Main menu

আপনার চাইতে আর্ট বেশি বোঝে ওরা

আর্ট কি জিনিস? কেমনে আর্টরে বুঝবেন আপনি; আর্টিকুলেট করবেন আপনার সাহিত্যে, নাটকে, লাইফে – এই বিষয়ে মনু’র অ্যাডভাইস।–ই.হা.

পাখি জামা কিনে দেয়নি স্বামী, বউ তালাক দিলো সেই স্বামীরে। বাপ কিনে দেয় নাই পাখি জামা, মেয়ের অভিমান, মায়ের বকা, মেয়ের আত্মহত্যা। বুঝতে পারছেন কি ঘটনা দুইটারে? নাহ্।

যেভাবে এবং যতটা বুঝছেন তার একটা স্কেচ দেখাই আগে। পাখি এক ভারতীয় সিরিয়ালের চরিত্র, বাংলাদেশের মেয়েরা ওই সিরিয়ালে ডুবে গেছে; পাখি’র ফ্যাশন ছাড়া, ভারতীয় ফ্যাশন ছাড়া ঈদ করতে পারে না বাংলাদেশের মেয়েরা; এবং এইটা পুরা ছবির একটা টুকরা মাত্র; অসংখ্য ভারতীয় সিরিয়াল আর চ্যানেল আছে—হিন্দি আর বাংলা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি দখল হইয়া গেছে; ভারতীয় চ্যানেল আর সিরিয়াল খারাপ, ঘেন্না হয় আপনার, ওগুলি নিষিদ্ধ করা দরকার একদম।

ফলে সমাজে মেয়ে শাসনের আরেকটা সুযোগ পাইলেন আপনি; ভারতীয় চ্যানেল আর সিরিয়ালগুলি নতুন এই সুযোগ করে দিলো আপনাকে; সেজন্য ভারতীয় কোন সিরিয়াল বা একতা কাপুরকে অবশ্য ধন্যবাদ দেন নাই আপনি।

মেয়ে শাসনের এই সুযোগের এস্তেমাল করার ফাঁকে উপরের ঘটনা দুইটায় কিছু না দেখা জিনিস দেখাই আপনারে।

আগের ঘটনায় দ্যাখেন দারুণ এক খবর পাওয়া যাইতেছে; বউয়ের ইচ্ছারে পাত্তা দেন নাই স্বামী; তালাকের ঘটনায় ওই বউয়ের সামাজিক নিন্দায় পরিষ্কার হইলো যে, বউয়ের ইচ্ছারে পাত্তা না দেওয়াটাই স্বামীর দায়িত্ব এই সমাজে। ‘উদ্ধত’ বউ ওই পাত্তা না দেওয়াটারে মানেন নাই; তিনি স্বামী জিনিসটারে আপনার ভাবনার চাইতে পরিবর্তনযোগ্য ভাবতে পারলেন, যার লগে থাকবেন তার কাছে আরেকটু পাত্তা চান এই বউ, আরেকটু কেয়ারের দাবি করতে শিখে ফেলছিলো কোথাও।

‘উদ্ধত’ বউ ওই পাত্তা না দেওয়াটারে মানেন নাই; তিনি স্বামী জিনিসটারে আপনার ভাবনার চাইতে পরিবর্তনযোগ্য ভাবতে পারলেন, যার লগে থাকবেন তার কাছে আরেকটু পাত্তা চান এই বউ, আরেকটু কেয়ারের দাবি করতে শিখে ফেলছিলো কোথাও।

কোথায় শিখলো? আপনার অনুমান—ভারতীয় সিরিয়াল। আপনার অনুমান যদি ঠিক হয় তাহলে ভারতীয় সিরিয়াল খারাপ না ভালো?

‘ডিজায়্যার’ মেয়েদের জন্য নিষিদ্ধ করে রাখা ছিলো সমাজে, ভারতীয় সিরিয়াল যদি মেয়েদের ‘ডিজায়্যার’ শিখায় বা ‘ডিজায়্যার’ প্রকাশের সংকোচ দূর করে দেয়—ভারতীয় সিরিয়াল তাইলে খারাপ? আর আপনি? যিনি ‘ডিজায়্যার’কে মেয়েদের জন্য নিষিদ্ধ রাখতে চান, মেয়েদের ‘ডিজায়্যার’ প্রকাশ আমরণ স্থগিত রাখতে বলেন, বউয়ের ইচ্ছারে পাত্তা না দেওয়া স্বামীর সাথেই শুইতে বলেন—আপনিই তাইলে ভালো?

এই সমাজের ইতিহাসের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত স্বামীর মাইর খাইতে থাকা তবু স্বামীরে ছাড়ার চিন্তা করতে না পারা কোটি বউয়ের ভীড়ে এই বউয়ের স্বামী ছাড়ার চিন্তা করতে পারা এবং বাস্তবায়নের সাহস না বুঝতে পারা আপনি-ই ভালো? ওই বউকে নিন্দা করার মাধ্যমে বউয়ের প্রতি ওই স্বামীর ট্রিটমেন্টকে জাস্টিফাই করে যাওয়া এবং ‘ডিজায়্যার’অলা একটা বউয়ের খপ্পর থেকে বেঁচে যাওয়াকে সেলিব্রেট করতে স্বামীকে পরামর্শ দেওয়া আপনি-ই তাইলে ভালো? হায়, আপনার খপ্পর থেকে এই সমাজের মেয়েদের কে বাঁচাবে?

দেখা যাচ্ছে, আপনার খপ্পর থেকে মেয়েদের বাঁচতে সাহস দিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সিরিয়ালেরা! এইটাই বরং আসল কারণ আপনার ঘেন্নার; ভারতীয় সিরিয়াল দেখে দেখে সংসারকে একটা ‘পলিটিক্যাল স্পেস’ হিসাবে চিনে ফেলছে আমাদের মেয়েরা; বা আগেই চিনত, সিরিয়াল থেকে বুঝিবা বুদ্ধি পাচ্ছে ওই পলিটিক্যাল স্পেসে নিজের হিস্যা বুঝে নেবার; হয়তো পূজা বা হিন্দুত্বের অন্যান্য কিছু আছর পড়ছে আমাদের মেয়েদের উপর, হয়তো শেষ পর্যন্ত পৌরুষের শ্রেষ্ঠতার ঘোষণাই দেয় সিরিয়ালগুলি, শেখায় ভোগ এবং কেনাকাটার সুখ তবু নিজেরে অন্তত একেকজন ‘ডিজায়্যারঅলা পার্সন’ হিসাবে ক্লেইম করতে শেখায় আমাদের মেয়েদের।

পরের ঘটনায়ও দ্যাখেন মেয়ের ‘ডিজায়্যার’ দেখা যাচ্ছে; আরো দেখা যাচ্ছে, মায়েদের জন্য নির্ধারিত সামাজিক ‘রোল প্লেয়িং’; ভবিষ্যতের বউ, ওই মেয়েরে ‘ডিজায়্যার’ চাপা দেওয়া শিখাচ্ছে মা; ওটাই এবং ওভাবেই শিখাতে বলা আছে মায়েদের; একইসাথে দেখা যাচ্ছে, এই সমাজে কৈশোর কেমন; কম বয়সীদের রাজি করাইতে শিখি নাই আমরা, কেননা আমরা পেইনের ব্যাকরণ জানি—আমাদের সমাজ ‘মাইর’ নামের সেরা ওষুধের ফার্মা কোম্পানি। আমরা নির্দেশ দিতে পারি ছোটদের, ছোটদের আমরা ভয়ের মধ্যে রাখতে পারি, পর্যাপ্ত ভয় উৎপাদন করতে পারলেই ওরা লাইনে থাকবে।

মেয়েদের এবং ছোটদের ইচ্ছাকে আরো বেশি পাত্তা দেবার সময় আসছে সমাজে– দুইটা ঘটনা সেই খবরটাই বেশি করে দিচ্ছে; ভারতীয় সিরিয়াল সেই সময় আগাইয়া আনলে আমি ধন্যবাদ দিবো ভারতীয় চ্যানেলগুলিকে।

পুরা ‘ডুবসাঁতার’-এর চাইতে খালি ‘মাধুরীর ঘাগড়া’য় পোয়েট্রি বেশি, এইটা মানার ভিতর দিয়া আর্টের ডেফিনিশন চেঞ্জ না করলে আমাদের দর্শক ফেরত পাওয়া যাবে না।

তারপর আমি দুঃখ পাবো; এবং ঈর্ষা করবো ভারতকে; আমার মনে খেদ তৈরি হবে আমাদের না পারা নিয়া। আমাদের মেয়েদের কাছে এতো আকর্ষণীয় সিরিয়াল এবং ফ্যাশন কিভাবে তৈরি করছে ওরা সেইটা ভেবে বিস্মিত হবো, আমাদের আর্টের অবস্থা নিয়া চিন্তিত হবো আমি; আমি শিখতে চাইবো; ঘেন্না করে করে বিদ্বেষের ঘরবাড়ি হইয়া উঠবো না আমি, আমার অক্ষমতার বিদ্বেষে অতিষ্ঠ করে তুলবো না আমাদের মেয়েদের জীবন।

তারপরে আমি খুঁজতে থাকবো আমাদের না পারার কারণগুলি; খুঁজে পাবোও। শুরুতেই আমি দেখতে পাবো—বোমা ছাড়া ভারতের সাথে পাকিস্তান কমপিট করতে পারছে কেবল মিউজিকে; দুই দেশের জনপ্রিয় মিউজিকের অভিন্ন গোড়া হিসাবে মোগল-দরবারী-সুফী মিউজিক ঘরানাকে দেখতে পাবো আমি; ‘বাঙালি’ হইতে যাইয়া মোগলে মুসলমানির গন্ধ পাইছিলাম আমরা; আমরা তখন ফার্সি এবং মোগল উচ্ছেদ করছিলাম আমাদের কালচার থেকে; ঠাকুর পরিবারের ব্রাহ্ম নৈতিকতায় আক্রান্ত হইয়া দরবারী নাচে বাঈজীর কোমর আর বুক দোলানির মাঝে অশ্লীলতা পাইছি আমরা; জীবন এবং আর্ট থেকে সেক্স উচ্ছেদ করলাম তখন; আমাদের নাচ তখন হইয়া উঠলো পায়ে তিনটা ঘন্টা লাগাইয়া চোখ টেপাটিপি আর হাতের আঙুল মটকানো। টপ্পারে অশ্লীল বলে নিষিদ্ধ করলাম; এইসব শুকনা সূচি আর শ্লীলতা এড়াইয়া যাত্রা থাকতে পারছিলো কতকটা, যাত্রায় ছোটলোকের অশ্লীল রুচি পাইয়া তাও উচ্ছেদ করলাম আমরা।

বেশি বেশি মোসলমান হইলাম কখনো; হিন্দু মিউজিশিয়ানদের ইন্ডিয়ায় চালান কইরা দিলাম, কবিদের চালান করলাম, পেইন্টারসহ অন্য আর্টিস্টদেরো। বাকিরা খুন হইলো পাকিস্তানের হাতে। শূন্য হয়ে গেল পদগুলি, অল্পবুদ্ধির কতগুলি লোক প্রধান ইন্টেলেকচুয়াল হইয়া বসলো, প্লেটোর অনুবাদক হইলেন দার্শনিক, ৫০ বছর আগের ফ্রেন্স নারীবাদের অনুবাদ করেও পথিকৃৎ-এর দম্ভ দেখতে হইলো এই দেশে; প্রধান কথা-সাহিত্যিক হইয়া বসলেন প্যানিকড মোহাজের আর সাধারণ বাংলাভাষীর না বোঝা মার্ক্সিস্ট ঔপন্যাসিক।

আমাদের মিউজিক এখন লালনপন্থি আর বিপ্লবীর কিলে বিপর্যস্ত; মিউজিক এনাদের কাছে কেঁচো, কথাগুলি বড়শি; কেঁচো মিউজিকের পেটের মধ্যে বড়শি ঢুকাইয়া মানুষরে মাছ হিসাবে ধরতে চাইছে; দার্শনিক লালনরে এমন ফিশারম্যান বানাইয়া ফেলছেন এনারা।

দুর্গার চুরি করা হারটা পুকুরে ফালাইয়া কচুরিপানা দেখছিলো অপু; কচুরিপানার মাঠে যেন একটা ফুটা করছিলো সেই হার, সেই ফুটা আবার বুজিয়ে ফেলছে কচুরিপানারা, পুকুরে তলাইয়া গেল দুর্গার কলঙ্ক। এখনো সেই অপুর পাশেই খাড়াইয়া আছেন আমাদের সিনেমা-মেকাররা। বাংলার বিউটিতে ক্যামেরা ধইরা বিহ্বল ফ্রোজেন সৌখিন হইয়া গেছেন, কাট করতে ভুলে গেছেন।

আর্টের এই শাখাগুলির এমন দশা হইলে নাটক-সিনেমা যেমন হইতে পারে তেমন অবস্থায়ই আছে। সিনেমার আরো আছে সত্যজিৎ আর সমাজ-সংস্কারের রোগ। দুর্গার চুরি করা হারটা পুকুরে ফালাইয়া কচুরিপানা দেখছিলো অপু; কচুরিপানার মাঠে যেন একটা ফুটা করছিলো সেই হার, সেই ফুটা আবার বুজিয়ে ফেলছে কচুরিপানারা, পুকুরে তলাইয়া গেল দুর্গার কলঙ্ক। এখনো সেই অপুর পাশেই খাড়াইয়া আছেন আমাদের সিনেমা-মেকাররা। বাংলার বিউটিতে ক্যামেরা ধইরা বিহ্বল ফ্রোজেন সৌখিন হইয়া গেছেন, কাট করতে ভুলে গেছেন। এইগুলারে আবার ‘ডিজিটাল’ নাম দিয়া বেচার ধান্দায় আছেন এনারা; ওদিকে আমাদের ঢালিউড মিডল ক্লাসের জন্য সিনেমা বানাবার সাহসই হারাইয়া ফেলছে। অনন্ত জলিল কিছু সাহস দেখাইছেন বটে, কিন্তু তার পুরাটাই প্রায় টেকনিক্যাল অর্থে সাহস, কনটেন্ট-এ মিডল ক্লাসের মুখ চাইয়া বানানো বলা যায় না। এর কারণ, সিনেমার জন্য দরকারি আর্টের অন্যান্য শাখায় মুন্সিয়ানা নাই, স্ক্রিপ্ট-মিউজিক-সিনেমাটোগ্রাফি, মেকআপ-ফ্যাশন কোনটাতেই মিডল ক্লাসরে মজা দেবার রসদ নাই দেশে। তবু অনন্ত জলিলের গুরুত্ব হইলো—বলিউড হইয়া হলিউড যাওয়ার সাথে সাথে হলিউডের লগে সরাসরি ইন্টারঅ্যাক্ট করার চিন্তাও করতে পারছেন উনি।

ভারত কিভাবে পারে বাংলাদেশের মেয়েদের ঘর-মন-জানলা দখল করা আর্ট পয়দা করতে তাও কতকটা বুঝবো; পুরাটাই হিন্দুত্বে ভরা হবার পরেও নরেন্দ্র মোদি তাঁর হিন্দু শ্রোতাদের সালাম দেন কেন—সেইটা বুঝতে চাইবো আমি; আমি দেখতে পাবো, মোগলী কাব্য-মিউজিক-নাচ কিভাবে হলিউডের তুলনায় বলিউডকে অনন্যতা দিচ্ছে, হলিউডের নিয়মিত নকলের পরেও; এবং একইসাথে ভারতের জনগণ বলিউডি মোগলকে খাইতে খাইতে কিভাবে ওই ‘সালাম’কেই আদি অর্থ থেকে সরাইয়া নতুন এক ‘সালাম’ বানাইয়া ফেলতে পারলো। ‘সালাম’ থাইকাও সে ‘নমস্তে’ এখন।

বলিউডি আইটেম সং বুঝতে চাইবো আমি; দেখবো, আইটেম সং কিভাবে দরবারী বাঈজী নাচের গণতান্ত্রিক ভার্সন; পেইন্টার দিয়া পোর্ট্রেট আঁকাইয়া বড়লোকের ঘরে চৌদ্দপুরুষরে ঝুলাইয়া রাখার আভিজাত্যরে ফটোগ্রাফি যেভাবে গণতান্ত্রিক কমোডিটি বানাইয়া ফেলে আইটেম সং তেমনই; আমি বুঝবো, আইটেম সং-এর সমালোচনায় রেপের মতো ঘটনার যেই যোগাযোগ দেখান অনেকে তা আসলে যৌন রক্ষণশীলতার ছল; বাঈজীর উইল এবং কনসেন্ট আইটেম সং যেইভাবে আপহোল্ড করে সেইটারে দেখবো আমি; বরং আগের বলিউডি-ঢালিউডি সিনেমায় ভিলেন নায়িকারে যে নাচাইতে বাধ্য করতো সেইটাই যৌন আক্রমণ শিখায়; যেই সমাজে বউয়ের ডিজায়্যারকে স্বামীর পাত্তা না দেওয়াটা অনুমোদিত সেই সমাজে যৌন-আক্রমণ সিনেমা দিয়া শিখাইতে হয় না; আইটেম সং বরং ওই স্বামীরে মাইয়াদের ইচ্ছাকে পাত্তা দিতে শিখাইতে পারতো।

ইন্ডিয়ার সিরিয়ালগুলিরেও বুঝবো আমি; দেখবো কিভাবে ওরা একেকটা ক্যারেকটার বিল্ড-আপ করে; এইটা স্ক্রিপ্টিং স্কিল; ভারত দুইটা জায়গা থেকে শিখছে এইটা; আমেরিকার ‘আগলি বেটি’ এবং ভারতের ‘জেসি য্যায়সা কোই নেহি’র যোগাযোগ মনে পড়বে আমার; একইসাথে রামায়ণ-মহাভারতে ক্যারেক্টার বিল্ডিং দেখবো আমি; দুইটা মিলে কিভাবে একটা ক্যারেক্টার তৈরি হইয়া পুরা সমাজরে তাঁর পিছে পিছে হাঁটায় সেইটা বুঝতে চাইবো আমি।

আইটেম সং কিভাবে দরবারী বাঈজী নাচের গণতান্ত্রিক ভার্সন; পেইন্টার দিয়া পোর্ট্রেট আঁকাইয়া বড়লোকের ঘরে চৌদ্দপুরুষরে ঝুলাইয়া রাখার আভিজাত্যরে ফটোগ্রাফি যেভাবে গণতান্ত্রিক কমোডিটি বানাইয়া ফেলে আইটেম সং তেমনই।

ভারতীয় সিরিয়ালে ডিটেইলিং বুঝতে চাইবো; বুঝবো, গল্পের চাইতে জীবন কিভাবে ছোট হইয়া থাকে সিরিয়ালে—এ কি মহাভারতের শিক্ষা? আমেরিকান সিরিয়াল থেকে এইখানেই আলাদা ভারতীয় সিরিয়াল; পর্বে পর্বে বা সিজন বাই সিজন আমেরিকান সিরিয়াল পরিষ্কার ভাগ থাকে। ভারতীয় সিরিয়ালে তাড়াহুড়া নাই কোন, আমি বুঝতে চাইবো, মেয়েদের মাঝে এইসব সিরিয়ালের প্রিয়তার সাথে ফিমেল সেক্সুয়ালিটির যোগাযোগ আছে কোন? এসব সিরিয়ালে ছেলেদের অস্থির হইয়া ওঠার সাথে মেল সেক্সুয়ালিটির? সেক্স নিয়া তাড়াহুড়া করতেই শেখে ছেলেরা এই সমাজে; মেয়েদের কি তাড়াহুড়া না করতে শেখায়? নাকি ফেমিনিনিটি এমনই সেক্সুয়ালি? ন্যাচারাল বা কালচারাল বা দুয়ের ডায়ালেকটিকস্—সেক্সুয়ালিটি বুঝতে হবে, একে ম্যানিপুলেট করে স্টোরি তৈরি করতে হবে আমার; যোগাযোগ থাক বা না থাক ডিটেইলিং-এর ফিমেল ডিমান্ড অ্যাকোমোডেট করতে পারতে হবে আমাদের; ফেমিলি বুঝতে হবে, ফেমিলির রাজনীতি, টানাপোড়েন, ঝগড়া, কুটনামি, প্রেম কিভাবে একসাথে দলা পাকাইয়া থাকে সেইটা বুঝতে হবে। খালি বরিশাল-নোয়াখালি-সিলেটের ভাষায় কথা বলা তিনটা ক্যারেক্টার দিয়া কমেডি বানাইয়া পর্যাপ্ত এন্টারটেইনমেন্ট দেওয়া যাবে না।

পুরা ‘ডুবসাঁতার’-এর চাইতে খালি ‘মাধুরীর ঘাগড়া’য় পোয়েট্রি বেশি, এইটা মানার ভিতর দিয়া আর্টের ডেফিনিশন চেঞ্জ না করলে আমাদের দর্শক ফেরত পাওয়া যাবে না।

২৩-২৯ জুলাই ২০১৪

আগের/পরের পর্ব<< হেলমেট দিয়ে ছোটলোক খেদানডিলিং উইথ সোসাইটি: কোলকাতা, মুম্বাই আর ঢাকা >>
শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
রক মনু

রক মনু

কবি। লেখক। চিন্তক। সমালোচক। নিউ মিডিয়া এক্সপ্লোরার। নৃবিজ্ঞানী। ওয়েব ডেভলপার। ছেলে।
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.