Main menu

ফিকশন: নাম জানা নাই (২)

কিস্তি ১।।

 

 

র‌্যাবের হাতে হিমু গুম?

ভাবতেছিলো রূপাও তখন, কি করবে সে? রূপার চোখ খোলা, কিন্তু শে যেন কিছুই দেখতে পাইতেছে না, দেখতে চাইতেছে না। খোলা চোখে কোথায় জানি তাকায়ে আছে। ঘুম নাই। পুরা এক বোতল নিদ্রাকুসুম তেল মাথায় ডইলা ডইলা মাখলেও তাঁর ঘুম আসবে না।

এইরকম একজন রূপবতী মেয়ে রাত দুইটার সময় মগবাজার থানায় বইসা আছে এইটা থানার পুলিশদের কাছে একটা বিরাট ঘটনা। মাথার উপরে টঙ্গী ন্যাশনালের সিলিং ফ্যান ঘুরতেছে, তারপরও ওসি অপু বন্দোপাধ্যায় দরদর কইরা ঘামতেছেন। কাজ থাকলেও কেউ উনার রুমে যাওয়ার সাহস করতে পারতেছে না এখন। কারণ তাঁর সামনে শিরদাঁড়া সোজা করে রূপা বইসা আছে। পিছন থিকা তাঁর বাদামি কাঁধের উপর জমে থাকা শাদা ঘামের রেখা দেখা যায়। ঢাকা ইউনির্ভাসিটি’র ইয়াং মুসলিম ইন্টেলেকচুয়াল আবদুল্লাহর জন্য তাঁর এই বইসা থাকা।

প্রথম বউয়ের সাথে ডির্ভোসের রায় হওয়ার আগেই সে রূপারে বিয়া করছে এই অভিযোগ কইরা কেউ তারে গ্রেফতার করাইছে। যেহেতু সে সরকারের সমালোচনা করে এইজন্য হয়তো কেউ এই কাজ করছে। এইটা যে কেউই ভাবতে পারে। কিন্তু সে জানে এইটা না-ভাবার পক্ষে অনেক যুক্তি আছে। এইরকম কিছু হওয়ার কোন কারণই নাই।

দৈনিক এনলাইটমেন্ট গ্রুপও এই কাজ করার কথা না। কেন করবে না এইটা সে ভাবনার মধ্যেও আনতে চায় না। এইটা এতোটাই গোপন যে কখনোই এই বিষয়ে কথা না বইলাও উনারা জানেন সেইটা। সবচে যেইটা অবভিয়াস সেইটা গোপনই থাকে একরকম, নাবলা প্রেমই যেমন সবচে গভীর প্রেম, এইরকম একটা ব্যাপার। এইখানে অবশ্যই তাদের নিজেদেরকে নিজ নিজ রোলটা প্লে করতে পারতে হবে। নাজানা পারসপেক্টিভেই জানা ঘটনাগুলা ঘটতে থাকবে। সামনে অপেক্ষা করতেছে নয়া দিন, নয়া জীবন। সোভিয়েত রাশিয়া’র উদয়ন পত্রিকার ইমেজগুলার মতো চকচকা। সরকারের মন্ত্রীদেরও সেইটা না-জানা থাকার কথা না। একটা সিস্টেম’রে সাসটেইন করতে হইলে একটা লেভেলে সমালোচনা’রে নিতে পারতে হয়, চালু রাখতে হয়। এইটা সবাই বুঝে; এইটার বেনিফিট সবাই পায়। সুতরাং এইটা তাঁদেরও কাজ না। 

এর উপরে, তাঁর প্রথম বউয়ের সাথে ডির্ভোসের ব্যাপারটা ফাইনাল। কাগজপত্র আসতে যা দেরি। সেও এইরকম ভিনডিক্টিভ মেয়ে না, যদিও সে ইমোশনাল। একদিকে রাজাকারের ফাঁসি চায়; আবার অন্যদিকে সভ্যতার বিক্যাশ চায় এবং তার মতোই সংস্কৃতিমনা। কালচারাল গ্রাউন্ডে তাদের কোন বিরোধ নাই। তাঁর স্বামীর আগের প্রেম সে মাইনা নিছে। গত এক বছর ধইরা তারা এক বাসাতেও থাকে না। হাজার হোক, তাদের মধ্যে ভালোবাসা ছিল, তাঁর এই কাজ করার কথা না। যেইখানে সম্পর্কটাই শেষ হয়া গেছে সেইখানে রিভেঞ্জের ইচ্ছা থাকার কথা না।! 

তাইলে এই ভজঘট’টা পাকাইলো কে? রূপার প্রেমিক বলতে হিমুরেই সে জানে। কিন্তু হিমু ঠিক রূপার প্রেমিক না, বরং রূপাই হিমু’র প্রেমিকার মর্যাদা চায়। রূপার এক রকমের মোহ আছে হিমু’র প্রতি। কিশোরী বয়সে সব মেয়েদেরই এইরকম থাকে। কিন্তু  একটা বয়সের পরে তারা বুঝতে পারে যে, এইরকম মিনিংলেস আবেগগুলা কোন পারমানেন্ট রিলেশনের দিকে যাইতে পারবে না। তারা মাইনা নিতে পারে, বুঝতে পারে আবেগ দিয়া দুনিয়া চলে না, তখন চলার পথে পথ পাল্টাইয়া অন্যদিকে চইলা যাইতে পারে। রূপা তা করতে পারে নাই। বয়স ত্রিশ পার হইছে কতো আগে, অথচ এখনো কিশোরী-স্বভাব রয়া গেছে তার মধ্যে। পাঠক হওয়ার মতো একটা শূণত্যার ভিতর শে থাকে; অডিয়েন্স হওয়ার মতো নিরবতা নিয়া সিনেমা-লাইফ এক্সপেক্ট করতে থাকে, জীবনানন্দের তারপর, তবুও…। এইসব নিয়াই থাকলেও হইতো, পেইন কিছুটা কম দিত। হিমু ত কোনদিনই তারে বিয়া করবে না। খালি রূপারে কেন, কাউরেই সে বিয়া করবে না। রূপারে সে পছন্দ করে এইরকম কোন ইন্ডিকেশনও সে দেখায় নাই। একদিন হিমু’র সাথে দেখা করাবে বইলা রূপা আবদুল্লাহ’রে ছবির হাটে নিয়া গেছিলো। রাত নয়টা পর্যন্ত ওয়েট করার পরও সে আসে নাই। এরপর থিকা রূপার সাথেও হিমু’র কোন যোগাযোগ নাই। 

আবদুল্লাহর সাথে রূপার পরিচয় বইমেলায়। শে গেছিল হুমায়ূন আহমেদ’র বই কিনতে। আবদুল্লাহ তারে কইলো, আপনার মতো এইরকম একজন গভীর-সৌন্দর্য্য, যিনি কিনা হাসতেও পারেন এবং তখনো সৌন্দর্য্য ম্লান হয় না, প্রকৃত সারসের মতো উইড়া যায় না; শে কেন, শে কেন ডেপথ নাই এইরকম বই পড়বো! কেন! 

রূপা তাঁর কথারে পাত্তা দেয় নাই, কিন্তু এইরকম জোর-করা পন্ডিতির ভিতর ভালোবাসার হাহাকারটা টের পায়। এইটা ভালো-লাগে তাঁর। দে স্পেন্ড সাম কোয়ালিটি টাইম টুগেদার। একটা সময় রূপা পিএইচডি করতে ইংল্যান্ডে চইলা যায়। এরমধ্যে আবদুল্লাহ  ঝোঁকের মাথায় বিয়া কইরা ফেলে। রূপাও লিভ টুগেদার করছে এক ফরাসী’র সাথে, অ্যাপোলোনিয়েরএর গভীর প্রেমের কবিতা পড়তে পড়তে। তারপর একটা সময় রূপা বুঝতে পারে যে, গভীরতা কোন সাসেটইনবেল জিনিস না, গভীরতারও গর্ত আছে অনেক। 

এই বুঝতে-পারা বেশিদিন বিদেশে থাকতে দেয় নাই তারে। এখন একটা রিসার্চ গ্রুপে কাজ করে। সভা-সেমিনার করে, উন্নয়নমূলক কাজকামের এম্পটিনেসের সাথে নিজের শূণ্যতারে শে সুন্দরভাবে ম্যাচ কইরা নিতে পারে। আকাশী নীল রং তাঁর ফেভারিট কালার। কিন্তু জেমসের প্রিয় আকাশী গান’টা শুনলেই রাগে গা’টা শিরশির করে; শে একদমই নিতে পারে না। চিল্লাইয়া গান গাওয়ার কি আছে? আবদুল্লাহরও খুব একটা পছন্দ না; কিন্তু উনি হাসেন রূপা রাগ দেইখা, এইসব কালচাররে পাত্তা না দিলেই তো হইলো। রূপা পাত্তা দেয়া লাগে, কারণ হিমু কয় যে, না, না, জেমসের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে! অডিয়েন্সের পছন্দমতো সে গান গায় না, অডিয়েন্সরে সে তার পছন্দের মধ্যে নিয়া আসে। এইটাই রিয়েল আর্টিস্টের কাজ। কিন্তু বাইরে দিয়া এমনে চিল্লাইলে ভিতরে আর কিছু থাকতে পারে নাকি? রূপা ভাবে। আর হিমু বলে যে, ভিতর-বাহির এইরকম কোন ক্যাটাগরিই আসলে এগজিস্টই করে না। হিমু তো কতো কথাই বলে। রূপা পাত্তা দিতে চায় না হিমু’রে, আবার পাত্তা না দিয়াও পারে না। রূপা বুঝতে পারে, আবদুল্রাহর সাথে দেখা হয়া যাওয়াটা ছিল তার নিয়তি। এখন যখন তারা যে যার লিমিটেশনগুলারে নিয়তি বইলা মাইনা নিতে শিখতেছে, তখনই এই অদ্ভুত ঘটনা।  

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

যেকোনো সে কি ভাবতে থাকবে যেকোনো শে’রে নিয়া

(ধরা যাক) যেকোনো একটা দিনের যে কোনো একটা সকালের কথা। যেকোনো সে ঘুম থেকে উঠে যেকোনো একটা চেয়ারে আইসা বসলো— যেকোনো দিনের একই নাস্তায়—হয়ত নয়টা কিংবা দশটা অথবা দশটা তিরিশে।

নয়টা তো সকাল-ই।
লেকিন দশটাও সকাল।
আর সাড়ে দশটা ভি সকাল।

যেকোনো নাস্তাতেও যেকোনো কিছুই থাকে। একটা ডিম পোচ, দুইটা রুটি; রুটিগুলা পৃথিবীর লাহান। যেকোনো সে এখন তিনটা পৃথিবী খায়; এক কাপ চা— যেকোনো দুধ চা, দুধ চা না খাইলেও চলে; পৃথিবী দিয়া ভিজায়া খেতে খেতে চা গুলা গুলায়ে উঠে; কিন্তু যেকোনো আলু ভাজিটাও ভালো। যেকেউ নাস্তাতে ডিম পোচের বদলে আলু ভাজি দেয় (কতিপয় বাসায় দেয় লেটকাইন্না সুজি)—যেকোনো একটা নর্মসের মতোই। এ’রম কপাল যেকোনো ভাবেই হোক থাকা লাগবে বটে।

দশটা তিরিশের পর আর নাস্তা আসে না। যেকোনো সে বইসা থাকে চেয়ারটাতেই। হয়ত সে সারাদিনই বইসা থাকে ঠিক অইখানটায়। মাগার সাড়ে দশটার পর আর নাস্তা আসে নাকো।

সাড়ে নয়টায়: কামের বুয়া আহে।
দশটা তিরিশে : দুধওয়ালা দুধ দিয়া যায়।
সাড়ে এগারোটায় : ময়লার বাঁশির বাজনা।

যেকোনো সে ভাবতে বসে যেকোনো কিছু নিয়া। কি ভাববে সে? কামের বুয়া আইসা একঘণ্টা কাম কইরা যায়। দুধওয়ালা প্রতিদিন একই দুধ দেয় (এক রঙা দুধ দিতে গরুগুলার কি বিরক্ত লাগে না?), একই সাইজের ডিম খাইতে খাইতে যেকোনো সে বিরক্ত। আর যেকোনো কিছু ভাবতে গেলেই তো সেইম সেইম যেকোনো কিছুই আসে। তাইলে, কি ভাববে সে?

যেকোনো ভাবেই হোক চ্যাপ্টা দুপুর হইতে থাকে। যেকোনো কেউ লেপ্টাইয়া থাকে ঠিক অইখানের চেয়ারটায় (এইটা যেন যেকোনো অইখানটাই)।

ঢংঢং একটা-দুইটা-তিনটা।
যেকোনো ঘড়িতে কোনো মতে তাগদা দুপুর হয়— ধাক্কায় অথবা ঠেলায়।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

ফিকশন লেখার ৭টা ট্রিকস: বোর্হেস

১৯৬৯ সালে ছাপানো উনার ইন প্রেইজ অফ ডার্কনেস বইয়ের শুরুতে, Carlos Frias এর রেফারেন্স দিয়া Jorge Louis Borges কইতেছিলেন, উনার এডিটর  উনারে পরামর্শ দিছে, এই সুযোগে উনি যাতে উনার এসথেটিকসটা ক্লিয়ার করেন। তো, বোর্হেস কইতেছিলেন, উনার তো কোন এসথেটিকস নাই। আর লোকজন যারে এসথেটিকস কয়, সেইটাতে উনি বিলিভও করেন না। অইগুলা হইতেছে – “ইউজলেস অ্যাবসট্রাকশন্স”। এইগুলা একেকজন লেখকের কাছে একেক রকম, এমন কি একেকটা লেখাতেও একেক রকম।

বরং উনি বলতেছিলেন যে, টাইম উনারে কিছু ট্রিকস শিখাইছে। এইরকম ৭ টা ট্রিকসের কথা উনি বলছেন। ট্রিকগুলারে বাংলা করলে এইরকম দাঁড়াইতে পারে –

১. সিনোনিমস এভয়েড করা। এইটার সমস্যাটা হইলো এরা কাল্পনিক ডিফরেন্স সাজেস্ট করে।

২. হিস্পানিয়াজমস, আর্জেন্টাইনিয়াজমস, আর্কাইজমস আর নিও-লগোজমস এভয়েড করা।

৩. ঝাঁকানি-দেয়া শব্দগুলার চাইতে ডেইলি লাইফের শব্দগুলা ইউজ করা।

৪. অবস্থার ডিটেইলগুলা ইনসার্ট করা, আমার গল্পগুলার ভিতরে; যেইটা এখনকার রিডারদের একটা ডিমান্ড।

৫. একটা হালকা আন-সার্টেইনটিটি’র ভান করা, কারণ যদিও রিয়ালিটি খুব ঠিকঠাক জিনিস, মেমোরি তো তা না।

৬. ঘটনাগুলারে বলা (এইটা আমি কিপলিং আর আইসল্যান্ডের গাঁথাগুলা থিকা শিখছি), যদিও আমি তাদেরকে পুরাপুরি বুঝতে পারি না।

৭. মনে রাখা, যে ট্রাডিশন, রীতিনীতি, “নিয়মগুলা” একটা বাধ্যবাধকতা না, আর সময় অবশ্যই তাদেরকে বাতিল কইরা দিবে।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য