Main menu

এডিটোরিয়াল: পার্সোনালিটি, মান-ইজ্জত আর গ্লানির গান

ক. অমন রিলেশনে গুলতেকিনের যদি এতোই আপত্তি, উনি কেন আগেই বাইর হইলেন না?

উড়াইয়া দিতে চাইলাম গুলতেকিনরে, তখনই কিছু জিনিস মনে পইড়া গেল! ২০০৬ সালের জুলাই মাসে একটা বিয়া করছিলাম, নাকি বিয়া বইছিলাম? আখেরি বিচারে করছিলামই কারেক্ট, আমার বউ বিয়া বইছিলো আসলে! আমরা দুইজনে আসলে বিয়া নামের সেই ঘটনাটা ঘটাইতেই চাইছিলাম, সমান শেয়ারের প্রোমিজেই; কিন্তু দেশের আইন আমারে বিয়া করাইলো, ওরে বিয়া বসাইলো![pullquote][AWD_comments][/pullquote]

কাবিননামার সেই ধারাটার কথা মনে পড়তেছে, সেই ধারায় আমারে তালাক দেবার পাওয়ার দেওয়া হইছে, সেই পাওয়ার আমার বউরে দিবো বা দিবো না–আমার খুশি! আমার যা নাই তাই দিলাম তখন আমার বউরে, আইন আমারে সমান হইতে দেবে না, আইন আমারে কইলো–পাওয়ার আমার হাতে, আমি তালাক দিতে পারবো বাই ডিফল্ট, আমার বউ দিতে পারবে যদি সেই পাওয়ার আমি তারে দেই! সো, আইন আমারে বিয়া করতে বাধ্য করলো, আমার বউরে বিয়া বইতে।

হুমায়ূন-গুলতেকিনের বিয়ার সময়ে এই ধারাটা আছিল না, মানে গুলতেকিনের তালাক দেবার পাওয়ারই আছিল না, উনি আসলে তালাক দিতেই পারেন না, তালাকের ব্যাপারে আপোষ হইলেও সেইটা হুমায়ূনকেই দিতে হবে; হুমায়ূন যদি রাজি না হন তাইলে মামলা করতে পারে গুলতেকিন, উপযুক্ত কারণ দেখাইতে পারলে আদালত তালাক দিতে বাধ্য করতে পারে হুমায়ূনরে, যদ্দূর বুঝি, তখনো তালাকটা হুমায়ূনকেই দিতে হবে, আদালত দিতে পারবে না; কারণ, গুলতেকিন তো আদালতের বউ না! (আইনের লোকেরা, কারেকশন প্লিজ, ইফ এনি…)

খ. তো, গুলতেকিন মামলা করলো না কেন?

মনে হইলো, তাই তো! হুমায়ূনের এতো টাকা হইছে, হূমায়ূনের তালাক চাইয়া মামলা করলে গুলতেকিনরে তো হুমায়ূনই টাকা দিতো! হুমায়ূনের টাকায়ই তো মামলার খরচ চলে গুলতেকিনের, নাকি না!

ওদিকে, আরেকটা ব্যাপার আইলো মাথায়; সচিবের চাইতে উপসচিব, জাতির চাইতে উপজাতি, প্রেসিডেন্টের চাইতে উপপ্রেসিডেন্ট সব হিসাবেই মাইনর, বাট বউ আর উপবউদের হিসাব উল্টা! বউ’র চাইতে উপবউ’র দাম বেশি, হাতখরচ বেশি, ড্রেসের দাম বেশি, অর্নামেন্টস/মেকআপের পাওনা বেশি, ইচ্ছার দাম বেশি, ফোরপ্লে বেশি, ওরাল সেক্সের পাওনা বেশি, ট্যুর বেশি, হাসির পাওনা বেশি, খুনসুটিও বেশি!

বউ ঘরের বাইরে থেকে কামাই করলেই কেবল তার কিছু টাকা থাকতে পারে, নাইলে সংসারের প্রোপার্টি ভাতারের, বড়জোর ‘আমাদের’! উপবউ’র চাইতে কিছু কম বেতনও যদি মাসিক পাইতো বউ, কিছু টাকা থাকতো নিজের, মামলা করার কথা ভাবা যাইতো, বাট সংসারে বউ’র কামাই নাই!

গ. ফাউ আলাপ, গয়না বেইচাও মামলা করা যাইতো না!

বাংলাদেশের আইন-আদালতের খরচ-সময় কেমন সেইটা শাজনীনের বাপ, ট্রান্সকমের মালিক লতিফুর রহমানরে দিয়া বুঝতে পারেন; টাকা আছে, মিডিয়া আছে, হাই প্রোফাইল কানেকশন আছে তবু কত বছর, কত টাকা, কতবার যাওয়া আদালতে, মামলার সিরিয়াল পাইতে পেশকারকে কত দিতে হয়? পিপিরে হাত করার উপায় কি? মামলার তারিখ পিছায় কতবার, কেমনে?

কিন্তু টাকা থাকলেই হইলো? রুমানা মঞ্জুরকে মনে পড়ে? ঢাকা ভার্সিটির মাস্টার, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনের, ঐ যে যার চোখ তুইলা ফেলছিল ভাতার? উনি কেন আগেই তালাক দিলেন না, মামলা করলেন না? টাকা-কড়ির অভাবের লজিক নাই তো এইখানে!

সেই ভাতার কি বিছানায় এক্সট্রা অর্ডিনারি আছিল? রুমানার পার্সোনালিটির ঘাটতি? প্রাইড কম?

এমন কিছু ভাবতেই আরাম লাগার কথা আমাদের; নাইলে তো ধান্ধা লাগবে, যেই সিস্টেমে এত টর্চার-ম্যানিপুলেশনের পরেও মানুষ থাকে যুগ যুগ, সেই মানুষদেরই গালি দেওয়া উচিত আমাদের; নাইলে তো সেই সিস্টেমকে মনস্টারাস ভাবতে হয়! তা কেমনে ভাবি, আমরাই যে সেই সিস্টেমের কারিগর!

ঘ. হুমায়ূন জিন্দা থাকতে কইলো না কেন এগুলি? এখন তো আর জবাব দিতে পারবে না, এই সুবিধা পাবার জন্যই ওয়েট করছিলেন..!

ছাড়াছাড়ির সময়ে হুমায়ূন চিঠি দিছিলেন মিডিয়ায়, এই ইস্যুতেই, গুলতেকিন জবাবও দিছিলেন শুনছি, মিডিয়া গুলতেকিনের চিঠি ছাপে নাই। ওদিকে, হুমায়ূন জিন্দা থাকতে এগুলি কইলেই বরং ক্রাইম হয়, এখন ক্রাইম হইলো না কোন! জিন্দা থাকতে হুমায়ূন মানহানির মামলা করতে পারতেন, গুলতেকিন হারলে এই কামডা ক্রাইম হইতো; হুমায়ূন এখন যেহেতু মামলা করতেছেন না, তাই ক্রাইমের সম্ভাবনা থাকলো না! এখন কইয়াই বরং গুলতেকিন আইন মানলেন, ক্রাইম করার সম্ভাবনার দিকে গেলেন না, স্টেটের আইডিয়াল সিটিজেন হিসাবে এমনটাই করার কথা গুলতেকিনের :)!

উইয়ার্ড/আজগুবি লাগলো এই লজিক! আইন মোতাবেক কারেক্ট কিন্তু! ওকে, আরো দুইটা কথা কই এ ব্যাপারে; ধরেন, হুমায়ূন মানহানির মামলা করলো, সেই মামলায় আখেরে গুলতেকিন জিতলোও, মামলার খরচ? হুমায়ূনের জন্য ব্যাপার না, হিমু’র পাবলিশার এমনিতেই দেবে, গুলতেকিন পাল্লা দিতে পারবে? বা দেখা গেল, জজ সাহেব হুমায়ূনের ভক্ত! নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন তারে ভরপেট জ্যোৎস্না খাওয়াইলেন একদিন! হুমায়ূন মরার পরে এগুলি কওয়াই গুলতেকিনের জন্য ওয়াইজ ডিসিশন, রেশনাল খুবই।

ঙ. বাট গুলতেকিন মিছা কইতে পারে তো! হুমায়ূন একজন কালচার্ড পোলা, এনলাইটেন্ড, সায়েন্টিফিক, বুঝদার লোক, কেমনে এগুলি সত্য হয়!

বিজ্ঞান তো অনেক; পোলাদের চাইতে মাইয়াদের মগজের পরিমাণের গড় যে কম সেই স্যাটিসটিক্স বাইর করা সায়েন্সও আছে জগতে, মাইয়া হিসাবে আন্ডারএস্টিমেট করতে উপকারি এক সায়েন্স-অনেকের কাছেই! বার্থ কন্ট্রোল সিস্টেম পোলাদের কয়টা, মেয়েদের কয়টা জানেন? পোলাদের পিল এখনো পুরা আসে নাই মার্কেটে, আর মাইয়াদের প্রায় সবই ইন্টারনাল; সায়েন্স/ক্যাপিটালিজম/স্টেট মাইয়াদের বডির উপর কত কত ভায়োলেন্স চালায় খবর রাখেন? হরমোনাল পিল যে গত কয়েক যুগ ধইরা খাইতেছে মাইয়ারা তার সাইড এফেক্ট জানেন? ইঞ্জেকশনের? কত মাইয়ার অজান্তেই লাইগেশন করা হইছে তালাশ কইরেন। বার্থ কন্ট্রোলের প্রায় পুরা দায়িত্ব সমাজ/স্টেট মাইয়াদের দিছে, তাও এমন এক সেক্সলাইফের ভিতরে থাইকা যেইখানে ম্যারিটাল সেক্স প্রায় রেপের মতো অপারেট করে ভাতারেরা! সায়েন্স কারে কেমনে হেল্প করতাছে, কার উপর হামলা চালাইতেছে, খেয়াল কইরেন প্লিজ। সো, সায়েন্টিফিক হুমায়ূন কইলে কি বুঝবেন আপনে?

হুমায়ূন ক্রিয়েটেড নায়িকারা যে রূপবতী হয়, বুদ্ধিমতি ততো না–খেয়াল করছেন? বুদ্ধিমান, উইটি ক্রিয়েশন হিমু-মিসির আলী দুইজনেই যে পোলা–খেয়াল করছেন? মাইয়াদের হুমায়ূন কেমনে দেখতেন, কোন ইশারা পাইতেছেন এই তুলনায়? গুলতেকিনের আর আর অভিযোগের লগে হুমায়ূনের ঐ আন্ডারএস্টিমেট করার ব্যাপারটার যোগাযোগ পাইবেন একটু ভাবলেই! তাইলে, বুঝদার এনলাইটেন্ড লোকদের কেমন মনে হইতেছে?

চ. জগতে তাইলে ভাল পোলা নাই?!

আছেই হয়তো; কত কত পোলা লেখকের বউরা তো আছিলেন, ছাড়াছাড়ি হইছে, কিন্তু এমনসব কথা কি সবাই কইছেন? অনেকের আগে মরছেন তাগো ভাতারেরা, তারা যে অমন অভিযোগ করেন নাই সেই ব্যাপারে যদি ধইরা নেন যে, ঐ বউরা গুলতেকিনের চাইতে ভালো, ঠিক হবে? ঐ ভাতারেরাও তো হুমায়ূনের চাইতে বেটার হইতে পারে–বেনিফিট অব ডাউট কোনদিকে দেবেন?

এদিকে ভাবেন, দেশে কি বউ আন্ডারএস্টিমেট করা ভাতারের অভাব, টর্চারাস, অ্যাবুসিভ ভাতারের অভাব? অ্যাবুসিভ কনজুগাল লাইফে থাকতে থাকা বউ’র অভাব? মনে পড়ে, ম্যারিটাল রেপ লইয়া ইন্ডিয়ায় এক জরিপে দেখা গেছে, অমন ভাতার প্রায় ৭০%! ইন্ডিয়ার দোস্ত দেশ হিসাবে কত আর পিছাইয়া থাকবো আমরা! মাইয়াদের জন্য ম্যানিপুলেটিভ কনজুগাল রিলেশন তো আকছার ব্যাপার, তবু থাকতে থাকাও; আপনে তাইলে পুরা বেনিফিট অব ডাউট হুমায়ূনরেই দেবেন? জাস্টিফাইড হয় নাকি!

ছ. তবু, গুলতেকিনের সেলফ-রেসপেক্ট নাই…!

তা ঠিকই; আমাদের আছে। মানুষ সিস্টেমের কাছে আসলে নাজুক না তো, আমাদের অনেক প্রাইড–নিজেদের লইয়া, অমন গ্লানির মাঝে থাকতাম না আমরা। বটে।

রাজাকার অনেক ঘেন্না করতাম আমরা, এই দেশে রাজাকারের কোন অনার থাকতে পারে না বলে ভাবতাম আমরা; তাই তো রাজাকার মন্ত্রীরে স্যালুট দিছি–সামরিক বা বেসামরিক, বিভিন্ন স্যালুট; নাইলে চাকরি থাকতো না বা প্রমোশন আটকাইয়া যাইতো; অমন স্যালুটে গ্লানির কি আছে, প্রাইড তো পুরাই আস্ত থাকতেই পারলো! বা আপনের সিটিজেন রাইট নাই বলে ভাবেন এই দেশে, আপনের জঙ্গল মারতাছে দোস্ত দেশ, ফিরাইতে চান–সরকার আপনাদেরকে পাত্তাই দেয় না, নো গ্লানি! পুরানা শত্রু পাকিস্তানী একজন আপনের বস, জটিল ঝাড়ি দিছে আপনারে, নো গ্লানি, পাশের দেশের লোক আপনের বস, আপনের পাওনা প্রোমোশন হইতেছে না–ইংরাজ আমলে নেটিভরা যেমন আর উপরে উঠতে পারতো না, তেমন অবস্থা আপনের সভ্রেইন দেশেই, নো গ্লানি! সরকারি অফিসে যাইয়া ঘুষ/তেল দিলেন লিগ্যাল কামেই–স্পিড মানি/লুব্রিকেন্ট, নো গ্লানি! সেই এরশাদ এখনো দেশের পলিটিক্সে বিরাট ব্যাপার, নো গ্লানি!

পরিচিত কোন এক পোলা কইছিল তার এক ভার্সিটি মাস্টারের ব্যাপারে; মাইয়া ক্লাসমেটসহ ঐ পোলা গেছিলেন সেই মাস্টারের বাসায়, বাসা ক্যাম্পাসেই–একা থাকেন মাস্টার সাব। কিছুখন পরে পোলারে দোকানে পাঠাইলেন মাস্টার কনডম কিনতে; পোলা কনডম কিনতে গেল, মাস্টারের কোর্স আছে পোলার, ডিপার্টমেন্টেও পাওয়ারফুল…নো গ্লানি।

খালি ঐ বউদেরই সব গ্লানি, আপনের সেলফ-রেসপেক্ট বাইয়া বাইয়া পড়তেছে তালের রসের মতো। সো ট্রু!

জ. ওকে, ব্যাপারটা আসলেই স্যাড! বাট রুমানা বা গুলতেকিনরা এমন কেন থাকে, টলারেট করে?

কয় বছর আগে এক পোলা মরলো, বন্ধু আছিল আমার, বাট জানতাম না। কয়দিন আগে খবরটা জানাইলো আরেক দোস্ত–তার লগেও দেখা ২২ বছর পরে। তো, দোস্ত কইলো, পোলাডার বদ-নসিব, মরলো! বিয়া করছিল, ফেমিলির অ্যারেঞ্জমেন্টেই; নয়া বউ, বাসর রাইতেই উপ্রে উঠতে চায়! পরে তালাক দিছে, খুব দুঃখ লইয়াই মরলো পোলাডা!

আনন্দ হইতো যদি বাসর রাইতে আমার দোস্ত যাইয়া বউ’র পাশে বইতেই শামুকের মতো আচরণ করতো বউ, বারবার লাইটের দিকে চায়, মুখে কইতেও পারে না, দোস্তের চোখে চায়ই না বউ, চোখ বন্ধ, দোস্ত বউ’র ব্রার হুক খুইলা ফেলছে কিন্তু বউ বুকে হাত দিয়া আটকাইয়া রাখছে ব্রা–ছাড়েই না! বউ’র দুই পায়ের মাঝে হাত দিছে বন্ধু, পা শক্ত কইরা আটকাইয়া রাখছে বউ, টানাটানি কইরা খোলা-টোলার পরে হাত দিয়া মুখ ঢাইকা রাখছে….আমার দোস্তের কাছে আইডিয়াল বাসর রাইত তো অমনই…। মাইয়াদের সেক্সুয়াল এক্সপেরিয়েন্স যেমন দেখি পোলারা সেইটা বুঝতে নর্মাল বার্থ কমতে থাকা লইয়াও ভাবা যায়; ভ্যাজাইনা ওভার স্ট্রেচড হবার ডরে পেট কাইটা বাচ্চা বাইর করার কাহিনিও তো শুনছি!

তাইলে, সেক্সুয়ালি একটিভ মেয়েদের কেমনে দেখি আমরা? মেয়েদের সেক্সুয়াল এক্সপেরিয়েন্সকে আমরা পোলারা কেমন ভাবি? সেই মেয়েরা কি আমাদের কাছে? এক ভাতার ছাইড়া আরেক ডিভোর্সড/উইডোয়ার ভাতার যদি পায়ও সেই ভাতার কতটা আলাদা হবে বইলা আশা করা যায়? গু ছাইড়া মুত খাইলে কতটা আপগ্রেড করা গেল ডিনার?

এদিকে, তালাক দিয়া প্রেমিক খুঁজতে চাইলে, বিভিন্নজনরে ট্রাই করলে সেই মাইয়ারে ‘স্লাট’ কইতে আরাম লাগে আমাদের, আমরা গড়ে ভাল না, যদি সে ভালোর তালাশ করতে থাকে আমরা তারে কইবো স্লাট, তার লগে শোয়া যায়, বাট বিয়া করলে তো একটা আইডিয়াল বাসর রাইতের মধু মেমোরি লাগবে!

শুনতে পাই, দেশে এখন পোলা বেশ্যাও আছে; এমন একটা ইকোনমি সিস্টেমে থাকা কোন বউ ভাতারেরে তালাক দিয়া বেশ্যা ভাড়া করতে পারে? অত টাকা কই, স্পেসও তো লাগবে!

সে কি নিজের সেক্সলাইফ সাসপেন্ড করবে? তাতেই কি সমাধান হইলো? সে কি ভাইয়ের বাসায় থাকবে? বিশেষ কোন চাকরি পাবে? পাইলেও সেই কামাইতে তার আগের লাইস্টাইল এফোর্ড করতে পারবে? কয় স্কয়ার ফুট ভাড়া করতে পারবে?

এনাফ কামাই নাই, মা-বাপের ফেমিলি কইছিল সহ্য কইরা থাকতে, নিজের এক্সপেরিয়েন্স শুনাইয়া অ্যাবুসিভ ভাতারের লগেই থাকতে সাহস দেয় মা, ভাই-বইন বুঝায়; সেই মাইয়া ভাতারেরে তালাক দিয়া কই যাবে? এই দেশে ব্যাপক সোশ্যাল সিকিউরিটির মাঝে থাকা মাইয়ারাও গ্যাং রেপড হয় হরদম, এই মাইয়ার কি হবে? আগের বন্ধুরা কে কোথায় গেছে খবর নাই! সে কি বেশ্যা হইয়া যাবে! তাও এই দেশে বেশ্যারাও কি সবগুলি ইন্টারকোর্সের মজুরি পায়? লাইসেন্স ছাড়া করবে? পুলিশের হাতে ধরা খাইয়া থানায় থাকবে ৩ রাইত?

ব্ল্যাকমেইলড হইছেন যারা তারা জানেন, কেন, কি, কতটা করতে হয়, বাধ্য হওয়া কারে কয়! যাবার জায়গা না থাকলে, উপায় না থাকলে, বাধ্য হইলে ঐসব সেলফ রেসপেক্ট আর গ্লানি কতটা বাল-ছাল হইয়া যায়! মাইয়ারে আটকাইয়া রেপের হুমকি দিয়া কয়টা টয়লেট চাটানো যায় হেডমঅলা বাপরে দিয়া, স্রেফ ঘুষ নেবার একটা ছবি দিয়া ব্ল্যাকমেইল কইরাই কত কি করানো যায়!

এই সমাজ মাইয়াদের সোজা ব্ল্যাকমেইল কইরা বাধ্য করে; খাওয়া-পরা-থাকার একদম ম্যাটেরিয়াল ব্ল্যাকমেইলিং তো আছেই, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং আরো কড়া! মাদারহুড নামের একটা ভূয়া গদিতে মাইয়াদের বসাইয়া সেক্সকে অদরকারি বানাইয়া তুলতে থাকে, বাচ্চার জন্য ভাতারের টর্চার মানতে বুঝায়, মায়ের পিরিত লইয়া গান গাইয়া নিজেরে কোরবানি দিতে ফুসলায়।

ঝ. তাইলে যা হইছে ভালোই?

খারাপই হইছে, হুমায়ূন আজকে জিন্দা থাকলেই ভাল হইতো, আমরা বিয়া-সংসার বুঝতে পারতাম আরো ভালভাবে। আগামী দিনে আমাদের উচিত হবে, এমন কারো তালাক-টালাক হইলে সেই বউরে কমফোর্টেবল পরিবেশ দেওয়া, টাকা-পয়সার এনাফ সিস্টেম করা, বাচ্চাদের তদারক করা, সমাজের ব্ল্যাকমেইলিং ঠেকানো; গুলতেকিনরা তখন হয়তো কইতে পারবেন এতো দেরি না কইরাই! হুমায়ূনেরাও তখন দেখাইয়া দিতে পারবে, পিরিতের বাজারে সে ভালো দাম পাইছে বইলাই গুলতেকিনেরা জেলাস, কথা সবই মিছা! গুলতেকিনেরা তখন সাবুদ পেশ করবে আরো! তুমুল সেই ঝগড়ার এপারেন্ট আগলিনেসে চাপা পড়া হাছা কথাগুলি আমরা সব বুইঝা ফেলবো! আমরা তখন দুই পক্ষের লজিক বাছবিচার কইরা সামনের দিনের সংসারের আরো ভালো স্কেচ বানাইতে পারবো।



২৪ জুলাই ২০১৬।

 

 

The following two tabs change content below.

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।

Latest posts by রক মনু (see all)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য