Main menu

এডিটোরিয়াল: শাসনের মুসাবিদা

সেক্সে কনসেন্ট বা কবুল করা যেমন, শাসনে তেমন ভোট। সেক্সে কনসেন্টকে পাত্তা না দিলে যেসব কন্সিকোয়েন্স ঘটে, শাসনে ভোটের পাত্তা না থাকলে তেমন সব ফল পাইতে থাকি আমরা। শাসনে জনতার কবুল করার নাম ভোট। ফোটা ফোটা পানি আর দরিয়ার রিশতার মতোই সেক্স আর শাসনের রিশতা।

এক ফোটা নষ্ট পানি দরিয়া নষ্ট করতে পারে না, কিন্তু দরিয়া নষ্ট হইলে পানির ফোটাগুলা আস্তে আস্তে নষ্ট হইতে থাকে। সেক্সে কবুলকে পাত্তা না দেবার একটা দুইটা ঘটনা পানির নষ্ট কয়েকটা ফোটা, শাসনে জনতার কবুল না থাকা বা ভোট না থাকা হইলো পুরা দরিয়া নষ্ট। তাই দেখবেন, যেই দল জনতার কবুল করায় যত কম পাত্তা দেয়, সেই দল গদিতে থাকলে সরকারি লোকেরা তত বেশি রেপ করে। স্ট্যাটিসটিক্স মিলাইয়া দেখেন।

সমাজ যখন সেক্সে কবুল করারে পাত্তা দেবে না, তখন ভালোর বদলে শক্তির ইজ্জত বাড়তে থাকে; রেপ তখন গর্ব করার মতো খমতা। শাসনে ভোট বা জনতার কবুল না থাকলেও একই ঘটনা ঘটে; ভালোর বদলে শক্তি আর খমতার ইজ্জত বাড়ে। সেই খমতা দেখাইতে রেপ করতে হয় তখন; আপনাদের মনে পড়বে, সরকারি মাইয়ারা অন্য মাইয়ারে রেপ করাবার হুমকি দেয়, কোটা মুভমেন্টের এক মাইয়ারে ফেসবুকে রেপের হুমকি দেবার ঘটনা আছে। হিল ট্রাক্টস-এ এক চাকমা মাইয়া বই লিখছিল, জবাবে তারে রেপের হুমকি দেবার ঘটনা আছে।

মানুষের লগে আর সব পশুপাখির ফারাক কই? কালচার-ভাষা-সমাজ? না। শিম্পাঞ্জিদের সমাজ-ভাষা-কালচার আছে। ডিপ্রেশন? না। লবস্টারদের ডিপ্রেশন আছে বইলা দেখছেন কানাডার সাইকোলজিস্ট জর্ডান পিটারসেন। লবস্টারদের উপর এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট ড্রাগ মানুষের মতোই কাম করে, জানাইছেন উনি। তাইলে কি?

গ্যাঙ রেপ!

মানুষ এই ব্যাপারে ইউনিক। মাছ বা কুত্তা বা বান্দরেরা গ্যাঙ রেপ করে না। রেপ করতে যেমন হাত লাগে, তেমন হাত কেবল মানুষেরই আছে; কিছু বান্দরের থাকতে পারে, কিন্তু ঐ সব বান্দর সমাজে কিছু রেপ থাকলেও গ্যাঙ রেপ নাই। গ্যাঙ রেপের জন্য দরকারি ডেভলাপড হুশ/কনসাসনেস/কালচার মানুষেরই আছে কেবল! কেমন মানুষের হুশ আর কালচারের এই দিকটা?

এই ব্যাপারে বোঝাবুঝির দরকারে আপনে মানুষের ইগো’র লগে আর সব মাকলুকাতের ইগো’র তুলনা করতে পারেন; টাসকি খাবার মতো ব্যাপার পাইবেন মনে হয়!

মানুষের ইগো নাকি কুত্তা বা বিলাই বা বাঘের ইগো বেশি পাওয়ারফুল? পোষা কুত্তা-বিলাই’র মাঝে হামেশাই জেলাসি পাইবেন, আপনের পোষা বিলাই হিংসা করতে পারে আপনের নাগর বা বাচ্চারে। মানুষের মাঝেও জেলাসি বা হিংসা (এইখানে একটা নোকতা দেবার দরকার আছে–ভারতের মহাত্মা গান্ধির ছাও না হইলে জেলাসির বাংলা হিসাবে হিংসা পাইবেন বাংলায়, ছাও হইলে ভাববেন, হিংসা মানে খুনাখুনি; ‘হিংসুইটা’ শব্দটায় আরো সাফ সাফ বোঝা যাইতেছে।) দেখা যায়।

তো, এই হিংসা হইলো ইগোর ফেনা। মানুষ নিজের হিংসা উতরাইয়া উঠতে পারে প্রায়ই, পশুরা ততোটা পারে না বইলাই আমার আন্দাজ। আমাদের মনে হইতে পারে, এইটা আলবত মানুষের গুণ, আশরাফুল মাকলুকাত হবার আরেকটা কারণ। কিন্তু মানুষের এই গুণেরই আরেকটা নেসেসারি ফল হইলো গ্যাঙ রেপ! ঠিকই পড়ছেন, এইটাই লিখছি আমি :)।

দুইটা পোলা ক্যাঙারু মারামারি করে, মাইয়া হয়তো একটু দূরে বইসা ওয়েট করতেছে, দুই পোলার যে জিতবে তার লগে সেক্স হবে; এমন মারামারি আছে পোলা বান্দর বা গরুদের মাঝেও মনে হয়। এনারা যদি ক্যাঙারু বা বান্দর বা গরু না হইয়া মানুষ হইতো তাইলে হয়তো মারামারি না কইরা গ্যাঙ বানাইতে পারতো, গ্যাঙ রেপ করতে পারতো। আপনে কইতে পারেন, দুই পোলা মানুষও কোন এক মাইয়ার ইস্যুতে এমন মারামারি করে! করে। কিন্তু আমার পয়েন্ট হইলো, পোলারা এমন মারামারি করলেও পেরায়ই আমরা গ্যাঙ রেপের নিউজ পড়ি, শুনি, ঘটে। কিন্তু পশুদের বেলায় এমন গ্যাঙ রেপ একদমই নাই! পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

ফাইজলামির পলিটিক্যাল ইকোনমি

মনে করা যাক, আপনার মন খারাপ। খুব মন খারাপ। বিষাদমাখা একটা স্ট্যাটাস দিলেন। দেখতে চাইলেন বন্ধুরা সিম্প্যাথেটিক কিনা আপনার প্রতি। হইলেও কতটুকু।

অথবা এসব কিছু না ভেবেই এমনি বিষণ্ণ কিছু লিখলেন।

অনেকে কৌতূহলী কমেন্ট করলো। কেউ জানালো সমবেদনা।

কিন্তু এগুলার মধ্যে যেইটা আপনার নজরে বিশেষভাবে পড়বেঃ বন্ধুদের মধ্যেই কেউ হয়তো কমেন্ট করে বসলোঃ

দোস্ত, হালকা মুতে শুয়ে পড়!

কী করবেন আপনি?

কিংবা ধরেন, , সিরিয়াস কোনো বিষয়ে আপনি অনেক পরিশ্রম করে একটা লেখা লিখলেন।

জনৈক কমেন্ট করলোঃ

অসম্ভব ভালো লিখেছেন। এক কথায় অনবদ্য। বহুদিন পরে একটা ভালো লেখা পড়লাম। রবীন্দ্রপরবর্তী যুগে এরকম লেখা আর আসেনি। উত্তরাধুনিক ভাবসম্পন্ন এই লেখাটি শুধু যে মৌলিক, প্রাসঙ্গিক ও সময়-উপযোগী তা-ই নয়, একেবারে সমস্যার মূলে কুঠারাঘাত করেছেন।

তৃতীয বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে আমরা যখন সাম্রাজ্যবাদীদের চোখ রাঙ্গানো আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হয়ে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে; ঠিক তখনি, ঠিক সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আপনার এই পোস্টের মাঝে আমি খুঁজে পাচ্ছি অন্ধকার ঠেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভবনা আর বিদেশী বেনিয়াদের কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব গ্রহন করার বিপক্ষে একটি সুক্ষ্ম বার্তা। ( বাংলায় এই ভারবোজ রেডিমেড কমেন্টগুলি নতুন ঘটনা না , গুগল করে দেখলাম সবচেয়ে পুরনোটা অন্তত ২০০৮ সালের আগে। এই কমেন্টের স্রষ্টার একটা পুস্কার পাওয়া ফরজ)

তখন আপনার কেমন লাগবে?

বিরক্তি, রাগ, ক্রোধ যাই হোক না কেন আপনাকে হজম করতে হবে। দুইটামাত্র অপশন আছে আপনার হাতে।

এক, হে হে করে, ইমো দিয়ে আপনিও মজা পেয়েছেন এমন একটা ভঙ্গি নিতে পারেন।

দুই, চুপ মেরে যেতে পারেন।

এর বাইরে কিছু করতে গেলে নিজেকেই বিব্রত করে ফেলবেন। ফাইজলামিকে গাম্ভীর্য বা কোনো প্রকার র‍্যাশনাল আর্গুমেন্ট দিয়ে মোকাবেলা করা যায় না।

ফাইজলামির একটা সীমা আছে, – খুবই কমন একটা কথা। বলা হয় সাধারণত ফাইজলামিতে বিরক্ত হয়ে। কিন্তু বাস্তবে, ফাইজলামির কোনো সীমা পরিসীমা নাই।

দুঃখের আছে, শোকেরও। তুর্কি কবি নাজিম হিকমতের ধারণা, শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর। ফাইজলামির কোনো সীমা নাই। বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য আছে ফাইজলামির।

ফাইজলামি শব্দটারে প্রশস্ত অর্থেই ব্যবহার করতেছি আমি। ননসিরিয়াস, হিউমারাস, ঠাট্টামূলক এক্সপ্রেশন ইত্যাদি অর্থের ক্লাস্টার হিসেবে ফাইজলামি শব্দটাকে ধরে নিতেছি।

এমনকি খুব সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করলে, ‘ফাইজলামি’ শব্দটাই ‘ফাজলামি’ বা ‘ফাজলামো’ শব্দের চাইতে একটু হলেও বেশি ‘ফাইজলামি’-বোধ সম্পন্ন! মানে হালকা। কিঞ্চিৎ গাম্ভীর্যলেস। যেমন, ‘হোসাইন’ নাগরিক কানে ‘হোসেন’-এর চেয়ে একটু হলেও স্মার্ট মালুম হয়। যেমন হাছান এর চেয়ে হাসান বানানটা স্মার্ট লাগে।

ফাইজলামির যে আর্থো-রাজনৈতিক মূল্য আছে, বুঝতে পারবেন যখন শুনবেন সিআইএ-রও অফিসিয়াল টুইটার একাউন্ট আছে এবং প্রথম সেলফ-ডেপ্রিসিয়েটিং টুইটটা হলোঃ
We can neither confirm nor deny that this is our first tweet.

যারা দুনিয়ায় গুম খুন করতে ওস্তাদ, শত্রুদের নিকেশ করে দেয়ার চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত, তাদেরকেও ফাইজলামির সুর ধরতে হয়। সিরিয়াসনেসরে চেপে রেখে হিউমারাস একটা ভয়েস আরোপ করতে হয়। তাহলে বোঝেন আমি এই নন-সিরিয়াসনেস, যাকে আমি বলতেছি ফাইজলামি, কতখানি গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠছে। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

মি. কফি আর মি. ফিক্সিট – রেমন্ড কার্ভার

২০১৬ সালে অনুবাদ করছিলাম এই গল্পটা। রেমন্ড কার্ভারের “হোয়াট উই টক অ্যাবাউট হোয়েন উই টক অ্যাবাউট লাভ“ বইয়ে এই গল্পটা আছে।

উনার গল্পগুলি একটানে লেইখা গেছেন উনি। এডিট-টেডিট করতেন না মনেহয় তেমন একটা, তো, এইভাবে লিখলে যা হয়, ট্রাশও থাইকা যায় অনেক। উনার এডিটর গর্ডন লিস তো কইছেনও যে, উনি এডিট না করলে কার্ভারের গল্প কেউ খেয়ালও করতো না। এডিটিং হয়তো উনার ফিকশনরে মোর রিডেবল করছে, কিন্তু এক রকমের  “আম্রিকান ড্রিম” বা “অ্যাংগুইশ” যে আছে, সেইটা উনার নিজের আবিষ্কার বইলাই মনে হইছে। 

আমাদের “গুরু-গম্ভীর” ফিকশন রিডিংয়ের এক্সপেরিয়েন্সের কাছে এই প্যাটার্নটারে অনেকটা “পাতলা” জিনিস বইলা মনে হইতেই পারে, কিন্তু আমার আশা আছে, কেউ কেউ ভারী বা পাতলা ভাবার বাইরে এই প্যাটার্নটারে এনজয়ও করতে পারবেন, অনেকবেশি। যেইটা হয়তো শেষমেশ “আম্রিকান” ব্যাপারই আবার। :)

ই. হা. 

………………………………………………………………………………….
আমি কিছু দেইখা ফেলছিলাম। আমি আমার মা’র বাড়িতে গেছিলাম কয়েকদিন থাকার লাইগা। কিন্তু যখন আমি সিঁড়ির উপ্রে উঠলাম, আমি তাকাইলাম আর শে সোফাতে বইসা একটা লোকরে কিস করতেছিল। এইটা ছিল গরমের সময়। দরজাটা খোলা ছিল। টিভি চলতেছিল। এইটা এইরকম একটা জিনিস যা আমি দেইখা ফেলছিলাম।

আমার মা’র বয়স পয়ষট্টি। শে সিঙ্গেলস ক্লাবের লোক। তারপরও, এইটা ছিল বেশ কঠিন। রেলিংয়ে একহাত দিয়া আমি দাঁড়ায়া ছিলাম আর দেখতেছিলাম লোকটা তারে কিস করতেছে। শেও তারে পাল্টা কিস করতেছিল, আর টিভিটা চলতেছিল তখন।

জিনিসগুলি এখন বেটার। কিন্তু আগের দিনে, যখন মা আমার খোঁজ-খবর নিতো না, আমার চাকরি ছিল না। আমার বাচ্চাগুলি ছিল বদমাইশ, আর আমার বউটা বদমাইশ আছিলো। শেও আমার কোন খোঁজ-খবর নিতো না। শে যেই বেটার খোঁজ-খবর রাখতো সে আছিলো একটা বেকার অ্যারো-স্পেইস ইঞ্জিনিয়ার। ওই বেটার সাথে বউয়ের দেখা হইছিল AA’র  মিটিংয়ে। সে ছিলো আরেকটা বদমাইশ।

আমি জানি না ওই দিনগুলিতে আমরা কি কি ভাবতাম।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য