Main menu

“মুসলমানী বাঙ্গালা” কি? ।। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ।।

১৯২০/৩০ এর দিকে (আগে বা পরেও) এই তর্কগুলা খুব চলতো যে, মুসলমানরাও বাঙালি কিনা বা কেমনে তাদেরও কন্ট্রিবিউশন আছে বাংলাভাষায়। এইটা আরো জোরদার হইছিল দীনেশচন্দ্র সেনের পুরান পুঁথিগুলা আবিষ্কারের পরে। দেখা গেল, আরে, মুসলমানরাও তো বাংলাভাষায় লিখছে আগে! নতুন নতুন লিখতে আইছে – এইরকম তো না! চিটাগাংয়ের আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ এই জায়গাটাতে আরো জোরদার কিছু তথ্য প্রমাণ হাজির করছিলেন যে, মুসলমানরাও বাংলাভাষায় লিখছেন!

তো, তখন রিলিভেন্ট তর্ক হাজির হইছিল যে, বাংলা-ভাষা কি হিন্দুয়ানি নাকি? বা মুসলমানী বাংলা তাইলে কি জিনিস? এখনকার সেক্যুলার দুনিয়ায় এইসব কোশ্চেন যতো ফানি-ই মনে হোক, এইসবকিছু নিয়া আলাপ হইতো বা হইছিল। এইটা এইরকমের একটা লেখা।

যেইখানে আবদুল করিম সাহেব এনকাউন্টার করতেছেন এই কোশ্চেনটারে। মাসিক সওগাতে কেউ একজন আলাওলদের লেখারে মুসলমানী বাংলা বানায়া বলতে চাইতেছিলেন যে উনাদেরকে ইগনোর করা হইতেছে। এই জায়গাতে আবদুল করিম বলতেছেন, অইগুলা মুসলমানী বাংলা না! ‘মুসলমানী বাংলা’ হইতেছে পশ্চিম-বাংলার আবিষ্কার। (খুবই ইর্ম্পটেন্ট কথা এইটা।) এই মুসলমানী বাংলায় বাংলাদেশের লোকজন তো দূর কি বাত, পশ্চিম-বাংলার মুসলমানরাও বাতচিত করে না। তাইলে এইটা আইলো কই থিকা? সাহিত্যবিশারদের দাবি, এইটা আসছে বটতলা থিকা। আর বটতলার বইয়ের পুপলারিটি ভাষার কারণে না, কাহিনির কারণে। এই  ভাষার যেহেতু কোন সাহিত্যিক ভ্যালু নাই আর সোসাইটিতে কোন চল নাই, এই সো-কল্ড মুসলমানী ভাষা টিইকা থাকার কোন কারণ নাই।

আমার ধারণা, এইখানে সংস্কৃত কলেজের বাইরে মাদ্রাসায় পড়া মৌলবীদের টেনডেন্সিটারে উনি পলিটিক্যালি সংস্কৃত-পন্ডিতদের কাউন্টার হিসাবে দেখতে রাজি হন নাই। মানে, মেনশন করছেন মুসলমানরে হিন্দু বানায়া দেয়ার ব্যাপারটা, কিন্তু অই জায়গাতে কোন কনফ্রনটেশনে যান নাই। ভাষারে শুদ্ধ বা সহি রূপেই এবং হিস্ট্রিক্যালিও একটা লিনিয়ার ফর্ম হিসাবেই দেখতে চাইছেন। যার ফলে ভাষার নানান রকমের টেনডেন্সিগুলারে এক রকমের ডিস্টরশন বইলাই ভাবছেন। তখনকার সেক্যুলার আইডিয়ায় ইউনিফর্মিটিরেই তো পূজা করা হইতো আসলে, একটা ডেফিনেশন দিতে পারাটারে, তো, সেই জায়গা থিকা স্পেশাল কোন সম্মান বা টিটকারি নিতে যে রাজি হন নাই সাহিত্যবিশারদ, সেইটাও পজিটিভ একটা ঘটনাই।  

ভাষার হিস্ট্রিক্যাল জায়গাগুলারে নজরে রাখার লাইগা এই রকমের ইস্যুগুলারে মনে না রাখতে চাওয়াটা দরকারি কোন জিনিস বইলা মনেহয় না। এই কারণে, আবার মনে করাইতে চাইলাম।

এই লেখাটা আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি থিকা ১৯৯৭ সালে ছাপানো আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ রচনাবলী ১ম খন্ড বই থিকা নেয়া হইছে। ৫৩০ টু ৫৩৫ নাম্বার পেইজে আছে।

/ই.হা.

… কলোনিয়াল কোলকাতায় কম্যুনাল এবং রেসিয়াল এজেন্ডা থিকা আজব একটা বাংলা পয়দা করছিল পণ্ডিত-মুন্সিরা, আমজনতার বাংলারে যেই বাংলায় ধরা হইছে ভালগার বা বিদেশি! আসল বাংলা আসলে যেন সংস্কৃত, সংস্কৃত না জাইনা বাংলা জানতে পারেন না আপনে! পরে আরেক দল ঐ ঘটনার কম্যুনাল জবাব দিছেন, সংস্কৃতরে ফার্সি পিছায় খেদাইয়া! সেই ফ্যাসাদের আখেরি ফল এখন ফলতেছে, আরো সহি হইতে চাইয়া এখন ফার্সি খেদাইয়া দিতে চাইতেছে আরবীঅলারা!

এইটারে আমি কইতেছি কলোনিয়াল লিগেসি; এইটা এতোই পোক্ত যে, ঐ দুই-তিন দল তো যায়ই নাই, এমনকি মার্ক্সের তরিকার লোকেরাও বাংলার কম্যুনাল-রেসিয়াল বোঝাবুঝি উতরাইয়া আমজনতার কাছে যাইতে পারে নাই! বাংলা যে বাংলাই, সংস্কৃত বা ফার্সি বা ইংরাজি না জাইনাই তো আপনের বাংলা পারার কথা! ঐ কম্যুনাল-রেসিয়াল এজেন্ডার দখলে আপনের মন গেলে আপনে হয় সংস্কৃতরে ভাববেন দুশমন, বা ফার্সিরে বা ইংরাজিরে, ঘেন্নার চাষ হইতে থাকবে মনে! অথচ আপনে যদি আমজনতার বাংলা লন, গণতান্ত্রিক হন, দেখবেন, মানুষ আর আদম, পিছার লগে সাফ, নদী-আসমান-আকাশ-মেঘ-বিষ্টি-সাগর-মাছ-দরিয়া-তুফান-টেবিল-লেবার-আনারস-কুলা-হুদাই-ডিজিটাল-ঘাড়ত্যাড়া… এমন কত কত সোর্সের কত কত শব্দেরা বাংলার কানুনে নিজেদের সুরত বদলাইয়া পাশাপাশি শুইয়া আছে!

সো, আপনে যদি ঐ লিগেসিতে থাকেন, আমজনতার কাছে যাইতেই পারবেন না, আপনের গণতন্ত্রের খায়েশ স্রেফ নিজেরে ভুলাবার মায়া হইয়াই থাকবে!

ঐ লিগেসি আপনারে আরো একটা প্রিজুডিসের দিকে লইয়া যায় প্রায়ই, হামবড়া হইয়া উঠতে পারেন আপনে! এমন হামবড়া ভাবের আসল লসটা হইলো, সমাজের ভিতর থিকা কোন এলেম লইতেই পারবেন না আপনে!…

/৭জুন ২০১৮, রক মনু

…………………………………………………………….

বাঙ্গালার প্রাচীন মুসলমান সাহিত্যের এক সুবৃহৎ অংশ “মুসলমানী বাঙ্গালা” (সাহিত্য) নামে অভিহিত হইয়া থাকে। হিন্দু কি মুসলমান — যিনিই এই নাম করুন না কেন – ভাষার দিক দিয়া বলতে গেলে, এই নামের অন্বর্থতা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। এই “মুসলমানীবাঙ্গালা” কি জিনিস,  সে সম্বন্ধে আমাদের শিক্ষিত সমাজের অনেকেরই সুস্পষ্ট ধারণা আছে বলিয়া বোধ হয় না। একটা দৃষ্টান্ত দিয়া পাঠকবর্গের নিকট কথাটা খোলসা করিতেছি। ১৩৪৭ সনে ফাল্গুন মাসে্র “সওগাতে” জনৈক মুসলমান লেখক “মর্সিয়া সাহিত্য” নামক প্রবন্ধে লিখিয়াছেন —“শেখ ফয়জুল্লাহ  … শমসের আলী প্রমুখ প্রখ্যাত নামা কবিগণের অক্লান্ত সাধনায় বাঙ্গালা সাহিত্যের ভাণ্ডার হইয়াছে সমৃদ্ধ। তাঁহাদের রচিত সাহিত্যকে কোনো স্বতন্ত্র নামে অভিহিত করা সঙ্গত নহে। * * * * কিন্তু বিশুদ্ধ ভাষা ও সুঠাম বর্ণনা-ভঙ্গীর দিক দিয়া কাজী দৌলৎ, সৈয়দ আলাওল প্রভৃতি ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের হিন্দু কবিগণ হইতে কোন অংশে ন্যূন নহেন।  একটু নমুনা দেই –

‘যৌবনকালেতে কন্যা বড় চিন্তা পায়।
অনঙ্গ-ভুজঙ্গ-বিষ সর্বাঙ্গে বেড়ায়।।
সে বিষ নামাতে নাহি ওঝার শক্তি।
স্বামী সে চিকিৎসা – হেতু ঔষধ সুরতি।।’

(দৌলতকাজী—‘লোরচন্দ্রানী)

‘দ্বিতীয়ার চন্দ্র জিনি ললাট শ্রীখণ্ড।
ত্রিভঙ্গ-ভঙ্গিম ভুরু কামেরকো দণ্ড।।
সুকোমল করতল পদ্মনাল-তুল।
চম্পক-কলিকা যিনি সুন্দর আঙ্গুল।।’

(ছৈয়দআলাওল—‘পদ্মাবতী)

এই ভাষাকে ‘মুসলমানী বাঙলা’ বলিয়া সাহিত্যের আসর হইতে দূরে ঠেকাইয়া রাখিবার প্রচেষ্টা কোনোদিন সমর্থনীয় হইতে পারে না।”

আধুনিক সাহিত্য উজাড় করিয়া কিছুদিন হইতে এই লেখক প্রাচীন সাহিত্যের প্রতি সুনজর দিয়াছেন এবং নিত্য নূতন নূতন অথ্যাবিষ্কার করিয়া পাঠকসমাজে পরিবেশন করিতেছেন। আলাওল ও দৌলত কাজীর ভাষাকে “মুসলমানী বাঙলা”র নমুনারূপে প্রচারও যে একটা নূতন আবিষ্কার, সে বিষয়ে সন্দেহ করিবে কে?

এইত গেল এক পক্ষের কথা। অপর পক্ষে বটতলার পণ্ডিতেরা বিজ্ঞাপন দিয়া প্রচার করিতেছেন, “শ্রীযুক্ত ছৈয়েদ আলাওল সাহার কৃত এই পদ্মাবতি পুস্তক পারশি অক্ষরে চট্টগ্রামি ভাষায় ছিল।” এরকম দুইপক্ষের হেঁচকা টানে বেচারী বাঙ্গালা সাহিত্য একবারে লবে-জান! পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

জীবনানন্দ দাশের ‘সমারূঢ়’ নিয়া

বাংলা-কবিতার সমালোচনা নিয়া যে নেগেটিভ একটা ধারণা এগজিস্ট করে (যেমন, কবিতার কোন ক্রিটিক হয় না, এইটা খালি ফিল করার জিনিস, হাবিজাবি…), সেই জায়গাটাতে এই কবিতার কন্ট্রিবিউশন আছে। ডিটেইলসে আমার পয়েন্টগুলা বলার আগে, আসেন কবিতাটা পড়ি।


সমারূঢ়

‘বরং নিজেই তুমি লেখো নাকো একটি কবিতা –‘
বলিলাম ম্লান হেসে; ছায়াপিণ্ড দিলো না উত্তর;
বুঝিলাম সে তো কবি নয় – সে যে আরূঢ় ভণিতা:
পাণ্ডুলিপি, ভাষ্য, টীকা, কালি আর কলমের ‘পর
ব’সে আছে সিংহাসনে – কবি নয় – অজর, অক্ষর
অধ্যাপক, দাঁত নেই – চোখে তার অক্ষম পিচুঁটি;
বেতন হাজার টাকা মাসে – আর হাজার দেড়েক
পাওয়া যায় মৃত সব কবিদের মাংস কৃমি খুঁটি;
যদিও সে সব কবি ক্ষুধা প্রেম আগুনের সেঁক
চেয়েছিলো – হাঙরের ঢেউয়ে খেয়েছিলো লুটোপুটি।

(পেইজ: ২০৬, প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কবিতাসমগ্র – জীবনানন্দ দাশ, আবদুল মান্নান সৈয়দ সংকলিত ও সম্পাদিত, ১৯৯৪)

জীবনানন্দ দাশ-এর সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থের ৩নম্বর কবিতা এইটা। কবিতার বইটা পাবলিশড হয় অগ্রহায়ণ ১৩৫৫ (ইংরেজী ১৯৪৮সনে)। লেখার সময়: বাংলা ১৩৩৫-১৩৫০ (ইংরেজী ১৯২৮-১৯৫০)।



‘সমারূঢ়’ শব্দটার ডিকশনারি মিনিং হইলো ‘সম্যক উপরে উপবিষ্ট; বিশেষভাবে অধিষ্ঠিত’। তার মানে উপরের পজিশন। ‘সমারূঢ়’ মানে তিনি, যিনি কিছুটা উপরে আছেন। উপরে কে আছেন? ধারণা করি, যারে বিভিন্ন সময় ‘ছায়াপিন্ড’ ‘আরূঢ় ভণিতা’ ‘অধ্যাপক’ হিসাবে উল্লেখ করছেন কবি, তিনি বা তারা-ই; তারা যে ‘কবি নয়’ এইটাও বলা আছে ২বার। ধরে নিতেছি, তারা ‘সমালোচক’, ‘ব’সে আছে সিংহাসনে’। এইগুলা ত আসলে এক ধরণের ক্রোধ  কবি’র দিক থিকা; উনি সেই মানুষটার বর্ণনা দিতেছেন যে কিনা নিজেরে উপরে আছে বইলা ভাবতেছে, কিন্তু আসলে উপরে নাই। সে কবিতা লিখতে চাইতো, এখন পারে না, কবিতার সমালোচনা লিখতেছে খালি। কবিতা লিখতে পারলে সে আর কবিতার সমালোচনা লিখতো নাকি! তার মানে সে যদিও নিচে আছে, কিন্তু যেহেতু কবিতা নিয়া বলতে পারে, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারে, কবির চে বেশি টাকা কামাইতে পারে, ভাবে যে সে উপরে আছে; কিন্তু সে ত কবিতা লিখতে পারে না, কবি-ই না সে, কবিতার সমালোচনা কেমনে করে! এই মিহি শ্লেষের টোনটা কবিতাতে আছে।

এই টোনটাই সমালোচনার একটা ধারা হিসাবে বাংলা-সাহিত্যে আছে এখনো। যে, একটু মকারি করলাম তারে নিয়া, যে আমার লেখার ক্রিটিক করলো, এতে কইরা তার ক্রিটিকের জবাব দেন দিতে পারলাম আমি! বা এইরকম মকারি করতে পারাটাই যেন ক্রিটিক করতে পারা।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

ফরিদ উদদীন আত্তারের “মানতিক-উত-তোয়ায়ের“ বই থিকা কয়েকটা কাহিনি

ফরিদউদ্দিন আত্তার মানতিক-উত-তোয়ায়ের বইটা লিখছিলেন পার্শিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজে, ১১৭২ সালে। এই নামটা নেয়া হইছে, কোরানের আয়াত থিকা। ১৮৮৯ সালে মেবি এওয়ার্ড ফিল্টজেরাল্ড পয়লা ইংলিশে ট্রান্সলেশন করেন, বার্ড পার্লামেন্ট নামে। পরে দ্য স্পিচ অফ দ্য বার্ডস, কনফারেন্স অফ দ্য বার্ডস নামে আরো অনেকগুলা অনুবাদ হইছে। বাংলায় আমার জানামতে, ২০০৮ সালে করা আবদুল জলীলের অনুবাদটা অ্যাভেইলেবল। আগে আর পরে আরো অনুবাদ থাকতে পারে বইটার, বাংলাতেও।

আমি যেই ইংলিশ ভার্সনটা ফলো করছি সেইটা Garcin De Tassy-র ফরাসি থিকা C.S.Nott এর করা অনুবাদ। ১৯৫৪ সালে পয়লা ছাপা হইছিল, পরে ১৯৭১ সালে Shambala পাবলিকেশন্স থিকা ছাপানো হইছিল। অই অডিশনটার পিডিএফ ভার্সন পাওয়া যায়, অনলাইনে।

বইয়ের কাহিনিটা হইলো, সব পাখি একলগে হয় তাদের যে রাজা, তাদেরকে দেখতে যাইবো বইলা। এক পাখি তাদেরকে লিড দেয়, রাজার খবর বলে। কিন্তু পরে দেখা যায়, সব পাখি যাইতে চায় না। একেকজন একেকটা প্রব্লেমের কথা কয়, আর হোপিপাখি তাদেরকে জবাব দেয়, নানান কাহিনি বইলা।

মানে, কাহিনি একটা আছে, বইটার। কিন্তু কাহিনি ইজ নট দ্য গল্প! 

২.
মজার ব্যাপার হইলো, অই বইয়ের ট্যাগলাইন হিসাবে লেখা হইছে, অ্যা সুফি ফেবেল। মানে, পপুলার রিডিংয়ে তো, সুফি – এই জায়গা থিকাই দেখার কথা। জেন, বুড্ডিজম, ইয়োগার মতোই ঘটনা একটা, এই সুফিজম। যে এইটা বাইরের একটা জিনিস, একটা ওয়ে আউট, ওয়েস্টার্ন মেটারালিস্টিক লাইফে!  :)  মানে, সুফিজম যতোটা না সুফিজম তার চাইতে অনেকবেশি মোটিভেশনাল ইলিমেন্টই, ইউলিটির দিক থিকা। তো, এই পপুলার সাবস্ক্রিপশনের জায়গাটা মনে রাখাটা মেবি দরকার।

৩.
তো, আমি পুরা বইটা যে অনুবাদ করার ভাবতে পারি নাই, এর একটা কারণ তো অবশ্যই যে, এতো পরিশ্রম করার সাহসটা করতে পারি নাই। এর বাইরে আরেকটা জিনিস এই সুফিজমের সাথে রিলেটড ঘটনা কিছুটা। ব্যাপারটা আমার কাছে এইরকম না যে, পুরানা কোন তরিকারে সহি উপায়ে আমি রিভিল করতে চাইতেছি, বরং এক রকমের পারসোনাল রিডিংই এইটা, টেক্সটটার। আর ইনকমপ্লিটও।

৪.
আরেকটা জিনিস, যে কোন অনুবাদের সময়ই আমি বইলা রাখতে চাই যে, ইন অ্যা লার্জার সেন্স অনুবাদ আসলে রিডিংই, একটা কনটেক্সট থিকা একটা টেক্সটরে যখন আমরা আরেকটা কনটেক্সটে নিয়া আসতেছি তখন সেইটা একই জিনিস থাকতেছে না, এই জায়গাটারে খেয়াল রাখাটা দরকার। আর স্পেশালি এইরকম পুরান একটা টেক্সট যেইটা অনেক টাইম আর স্পেইস ট্রাভেল করছে, একটা সেন্স অফ অরিজিনালিটিরে খুঁজতে যাওয়াটা আরো ডিফিকাল্ট হওয়ার কথা। মানে, এইরকম না যে, টেক্সটে ইনটেনশনালি অদল-বদল করতে থাকবো আমরা, কিন্তু একটা জায়গা থিকা রিড না করতে পারলে, অনুবাদ ব্যাপারটা পসিবল হইতে পারে বইলাই মনেহয় না।

৫.
তো, এইগুলাই সব না, আরো কয়েকটা কাহিনি অনুবাদ করবো মনেহয়। 

ই. হা.

…………………………………………………………………………………………………..

।। হোপি-পাখি প্রিন্সেস আর দরবেশের কাহিনিটা কইলো ।। কঞ্জুস ।। মাহমুদ আর আয়াজ ।। রাবেয়ার গল্প ।। শিবলী’র কাহিনি ।। সক্রেতিস তার সাগরেদেরকে কইলেন ।। সূর্যের খোঁজে থাকা বাদুড়টা ।। আরেকজন বেকুব ।। দরবেশ, যার সুন্দর দাড়ি ছিলো ।। ইউসুফ আর জুলেখা ।। মজনু’র কাহিনি ।। ইউসুফ হামদানি ।। রাবেয়ার একটা কথা ।। এক সাগরেদরে বলা এক ওস্তাদের কথা ।। প্রিন্সেস, যে তাঁর দাসের প্রেমে পড়ছিল ।।  হারানো চাবি ।।

…………………………………………………………………………………………………..

হোপিপাখি প্রিন্সেস আর দরবেশের কাহিনিটা কইলো

এক রাজার চান্দের মতোন সুন্দর এক মেয়ে ছিল, যারে ভালোবাসতো সবাই। তাঁর ঘুম-ঘুম চোখ আর তাঁর মিষ্টি নেশা-নেশা প্রেজেন্সে প্রেম জাইগা উঠতো। কর্পূরের মতোন শাদা ছিল তাঁর মুখ, কস্তরী-কালো তাঁর চুল। তাঁর ঠোঁটের জেলাসি স্বচ্ছ পানি থিকা একটা মুক্তা শুকায়া নিতো, যখন চিনি গইলা যাইতো তার শরমে।

আল্লার কেরামতিতে এক দরবেশ একদিন দেখলো তারে, আর তার হাতের রুটি হাত থিকা বালিতে পইড়া গেলো। একটা আগুনের হলকার মতোন শে তার কাছ দিয়া গেলো, আর যখন শে যাইতেছিল, শে হাসতেছিল। আর তারে দেইখা দরবেশটা ধূলায় পইড়া গেলো, যেন জীবন ছাইড়া গেলো তারে। দিনে বা রাতে সে শান্তি পাইতো না আর, আর কানতো সবসময়। যখন সে তাঁর হাসির কথা ভাবতো তার চোখের পানি গড়ায়া পড়তো যেমনে একটা মেঘ থিকা বৃষ্টি ঝইড়া পড়ে। এই পাগলা প্রেম সাত বছর ধইরা চললো, তখন সে রাস্তার কুত্তাদের লগে থাকতো। তখন তাঁর পাইক পেয়ারদাররা তার এই অবস্থার একটা বিহিত করতে চাইলো। কিন্তু প্রিন্সেস তার লগে গোপনে বাতচিত করলো আর কইলো: ‘তোমার আর আমার মধ্যে ইন্টিমেট রিলেশন হওয়া কেমনে সম্ভব? এখনই চইলা যাও, তা নাইলে তোমারে খুন কইরা ফেলবে আমার লোকজন: আমার দরজায় আর দাঁড়ায়া থাইকো না, এখন উঠো আর চইলা যাও।‘

বেচারা দরবেশ উত্তর দিল: ‘যেইদিন আমি তোমার প্রেমে পড়ছি জীবনের থিকা আমি হাত ধুইয়া নিছি। এইরকম আরো হাজার হাজার জীবন আমি সদকা দিছি তোমার সুন্দরের কাছে। এখন যখন তোমার লোকেরা আমারে অন্যায়ভাবে খুন করার লাইগা আসতেছে আমার একটা সহজ প্রশ্নের উত্তর দাও তো। যেইদিন তুমি আমার মরণের কারণ হইছিলা, কেন তুমি আমার দিকে তাকায়া হাসছিলা?’ ‘আরে বোকা,’ শে কইলো. ‘যখন আমি দেখলাম যে তুমি নিজেরে হিউমিলেট করতে যাইতেছো, তখন আমি করুণা কইরা হাসছি। করুণা কইরা হাসার পারমিশন আমার আছে, মকারি কইরা না।‘ এইটা বইলা, একটা ধোঁয়ার ঝাঁটার মতো শে ভ্যানিশড হয়া গেলো, দরবেশরে পতিত রাইখা।

কঞ্জুস

এক নেশাখোর এক বাক্স সোনাদান লুকায়া রাখলো, আর তার কয়দিন পরেই মইরা গেলো। এক বছর পরে পোলা একটা খোয়াবে তার বাপেরে দেখলো যে, সে একটা ইন্দুর হয়া গেছে, তার দুই চোখ কান্দার পানিতে ভরা। যেইখানে সোনাদানা লুকানো আছিলো ইন্দুরটা অইখান দিয়া সামনে পিছনে দৌড়াইতেছিল। তার পোলা তারে জিগাইলো: ‘এইখানে কি করতেছো তুমি?’ বাপে জবাব দিলো: ‘এইখানে আমি কিছু সোনাদানা লুকায়া রাখছিলাম আর দেখতে আসছি কেউ এইটা খুঁইজা পাইছে কিনা।’ ‘তুমি ইন্দুর হয়া গেছো কেন?’ পোলায় জিগাইলো। বাপে কইলো: ‘টাকা-পয়সার মহব্বতের লাইগা যেই মানুষের আত্মা সবকিছু ছাইড়া দেয় সে এই এইরকম হয়া যায়। পুত রে, আমার কথা শোন, আর যা তুই দেখছোস তা থিকা প্রফিট কর। সোনাদানার প্রতি মোহ ছাইড়া দে তুই।’

মাহমুদ আর আয়াজ

শয়তানের চোখ আয়াজরে দুর্দশায় ফেলছিল, আর তারে সুলতান মাহমুদের দরবার ছাড়তে হইছিল। হতাশায় পইড়া সে খুবই মন-মরা হয়া গেছিলো আর তার বিছনায় শুইয়া সে কান্তেছিলো। মাহমুদ যখন এইটা শুনলেন, উনি তার এক খাদেমরে কইলেন: ‘আয়াজের কাছে যাও আর বলো, “আমি জানি তুমি দুঃখে আছো, কিন্তু আমারও একই অবস্থা। যদিও আমার শরীর তোমার থিকা দূরে, আমার আত্মা কাছে আছে তোমার। শোনো, যেই তুমি আমারে ভালোবাসো, আমি তো তোমার থিকা একটা মোমেন্টের লাইগাও দূরে নাই। শয়তানের চোখ আসলেই বাজেভাবে কষ্ট দিছে, যে সুন্দর, তারে।”‘ উনি তার খাদেমরে আরো কইলেন: ‘এখনই যাও, আগুনের মতোন যাও, বন্যার পানির মতোন যাও, বাজ-পড়ার আগে আলোর মতোন যাও!’

খাদেম বাতাসের মতোন বাইর হয়া গেলো আর আয়াজের কাছে পৌঁছাইল। কিন্তু সে দেখল সুলতান অলরেডি সেইখানে আছেন, তার দাসের কাছে বইসা আছেন। কাঁপতে কাঁপতে সে নিজে নিজে কইলো: ‘কি দুর্ভাগ্য আমার, রাজার কাজটা করতে পারলাম না; কোন সন্দেহ নাই আজকে আমারে খুন কইরা ফেলবে।’ তখন সে রাজারে কইলো: ‘আমি আপনার কাছে কসম কাইটা বলতেছি, আমি একটা মোমেন্টও বইসা থাকি নাই, দাঁড়াই নাই; কেমনে তাইলে রাজা আমার আগে এইখানে চইলা আসলেন? রাজা কি আমারে বিশ্বাস করেন? যদি কোনভাবে গাফিলতি কইরা থাকি আমার ভুল আমি স্বীকার করতেছি।’

‘তোমার দোষ নাই, মিয়া,’ মাহমুদ কইলেন,’তুমি কেমনে আমার মতোন ট্রাভেল করতে পারবা? আমি তো আসছি একটা গোপন পথে। যখন আমি আয়াজের খবর নেয়ার লাইগা বলতেছিলাম আমার আত্মা তো তখনই চইলা আসছে তার কাছে।’

রাবেয়ার গল্প

রাবেয়া, যদিও একজন নারী, ছিলেন পুরুষদের মাথার মুকুট। একবার উনি কাবায় হজ্জ্ব করতে যাওয়ার লাইগা আট বছর সময় পার করলেন, মাটিতে উনার দৈর্ঘ্য মাপতে মাপতে উনি গেছিলেন। শেষমেশ যখন উনি পবিত্র ঘরের দরোজায় পৌঁছাইলেন, উনি ভাবলেন: ‘এখন, শেষমেশ, আমি আমার কাজটা করতে পারলাম।’ হজ্জ্বের দিন, যখন উনি কাবা’তে যাইতে নিছেন, উনার নারীত্ব উনারে ছাইড়া গেলো। তখন রাবেয়া উনার আগের পায়ের ছাপগুলা খোঁজ কইরা দেখলেন আর কইলেন: ‘হে খোদা, গৌরবের মালিক, আট বছর ধইরা আমি রাস্তাটারে আমার শরীর দিয়া মাইপা আসছি, আর এখন, যখন প্রতীক্ষার-দিনটা আসলো আমার দোয়ার জবাব দেয়ার, তুমি আমার পথে কাঁটা বিছায়া দিলা!’

এই ঘটনার মর্ম বুঝতে হইলে রাবেয়ার মতোন একজন খোদা-ভক্তরে খুঁইজা বাইর করাটা জরুরি। যতোক্ষণ তুমি এই দুনিয়ার গভীর সাগরে ভাসতে থাকবা, এর ঢেউগুলা তোমারে প্রতিটা ধাক্কায় তোমারে নিয়া আসবে আর দূরে সরায়া দিবে। কোন সময় তুমি কাবার ভিতরে ঢুকতে পারবা, আবার কোন সময় একটা প্যাগোডার ভিতরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়বা। যদি তুমি এই দুনিয়ার অ্যাটাচমেন্টগুলা ছাড়াইতে পারো তুমি শান্তি পাবা; কিন্তু যদি তুমি অ্যাটাচড থাকো তোমার মাথা একটা কারখানার জাঁতাকল হয়া থাকবো। একটা মোমেন্টের লাইগাও তুমি সুস্থির হইতে পারবা না; একটা মাছির উইড়া যাওয়াও তোমারে তছনছ কইরা ফেলবে তখন। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.