Main menu

মনুর এক গোছা কবিতা

———————————

।। তুষারের দড়ি ।। টিভি ।।  ফোরপ্লে ।। সাবান ।। চলো প্রেমিক, বিয়া করি ।।  দিনদুনিয়া ।। বাছুরেরা ।। স্মার্টফোন ।। গোস্বা ।। খাড়াইয়া থাকা নদী… গরম ।।

———————————

তুষারের দড়ি

সোনাবন্ধু, তুষার চেনো নাকি? আমি তো চিনি না!
শুনছি কুয়াশার চাইতেও ঘন,
তুলার মতো নরম–
গুড়া গুড়া বরফ,
সাদা সাদা
একলগে অযুত কোটি।
গায়ে গা লাগাইয়া শুইয়া থাকতে চায় তারা
শীতের দুনিয়ায়!
আসমান থিকা কাতারে কাতারে নামে তাই
গাছের পাতায়,
ছাদে,
পুকুরের ঘাটে,
মাঠে মাঠে,
গাড়িচাপায়
মরা কুত্তাটারে বিছানা বানায়!
তোমারে বান্ধিবো বন্ধু
সেই তুষারের দড়ি দিয়া!
বিদেশি দড়ি সোনাবন্ধু
তোমার আলতো বেখেয়াল টানেও
ছিড়া যাইতে চায়…!
হইতে কি পারবা বন্ধু অইটুক বেখেয়াল,
তোমারে যে বান্ধিলাম তুষারের দড়িতে!
তুমি কি পারবা বন্ধু ছিড়া যাইতে
আমার পিরিতের তুষারদড়ি!

১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

 

টিভি

টিভির লগে খাপে খাপ তুমি–
১০ মিনিট পর পর
একই কথা
১ মাস…
না শুনলে মগজে ঢোকে না তোমার,
কানের পাশ দিয়া যায়।
যে তোমারে যতই হক কথা কইতেছে–
একবার যদি কয়
দুইবার যদি কয়…
পরশ পায় না তোমার–
তুমি তো টিভির লগে খাপে খাপ,
তুমি তো
ক্রিকেটের ওভারের মাঝে
একই অ্যাড দেখা লোক–
সাড়ে ৩ ঘন্টায় ৫০ বার।
ভাবছো ইগোতে লাগবে আমার,
গোস্বা কইরা চুপ মারবো?
তোমার দশা দেইখা মন খারাপ করবো?
ভাইঙ্গা ফেলবো তোমার টিভি?
কর্পোরেট হেডকোয়ার্টারে ঘুষি মারবো দুইটা?
মনের দুঃখে দড়ি লইয়া
জাফর ইকবাল হইয়া যাবো?
না, নো, নেহি।
মিনিটে মিনিটে কইতে থাকবো আমি,
আমার ভলিউমের রিমোট নাই তোমার হাতে,
তোমার কানের কাছে আমার মুখ যায়,
তুমি ঘুমাইয়া পড়লেও
গুতা দিবো আমি,
কইতে থাকবো–
১ মাস, বছর, জিন্দেগি।
আরো বড়ো টিভি হবো আমি
কার্ভি স্ক্রিন
এইচডি
থ্রিডি–
কারেন্ট যায় না আমার,
আইসি পোড়ে না।
জগতের কয়লাগুলা যদি হীরা হইয়া যায়,
ইন্ডিয়ান কনফেডারেশন যদি ভাইঙ্গাও যায়,
রাশিয়া যদি ইউক্রেনের দখলে চইলা যায়,
না হয় যদি রূপপুর-রামপাল…
মিনিটে মিনিটে
এই টিভি তবু চলবে।

২২জুন ২০১৭

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

মাস্টারবেশন, সাইকোলজিক্যালি আনহেলদি সোসাইটি, সেক্সপার্টনার ইত্যাদি

শাহাদুজ্জামান :… আপনার লেখায় কিন্তু নারী পুরুষের সেক্সের চেয়ে মাস্টারবেশনের ব্যাপারটা রিপিটেডলি এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস : হ্যাঁ, মাস্টারবেশনকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। কারণ, এর ভেতর দিয়ে আমি সোসাইটিকেই দেখি। যে লোকটা মাস্টারবেট করছে সে একজন লোনলি ম্যান এবং আনহেলদি ম্যান এবং হি ইজ দি প্রোডাক্ট অব এন আনহেলদি সোসাইটি।

শাহাদুজ্জামান : কী রকম?

ইলিয়াস : আমি বলছি, সে লোকটা সাইকোলজিক্যালি আনহেলদি, কারণ সেক্স তোমার এমন একটা ব্যাপার, যেখানে ইউ নিড এ পার্টনার। যে লোকটা মাস্টারবেট করছে, মানে তার পার্টনার নাই। অথবা হি ইজ ইনকেপাবল অব হ্যাভিং এ পার্টনার, অন্তত পার্টনার নেয়ার ক্ষমতা তার আছে তা নিয়েও সে দ্বিধান্বিত। সে টোটালি একজন লোনলি মানুষ। সোসাইটিতে তার ইউজুয়েল সেক্সের সুযোগ নাই।

শাহাদুজ্জামান : কিন্তু সব সোসাইটিই তো আর সেক্স ফ্রি নয় যে চাইলেই পার্টনার পাবে।

ইলিয়াস : সোসাইটি ইজ নট ফ্রি, দি সোসাইটি ইজ নট হেলদি ইভেন। একটা সিক সোসাইটিতে প্রাপ্তবয়স্ক লোকে মাস্টারবেট করে। তবে এটা কিন্তু ঠিক ফ্রি সেক্সের ব্যাপার না। বহু ম্যারিড লোকেও মাস্টারবেট করে। মানে, ঐ কাজটা করে হয় তার কোনো পার্টনার নাই কিম্বা যে পার্টনার আছে তার সঙ্গে কোনো ইনভল্বমেন্ট নাই। ইন হিজ ডিপ ইনসাইড নিঃসঙ্গতা আছে। সে সব অর্থেই একজন পার্টনারলেস ম্যান। একটা সিক সোসাইটিতে মানুষের এ অবস্থা হয়। আমেরিকার মানুষেরা মাস্টারবেট করে। আমার তো মনে হয়, কিছু মনে করো না, গরভাচেভও এখন মাস্টারবেট করে, কারণ এখন সে একটা সিক সোসাইটি তৈরি করার হোতা।

================================

 

তো ইলিয়াসের মত লইলাম আমরা, আপাতত আমরা মানলাম যে, মাস্টারবেশন হইলো ‘ইউজুয়াল (আইডিয়াল/সহি) সেক্সের’ অল্টারনেটিভ। শরিক জোগাড় করতে পারে না বইলা লোকে মাস্টারবেট করে এবং মাস্টারবেশন হইলো সাইকোলজিক্যালি আনহেলদি।

আমরা তাইলে দুয়েকজন ‘সাইকোলজিক্যালি’ হেলদি মানুষ তালাশ করি। মানুষ, নাকি পোলা মানুষ! ইলিয়াস বারবার ‘ম্যান’ কইতেছেন, মাইয়াদের মাস্টারবেশনের কোন আইডিয়া আছিল না তার! নাকি ‘ম্যান’ দিয়াই উনি পোলা-মাইয়া-হিজড়া সব বুঝাইয়া ফেলছেন! জানি না; ওকে, আগাই।

নিউজ২৪ চ্যানেলের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার (আওয়াজ কারিগর) আরমান হোসেন সুমন ইলিয়াসের হিসাবে সাইকোলজিক্যালি হেলদি একজন পোলা হবার সম্ভাবনা। এক মহিলারে উনি বিয়ার জন্য (পার্টনার) জোগাড় করতে পারছিলেন ১০ বছর আগে। পরে এই এক পার্টনারে তার হইতো না মনে হয়, বা ভালো লাগতো না হয়তো। কিন্তু উনি ইলিয়াসের হিসাবে হেলদি থাকার দরকারে ঐ মহিলার আগের ঘরের মাইয়ারে রেপ করেন, এবং পরের ৮ বছর ‘হেলদি’ রেপ চালাইয়া যান। এই মাইয়ার সাইকোলজিক্যালি হেলদি মা তার স্বামীকে হেলদি রাখার দরকারে নিজের মাইয়ারে স্বামীর রেপে মদদ দিছেন। ৮ বছর ধইরা এমন দুইজন পার্টনার পাওয়ায় সুমন মনে হয় মাস্টারবেট না কইরা সাইকোলজিক্যালি হেলদি থাকতে পারলেন। মানে, ইলিয়াসের হিসাবে পার্টনার জোগাড় করতে পারায় তার তো আর মাস্টারবেট করার কথা না।

এমন হেলদি প্রায় ৫০ কোটি পোলা আছে ভারতে, যারা সাইকোলজিক্যালি হেলদি থাকার দরকারে বউকে রেপ করেন। মানে ভারতে এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০% স্বামী নিজের বউকে রেপ করেন। তাইলে ভারতে দেখা যাইতেছে, পার্টনার জোগাড় করতে পারলেই হইতেছে না, পার্টনারদের মেজাজ-মর্জির টাইমিং হইতেছে না, স্বামীরা তখন আনহেলদি মাস্টারবেট না কইরা হেলদি রেপ করে। বাংলাদেশে জরিপ হইলে ভারতের মতোই কয়েক কোটি হেলদি স্বামী পাওয়া যাইতে পারে।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

চার্লস বুকোউস্কি’র কবিতা

১.
বুকোউস্কি’র কবিতা’তে একটা প্লেজার আছে এই স্টেটম্যান্ট দিতে পারার ভিতর যে, আমি তো খারাপ! মানে, উনার এই গিল্টি ফিলিংসটা যে নাই, সেইটা না; খুব ভালোভাবেই আছে, কিন্তু উনি যে ‘খারাপ’ এইটা বলার ভিতর দিয়া উনার খারাপ-হওয়াটা মাইনা নেয়ার স্পেইসটা ক্রিয়েট করতে পারতেছেন উনি; যে, আমি তো খারাপ! এই খারাপ হওয়াটা এতোটা খারাপও না আসলে, কারণ একটা ‘ভালো’ হওয়ারে অ্যাজিউম করে এই খারাপ-হওয়াটা যেই ‘ভালো’ এতোটা ভালো কিনা শিওর না, হয়তো যে ভালো সে খারাপ-ই, কিন্তু নিজেরে শে/সে বলতে পারে না; অথচ যে খারাপ, খারাপ হইলেও বুক ফুলায়া বলতে পারেন খারাপ, তখন মনে হইতে পারে এতোটা খারাপ না মেবি! মানে, উনি বলেন না, কিন্তু এইটা ইমপ্লাই করেন তো, বলার ভিতর দিয়া। বলাটা ‘খারাপ’ না অবশ্যই, কিন্তু একটা খারাপ-ভালো’র ভিতর এই যে আটকাইতে পারা – এইটাতে সাবস্ত্রাইব করাটাও টাফ তো আসলে। ‘আধুনিক’ একটা ব্যাপার। তো, বুকোউস্কি শেষমেশ, ‘আধুনিকতা’র ডিলেমার মধ্যেই আটকায়া থাকেন। ওই ডিলেমার একটা এক্সট্রিম এক্সপ্লোরেশন হয়তো।

অথচ প্রেম ভালোবাসা তো এমনেই অনেক প্রেসিয়াস জিনিস, কিন্তু দুনিয়াটা যখন খারাপ বা ভালো তখন ভালোবাসা টাইপ জিনিসগুলি আরো দামি হইয়া উঠতে পারে তো!

২.
শক্ত-পোক্ত প্রেমের কবিতাগুলিই স্ট্রেংথ চার্লস বুকোউস্কির। ব্যাপারটা হইতেছে যে, কোন না কোন কবি’র ওয়ার্ল্ড থিকাই আমরা বাইর হয়া আসি না, বরং নিজেদেরকে আমরা যেইখানে প্লেইস করতে পারি, দেখি যে, আরে, কোন না কোন কবি এইভাবে বইলা রাখছেন তো আগে! বলতে-পারাগুলি’র সাথে আমরা মিলাই আমরা আমাদেরকে। একটু এইদিক-সেইদিক হয় মনেহয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই কবিতার রিয়ালিটির জুতায় সবচে ক্লোজলি আটাইতে পারি আমরা আমাদের ফ্যাণ্টাসিগুলা।

তবে বুকোউস্কির রিয়ালিটির টাইমটা পার হইছে মনেহয়। কবি হিসাবে নিজেরে সেন্টার পয়েন্টে তো রাখতেই হয়, কিন্তু যেই পাগলা, আন-সোশ্যাল, ক্র্যাক লোকটারে উনি রাখেন সেন্টারে, সে তার পাগলামি, রেভিউলেশন, ক্রাংকিনেসের ভিতরে যে নিজেরে সুপিরিয়র ভাবতে পারার এজেন্ডারে আপহোল্ড করতে পারে, সেইটা মেবি টাফ এখন। পসিবল না যে তা না। কিন্তু এই ফ্যাণ্টাসিগুলা তো ফেড-ই হইছে; যেমন সিক্সটিইজের হিপ্পিদের ফটো দেখলে যতোটা না ড্রিমি-বিপ্লবী তার চাইতে বিষন্নতার রোগী-ই লাগে কিছুটা। ওইরকম।

৩.
একটা বাদে (এক্সিলেটরে দেখা মেয়েটা) বাকি সব কবিতার ক্ষেত্রে “অ্যা চালর্স বুকোউস্কি রিডার” (হার্পার কলিন্স ১৯৯৩) বইয়ের টেক্সট ফলো করা হইছে।
—————————————————————

ফায়ার স্টেশন ।। যেই রাতে অরা হুইটনি’রে নিয়া গেলো ।। রেইন ।। হট ।। জেনের লাইগা: আমার যতো প্রেম আছিলো, যা এনাফ আছিলো না: – ।। জেনের লাইগা ।। মিনিস্কার্ট পরা মাইয়াটা আমার জানালার বাইরে বইসা বাইবেল পড়তেছে ।। কোনো ঝামেলা নাই ।। কেউ একজন ।। গোসল করা ।। আমি প্রেমে পড়ছি ।। বৃষ্টিতে ভিজা ফুলের মতোন ।। চুদায়া মুড়ি খাও ।। জাঙ্ক ।। আর্ট ।। রাস্তার বিলবোর্ডে একজন পলিটিক্যাল নেতার চেহারা ।। অলমোস্ট বানানো একটা কবিতা ।।  এক্সিলেটরে দেখা মেয়েটা ।। আমার আছে একটা নীল পাখি ।।

————————————————————–

 

ফায়ার স্টেশন

(জেনি’র লাইগা, ভালোবাসাসহ)

আমরা বার থিকা বাইর হয়া আসলাম
কারণ আমাদের টাকা শেষ হয়া গেছিল
কিন্তু আমাদের রুমে
কয়েকটা ওয়াইনের বোতল আছিলো।

বিকাল ৪টা বাজে তখন
আর আমরা একটা ফায়ার স্টেশন পার হইতেছিলাম
আরে শে শুরু করলো
ক্রেজি হওয়া:

“একটা ‘ফায়ার স্টেশন’! ওহ, আমি খুবই পছন্দ করি
ফায়ার ইঞ্জিনগুলি, অরা এতো লাল আর
সবগুলি! আসো ভিতরে যাই!”

আমি ওরে ফলো করলাম
ভিতরে। “’ফায়ার ইঞ্জিন’!” শে চেঁচায়া উঠলো
তার বড় পাছা
নাচায়া।

অলরেডি শে ট্রাই করতেছিল একটাতে
উঠার, তাঁর স্কার্ট ধইরা শে কোমরে তুইলা
কাঞ্চি মাইরা বসার ট্রাই করতেছিল
সিটের উপরে।

‘খাড়াও, খাড়াও, আম্‌মারে হেল্প করতে দাও’ এক ফায়ারম্যান দৌড়াইয়া
আইলো।

আরেক ফায়ারম্যান হাঁইটা আইলো
আমার কাছে: “আমাদের নাগরিকদের আমরা সবসময় ওয়েলকাম জানাই,”
সে কইলো
আমারে।

অন্য বেটা’টা সিটের উপ্রে বইসা ছিল তাঁর
লগে। “তোমার কাছে কি ওই একটা বড় ‘জিনিস’ আছে?”
শে জিগাইলো তারে। “ওহ, হাহাহা! আমি বুঝাইতেছি ওই
বড় ‘হেলমেটগুলির’ কথা!”

“আমার নিজেরও একটা বড় হেলমেট আছে তো,” সে কইলো
তাঁরে।

“ওহ, হাহাহা!”

“তুমি কার্ড খেলতে পারো?” আমি জিগাইলাম ‘আমার’
ফায়ারম্যানরে। আমার কাছে ৪৩ সেন্ট ছাড়া আর টাইম ছাড়া
কিছুই নাই। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য