Main menu

খাশ বাংলার ছিলছিলা

পরস্তাব

‘বাংলাদেশের মানুশ’ বা ‘পুবের বাংলার মানুশ’ নামে একটা বই ছাপাইলেন, ধরেন ১০০ ফটোর একটা বই, নিজেরই তোলা বা অন্যদের, সেই বইতে সবগুলা ছবি বাংগালিদের, কেমন হয় বেপারটা? মানে চেহারা সুরতে বাংগালি হিসাবে কাউকে চেনা কতটা যায়, তেমন চিনতে চাওয়া হয়তো জাতের আলাপ, রেছিজমের চর্চা ভাবারও কারণ আছে, তবু চাকমা-মান্দি-রাখাইন-শাওতাল তো জুদা হিসাবেই দেশে আছে, নিজেরা বা অন্যরা জুদা করতে পারেও কেমনে জেন! একদিকে রেছিজম আরেকদিকে আইডির রাজনীতি, দুইটাই এড়াইয়াও এগুলা জুদা করার দরকার আছে; কারণ রেছ বা আইডির চিপায় চিপায় জুলুমও হয়, জালেমও আছে!

তো, তেমন একটা বই কেমন লাগবে আপনার? আপনে যদি শাওতাল বা মান্দি বা তিরিপুরা হন, তাইলে কেমন লাগবে? এইটারে কইতে হয়–বাংগালির দখলের দলিল, বাংগালি বাদে কাউকে বাংলাদেশের মানুশ বইলা শিকার না করার আলামত, লগে সেইসব মানুষের কালচারও অশিকার করা হইলো আসলে! খেয়াল কইরা দেখেন, এথনিং কিলিনজিং’র লগে আপনের একটা ভার্চুয়াল বা গায়েবানা মোলাকাত হইলো জেন!

এমন যদি হয় ঐ বইয়ের বেলায়, তাইলে ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা’ নামের একটা বইতে যদি কেবল বাংলায় লেখা থাকে, কেবল বাংলা ভাশা লইয়াই হয় লেখাগুলা, এই বইরে কেমনে দেখবেন? এই বইতে ভাশা কইয়া আপনে যদি আসলে ‘বাংলা’রেই বুঝান তাইলে ‘পূর্ব বাঙলার বাংলা/বাঙলা’ নামটাই তো জুৎসই, নাকি না!

কিন্তু এবাদুর রহমান বইটার নাম রাখলেন ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা'; যেনবা এইখানে ভাশা মানে তো বাংলাই, আর কোন ভাশা নাই! ওদিকে ‘পূর্ব বাঙলা’ কইলেও বাংলাদেশ নামে ইতিহাসের আমলনামারেও কিছুটা অশীকার করা হইতেছে! কিন্তু ওদিকে না যাই, ভাশায় থাকি এইখানে; কারণ, এই লেখায় এবাদুর বা ঐ বইয়ের জন্য অত বরাদ্দ নাই, ছোট্ট ইশু মাত্র! তবু দরকারি, আমার কতগুলা পয়েন্ট কিলিয়ার করতে এইসব নজির খুবই দরকারি।

এবাদুর বা এমন আরো অনেকেই আছেন, তাদের যতোটা চিনি, তারা দেশের পুরাটারে বাংগালির দখলে নেবার পায়তারা করেন না হরদম, বিদেশে কখনো হইলেও দেশে অন্তত বাংগালির ছেপাই হইতে দেখি না তাগো। তবু এনারাই দেখা জাইতেছে, কখনো কখনো এমন কইরা ফেললেন, বেহুশে কি?

হুশ আর বেহুশের খবর লইলে আজব কিছু চিজ পাইতে পারেন। এবাদুরের বইটা খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলার লগে বাংলার ফারাক লইয়া হুশিয়ার হবার তাগিদ আছে বইটায়, নিজেরাও শেই হুশের তাবেদারি করতেই বইটা ছাপাইছেন; ইনডিয়ার রাজ্য ‘পশ্চিমবংগ’র উল্টাদিকে বর্তমান বাংলাদেশকে শাবেক ‘পূর্ব বাঙলা’ হিশাবে ধইরা এইখানকার বাংলার নিশানা হাজির করছেন বইতে। তাইলে এই ব্যাপারে হুশ রাখতে জাইয়াই আরেকদিকে হুশ হারাইছেন জেন! একটু দূরের কারো ব্যাপারে রিএকশন দিতে জাইয়া আমরা এমন হই হয়তো, নিজেদের একাট্টা একটা দলা হিশাবে দেখতে থাকি বুঝি, নিজেদের মাঝে ফারাকগুলা মুলতবি রাখি!

এইটারে ধরতে পারেন জাতিবাদের ভুতের আছর, এই জাতিবাদের ভুত আমাদের দাবড়াইয়া পেরায়ই গণতন্ত্র থিকা দূরে লইয়া জাইতে থাকে। এই এবাদুরের দলে পাইবেন আরো দুই জন, ড. সলিমুল্লাহ খান আর মোহাম্মদ আজম। জাতিবাদে মাতাল রইছেন বইলা ওনারা গণতন্ত্রের রাস্তায় উইঠা আমজনতার কাছে জাইতে পারেন না।

কলিকাতার কলোনিয়াল কারখানায় পয়দা হওয়া বাংলার বেপারে ড. খান এবং ম. আজমের কতগুলা শাচ্চা পয়েন্ট আছে; ঐগুলা আদিতে কে বা কারা তুলছে শেই আলাপ বকেয়া রাখলে খতি নাই তেমন, ওনারা দুইজন এই জামানায় ঐ পয়েন্টগুলা জিকির করতেছেন, তাই ওনাদের লইয়া আলাপ করলেই চলবে। গোপনে কইয়া রাখি, শাচ্চা গোড়ার তত্ত্বতালাশের মুরোদই নাই আমার, দরকারি টাইম-পয়শা-মেজাজের অভাব আমার!

এই দুইজনের বরাতে পাইতেছেন জে, ‘মর্ডান বাংলা’ পয়দা হবার কালে ফার্ছি-আরবি শব্দ গায়ের জোরে বাদ দিছেন কলিকাতার বাংগালি আতেলরা। ম. আজম জানাইতেছেন জে, পূবের বাংলার ভংগিটাও বাদ দিছে এবং শেইটার জবাবেই ড. খান ‘শাধু বাংলা’য় লেখেন। দেখা জাইতেছে, ওনারা পূব বনাম পচ্চিম ধইরা কথা কইতেছেন; ‘বাংগালি মোছলমান’ নামে বঙ্কিমের একটা টার্ম ধইরা জাতিবাদি হইতেছেন, পূবের বাংলার হিশ্যা বুইঝা নিতে চাইতেছেন। ওনাদের তফাতটা তাই হইয়া উঠলো মুল্লুকের, শেই মুল্লুক আবার ধর্মের কওমের উছিলা মাত্র!

কিন্তু দুই মু্ল্লুকে ওনারা মানুশের জেই দুইটা দলা ধইরা লইলেন, তেমন দলা তো নাই! জাতিবাদ এমন দলা বানায়, কখনো ধর্মে, কখনো বা ভাশায় এমন দলা দিয়া মুল্লুকের হিশাব মিলায়। এতে দুই মুল্লুকেই মানুশের বেলায় এথনিক হিশাবে ছোটরা বাদ পড়ে শুরুতেই, তার পরে আছে কেলাশ আর জাতের মুশকিল; এই শব মুশকিলের আছান ঘটাইয়া ফেলেন জাতির দেমাগে! এই আলাপটা জেহেতু বাংলা ভাশা লইয়া, তাই দুই মুল্লুকেরই কেবল বাংগালি লইয়া মাথা ঘামাইলে ইনছাফের খেলাপ হয় না, শাওতাল থিকা রাখাইন এই আলাপের বাইরে রাখলাম তাই!

আজকের বাংলাদেশ আর ইনডিয়ান বাংলা বা পুরানা বাংলার দুই মুল্লুকে হিন্দু আর মোছলমান কইলে কোন একটা দলা পাইবেন না। হিন্দুদের মাঝে ৭০/৮০% শুদ্র, মোছলমানের ভিতর পেরায় অমন একটা শতকরা হিশাবেই আতরাফ পাইবেন। বাকিদের এথনিক দেমাগে ১ নম্বর গরজ দেখবেন নিজেদের এরিয়ান হিশাবে পোরমান করা, বামুন হিন্দু বা আশরাফ/খান্দানি মোছলমান–দুই দিকেই। এবং এইটা কলোনিয়াল ইংরাজের আগে থিকাই; ইংরাজের আগের ৩০০/৪০০ বছরের জেই বাংলা লিটারেচার পাইতেছেন তাতে তালাশ করলে ঐ বামুন আর আশরাফের দেমাগ মালুম হইতে পারে।

ঐ জামানার বাংলা কবিতা-গানে দেখেন পেরায় শবাই হয় শূদরো হিন্দু বা আতরাফ মোছলমান; মোমেনশাহি বা ময়মনশিংহ গিতে কত কত দাশ নজরে পড়বে আপনার, এমনকি ইংরাজের ঠিক আগে আগে বা শুরুতেও দেখেন রায় বা গুপ্ত, কিন্তু আরেকটু পরে দেখেন বামুনে ছয়লাপ! এই কোনা দিয়া চাইলে আপনের মনে হইতে পারে জে, ১৯৩০ আশলে বামুনের হাত থিকা বাংলা লিটারেচার আবার দখলে নিলো জেন শুদ্র-আতরাফ (দাশ, বসু, দে, দত্ত, নজরুল)! কিন্তু এইগুলা ছুরতের চেইন্জ, আরেকটু তলে গেলে ভাবের দুনিয়ায় জাইতে পারবো আমরা, ছুরত জেই ভাবের মুরতি।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

আমার পোশাক এবং আমি ।। সিমন দ্য বোভোয়া ।।

লেখাটা অবজার্ভার পত্রিকার আর্কাইভ থেকে ঘেঁটে বাইর করা হইছে। সিমন দ্য বোভোয়ার এই ইন্টারভিউ কাম আর্টিকেল ছাপা হইছিলো মার্চের ২০ তারিখ, ১৯৬০ সালে। সেই সময়কার অবজার্ভারের সাংবাদিক সিন্থিয়া জুডাহ এই ফ্রেঞ্চ ফিলোসফারের সাথে আলাপ করছিলেন তার ফ্যাশন নিয়ে, ফ্যাশন সংক্রান্ত চিন্তাভাবনা নিয়ে।

ফ্যাশন তো পালটায়, সেকেলে হয়া যায়। তবে তার এই কথাবার্তার পিছনে কিংবা ফ্যাশনের চিন্তার পিছনে যে ফিলোসফি তা বোধহয় এই ষাট বছর পরে আইসাও ফালায়ে দেয়া যায় না। বোভোয়ার এই লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা কারণে, পোশাক নিয়ে এখনও বাংলাদেশে যে ন্যারেটিভ চালু আছে, যে ন্যারেটিভ প্রায় প্রায় উঠে আসে ‘কেবল নারী’ রেপড হইলে বা হ্যারাসড হইলে, বিশেষ করে যে ন্যারেটিভের কারণে ধর্ষণের দায় বেশিরভাগ সময়ে চাপায়ে দেয়া হয় নারীর পোশাকের উপ্রে, সেই ন্যারেটিভকে আরেকবার ভাবার অছিলায়। পোশাক, জামাকাপড়, আমি শার্ট পরব না পাঞ্জাবী পরবো নাকি শাড়ি পরবো না স্কার্ট পরবো, এই সিদ্ধান্ত কে নিবে না নিবে তা একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে পোশাক চুজ করার সিদ্ধান্তের পিছের ফিলোসফির রং ভিন্নও হইতে পারে। কিন্তু একটা ফিলোসফির আরেকটা ফিলোসফির সাথে ফাইট কইরা নির্দিষ্ট কোন একটা পোশাকরে স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করার এখতিয়ারও কারো থাকার কথা না।

জাতীয় মাছের মতো জাতীয় পোশাকের মতো ধারণাও একটা বেহুদাপনা, জাতীয়তাবাদী চিন্তা। এই চিন্তা আরোপ করে কোন একটা নির্দিষ্ট পোশাকরে উঁচু ভাবার, ভালো ভাবার। আবার একই কারণে, লিট ফেস্টে লুঙ্গি পরে গেলে পুলিশি বাধা আরও বেশি পোশাকের স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনেরই ফলাফল। পোশাক আশাক ক্লাস তৈরি করে, ক্লাস মেইন্টেইন করে। ব্র্যান্ডের পোশাক কেবল একটা সোসাইটিই কিনতে পারবেন, তারাই ব্র্যান্ডের অডিয়েন্স, সোসাইটির লোকজনও সেই ব্র্যান্ডের পোশাক কিনে, কেনা-মেইন্টেইন করার সাইকেলটাও এইভাবে মোটামুটি ঠিক থাকে। ওই সোসাইটির লোকজন কখনো গুলিস্তানে যায় না, হকার্স মার্কেটে যায় না, কারণ এই মার্কেটগুলা যেন একটু নিচু গোত্রের, এইখান থেকে পোশাক হয়তো না কিনাই ভালো। এইভাবে একটা সোসাইটি আরেকটা সোসাইটিরে দূরে ঠেলার কামিয়াবি হাসিল করে। এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে একটা সোসাইটির সাথে, একটা ক্লাসের সাথে, কোন একটা মার্কেট, কোন একটা দোকান কিংবা কোন একটা পোশাক জড়ায়া যায়। এই সম্পর্ক থেকে একটারে আরেকটা থেকে আলাদা করা যেন একটু ডিফিকাল্টই।

একটা ক্লাসরে নির্দিষ্ট কোন পোশাক দিয়ে চিহ্নিত করা, সেই পোশাকের মাপে কোন ব্যক্তিকে পুরাপুরি বুইঝা ফেলার যে প্রবণতা, তা আরও বেশি প্রবলেমাটিক। লুঙ্গি সবসময়ই খেটে খাওয়া মানুষের ইমেজ আনে, কোটপ্যান্ট বড়লোকি সাহেবের ইমেজ আনে, পোশাকের কারণে ধরে নেয়া হয় হয়তো এই লুঙ্গি পরা লোকটা একশ টাকার টিকিট কাইটা ঢুকতে পারবেন না মেলায় অথবা কোটপ্যান্ট পরা ভদ্রলোক মেজবানে আসলে তার জন্যে হে হে করে আগেভাগে সিট ছাইড়া দেয়া উচিত; এই ধরণের প্রিকনসেপশনের আসলে ভিত্তি নাই বললে ভুল হবে।

ভিত্তি আছে তবে এই ভিত্তি চিন্তা প্রক্রিয়ার বিশেষ ভুল ‘কগনিটিভ এরর’-এর। ধরেন আপনি কোন ভার্সিটির টিচার। আপনার স্টুডেন্ট প্রায় সময় ক্লাসে লেইট করে আসে। সেইজন্যে, আপনি ভাইবা নিলেন আপনার স্টুডেন্ট লেইট মফিজ, তার খাসলতই হইতেছে লেইট করা। কিন্তু এমনও তো হইতে পারে, তার লেইট হওয়াটার জন্যে কোন গাড়ি দায়ী, ভার্সিটির বাস দায়ী কিংবা কোন পার্টিকুলার রাস্তা অথবা অনেক কিছু। এই ধরণের নানান পসিবিলিটি বাদ দিয়ে যখন এই ‘লেইট হওয়া’টারে স্টুডেন্টের খাসলতের সাথে মিলায়া ফেলেন, চিন্তাভাবনার এই প্রকাররে সাইকোলজিস্টরা কন ‘কগনিটিভ এরর’।

একইভাবে পোশাক দিয়ে কারো খাসলত, ইকোনমিক/পলিটিকাল অবস্থান আগেভাগে ধরে নেয়াটাও হইতেছে একপ্রকার প্রিকনসেপশন বা ত্রুটি। এই ত্রুটি একটা ক্লাসরে আরেকটা ক্লাসের উপর ছড়ি ঘোরানোর বৈধতা জারি কইরা দেয়। কিন্তু মানুষের সাথে মানুষের মধ্যকার রেসপেক্টের জায়গাটারে বৈধতা দিতে সাহায্য করে না। পোশাক আশাকের কোন ধরাবান্ধা নিয়ম থাকা উচিত না, নিয়ম যদি লাগেও তা পোশাক যে পরতেছে সেই বরং ঠিক করুক। রেগুলার নিয়মে প্রত্যেকটা ধর্ষণের কেসে পোশাকের ন্যারেটিভ বারবার আসলে মনে হয়, যদিও আমাদের দেশে ফ্যাশন ব্র্যান্ড, মার্চেন্ডাইজার, গার্মেন্টেসের অভাব নাই, তবুও কোথাও কোন এক পোশাকের মধ্যে পুলিশ বইসা আছে। পোশাকের পুলিশি নিয়ম প্রায়ই চেষ্টা করে মাথাচাড়া দিয়া উঠতে। হয়তো আমাদের পলিটিকাল কালচারের ভিতর দিয়ে এই পুলিশ আরও শক্ত হইতে পারতেছে।

কিংবা এমনও হইতে পারে, এই পোশাকের পুলিশ মাথা নিচু কইরা বসে থাকে কারণ তার বেল নাই, তাই সে সুযোগ খুঁজে কোন একটা ইস্যুর যে ইস্যুতে সেই পোশাকি পুলিশ ফের নিজেরে ভাববে আমি তো আসলে কোথাও হারায়ে যাই নাই, বরং গভীরভাবে বসবাস করতেছি এই দেশের কালচারাল ডিসকোর্সে। এই শতকে কিংবা এই দশকে আপনি পাঞ্জাবী পরতে পারেন, পাঞ্জাবীর সাথে লুঙ্গিও পরতে পারেন। কিংবা আপনি ডেনিমের শার্টের সাথে গুলিস্তানের প্যান্টও পরতে পারেন। আবার আপনি লুঙ্গি নাও পরতে পারেন কিংবা পারেনও। এই সবকিছু আপনি কিভাবে পরতেছেন বা না পরতেছেন, সকল ডিসিশান আপনার ফিলোসফিরেই প্রকাশ করে। পোশাক তো আপনার নিজের উপর। আর এই চিন্তাটা ছিলো বোভোয়ারও।

/তৌকির হোসেন

……………………………………

আপনারে আমার আগেই বইলা রাখা ভালো যে আমি পোশাক আশাকের ব্যাপার নিয়ে একদমই ইন্টারেস্টেড না- সিমন দ্য বোভোয়া বলতেছিলেন, সাথে সাথে এইটাও যোগ করে দিলেন- আসলে মাথা ঘামানোর মতো এত এত জিনিস আছে, এত এত ইন্টারেস্টের জায়গা আছে, পোশাক নিয়ে ভাববার মতো অবকাশ আমার নাই।

প্যারিসের সেকেন্ড সেক্সের মানুষজনের মধ্যে সিমন দ্য বোভোয়ার যে অবস্থান, তা তার লেখালেখির দিক দিয়েই হোক কিংবা তার ইন্টেলেকচুয়াল প্রভাবের জায়গা থেকেই হোক, বোভোয়ার এই কমেন্ট আশ্চর্যজনক কিছু না। মানুষজন বরং ‘বোভোয়া জামাকাপড় নিয়া কথা বলতেছেন’ এই জিনিস শুনলেই হাসাহাসি করবে। কিন্তু যেই মুহূর্তে বোভোয়া তার মন্তপাঘনাসের স্টুডিও ফ্ল্যাটের দরজা খুলে আমাদের প্রবেশ করাইলেন, আপনার নির্ঘাত মনে হবে- নাহ! বোভোয়ার জামাকাপড় নিয়ে কিছু হইলেও নিজস্ব ভাবনা আছে।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone

বাংলা ক্ল্যাসিক। দ্বিজ কানাইয়ের মহুয়া।

এইটা কাহিনিটার পাঁচ নাম্বার ভার্সন।

দ্বিজ কানাই ১৫০০/১৬০০ সালের দিকে এই কাহিনিটা বান্ধেন। গ্রেটার মৈমনসিংহ এলাকায় এইটা গাওয়া হইতো। নেত্রকোণা জেলার সান্দিকোনার মসকা গ্রামের সেখ আসক আলী আর উমেশচন্দ্র দে’র এইটা জানা ছিল। তাদের কাছ থিকা এই কাহিনি সংগ্রহ করছিলেন চন্দ্রকুমার দে, ১৯০০ সালের দিকে। তারপরে এইটা এডিট করছিলেন শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন। ছাপাইছিলেন এবং অনেক প্রচার প্রচারণা করছিলেন। উনার ‘প্রাচীন পল্লীগীতিকা’রে  এখন কাহিনির আকারে লিখতেছি আমি।

শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন ২৪টা অধ্যায়ে ভাগ কইরা আলাদা আলাদা নাম দিছিলেন। আমি নামগুলা চেইঞ্জ করছি, আলাদা কইরা নাম না দিয়া, কাহিনির ভিতর থিকাই নামগুলা নিছি। অধ্যায় বা পার্টগুলাও অল্প একটু বদলাইছি। অনেকগুলা ফুটনোট দিছিলেন উনি, শব্দগুলার কি মানে, সেইগুলা বুঝানোর লাইগা, সেইগুলার অনেক কমাইছি, বেশিরভাগই অদরকারি মনে হইছে আমার। বানানে অনেক যফলা ইউজ করা হইছিল উচ্চারণের কাছাকাছি থাকার লাইগা, তো সেইগুলাও কিছু জায়গায় অদরকারি মনে হইছে আমার। উচ্চারণের কাছাকাছি থাকতে পারাটা লিখিত ফর্মে একটু ঝামেলার জিনিসই, অনেক ক্যারিকেচার করলেও মৈমনসিংহা উচ্চারণ অ্যাচিভ করাটা মেবি টাইফই হবে যারা ধরেন কানাডা আম্রিকায় জন্মানোর পরে বাংলাভাষা শিখছেন।… শব্দের বানানরে উচ্চারণের কাছাকাছি রাখার পরে পরিচিত লিখিত বানানের ব্যাপারে যতোটা কম চেইঞ্জ করা যায়, সেই চেষ্টা করছি।

আর দীনেশচন্দ্র সেন তো একটা অরিজিনাল ফরম্যাটে রাখার ট্রাই করছেন, সেইখানে আমি ফর্মটারেই চেইঞ্জ করছি গ্রসলি। কিন্তু ফর্মের দোহাই দিয়া নতুন শব্দ না ঢুকায়া পুরান যত শব্দ আছিল, বেশিরভাগ সময় সেইগুলাই রাখার ট্রাই করছি। কারণ আমার মনে হইছে, বলা বা পারফর্ম করা যেমন একটা ঘটনা, লেখা বা পড়া একইরকমের ঘটনা না। সুর কইরা পড়াটা বেশিরভাগ সময়ই আরামের। কিন্তু অনেক সময় মনেহয় অভ্যাসের কারণেই বেশি কনসানট্রেশন দিতে হয় সুরটাতে, বা সুরটা মেইন ঘটনা হয়া উঠে, তখন পড়াটা ঝামেলারই হয় কিছুটা। তো, পড়ার জন্য সুরটারে কিছুটা আলগা কইরা কাহিনির মতন বলাটা বেটার না ঠিক, বরং স্মুথ ও রিলেটিভলি সহজ একটা এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারে হয়তো। এইভাবে ভাবছি। মানে, একটা জিনিস যখন একটা মিডিয়াম থিকা আরেকটা মিডিয়ামে আসে তখন এমনিতেই ফর্মের কিছুটা চেইঞ্জ হওয়ার কথা। যেই জিনিস আমি বলবো, লেখার সময় হয়তো একইভাবে লিখবো না। তো, বলার জিনিসটারে লিখলে কি রকম হইতে পারে, সেইরকম একটা এক্সপেক্টশন থিকা লেখার জিনিসটারে সাজাইতে চাইছি আমি। 

তবে মোস্টলি যেই ঘটনাটা ঘটছে, শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন এইটারে একটা ‘আঞ্চলিক সাহিত্য’ হিসাবে রিড করছেন, যারে তিনি রক্ষা করতেছেন বা উদ্ধার করছেন, যেইটা আমাদের বাংলা সাহিত্যে স্থান পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু আমি এইরকম মার্জিনাল জায়গা থিকা দেখি নাই। এইটা গ্রাম্য, আঞ্চলিক কোন জিনিস না, বরং এইটাই বাংলা সাহিত্য, মেইনস্ট্রিম ঘটনা। এইটারে বাংলা ভাষা, বাংলা ক্ল্যাসিক হিসাবে আমি পড়ছি আর পড়ার সাজেশন দিতেছি।

 

ই.হা.
ডিসেম্বর, ২০১৯ – জানুয়ারি, ২০২০

 

…………………………………………………………

নমশুদ্রের বাহ্মণ দ্বিজ কানাই নামক কবি ৩০০ বৎসর পূর্বে এই গান রচনা করেন। প্রবাদ এই, দ্বিজ কানাই নমশূদ্র-সমাজের অতিহীনকূল-জাতা এক সুন্দরীর প্রেমে মত্ত হইয়া বহু কষ্ট সহিয়াছিলেন, এজন্যই ‘নদের চাদ’ ও ‘মহুয়া’র কাহিনীতে তিনি এস প্রাণঢালা সরলতা প্রদান করিতে পারিয়াছিলেন। নদের চাদ ও মহুয়ার গান একসময় পূর্ব-মৈমনসিংহের ঘরে ঘরে গীত ও অভিনীত হইত। কিন্তু উত্তরকালে ব্রাহ্মণ্য-ধৰ্ম্মের কঠোর শাসনে এই গীতিবর্ণিত প্রেম দুর্নীতি বালয়া প্রচারিত হয়, এবং হিন্দুরা এই গানের উৎসাহ দিতে বিরত হন।…

গীতিবর্ণিত ঘটনার স্থান নেত্রকোণার নিকটবর্তী। খালিয়াজুরি থানার নিকট-রহমৎপুর হইতে ১৫ মাইল উত্তরে। “তলার হাওর” নামক বিস্তৃত হাওর’–ইহারই পূৰ্বে বামনকান্দি, বাইদার দীঘি, ঠাকুরবাড়ীর ভিটা, উলুয়াকান্দি প্রভৃতি স্থান এখন জনমানবশূন্য হইয়া রাজকুমার ও মহুয়ার স্মৃতি বহন করিতেছে। এখন তথায় কতকগুলি ভিটামাত্র পড়িয়া আছে। কিন্তু নিকটবর্তী গ্রামসমূহে এই প্রণয়িযুগ্মের বিষয় লইয়া নানা কিংবদন্তী এখনও লোকের মুখে মুখে চলিয়া আসিতেছে। যে কাঞ্চনপুর হইতে “হোমরা” বেদে মহুয়াকে চুরি করিয়া লইয়া যায়—তাহা ধনু নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।

নেত্রকোণার অন্তর্গত সান্দিকোনা পোষ্টাফিসের অধীন মসকা ও গোরালী নামক দুইটি গ্রাম আছে—মসকা গ্রামের সেক আসক আলী ও উমেশচন্দ্র দে এবং গোরালীর নসুসেকের নিকট হইতে এই গানের অনেকাংশ সংগৃহীত হয়। ১৯১২ খৃষ্টাব্দের ৯ই মার্চ আমি চন্দ্রকুমারের নিকট হইতে এই গাথা। পাইয়াছি। চন্দ্রকুমার দে যেভাবে গীতিটি পাঠাইয়াছিলেন, তাহাতে… গোড়ার গান শেষ আর শেষের গান গোড়ায় এই ভাবে গীতিকাটি উলট-পালট ছিল, আমি যথাসাধ্য এই কবিতাগুলি পুনঃ পুনঃ পড়িয়া পাঠ ঠিক করিয়া লইয়াছি।

এই গানের মোট ৭৫৫ ছত্র পাওয়া গিয়াছে, আমি তাহা ২৪টি অধ্যায়ে বিভক্ত করিয়া লইয়াছি।

 

শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন
১৯২৩

 

…………………………………………………………

 

কিবা গান গাইবাম আমি

পূবেতে বন্দনা করলাম পূবের ভানুশ্বর।
এক দিকে উদয়রে ভানু চৌদিকে পশরৎ|

দক্ষিণে বন্দনা গো করলাম ক্ষীর নদী সাগর।
যেখানে বানিজজি করে চান্দ সদাগর॥

উত্তরে বন্দনা গো করলাম কৈলাস পর্বত।
যেখানে পড়িয়া গো আছে আলীর মালামের পাথুথর॥

পশ্চিমে বন্দনা গো করলাম মক্কা এন স্থান।
উরদিশে বাড়ায় ছেলাম মমিন মুসলমান ॥

সভা কইরা বইছ ভাইরে ইন্দু মুসলমান।
সভার চরণে আমি জানাইলাম ছেলাম ॥

চাইর কুনান্ট পিরথিমি গো বইন্ধ্যা মন করলাম স্থির।
সুন্দর বন মুকামে বন্দলাম গাজী জিন্দাপীর॥

আসমানে জমিনে বন্দলাম চান্দে আর সুরুয।
আলাম-কালাম বন্দুম কিতাব আর কুরাণ॥

কিবা গান গাইবাম আমি বন্দনা করলাম ইতি।
উস্তাদের চরণ বন্দলাম করিয়া মিন্নতি॥

 

. মহুয়া সুন্দরী

এইখান থিকা উত্তরের পথে যাইতে থাকলে ছয় মাস পরে পড়বো গারো পাহাড়। তারও উত্তরে আছে হিমানী পরবত। সেই পরবতের পারে আছে সাত সমুদ্দুর। সেইখানে এক বন, যেইখানে চান্দ নাই, সুরুয় নাই। কিছুই দেখা যায় না। বাঘ ভালুক বাস করে। মাইন্‌সের কোন লরাচরা নাই।

সেই বনে থাকতো হুমরা বাইদ্দা। এই কাহিনি হুমরা বাইদ্দার।

বেটা আছিল ডাকাইত, ডাকাইতের সদ্দার। মাইনকা নামে তার এক ছুড ভাই আছিল। নানান দেশ ঘুরত অরা। ঘুরতে ঘুরতে একদিন ধনু নদীর পারে যাইয়া উপস্থিত হইল। গেরামের নাম কাঞ্চনপুর। সেইখান বসতি ছিল এক বরাম্মনের। তার ছিল ছয় মাসের শিশু কইন্যা। নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী। চুরী কইরা দেশ ছাইরা গেল।

ছয় মাসের শিশু কন্যা বচ্ছরের হৈল। পিঞ্জরে রাখিয়া পঙ্খী যেমনে পালে, সেইরকম যতন কইরা তারে পালতে লাগলো হুমরা বাইদ্দা। এক দুই তিন কইরা ১৬ বছর হৈল। অনেক যতন কইরা তারে সাপের খেলা শিখাইলো। সাপের মাথার মণি জ্বলা দেখলে যেমন মানুশ পাগল হয়, বাইদ্দার মেয়েরে দেখলে এইরকম পাগল হওয়ার দশা হয়।

বাইদ্দা বাইদ্দা করে লোকে বাইদ্দা কেমন জনা।
আন্দাইর ঘরে থুইলে কন্যা জ্বলে কাঞ্চা সোনা॥

হাটিয়া না যাইতে কইন্যার পায়ে পরে চুল।
মুখেতে ফুট্টা উঠে কনক চাম্পার ফুল॥

আগল ডাগল আখিরে আসমানের তারা।
তিলেক মাত্র দেখলে কইন্যা না যায় পাশুরা॥

বাইদ্দার কইন্যার রূপে ভাইরে মুনীর টলে মন।
এই কইন্যা লইয়া বাইদ্দা ভরমে তিরভুবন॥

পাইয়া সুন্দরী কইন্যা হুমরা বাইদ্দার নারী।
ভাবা চিন্তা নাম রাখল “মহুয়া সুন্দরী” ।

পুরাটা

শেয়ার অন::Share on Facebook0Share on Google+0Share on LinkedIn0Pin on Pinterest0Tweet about this on Twitter0Email this to someone
  1. ক্রিয়েটিভ আর্ট
  2. ক্রিটিকস
  3. তত্ত্ব ও দর্শন
  4. ইন্টারভিউ
  5. তর্ক
  6. অন্যান্য
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.
An error occured during creating the thumbnail.