা খাইতেছে ফেছবুক-ইউটিউবে, তাদের মিডিয়ামের ইতিহাশের কারণেই উর্দু-ফার্ছি বই পড়তেছে তারা, তাই ছুলতান-মোগল ছিলছিলার খাদেম হইতেছে তারাও, খাশ বাংলার ভিতর দিয়াও ঐ ছিলছিলার পরিচয় পাইতেছে তারা। আর খোদ এলিট বাংলা মিডিয়াম ফেছবুক-ইউটিউব-দেশি নাটক-বলিউডের ভিতর দিয়া নিজের গোড়াতেই থাকতে পারতেছে না আর! ওদিকে, ইংরাজি মিডিয়ামই জেহেতু এখন শমাজে শবচে উপরে, তাই শাস্কৃতাইজেশনের ভিতর দিয়াও তারা ইংরাজি মিডিয়ামের লগে মিলতেছে, খাশ বাংলা হইয়া উঠতেছে।

আমাদের এখন ভাবা দরকার এলিট বাংলার লগে খাশ বাংলার তফাত আশলে কেমন? তফাতের কিছু পয়েন্ট খুবই অটোমেটিক পাইবেন, জদি কলোনিয়াল এলিট বাংলার উল্টাদিকে খাশ বাংলার তারিফ লইয়া হুশিয়ার থাকেন! বাংলারে জদি শংস্কৃতের মাইয়া হিশাবে না দেখেন তাইলে বাংলা গেরামারে শংস্কৃতের আছর অতো থাকার কারণ নাই। এলিট বাংলায় অতোগুলা ‘শ’ থাকার কারণ পাইতেছেন না তাইলে, ‘ষ’ হইলো ঐ ফেমিলি ভাবনার আলামত। ছ এবং শ’র মাঝামাঝি একটা হরফ হিশাবে স থাকতে পারে, কিছু শব্দে অমন একটা হরফ আছে–দরখাস্ত, বরখাস্ত, এস্তেমাল, পলিটিক্স জেমন। য নাই। শন্ধি-শমাশ-পোত্যয়-উপশর্গ খুবই ছিম্পল হইয়া পড়বে। দুইটা ই বা উ লাগে না। শব্দের শুরুতে ‘্র’ বাংলার ফোনেটিক্সে নাই, এইটাও শংস্কৃতের গোলামির আলামত। প্রথম নাই, বাংলা হইলো পরথম, পোরমান, পোশ্ন; তবে শব্দের ভিতরে ইউজ করা জায়, ‘ভিত্রে’ হইতে পারে। এমন কিছু তদবির হুমায়ুন আজাদ এবং আরো কারা জেন করছিলেন আগে; কিন্তু ঘটনা এমন কিছিমের হইলেও তাদের মোটিভের কিছু ঝামেলা আছে, তাদের লজিক খাড়ায় নাই ঠিক।

তাদের চিন্তার পয়লা গলদ হইলো, তাদের পোজেক্ট ইউটিলিটারিয়ান। ভাশারে শোজা কইরা তোলা আর শুবিধা চিন্তা কইরা এমন পোজেক্ট হাতে নেবার মুছিবত হইলো, আখেরে আপনে বাংলা হরফেরই দরকার না দেখতে পারেন! ইংরাজি জেহেতু শিখতেছিই আমরা, তাই রোমান হরফে বাংলা লিখলে তো হরফ আরো কমে, শোজা হয় আরো! এমনকি বাংলায় লেখার চাইতে ইংরাজিতে লিখলে তো আরো শুবিধা! বাংলা ভাশা কিছু দিন কওয়া লাগতে পারে, কিন্তু কিছুদিন পরে কেবল ইংরাজি থাকলেই চলবে; তাতে আমাদের ইন্টারনেশনাল হইতে শুবিধা হবে আরো!

ওদিকে, আরো মজার বেপার হইলো, ওনারা খোদ ঐ লেখাতেও ওনাদের হিশাবে বেদরকারি হরফগুলা বাদ দেন নাই! অথচ ওনাদের পোরমোশনের চিন্তা ছাড়া বাদ না দেবার কোন কারণই পাওয়া মুশকিল! জেই হরফ বাদ দিলে শুবিধা কইতেছেন, শেই শব হরফ দিয়াই খোদ ঐ লেখাটাই লিখতে হইতেছে আপনার! আর আমার পয়েন্ট হইলো খুবই ছিম্পল, বাংলায় জা নাই, আমজনতা জেইগুলা কয় তো নাই-ই, উচ্চারনও করতে পারে না বা ছেরেফ বাংলার কানুন মোতাবেক ঢঙে উচ্চারণ করে, তারে কেন বাংলা কইবো?

খাশ বাংলা হিশাবে বাংলাদেশ আর ইনডিয়ান বাংলা পেরায় একই হইলেও গেরামারে দুয়েকটা অমিল থাকতে পারে:

বাংলাদেশে করছি মানে কইরা ফেলছি। করতেছি মানে কামটা করা চলতেছে বা এখনি শুরু করতে জাইতেছি। ইনডিয়ান বাংলায় করছি মানে বাংলাদেশের করতেছি। আর বাংলাদেশের করছি ইনডিয়ান বাংলায় মনে হয় করেছি। এমনই করছিলাম/করেছিলাম। তবে ইনডিয়ান বাংলায় মাঝের ঐ ‘এ’-কারটা হয়তো কলোনিয়াল আছরই, তবু এখন হয়তো ওদিকের বেশিরভাগ বাংগালি অমনেই কয়। আমার হিশাবে ঐ ‘এ’ কারটা এলিট মনে হবার কারণ আছে; ঐ ‘এ’ কারটা কথায় ইমোশন কমাইয়া দেয় একটু জেন, মিডল কেলাশ রুচির খবরদারি অনেকটাই।

এলিট বাংলার লগে খাশ বাংলার তফাতের আরো পয়েন্ট আছে। ভোকাবুলারি আর ঢঙ-ভংগি তো আছেই, একই শব্দের অর্থ পাল্টাইয়া জাবার ঘটনাও বেশুমার। এমন দুইটা শব্দ লইয়া আমার পুরানা বয়ান দেবার উছিলা পাইলাম এইখানে।

“আপনে যেই ভাবের দুনিয়ায় থাকেন তারে আনলার্ন করতে গেলে কতগুলা মুসিবতে পড়বেন। গত কিছুদিন আমি আছি ‘বন্ধু’র ঝামেলায়।

আমার থাকাথাকি দেশের মিডলক্লাস ভাবের দুনিয়ায়, ক্লাসিক (কলোনিয়াল) বাংলা লিটারেচারের বানানো ভাবের দরিয়ায়। এইখানে ‘বন্ধু’ মানে ইংরাজি ফ্রেন্ডের তরজমা। বাট এই ভাবের দুনিয়ার বাইরে, বাংলার আমজনতার মাঝে এখনো ফ্রেন্ড মানে হইলো–দোস্ত, সখি, মিতা এইসব; আর বন্ধু মানে নাগর, পিরিতের রিলেশনের ফলে পাওয়া যায় বন্ধুরে।

এখনো গানে গানে পাইবেন সোনাবন্ধু, বিদেশ যাইয়া বন্ধু তুমি আমায় ভুইলো না, বন্ধুয়া; বন্ধু আর বধুর মাঝেও কোন খাতির থাকতে পারে। বাংলায় পোলাদের পলিগ্যামি থাকলেও পিরিতের রিলেশন বেশ মনোগ্যামাসই, তাই বন্ধুও খুব সিঙ্গুলার আছিল। কিন্তু আমাদের এই হাওয়াই ভাবের দুনিয়া মেসমার কইরা দিছে, ভালগার বানাইয়া রাখছে আমজনতার বন্ধু-দোস্তরে, দোস্ত শব্দটারে কম্যুনাল এজেন্ডার কারণে খেদাইয়া দিতেও চাইছে!

আমারে এখন চরে থাকতে হয়, কোন দরিয়ায়ই যাইতে পারি না পুরা–না বন্ধুতে, না দোস্তে! (মে ২০১৭)”

আরেকটা শব্দ লইয়াও কই দুইটা কথা! খাশ আর এলিট–দুই বাংলাতেই ‘কাম’ আছে। এলিটের কাছে ‘কাম’ শংস্কৃত শব্দ, কখনো খায়েশ/বাশনা, কখনো বা ছেক্স অর্থে পাইবেন। কিন্তু খাশ বাংলায় কামের মানে ইংরাজি ‘work’। তাই কামাই শব্দটা পাইতেছেন। কাম-কাজ এক লগেও কয় কখনো বা। এলিট বাংলা কামের এই অর্থ খেদাইয়া দিছে, তাই কামাইও খেদাইয়া উপার্জন ঢুকাইছে। খাশ বাংলার ‘কাম’ হইলো ভালগার জেন! কিন্তু এইখানে বৌদ্ধদের একটা আছর থাকতে পারে, শেই কারণেও শংস্কৃতঅলাদের নাপছন্দ হইতে পারে। বুদ্ধের বিচারে কাজই কাম, একদম বাশনা অর্থেও। কাজ হইলো কামের ভিতরে থাকা, মানে কামে থাকা এবং এইটা আখেরে দুঃখ থিকা মুক্তি বা নির্বান ঠেকাইয়া রাখে! বাংলার বৌদ্ধদের পাইকারি খুন করছে আর খেদাইয়া দিছে শশাংক-শেনেরা; দেখা জাইতেছে, বৌদ্ধদের ভিটা ছাড়া করতে পারলেও, ভাশার লিগেছিতে শুদ্র-আতরাফেরা বৌদ্ধ ভাব জিন্দা রাখতেছে। কামাই তারা অতো করতে না পারলেও উপার্জন করা শুরু করে নাই!

আমি তাই বাংলাদেশ বা ইনডিয়ান বাংলা বা দুনিয়ার শকল বাংগালিরে দাওয়াত দিতেছি, আপনারা পলিটিক্স আর চিন্তায় গনতান্ত্রিক হইয়া ওঠেন এবং ভাশায় যতখন আপনারা খাশ বাংলায় না জাইবেন, পলিটিক্সেও গনতান্ত্রিক হইতে পারবেন না। জনতার কবুল কেমনে পাইবেন আপনে, জদি জনতার বুলি-শব্দ-ঢঙ-ভংগিমারে ঘিনাইতে থাকেন, ভালগার ভাবেন, রেশিয়াল দেমাগে ফরেন হইয়া থাকেন! খতমের আগে আরেকটা পোশ্নের জবাব তালাশ করতে কইতেছি: হাজার হাজার এনজিও পোরপাগান্ডার ভিতর কেন শবচে কামিয়াব হইছে মীনা কার্টুন? আর শব পোরপাগান্ডার বাংলার লগে মীনার বাংলার একটা তুলনা কইরা দেখেন না একবার!

আমার হিশাবে কয়, ইতিহাশের হাত দেইখা বুঝি আমি, আমরা হয় খাশ বাংলারে কবুল করবো, নাইলে আমরাই থাকবো না, খাশ বাংলা বহাল তবিয়তেই থাকবে, কেননা, খাশ বাংলাই তো বাংলার আমজনতা।

———————

পুরানা কিছু আলাপ, বাড়তি টিপ্পনি

১.

“আকুল শরীর মোর বেয়াকুল মন।
বাঁশীর শব্দে মোর আউলাইলো রান্ধন॥

(শ্রিকৃষ্ণকীর্তন – বড়ু চণ্ডিদাশ)

বাংলারে যখন ডেমোক্রেটিক করার কথা কই তখন বাংলাদেশের লগে লগে ওয়েস্ট বেঙ্গলের মুক্তির কথাও কই। কলোনিয়াল কোলকাতা কেবল পূবের বাংলায় না, পশ্চিমেও সমান হামলা চালাইছে।

আমজনতার বাংলা বুলি এবং ভঙ্গিমার উপর কেমনে হামলা চালাইছে সেইটা চণ্ডিদাশের এই দুইটা লাইন খেয়াল করলে পাইবেন।

বেয়াকুল–ব্যাকুল

রান্ধন–রন্ধন

আউলাইলো–এলোমেলো হলো/হল

দাশ পচ্চিমের, কিন্তু বামুন না, বামুনবাদিও না, আমজনতার। বামুনেরা জদিও দখলের খাছলত তো ছাড়তে পারে না, তারা কেউ কেউ দাবি করতেছে জে, ‘বড়ু’ আশলে নাকি বাড়ুজ্জে/বন্দোপাধ্যায়; জাতের টাশকি খাইয়া থাকেন তারা–বামুন ছাড়া কেউ আবার কবিতা কেমনে লেখে!

তো, দাশের বুলি/লেখারে ভালগার/আনকালচার্ড কইয়া খেদাইছে কোলকাতা। শংস্কৃত শব্দগুলা বাংলায় জেমনে ফোনেটিক্স মোতাবেক বদলাইয়া গেছিল, কোলকাতার বামুনেরা সেইটারে আনডু করছেন। আরো খেয়াল করার ব্যাপার হইলো, এই আউলা বা রান্ধন/রান্ধা/রান্ধে–এইগুলা সমানভাবে পুবের বাংলাতেও আছে, চলে, কয়! সারা বাংলায় জনতার বাংলা, কমন বাংলা কতটা আছে, এখনো মেলে তারা, শেইটা বুঝবেন আম/খাশ বাংলায় মোশারফ করিমের নাটক পুবে-পচ্চিমের ইউটিউবে কতটা পপুলার, হিসাব করলে…

কিন্তু গত ১৫০ বছরে কোলকাতা শারা বাংলারে সাইজ করতে পারে নাই, অশিক্ষিত শুদ্র হিন্দু আর মোসলমান ঠেকাইয়া রাখছে। এইবার জনতার পলিটিক্স জারা করতে চাই–আমরা জারা শিক্ষিত, তাগো দায়িত্ব ঐ বামুনের বাংলা ফালাইয়া দেওয়া, আমজনতার লগে কোলাকুলি করা।

জারা করতে নারাজ তারা জনতার পলিটিক্সের নামে জনতার লগে বেইমানি কইরা জাইতেছেন।”

“এমন একটা কথা আছে যে, পোরমিত বাংলাটা নদিয়া/কোলকাতার কোন একটা এলাকার লোকাল বাংলা আসলে। ঐ বাংলার ক্রিটিকরা প্রায়ই এমনটাই কন মনে হয়।

আমার অনুমান, এইটা ভুল! সেইখানের লোকাল বাংলারেও কম্যুনাল ফিল্টারিং কইরাই নেওয়া হইছে, এবং ফিল্টারিংটা বেশ এক্সট্রিম!

ঐ কম্যুনাল ফিল্টারিং তার আসল ভায়োলেন্স দেখাইছে শব্দের ব্যাপারে। তবে কেবল কম্যুনাল না মনে হয়, কম্যুনাল আর ক্লাস(ছোটলোকি)’র আইডিয়া মিলেমিশে আছিল মনে হয়।

এই ব্যাপারে কিছু কোয়্যারি করতে মন চাইলো। আমার ধারনা, সেইখানে খেদাইয়া দেওয়া আর ইনছার্শনের ঘটনাগুলি অনেকটা এমন:

জমিন খেদাইয়া ভূমি

আসমান খেদাইয়া অম্বর, অন্তরীক্ষ এইসব; তবে আকাশ শব্দটা আসমানের কাছাকাছি মাপেই আছিল।

আফসোস, মুসিবত খেদানো হইছে।

নজর খেদাইয়া দৃষ্টি ইনসার্ট করা হইছে।

কয় খেদাইয়া বলা রাখা হইছে খালি, রঠা গানে দুই চারবার কয় ইউজ করছেন… খালি খেদাইয়া শুধু করা হইছে।

তরজমারে অনুবাদ করা হইছে, নারাজ কইতে না চাইয়া প্রত্যাখ্যান ইনসার্ট করা হইছে।

চাখা খেদাইতে চাইয়া আস্বাদন ঢুকানো হইছে।

তারিফ খেদাইয়া দিছে, ঢুকাইছে প্রশংসা; ‘প্র’ প্রত্যয়ের প্রায় সব শব্দই ইনসার্শন হইতে পারে।

সিধা খেদাইয়া দিছে, কেবল সহজ, সরল রাখা হইছে। চন্দ্র আর চাঁদের কোনটা আছিল, নাকি চান?

সওদাগর খেদাইয়া বণিক।

প্রবণতা শব্দটা আছিল না মনে হয়, বা প্রতারণার বদলে ধোকা, জিন্দা খেদাইয়া জীবিত। দরদ, কসরত, আওয়াজ শব্দ অপছন্দ করা হইছে, খাজনারে বানানো হইছে কর বা শুল্ক; মসনদরে বানাইছে সিংহাসন, বাদশারে শম্রাট, বিজলি বাদ দিয়া বজ্র। নজির বাদ দিয়া উদাহরণ, গোস্বা বাদ দিয়া অভিমান, দোয়া খেদাইয়া আশীর্বাদ… আরো কত কি…

এই অনুমানগুলিতে কতক ভুল থাকতে পারে, কিন্তু এইটা জত না সব ঠিকের দাবি, তারচে ভাবনার একটা এংগেল।

টাইম আর টাকাঅলা লোকেরা আমার কোয়্যারি আগাইয়া নিলে লাভ হইতে পারে।”

২.

আগেও কইছি, বাংলাদেশে রঠার মুরিদ বাড়াবার ব্যাপারে সবচে বড় অবদান আইউব খানের, ছায়ানটিরা গ্রেটফুল হবার কথা! এবং এইটার পিছে সবচে বড়ো রোলটা প্লে করছিল একটা ফেক নিউজ!

পাকিস্তানে রঠা কখনো হারাম/নিষিদ্ধ আছিল না, এখনো পাকিস্তানে রঠা লইয়া লেখা বা পাবলিক মচ্ছব হয়।

পাকিস্তানের সরকারি রেডিও-টিভিতে রঠার গান গাইতে মানা করছিল বইলা কয় বাওয়ামী ইতিহাস, ডকুমেন্টের তালাশে আছি, পাই নাই এখনো। তবে বেসরকারি মচ্ছব হইতো, আরো বাড়ছিল হিউজ, নিচের লেখাটায় পড়েন ডিটেইল। তখন বেসরকারি টিভি-রেডিও আছিল না, তাই তাতে রঠা-মচ্ছবও হবার উপায় আছিল না; কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ায় রঠারে আরো বাড়াইয়া দিছিলো আইউব!

সো, রঠার কিছুই হারাম আছিল না, কোন বইটইও ব্যান হয় নাই! রাষ্ট্রের লগে যা কন্ট্রাডিক্ট করে তা প্রোমোট করে না রাষ্ট্র; সিরাজ শিকদারের উপর বিটিভিতে কি একটা মচ্ছব করা যায় এখন? ভাসানির হক কথা প্রচার করতে রাজি হবে? রঠার ঘটনা তেমনই আছিল!

ব্যাপারটা কম্যুনাল আছিল বটে। তা দূরদর্শনে কি বখতিয়ার খিলজি লইয়া একটা সিরিয়াল দেখানো যাবে?

কিন্তু রঠারে ব্যান করছে পাকিস্তান–এমন এক ফেক নিউজ ১৯৬০-৭০ দশের পুরা কালচারাল মুভমেন্টের বেসিস/খাম্বা/বুনিয়াদ আছিল। আরো মজা হইলো, এই ফেক নিউজ প্রোপাগেট করা যাইতেছিল রঠা-মচ্ছব করতে করতেই :)!

লোকে তবু বিশ্বাস করতো ঐ কথা! বেকুব না হইলে বিশ্বাসের গ্রামার বুঝতে পারবেন আপনে…

গুড লাক।

——

“ফলে পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্রের সব বাধা—বেতারে-টিভিতে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধ করা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তাঁর রচনার গুরুত্ব হ্রাস করা—কেবল প্রতিরোধের শক্তিকেই উসকে তুলেছে। তাই আমরা দেখি, ষাটের দশকজুড়ে রবীন্দ্রচর্চার প্রসার ঘটেছে—শতবার্ষিকীর পর পর ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের প্রতিষ্ঠা এ দেশে রবীন্দ্রচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করে। এ সময় রবীন্দ্রবিষয়ক গবেষণা ও প্রবন্ধের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।২৭তবে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়, জাতীয় পর্যায় থেকে পাড়া পর্যায়ে পঁচিশে বৈশাখে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদ্যাপনের কথা—সংগীত প্রতিষ্ঠান, সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে আয়োজনের বহর দিন দিন বেড়েছে, বেড়েছে রবীন্দ্রসংগীতচর্চা ও এর রসজ্ঞ শ্রোতার সংখ্যা।”/আবুল মোমেন

লিংক: http://bit.ly/rokmanu1

//এপ্রিল ২০১৮//

৩.

অশিক্ষিত বেকুব বাঙালিরে (ইংরাজি মিডিয়ামও ইনক্লুড করতে পারেন) বাংলা শিখান; মস্ত এই ফেব্রুয়ারিতেই প্রজেক্ট হাতে লন।

আজকে দুইটা শব্দ দিয়া শুরু করেন:

ক. নিস্তরঙ্গ

খ. নিস্তব্ধ

অডিও বানান, সহি উচ্চারণের। মাইকে বাজাইতে থাকেন। রিক্সায় চইড়া পিছে বইসা কইতে থাকবেন, রিক্সাঅলারে শিখাইয়া ফেলেন। কামের মাইয়ারে শিখান। দাড়োয়ানকে। বাজারে যাইয়া সবজি বা মাছঅলারে ছবক দেন।

ফেব্রুয়ারির পেরতেক দিন দুইটা কইরা শব্দ শিখাইতে পারলেই সাড়ে তিনশো বছরে আপনের বাংলাটা ওরা শিখে ফেলবে হোপফুলি। আপনের বইগুলা তখন ওরা কিনবে, আরো বেশি হোপফুলি :)।

–ফেব্রুয়ারি ২০১৮//

জাহাঙ্গীরনগরের সেন্টার হইলো ট্রান্সপোর্ট। কাগজে যদিও পরিবহন লেখা, বাট কেউ কয় না, ট্রান্সপোর্ট কয় সবাই। ইংরাজি যারা পড়ে নাই, তারা হয়তো টান্সপোর্ট/টান্সপোট কয়।

বাংলা ভাষা লইয়া ভাবেন যারা, তাদের প্রায় সবাই বাংলা কইতে যাইয়া লোকে যে প্রায়ই ইংরাজি শব্দ ঢুকায় বাক্যে, এই ব্যাপারে খ্যাপা। ফুটানি হিসাবে দেখেন তারা প্রায়ই। আরেকটু খেয়াল কইরা দেখেন, ঘটনা তেমন সোজাসাপ্টা না কিন্তু!

পরিবহন শব্দটা দেখেন, এইটা আমবাংলার ভান্ডারে নাই, আমবাংলার কানুনে এমন শব্দ হয়ও না। শব্দের পিছে ‘পরি’ লাগাইয়া যেসব শব্দ বানায় ‘প্রমীত’, তার কোনটাই আমবাংলায় খাপ খায় না। পরিবেশন, পরিকল্পনা, পরিশেষ, পরিক্ষেত্র ইত্যাদি; কেবল পরিবেশ’টা একটু ঢুকতে পারছে, একক শব্দ হিসাবে, ‘পরি’ ততোটা হাজির নাই এইটাতে, তাই হয়তো!

এমন ‘প্রমীত’ কানুনে বানানো শব্দ যেইখানে লাগতেছে, আমজনতা সেইখানে ইংরাজি ফুটায়! দেখেন, সাহায্যকারী’র বদলে হেল্পার, চালকের বদলে ড্রাইভার, পরিষ্কারের বদলে ক্লিয়ার ইত্যাদি।

কিন্তু প্রমীত কানুনে শব্দ কি এমন বানাইতেই হয়? আবার খেয়াল করেন, যেসব শব্দ বানাইয়া ঢুকাইতে চাইলো ‘প্রমীত’ তার বদলি শব্দ অলরেডি (ইতঃমধ্যে :)!) আছে আমবাংলায়। দুইটা কারণে সেইসব শব্দ লয় নাই কোলকাতাই প্রমীত:

ক. কম্যুনালিজম

খ. ফিউডাল এটিচ্যুড

ক্লিয়ারের বদলে ‘সাফ’ কইতে/লিখতে পারতেন ওনারা, কিন্তু এইটা ফার্সি বইলা লইলেন না! যদিও পুরা আমবাংলায় তাই আছে!

ট্রান্সপোর্টের ব্যাপারে দেখেন, আমবাংলায় ‘বহন’ হইলো ‘বওয়া’/’বাওয়া’, খেয়া বাওয়া, কুলি মাল বয়, বইয়া লইয়া যায়। কত কত গান আছে–মাঝি বাইয়া যাও রে, বাইতে জানি না ইত্যাদি। বাইয়া কি করে? পার করে। ‘থাকতে পার ঘাটাতে তুমি পারের নাইয়া দীনবন্ধু রে, আমার দিন কি এমনি যাবে বইয়া…’, শুনছেন গানটা? মোটের উপর, পারাপার।

এখন, এই পারাপার যখন নেবেন না, বাওয়া যখন ভালগার ছোটলোকি বাংলা, আপনের তখন ‘পরিবহন’ লাগে!

আপনে তখন ট্রান্সপোর্টকে ‘পরিবহন’ কইয়া চিল্লাইতে থাকেন, ‘পারাপার’ তখন সমাজে জমিন হারাইতে থাকে; কেউ কয় ট্রান্সপোর্ট, কেউ কয় টান্সপোট…

ভাষা এবং শব্দ এমনই ক্লাস-ইজ্জতের লগে তাল মিলাইতে বাধ্য হয়; আপনে জোর কইরা ঢুকাইতে চান, আমজনতা ঠেকায়; টান্সপোট হইলো আমজনতার রেজিস্ট্যান্স বা টক্কর। আপনে যদি ভাষায় আপোষ করতেন আমজনতার লগে, তাইলে হয়তো আরো দরকারি সব ভাবনাচিন্তা লইয়া জনতার লগে ফ্রুটফুল ঝগড়াঝাটি করতে পারতেন…

–জুলাই ২০১৮//

৪.

ইতিহাশে বদলাবদলি এতো কমন! বাংলা মিডিয়ামের ভিতর যখন কলোনিয়াল বাংলা পুরা শুয়ারেজ লাইনে পইড়া যাইতেছে, তখন আরবি মিডিয়ামের অনেক আতেল ঐটারে যেন খুব আকড়াইয়া ধরতেছে আরো! যারা কিনা আগে ঐ বাংলারে ঠেকাইতে বহু মেহনত করছিলেন আগে, অন্তত ভোকাবুলারিতে!

না, ভাবলে টাশকি খাবার কারণ ততো পাইবেন না; বাংলা মিডিয়াম কলোনিয়াল বাংলার কারণে আমজনতার লগে শকল কানেকশন হারাইছে, এতদিনে টনক নড়ছে, আমের কোলে উঠতে চাইতেছে আবার, আমের কাছে নিজেদের আর্ট বেচতে চাইতেছে, তাই পোস্ট কলোনিয়াল হইয়া ওঠার দরকার পড়ছে! আর আরবি মিডিয়ামের গাহেক হিশাবে তো আমজনতা আছেই, তাই তাগো আর পাত্তা দিতেছে না ততো! বাংলা মিডিয়াম যখন পোস্ট কলোনিয়াল হইতেছে, শেই মওকায় তাদের ভিতর দেশি ধর্মের পশার ঘটাইতে চাইতেছে আরবি মিডিয়াম। আন্দাজটা এমন যে বাংলা মিডিয়ামের লোকেরা তো কলোনিয়াল বাংলার খাদেম, তাই ঐ বাংলাতেই তাদের অন্তরে হান্দাইতে হবে…

–ডিছেম্বর ২০১৯//

ফিউডাল লর্ডরা বণিকদের কেমনে দেখতেন? আনকালচার্ড ভাবতেন, দুই-চার টাকার ব্যবসা লইয়া মশকরা করতেন, বণিকদের লগে বিয়া-শাদি তো ইজ্জতের মামলা পুরাই!

কয়েক বছর পরে দেখা গেল কালচার বণিকদের দখলে, জমিজমার কারবারিরা চাষা হইয়া গেছে, ফার্মার বড়জোর! এই টাইমটা লর্ডদের পেরেশানির টাইম, সমাজ শেষ, মানীর মান নাই–এমন সব আফসোস!

এই বদলটা মাথায় লইয়া ইংরাজি মিডিয়াম বোঝার ট্রাই করেন, বাংলা ভাষার ব্যাপারে। বাংলার মোড়লরা আফসোস করতেছে–বাংলা গেল গেল, বাংলা বই পড়ে না ইংরাজি মিডিয়াম, দেশী কালচার শেখে না, পাত্তা দেয় না ইত্যাদি।

কলোনিয়াল লিগ্যাসিতে ইংরাজি বাড়তি ইজ্জত আছে বটে, কিন্তু এই পোলামাইয়াদের যারা এই দেশে থাকবে, তারা তো এখনো থাকতেছেই। কলোনিয়াল কারখানায় পয়দা হওয়া বাংলা তারা পড়ে না, বোঝে না, কয় না। বাট বাংলা কয় ঠিকই তো! তাগো সেই বাংলা সমাজে তাগো রিলেশনের ভিতর দিয়া শেখে, দোকানদার বা রিক্সাঅলা বা বাজারে বা বাসে বা আড্ডায় বাংলাটা শিখতেছে তারা।

এইটাই হইলো তুমুল পজিটিভ ঘটনা! তাগো বাংলা ডেমোক্রেটিক, কমন বাংলা হইতে বাধ্য। এদের মাঝে কিছু, মে বি ফার্স্ট জেনারেশন গ্রামার শিখতেই জিন্দেগি পার কইরা দিছে। তার পরে ইংরাজিটা খাসলত হইয়া উঠছে, বাড়তি মন দিতে হয় নাই; এরা ইংরাজিতে আর্ট খায়, ফালতু বাংলা আর্ট খায় না, কোলকাতা নামে কোন মিথিক্যাল আর্টের গুদাম নাই তাগো মগজে, তারা সমাজের অলিগলির গান-শব্দ-কথা শোনে, খায়; দুই দিন পরে নিজেরা বানাবে।

কেমন হবে তাগো আর্টের সুরত? কিছু যাবে পুরা নকলের দিকে, ইংরাজির দেমাগে হাত দিয়া পাছা লাগড় পাবে না। কিন্তু কিছু দিনেই বুঝবে, ইংরাজি জিনিসটাও লোকাল, নিজের সিগনেচার থাকতে হয়। বাকিরা আরো আগেই দেশ এবং মানুষের না থাকার ইতিহাস ফিল করবে। হয়তো ইংরাজি ভাবে কইবে, লিখবে, বানাবে; কিন্তু নিজের কনটেক্সটে কাম না করলে তো কাম হবে না, সো দেশের জনতারে লইয়া আর্ট বানাবে, জনতারে দেখাইতে চাইবে। কেননা, তারা তো আগের সেই ফিউডাল এবং কলোনিয়াল বাংলা বা আর্ট চেনেই না, বানাবে কেমনে?

সো, এই নিউ আর্টিস্টদের জন্য ওয়েট করতেছি আমি, তারা আসবে। এই আর্ট আর আর্টিস্টরা কেমন হইতে পারে সেইটা আন্দাজ করতে ইন্ডিয়ার ইংরাজি-হিন্দি লেখা, পোস্ট ২০০০ সালের হিন্দি সিনেমা লইয়া ভাবতে পারেন। ইন্ডিয়া অবশ্য আমাদের মতো বদনসীব না এতো, জনতার দুশমন বাংলার উল্টাদিকে হিন্দিটা আগাগোড়াই ডেমোক্রেটিক মোটামুটি, এমনকি বিজেপি হিন্দিও।

–ফেব্রুয়ারি ২০১৮

৫.

‘বাংলিশ’কে নিন্দা জানাইতে Rezwan Tanim নামে এক লোক লিখলেন ‘স্মার্ট আরজে'; তাইলে দেখেন, উনি নিজেই ‘স্মার্ট আরজে’ বোঝাবার জন্য ওনার মতে যেইটা বাংলা তেমন শব্দ পাইলেন না! বা এইটাও হয়তো ওনার মতের সহি বাংলা :)।

এমন বহু শব্দ আছে যেইগুলা বুঝাইতে ‘প্রমীত’ বাংলা শব্দ পাইবেন না, আগেও এমন বহু শব্দ তাই বাংলা এখন আসলে। যেমন ধরেন– ডিজিটাল, ইন্টারনেট, ব্লগ, হেডলাইট, ব্রেক, বেল, হর্ন… এমন কত কত! এমনকি কিছু শব্দ থাকলেও ইংরাজি ঢুকছে অমন–লস, ক্লিয়ার যেমন! কখনো বা ফার্সি খেদাইতে সংস্কৃত চাপাইতে চাইছেন ওনারা, ফাকতালে ইংরাজি ঢুকছে! যেমন? ‘সাফ’ না কইয়া কইছেন ‘পরিষ্কার’, তখন দেখা গেছে সমাজ লইছে ‘ক্লিয়ার’!

এইগুলা ইংরাজি নাকি সংস্কৃত নাকি ফার্সি গোড়ার মাল, তারচে ভাবেন % দিয়া, বাংলারে ডেমোক্রেটিক বানান, যেইটা বেশি লোকে বোঝে বা কয় সেইটারে লন, তাতে হুদাই ‘বাংলিশ’ ডিলেমায় পড়বেন না!

উনি হিন্দির ব্যাপারেও আপত্তি জানাইছেন। উনি এবং ভাষার ব্যাপারে ওনার স্কুলের অনেকে দেখবেন ‘সহমত’ লেখে; খুবই নতুন শুনতেছি আমি, ৭/৮ বছর হয়তো! খেয়াল করেন, এইটা বাংলার আমজনতা কয় না; হিন্দির লগে বাংলার আমজনতার শব্দের অনেক অনেক মিল (ইনসাফ, মাফ, সাফ, ওয়াদা, দোয়া, নসিব…) থাকলেও ‘সহমত’ কিন্তু নাই! হিন্দিতে কয় ‘সেহমত’, সেইখান থিকাই ‘প্রমীত’অলারা সংস্কৃতের গন্ধ পাইয়া জলদি জলদি লইয়া লইছে… :)!

–জুলাই ২০১৮//

“লাইন ধইরা খায়, সিরিয়াল ধইরা মরে;

ইদুর তোমার রেহাই নাই,

ধরা পড়লে জামিন নাই।”

ইদুর মারার বিষ বেচতেছেন ক্যানভাসার, মাইকে কইয়া যাইতেছেন হরদম, কত কথা; তার ভিতরেই ৩ টা লাইন লিখলাম উপরে।

এই লাইন ৩ টা বাংলার ব্যাপারে কত কত ফ্যাসাদের জবাব দিয়া দেয়!

‘সারিবদ্ধ’ বাদ দেন, ‘লাইন’টাই বাংলা, বা ‘ক্রমিক’ না তো, ‘সিরিয়াল’। রেহাই’রে উর্দু কইতে পারেন না, ইদুরের সমানই বাংলা। ‘ধরে’ বাংলাদেশের আমজনতার বাংলার ফোনেটিক প্যাটার্নের মাল না, ‘ধইরা’। ‘ধরা’ কিন্তু আছে।

বাংলা ভাষার কানুন বা গেরামার লইয়া ফ্যাসাদ না কইরা, পুরানা সব গেরামার ফালাইয়া দিয়া এই ৩ লাইন দিয়া নয়া গণতান্ত্রিক গেরামার লেখা শুরু করেন; লিখতে গেরামার লাগে না, আপনে অলরেডি জানেন এই বাংলা, আপনের বাংলা ফিকশন এই ভাবনা এবং ভংগিতে লেখা শুরু করেন।

ছিম্পল। ছিম্পলের ভিতর গর্জিয়াস আসলে।

–অক্টোবর ২০১৯//

৬.

হরেক ব্যাপারে লিখি আমি; তার ভিতর বড় একটা টপিক ভাশা। এই ব্যাপারে আমারে অনেক দোস্তই হুশিয়ারি দিছে; ওনাদের পয়েন্ট হইলো, আমি নাকি এই ভাশার বেপারে আমার পজিশনে ছাড় দিলে লেখক হিশাবে আরো কামিয়াব হইতে পারতাম। আমি মানি নাই ওনাদের কথা, এখনো মানি না।

কামিয়াবি চাই না আমি–এমন বেপার নাই এইখানে, আশলে আমরা কামিয়াবির বেপারেই খুব জুদা মনে হয়। একটাই পোজেক্ট আমার, শেই পোজেক্টের মনজিলের দিকে আরো কয়েক কদম আগাইতে পারলাম কিনা, শেই হিশাবেই আমার কামিয়াবি মাপি আমি।

আতেল হিশাবে আমার পোজেক্ট হইলো, বাংলাদেশে এবং শারা জাহানেই তাবত মাকলুকাতের জন্য ইনছাফ কায়েম করা, দুনিয়ায় গোলামি কমাইয়া শুখ বাড়ানো। এর জন্য শমাজে জুলুম কমাইতে হবে, মানুশের কবুলের দাম বাড়াইতে হবে; আমার হিশাবে শমাজে কবুলের দাম যত কম জুলুম ততো বেশি, শুখ ততো কম এবং ইনছাফ ততো দূরে। আমার পোজেক্ট তাই কবুলে শুরু হইতেছে এবং মানুশের কবুলিয়ত পাওয়া শাশনের নামই ভোটাভুটির শাশন, ভোট অর্থ কবুল। কেপিটালিজম বা কমুনিজম হইলো ইকোনমিক ছিস্টেম, শরিয়া বা মর্ডান ‘ল হইলো লিগাল ছিস্টেম, এগুলার লগে কবুলের কোন ফ্যাছাদ নাই, বরং এগুলা জখন মানুশের কবুলের তোয়াক্কা করে না, তখন জুলুম বাড়তে থাকে, ইনছাফ থিকা দূরে জাইতে থাকে শমাজ; আর মানুশের কবুলিয়ত পাত্তা দেয় না জেই ছিস্টেম শে তো আর শব মাকলুকাতের জন্য আরো বড় জালেম!

আমার হিশাবে আমেরিকা আর ইরান–দুইটাই গণতান্ত্রিক দেশ, কিন্তু আমেরিকায় মানুশের কবুলিয়তের দাম বেশি, তাই ইরানের চাইতে আমেরিকায় জুলুম কম। এই আমেরিকাই আবার দুনিয়ার কমুনিটিতে অন্যের কবুলের তোয়াক্কা করে না বইলা নিজের দেশের বাইরে শে জালেম রাশ্টো! নিজের দেশে এবং বাইরে অন্যের কবুলিয়তের দাম শবচে বেশি দেয় নর্ডিক দেশগুলা, তাই ঐশব দেশে জুলুম শবচে কম, ইনছাফ শবচে বেশি।

এখন যদি ইতিহাশ দেখেন, দেখবেন যে, কবুলিয়তের শাশন কায়েমের আগে পোরতিটা দেশ ভাশার ফয়ছালা করছে আগে! ইউরোপে কবুলিয়তের শাশনের দিকে পয়লা মর্ডান কদম হইলো ভার্নাকুলার ভাশায় বাইবেলের তরজমা। আমেরিকা কবুলিয়তের শাশনের দিকে জাইতে জাইতে আমেরিকান ইংরাজি বানাইয়া লইছে। ইনডিয়ায় হিন্দি কোনভাবেই সংস্কৃতের মাইয়া হয় নাই, হিন্দি-উর্দুর মা অন্তত দুইটা–ফার্সি এবং সংস্কৃত, কলোনিয়াল জামানায় ইংরাজিরও মস্ত আছর পড়ছে।

বাংলাদেশে ভাশার এই ফয়ছালা হয় নাই। পাকিস্তান থিকা শাধীন হইতে জেই বাংলার নাম শোনেন শেইটা ভার্নাকুলার বাংলা না। তখন বাংলা বনাম উর্দুর চিপায় বাংলা বনাম বাংলা হারাইয়া গেছে, হারাইছে মানে দখল করছে কলোনিয়াল কারখানায় পয়দা হওয়া বাংগালি।

তো, এরা কারা? এরা একটা এছথেটিক দলা, নিজেদের ভিতর দলাদলি দেইখা ভুল হয় আমাদের; ছাত্রলীগের দুই ভাগ খুনাখুনি করতে থাকলেও তারা দুইটাই জে লীগ, শেইটা আমরা ছাফ বুঝলেও ঐ এছথেটিক দলার ভিতরের ভাগের বেপারে প্যাচ লাগে আমাদের!

খেয়াল কইরা দেখেন, হিরো আলোম আর অনন্ত জলিল লইয়া দেশে জারা মশকরা করতেছিল, খালেদা জিয়ার ‘শমঝোতা’ লইয়া জারা হাশছিলো, বিএনপির ভিতর জারা শরমিন্দা হইছিল, মফিজ-আবুল-রমজান খেতাব দিয়া যারা অন্যরে পচায়–এরা শবাই কিন্তু একটাই দলা! এই দলার এছথেটিক কেবলা কই? এই দলার ভিতর প্রথম আলো-লীগ-বাম-ছায়ানট-উদীচি-আ আ ছায়ীদ এক লগে পাইতেছেন? এই এছথেটিক দলা এবং তার গোড়া বুঝলে আপনে দলার ভিতরের মারামারি বুঝতে পারবেন, আপনে তখন মতিউর রহমানের উপর লীগের জুলুম ঠেকাইতে খাড়াইয়াও প্রথম আলোয় ছয়লাব হইবেন না, লীগের করাপশন লইয়া নিউজ করলেই প্রথম আলোরে ঐ দলার বাইরের কেউ ভাইবা ভুল করবেন না! জোনায়েদ-ফিরোজ-গণশংহতির ভিতর কবুলিয়তের বা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের খায়েশ থাকলেও কেন তারা আখেরে লীগের বাইরে জাইতে পারে না, শেইটাও বুঝবেন! মিথিলার বিয়ারে কলিকাতা (নকল) ছাইড়া কলিকাতা (আশল) বিয়া করা হিশাবে দেখতে পারবেন আলগোছে!

কবুলিয়তের বাংলাদেশ বানাইতে হইলে ঐ এছথেটিক দলারে হারাইতে হবে আমাদের এবং শেইটা শুরু করার গোড়াটা ভাশায়! ভাশার বেপারে আমার এই পজিশনরে জারা মানেন না, তারাও অনেকে জনতার কবুলিয়তের বাংলাদেশ চান, কদমে কদমে আগাইতেছেনও হয়তো, কিন্তু ঐ এছথেটিক দলারে হারাইতে না পারলে আখেরে কামিয়াব হবেন না তারা! তাদের এবং জনতার কামিয়াবির জন্য পলিটিক্স করি আমি, তাদের কামিয়াবিই আমারো কামিয়াবি। কেননা, বেশিরভাগ বাংগালির বাংলা শব্দ, ঢঙ, কানুন এবং ভংগিমারে ‘খাশ বাংলা’ হিশাবে জদি পোতিশ্ঠা না করতে পারি আমরা, তাইলে কবুলিয়তের বাংলাদেশ তো হইলো না, আর এই বাংলারে ‘খাশ বাংলা’ হিশাবে না মানলে আপনে নিজেরে গণতান্ত্রিক হিশাবে দাবি করারই তো হক রাখেন না, রাখেন?

–জানুয়ারি ২০২০//

৭.

গোলাম কিবরিয়া সাব ভোলার লোক, এই দুনিয়া পুরান হইয়া যাবার কথা ওনার কাছে, মানে বয়স পেরায় ৯০। মাস্টারি করতেন। ভাবতেছি ওনার লগে আরো কথা কইবো, ইন্টারভিউ নিতে পারি; ইতিহাসের চেনা পাচালি বা ন্যারেটিভ এড়াইতে এমনসব মানুষের লগে আলাপ দরকার খুব। সব যে ঠিকঠাক কইতে পারবেন, মনে করতে পারবেন, বা মনে মনে কত কথাই তো বানাইয়া কইতে পারেন যে কেউ, মানুষ তো খাসলতেই আর্টিশ! কিন্তু চোখা নজরে বিচার করলে দেখবেন, জবাব না ততো, মনে সওয়াল বানাইতে পারাই আসল কাম, একবার সওয়াল পয়দা করা গেলে ইতিহাস সহি জবাব বাইর কইরা ফালায়!

পুরানা কয়টা শব্দ দিয়া আরেকটু কিলিয়ার করি বরং:

“কত কত দিকে আমার ইন্টারেস্ট, এমনকি সায়েন্সেও! ইন্টারেস্টের সেক্টরগুলায় যাই আর মালুম হয়, দেশের আতেল-লেখক-মাস্টাররা কতটা পার্শিয়ালি জানায় আমাদের! বা যারা এলেমের আরেকটু নিচের দিকে নামেন, সমাজে তাদের ভাবনা-লেখা ঢোকে না বুঝি!

আমাদের সমাজে নিউটনের নাম আছে, অন্তত একটু যারা পড়ছেন, তাদের মাঝে। নিউটন নাকি জিগাইছিলেন, আপেলটা পড়লো কেন? এইটার জবাবের তালাশে নাইমা গ্রাভিটি পাইছিলেন উনি।

নিউটন ঐ পোশ্ন তুলছিলেন সত্য, কিন্তু উনিই পয়লা না! বা এই পোশ্ন ওনার করতেই হয় নাই হয়তো! কেননা, পোশ্নটা আগে থিকাই আছিল! ওনার আগে এরিস্টটল পোশ্ন তুলছিলেন, উপর থিকা বস্তুরা নিচে পড়ে কেন? জবাবও দিছিলেন এরিস্টটল।

এরিস্টটলের জবাব মারেফতি, পিরিত আর আধ্যাত্মিকতার চূড়া! উনি কইলেন–বস্তুরা নিচে পড়ে কারণ, মাটির লগে মিলনের তরে উতলা হইয়া থাকে বস্তুরা!

তবে, নিউটনের পোশ্ন আরো লম্বা আছিল, সেই লেজুড়টা আর কয় না কেউ আমাদের দেশে! মিশিও কাকু নামের এক ফিজিসিস্ট জানাইতেছেন–নিউটন আরো জিগাইছিলেন, আপেলটা যদি পড়লো, চানটাও কি তাইলে নিচে পড়বে? এই দুই পোশ্নের জবাবের তালাশেই উনি ক্যালকুলাস আর গ্রাভিটি এবং গতির থিয়োরিগুলা পাইছিলেন!

গতির থিয়োরিগুলার পিছে অবশ্য আরো একটা পোশ্ন আছে: চলন্ত বস্তুরা শ্লো হইতে হইতে থাইমা যায় কেন? এবং এই পোশ্নটাও নিউটনের আগেই এরিস্টটল করছিলেন! জবাবও দিছিলেন। এরিস্টটলের জবাব আছিল–বস্তুরা টায়ার্ড হইয়া যায়, তাই থামে।

সো, এরিস্টটলের ভুল ধরতে যাইয়াই নিউটন হইলো! এরিস্টটলের আগেও হয়তো কেউ একই পোশ্ন তুলছিলেন; হয়তো মিশরে বা গিলগামেশের মেসোপটেমিয়ায়, জানি না!

পোশ্ন করা, জবাব দেওয়া আর ভুল ধরা–এই তো ইতিহাসের গোড়ার কথা! আমাদের বিজ্ঞানমনস্করা কোন একদিন চেতনাভক্তি উতরাইয়া পোশ্ন কি করবে? হায়, ভুল ধরার হিম্মত কি হবে…!/জুলাই ২০১৮”

যাই হৌক, কইতেছিলাম গোলাম কিবরিয়ার কথা। উনি জিগাইলেন, ‘আপা’ কেমনে আইলো দেশে? পোশ্নেই টাসকি খাইলাম, জিগাই নাই কখনো এইটা!

আমার বড় বইনরে আমি ডাকি ‘আফু’, এইটা আইছে ‘আপু’ থিকা, আপুর গোড়া হইলো ‘আপা’। কিন্তু আপা? বাংলাদেশের ঘরে-বাইরে ‘আপা’ বেশুমার, কেমনে?

গোলাম কিবরিয়া কইলেন, আপা হইলো–APWA, all pakistan women’s Associatio! এইটা ১৯৪৯ সালের একটা মজলিশ বা অর্গানাইজেশন; এইটার সরদার আছিলেন রাআনা লিয়াকত আলী খান, নিজে জাদরেল পলিটিশিয়ান, পাকিস্তানের পয়লা পিএম লিয়াকত আলী খান রাআনার ভাতার হবার পর পিএম হইছিলেন।

এই মজলিশ সারা পাকিস্তানে অনেক কাম করতো, স্পেশালি মাইয়াদের ইস্যুতে। সরকারের লগে পার্টনারশিপ আছিল, মানে নেপোটিজমের ভিতর দিয়াই ওয়েলফেয়ার চলতো মনে হয়, বা ওয়েলফেয়ারের বাহানায় নেপোটিজম। তো, সারা পাকিস্তানেই ঘরে ঘরে যাইতো এই মজলিশের খাদেম মাইয়ারা; তখনকার সারা পাকিস্তানের গেরামে গেরামে যাইতো এরা, লোকে এদের আপা ডাকতো।

আমি মনে করার চেষ্টা করলাম, আরো পুরানা বাংলা লিটারেচারে ‘আপা’ পাইছি কিনা, মনে পড়লো না, আপনাদের পড়ে?

বাড়তি কথা এই, সেই APWA-ই এখন ‘বাংলাদেশ মহিলা সমিতি’, কি করে তারা এখন? ওনারা তো ‘APWA’ মনে রাখেন নাই আর, তবু সারা বাংলাদেশে আপা নামের ‘পাকিস্তানি ভুত’ রইয়া গেছে, নাকি আপার আর কোন গোড়া পাইতেছেন?

–নভেম্বর ২০১৯//

‘লুঙ্গি মহফেল’ করেন, তবে বাংলায় শব্দেরা কেমনে ঢোকে, সেই খেয়াল রাখতে পারেন কিন্তু! ‘মহফেল’ লিখছেন, মিডিয়ায় লিখতেছে ‘মাহফিল/মাহফেল’, দুইখানেই বাংলার কেতা রাখেন নাই। খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলায় এমন সব শব্দের ‘হ’ বাদ পড়ে। মুল্লাহ হইয়া যায় মোল্লা, সিরাজ উদ দৌলাহ হয় সিরাজুদৌলা, বাঙ্গালাহ হইলো বাংলা ইত্যাদি। কেবল এইখানে না; ইশা খান না, ইশা খা, শায়েস্তা খা। মাহফিল বা মহফেল শব্দটারে হিন্দি-উর্দুতে শুনছি মেহফিল, বাংলায় শুনছি স্রেফ ‘মফেল’। বাংলার আমজনতা, যারা বাংলা ছাড়া কোন ভাষা আর জানে-কয় না, তারা ঐ কানুন মোতাবেক ‘মফেল’ কয় বা তারা কয় বইলাই এইটা বাংলার কানুন। আপনারা বা ডেইলি স্টার যদি একেকটা আনন্দবাজার না হইয়া থাকেন, তাইলে স্রেফ ‘মফেল’ কইবেন বা লিখবেন প্লিজ।

–এপ্রিল ২০১৯//

৮.

ফেসবুক-ইউটিউব লইয়া আমেরিকায় বহুত ক্যাচাল হয়, হইতেছে; পলিটিক্স-পার্শিয়ালটি এইসব ইস্যু আসতেছে সামনে। ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন ইস্যুতেও এইসব অনলাইন জায়ান্ট লইয়া নানা নালিশ করার মওকা আছে।

কিন্তু আমাদের মতো সেন্সরশিপের দেশে, বেকুব-এলিটিস্ট মিডল ক্লাসের দেশে ফেসবুক-ইউটিউব লিবারেটিং আসলে। সমাজের নিচের তলার লোকজন উপরের দিকে যাইতে পারার উপায় এইখানে বেশি নাই; আগে এডুকেশন আর পলিটিক্স দিয়া উপরে ওঠার কথা ভাবতো লোকে, কিন্তু সাকসেস রেট বেশি না, অন্তত ১ পুরুষে উপ্রে ওঠা যায় না এইসব রাস্তায়, ৩/৪ পুরুষ লাইগা যায়। ফেসবুক-ইউটিউব এইটারে ১ পুরুষে নামাইয়া আনতে পারছে। তাই এই দুই জায়ান্ট আমাদের ডেমোক্রেটাইজেশন আগাইয়া দিতেছে অন্তত ২ পুরুষ।

হিরো আলম সেই ডেমোক্রেটাইজেশনের নিশানা, আমাদের স্মার্টনেস আর সুরতের ডেমোক্রেটাইজেশন ঘটতেছে হিরো আলমদের ভিতর দিয়া। হ্যাবিচুয়েটেড হন, নার্চার করেন, আগাইয়া নেন। এমন আরো আরো হইতেছে, হবে। মানতে না পারলে নিজেরাই ইনভ্যালিড হইয়া যাইবেন।

এই ব্যাপারে ইতিহাসের ছবক লইতে পারেন। কলোনিয়াল জামানায় আগের এলিটদের যারা মানতে পারে নাই তারা ইনভ্যালিড হইছে; পরে ইংরাজের জমিদারদের ভিতর যারা বণিকদের মানতে পারে নাই তাগো বাছুরেরা এখন সওদাগরের দোকান ম্যানেজ করে। কলিকাতার কলোনিয়াল এডুকেশনের প্রোডাক্ট শান্তিনিকেতনি ব্যবসা নাই হইয়া গেছে, রঠার বনেদি বাংলা কইলে লোকে এখন হাসে; বাংলাদেশে ছায়ানটিরা মরছে, মানতে পারতেছে না বইলা রঠার গান গাইয়া ভাত জোটে না এখন।

সো, ডেমোক্রেটিক হন, হিরো আলমদের সেলিব্রেট করেন; এমন দুয়েকজনকে হয়তো এখনো গদির জোরে সাইজ করতে পারবেন, দুয়েকজন হয়তো ‘প্রমীত’ কইবার কসরত করবে, নিজের সুরত-স্মার্টনেস লইয়া মন ছোট করবে মাঝে মাঝে, কিন্তু বেশি না; এর পরেই পাইবেন আরো কনফিডেন্ট স্টার, নিজেরে যারা সেলিব্রেট করবে, নো ইনফিরিয়রিটি। হিরো আলম টিউটোরিয়াল বানাইয়া যাইতেছে, বাংলাদেশের ডেমোক্রেটাইজেশনের সাচ্চা পাইওনিয়ার হিরো আলম।

মারহাবা।

–ডিছেম্বর ২০১৮//

৯.

‘নিশিতে যাইও ফুল বনে রে ভোমরা…’ গানটার লেখক মনে হইতেছে ভানু শেখ। তবে সবচে বেশি পসার হইছে জসিমউদ্দিনেরটা, শচীন দেবের ফজিলত হয়তো। আরো একজন লেখকের নাম কয় কেউ কেউ।

নিচে অমর পালের গাওয়া ভার্সনটা ভানু শেখের। ভানু শেখের জনম ১৮৪৯ সালে, তখন গানের ভিতর নিজের দস্তখত রাখার রেয়াজ আছিল, লালনেও যেমন পাইতেছেন। তবে এইটা এখন-তখনের মামলা না, ঘরানার মামলা, নন-আধুনিক (আসলে দেশি, নন-কলোনিয়াল) ঐসব ঘরানায় এখনো নাম-দস্তখত গানের ভিতরেই রাখার রেয়াজ পাইবেন।

জসিম চোরা ভানুর নাম কাইটা অন্য কলি ঢুকাইছেন গানে। ভানুদের ক্রিয়েটিভিটি ছিনতাইয়ের একটা দিক এমন, এরচে বড়ো খুন হইলো কালচারাল খুন!

দুই বাংলা খেয়াল করলে দেখবেন, ভানুর ‘নিশিতে’ জসিম চোরায় বানাইছে ‘নিশিথে’, ‘ভোমরা’ বানাইছে ‘ভ্রমরা’। এমন আরো পাইবেন, আরো কত কত গানে।

কালচারাল খুন, কেননা, এমন কইরা বাংলার ইউ টার্ন কনফার্ম করছেন জসিমেরা। রাধারমণের ‘ভোমর কইও গিয়া…’, এইটাতেও ‘ভ্রমর’ গাইয়া থাকে এই বাংলার গুন্ডারা।

আম বাংলায় এমন ‘র’ ফলা উইঠা গেছিল, যাইতেছে–পোশ্ন, পরথম, পরতেক–এমন সব কইতে, গাইতে শুনবেন হামেশা। অনেক ‘থ’ও ‘ত’ হইয়া গেছে, নাম পাইবেন–নিশিতা।

এনিওয়ে, গান শোনেন, আমের কোলে আসেন।

নোট: মিউজিকের যতটা বুঝি তাতে তো মনে হয় ‘ভ্রমরা’ কইতে গেলে মাত্রা’র একটা ঝামেলাও হইতেছে! বাট এই ব্যাপারে আমি খবরদারি না করি, কিছুই বুঝি না মিউজিকের :( !

–জানুয়ারি ২০১৯//

১০.

বাংলা একাডেমীর কামটা ভালো হইছে। এতে বাংলার একাডেমিক ডেফিনিশনটা ক্লিয়ার করতে সুবিধা হবে। ডেফিনিশনটার কিছু আন্দাজ এমন:

ক. বাংলা সংস্কৃতের মাইয়া।

খ. বাংলার শব্দগুলা দেশি-বিদেশি ভাগ করা যায়।

গ. সংস্কৃতের মাইয়া হইলেও বাংলায় সংস্কৃত শব্দেরা দেশি না।

ঘ. কিন্তু সংস্কৃত শব্দেরা বিদেশিও না, সংস্কৃত হইলো ‘বিয়ন্ড হিস্ট্রি/টেরিটরি’ ‘তিনি’। তাঁর মতো শব্দেরা ‘তৎসম’।

ঙ. দেশি শব্দ মানে সংস্কৃতে যেগুলার গোড়া দেখা যায় না, বা জানা ইতিহাসে বাংলার জমিনে ঢোকা কোন ভাষার লগেও কানেকশন পাওয়া যায় না।

এর সবগুলাই মিছা কথা। বাংলা একাডেমীর কামের পরে লোকে বিশ্বাস করবে এখন। ঐ ভাবনাগুলা কত যে ভায়োলেন্ট সেইটাও টের পাবে লোকে।

আপনে যদি দেশি-বিদেশির ঐ ভাগাভাগি মানেন তাইলে তো ‘ঈদ’ বিদেশি শব্দই হয়! ঈদকে আসল বাংলা হিসাবে ভাবতে চাইলে ঐ ভাগাভাগিই মানার উপায় থাকে না–না মানলেই কেবল ঈদ আসল বাংলা হইতে পারে।

ওদিকে, বাংলা সংস্কৃতের মাইয়া না। বাংলার টেরিটরিতে ফারসি-আরবি ঢোকার আগে ‘বাংলা’ শব্দটাই আছিল না। বাংলার আগের রূপ ‘বাঙ্গালাহ্’ শব্দের ‘আহ্’ ফারসি থিকা আসা, এইটা ঐ দেশি’র মাঝে নাই। তাইলে ‘বাংলা’ ভাষাটাই আসলে একটা বিদেশি ভাষা হইয়া পড়তেছে!

বাংলার পয়দা হইছে শূদ্র-চন্ডাল আর কনভার্টেড মোসলমানের মুখে। এইটা হইতে পারছে তখনি যখন আরবি-ফারসিঅলা আরব-তুর্কির হাতে ব্রাহ্মণ বা বামুনের ক্ষমতা চইলা গেছে। তার আগে বৌদ্ধরা সংস্কৃতকে একটু ভাঙ্গতে পারছিল, কিন্তু সংস্কৃত পরে বৌদ্ধদের খেদাইয়া দিছে, সংস্কৃত আবার বাংলার শূদ্র-চণ্ডালকে চাইপা ধরছে। তখন আসছে আরবি-ফারসি। শূদ্র-চণ্ডালরা সংস্কৃতের হামলা ঠেকাইতে আরবী-ফারসির হেল্প নিছে, সংস্কৃতরে ভাইঙ্গা ফেলার জোরটা পাইছে আরবি-ফারসিতে, তাতে সংস্কৃতের চেহারা পাল্টাইয়া যেইটা হইছে তারেই একাডেমীরা কয় ‘তদ্ভব’!

বাংলা তাইলে সংস্কৃতের মাইয়া না, বরং সংস্কৃতের মাইর ঠেকাইতে ঠেকাইতে, নয়া দোস্তের লগে মিশতে মিশতে শূদ্র-চণ্ডালের কথা কইয়া ওঠা! বাংলা হইলো সংস্কৃতের টর্চারের জবাব।

এদিকে, যে যে কারণে আরবি-ফারসি বিদেশি ভাষা, সেই সেই কারণে সংস্কৃতও বিদেশি ভাষা। বরং সংস্কৃত বেশি ভায়োলেন্ট আছিল; কারণ, আরবি-ফারসিঅলারা লোকালের লগে মিশছে, শুইছে, লিটারেচার বানাইছে, কিন্তু সংস্কৃত লোকালের ছোঁয়া লাগা পানিও খায় নাই।

এই কারণেই বাংলা লিটারেচার পয়দা হইছে সুলতানী আমলে, চৈতন্যদেব হইতে পারছেন। তাই বঙ্কিমচন্দ্র সুলতানী আমলকে কইছেন বাংলার আসল ‘রেঁনেসা’।

ইংরাজ আইসা বাংলার পাওয়ার বামুনের হাতে ফিরাইয়া দিছে আবার, ততদিনে বাংলারে আর অস্বীকার করার উপায় নাই! তাই বাংলারে তারা বানাইছেন সংস্কৃতের মাইয়া, সংস্কৃত যেইখানে দেশিও না, বিদেশিও না–সংস্কৃত হইলেন ‘তিনি’, যেন পরান আছে এই ভাষার, যেন দেবতার ভাষা তো যেকোন ভাষার কাতারে থাকতে পারে না!

তারপর তারা বাংলারে সংস্কৃতের মাইয়া বানাইতে থাকলেন–কামলা হইলো কর্মী, মুত হইলো প্রস্রাব, গু হইলো বিষ্ঠা, বামুন হইলো ব্রাহ্মণ, নাওয়া হইলো স্নান, চান হইলো চন্দ্র, কওয়া রাখা যাবে না, ‘বচ্ ধাতু’র খবরদারি হইলো ষোল আনা, আর ঈদ বা তুফান বা চেয়ার হইলো বিদেশি। বা জমি হইলো ভূমি, কসম হইলো প্রতিজ্ঞা, ওয়াজ হইলো বক্তৃতা, রাস্তা হইলো সড়ক, মজা হইলো তৃপ্তি, সিপাই হইলো সৈনিক… এমন বেশুমার… বাংলা একাডেমী তো হইলো বামুনের এই নয়া দখলের সেপাই। ঈদকে ইদ বানানো স্রেফ নিজের পরিচয় জানান দেওয়া, তারচে এক কদমও সইরা যাওয়া নাই এতে।

–জুন ২০১৭//

১১.

নীলখেতের তেহারি সবচে ভালো লাগে আমার। একটু নরম, ভিজা একটা ভাব আছে।

তেহারি খান তো, নাকি? এইটা মনে হয় উর্দু থিকা আইছে, মানে হিন্দিও আর কি, দিল্লির মোগল খাবার, ইরানের লগে একটা রিশতা আছে মনে হয়। ইংরাজি ফেস্টিভ্যালকে উর্দু-হিন্দিতে ‘তেহার/তিওহার/তেবার ( त्योहार pr. {tyohar}’ –এমন কিছু কয় মনে হইলো। ফার্সি অরিজিনের? এইখান থিকাই তেহারি মনে হইতেছে।

খেয়াল করেন, ভাষার রিলেশন এমনই। একটা ঢুকতে পারবে বা নেবে, আরেকটা নেবে না! বাংলায় তাইলে ফেস্টিভ্যাল মানে কি?

পয়লা বৈশাখ, বাংলায় ফেস্টিভ্যালকে ‘মচ্ছব’ প্রস্তাব করছিলাম, কলোনিয়াল কোলকাতাই বাংলায় যেইটারে ‘উৎসব’ কন তারা; সেই বাংলার তাবেদাররা বাংলাদেশেও ‘উৎসব’ কন, ‘উৎসব ভাতা’ কন। বেশির ভাগ লোকে পাত্তা দেন নাই, কেউ ভাবছেন ফানি, কেউ কইছেন, এইটা আম বাংলা না–সিরিয়াসলি কেউ নিছেন কি, জানি না!

মচ্ছব শব্দটা বাংলায় আসছে বোস্টম/বৈষ্ণবদের থিকা, তারা বানাইছেন আসলে। সংস্কৃত অরিজিনের ‘মহোৎসব’-কে বাংলা বানাইছেন তারা। আম বাংলায় ‘মহা+উৎসব’–এইসব কেরামতি নাই, শব্দের এইসব জটিল জোড়া লাগানির কায়কারবার বাংলার আমজনতার ফোনেটিক্সে নাই। কিছু ঢুকছে তেহারির মতোই, তেহার বাদ দিয়া তেহারি স্রেফ।

বোস্টমরা আমজনতার কাছের লোক আছিলেন, জনতার জন্য আর্ট-কালচার করতেন, মোমেনশাহী/ময়মনসিংহের গানে সেই আলামত পাইতেছেনই তো! লালনেও আছড়াইয়া পড়ছে সেই তুফান, মোমেনশাহী থিকা নদীয়া–বোস্টমদের আর্ট-কালচার পাইতেছেন। তারাই ‘মহোৎসব’কে বাংলা বানাইয়া ‘মচ্ছব’ করছেন।

পরে, ইংরাজের মদদে কলোনিয়াল কোলকাতার বাবুরা বোস্টমদের থিকা বাংলারে দখল করছেন। তারা ‘উৎসব’ ঢুকাইতে চাইছেন জোর কইরা। ভাষা এবং পাওয়ার যেমনে খেলা করে প্রায়ই, সেই কানুনে ঐ কলোনিয়াল পাওয়ার তখন বোস্টমদের ঘেন্না জানাইছে বহু কায়দায়, সেইটারই একটা নজির হইলো, ‘মচ্ছব’কে নেগেটিভ অর্থে ইউজ করা! মফিজ বা আবুল যেমন এখন এমন নেগেটিভ বানাইছে ঐ বাংলা যে, এইসব নাম আর রাখে না কেউ (বা সেই গান মনে করেন–রমজান চোট্টার কান কাইটাছে…)!

কিন্তু হিসাব কইরা দেখেন, ‘মচ্ছব’ শব্দটাই সবচে চেনা এবং লোকে কয় সারা বাংলায়। কয়েকটা পত্রিকার হেডিং দিতেছি:

১. নবীগঞ্জে ফের পাহাড় কাটার মচ্ছব – bBarta24

২. পরীক্ষা, নাকি নকলের মচ্ছব! – Prothom Alo

৩. সড়ক দুর্ঘটনার মচ্ছব | 207764 | Bangladesh Pratidin

৪. সোনারগাঁয় খাল দখলের মচ্ছব-554999 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

–এপ্রিল ২০১৮//

১২.

ইউটিউবে আলমগীর কবীরের ‘সীমানা পেরিয়ে’ আগেপিছে কইরা দেখতেছিলাম; খুবই সেলিব্রেটেড সিনেমা দেশের, মাস্টার ফিল্মমেকার নাকি উনি :)।

দেখলাম, বুলবুল আহমেদ সাগরের পাড়ে পাড়ে হাঁটু পানিতে নাইমা মাছ ধরে, সূচালো এক লাঠি ঘ্যাচ কইরা ঢুকাইয়া দিলো ১৭ ইঞ্চি পানিতে ঘুরতে আসা বড় বড় রূপচান্দা আর গুইজ্জা/রিটা মাছের পেটে, খাইলো সেই মাছ পরে। আন্দাজ করি, এই মাছগুলা আসলে জঙ্গলে থাকে, বাটারফ্লাইদের লগে উড়তেও পারে; পরে টায়ার্ড হইয়া সাগরে গেছে নাইতে, সাঁতার জানে না বইলা ১৭ ইঞ্চির চাইতে বেশি পানিতে যায় নাই… সেই মওকাতেই বুলবুল ধরছে ঐগুলারে।

আরো দেখলাম, এক গাছের শিকড় জয়শ্রী কবীরকে দিতেছে বুলবুল, এইটার গুড়া লাগাইলে গায়ের রঙ ফর্সা হয়।

বুলবুলের বাংলার একসেন্ট ধুইয়া প্রমীত বাংলাও বানাইতে দেখলাম… ৭/১০ মিনিটেই এতো মাল, পুরাটায় না জানি কত…!

কইতে অবশ্য ডরাই, দেশের কালচার্ড মুভিগোয়াররা ধামকি দিতে পারে–বরং তুমিই লেখনাকো একটি সিনেমা…।

পরে এই কবিতাটাও লিখছিলাম:

একটা রূপচান্দা

অনেক লোভ তার–

থাকতে চায় আলমগীর কবীরের সিনেমায়।

ভুপেন হাজারিকারে চিঠি লেখে–

দরিয়ার পানিতে যে লেজ নাড়ে সে,

ঘুমাইয়া থাকা বাচ্চার গালে কোন এক প্যারেন্ট

আলগোছে যেই চুমাটা দিলো আজ রাইতে,

সেই চুমার মতো হালকা

প্রায় না হওয়া আওয়াজ

দুনিয়ারে দিলো আজ

দরিয়ার পানির লগে রূপচান্দার লেজের মোলাকাত…

ও আমার ভুপেন,

আপনি তো এখনো বিজেপিতে ঢোকেন নাই–

আমাদের আওয়াজে কি নাই কোন মিউজিক?

আপনার মনটা বিজেপি হবার আগে

একটু মিউজিক কি পাইবেন না এইখানে!

আলমগীর কবীরের কাছে

একটু সুপারিশ প্লিজ…!

কবীরকে কইলেন ভুপেন,

পাত্তাই দিলেন না ধুরন্ধর ডাইরেক্টর!

তবু দমে নাই রূপচান্দা–

একটু খোশ নসীবও আছিলো সে…

কোন এক ভাবে

এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নের লগেই আছিল কবীরের স্ক্রিপ্ট,

গেল ফাস হইয়া!

রূপচান্দা পইড়া দেখে–

তার বাড়ির পাশে

দরিয়ার চরের পাড়ে

হাঁটু পানিতে মাছ ধরবেন বুলবুল আহমেদ।

তারপর শুরু হইলো রূপচান্দার ট্রেনিং,

মুসা ইব্রাহীমের কাছে লইলো–

এমন ট্রেনিং, এমন ট্রেনিং…

টাসকি খাইবেন দেখলে!

মরবে

তবু আলমগীর কবীরের সিনেমায়

থাকতেই হবে তার–

নো কম্প্রোমাইজ!

শ্যুটিং-এর দিনে

বুলবুলের ঠিক পায়ের কাছে

বুলবুলের সূচালো লাঠির আগায়

ছোয়াইয়া দিল নিজের পিঠ!

আর্টের জন্য এমন শহীদ

সেই রূপচান্দা

সিনেমার পর্দায়

আমরা দেখি–

কাটতেছেন বুলবুল,

খাইলো কি বুলবুল আর জয়শ্রী কবীর?

মুসার ট্রেনিং পাইয়া শরীলের তেল কি একটু কমছিল?

আর্টিস্ট রূপচান্দার টেস্ট কি একটু কম…

–জানুয়ারি ২০১৭//

১৩.

ক.

ঢাকার গোরস্তানে কবরের নেমপ্লেটগুলা ইন্টারেস্টিং, হিস্ট্রি রিডিং হইতে পারে এক ধরনের। দেশে পোলা-মাইয়ার নাম রাখার ইতিহাস মজার, বহুবার যে কালচারাল স্ট্যান্ডার্ডের শিফট হইছে, কখন কখন কেমন কেমন নাম আর রাখা যাইতেছে না তার একটা স্কেচ বানাইতে গোরস্তান কামে লাগতে পারে!

আপনে ধরেন পোলার নাম রাখলেন ‘আছির উদ্দিন’, আপনারে ক্লাস থিকাই বাইর কইরা দিতে পারে, আপনে আনকালচার্ড! মিরপুর গোরস্তানে একটা কবরে দেখলাম ঘুমাইতেছেন, ‘মালু মিয়া’!

আরবে দেখেন, এখনো দেদার পাইবেন, আবদুল্লাহ বা উমর বা ওসমান, আর বাংলায় জসিম নামে আর কোন নায়ক আসবে না মনে হয়!

ইংরাজিতে জন বা উইলিয়াম কয় হাজার বছর চলতেছে! বাংলায়? মোবারক বা কদম বা রমজান ক্ষ্যাত পুরাই, এইসব নামে আপনে মনে হয় ‘সেক্যুলার’ও হইতে পারবেন না!

এই শিফটগুলার মাঝে আমাদের বদলের কত কত ইতিহাস লেখা আছে…!

খ.

কয়দিন পরে বইয়ের হাট বইতেছে। কেচ্ছা-কাহিনি লেইখা হাটে উঠতেছেন রাইটাররা। গুড।

তা আপনাদের বই তো এমনিতেও কেনে না লোকে–সো, কিছু আলগা কাম কিন্তু করতেই পারতেন!

কইতেছি, নায়ক-নায়িকার নাম কি রাখলেন? স্মার্ট, এডুকেটেড, পজিটিভ নায়িকার নাম আছিয়া বা মোমেনা বা জরিনা বা জুলেখা বা রামী বা শেফালি বা কুসুম বা করিমন রাখতে পারতেন তো! মফিজ, মোজাম্মেল, আনিস, বরকত, সালাম, কুদ্দুস, সগির, মিজান, রিপন, মনির, আলতাফ, রমজান, সালেক নামে কোন আইবিএ গ্রাজুয়েট, মাল্টিন্যাশনালের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার?

নামের পলিটিক্স দিয়া এই যে দেশের বেশিরভাগ লোকরে নামেই ছোটলোক হিসাবে চিনাইতেছে আমাদের ভায়োলেন্ট মিডল ক্লাস, কিছু করতে পারতেন না আপনে? কেন লেগুনার হেল্পারের নাম রাখতেছেন জব্বার? কামের মহিলার নাম কেন আলেয়া?

মামা আর খালা ডাকার পিরিতেই কি আপনার ক্লাস পলিটিক্সের দায় সারা হইলো আম্মা-আব্বারা?!!

গ.

তুই একটা মফিজ, পুরা আবুল হইয়া গেলাম, রমজান চোট্টার কান কাইটাছে… বদলাইয়া কন তো, কেমন লাগে: তুই একটা রথীন্দ্র, পুরা শশাঙ্ক হইয়া গেলাম, অতন্দ্রিলা বা সারাহ চুন্নির কান কাইটাছে…

দেশে নাম লইয়া শিক্ষা বা ক্লাস আর খান্দানের রাজনীতির কোন ইশারা পাইতেছেন?

ঘ.

‘বিনম্র’ শুনলেই হাসি পায় আমার, পড়লেও, ফানি ফানি লাগে আর কি! মোটামুটি খেয়াল কইরা দেখছি, যেই এসথেটিকস্ মফিজ, কুদ্দুস, রহিমা, আবুল, কালাম, জরিনা, কুলছুম, জমিলা, খলিল, আবদুল নামের লোকজনরে অটোমেটিক গোলাম ভাবে, মশকরা করার মতো লোক ভাবে, কাউকে হিউমিলিয়েট করতে এইসব নামে ডাকে, সেই এসথেটিকস্-ই ‘বিনম্র’ শব্দটা ইউজ করে।

ভাবতেছি, শব্দটার আরেকটু পসার ঘটাইয়া হইলেও একটু জবাব দিবো কিনা! ভাবতেছি, শব্দটা ইউজ করা বাড়াইয়া দিবো, ওনাদের নাপছন্দের কিছু ইউজ শুরু করবো, আপনেরাও করতে পারেন, মজা হবে। ডাক্তার ধরেন জিগাইলো, টয়লেট কেমন হয়? আপনে কইলেন, ‘হাগু তো আমার খুবই বিনম্র!’। আপনের বাচ্চাদের হাগা মুশকিল হইয়া উঠলে শাক খাওয়াইবেন, অন্যরে বুদ্ধিও দিবেন–শাক খাইলে বিনম্র গু হয়; বাচ্চাদের বা বাচ্চাদের ন্যানি থাকলে কইয়া রাখতে পারেন–২/৩ দিন ধইরা গু বিনম্র না হইলে আপনারে যেন জানায়।

এমন আরো কিছু শব্দ আছে, সেইসব শব্দ লইয়াও কইতে পারেন। যেমন, গায়ে তোমার অতল ময়লা; এমন মুতে ধরছে, অতল তটিনী বানাইয়া দিতে পারি একটা; মুখ্য ইন্দুরটা মারতে হবে ইত্যাদি… আরো কিছু শব্দ/বাক্য দিয়া মদদ দেন আমারেও…

ঙ.

দুইটা চেঞ্জের কারণ কিন্তু দুইটা!

বৃটিশ থিকা আমেরিকান ইংরাজির দিকে যাইতেছি আমরা; এইটা মনে হয়, গ্লোবাল সেন্টার লন্ডন থিকা লস এঞ্জেলস্-এ যাওয়া!

কিন্তু রোজাকে সাওম কওয়া, বা রমজানের রমাদান হইয়া ওঠা– এই ট্রেন্ডের কারণ কি?

কারণ মনে হয় কয়েকটা! আরবী দেশে লেবার পাঠানো একটা কারণ হইতে পারে; কিন্তু বড়ো কারণ আরেকটা। সেইটা হইলো, ১৯ শত থিকা আমরা ফার্সিরে ডেমোনাইজ করতেছিলাম! যেই ফার্সি না আইলে বাংলা ভাষারেই পাইতাম না আমরা, সেই ফার্সিরে খেদাইয়া দিছে সেই কলিকাতা! পরে ২১ ফেব্রুয়ারির গোস্বা পুরাটাই যাইয়া পড়ছে ফার্সির উপরে!

খেদাইয়া দেবার কিছু রাস্তা আছে; তার একটা হইলো মশকরা! ক্লাস নামাইয়া দেওয়া আরেকটা।

ভাবেন, মফিজ বা আবুল মানে কি এখন? এই দুইটার গোড়া হয়তো ফার্সিই না, আরবীই হয়তো, জানি না আমি ঠিক; কিন্তু তা হইলেও এগুলার ক্লাস নামাইয়া দেওয়া আর মশকরার ভিতর দিয়া এগুলা খেদাইয়া দেওয়া হইছে! রমজান চোট্টার কান কাইটাছে, এইটা রমজানকে কি বানাইলো?

ক্লাস ডিমোশন আর মশকরার কারণে ফার্সি এবং কতক আরবীও থাকতে পারতেছে না আর! উপায় কি? যেইটা যেইটা এমন ভিমটিম হইছে সেইগুলা রিপ্লেস করা! রমজানকে রমাদান বানানো। আরবীর চাইতে ফার্সিই বাংলায় সবচে বেশি থাকায়, এই হামলাম বড়ো ভিকটিম ফার্সি!

কিন্তু আরো একটা বড়ো কারণ আছে! এবং এইটা হইলো, মডার্ন সায়েন্সের ছবক অনেকটাই! মোসলমানদের মাঝেও ‘সহি’ ভাবনা আছিল আগেই, মডার্ন সায়েন্স হয়তো ‘সোর্স’ দেখার ছবকটা মোসলমান স্পেন বা অটোমানদের থিকা পাইছে অনেকটাই; কিন্তু ‘সোর্স’ দেখার ততো প্রেশার দেয় নাই মডার্ন সায়েন্সের মতো! লোকালকে মাইনা নিছে মোসলমানরা। কিন্তু সায়েন্সের চাপে বা ছবকেই হয়তো ‘সোর্স’ ভক্ত এবং ‘অথেনটিক’ হইয়া উঠতে চাইতেছে! এই হিসাবে ফার্সি তো সোর্স না, দূরে যাওয়া আরো…

আখেরে ফল হইলো, বাংলারে মেরামত–উপর থিকা, জনতার ভিতর থিকা না! আগে সংস্কৃতেরা যেইটা শুরু করছিলেন, তারা তো বাংলার গদিতে আছেনই, এখন মনে হয় আরবী’র লগে তারা আতাত কইরা বাংলার বেদখল কনফার্ম করতে চাইতেছে!

জনতার বাংলার নয়া মুসিবত…!

–মে ২০১৮//

১৪.

মান বনাম আম বাংলা কইয়া কি বুঝাইতে চাই আমি? এইখানে মান বাংলার তরজমায় (অনুবাদ) নাজিম হিকমত পড়েন আগে, পরে সেই তরজমা থিকা আমার তরজমা পড়েন। আমারটা আম বাংলায় করতে চাইছি।

Rakhi Nai থিকা পাওয়া মান বাংলায় নাজিম/নজিম হিকমত:

“কাল রাতে তোমাকে আমি স্বপ্ন দেখলাম

মাথা উঁচু করে

ধুসর চোখে তুমি আছো আমার দিকে তাকিয়ে

তোমার আদ্র ওষ্ঠাধর কম্পমান

কিন্তু তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম না।” (নজিম হিকমত)

রক মনু‘র তরজমা, আম বাংলায়:

“গত রাইতে খোয়াবে পাইলাম তোমারে,

সোজা আমার উপর চাইয়া রইছো–

আমারে দেখতে দেখতে আমারে দেখাইতেছ তোমার নজর!

তোমার ঠোঁট কাপতেছে, কাপতে কাপতে ভিজে গেল বুঝি…

তবু কও নাই কোন কথা

বা

আমিও কি তোমারে দেখার সময়

শুনতে পাই কিছু আর!”

–ফেব্রুয়ারি ২০১৭//

১৫.

ক.

শাকিব খান অডিয়েন্স পাল্টাইতে চাইতেছেন। যেই অডিয়েন্স ধরতে চাইতেছেন তারা শাকিবের আগের অডিয়েন্সকে বেকুব ভাবে। কেবল অডিয়েন্স না, সেই অডিয়েন্সেরর এন্টারটেইনাররাও বেকুব এই অডিয়েন্সের কাছে। শাকিব এখন কি করবেন?

আগের সেই অডিয়েন্স আর তাগো এন্টারটেইনারদের বেকুব না কইলে এই নয়া অডিয়েন্স তারে নেবে কেন! শাকিব তাই করছেন।

শাকিবের এই নয়া অডিয়েন্স চেনা দরকার আমাদের, আগের অডিয়েন্সও। এই নয়া অডিয়েন্সের একটা ভাগই মাত্র বাংলাদেশে, বাকিটা ভারতী বঙ্গে, এই অডিয়েন্সের সিনে-ঘরানার সেন্টার বাংলাদেশে না, কোলকাতায়। ঢাকায় সিনেমার শুরু মুখ ও মুখোশের ধারার অডিয়েন্স এইটা, পুরানা। ঢাকার রাজ্জাক যেন উত্তম, বুলবুল হইলেন সৌমিত্র, আলমগীর যে রঞ্জিত মল্লিক–ঢাকার এইসব নায়ক বহু হিট সিনেমা দিলেও আখেরে এদের সেন্টার কলিকাতাই। সবাই দুই-চারটা সিনেমা দিছেন শাকিবের আগের অডিয়েন্সকে, কিন্তু সেইগুলা আসলে কিছু ডিরেক্টরের কাম, এক্টররা তাগো কোলকাতাই ইমেজটারেই পালছেন মনে!

তবু এনাদের কতগুলা সিনেমা, সোহেল রানা-উজ্জ্বল-ওয়াসিম-অঞ্জুর কামে ঢাকারে সেন্টার ধরা আছে। দুইটা ধারার টানাটানিতে দুই অডিয়েন্সের কমন একটা পাটাতন হইয়া উঠতেছিল। কিন্তু এরশাদের টাইমে ১৯৬০-৭০’র মতো আরেকটা কালচারাল মুভমেন্ট গজায়, মঞ্চ নাটক, আবৃত্তি, টিভি, হাই মুভিগোয়ার গজাইতে থাকে একটু পরে হয়তো। এই দলটার কালচারাল সেন্টার পাকিস্তান আমলের মতোই কলিকাতা! এই মুভমেন্টে ঢাকাইয়া সেন্টারের সিনে-আর্ট মরতে থাকে, এই সময়েই ঢাকাইয়া সেন্টারের আর্টের অডিয়েন্সকে বেকুব ডাকা শুরু হয়। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ খুবইরহিট সিনেমা হইলেও তার অডিয়েন্স এবং ঐ এন্টারটেইনাররা মশকরার মসলাই কোলকাতাই সেন্টারের অডিয়েন্সের কাছে। তবু জোসনা প্রুভ করলো, ঐ বেকুব অডিয়েন্সের পকেটেও পয়সা আছে, তারাও ঢাকাইয়া সিনেমারে বাঁচাইয়া রাখতে পারে।

ওদিকে ১৯৮০-৯০ দশেই কালার টিভি আর ডিসিআর আসে, ১৯৯০-০০ দশে স্যাটেলাইট টিভি। কলিকাতা ডাইরেক্ট একসেসিবল হইয়া ওঠে; সো, ঢাকায় হওয়া কোলকাতাই ঘরানার আর্ট ফানি হইয়া ওঠে :)! কসরত কইরা একসেন্ট দিতে থাকা ডায়লগ ফানিই তো! বরং

শান্তিনিকেতনের ট্রেনিং লওয়া কিছু লোকের মঞ্চ আর টিভি একটু বেটার! সো, কোলকাতাই ঘরানার ঢাকাই সিনেমার মরণ কনফার্ম হয়।

শাকিবের শুরু কোলকাতাই ঘরানার পুরা মরণের পরে, তাই শাকিব একান্তই ঢাকাইয়া সেন্টারের সিনেমার নায়ক, তার অডিয়েন্সও মিডল ক্লাসের নিচের লোকেরাই। কিন্তু সিনেমা তো কতগুলা এক্সপার্টিজের মামলা, মিডল ক্লাস ঢালিউড ছাড়ায় ঐখানে এক্সপার্ট নাই হইয়া যায়! মোঘল আমলে দিল্লিতে রাজমিস্ত্রির জোগাইলার কাম করা কেউ কেউ যেমন বাংলায় আইসা মাস্টার আর্কিটেক্ট হইয়া বেঢপ সব ইমারত বানাইছেন, ঢালিউডের দশা হয় তেমনই!

২০১০’র পরে মুম্বাইর চাপে কোলকাতা আর ঢাকা মিলতে থাকে, কোলকাতারে সেন্টার কইরাই। এজন্য ঢাকারে পুরা খুন করা দরকার। শাকিব হইলেন ঢাকাইয়া সেন্টারের সুপারস্টার, তারে পিক করলো এই নয়া সিন্ডিকেট। যাগো সুপারস্টার তাগোই তখন শাকিব কইলেন ‘বেকুব’ :)।

সো শাকিব হইলেন, ঢাকার ধরা খাবার ইতিহাস। আমাদের বোঝা দরকার, কেন এত সহজেই ধরা খাইলাম আমরা।

আমার হিসাবে আসল কারণ, ঢাকা নিজের ব্রান্ডিংটা করতে পারে নাই। কোনটা ঢাকার কমন বাংলা, সেই ব্যাপারে আমরা ডিলেমায় আছিলাম আগাগোড়া। মিউজিকের ব্যাপারেও। আমরা যখন গরিব মানুষ লইয়া সিনেমা বানাইছি তখন বাংলাদেশের কমন বাংলায় ডায়লগ গান দিছি, মিউজিকে কলিকাতার রাগে থাকি নাই, কিন্তু মিডল ক্লাসের বাংলাটা আছিল কোলকাতাই! কলিকাতার রাগে মিডল ক্লাসের মিউজিক! সব ক্লাসের মাঝে আমরা কোন কমন গ্রাউন্ড বানাইতে মন দেই নাই একদমই! আমরা খেয়াল করি নাই, ‘হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস’ বা ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’ বা ‘ওরে নীল দরিয়া’ বা ‘ও আমার রসিয়া বন্ধু রে’ বা ‘কি যাদু করিলা’ বা ‘ভোমর কইও গিয়া’ বা ‘বনমালী তুমি’ বা ‘বন্ধু তিনদিন তোর’–এমন সব গান যেগুলা কলিকাতার লিরিক এবং রাগের বাইরে, একান্তই বাংলাদেশের, এইগুলা পাটাতনে সব ক্লাসের লোক উঠতেছে! আমরা ধইরাই নিছি ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ হইলো আমাদের মিউজিকের স্ট্যান্ডার্ড!

আমরা নায়ক-নায়িকার ব্যাপারেও ব্রান্ডিং করি নাই। এরিয়ান নাকের ফর্সা হইলো আমাদের বিউটি! ভাবেন, ফর্সা না বইলা তামিল রজনীকান্ত যদি নায়ক হইতে না পারতো তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কই থাকতো আজকে! শাকিব খানের পয়লা যোগ্যতা যেন তার গায়ের রঙ দুধে-আলতা! এক উজ্জ্বল ছাড়া কোন কালা নায়ক বানাই নাই আমরা! ডিপজল কালা বইলাই যেন সে ভিলেন হিসাবে ভালো ফিট করে! আমাদের জল্লাদরা হন কয়লা রঙের! আমাদের গড় গায়ের রঙকে আমরা লইতে রাজি হই নাই! আমরা মান্দি বা সাওতাল বা চাকমারে ঢুকতে দেই নাই, চাইনিজ ভিলেন হিসাবে রাখছি এক দেশীকে! নায়িকা মাথিন আছিল, আমরা তারে আমাদের লোক বইলা আদর করি নাই! নিজেরে এমনে যদি নিজের ঘরের বাইরে রাখেন, সেই ঘরের দখল কেমনে রাখবেন!

একই ঘটনা তো আরো আছে আমাদের! ইংরাজি ভালো পারে না বইলা, আমজনতার বাংলায় কথা কয় বইলা ১৯৫৪ সালে প্রাইম মিনিস্টার হবার চেষ্টাই করলেন না ভাসানি, আমাদের ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেনের পয়লা যোগ্যতা হইলো, ইংরাজি জানা! আমাদের আদালত কথা কয় ইংরাজিতে!

আমরা কেমনে আমাদের দখলে থাকবো!?

–আগস্ট ২০১৭//

খ.

বাচ্চাদের জন্য বাংলা ছড়া-গান, নামতা ইত্যাদি নিয়া কিছু ডিজিটাল কনটেন্ট দেখতেছি মরমী-অপারের লগে; বর্ণমালা শিখাবার সিস্টেম–কালচারাল প্রোডাক্ট।

এইখানে গানে গলা দিছেন কয়েকজন, তার ভিতর শম্পা রেজা আর সুবীর নন্দীও আছেন; আমাদের কি ভালো লাগা উচিত?

প্রায় কোন ঘটনাই না–তেমনভাবেও ভাবতে পারি আমরা; বাট ঘটনা বলে মাইনা নিয়া কালচারাল পলিটিক্স কিছু বুঝতে চাওয়া যাইতে পারে বটে।

যারে বাঙালি কালচার বলে আইডেন্টিফাই করা হয় তার খুব কোরের জায়গাতেই পড়বেন এই দুইজন; একটা টাইমে হিউজ স্টারডমও এনজয় করতেন এনারা। সেই দিন আর নাই, দেশে স্টার কই আর!

বাঙালি কালচার হ্যাজ ফেইল্ড। বিটিভিতে হুমায়ুন আহমেদের নাটক শম্পা রেজাদের বিদগ্ধতা, জীবনের গভীর কোন ট্রুথের ইনভেনশন, সিরিয়াসনেস-এ বড় আঘাত করতে পারছিল; তার আগেই পপ মিউজিক শুরু হইছিলো, বাট বাংলা গানে পপ মিউজিকের দাপট তৈরি হয় ১৯৯০ দশকে। জেমস, মাইলস্, বাচ্চুর যুগ সেইটা; বাট পরে আরো বেশ কিছু ঘটনায় পপ মিউজিকও কড়া বাঙালি কালচার মনে হইতে থাকে মে বি। হুমায়ুন যেইখানে থামছিলেন সেইখান থেকে শুরু করেন ফারুকী জেনারেশন; কেউ কেউ সেলিম আল দীন আর সা. লাভলুর টিভি নাটকে সিরিয়াসনেস না পাইতে পারেন কতক, বাট সেইটা এক প্যারালাল জগত বানাইয়া তোলা, ইন্টারভেনশানের চেষ্টা নাই; বাট অবভিয়াসলি এন্টারটেইনমেন্ট আওয়ার দখল, অডিয়েন্সের টেস্ট গইড়া তুলতে থাকা, সিরিয়াসনেসরে জোকারের চেহারা বানাইয়া ফেলা! ওদিকে ফারুকীরা ঢাকার মিডল ক্লাস দেখায়, বাংলার উচ্চারণ থেকে বাক্য-ক্রিয়ারে আটার রুটির মতে বেলতে থাকে; এদের কাম আগেই সোজা বানাইয়া রাখছিলো মীনা কার্টুন, এলাকা-শ্রেণী ছাড়ানো এক বাংলা শুনাইয়া এবং বইলা। নতুন যেই কান তৈরি হইলো তাতে শম্পা রেজাদের প্রমিত/শুদ্ধ উচ্চারণ ফানি লাগা শুরু হইলো!

১৯৯০ দশকে আরো আসছে ডিশ টিভি, তার আগে থেকেই ভিসিআরের বলিউড আসছে; চ্যানেল ভি নিয়া আসছে ইংরাজি পপ–মাইকেল জ্যাকসন থেকে ম্যাডোনা, জে লো, ভেঙ্গা বয়েজ, শাকিরা, লেডি গাগা থেকে জাস্টিন বিবার আর সেলেনা গোমেজ–পপ ফ্লাড ভাসাইয়া নিয়া গেছে গা বাঙালি কালচার। হালে ইন্টারনেট, টরেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া ওই ফ্লাডে দিল নতুন মাত্রা–আগের অডিয়েন্স এখন কালচার প্রোডিউসারও, পাবলিকেশনে আসছে পুরাই নতুন ডাইমেনশন।

সো, বাঙালি কালচার তো রিফিউজি হইয়া গেল! শম্পা রেজা/কোর বাঙালি কালচার এখন তাই প্রমিত উচ্চারণ শিখাবার তালে আছে বাচ্চাদের; কান আর মুখ বানাবার কাজে ইনভেস্ট করতাছে নিজেদের। এখনকার যুদ্ধে হার মাইনা নিছে, নতুন সৈনিক বানাবার কাজে মন দিছে–একদম ছোট থেকে বড় কইরা তোলা, একদিন যেন এই সৈনিকেরা ফিরাইয়া আনতে পারে সেই পুরানা কান-মন-মুখ। আহা!

বাট স্যাডলি, বাচ্চারা রাইমের মিউজিক-ভিজ্যুয়াল কনজ্যুম করতে করতে শম্পা রেজাদের এনজয় করতে পারে না আর, সেই সিসিমপুর কিসের খারাপ নকল সেইটা বুইঝা ফেলে, পোকোইয়ো আর মাশা আর ডোনাল্ড ডাকের টেস্টের লগে কমপিট করার কিছু তো পয়দা করতে পারে না উচ্চারণে মন গাইড়া রাখা বাঙালি মন!

–আগস্ট ২০১৫//

গ.

আজকে দেখলাম, কলিকাতার কেউ মোশাররফ করিমের ছবি আঁকছে, ঢাকায় এক্সিবিশন চলতেছে, প্রথম আলো নিউজও করছে, খুব টাসকি খাবার ঘটনা যেন! করিম সাব সেইটা শেয়ারও করছেন আবার; একজন স্টারের ফ্যান থাকায় এত টাসকি খাবার কি যে হইলো! এই সব লইয়া আগের এক নিউজের ঘটনায় লিখছিলাম, সেই ২০১৬ সালে…

“২১ নভেম্বরের তিনটা ঘটনা এই রকম:

ক. একজন বাংলাদেশী লেখক ফেসবুকে দুঃখ কইরা কইছেন, কোলকাতার আর্ট-কালচার/লিটারেচার/কবিতা পইড়া উনি ফানা হইয়া যান, কিন্তু ঐ টাইপের বাংলাদেশী মালে গরমও হইতে পারেন না। বাংলাদেশের এক ভার্সিটির মাস্টার কমেন্টে কইছেন, বহু পিছে বাংলাদেশের লিটারেচার।

খ. মোশারফ করিমের এক ভক্ত আইছেন ঢাকায়, ভারতী বাংলার নদীয় থিকা। উনি কইছেন, “আমার গ্রাম নদিয়াতে তার প্রচুর ভক্ত রয়েছে। যারা নিয়মিত মোশাররফ দাদার’র নাটক দেখে। শুধু নদিয়াতে তার ভক্ত রয়েছে তা নয়। কলকাতা থেকে শুরু করে আসাম, বর্ধমান, চব্বিশ পরগণাসহ ভারতে যারা বাংলা বোঝেন তারা সবাই মোশাররফ করিমকে চেনেন। তারাও বাংলাদেশের নাটক দেখেন।” (খবর: http://www.priyo.com/articles/2016/11/21/fans )

নিউজের নিচে সমীর অধিকারী নামে একজন কইছেন, “মোশাররফ ভাই যে কতটা প্রিয় কলকাতায় সেটা স্বচক্ষে দেখেছি।পড়াশুনার সুবাদে ৪ বছর কলকাতা ছিলাম।ভার্সিটির ফ্রেন্ডগুলো খালি উনার নাটক চাইত।”

গ. “ফেসবুক পেজে তিশা লিখেন, ‘সারপ্রাইজ দিলেন কলকাতার এক ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোক অলোক দে। উনি নানান সূত্রে যোগাযোগ করে মগবাজারে আমার নাটকের শুটিং স্পটে আসেন। এসেই আমাকে এই পেইন্টিংটা গিফট করেন। তাঁর এক বন্ধুর আঁকা এই ছবিটা উনি সেই কলকাতা থেকে নিয়ে এসেছেন আমার জন্য। তাঁর কাছে নাকি আমার তিন শ ভিডিও আর ছয় শ এক্সপ্রেশন সেভ (অভিব্যক্তি সংরক্ষণ) করা আছে। ওয়াও, ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো গিফট (উপহার) নাই।’” (খবর: https://goo.gl/7BcJDu )

—————————————

আড়াই বছর আগে, ২০১৪ সালের ১১ জুন বৃটেনের রাণী এলিজাবেথ টুইট করছেন একটা: “There is no such thing as ‘American English’. There is English. And there are mistakes.” ( https://twitter.com/queen_uk/status/476630784108134400 )

তো, রাণীর মতো আসল একটা ‘ইংরাজি’ লইয়া থাকেন, প্লুরালিটি তো পাইবেনই না আপনে, বাকি ইংরাজিগুলা আপনের কাছে ভুল বা বিকৃতি। ঐভাবে দেখা আসলে কিন্তু রাণীর দায়িত্ব পুরা! কারণ, গণতন্ত্র নাকচ কইরাই তো রাণী হয়, কোন একটা ‘আসল/খাঁটি/অরিজিনাল’ তো তার থাকতেই হয়, বাকিগুলা ভুল না কইলে উনি আর রাণী কেমনে! আপনে কি রাণীর মতো হইবেন?

কোলকাতার লগে ঢাকার আর্টের তুলনা করতে যাইয়া আপনে যদি দুইটারেই একই বাংলার আর্ট দুই দেশে পয়দা হইতেছে ভাবেন, রাণীর মতো ‘আসল’ বাংলা আর ভুলগুলা হিসাবে দেখেন তাইলে আপনের মাঝে আছে আসল একখান ‘প্রজা মন’। তবে সেইটা আপনেরই চয়েস।

ঢাকা আর কোলকাতার আর্ট আসলে দুই ধরনের বাংলার আর্ট। মোশাররফ করিম আর তিশার ঘটনা দুইটা লইয়া ভাবলে দুই ধরনের বাংলার আইডিয়াটা সাফ সাফ বুঝতে পারবেন। কোলকাতার ভক্তরে মোশারফ করিম যেই ইজ্জত দিছেন তাতে বঙ্গবাহাদুরের মতোই ঐ ভক্তরে বঙ্গভক্ত কইতে পারে বঙ্গনাগরেরা, কিন্তু আমাদের আলাপ বাংলা লইয়া, বঙ্গ নামের স্যুরিয়াল ফেনায় না মাতি!

ঢাকাইয়া যেইসব নাটকে কাম কইরা ঐ মোশারফ করিম বা তিশার পয়দা সেই বাংলাটা কেমন? কোলকাতার কেতাবি/আর্ট/লিটারেচারের বাংলাটারে যদি রানীর মতোই ‘আসল’ বাংলা ধরেন তাইলে মোশারফ-তিশা ভুল বাংলায় নাটক কইরাই অমন ভক্ত পাইছেন। এইসব নাটকের বাংলাটা বাংলাদেশের কমন বাংলা। দেশের বহু এলাকার বহু বহু বাংলা আছে, বহু ক্লাস আছে, কম্যুনিটি মোতাবেকও একটু এদিক-ওদিক হয়; কিন্তু ওনাদের নাটকের বাংলাটা সব এলাকা-ক্লাস-কম্যুনিটির লগে কম্যুনিকেট করে। ঐ দুই বিদেশী ভক্তের মারফতে বুঝতে পারি, কেবল বাংলাদেশের কমন বাংলা না, ভারতী বাংলারে ধইরাও কমন আসলে! এইটাই যে কমন বাংলা সেই ইশারা আগেও পাওয়া গেছে; মীনা কার্টুনের বাংলা ভার্সন বানাইলো ইউনিসেফ, সব ধরনের বাঙালির জন্যই, স্পেশালি গরিব বাঙালির জন্য; খেয়াল করার ব্যাপার হইলো, কোলকাতা বা ঢাকার কলোনিয়াল এডুকেশনে শিক্ষিত বাঙালির সংস্কৃত বাংলায় কথা কয় না মীনা, তার বাইরে এক আম বাংলায় কয়; বাংলাদেশে মীনা সাকসেসফুল হইছে ঐ বাংলার কম্যুনিকেশনের জোরে। নেটে তালাশ কইরা মনে হইলো, ভারতী বাংলার সরকার মীনা দেখায় না ঐখানের টিভিতে; কী কারণ? হইতে পারে, ঐ কলোনিয়াল বাংলার ভালো লাগে নাই, ডরাইছে মীনার আম বাংলারে! ভারতী বাংলায় বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলও দেখায় না, কিন্তু ইউটিউব আর সিডি/ডিভিডি কনজার্ভেটিভ কোলকাতারে আস্ত থাকতে দেয় নাই, আম বাংলার মোশারফ-তিশা ঢুইকা পড়ছেন, ভারতী বাংলার জনতাও সাড়া দিছে সারা দেহমন লইয়া!

হ, ১৯৭০-৯০ বা পরের খায়রুনসুন্দরী/মোল্লাবাড়ির বউ–ঢালিউডের বহু সিনেমা, ইউনিসেফের মীনা কার্টুন বা মোশারফ-তিশা-ফারুকীদের সিগনেচার নাটকগুলা ঐ আম/কমন বাংলায় করা, বাংলাদেশ আর ভারতী বাংলার আমজনতা এই বাংলার আর্টই খায়। কলোনিয়াল ঐ সংস্কৃত বাংলার আর্ট-কালচার-সিনেমার অডিয়েন্স পুচকে, বাংলাদেশী ঐ লেখক বা মাস্টারের মতো! কোলকাতার উত্তমের যুগে হয়তো আরো বেশি আছিল, কিন্তু এখন আমজনতার বাংলা আর্ট যখন ফুটতেছে, ঠেকাবার সকল চেষ্টা উতরাইয়া ইউটিউব বা ডিভিডির ভিতর দিয়া এই আর্ট খাইতেছে আমজনতা! কোরিয়া-ইউরোপের নকল কোলকাতার আর্টি সিনেমা বা বাংলাদেশের মেঘমল্লার জাতীয় সিনেমার টিকেট বেচার খবর লইলে ক্লিয়ার হইতে পারে ব্যাপারটা! কোলকাতা এমনকি ওরাল সেক্স আর ইনসেস্ট দিয়াও টিকেট বেচতে পারতেছে না, বড়জোর সেক্স সিনগুলা পর্নক্লিপ হিসাবে নেটে হিট হইতেছে :)!

তবে তদবির চালাইয়া যাইতেছে ঢাকা-কোলকাতার জনতার দুশমনেরা, ‘যৌথ প্রযোজনা’ আইছে বাজারে, বাংলাদেশে এমনকি তুর্কি-টুর্কি সিরিয়াল কলোনিয়াল বাংলায় ডাবিং কইরা দখল রাখতে চাইতেছে, আমবাংলারে খেদাইতে চাইতেছে। কিন্তু আসল খবর হইলো, ওদের ক্রিয়েটিভিটি খতম হইয়া গেছে, কনজ্যুমারও নাই। আর আমবাংলা ফুটতেছে, আমজনতা এমনেই ফুটতে থাকে, তাগো আপনে পাত্তা না দিলে তারা আপনারে অবসোলেট বানাইয়া ফেলে, তারা মোশারফ-তিশা (এইখানে Jalali Set মনে পড়লো!) বানায়, যেই মোশারফ-তিশা নিজেরাও হয়তো মালুম করতে পারে না ঠিকঠাক, কোলকাতার ফ্যানের ফ্যান হইয়া পড়ে!”

–সেপ্টেম্বর ২০১৯//

১৬.

ক.

‘মাতৃভাষা’র ধারনাটা কবে আইলো বাংলায়, ইংরাজি থিকাই কি আসে নাই? জানাইয়েন, আমি পুরা জানি না। বাংলায় আগে মনে হয় দেশি এবং স্বদেশি ভাষার ধারনা পাওয়া যায় বেশি।

একাত্তরের যেইসব ওয়ার-চাইল্ড রেপড বাঙালি মা ছাইড়া পোল্যান্ডে গেছে ২ মাস বয়সে, যাইয়া কেবল পোলিশ ভাষাই শিখলো, তার মাতৃভাষা কোনটা? দেখতে পাই, দেশি ভাষার চাইতে মাতৃভাষার ধারনাটা পুচকে!

কিন্তু মুশকিলটা আরেক জায়গায় বেশি। ইংরাজির যেই তরজমা ‘মাদার টং’ কে মাতৃভাষা বানায় সেই তরজমা দেশি ভাষার লোকেরা কেমনে পড়বে! তরজমা করলে দেশি ভাষাই লেখা যাইতো, অনুবাদ করায় মাতৃভাষা হইছে মনে হয় :)! মাতৃভাষা বা অনুবাদ, দুইটাই খুবই ইম্পোজড শব্দ মনে হয়, আম বাংলায় দেখি না তো! এই এটিচ্যুড/মন দিয়া যখন বাংলায় লিখবেন তখন সেইটা তো আদৌ দেশি ভাষায় লেখা না! আপনে তখন ‘স্বয়ংক্রিয়’ লেইখা না পড়া কড়কড়া বই হইয়া থাকবেন, লোকে আরামসে অটোমেটিক কইয়া বুঝবেও, বুঝাইতেও পারবে পুরা!

সো, কোন বাংলার কথা কইতেছেন, কেন, সেইটার সম্ভাবনা কতো, সেইটা কেন পড়ে না লোকে, লেখেও না, বোঝেও না, কোন বাংলারে বাদ দিলেন, কেন দিলেন–সাফ সাফ কন। বাংলা গ্রামার বা ভোকাবুলারি ডেমোক্রেটিক না বানাইয়া, মানে আম বাংলার তালাশ না কইরা কলোনিয়াল কারখানায় বানানো রেসিস্ট এবং কম্যুনাল বাংলায় লিখতে থাইকা ‘মাতৃভাষা’য় লেখার ডাক দেওয়াটা ঐ পুচকে বাংলার প্রমোশন ছাড়া আর কি হয়?

–ফেব্রুয়ারি ২০১৭

খ.

মিরপুর পুরবীতে চলতাছে ‘ঘাড়তেড়া’। ঢাকাই বাংলা সিনেমার নাম হিসাবে ঘাড়তেড়া পছন্দ করতে পারবেন না অনেকেই, বা আরেকটা সিনেমার নাম যেমন দেখছিলাম ‘খাইছি তোরে’। পছন্দ করতে না পারা এই লোকগুলি কারা? কেন পছন্দ করতে পারেন না তারা?

ঢাকাই সিনেমা লইয়া অশ্লীলতার একটা ডিসকোর্স আছে, জানি আমরা। লোকে হরদম ভাবে, অশ্লীলতা এমন কিছু যেইখানে সেক্সের কোন ব্যাপার থাকবে! তা তো না। আসলে অশ্লীলতা মানে হইলো ‘ভালগার’, বা ‘আনকালচার্ড'; অর্থটা অমন ঝপসা হবার একটা কারণ হইতে পারে ‘অশ্লীলতা’ শব্দটা কোন এক অসামাজিক মগজের আকাম, অসামাজিক মানে হইলো, বাংলায় কথা কওয়া কম্যুনিটির শব্দের জগতের কোন আইডিয়া নাই সেই মগজে, বা খুব সম্ভব ঐ কম্যুনিটির বেশিরভাগ যেসব শব্দ বোঝে সেগুলিরে ঘেন্না করেন সেই মগজের মালিক! ভালগার অর্থ আসলে ‘খ্যাত’, আরো পপুলার খুব সম্ভব ‘ছোটলোকি’, কুরুচিকরও হইতে পারে; আর কোন শব্দও হইতে পারে, মনে আসতাছে না আর, কইতে পারেন আপনেরা কেউ।

তো, ঐ ‘ঘাড়তেড়া’ বা ‘খাইছি তোরে’ সেই লোকগুলির কাছে ‘অশ্লীল’ বা ভালগার বা খ্যাত বা ছোটলোকি বা কুরুচির পরিচয়। ‘শ্লীল’ বা ভাল রুচি কেমন, বা কি? ঘাড়তেড়া না রাইখা সিনেমাটার নাম যদি ‘বীর্যবান’ রাখলে ওনারা ভাল রুচির খবর পাইতেন; ‘খাইছি তোরে’ না রাইখা ঐ অসামাজিক মগজ নাম রাখবেন ‘হুংকার’, বা ‘গর্জন’ বা ‘জিঘাংসা’ও হইতে পারে!

এখন, রুচির তফাত জগতের সব সমাজেই হয়তো আছে; কিন্তু এইখানে খেয়াল করলে দেখবেন, এইটা স্রেফ রুচির তফাত না, এইটা আসলে সমাজের বেশিরভাগ লোকের ভাষার ভঙ্গিমার প্রতি ঘেন্না, সমাজকে ডিকশনারিতে ঢুকাবার মতলব।

কিন্তু সমাজ ডিকশনারিতে ঢুকতে রাজি হয় না প্রায়ই, ডিকশনারি বাতিল হয় বটে!

ধরেন, বীর্যবান শব্দটা বেশির ভাগ লোকের বাংলায় এখন বড় আইড়াঅলা পোলার বেশি কিছু মিন করে না! হুংকার বা গর্জন একটু থাকলেও ‘জিঘাংসা’ তো নাই-ই!

তাইলে, ঢাকাই সিনেমার অমন নাম আসলে একটা তফাতের ঘোষণা, সংস্কৃতের মাইয়া হিসাবে বাংলা ভাষারে দেখতে নারাজ হওয়া। এই নামগুলির প্রতি ঘেন্না তাইলে দাবাইয়া রাখার ফন্দি!

এই ঘোষণাটা বিরাট কাম, বাংলায় পয়লা লিটারেচার হবার ঠিক আগের পর্ব যেন, তফাতে যাবার/থাকার ডিসিশন; দিন যাইতে থাকলে ভালো ভালো আর্টিস্ট পয়দা হবে, ভাল মুভি হবে তখন! সংসারের শুরুটা তো একটু ছ্যাড়াব্যাড়া থাকেই জালিম মুরুব্বিদের অমতে বিয়া করলে…

–জুন ২০১৬

……………………………………………………………………………

পড়তে পারেন, এই লেখা কয়টাও।

কোন বাংলায় লেইখা কার মুরিদ হইলেন?

http://bit.ly/rokmanu3

আনোয়ার পাশার পিরিতের চাবুকে বাংলার জখম

http://bit.ly/rokmanu4

আমাদের আর্ট-কালচারে বরকত নাই কেন

http://bit.ly/rokmanu5

শ্রীংলার প্রজেক্ট: হিন্দি ১ নম্বর, বাংলা ২, ইংরাজি ৩

http://bit.ly/rokmanu2

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
রক মনু

লেটেস্ট ।। রক মনু (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য