Main menu

এখতিয়ার

ইছলামের বেপারে কত কত পোশ্ন মোছলমানদের, অন্যদেরো; এইটাই নরমাল। শকল চিন্তার বেপারেই বহু খুটিনাটি থাকে, তাই পোশ্নও, জবাব তালাশ করা মানুশের অনেকগুলা খাছলতের একটা। ধর্ম থিকা পিরিত, পোশ্ন থাকবেই; পিরিতের বেপারে জেমন, কেউ জদি কাউকে দাগা দেয়, তখন পোশ্ন আশে তার মনে, কেন!? জবাব না পাইলে মন আউলা হইয়া পড়ে পেরায়ই; পিরিতের ভুবনে এই পোশ্নের জবাবের একটা নাম আছে, ক্লোজার। তাই পোশ্ন আর জবাবের তালাশ কেবল ধার্মিক বা ভাবুক বা ছাইন্টিস্টের কাম না, শবারই কম বেশি উতলা হয় মন!

 

তো, এই পোশ্নগুলার জবাব কে দেবে, এখতিয়ার আছে কার? খিরিস্টানদের পোপ, পাদ্রি, বিশপেরা জবাব দেয়, কনফেশন দেয় খিরিস্টানরা পাদ্রির কাছে; আশলে খোদার দরবারেই, কিন্তু পাদ্রির মারফতে, গির্জা-পাদ্রি হইলো খোদার দরবারে জাবার মিডিয়াম বা শিড়ি; মানে গির্জা কেবল এবাদতের ঘর না। হিন্দুদের বামুনরা এই কাম কইরা দেয়, তারাও মিডিয়াম, দেবি বা ব্রহ্ম বা হিন্দুদের খোদার। মোছলমানদের? কোন দরবেশ জবাব দেন কখনো, পির-মুরশিদেরা দেন; কিন্তু এগুলা পেরায় পাদ্রি বা বামুদের মতোই একেকটা পোস্ট, তার বাইরে ইছলামে আলেম নামে একটা ক্যাটেগরি আছে; এইটা কোন পোস্ট না, পোস্টের ভিতর দিয়া জেমন কাস্ট বা বর্ন বা রেছিজমের শম্ভাবনা, খমতার জেই পার্মানেন্ট তফাত, ইছলামে শেইটা নাই; ইছলামে বান্দার লগে খোদার রিশতা ডাইরেক, আম পাবলিকের একজনের থিকা একজন আলেম বা আমির, কারো লগেই খোদার বাড়তি কানেকশন নাই। মানুশ হিশাবে তার জানা-বোঝা-এলেমের তুলনা করার কোনই উপায় নাই, তেমন একজনই আছিলেন ইছলামে, কেবল তার লগেই মোছলমানের খোদা বা আল্লার বাতচিতের ডাইরেক কানেকশন, আল্লা তারে দুনিয়া থিকা লইয়া জাবার পরে দুনিয়ায় তার উম্মতেরা শমান এতিম, এমন কেউ নাই জে একটু কম এতিম হইলো, জার লগে আম পাবলিকের তুলনায় বাড়তি খাতির দেখান খোদা! কোন জাত-পাত নাই, কেবল ইমান-আমল আর এলেমের ইজ্জত; কিন্তু শেই ইজ্জতের বেপারেও শবাই একমত হবার উপায় নাই, দুনিয়ার কেউ জানে না কার ইমান-আমল বা এলেম শবচে ভালো, কেবল আল্লাই জানে। জে কোন ফতোয়া বা তাফছির তাই কেবল কারো না কারো ভাবনা বা মত, ঠিক কি ভুল, কেবল আল্লাই জানে।

তাইলে ইছলামের পোশ্নের বেপারে জবাব দেবার এখতিয়ার কার, কতটা জানতে পারি আমরা? আরেক দিক দিয়া জিগাই এই পোশ্নটা, এখতিয়ার নাই কার? তাও জানি না আমরা। ইছলামে বহু মাজহাবের গোড়া এখতিয়ারের বেপারে আমাদের/মানুশের এই না জানা। অনেকে এইটারে পছন্দ করে না, কিন্তু এইটা আশলে ইছলামের একটা গুন, বান্দার জন্য রহমত! বাড়তি এখতিয়ার না থাকা বা রাছুলের পরে মানুশের পক্ষে এইটা না জানার ভিতরেই লুকাইয়া আছে ইনছাফের শম্ভাবনা, খোদার এবং আইনের নজরে শবাই শমান হইতে পারতেছে ঐ ছহি এখতিয়ারের অভাবে!

এবং এইটার নিশানা রাছুলের ভাবনার মাঝেই পাইতেছি আমি। রাছুলের ওফাতের পরে জানাজা এবং দাফনে দেরি হয়; রাজনিতি, জিন্দেগি এবং রাশ্টের বেপারে ইছলামের আগামি ইতিহাশ একটা রাস্তায় উঠাইয়া দেয় ঐ দেরি।

তার আগের রাজা-বাদশার রাস্তায় হাটেন নাই রাছুল; নিজের ওফাতের পরে কে হবে উম্মার ইমাম, শেই বেপারে কোন অছিয়ত কইরা জান নাই উনি। অশুখে পড়ার পরে আবু বকরকে নামাজে ইমামতি করায় মোতায়েন করছেন; এমনও বয়ান পাওয়া জাইতেছে জাতে দেখা জাইতেছে জে, একবার আবু বকর ইমামতির এন্তেজাম করতেছেন, নামাজ শুরু হবে, ঠিক তখন রাছুল আশছেন মশজিদে; আবু বকর ইমামের জাগা ছাইড়া দিয়া রাছুলকে জাগা কইরা দিছে, কিন্তু রাছুল আবু বকরকেই এজাজত দিছেন, তার ইমামতিতেই নামাজ পড়ছেন রাছুল।

ওদিকে, ওফাতের আগে রাছুল আলিরে ডাইকা নিছেন নিজের কাছে, আলি পরে রাছুলের দাফনের এন্তেজাম করছে, গোছল করাইছে; ওদিকে ওমরও রাছুলের শাশনে একজন ডাইরেক খাদেম আছিলেন, আবু বকরের মতোই। এমন কতগুলা ঘটনায় রাছুলের লগে বাড়তি খাতির বা রাছুলের বাড়তি পছন্দের নিশানা পাওয়া জাইতেছে হয়তো, অন্তত দাবি করতে পারে কেউ, কিন্তু পরের ইমাম কে হবেন, শেই বেপারে রাছুলের কোন অছিয়ত পাওয়া জাইতেছে না।

আমি বোঝার কশরত করি রাছুলের মোটিভ, কতক ইশারা পাই জেন তার কায়কারবারের খতিয়ান বা প্যাটার্নে! গোস্তাকি মাফ করুক খোদা, আমার বিবেচনায় ব্যাপারটা এমন: অছিয়ত রাইখা না জাইয়া এলেম আর ভোট বা বায়াত বা কবুলিয়তের এক অবলিগেশন দিয়া গেছেন রাছুল! এলেম হইলো কোরান আর ছুন্না, এই দুইয়ের রোশনাই ছাহাবিদের ছহি দিশা দেবে, তারা ভোটাভুটি কইরা ঠিক করবে নিজেদের ইমাম। রাছুল জখন নাই, ওফাত ঘটছে তার, শেই হালতে মোছলমানরা কি করবে, তা ঠিক করবে শেই মোছলমানরাই, রাছুলের অছিয়ত মোছলমানদের (মানুশের) চিন্তা করার দরকার কমাইয়া দিতো, ছেরেফ অছিয়ত পালন হইতো, কেন-কে-কোথায় শেইটা চুলচেরা বাছবিচারের দরকার থাকতো না আর। নিজেদের ভিতর মতের অমিল এবং শলা-পরামিশের ভিতর দিয়া একটা ফয়ছালায় হাজির হবার রাস্তা দেখাইয়া গেছেন রাছুল, অছিয়ত দিয়া বা কইরা না জাইয়া আশলে চিন্তা-এলেম আর ভোটের রাস্তায় জাইতে উম্মারে বাধ্য করছেন রাছুল।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশি সিনেমা (২)

।। আগের পোস্ট।।


শুরু’র দিকের সিনেমা…

১৯৫৯ সালে রিলিজ হওয়া ৪টা ছবিই ক্রুশিয়াল মনেহয় আমার কাছে, বাংলাদেশি সিনেমার হিস্ট্রি বুঝার লাইগা। ৪টা আলাদা আলাদা ট্রেন্ডরে লোকেট করা যাইতে পারে এখন, এই ২০২০ সালে বইসা।

এই বছরের যেই ছবিটার নাম বেশি শোনা যায় সেইটা হইতেছে – জাগো হুয়া সাভেরা, ডিরেক্টর আছিলেন আখতার জং কারদার, উনি এসিসেন্ট হিসাবে নিছিলেন জহির রায়হান’রে, আর সিনেমার কাহিনি লিখছিলেন পাকিস্তানের উর্দু ভাষার কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝির একটা অ্যাডাপ্টশন ছিল কাহিনিটা। ইন্টারেস্টিং জিনিস হইলো, এই সিনেমা পাকিস্তানের সিনেমাহলগুলাতে ‘মুক্তি’ পায় নাই, পলিটিক্যাল ঝামেলার কারণে, কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পাইছিলো, মস্কো’তে। ইন্টারেস্টিং না ব্যাপারটা! :)  এখনো অনেক সিনেমাই, মানে ‘আর্ট-ফিল্ম’ কিন্তু বাংলাদেশে বানানো হয় প্রাইজ-টাইজ পাওয়ার লাইগাই, সিনেমা হলে চললে ভালো, না চললেও কোন সমস্যা নাই; বা আর্ট-কালচারের লোকজন যদি বুঝে, কথা-বার্তা কয়, তাইলেই এনাফ। যেই পাবলিক ‘আর্ট’ বুঝে না – তাদের লাইগা আমরা সিনেমা বানাবো নাকি! এইরকম যেই ধারা, সেইটার শুরু হিসাবে এই সিনেমাটারে দেখতে পারেন। দুসরা ঘটনা হইলো, তখন সমাজতন্ত্রের জয়-জয়কার, এই কারণে মার্কসিস্ট ঘরানার জিনিস প্রাইজ-টাইজ পাইতো; আর এখন দেখবেন, লিবারাল ইস্যুগুলা নিয়া অনেক হাতি-ঘোড়া মারা হয়। কারণ আপনি যদি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পাইতে চান, সো-কল্ড ইন্টারন্যাশনাল ইস্যুগুলার লগে আপনারে কানেক্ট করতে পারতে হবে তো! যেমন ধরেন, বাংলাদেশ’রে ইউরোপ-আম্রিকার আর্ট-অথরিটি’রা তো চিনে গার্মেন্টস দিয়া, পটেনশিয়ার টেররিস্টদের আস্তানা হিসাবে… তো, উনাদের নজরে আসতে হইলে, এইসব ইস্যু নিয়াই সিনেমা বানাইতে হবে; এইরকমের ঘটনা ‘নতুন’ কোন ব্যাপার না, সিনেমা জিনিস’টা শুরু হওয়ার সময় থিকাই ছিল। যদিও “জাগো হুয়া সভেরা” বরং এক্টা ফেইলড এটেম্পট হিসাবেই রিড করা হয় মনেহয় এখন। কিন্তু যারা ঋতিক ঘটকের তিতাস একটি নদীর নাম বা সতজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী’র ভিজ্যুয়াল পছন্দ করেন তাদের এই সিনেমার ভিজ্যুয়াল পছন্দ হওয়ার কথা; ১৯৫৯ সালের গ্রাম-বাংলা কি রকম ছিল, সেইটার দৃশ্যগুলা পাইবেন; কিন্তু মুশকিল হইলো এনগেইজমেন্ট’টা মিসিং (পুরাটাই ভাষার কারণে না),  অনেকবেশি ডকুমেন্টারি মনে হওয়ার কথা; যেন বিদেশিদের ক্যামেরা, বাংলার জন-জীবনের ছবি ফুটায়া তুলতেছে! আর সবচে বড় ব্যাপার হইতেছে রানওয়ে বা আন্ডার কন্সট্রাকশন এর মতো এইটা বাংলাদেশের পাবলিকের জন্য বানানো সিনেমা না, বরং বিদেশের কাছে, মানে ইউরোপ-আম্রিকার কাছে দেখানো যে, দেখেন, বাংলাদেশ কি জিনিস! তো, এই ধারাতে এরপরে আরো অনেক ডিরেক্টর, সিনেমা পাইছি আমরা; পাইতেছি।

জাগো হুয়া সভেরা সিনেমার পোস্টার

জাগো হুয়া সভেরা সিনেমার পোস্টার


সেকেন্ড সিনেমাটার নাম হইতেছে, আকাশ আর মাটি, ডিরেক্টর আছিলেন ফতেহ লোহানী। ফতেহ লোহানী পরে আসিয়া (১৯৬০) আর সাত রং (উর্দু, ১৯৬৫) বানাইছেন, কিন্তু কোনটাই এই সিনেমার মতোই, তেমন কোন ব্যবসা করতে পারে নাই মনেহয়। এই সিনেমাটা নিয়া তেমন কোন ইনফরমেশন নাই; তবে যট্টুক ধারণা করা যায়, এক রকমের কলকাতার আর্ট-কালচারের একটা টোন মেবি থাকার কথা, কারণ কাহিনি ছিল ইন্ডিয়ান রাইটারের (বিধায়ক ভট্টাচার্য), নায়কও ছিলেন ইন্ডিয়ান (প্রবীর কুমার)।  যেইটা একদিক দিয়া পাবলিক যেমন খায় নাই, ডিরেক্টরও এক রকমের এন্টারটেইনমেন্ট সার্ভ করতে চাইছেন এক রকমের ‘শিক্ষিত মিডল-ক্লাসের’ জন্য যারা তখনো সিনেমা হলে যাইতে শুরু করে নাই, বা পরে টিভি-নাটকের কনজ্যুমার হইতে পারছেন। এই ধারাতেও সিনেমা হইছে কিছু বাংলাদেশে, এখনো হয়; কিন্তু পাবলিক যদি সিনেমাটা খাইলে ডিরেক্টর’রা চিন্তায় পইড়া যান, কি ভুল উনি করলেন! :) এইরকম।

আকাশ আর মাটি সিনেমার একটা সিন

আকাশ আর মাটি সিনেমার একটা সিন

 

থার্ড সিনেমাটা ইর্ম্পটেন্ট। নাম – মাটির পাহাড়। ডিরেক্টর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। উনারে চিনবেন উনার আরেকটা সিনেমার নাম দিয়া – বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২), এইটারও ডিরেক্টর উনি। ১৯৭৪ সালে “ঈশা খাঁ” নামেও একটা সিনেমা বানাইছিলেন। (মোট ৯টা সিনেমা বানাইছেন উনি।) মাটির পাহাড় সিনেমার কাহিনি, সংলাপ সৈয়দ শামসুল হকের। (সৈয়দ শামসুল হক নিজেও কিন্তু একটা উর্দু সিনেমা বানাইছিলেন ১৯৬৬ সালে “ফির মিলেঙ্গে হাম দোনো” নামে।)  এফডিসি থিকা মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমা এইটা। এইটা নিয়াও তেমন কোন ইনফরমেশন নাই, কিন্তু যদ্দূর ধারণা করতে পারি, এই সিনেমাও খুব একটা চলে নাই। নায়ক মেবি পশ্চিম পাকিস্তানের ছিলেন, আর হইলে এইটা তখন একটা কারণ হইতে পারে কিনা, আমি শিওর না। কিন্তু আমার ধারণা, এইটা একটা ‘গুড ট্রাই’ ছিল। হইতে পারে আইডিয়ালিস্টিক জায়গা থিকা ডিল করছেন বেশি (উনার ‘বড় ভালো লোক ছিল’ মাথায় রাইখা বলতেছি, যেইটারে বাংলাদেশি আর্ট-ফিল্ম মনেহয় আমার), কিন্তু এখন যেইটারে ‘বাংলাদেশি’ সিনেমা বলতে চাই আমরা, সেইটার কোন টোন হয়তো থাকার কথা।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

রাবেয়া বসরী

প্রাচ্যের মশহুর সুফি কবি ফরিদুদ্দীন আত্তার [১১৪৫-১২২০] শুরু জীবনে ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং ফার্মাসিস্ট। উনি ওষুধ বানাইতে খুব ভালোবাসতেন। ফলে এই কাজে দ্রুত উন্নতি করেন। একসময় ইরানের নিশাপুরে বিশাল এক ওষুধের কারখানাই গড়ে তুলেন। একদিন ওই কারখানার সামনে এক ফকির আইসা আত্তাররে বললো, অ মিয়া, অনেক তো ব্যবসা করছ, এইবার কিছু দাও। আত্তার তার হিসাবপাতিতে ব্যস্ত ছিলেন। ফকিরের দিকে উনি তাকাইলেন না। এইবার ওই লোক কিছুটা চড়া গলায় দেরহাম চাইলো আর বললো – মিয়া, সামান্য পয়সা দিতে যা অবস্থা, প্রাণ দিতে না জানি কেমন করবা। এই কথাটা আত্তারের কানে গেল। তিনি গলায় একটু ঝাঝ* নিয়া বললেন, তুমি যেমনে প্রাণ দিবা আমিও অমনেই দিবো। ফকির এই কথায় তার কাধের পুটলিটা নামাইলো আর তার উপর মাথা রাইখা চোখ দুইটা বন্ধ করলো এবং টুপ করে মইরা গেল।

এই ঘটনায় আত্তার বড় রকমের ঝাকি খাইলেন। কয়েকদিন ভাবার পর উনি সব কিছু রাইখা জ্ঞান হাসিলের জন্য সেই সময়ের রেওয়াজমতো  এলমি-সফরে বের হন। দীর্ঘ যাত্রার পর প্রখ্যাত আলেম সুফি মাজদুদ্দীন বাগদাদীর হাতে বায়াত শেষে নিজের শহরে ফিরেন আর বিখ্যাত হন নিশাপুরের আত্তার নামে।

আত্তার তার সুফি কবিতা দিয়া পুরা ফার্সি কবিতার চেহারা পাল্টায় দেন। ফার্সি কবিতায় সুফি কবিদের মুরুব্বি সামাভীর তরল প্রকাশের পথে না গিয়া আত্তার পাখিগো কনফারেন্স ডাকলেন। পরে রুমি আইসা সেই পাখি সম্মেলনে মোহনীয় এক বাশি বাজাইলেন। লম্বা সময় ফার্সি চলা হিন্দুস্তানের বাংলা কবিতায়ও সেই সুর আইসা পড়লো কিছু; শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গেয়ে ওঠলেন – “থাক থাক নিজ মনে দূরেতে, আমি শুধু বাশরীর সুরেতে, পরশ করিব ওর প্রাণমন অকারণ, মায়াবন বিহারীনি…।” অবশ্য উনার আব্বা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এই একই কান্না পার হতে চাইছেন সুফি কবিতার সাকো দিয়া। বন্ধুমহলে উনারে ডাকা হইতো ‘হাফেজে দেওয়ান’ নামে। কারণ দেবেন্দ্রনাথ বিশ্বখ্যাত প্রেমের কবি হাফিজের কবিতা সংকলন ‘দেওয়ান’ ভালবেসে পুরাটা মুখস্থ করে ফেলছিলেন। আর শিরাজের হাফিজ ছিলেন আত্তারের অনুরক্ত, চিন্তায় ও ভাবে।

এইদিকে আত্তার তার আধ্যাত্মিক জীবনে বিশেষভাবে যেই কয়েকজন দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন, তাদের মধ্যে হিজরী দ্বিতীয় শতকের সুফি কবি রাবেয়া বসরী (৯৯-১৮০ হিজরি) অন্যতম। রাবেয়ার প্রতি আত্তারের ভালবাসা ছিল তার কান্নার মতো গাঢ়। আত্তারের কবিতার বই অনেক থাকলেও গদ্যের বই মাত্র একটা। সময়ের বিশিষ্ট আলেম, বুদ্ধিজীবী আর সুফিদের জীবনী নিয়া রচিত ‘তাজকিরাতুল আউলিয়া’ নামের এই কিতাবে রাবেয়া বসরীরে যতটা পারছেন তুলে ধরছেন আত্তার। দুই-একটা জায়গায় জনশ্রুতিরেও বিশেষ মূল্য দিয়া উল্লেখ করছেন। এইটা খুব সহজ একটা ব্যাপার – যেই লোক পাখিদের সম্মেলন ডাকতেছেন, তিনি মৃত হাসান বসরীর সাথে রাবেয়ার সাক্ষাতরেও দারুণ করে দেখবেন। প্রখ্যাত হাদিস শাস্ত্রবিদ ও সুফি কবি হাসান বসরী (রহ.) মারা গেছেন ১১০ হিজরীতে। তাই পরিণত রাবেয়ার সাথে হাসানের দেখা হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা থাকে না।

আমি আত্তারের ‘পান্দেনামা’ নামে একটা কবিতার বই পড়ি কৈশরে, যখন বয়স বারো কি তের। তার কবিতাগুলা ভালো লাগত খুব। ওইগুলা ছিল উর্দু গজলের মতো সুরেলা। আমরা মাদ্রাসার বাচ্চারা বিকালে ধানক্ষেতের বাতায় গিয়া বসতাম, নালায় বইতে থাকা সেচকলের টলমলা পানিতে পা ডুবায় দিতাম আর পান্দেনামার ফার্সি কবিতাগুলা গাইতাম।

তো এত বছর পর সেই আত্তারের সাথে ফের মোলাকাত, তার লেখার সামান্য হিস্যা অনুবাদের মধ্য দিয়া। এর পুরাটাই শ্রদ্ধেয় ইমরুল ভাইয়ের কারণে সম্ভব হইছে। উনি এমনকী তাজকিরাতুল আউলিয়ার দারুণ একটা ফার্সি এডিশনের পিডিএফও খুজে দিছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগের অধ্যাপক রেইনল্ড এ. নিকলসনের সম্পাদনায় সংকলনটা লন্ডন থেকে বের হইছে ১৯০৫ সালে। এর শুরুর ভূমিকায় দারুণ সব ওয়াজ করছেন ফার্সি ভাষার পন্ডিত মির্জা মুহাম্মাদ কাজভিনী।

তাজকিরাতুল আউলিয়া বাংলা ভাষায় প্রথম অনুবাদ করেন গিরিশ চন্দ্র সেন, তাপসমালা নামে, ১৮৮০ সনে। বাহ্মধর্মে দীক্ষিত গিরিশ চন্দ্র তার অনুবাদে নানাভাবে আত্তারের লেখারে প্রাণহীন করছেন এবং পৌরণিক কাহিনী বানায় ফেলছেন, উনি এর ভেতর দিয়া বাহ্মধর্মের গোড়াটারে মজবুত করতে চাইছেন। বাদবাকি যেই অনুবাদগুলা বাংলাদেশের বাজারে আছে, সোলেমানিয়া বুক হাউজ আর রাবেয়া বুক হাউজের, একদমই আন্দাজি, নিজেদের মতো বানানো – ‘এক দেশে ছিল এক বাঘ’ টাইপের। এইজন্য যখন ইমরুল ভাই তাজকিরাতুল আউলিয়া থেকে দুই চারজনের জীবনী অনুবাদ করে দেওয়ার প্রস্তাব করলেন, আমি সাথে সাথেই রাজি হইছি। 

রাবেয়া বসরীর কিছু কবিতা* আছে, যেইগুলা উনি আরবি জবানে লিখছিলেন। তার আট দশ লাইন যদি মরহুমার জীবনী শুরুর আগে পড়ে নেওয়া যায়, তো খারাপ হয় না।

 

আত্মার ক্ষতগুলা শেয়ার করতে

জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হইলো নিজের ইচ্ছারে ঠিক করা
আমি খুব ঘুরতে ছিলাম, বেচাইন হয়ে আন্ধার মতো বইসা ছিলাম একগাদা অন্ধকার নিয়া
কিন্তু আমি আমার ইচ্ছা জানতে পারলাম যখন তোমার ইচ্ছা জানতে পারলাম
আর তুমি ছাড়া অন্যসব সংযোগ বেখেয়ালি বাতাসের মতো উইড়া গেল

আমি তোমারে ডাকি নিজের আত্মার ক্ষতগুলা শেয়ার করতে

আর তোমারে গোপন কইরা রাখি চোখের পাতায়
এর পুলক তুমি টের পাও, আর আমি তা জানি

আমি তোমারে ভালবাসি তুমি এর যোগ্য আর তুমি আবেগী
আবেগের জন্য আমি নিজেরে ডুবাই রাখি তোমার সময়ে
তোমার উধাও হয়ে থাকা আমাদের দেখা হওয়ার খবর দেয়
এইটা তোমার গুণ, তুমি এইজন্যই এত উপযুক্ত
এখন তোমার জন্য যা ঠিক, আমার জন্য তা নিষিদ্ধ
আর তুমি এইটার যোগ্যও।

আমার খুব আকাঙ্খা জ্বরগুলারে ছোয়ার
যেন জীবনের আগুন তোমার আলোয় মিশে যায়
আর আমি নিজের আবেগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না
তুমি যা চাইছো যেভাবে, সব ঠিক আছে।

 

হাসসান আতিক

 

* চাঁদ ছাড়া আর কোনো শব্দে চন্দ্রবিন্দু না ব্যবহারের রীতি মানা হয়েছে
* রাবেয়া বসরীর এই পঙ্ক্তিগুলা সম্প্রতি মিসরের গবেষক ও ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ শাবান আইয়ুবের সম্পাদনায় আল জাজিরায় প্রকাশিত।

 

 ……………………………………

 

সে এক নুক্তাবিহীন আলিফের মতো

রাবেয়া বসরী ছিলেন তার মা-বাপের চতুর্থ মেয়ে। রাবেয়া মানেও চতুর্থ। জন্ম থেকেই তিনি একটা সংখ্যার নাম পাইলেন। যারে তিনি টানতে টানতে একসময় এক-এ নিয়া তুললেন। আর একটা আলিফের মতো নুক্তাবিহীন হয়ে থাকতে থাকলেন এই এতদিন পরও।

রাবেয়ার জন্ম হইছিল গরিব বাপের ঘরে। তিনি যে রাতে জন্মাইলেন, ঘরে বাতি জ্বালানোর মতো তেল ছিল না। তার বাপরে তার মা যাইতে বললেন পড়শির বাড়ি, তেল ধার চাইতে। কিন্তু রাবেয়ার বাপ ওয়াদা করছিলেন জীবনে আর ধার চাইবেন না কারো কাছে, খোদা ছাড়া কারো কাছে হাত পাতবেন না। তবু আসন্ন সন্তানের জন্য বিবির অনুরোধে যাইতে হইলো। তবে তিনি পড়শির দরজায় টোকা দিলেন না, শুধু হাতের তালু দিয়া নিরবে ছুঁইলেন। আর ফিরা আসলেন এবং কানতে কানতে একসময় ঘুমায় গেলেন।

চোখের পানি কোটরে কিছুটা শুকায় আসছে কিংবা তখনও চোখের পাতা ভিজাই ছিল, উনি একটা স্বপ্ন দেখলেন। তার স্বপ্নে স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চইলা আসছেন। আর তারে বলতেছেন, ও মিয়া কানতেছ কেন!  বড় আলোর কাছে সব সময় ছোট আলো নিভা যাইতে চায়। তোমার ঘরে এক বিশেষ মানুষের জন্ম হইতেছে। যার সুপারিশে আমার হাজারো উম্মত কঠিন হাশরের দিনে নাজাত পাবে। ওঠো, আর বসরার গভর্নর ঈসার কাছে যাও। একটা চিঠি তারে দিও।

চিঠিতে লেখবা – ‘তুমি প্রতি রাতে ঘুমের আগে ১শ বার নবীর নামে দরুদ পইড়া থাকো, আর জুমার রাতে পড় ৪শ বার। গত জুমায় তুমি দরুদ পড় নাই। তার বদলায় ৪শ দিনার দান কর।’

রাবেয়ার বুযুর্গ বাপ এইটুকু দেখার পর জাইগা উঠলেন এবং ফের কানতে থাকলেন। তার চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজা যাইতেছিল। সকাল হইলে তিনি চিঠিটা লিখলেন। আর ডাকের মাধ্যমে পাঠায় দিলেন। বসরার গর্ভনর রাসুলের পয়গামে খুশিতে আত্মহারা হয়ে তৎক্ষণাত দরবেশদের মাঝে ২ হাজার দিনার বিলি করলেন। আর লোক মারফত ৪শ দিনার পাঠাইলেন রাবেয়ার বাবার কাছে। এর কিছুক্ষণ পর নিজে হাজির হয়ে বললেন, আপনার যখন যা কিছু লাগে, আমারে জানাবেন। আমি আপনার খেদমতের জন্য হামেশা তৈরি। আপনার জন্য আমার দরবারের কোনো দরজায় খিল নাই বলে জানবেন। এরপর গর্ভনর বিদায় নিলে রাবেয়ার বাবা দরকারি সব সামানপাতি কিনা আনলেন। আর কাঁদতে থাকলেন, যতটা কাঁদা যায় মনের ভিতর। পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য