Main menu

এডিটোরিয়াল: আর্টের ছিলছিলা

কেভিন কস্টনার আর কার্ট রাসেলের একটা ছিনামার নাম ‘থ্রি থাউজ্যান্ড মাইলস্ টু গ্রেসল্যান্ড’। এই ছিনামায় কস্টনারের একটা ছিনে হিচহাইকার এক মাইয়া ওঠে কস্টনারের গাড়িতে। তার পর গাড়ি চালাইয়া যাইতে থাকে কস্টনার; চালাইতে চালাইতে পেপারের একটা জরিপে মাল্টিপল চয়েছ কোশ্চেনে টিক দিতে থাকে। স্ক্রিনে দেখানো কোশ্চেনটা এমন: ডু ইউ মাস্টারবেট? কস্টনার টিক দেয়, ‘অলওয়েজ’। 

হিচহাইকার মাইয়াটা কস্টনারের গতর হাতায়, এরোটিক ইশারা দেয়, কস্টনার একটু বিরক্তই হয়, পরে মাইয়া কস্টনারকে ব্লোজব দেয়। দুইটা ব্যাপার মিলাইয়া এই ছিনের অর্থ খাড়াইতেছে এমন: মাস্টারবেশনের ব্যাপারে কস্টনারের একটা এসথেটিক ডিছিশন আছে, কিন্তু গাড়ি চালাইতে চালাইতে মাস্টারবেশন তো কঠিন, তাই দুধের স্বাদ মুতে মিটাইতে মাইয়ার ব্লোজব লইতেছে।

এখন এই সিনের লগে আমাদের ইলিয়াসের মাস্টারবেশন ভাবনার একটা তুলনা করেন। ইলিয়াসে মাস্টারবেশন হইলো ছিনেমায় কস্টানারের মাস্টারবেশন ভাবনার পুরা উল্টা, ইলিয়াসে মাস্টারবেশনই হইলো বরং ‘দুধের স্বাদ মুতে মিটানো’, এমনকি মাস্টারবেশন যেন সোশিওপ্যাথের কাম একটা।

আর্ট-কালচারের এই দুইটা নজিরেই মাস্টারবেশন পাইতেছেন, কিন্তু একটা (কস্টনার) পলিটিক্যালি মাস্টারবেশনরে প্রোমোট করে, সমাজকে ফুসলায় মাস্টারবেশন করায়, আরেকটা সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন হিসাবে মাস্টারবেশনের গাহেক বাড়াবার; আরেকটা (ইলিয়াস) মাস্টারবেশনকে ডিমরালাইজ করে। 

এখন ভাবেন তো, ইলিয়াস মাস্টারবেশনের বদলে নর্মাল/স্বাভাবিক সেক্স হিসাবে হোমোসেক্সুয়ালিটি নাকি হেটারো-সেক্সুয়ালিটিকে ভাবায়? তার মাস্টারবেশন ভাবনায় সেইটা ততো ক্লিয়ার হয় না। কিন্তু আমাদের পুরা আর্ট-কালচার লইয়া ভাইবা দেখেন তো, এগুলা কোন অরিয়েন্টেশনের গাহেক বাড়াইতে মদদ দিতে থাকে হরদম? রঠার গপ্পো ভাবেন বা জীবনানন্দের সুরঞ্জনা/বনলতা সেন, আমাদের নাটক-ছিনেমা? হেটারোসেক্সুয়ালিটি কিনা? কেবল অরিয়েন্টেশন না, কয়টা গপ্পো-কাহিনি-ছিনেমা-নাটকে দেখছেন পলিগ্যামিরে নর্মাল হিসাবে দেখানো হইছে? আমার দেখায় যতোটা মনে পড়ে, সবগুলাতেই আসলে হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামি প্রোমোট করা হইছে। বিভূতিভূষণের ইছামতি নামের এক কাহিনিতে এক বামুন পোলা একলগে ৩ বোনরে বিয়া করে; উল্টা কাহিনি তো নাই-ই, ইছামতিতেও নায়কের ৩ বউ থাকলেও সে আসলে মনে মনোগ্যামি, এক বউয়ের কাছেই তার মন পইড়া থাকে; বিভূতি আসলে একটা কেসস্ট্যাডি দিয়া দেখাইতেছেন যে, মানুষ নেচারালি মনোগ্যামাস। এবং ইছামতিতে পলিগ্যামি দেখাইলেও পোরটি বউয়ের লগে রিশতা কিন্তু ওয়ান-টু-ওয়ান, ৪ জনের একটা গ্রুপ কিন্তু না। আবার গপ্পো-কাহিনিতে পলিগ্যামি কোথাও পাইতেও পারেন, কিন্তু একটা পেমের গানও পাই নাই যেইটাতে দুই জনের পেমে পড়তেছে কেউ, তুমি-আমি বা দুই সিঙ্গেলের কায়-কারবার সব।

কিন্তু দেখেন, কস্টনারের ছিনে যেমন মাস্টারবেশনকে ফুসলানো এক নজরেই চোখে পড়ে, আমাদের সারা আর্ট-কালচারে একমাত্র হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামির জিকির থাকলেও এগুলারে আমরা হেটারোসেক্সুয়াল মনোগ্যামির প্রোপাগান্ডা কইতেছি না! অথচ আসলেই তো তাই! নর্মাল এইভাবেই নজরের বাইরে থাকে; কতটা বাইরে থাকে সেইটা আরেকটা ব্যাপারে মিডিয়ার খবরে বুঝবেন ভালো: আমেরিকায় ধরেন নিউজ পাইতেছেন এমন, পয়লা মোসলমান সিনেটর ইলহান ওমর; কিন্তু ৪৫ নম্বর খৃস্টান পেসিডেন হইলেন ট্রাম্প, এমন কোন নিউজ পাইছেন? নর্মাল এমনই, হয় আসলেই নর্মাল, অথবা সমাজ তারে নর্মাল বানাইতে চায় বইলা এমনভাবে নজরের বাইরে রাখে যে, কখনো খেয়াল করলে আপনের মনে হবে নর্মাল! যত বেশি কমন কইরা তোলা যাবে, ততোই নর্মাল লাগবে। সব ইউএস পেসিডেন খৃস্টান বইলা যেন এইটাই নর্মাল; তাই ইউএস পেসিডেনকে যে খৃস্টানই রাখতে চায় ইউএসএ, সেই এজেন্ডা ঐ বানানো কমনের নিচে চাপা পড়ে, যেন ঐটাই তো নর্মাল!

আর্ট-কালচারের পলিটিক্সও এমনই নর্মাল, এমনই নর্মাল যে আপনের নজরেই পড়ে না। এইটা কমন তো বটেই, এমনকি বানানো নর্মালও না, জেনুইন নর্মাল; কেননা, এর বাইরে অপশনই নাই, অন্য কিছু হইতেই পারবেন না! ভাষা সামাজিক বইলা ভাষায় শরিক হইলেই পলিটিক্সে নামলেন আপনে, আর্ট-কালচার করা মানে আপনের খাসলতই হইলো পলিটিক্স করা! অন্যদের তবু নিরুপায় দশা, সমাজের বাইরে কেমনে যাবে! কিন্তু আপনে বাই চয়েছ, নিজের হাউশেই পলিটিক্স করতেছেন।

এখন আপনে আর্ট-কালচার করেন, এসথেটিক্স পয়দা করেন, হয়তো কস্টনারের এসথেটিক্স বা আমাদের নাটক-ছিনেমা-কবিতা-ইলিয়াসের, বা অন্য কোন কিছিমের, সমাজে আপনের গাহেক আছে, বাড়তেছে বা কমতেছে। মানে কিছু একটা বেচতেছেন আপনে, কারো না কারো ব্যবসা বাড়তেছে, অন্য কারো হয়তো কমতেছে, কারো গাহেক হয়তো ভাগাইয়া লইয়া যাইতেছেন, বা গাহেক হারাইতেছেন; তাইলে আপনের আর্ট-কালচার লইয়া সমাজে যারা আলাপ করে, একদল ক্রিটিক ধরেন, তারা কি করতেছে? আপনের আর্ট-কালচার তাগো পলিটিক্সের পক্ষের দোস্ত বইলা আপনের তারিফ কইরা গাহেক বাড়ায় বা দুশমন বইলা আপনের গাহেক ভাগাইতে চায়। এদের ভিতর যারা লোক ভালো তারা সমাজ এবং মানুষের, এক কথায় দুনিয়ায় সুখ-শান্তি বাড়াবার ব্যাপারে আপনের আর্ট-কালচারের গাহেক হবার ভালোমন্দ বুঝতে চায়, আপনের গাহেক হইলে সমাজে মানুষের দুঃখ বাড়ে কিনা, অন্যরে টর্চার করা বাড়ে কিনা, মানুষের মাঝে ঝগড়া-ফ্যাসাদ বাড়ায় কিনা, সেইটা দেখাইয়া দিতে চেষ্টা করে; হয় মানুষকে ফুসলাইয়া আপনের গাহেক বাড়ায় বা আপনের গাহেক ভাগাইয়া দেয়। আপনের আর্ট-কালচার কোন পলিটিক্সের উইং সেইটার ব্যাপারে মানুষকে ভাঙানি দেয়, মানুষ যাতে আপনের গাহেক হবার ব্যাপারে ইনফর্মড ডিসিশন লইতে পারে।

এখন আমার এই ভাবনারে একটা থিয়োরি ভাবেন, থিয়োরিটা আরো ভালো বুঝতে এই থিয়োরি দিয়া আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের লেখাটা বিচার করেন। দুয়েকটা পয়েন্ট দিতেছি, মিলাইয়া দেখেন।

লেখাটা শাড়ির পক্ষের। কালকে এক জলসায় গেছিলাম ঢাবি’র মাস্টারদের কেলাবে, সেইখানেরও কেউ কেউ কইতেছিলেন এইটা। হুম, শাড়ির পক্ষের লেখাই। দেশের মাইয়াদের আরো বেশি শাড়ি পরাইতে চাইতেছেন সায়ীদ সাব, ওনার চাওয়ার পসার ঘটাইতেছে প্রথম আলো। সেইটা চাইলেও অবশ্য আমার আন্দাজ হইলো, এই লেখার বদলে ‘৫ মিনিটে একলাই শাড়ি পরবেন কেমনে’–এমন একটা ভিডিও টিউটোরিয়াল যদি বানাইতেন উনি, ‘বিশশো সাহিততো কেনদ্রো’র মুসাফির লাইবেরিতে দেখাইয়া বেড়াইতেন ঐটা সারা দেশে, তাতেই বেশি লাভ হইতে পারতো! বা উনি কিন্তু কেবল মাইয়াদেরই জানাইতেছেন যে, শাড়ি সেক্সি/এপিলিং, কিন্তু এই জামানার পোলাদের তেমন ভাবার ছবক দিতেছেন কই! সেক্সি/এপিলিং ভাবা শিখাইতে হবে তো এই জামানার পোলাদের বা যার কাছে এপিলি হইতে চাইবে কোন মাইয়া, তারে! কিন্তু শাড়ি কেন এপিলিং সেইটার ডিটেইলে আদৌ যান নাই, এপিলিং বইলা স্রেফ এরশাদ করছেন!

শাড়ির পক্ষে ওনার এই ক্যাম্পিং আলবত আগেই ধইরা নিছে যে, শাড়ি তো একটা দেশি কালচার, ওনাদের হয়তো ‘বাঙালি কালচার’ কইতেই বেশি ভালো লাগে, শাড়ি হইলো ‘বাঙালি কালচার’-এর বিরাট নিশানা, তাই দেশের মাইয়াদের মন শাড়ির দিকে টানা দরকার। এখন ভাবেন তো, ওনার লেখার এসথেটিক্স মোতাবেক তাইলে কে বেশি এক্সপেন্ডেবল, শাড়ি নাকি দেশের মাইয়ারা? বাঙালি হিসাবে এই জাতির মাইয়াদের লইয়া ওনার দুঃখের অন্ত নাই; এই জাতির মাইয়ারা খাটো, বেঢপ, কালা–এইগুলাই ওনার দুঃখের গোড়া। এই লেখায় গড়া মন তাইলে খোদার কাছে মওকা পাইলে কোনটা বদলাইতে চাইবে–শাড়ি, নাকি জাতির মাইয়াদের? 

মাইয়াদের পরনে শাড়ি সুন্দর ওনার হিসাবে, তার কারণ এই না যে, বাঙালি মাইয়াদের গায়ে উঠতেছে ঐ শাড়ি, এই মাইয়ারাই বরং শাড়ি পইরা দুনিয়ার দরবারে হাজির হবার মতো হইয়া ওঠে; ফ্যাশন আইটেম হিসাবে এইটা বাঙালি মাইয়া মডেলদের উপর ভর কইরা নাই, এই মডেলরাই বরং ভর কইরা আছে শাড়িতে। এই যে মানুষের চাইতে একটা কালচারাল টোটেম বা নিশানার বড়ো হইয়া ওঠা, মানুষই বরং খরচ করার মতো, কিসের আলামত এইটা? কালচারাল টোটেমের দরকারে মানুষ কোরবানি আমরা পেরায়ই দেখি ইন্ডিয়ায়, দেশপেমের জন্য কোরবানিও দেখা যাইতেছে হরদম; এই ভাবনায় তাইলে কালচার মানুষের কামের জিনিস, নাকি মানুষ কালচারের ম্যানিকুইন? কালচার সরবে না একচুল, বেয়াদব মানুষ খেদাইয়া দাও।

আরেকটা দিকে ভাবেন এইবার। ধরেন, একটা ছিনামা বানাইবেন আপনে, তুখোড় সেক্সি মাইয়া দরকার ছিনামার পাটে, কাস্টিং করতে নামলেন, নায়িকা হিসাবে তিশারে লওয়া ঠিক হবে আপনার? এমন পরামিশ চাইলেন সায়ীদ সাব বা সায়ীদিয়া কোন মনের কাছে, কি কইতে পারেন তারা? না। কেন?

তিশা খাটো, সায়ীদিয়া মিটারে। কই থিকা নিবেন নায়িকা? লাহোর বা নর্থ ইন্ডিয়ার হইলেও ভালো কিনা ঐ মিটারে? তিশাদের হয়তো বেকল শাড়ি পরাইয়া হাজির করতে পারবেন, আর তো কোন ফ্যাশনে না! যেই নায়িকা আপনের ক্রিয়েটিভ ভেঞ্চারে এমন ফ্যাশন লিমিট ঠিক কইরা দিতেছে তারে কাস্ট করা তো এলেমদার ডাইরেকটরের কাম না কোন! 

এখন ধরেন, সায়ীদ সাব হক কথাই কইছেন, খাটো মানে কুৎসিত, দেশের বহু মাইয়ার এই কথা ভালোও লাগতে পারে, কিন্তু উনি সই কইলেও ওনার ভাবনা মোতাবেক দেশের আর্ট-কালচার চলা শুরু করলে জনতার লাভ, নাকি লস? কারে সার্ভিস দিতেছে এই চিন্তা, কোন পলিটিক্যাল ইকোনমির পক্ষে বৈঠা চালায় এই ভাবনা? ফেয়ার এন্ড লাভলি’র ইয়ামি গৌতম লইয়া ভাবেন। বাংলাদেশে মার্কেটিং করতে বাংলাদেশি লাগতেছে না মাল্টি-নেশনাল কোম্পানির, দেশে বাঙালি নেশনালিজমের জোয়ারের এই ভরা কটালেও; ইয়ামি, দীপিকা, প্রিয়াংকা, অক্ষয় কুমার; পাকিস্তানের লগে আমাদের অন্য ঝামেলা আছে বইলা ভাবি বইলা হয়তো পাক মডেল ততো পাইতেছি না। দেখা যাইতেছে, ডাইরেক্ট পয়সাপাতির মামলাতেই দেশ এবং জনতার বিপক্ষে মদদ দিতেছে সায়ীদিয়া মন। এই মদদ এমনই নিশা লাগায় মনে যে, ইয়ামিও যে ততো লম্বা না, সেইটাও খেয়াল করার উপায় থাকে না!

এই ব্যবসাটা পার্মানেন্ট করতেও মদদ দেয় আসলে। সায়ীদ সাবের লেখাটা দেশের মাইয়াদের মনে পার্মানেন্ট ইনিফিরিয়রিটি হান্দাইয়া দেয়; এবং সেইটা কোন কোন মাইয়ার পার্সোনাল বদ খাসলতে হইতেছে না, ব্যাপারটা জাতিগত একদম, নেভার বিন এভয়েডেবল, নট এভার বি; জিন আর জাতের ভিতর দিয়া দেশের বেশিরভাগ মাইয়া জনমেই যা পাইছেন, তারে তো উতরাইতে পারবেন না! কিন্তু উতরানো খুব দরকার বইলা দেখায় এই লেখা, তাই চেষ্টা করতে থাকে এই ভাবনার গাহেক মাইয়ারা। এবং খেয়াল করলে দেখবেন, খাটো-বেঢপ-কালা এই তিনটা জিনিস এড্রেস করা প্রোডাক্ট দেশের বাজারে মেলা, এবং বাড়তেছেও–ফেয়ার এন্ড লাভলি থিকা ট্রেডমিল।

সায়ীদ সাবের লেখায় বাঙালি মাইয়াদের বেঢপ হবার কারণ হিসাবে হাইব্রিডিটিরে দাবি করতেছেন উনি। একটা টার্ম দিয়া এইটারে ক্রিটিক করতেছেন অনেকে–রেসিজম; ওনার দোস্ত আতেল-ক্রিটিকরা কইতেছেন, কালারে কালা, বেঢপরে বেঢপ কইতে না দেওয়াই নাকি রেসিজম!

শুরুতেই কইতে হয়, ওনার গলা বা কলম কেউই কব্জা কইরা নেয় নাই; ক্রিটিক তো কইতে না দেওয়া না, আর্ট-কালচারে ক্রিটিক বড়জোর স্রেফ লেখাটারে ডিনাই করা, তার গাহেক হবার ব্যাপারে অন্যরে হুশিয়ার করা, গাহেক হইলে কেমন মুসিবতে পড়তে হইতে পারে, সেইটা খোলাসা করা। যেই দেশে ফেসবুকে নিরিহ স্ট্যাটাস দিয়া ভার্সিটির মাস্টারের জেলে যাইতে হয়, খুনের ঘটনা ঘটে লেখার কারণে, এক চাকমা মাইয়ারে বই লেখার জবাবে রেপের হুমকিও দেওয়া হইছে, সেই দেশে সায়ীদ সাবের ক্রিটিকরা কি করলেন? লেখার ঝামেলাগুলা দেখাইতে চাইলেন, হুমকি-মামলা তো দূর, যেই প্লাটফর্ম লেখাটারে ছাপাবার মওকা দিলো, সেই প্রথম আলোরেও দুইটা কথা শুনায় নাই কেউ! ইউনূস বা আবেদের কিছু ইস্যুতে ব্রাক-গ্রামীণ ব্যাংকে হামলার ঘটনা আছে, কিন্তু সায়ীদ সাবের বিশশো সাহিততো কেনদ্রো, কোন ইস্যু হিসাবেই হাজির হয় নাই! বেশির ভাগই দেখা গেছে, দুঃখ পাইছেন, বাপ যখন অপমান করে, তখনকার দুঃখের মতোন! খাটো-বেঢপ-কালার আলাপে সেইটা কতক ক্লিয়ার করতে চাইলাম; তবে বেঢপ লইয়া আরো কিছু কইতে হয়!

বেঢপ শরিলের পিছে হাইব্রিডিটিরে দায়ী কইরা উনি পলিটিক্যালি জার্মান হিটলারের রেশিয়াল প্রজেক্ট এই জামানায় আবার পেশ করলেন; এই লেখা ইন্টার-রেশিয়াল বিয়া আটকাইতে চাইতেছে, তেমন বিয়া বা না বিয়ার ভিতর দিয়া হওয়া বাচ্চাদের বেঢপ কইয়া রিডিক্যুল করতেছেন। কিন্তু আরো বড়ো ব্যাপার হইলো, এইটা ডাইরেক্ট মিছা কথাও!

দুনিয়ায় হাইব্রিডিটির অনেকগুলা পজিটিভ ফল আমরা খাইতেছি! বায়োলজিতে হাইব্রিডিটি নর্মাল তো বটেই, তাতে এমনকি অনেকসময়ই খুবই দরকারি কতগুলা গুণ হাজির হইতেছে; আজকে আমরা যেই কলা খাই, এইগুলা হাইব্রিড কলা; দেশে ধান, আম থিকা গরু–এমন অনেক কিছুই হাইব্রিড, এইসব হাইব্রিডিটি বায়ো-দুনিয়ায় বরং সারভাইভালকে সম্ভব কইরা তোলে পেরায়ই! বায়ো-দুনিয়ায় হাইব্রিডিটি বেঢপ করায় দায়ী হওয়া তো দূর, হাইব্রিডিটি বরং অনেক সময় বাঁচার শর্তও! সায়ীদে অবশ্য হাইব্রিডিটিতে বেঢপ হয় কেবল মাইয়ারাই, পোলারা ততো না! এই ব্যাপারে উনি মনে হয় রামমোহনের মুরিদ; রামমোহন কইছেন, ভাতারের চিতায় জিন্দা পোড়া ঠিক না বিধবাদের, কারণ, তাতে যোনী থিকা মুক্তি ঘটবে না সেই মাইয়ার, আবারো মাইয়া হিসাবেই জনম লইতে হবে; বরং ব্রহ্মচর্যের এবাদতে যোনীর অভিশাপ থিকা নাজাত পাইতে পারে তারা। সায়ীদ সাবের হিসাবেও দেখা যাইতেছে, মাইয়ারা যোনীর অভিশাপ লইয়া জনমাইছে, যোনী সায়ীদে এমনই এক অভিশাপ যে, বেঢপও হইতে হইতেছে, রামমোহন এইটা মনে হয় মিস করছিলেন!

কিন্তু এই সত্যরে ছাড়াইয়া আমি ভাবি, হাইব্রিডিটিরে আমরা যদি এমনে দেখি, তাইলে ‘নয়া’ কেমনে পাইবো! বিলাই কি স্রেফ কপালের ফেরে কারো শাপে জখম এক সিংহ! কাউফল কি কোন বেঢপ লটকন? বামুন-শূদ্রের বাচ্চাটারে চাড়াল কইয়া কি সমাজ থিকা খেদাইয়া দেবে না সায়ীদিয়া মন? কোন চাড়াল কি শাড়ি পইরা বামুন হইতে পারছে? বেঢপ এই মাইয়ারা ভাতারের নজরের সামনে হরদম কি শাড়ি পইরাই থাকবে? খোলার রিস্ক লওয়া ঠিক হবে! শাড়ি পরা দেইখা ভাতারে যেই টার্ন-অন ঘটলো, শাড়ি খুললেই নিভা যাবে? নাকি চোখ বন্ধ কইরা থাকবে ভাতার তখন, নর্থ ইন্ডিয়ার কাউকে ভাবতে ভাবতে বউরে হাতাইতে থাকবে! হাতের পরশেও যদি বউয়ের বদখত রেশিও মালুম হইয়া যায়! পেমিকা বা বউরে এপিলিং এখনো ভাবতে কি ছোয়াছুই পুরাই বাদ দেবে?

সো, কইতে না দেবার মামলা নাই এইখানে, এইটা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইস্যু না কোন, লেখায় এরোটিসিজমের মামলাও না। মামলাটা অনেকের কাছেই অপমানের, আমার কাছে পলিটিক্সের–এমনকি কতগুলা টার্মেরও না, কারে কালচারাল-পলিটিক্যাল-ইকোনমিক সার্ভিস দিতেছে, সেইটাই আমার ইস্যু। এবং আমার হিসাবে দেখতেছি–এই লেখা আমার, আমার মাইয়াদের, মায়ের-বউয়ের, আমার ফ্রেন্ডের মাইয়ার,  আমি যেই পক্ষে পলিটিক্স করি তাদের, দেশের, সমাজের সবার দুশমন। সায়ীদ সাব ওনার বুঝ মতো আমাদের খুব উপকারই করতে চাইছেন হয়তো, কিন্তু আমারে বিচারে সেই উপকার পাইতেছি না; এমন হইতেই পারে; দেশের ভাইয়েরা বোনের জমি না দেওয়াতেই বোনদের অনেক উপকার দেখে হামেশা, বোনেরা হয়তো ততো দেখে না পেরায়ই! আমি তাই চাইবো, এইটার গাহেক যেন না হয় লোকে; এই লেখা যদি পলিটিক্যালি কারেক্টও হয়, তবু আমার দুশমন, আপনেরা টার্মের দুনিয়ায় কেলি করতে থাকেন–না, আপনাদেরও ডাকতেছি; আমি সায়ীদিয়া মন হবার ব্যাপারে, ওনার গাহেক হবার ব্যাপারে হুশিয়ারি দিতেছি। একজন ক্রিটিক বাপ হইতে পারে, মা হইতে পারে, বা বাছুর বা খুনী বা রেপিস্ট বা মামলাবাজ, কিন্তু ক্রিটিক হিসাবে তার কাম হইলো, গাহেকের কাছে আর্ট-কালচারের ভাঙানি দেওয়া, তার বেশিও না, কমও না; আমি তাই যারা বোঝে না কিন্তু বুঝতে চায়, তাগো জন্য লিখি, যারা বোঝে না, বুঝতে চায়ও না, তাদের জন্যও লিখতে চেষ্টা করি, বয়াতি হইয়া বয়ান দিতে চাই, আর্ট-কালচারের ভাঙানি দেই স্রেফ।

 

সেপ্টেম্বর ৩-৪, ২০১৯

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
রক মনু

লেটেস্ট ।। রক মনু (সবগুলি)

  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য